আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৬১
ইশিকা ইসলাম ইশা
সময়ের কাঁটা পেরিয়ে পার হয়েছে দুটো দিন। চৌধুরী বাড়িতে যেন খুশির আমেজ তৈরি হয়েছে।তীরা কে বাসায় আনা হয়েছে।তীরা আগের থেকে কিছুটা সুস্থ হওয়াই এক প্রকার জোর করেই বাসায় এসেছে আজ। যদিও ডক্টর মানা করেছে তবুও তীরার জেদের কাছে হার মেনে বাসায় নিয়ে এসেছে।সাথে অবশ্য ডক্টর মিহি আছে। তাছাড়া মিজান বাড়ির প্রায় সকলে এখানে উপস্থিত।নাজমা চৌধুরীর জোড়াজুড়িতে দুটো দিন থাকবে তারা।
রিদি সবার জন্য চা করে নিয়ে এসেছে।একে একে সবাইকে দিতেই সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করল তীব্র।বসার ঘরে এতো হট্টগোল দেখে একপলক সেদিকে তাকাতেই দৃষ্টি গিয়ে আটকালো বৌয়ের উপর মেজেন্ডা কালারের সুতির থ্রি পিচ পড়নে। মাথায় ওরনা দেওয়া।ওরনার ফাঁক দিয়ে সামনের ছোট ছোট চুলগুলো উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে।রিদি ব্যাস্ত হাতে বারবার ছোট ছোট চুলগুলো সরালেও তারা আবারো বেরিয়ে আসছে।রিদি এতে বিরক্ত হলেও মুখে তার মিষ্টি হাসি।তীব্র রিদিকে পর্যবেক্ষণ করার মাঝেই আরিফ মিজানের চোখ গেল দরজার দিকে।আরিফ মিজান তীব্র কে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“বলছি চৌধুরী সাহেব!আসুন টেষ্ট করুন! আপনার বৌয়ের হাতের চা! এক্কারে ঝাক্কাসসস!!”
তীব্র রিদির দিকে ধারালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সকাল থেকে বৌয়ের খোঁজ পাচ্ছে না।সে বৌয়ের অভাবে মরছে আর এই বৌ তাকে রেখে সবার জন্য চা বানাচ্ছে। তীব্র রিদির দিকে দৃষ্টি রেখেই আরিফ মিজানের উদ্দেশ্য বলল,
“বয়স বেড়েছে আপনার মিজান মিয়া! চায়ে মিষ্টি কম খান।বেশি মিষ্টি শরীরের জন্য ভালো না!”
আরিফ মিজান তীব্রর দৃষ্টি লক্ষ্য করে হাসল। কথা তার উদ্দেশ্য বললেও তার তীর্যক দৃষ্টি যে বৌয়ের উপর ঘুরছে এতে কোন সন্দেহ নেই।তিনি খোঁচা মেরে বললেন,
“কি আর করব চৌধুরী সাহেব। আজকাল মিষ্টির অভাবে ভুগছি!আমার তো আর আপনার মতো কপাল নেই!!”
তীব্র রিদির থেকে চোখ ফিরিয়ে সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে বলল,
“তাহলে তো একটা ডেটের ব্যবস্থা করতেই হয়!স্পেশাল মিষ্টি খেতে পারবেন।তুলে আনব নাকি কবর থেকে!”
আরিফ মিজান চায়ে চুমুক বসিয়ে বলল,
“কিসের আর ডেট। বুড়ি গেছে আমাকে ফেলে কিন্তু দিয়ে গেছে একটা নাতবধূ!!ডেটে এখন নাতবৌয়ের হাতের এক কাপ চা ই যথেষ্ট!!আহা মন প্রাণ জুড়িয়ে গেল।”
তীব্র বিরক্ত হল।বালের একটা বৌ তার। সবার জন্য সময় থাকে তার সে ছাড়া।
” ওহহহ রিয়েলি!!তা মিসেস তীব্র চৌধুরী এবার আমার মন প্রাণ জুড়ানোর ব্যবস্থা করুন ।নয়তো সকালের পরে …..রুম থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থায় থাকবেন না!!”
রিদি ফ্যালফ্যাল করে এদের কথা শুনলেও লাস্টের কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে নিল।মনে মনে তীব্র কে অসভ্য অবশ্য বলতে ভুলল না।লোকটা মারাত্বক ঠোঁটকাটা!
আয়ান তীব্রর কথায় একপলক রিদির দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল।ফুস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে চোখটা বন্ধ করতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল কলেজের প্রথম দিন তার হাত ধরাটা।ভীতু ভীতু চেহেরার মায়াবি কন্যা তার নরম হাত দিয়ে সেদিন শক্ত করে ধরেছিল তার হাতটি।একটু ভরসার আশায়।কি যে মায়া সেই চাহনিতে!! আয়ান আজো ভুলেনি। আয়ানের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।না চাইতেই চোখটা গিয়ে আটকালো তার দিকে।
মেয়েটা লজ্জায় কেমন লাল হয়ে আছে এটা দেখে কোথাও তো জ্বলছে। হ্যাঁ! খুব জ্বলছে!বুকের মাঝে চিনচিনে তীক্ষ্ণ ব্যাথায় জ্বলে ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে।এই ব্যাথা ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। শুধু অনুভব করা যায়।আয়ান আবারো চোখজোড়া বন্ধ করে বিরবিরালো,
“আমার হলে খুব বেশি ক্ষতি হতো কি?”
“তোকে ডাকছে তুই গিয়ে দেখ ওর কি লাগবে?চা আমি সবাইকে দিচ্ছি!”
নাজমা চৌধুরীর কথায় রিদি আর এদিক ওদিক না তাকিয়ে গটগট পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।এখানে থাকলে বেচারি লজ্জায় এট্যাক না করে বসে।
রিদিকে গটগট পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে যেতেই আরিফ মিজান হো হো করে হেসে উঠলো।তীব্রর লাগামহীন কথায় কেউ কেউ লজ্জা পেয়ে মুখ টিপে হাসছে।আবার কেউ অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
রিদি রুমের দরজা খুলে প্রবেশ করতেই দেখল তীব্র খালি গায়ে শুধু প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে।রিদি দুরুদুরু বুক নিয়ে তীব্রর কাছাকাছি এসে দাড়াতেই তীব্র ভু কুঁচকে তাকাল তার দিকে। রিদিকে এভাবে লজ্জা পেতে দেখে হ্যাঁচকা টানে তীব্রর কাছে আনতেই রিদি চোখমুখ খিচে বলল,
“খুব অসভ্য আপনি!!”
তীব্র রিদিকে ঝট করে পেছনে ঘুরিয়ে খোপা করা চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে মুখ ডোবাতে ডোবাতে বলল,
“আপনি আশেপাশে থাকলে সভ্য হতে ইচ্ছে করে না বৌ!!”
রিদি তীব্রর কান্ডে নিজেকে ছাড়াতে চাইলে তীব্র আরো শক্ত করে চেপে ধরে বলল,
“সকাল থেকে একবারো আমার কাছে আসেননি!হুয়াই??”
রিদি অবাক হয়ে বলল,
“আসিনি মানে কি!! সকালে তো ঘুম থেকে উঠে এখানে এলাম।এরপর !!আপনি ছিলেন কোথায়?”
“আপনার ফোন কোথায়??”
রিদি আমতা আমতা করে বলল,
“আসলে মনে নেই!!”
“আজ ফোন মনে নেই! কাল আমাকেও মনে থাকবে না!আম আই রাইট মিসেস তীব্র!!”
“এভাবে বলছেন কেন!!সরি!!”
“সরিতে কাজ হবে না!”
“তো কি করব?”
“ইউ নো বেটার!!”
বলেই তীব্র রিদিকে ছেড়ে ওয়াসরুমে ঢুকে গেল।এই বৌ আজকাল একদম তার আশেপাশে থাকছে না।সবাই যেন তার বৌয়ের উপর ভাগ বসিয়েছে!ছ্যাহহ….
বালের একটা বৌ….শান্তি নাই ধুর!!
একটু পর তীব্র ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে দেখল রিদি সোফায় বসে তার ফোনে কিছু একটা করছে। তীব্র ভু কুঁচকে সেদিকে তাকিয়ে বলল,
“খিদে পেয়েছে!!”
“এতো তাড়াতাড়ি??”
“হুম!! দুপুরে খাই নি!”
দুপুরে খাই নি শুনে রিদির খারাপ লাগল।
“খান নি কেন??”
“খাইয়ে কে দিত?”
“আপনার হাত তো ঠিক আছে এখন!”
তীব্র বিরক্ত হয়ে বলল,
“আমার হাতে আমার খেতে ভালো লাগেনি তাই খাইনি!!”
রিদি দীর্ঘশ্বাস ফেলে হতাশ হয়ে বলল,
” খাবার নিয়ে আসছি!”
“আপনাকে যেতে হবে না। খাবার একটু পরেই চলে আসবে!”
“ঠিক আছে!!এই নিন আপনার ফোন!”
“কি করছিলেন ফোনে?”
“আপনার হটনেসের বিবরন দেখছিলাম!বাপরে!!সেই….”
“পিক দেখে কি করবেন ম্যাম সামনাসামনিই দেখেন!! আম রেডি টু সো ইউ!!”
রিদি তীব্রর কথায় ভু কুঁচকে বলল,
“আপনার একাউন্ট কে চালায়?”
“হঠাৎ এই প্রশ্ন??”
“কেন জানতে নেই বুঝি!!”
“সন্দেহ করছেন বুঝি!”
“বৌ দের অধিকার আছে সন্দেহ করার। বলুন….”
তীব্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রিদিকে পর্যবেক্ষণ করে বলল,
“লাবিব…..
“এহহহ!!আপনার একাউন্ট লাবিব ভাই চালায় কেন?”
“এসব পোস্ট করার সময় আমার নাই!!”
“হু!!সময় নাই!!বললেই হলো!!হু!বুঝি বুঝি সব বুঝি!!”
“কি বোঝেন??”
“এটা বুঝি যে আপনার প্রোফাইল,পেজ এ পোস্ট তো হয় বিজনেস আর ডক্টরি বিষয়ক পোস্ট তবে!!”
“তবে!!!”
“তবে মেয়েরা আপনার হটবডি, হ্যান্ডসাম,হটনেস, স্টাইল,ব্লু আইস দেখে যে কমেন্ট গুলো করে সেগুলো কি?? আবার কয়,চকলেট বয়!!”
“কখনো দেখি নি?বলুন তো কি কি কমেন্ট করেছে?”
রিদি কটমট করে বলল,
“আমি কেন বলব??”
“কেন বলবেন না??”
“বলব টাই কেন?”
“বলবেন নাই কেন??”
“উফফফ!! আমার ইচ্ছা!!”
“আপনার ইচ্ছা মত বুঝি!!”
রিদি রেগে চেঁচিয়ে উঠলো,
“হ্যাঁ হ্যাঁ!! তাই আমার ইচ্ছা মতোই!!”
হুট করে রিদিকে এভাবে রাগে ফুঁসতে দেখে তীব্র কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।হয়েছে কি বৌ টার? রিদি পিছনে ঘুরে ফুঁসতে থাকাই তীব্র রিদিকে সামনে ঘুরাতেই দেখল রিদি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।চোখ জোড়া বন্ধ। চোঁখের কোনায় পানি জমে আছে। তীব্র হতভম্ব হয়ে গেল।হুট করেই রিদির কাঁদা ভাবালো তাকে!তীব্র রিদিকে শান্ত করতে বলল,
“””আরে আরে!!আমার জান! কি হয়ছে পাখি!!এই বৌপাখি! কাঁদছেন কেন আপনি??
আরে বাবা কি হয়ছে?জান আমার! কাঁদছেন কেন??কি হয়েছে সোনা বৌ!!””””
তীব্রর আদুরে কথায় রিদির কান্না দ্বিগুণ হলো।এদিকে এভাবে হঠাৎ কান্না বাড়াতে তীব্র হতবাক হয়ে বলল,
“”কাঁদছেন কেন?সোনা আমার!ও বৌ কাঁদছেন কেন??””
রিদি কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“”আমি আপনার বৌ হব না!!””
তীব্র আহাম্মক হয়ে বলল,
“তো কে হবে!!”
“জানি না!!আপনি ভালো না!!আপনাকে আমার সহ্য হচ্ছে না!!দূরে যান!!দূরে যান বলছি….”
তীব্র কিছু না বুঝে রিদির কান্না থামাতে বিরস মুখে রিদিকে ছেড়ে সোফায় বসল।আপাতত তার মাথায় ঢুকছে না রিদির আচরণ!এই তো ভালোই ছিল হুট করে কি এমন হলো!!
এদিকে রিদি গুনগুনিয়ে ঠিক ১৫ মিনিট কান্নার পর গিয়ে দাঁড়ালো তীব্রর সামনে। তীব্র এখনো কনফিউজড!!সে তাকালো বৌয়ের কান্নারত মুখটার দিকে।ইসস কেঁদে কেঁদে কি অবস্থা করেছে!তবে মুখে কিছুই বলল না। তীব্র কে কিছু বলতে না দেখে রিদি রেগে বলল,
“কিছু বলছেন না কেন??”
“কি বলব??”
“তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন!”
“কিহ!!”
“শুয়ে পড়তে বললাম না!!!”
তীব্র হতভম্ব হয়ে বলল,
“ইয়ে বিছনায় ঘুমাই!!”
“না এখানেই!!’
তীব্র হতাশ হয়ে শুয়ে পড়তেই রিদি ওরনা খুলে সাইডে রেখে তীব্রর ঢিলেঢালা টি শার্টের ভেতর নিজেকে ঢুকিয়ে নিল। তীব্র অবাক হয়ে রিদির কান্ড দেখছে।পড়ে যাবার ভয়ে দুহাতে ছোট্ট শরীরটা নিজের সাথে ভালোভাবে জরিয়ে ধরলো।রিদি তীব্রর বুকে মুখ গুঁজে বলল,
“আমি এখানে থাকব!!”
তীব্র মৃদু হেসে বলল,
“ওকে থাকুন ”
“এটা আমার জায়গা”
তীব্র সম্মতি স্বরুপ বলল,
“হুম আপনারই ”
খানিকটা পর রিদি মুখ বের করে বলল,
“চুমু খাব!!”
তীব্র এবার হতবাক,হতভম্ব,হয়ে চেয়ে আছে রিদির দিকে।এই মেয়ের হঠাৎ করে কি হলো!!নিজ ইচ্ছায় তাকে চুমু খেতে চাইছে তাও লজ্জা বিহীন।তবে এসব আর ভাবল না।আপাতত তার বৌয়ের চুমু খাওয়ার অবদার ফেলতে ইচ্ছে করছে না। বৌয়ের সমস্যা পরে দেখা যাবে।চুমুর অফার মন্দ নয়।তীব্র রিদিকে দেখে বাঁকা হেসে আকরে ধরল রিদির ঠোঁটজোড়া।মত্ত হলো রসালো ঠোঁট জোড়ায়।রিদির হাত অজান্তেই পৌঁছে গেল তীব্রর চুলের ভাজে। তীব্রর মতো তার ছোঁয়াও ভয়ংকর!কাবু করে ফেলে মূহূর্তে!রিদি তীব্রর সাথে তাল মেলাতে ব্যথ হলো।লোকটা একদম ডেসপারেট হয়ে উঠে।
এর মাঝেই দরজায় করাঘাত এর শব্দ শুনে রিদি নিজেকে ছাড়াতে চাইলে তীব্র আরো শক্ত করে চেপে ধরল ।রিদি জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে হাঁপিয়ে উঠা কন্ঠে বলল,
“আপনার খাবার এসেছে ছাড়ুন!”
“লাগবে না ”
” লাগবে না মানে!এই না আপনার খিদে পেয়েছিল!!”
তীব্র বাঁকা হেসে রিদিকে উল্টো করে নিচে ফেলে বলল,
“খুব খিদে পেয়েছে।বিশ্বাস করুন!ইউর লিপস !!ভেরি ভেরি টেষ্টি!এটা খেলেই চলবে আমার।প্লিজ একটু সহ্য করে নিন!খুদা মিটে নি আমার !!
রিদি ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে কিছু বলার আগেই তীব্র ডেসপারেট হয়ে আবারো আকরে ধরলো ঠোঁট জোড়া।রিদি চেষ্টা করেও তীব্রর থেকে নিজেকে সরাতে পারল না।
রাত বাজে আড়াইটা।রিদি ওয়াসরুম থেকে গোসল করে বের হয়ে তীব্রকে রুমে না দেখে অবাক হলো। ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে ভেজা তোয়ালে চুল থেকে খুলতেই ঝরঝরিয়ে তা কোমর থেকে নিচে নেমে এলো।আয়নায় দাড়াতেই অবাক হল।তার গলা,আর ঠোঁটের কি অবস্থা!রিদি তীব্র ক বকতে বকতে দরজা খুলে নিচে নেমে এলো।এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল কিচেন থেকে আওয়াজ আসছে।রিদি সেদিকে গিয়ে দেখল তীব্র মনোযোগ দিয়ে পেঁয়াজ কাটছে রান্নার জন্য।রিদি মুচকি হেসে পেছন থেকে তীব্র কে জড়িয়ে ধরে বলল,
“কি করছেন?”
“তোমার জন্য নুডুলস রান্না করছি!”
“কিভাবে জানলেন আমার খুদা পেয়েছে?”
“আপনার এনার্জি লেভেল দেখে ”
রিদি তীব্রর পিঠে কামড় বসাতেই তীব্র আহ করে উঠল,
“কামড়াকামড়ি খেলা শুরু করতে চাইছেন নাকি আবারো!”
“আপনি খুব অসভ্য”
“আপনার সাথে সভ্য হওয়ার ইচ্ছা ও নাই বৌ”
“আপনি ……..”
“তোমরা এইসময় কিচেনে কি করছ?”
রুপের কথায় রিদি চমকে উঠে তীব্রর থেকে দূরে সরতে চাইলে তীব্র রিদির হাত চেপে ধরে বলল,
“কিচেনে মানুষ কি করে?”
“এই সময়ে!!”
“এই সময়ে খিদে পেয়েছে!”
রিদি তীব্রর এমন কড়া গলার রসকষহীন কথা শুনে বিরক্ত হয়ে বিরবির করে বলল,
“খাটাশ একটা! সুন্দর মিষ্টি স্বরে কথা আসে না।আপুর সাথে সুন্দর করে কথা বললেই তো হয়!!”
রুপ কিছুটা এগিয়ে এসে বলল,
“কি খাবে বলো আমি বানিয়ে দিচ্ছি।”
“নো নিড!”
রুপ তবুও জোর করে বলল,
“আমি বানিয়ে দিই”
রুপ আরো একটু এগিয়ে আসতেই রিদি জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। তীব্র বিরক্ত হল যেন।
“ছোটাছুটি করছেন কেন? স্থির হয়ে দাঁড়ান!”
তীব্রর কথায় রুপের পাজোড়া থেমে গেল।তীব্রর পেছনে সদ্য গোসল করা রিদির ভেজা চুল দেখে
বুকের পাশের পুরানো আঘাতটা নাড়া দিয়ে উঠল।এমন একটা দিন তার আসার কথা ছিল।রিদির কথায় ঘোর কাটল রুপের,
“আপু!আপনার কিছু লাগবে?”
” পা পা পানি নিতে এসেছিলাম ”
রিদি ফ্রিজ থেকে পানির বোতল বের করে দিল।রুপ সেটা হাতে নিয়ে বলল,
“তুমি আছো আমি জানতাম না!”
রিদি কিছু বলল না। শুধু একটু হাসল।রুপ ও মলিন হেসে রুমের দিকে আগ্রসর হলো।যেতে যেতে বিরবির করে বলল,
আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৬০
“সে আমার নয়! সে আমার কোনদিন ছিলোই না। তবুও মন মানতে চায়না শখের পুরুষটা আমার নয়। নিয়তির নির্মম পরিহাস!!মেনে নিয়েও কেন যেন মানতে চাইনা!!”
