রোদ্দুর এবং তুমি পর্ব ১৬
ফারহানা চৌধুরী
পায়ের কাছে তুলোর মতো নরম কিছুর স্পর্শ পেতেই ঘুম আলগা হয়ে এলো। তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখ জোড়া মেলতে কষ্ট হলেও শুভ্র টেনে হিঁচড়ে খুলল। সোফার গদিতে হেলিয়ে রাখা মাথা সোজা করে সামনে আনতে গেলেই অনুভব করলো ঘাড়ে বিশ্রী রকমের ব্যথা। গতরাতে অরুকে ঘুম পাড়িয়ে সোফায় এসে বসেছিলো অফিসের কিছু কাজ সম্পন্ন করবে বিধায়। সেভাবে, সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো।
শুভ্র আচমকা ব্যথায় মুখ কুঁচকে নিলো৷ অস্পষ্ট স্বরে ব্যথাতুর আওয়াজ তুলতেই পায়ের কাছটায় আবারও নরম তুলোর মতো কিছুর স্পর্শ লাগল। কেমন উষ্ণ উষ্ণ ভাব। শুভ্র চমকে গিয়ে এদিক-সেদিক তাকালো৷ দ্রত পা সরিয়ে ফেলল। নিচে তাকাতেই বিস্ময়ে চোখ জোড়া কোটর ছাড়াতে চাইল। বিড়াল! কি করে এলো? তাও কি না তার বাসায়! শুভ্র বিস্ময়ে হতবাক। বিড়ালটার দিকে চাইতেই দেখলো কেমন করছে। পায়ের নখ দ্বারা সোফার নিচটা কেমন ঘষে লাফ দিতে চাইছে। সোফায় উঠতে চাইছে না তো?
চাইবে কি? ওমনি লাফ দিয়ে উঠেও পড়ল। শুভ্র আতঙ্কিত হয়ে আরেক লাফে সোফা থেকে নামল। ইশ! আরেকটু হলে গায়েও লাগতো! শুভ্রর রীতিমতো বমি পেয়ে গেল। মুখ কুঁচকে ফেললো সে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
তার এতশত রংঢং কোকোর সহ্য হলো না তিল পরিমাণও। সে বোধহয় রেগে গেল খুব। মিউ মিউ করে চেঁচিয়ে উঠলো। শুভ্র হকচকিয়ে গেল। বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অরুর দিকে তাকালো চকিতে৷ এই বিড়ালের চেঁচামেচিতে পাছে মেয়েটার ঘুম না ভেঙে যায়। বিড়ালটা সমানে চেঁচাচ্ছে তো চেঁচাচ্ছেই। আজব! শুভ্র হাত নাড়ালো। হাত উঁচিয়ে ইশারায় শান্ত করতে চাইল বিড়ালটিকে। ফ্যাসফ্যাসানো গলায় অনুনয় করে বলল,
-“থামো বাবা, থামো একটু। উঠে যাবে তো অরু। অনেক রাত করে ঘুমিয়েছে, এখন যদি ওঠে না; আমি তোমাকে ঘর ছাড়া করবো প্রমিস!”
শুভ্রর এতো হুমকি-ধমকিতে কোকোর রাগ এবার আকাশ ছুঁলো। নরম তুলতুলে পশমের লম্বা লেজটা নাড়তে নাড়তেই পুনরায় নতুন উদ্যমে চেঁচিয়ে উঠলো,
-“মিউ!”
শুভ্র কপাল চাপড়ালো। অরুর দিকে এক পলক তাকালো চোখ-মুখ খিঁচিয়ে। কোন আপদকে ঘরে এনেছে কে জানে! কখন আনলো? শুভ্র রাগে গজগজ করছে। নাকটাও কেমন পিটপিট করছে। যেকোনো সময় হাঁচির বন্যা বইবে তা লিখিত। বিড়াল সে পছন্দ করে তো না-ই, তার উপর বিড়ালের সংস্পর্শেও যেতে পারে না। সে তার বন্ধুর একটা বিড়ালের নখের আঁচড় পড়েছিলো হাতে। চামড়া এক প্রকার উঠে চলে এসেছিল৷ রক্ত বেরিয়েছিল খুব। শুভ্র এরপর থেকে বিড়াল পছন্দই করে না। সেখানে তাদের সংস্পর্শে আসা তো বাহুল্য।
সে কোকোর এমন চেঁচামেঁচিতে রীতিমত অতিষ্ট হয়ে এদিক-ওদিক খুঁজলো কিছু একটা। ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার হাতড়াতেই পেলো কাঙ্ক্ষিত বস্তু। গ্লাভসের প্যাকেটটা নিয়েই তা খুলল। দু হাতে পরে এগিয়ে এলো কোকোর দিকে। বিড়াল কখনো ধরেনি সে। প্রচন্ড আদুরে বিড়ালকেও তার ভালো লাগে না। পছন্দ হয় না। কোকোর চেঁচানো থামাতে হবে। সে দু’হাত বাড়িয়ে চট করে তুলে ফেলল কোকোকে। হাতের ভেতর এসে কেমন নাড়াচাড়া করতে শুরু করে দিয়েছে ছোট্ট বিড়াল ছানা। শুভ্রর মনে হলো এখনই হাত ফসকে বেরিয়ে যাবে। সে শক্ত করে চেপে ধরল। ভেজিয়ে রাখা ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। এপার্টমেন্টের দরজা খুলে নিচে গেলো দ্রুত পায়ে। লিফটে উঠলো পর্যন্ত না। দৌড়ে নিচে গেল।
তাদের বিল্ডিংয়ের নিচটা বেশ সুন্দর। পাশে একটা খোলামেলা বাগানের মতো রয়েছে। বিভিন্ন ফুল গাছ আছে সেখানে। আরো অনেক গাছ। সকাল সকাল রোদ উঠেছে ভালো। সোনালি আলোর ছটা পড়ছে সমগ্র।
শুভ্র বাগানের ওদিকটায় পা বাড়ালো। কোকোকে নিচে নামিয়ে ছেড়ে দিতেই, কোকো এক লাফে দূরে চলে গেল। ছোট ছোট জোড়া পায়ে দৌড়ে মুহুর্তেই কোনো ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। শুভ্র বেশি ঘাটলো না। কোমড়ে হাত রেখে শ্বাস ফেলতে ঘটলো বিপত্তি। আচমকা হাঁচি-কাশির মতো জঘন্য ব্যাপার-স্যাপারগুলো ঘটা শুরু হলো। পরপর বেশ ক’বার হাচি দিয়েও থামলো না। এক পর্যায়ে হাঁচি দিতে দিতে বেচারার অবস্থা নাজেহাল। কিয়ৎক্ষনের জন্য হাঁচি থামতেই সে গ্লাভস খুললো হাত থেকে। দেওয়ালের পাশের ট্র্যাশবিনে ফেলে দিলো তা। পকেট হাতড়ে টিস্যু বের করলো। নাক-মুখ কোনোরকমে ভালো করে মুছে বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকল।
ঘরে আসতেই কান্নাকাটির আওয়াজ পেল। ভ্রু কুঁচকে এলো তাৎক্ষণিক। নিজের ঘরে যেতেই অরুকে পেল না। অরু নিজের ঘরে রয়েছে বোধগম্য হতেই তস্ত্র পায়ে ছুটে গেল সেখানে। অরু বিছানায় বসে। কাঁদছে গুনগুন করে। কাঁদার চেয়ে বেশি শব্দ করছে। শুভ্র কপাল কুঁচকে তাকায়। ঘরে ঢুকে পড়লো অনুমতি ব্যতিত। অরুর পায়ের কাছটায় হাঁটু মুড়ে বসে চিন্তিত গলায় প্রশ্ন করল,
-“কি হয়েছে? কাঁদছো কেন, অরু?”
অরু জবাব দেয় না। শব্দ বাড়িয়ে কেঁদে যায়। শুভ্র অতিষ্ঠ হয়ে এবার ধমকালো,
-“এই মেয়ে! কিছু জিজ্ঞেস করেছি, জবাব দাও। কাঁদছো কেন? আজব!”
অপ্রত্যাশিত ধমকে কেঁপে উঠল মেয়েটা। কান্না থামিয়েও ছলছল চোখে চাইল। শুভ্র এই পর্যায়ে এসে ভীষণ অপ্রস্তুত বোধ করলো। কন্ঠস্বর নরম হলো আপনাতেই,
-“কি হয়েছে? শরীর খারাপ লাগছে নাকি অন্য কিছু? বলো আমাকে?”
অরু র’ক্তিম নাকটা শব্দ করে টানলো। ঠোঁট উল্টে চেয়ে বলল,
-“আপনি আমার কোকোকে বের করে দিয়েছেন না?”
বলতে বলতেই চোখ জোড়া টলমল করে উঠল। শুভ্র হতচকিত হয়ে বলল,
-“কোকো? কে কোকো? কিসের কোকো? কোকো পাউডার?”
অরুর রাগ মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠেছে এই পর্যায়ে। সে খিঁচে যাওয়া মেজাজে বলল,
-“খবরদার উল্টো পাল্টা বলবেন না। কিসের কোকো পাউডার? আমার কোকোকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন আপনি।”
-“আরে ভাই, কিসের কোকো? তোমার আবার কোন কোকো? তোমার কোকোকে তুমি পাউডার করে কেক বানিয়ে খাও, আমার তাতে কি? আমি কেন তোমার কোকোকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে যাব?”
অরু দাঁত খিঁচিয়ে তাকাল,
-“তাহলে ও কোথায়? পুরো এপার্টমেন্টে ও নেই কেন?”
শুভ্রর আচমকা৷ নিচে রেখে বিড়ালটার কথা মনে পড়ল। কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
-“ওয়েট, কোকো বলতে কি বিড়ালকে বুঝিয়েছো? সাদা রঙের একটা বিড়াল?”
-“হ্যাঁ! এই তো চিনেছেন। ওর নামই কোকো। ও কোথায়? আমি কালকেই ওকে বাড়িতে এনেছিলাম। আমার ঘরে ছিল। সকালের মধ্যে কোথায় চলে গেল? আপনিই বা কোথায় গিয়েছিলেন?”
শুভ্র ঠোঁটে ঠোঁট চেপে তাকালো। অরু ভ্রু কুঁচকে চেয়ে তখনও। কিছু একটা আন্দাজ করতে পারছে সে। তীক্ষ্ণ চোখ জোড়ায় শঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছে। শুভ্র তার তাকানোর ধরনে ভড়কে গেল৷ উঠে দাঁড়ালো ত্বরিতে। আমতা আমতা করে বলল,
-“আমি, ওই—”
-“কি আপনি, আমি, ওই?”
-“শান্ত হও। আমি…. আমি নিয়ে আসছি ওকে।”
অরুর স্বর কাঁদো কাঁদো হয়ে গেল,
-“নিয়ে আসছেন মানে? আপনি ওকে বের করে দিয়েছেন বাড়ি থেকে?”
-“আমি নিয়ে আসছি ওকে। রিল্যাক্স।”
মেয়েটার মুখ দেখে মনে হলো এখুনিই কেঁদে ভাসাবে। শুভ্র তার মতিগতি বুঝে এক পা, দু’পা করে পিছিয়ে গেল। পরপর বেরিয়ে গেল ঘরে থেকে। তৎক্ষনাৎ অরু ক্ষেপে গিয়ে বালিশ ছুঁড়লো দরজায়। চেঁচিয়ে উঠলো,
-“শুভ্রর বাচ্চা!”
শুভ্র চোখ খিঁচে ফেলল। ছুটে নিচে গেল আবার। বাগানে গিয়ে তন্নতন্ন করে কোকোকে খুঁজতে লাগল৷ এই বিড়াল বাড়িতে না নিয়ে গেলে, তার আর বাড়িতে টেকা হআে না বোধহয়। মেয়েটা তাকেই অতিষ্ঠ করে ফেলবে। শুভ্র বেশ কিছুক্ষণ খুঁজেও যখন কোকোকে পেল না, তখন হতাশ হলো খুব। এখন এই বিড়াল কোথায় পাবে আর অরুর ফ্যাচ ফ্যাচ করে কান্নাকাটি কি করে থামাবে? বাড়ি থেকে বিড়ালটা না বের করলেই হতো। কেন করতে গেল? শিট! শিট!
এদিক-ওদিক তাকাতেই বেশ খানিকটা দূরে পাতাবিহীন একটি গাছের পাশটায় পরিচিত বিড়াল ছানাটিকে দেখে প্রাণ ফিরে পেল শুভ্র। দৌড়ে সেখানে যেতেই সেখানে একটা মেয়েকে দেখল কোকোর কাছে বসা দেখলো। ওষ্ঠপুটের বিজয়ের স্বচ্ছ হাসি, ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে এলো। চোখের সামনে অদ্ভুত বিশ্রী কিছু অতীত ভাসলো। শুভ্রর রাগ হলো খুব। পেশিবহুল হাত শক্ত হলো। নীল শিরা ফুলে উঠে দৃশ্যমান হলো ফর্সা ত্বকে। মেয়েটা তখনই এদিকে তাকাল। কোকোকে আদর করতে থাকা হাত থামল। শুভ্রকে দেখে চমকে উঠে দাঁড়ালো। এগিয়ে এসে চরম বিস্ময়ে বিস্তৃত চোখে চেয়ে প্রশ্ন করল,
-“শুভ্র তুমি?”
শুভ্র প্রত্যুত্তর করে না। সামনে এগিয়ে কোকোকে কোলে নিতে গেলে রোজা তাকে কোলে তুলে নিল। শুভ্রর অসম্ভব রাগ হলো এবার। রোজা কোকোকে বাহুতে আঁকড়ে অবাক হয়ে বলল,
-“তুমি বিড়াল নেবে? বিড়াল তো তোমার অপছন্দ শুভ্র।”
শুভ্র শান্ত গলায় বলল,
-“আমার বিড়াল অপছন্দ কি না সেটা তোমার দেখার ব্যাপার নয়। তুমি এখানে কি করছো? আমায় স্টক করা কবে থামাবে?”
রমণীর শ্যাম মুখে একরাশ আঁধার জমলো। অভিমানী কন্ঠস্বরে প্রতিফলিত হলো গুটিকয়েক শব্দ তরঙ্গ,
-“আমি তোমায় স্টক করছি না। আমার এতোদিনের মেসেজ, কল; কোনো কিছুর রেসপন্স নেই। কেন?”
শুভ্রর প্রতিক্রিয়া খুব একটা দৃশ্যমান নয়। সে বড়ো সাবলীল গলায় বলল,
-“রেসপন্স করার প্রয়োজন বোধ করিনি তাই।”
রোজা আহত হলো। কাতর চোখে চাইল,
-“স্টপ বিয়িং সো রুড শুভ্র। আমার ভালো লাগছে না আর এগুলো। এবার থামো প্লিজ। আই অ্যাম স্যরি।”
শুভ্র মাথা দোলালো,
-“আচ্ছা।”
রোজা হতাশ হলো। শুভ্র বলে,
-“বিড়ালটাকে আমার কোলে দাও।”
-“এমা! কেন? তোমার তো—”
তার কথা সমাপ্তি পেলো না। তার পূর্বেই শুভ্র বলল,
-“দাও।”
রোজা কথা বাড়ানোর মতো কিছুই পেল না। শুভ্রর দিকে কোকোকে বাড়িয়ে দিলে শুভ্র অপটু হাতে কোকোকে কোলে নিলো। তাকে নিয়েই তস্ত্র বেগে পা চালালো বিল্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে। এপার্টমেন্টে ঢুকেই দরজা লক করলো। অরুর ঘরের দরজার কাছটায় দাঁড়িয়ে কোকোকে নিচে নামিয়ে দিল। বিড়ালটা লাফিয়ে লাফিয়ে অরুর পায়ের কাছে ঘেঁষতেই অরু তাকে কোলে তুলে নেয়। অসম্ভব রকমের আদরে রাঙিয়ে দিলে, শুভ্র তা দেখে কপাল কুঁচকে চেয়ে। আসার পথে বে’শ ক’বার হাঁচি পড়েছে। নাকে ডগাটা এখনও পিটপিট করছে। সে সরে পড়লো নিঃশব্দে। ঘরে যেতে যেতে আরেকদফা হাঁচি পড়লো।
অরু কান খাঁড়া করে তা শুনে। চোখ ফিরিয়ে কোকোর দিকে চায়। আহ্লাদী হয়ে গাল ঘষে তার গালে। ক্ষনিক বাদেই বিড়ালকে নিচে নামিয়ে উঠে যায় ঘরের বাইরে। শুভ্রকে ডাইনিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে পানি ঢালতে দেখে সেদিকে এগোয়। অপ্রস্তুত হলেও ভদ্রতার সহিত মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে,
-“আপনি কি অসুস্থ?”
শুভ্র চমকে পিছু ফেরে। যে নিজে অসুস্থ, সে আবার তাকে জিজ্ঞেস করছে, সে অসুস্থ কি না! শুভ্র অবলোকন করল তার পা থেকে মাথা। দু’পাশে মাথা নাড়ালো তৎক্ষনাৎ, বোঝালো সে অসুস্থ নয়। অরু জিজ্ঞেস করল,
-“হাঁচি-কাশি দিচ্ছিলেন যে?”
বলতে বলতেই অরুর চোখ গেল তার হাতের দিকে৷ শার্টের স্লিভ ফোল্ড করে তোলা। ফর্সা হাতের কনুই অবধি অরুর চোখের সামনে ভাসছে। হাতের পৃষ্ঠের অবস্থা করুণ বড়ো। অরু আঁতকে উঠল। লাল লাল ছোপ কেমন। হতভম্ব হয়ে হাত টেনে ধরলো অবচেতনে। লালে রাঙা জায়গাগুলোতে আঙুল ছুঁয়ে শঙ্কিত গলায় বলল,
-“এগুলো কি হয়েছে? এমন করুণ দশা কেন আপনার হাতের? ইশ! জ্বলছে খুব?”
শুভ্র বিস্মিত মুখে চেয়ে। অরুর প্রশ্ন বাণ কর্ণধার হতেই মাথা নাড়ে। বোঝায়, জ্বলছে না। অরুর কপালের চিন্তিত ভাজগুলো সরল হয় না। বরং আরো কুঁচকে আসে,
-“এমন কি করে হলো? কালও তো ঠিক ছিলেন, না?”
শুভ্র মাথা দোলায়। কিছু উচ্চারণের পূর্বেই অরু বলে উঠলো আবারও,
-“তবে? হঠাৎ এমন কেন হলো?”
শুভ্র এবার বিস্ময় পাশে সরিয়ে চমৎকার হাসলো। অরুর চিন্তা, শঙ্কাকে দূর ছাই করে দিয়ে বলল,
-“চিন্তা করো না। আই অ্যাম ফাইন। আসলে আমার বিড়াল-টিড়াল সয় না৷ এলার্জি বলতে পারো। ধরলেই এমন হয়।”
অরু আশ্চর্য হয়ে চাইল,
-“এজন্যই কি আপনি কোকোকে বাইরে বের করে দিয়েছিলেন?”
শুভ্র ইতিউতি করে মাথা দোলায়। অরুকে এবার ভারি চিন্তিত দেখাল,
-“আপনি ওকে আবার নিয়ে আসলেন কেন? এখন একই বাড়িতে কি করে ওকে নিয়ে থাকবেন? আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন তো এতে! আমাকে বললেই হতো আপনার এলার্জির সমস্যা। আমি তাহলে বলতাম নাকি আপনাকে বিড়াল-টিড়াল ফিরিয়ে আনতে?
-“বলতে না?”
-“না!”
শুভ্র এবার মজার ছলে বলল,
-“তোমার ছেলেকে নিয়ে যে দেখছি তোমার কোনো চিন্তা নেই।”
-“ছেলে?”
অরুর বিস্মিত। আশ্চর্য হয়ে বলল,
-“আমার কিসের ছেলে?”
-“কেন? কোকো।”
-“কোকো আমার ছেলে?”
শুভ্র মাথা দোলায়। বড়ো আগ্রহ নিয়ে বলে,
-“হ্যাঁ। আমি বেশ কয়েক জায়গায় দেখেছি; যারা বিড়াল পোষে, বেশিরভাগ মেয়েরা যারা, তারা নিজেদেরকে বিড়ালের ‘মা’ বলে দাবি করে। সকলেই। তুমিও কোকোকে পুষবে, তুমি নিজেকে তার মা বলে দাবি করো।”
অরু এবার হেসে ফেলল,
-“হাস্যকর একটা ব্যাপার।”
-“আজব! কেন? আমার কাছে তো বড্ড মিষ্টি লেগেছে।”
রোদ্দুর এবং তুমি পর্ব ১৫
-“আসলে, বিষয়টা আপেক্ষিক। একেক জনের কাছে একেক রকম। বিড়ালকে নিজের বাচ্চা বলে বলে আদিখ্যেতা করা আমার পছন্দ নয়। এগুলোকে ন্যাকামো ব্যতিত আমার আর কিছুই মনে হয় না। আমি কোকোকে আদর করে নিজের কাছে রাখছি, আমার ওকে পছন্দ হয়েছিলো বিধায়। কিন্তু, আমি কোকোর মা হতে চাই না।”
শুভ্র ফট করে বলে বসল,
-“তবে, আমি তো কোকোর বাবা হতে চাই।”
