মধ্য রাতের চাঁদ পর্ব ৫২
মুসতারিন মুসাররাত
কে*টে গেছে এক সপ্তাহ। ঘড়ির কাঁটা বিকেল পাঁচটার ঘরে। প্রত্যাশা সোফায় বসে। পরনে অফ-হোয়াইট কালারের কুর্তি, ওড়নাটা কাঁধের ডান সাইডে ঝুলে রাখা। ফ্যানের বাতাসে চুলগুলো বারবার উড়ে গাল ছুঁয়ে দিচ্ছে। সামনে টি-টেবিলে রাখা বাটিতে কিসমিস আর কাজুবাদাম। থেকে থেকে দুই আঙুলে তুলে মুখে দিচ্ছে, আর অন্য হাতে ফোনে বান্ধবীদের সাথে মেসেজ চালাচালি করছে।
ওপাশে ইচ্ছে আর আনিশা রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি নিয়ে খেলায় মগ্ন। তন্মধ্যে নীলাশা এসে প্রত্যাশার থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে বসল। চুলগুলো হাত খোঁপা করতে করতে কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,
-” কার সাথে এত কথা বলছিস? নীরব?”
ফোনের স্ক্রিনে দৃষ্টি রেখেই জবাব দেয় প্রত্যাশা,
-” উঁহু! হ্যাপি আর কোয়েলের সাথে গ্রুপে কথা বলছি। আর তোমার দেবরের কথা বলছো? তার তো অফিসে বসে মেসেজ করার ফুরসত থাকে না।”
-” ওহ।” বলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে পরোক্ষণেই নীলাশা শুধিয়ে বলল,
-” কালকে তো রেজাল্ট দিবে, জানিস?”
-” হ্যাঁ।”
বোল থেকে কাজুবাদাম হাতে তুলে মুখে দেয়ার আগে থেমে গেল প্রত্যাশা। বোলের দিকে ইশারা করে বলল,
-” আপু নাও।”
নীলাশা মাথা নেড়ে বলল,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
-” না খেতে ইচ্ছে করছে না। তুই খা।”
প্রত্যাশা মুখে পুড়ে ফোনের স্ক্রিনে মনোযোগ দিল। নীলাশা ছোট করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কয়েক মূহুর্ত চুপ থেকে আচমকা ডাকল,
-” প্রত্যাশা”
ডাকটা যেন একটু ভিন্নরকম লাগল। প্রত্যাশা অস্ফুট স্বরে বলল,
-” হুঁ?”
নীলাশা হঠাৎ নরম কণ্ঠে বলে উঠল,
-” তোর সাথে সবসময় মিসবিভেব করার জন্য স্যরি রে। সেদিনের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমার ওভাবে রিয়েকট করা একদম উচিত হয়নি। আর..”
প্রত্যাশা কথা কেড়ে নিল। বলল,
-” আপু বাদ দাও এসব। যা হওয়ার ছিল তাই হয়েছে। তুমি বলেছো এজন্য তোমার উপর রাগ-ক্ষোভ, অভিমান করব, এমন না। তোমার উপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। বরঞ্চ সত্যিটা জানিয়ে ভালোই করেছো। আমিই সকলের কাছে ঋণী। আমার গোটা জীবন এভাবে ঋণী হয়েই কাটাতে হবে। র’ক্তে’র সম্পর্ক নেই, অথচ তারা আমাকে কখনো বুঝতেই দেয়নি। আদর যত্ন ভালোবাসার এতটুকু খামতি রাখেনি। আরো সবটা উজাড় করে দিয়ে আমাকে বড় করেছে।”
কণ্ঠে অপরাধ বোধ নামিয়ে বলে নীলাশা,
-” শুধু সেদিনের জন্য স্যরি বলছি না। তোর সাথে অহেতুক রাগারাগি করা, হেয় করে কথা বলা সবের জন্য আমি রিপেন্ট।”
প্রত্যাশা বলল,
-” সত্যি বলতে, তোমার উপর একটু অভিমান, একটু অভিযোগ,একটু আফসোস ছিলো। তবে যেদিন থেকে সত্যিটা জানি, সেদিন থেকে আর আফসোস, অভিযোগ কোনোটাই নেই। আমি তোমার নিজের বোন নই। সেটা জানার পরেও আমাকে যতটুকু দিয়েছো, যা করেছো সেটাই আমার কাছে অনেক বেশি। আর ঠিকই তো বলতে, উড়ে এসে জুড়ে বসেছি আমি। তোমার আদরে ভাগ বসিয়েছি। তারপরেও তুমি যে সকলের সামনে বোন হিসেবে পরিচিতি দিতে। একদম সত্যি বলছি এটা আমার জন্য অনেক।”
নীলাশার ফর্সা মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। এরমধ্যে পায়ের শব্দ শুনে দুই বোনই চুপ হয়ে যায়। দুই জা বাগান থেকে আসলেন। শর্মিলার হাতে পেয়ারা। টি-টেবিলের উপর নামাতে নামাতে বললেন,
-” নীলাশা, প্রত্যাশা পেয়ারা খাও।”
নীলাশা শুকনো হেসে বলল,
-” পরে খাব ছোটো মা, এখন খেতে ইচ্ছে করছে না।”
প্রত্যাশার দিকে তাকিয়ে নীহারিকা জিজ্ঞেস করলেন,
-” তোমার পেট ব্যথা কমেছে?”
প্রত্যাশা মাথা তুলে তাকাল। বলল,
-” এখন করছে না। মাঝেমাঝে পেইনটা হয়।”
কপালে ভাঁজ ফেলে শর্মিলা বললেন,
-” তাহলে তো ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগে। নীরবকে বলে চেকাপ করিয়ে আসো। অল্প থাকতেই ট্রিটমেন্ট নেয়া ভালো। পরে না আবার বেশি সমস্যা হয়।”
নীহারিকা বললেন,
-” এই সময় কারো কারো ক্ষেত্রে একটু-আকটু ব্যথা হয়। অস্বাভাবিক না। তবে বেশি সমস্যা হলে আগে ভাগেই ডাক্তারের কাছে যেয়ো। হেলাফেলা করে পাছে যেন কোনো ক্ষ”তি না হয়।”
মূহুর্তেই নীলাশার কাছে পরিবেশটা ভারী হয়ে উঠল। মুখে স্বাভাবিক ভান করে বসে থাকলেও বুকের ভেতরটা কেমন হাহাকার করছে। ফর্সা মুখটা এক মুহূর্তে নিস্তেজ হয়ে গেল। চোখে জল চিকচিক করে উঠল। অন্যদিক তাকিয়ে সবার অগোচরে মুছে নিল। মা না হতে পারার বেদনা ঠিক কেমন এটা কাউকে বোঝানো যায় না। শুধু সেই জানে, প্রতিদিন কীভাবে ভেতরে ভেতরে নিজেকে গিলে খেতে হয়। চারপাশে যখন শিশুদের কোলাহল, নতুন জীবনের আগমনের আনন্দ। তখন হাসি মুখে পাশে দাঁড়াতে হয় ঠিকই, কিন্তু অন্তরের গভীরে চাপা কান্না গড়িয়ে পড়তে চায়। মা না হওয়ার কষ্টটা এক অন্তহীন শূন্যতা। যে শুণ্যতায় প্রতিটি ক্ষণ নীলাশা গুমরে ম’র’ছে।
ঘড়ির কাঁটা ঠিকঠিক দুপুর দু’টোর ঘরে। দুইটার পরেই রেজাল্ট প্রকাশ হবে। প্রত্যাশা বিছানায় বসে হাত দুটো সমানে ঘষছে। হাতের তালু টেনশনে ভিজে উঠছে ঘামে।
আজকে লাঞ্চ আওয়ারে একবারে চলে এসেছে নীরব। সে দাঁড়িয়ে আছে প্রত্যাশার থেকে দু’হাত দূরত্বে। ফটফট করে আঙুল স্পর্শ করে রেজাল্ট বিডি ওয়েবসাইটে ঢুকল। রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সবটা পূরণ করে সাবমিট করতেই সাইট ঘুরপাক খেতে থাকল।
প্রত্যাশা চোখদুটো বুঁজে বিড়বিড় করে দোয়া দরুদ পড়ছে। নিঃশব্দে পাতলা অধরজোড়া নড়ছে,
-” ইয়া আল্লাহ, রেজাল্টটা ভালো দিও। মানসম্মানটা যেন থাকে। হাই-ফাই জিপিএ না হোক, অন্তত মুখ দেখানোর মতো কিছু একটা হোক।”
নীরব কোণা চোখে প্রত্যাশাকে এক ঝলক দেখল। পরপরই মিটমিট করে হেসে মজার ছলে বলল,
-” যেভাবে হাত দুটো ঘষছো, মনে হচ্ছে যখন-তখন আ”গুন ধরে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। সাবধান, আমি কিন্তু ফায়ার এক্সটিংগুইশার আনিনি।”
নীরবের কথায় হকচকিয়ে ভাবনা থেকে বেরিয়ে এল প্রত্যাশা। কপালে বিরক্তির ছাঁট ফেলে অস্থির গলায় বলল,
-” মা’রা’ত্মক টেনশন হচ্ছে। এখন এসব আজেবাজে কথা বলবেন না তো। হাত-পা কাঁপছে আমার।”
নীরব ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ঝুলিয়ে বলল,
-” আরে এত্তো টেনশন করার কী আছে? রিল্যাক্স হও। চিল করো। দ্যাখো বিয়েটা তো হয়ে গেছে। বিয়ের আগে হলে না হয় টেনশনের একটা কারন ছিলো। ধরো তুমি ফেল করলে, যার ফলে তোমার আম্মু একটা রিকশাওয়ালা ম্যানেজ করে তার সাথে তোমার বিয়ে দিয়ে দিতো। ভাগ্যিস আমি হিরো হয়ে আগে থেকেই সব সিল করে ফেলেছি। তোমাকে বউ করে নিয়েছি।”
প্রত্যাশা গলা উঁচু করে চেঁচিয়ে উঠল,
-” নীর…ব। উফ্! থামবেন আপনি। আমি নার্ভাস আর এদিকে আপনি মজা নিচ্ছেন, না? মজা নিচ্ছেন? এবারে কিন্তু আমি সত্যি সত্যিই রেগে যাচ্ছি, হুঁ।”
ঠোঁট কামড়ে হাসল নীরব। কণ্ঠে দুষ্টুমি মিশিয়ে বলল,
-” তোমাকে রাগাতেই চাইছি। কজ রাগলে পরে তোমাকে আরো সুন্দর লাগে। তখন ইচ্ছে করে টুপটুপ করে কটা চুমু খেতে, তোমার ওই রাগে লাল হওয়া ফোলাফোলা গালে।”
-” আশ্চর্য মানুষ তো আপনি! এই মূহুর্তে এসেও কেউ এমন মজা করে নাকি?”
-” আমি করি।”
নীরবের সোজাসাপ্টা নির্লিপ্ত জবাব শুনে প্রত্যাশা মুখ বাঁকাল। নীরব সিরিয়াস গলায় বলল এবারে,
-” অতিরিক্ত টেনশন করে বিপি হাই করে ছাড়বে। যাতে আমার বাচ্চাটার প্রব্লেম হবে। যেটা হওয়ার সেটা হতো হবেই। সো হাইপার হওয়ার কিছু নেই। শোনো, তোমার রেজাল্ট যেমনই আসুক না কেনো, তুমি কিন্তু আমার লাইফের ফার্স্ট ডিভিশন।”
এবারে প্রত্যাশার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির রেখা ফুটে উঠল। মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসা করল,
-” রেজাল্ট আসেনি এখনো? দুটো তো অলরেডি বাজে।”
-” ওয়েবসাইট গুলোতে এই মুহূর্তে প্রচুর চাপ পরে। তাই একটু লেট হচ্ছে। ডোন্ট ওয়ারি, চলে আসবে।”
বলতে বলতেই রেজাল্ট শো করল। নীরব বলল,
-” আসছে।”
প্রত্যাশা তড়িঘড়ি উঠে নীরবের পাশে দাঁড়াল। উত্তেজিত চোখমুখে শুধাল,
-” কি আসছে? কী গ্রেড? কত পয়েন্ট?”
ফোনটা প্রত্যাশার সামনে মেলে ধরল নীরব। বলল,
-” এইযে তুমিই দ্যাখো।”
প্রত্যাশা ফট করে চোখের ঘন পাপড়ি নামাল। চোখবুঁজে কম্পিত গলায় বলল,
-” না, আপনি বলুন।”
বলেই নীরবের হাত শক্ত করে চেপে ধরল প্রত্যাশা। টেনশনে নখ ডেবে গেল নীরবের হাতে। নীরব হাতের দিকে একপল তাকাল পরপর প্রত্যাশার মুখের দিকে। তারপর স্মিত হেসে স্পষ্ট কণ্ঠস্বরে পড়ল,
-” ইয়ানূর প্রত্যাশা, অল সাবজেক্ট পাসড। জিপিএ ফোর পয়েন্ট জিরো জিরো।”
কথাটা মাথায় ঢুকতে পাঁচ সেকেন্ড সময় লাগল প্রত্যাশার। প্রথমে একটু রাগ হলো নীরবের উপর। এত কাহিনী করে বলতে হলো, ডিরেক্ট ফোর পয়েন্ট বললেই হয়। তবে রেজাল্ট শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে সব রাগ উবে গেল নিমিষেই। প্রত্যাশা উচ্ছ্বাসে চেঁচিয়ে ওঠে,
-” ইয়াআআ! আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।”
খুশিতে সামনে দাঁড়ানো নীরবকে ঝাঁপটে ধরল। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল,
-” যাজ্ঞে এ গ্রেড তো পেয়েছি।”
এসএসসিতে থ্রি পয়েন্ট ফাইভ জিরো ছিলো। একদম কাঁটায় কাঁটায় এ মাইনাস হয়েছিল। এবারে একটু উন্নতি হয়েছে। তবুও সেই যেন কাঁটায় কাঁটায়। প্রত্যাশা তড়িঘড়ি করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আগ্রহ নিয়ে বলে,
-” দেখি দেখি এবার, কোন সাবজেক্টে কত মার্কস এসেছে।”
ফোনটা হাতে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে নম্বরগুলো দেখতে লাগল প্রত্যাশা। নীরব ভ্রু নাড়িয়ে মৃদু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
-” উহুম, উহুম, আচ্ছা এখন তো তোমার মিষ্টি মুখ করানো উচিত।”
প্রত্যাশা ভুরু কুঁচকে সরু চাউনিতে তাকাল। বলল,
-” আরে বউ পাস করেছে, মিষ্টি তো আপনিই এনে খাওয়াবেন। শুধু আমাকে না, সবাইকে।”
প্রত্যাশার দিকে ঝুঁকল নীরব। চোখ টিপে বলল,
-” আমার তরফ থেকে সবাইকে তো ঠিকই মিষ্টি খাওয়ানো হবে। তবে আমার বউকেও মিষ্টি খাওয়াতে হবে আমাকে। অন্যভাবে, ক্লিয়ার?”
প্রত্যাশা চোখ নামিয়ে নিল। লজ্জার আভা লুকাতে চটপট বলল,
-” ধূর, সবসময় ফাজলামি করেন। যান তো, আমি এখন ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলব। ওদের রেজাল্ট জানতে হবে।”
-” আগে তোমার আব্বু- আম্মুর সাথে কথা বলে নাও।”
প্রত্যাশা মাথা নেড়ে বলল,
-” ও.. হ্যাঁ।”
প্রত্যাশার রেজাল্ট উপলক্ষে বিকেলে মিষ্টি নিয়ে আসে নীরব। ড্রয়িংরুমে আনিশা আর ইচ্ছের হাতে মিষ্টির পিরিচ। আনিশা সুন্দর করে কাঁটা চামচে তুলে তুলে খাচ্ছে। ইচ্ছে খেতে গিয়ে গায়ে মেখে নিচ্ছে। সে নিজেই অবশ্য বলেছিল আনিশার মতো নিজে নিজে একাই খাবে। এখন খেতে গিয়ে মিষ্টির রস ফোঁটা ফোঁটা ফ্রকে মেখে ফেলছে। প্রত্যাশা ড্রয়িংরুমে আসছিল। এটা দেখেই ইচ্ছের কাছে এসে বলল,
-” এই রে তুমি তো একদম গায়ে মেখে নিচ্ছো। মিষ্টির রস যে আঠালো। দাও দাও আমি খাইয়ে দেই।”
ইচ্ছে ঘাড় নেড়ে বলল,
-” দাও।”
প্রত্যাশা পাশে বসল। সুকোমল হেসে ইচ্ছের গালে তুলে দিল। ইচ্ছে মুখে নিয়ে চিবুতে থাকে। প্রত্যাশা জিজ্ঞেস করল,
-” খেতে টেস্টি?”
জ্বিভ বের করে ঠোঁট মুছার মত করে উচ্ছ্বসিত মুখে বলল ইচ্ছে,
-” হ্যাঁ টেস্টি…অনেক ইয়াম্মিইইই।”
ইচ্ছের এক্সপ্রেশন দেখে প্রত্যাশা হেসে ফেলল। এরমধ্যে নীহারিকা অদূরে দাঁড়িয়ে সবটা দেখলেন। দেখে ভেতরে ভেতরে প্রসন্ন হাসলেন। কিছুপল পর এগিয়ে এসে প্রত্যাশাকে শুধালেন,
-” প্রত্যাশা, নীরব কোথায়?”
-” রুমেই আছে।”
-” সবাইকে মিষ্টি দেয়া হয়েছে। নীলাশা পরে খাবে বলেছে। তুমিও তো খাওনি। একাই নিয়ে খেয়ো কিন্তু। আর হ্যাঁ, নীরবকে নিয়ে দিও।”
-” আচ্ছা, মা।”
ইচ্ছে খেতে খেতে হঠাৎ প্রশ্ন করে উঠল।
-” মামণি, আমার মাম্মা কবে আসবে গো?”
প্রত্যাশার মুখটা ম্লান হয়ে গেল। জবাব দিতে পারল না। ইচ্ছে ফের বলল,
-” দিদুন তুমি তো বলেছো মাম্মা অফিসের কাজে গেছে। কাজ শেষ হয়নি? এখনো আসছে না যে। আচ্ছা আমি যদি মাম্মার সাথে ফোনে কথা বলতে চাই, মাম্মা কী রেগে যাবে? মাম্মা তো অফিসের কাজে আছে। সেজন্য রাগ করবে কী? মামণি তুমি মাম্মার সাথে কথা বলে শুনবে, হ্যাঁ?”
প্রত্যাশা থম মেরে গেল। নীহারিকা এড়িয়ে যেতে বলে উঠলেন,
-” আনিশা আর ইচ্ছে খাওয়া শেষে হাতমুখ ভালো করে ধুয়ে বাইরে এসো। আমি সামনেই দাঁড়াচ্ছি। তোমাদেরকে হাঁটতে নিয়ে যাব।”
কথাটা শুনেই ওদের দু’জনের চোখমুখে খুশির ঝিলিক ঝিকমিক করে উঠল। ইচ্ছেকে খাইয়ে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে দেয় প্রত্যাশা। ইচ্ছের রস মাখানো ফ্রক চেঞ্জ করে আরেকটা পড়িয়ে দিল। ওরা দু’টো ফুঁড়ুৎ করে দৌড়ে নীহারিকার কাছে যায়। বাসার সামনে লাগানো সবজি বাগানে নীহারিকা এটাওটা দেখছিল। অতঃপর দু’জনকে সাথে নিয়ে সামনেই হাঁটতে বেরোন।
রসমালাই আর সানার জিলাপি দু’টো মিষ্টিই প্রত্যাশার পছন্দের। আজকে দুটোই এনেছে নীরব। প্রত্যাশা এখন রসমালাই রেখে দু’টো পিরিচে দু’টো দু’টো করে চারটে সানার জিলাপি আর অল্প রস তুলল।
রুমে ঢুকতেই বেডে নজর যায়। ডার্ক ব্লু টিশার্ট, আর অফ হোয়াইট ট্রাউজার পরনে নীরবের। বেডে হেলান দিয়ে শুয়ে। কপালে ভাঁজ ফেলে দৃষ্টিজোড়া ফোনে নিবদ্ধ রেখেছে। প্রত্যাশা এগিয়ে হাতের ট্রে বেডটেবিলে রাখল। একটা পিরিচ হাতে নিয়ে হালকা কেশে বলল,
-” এহেম এহেম, এইযে আপনার মিষ্টি।”
ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে একবার প্রত্যাশার হাতের দিকে তাকাল নীরব। অতঃপর ফোনের দিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে বলল,
-” খাইয়ে দাও।”
প্রত্যাশা চোখ বড়বড় করে বলল,
-” মানে?”
-” কানে শোনোনি? কথাটা রিপিট করতে হবে?”
-” পারব না। আপনি খেয়ে নিন।”
-” হাত জোড়া আমার। দেখছো না ফোন স্ক্রল করছি।”
প্রত্যাশা এক ঝটকায় নীরবের ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে নিল। মিষ্টির পিরিচ বাড়িয়ে বলল,
-” নিন এবারে খান।”
দুই ভ্রুর মাঝখানে ঢেউ তুলে প্রত্যাশার মুখের দিকে তাকাল নীরব। নরম স্বরে বলল,
-” খাও তুমি। মিষ্টি আমার তেমন পছন্দ নয়।”
-” অল্প করে খান।”
-” উঁহু। আমার গুলো তোমার জন্য। আমারটা তুমি খেয়ে নিও।”
প্রত্যাশা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
-” আমাকে কী আপনার রাক্ষস মনে হয় নাকি? আর আমার লাগলে আরো আছে সেখান থেকে নেয়া যাবে।”
-” আরে রাগ করছো কেনো? ভালোবেসেই তো বলছি।”
প্রত্যাশা কাঁটা চামচে এক টুকরো মিষ্টি তুলে নীরবের সামনে ধরল। বলল,
-” নিন আমিও ভালোবেসে খাইয়ে দিচ্ছি। এবার তো একটু খেয়ে দেখুন।”
নীরব স্মিত হাসল। বলল,
-” ওকে, এত সুন্দর করে বউ ভালোবেসে দিচ্ছে। না করি কী করে।”
নীরব মুখে নিল। প্রত্যাশা এবারে নিজের মুখে পুড়ে চিবুতে চিবুতে বলল,
-” আপনাকে তো আমার ফ্রেন্ডদের রেজাল্ট বলা হয়নি। হ্যাপি প্লাস পেয়েছে, নাহিদ ফোর পয়েন্ট থ্রি ফাইভ। রোহান ফোর পয়েন্ট ফাইভ এইট। কোয়েল টা না একটু খারাপ করেছে। থ্রি পয়েন্ট সেভেন ফাইভ পেয়েছে।”
একনাগাড়ে বলে থামল প্রত্যাশা। এবারে চোয়াল শক্ত করে বলল,
-” করবে না, সারাক্ষণ বয়ফ্রেন্ডের সাথে চ্যাটিং ফ্যাটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর আমাদের মধ্যে বেশি বেশি লুচুগিরি কথা না ওই বলে থাকে। মাথায় আজেবাজে ভাবনা থাকলে তো এমন হবেই। ওইযে অল্প বয়সে পাকলে যা হয়।”
ভ্রুকুটি করে প্রত্যাশার মুখের দিকে তাকাল নীরব। বলল,
-” আর তুমি নিজে এসব কী ওয়ার্ড ইউজ করছো, শুনি? লুচুগিরি, পাকা?”
চোখদুটো কপালে তুলে বলল প্রত্যাশা,
-” আরে যে যা করে তাকে সেরকম বলব না? এখন বলতে গিয়ে যদি ওসব ওয়ার্ড চলে আসে তাতে আমার দোষ কী?”
হাত বাড়িয়ে পানির গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেল নীরব। গ্লাস নামাতে নামাতে বলল,
-” আচ্ছা বাদ দাও এসব। অন্যের রেজাল্ট কেমন হলো এ নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। তুমি তোমার নিজের ব্যাপারে মনোযোগী হও। আমার বউ হিসাবে সামনে তোমাকে আরো ভালো করা চাই। টার্গেট রাখবে হ্যান্ডসাম সিজিপিএ তোলার।”
প্রত্যাশা গাল ফুলিয়ে বলল,
-” বুঝেছি আমার এই রেজাল্টে আপনি খুশি হোননি। প্লাস পাইনি তো।”
-” আরে আমি কী তাই বলছি? উল্টো বুঝে অভিমান করছো। আমি বলছি, সামনে আরো ভালো কিছু করার। পেতেই হবে এমন নয়, তবে চেষ্টাটুকু তো রাখতে হয়।”
-” ওহ্।”
প্রসঙ্গ পাল্টাতে নীরব বলল,
-” তোমার তরফ থেকে আমার জন্য আসল মিষ্টি কিন্তু পাওনা রয়ে গেছে।”
প্রত্যাশা কণ্ঠে কৌতুক নামিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-” তাহলে যেটা মাত্র খেলেন, সেটা নকল মিষ্টি ছিলো নাকি?”
নিচের অধর কামড়ে ধরে স্বল্প হাসল নীরব। দুষ্টু স্বরে বলল,
-” নাহ। তবে পানসে কড়া মিষ্টি নয়। আমার জন্য কড়া মিষ্টি হলো… তোমার ঠোঁট।”
তিন-চার দিন পর…
হাসপাতালের ক্যান্টিনে টেবিলের দুপাশে মুখোমুখি বসে আছে অদ্রিকা আর সার্থক। সামনে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। সার্থকের মুখ শুকনো, চোখ লালচে। দেখেই বোঝা যায় ঠিকমতো ঘুমায় না। অদ্রিকা মৃদু স্বরে বলল,
-” তোকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো জানি না সার্থ। তবে একটা কথা বলব, ভেঙে পড়িস না। নিজের কথাটাও ভাব। প্রীতি ভুল করেছে, তবু বোনের কষ্ট দেখা যায় না। তুই যদি সাজা কমানোর চেষ্টা করিস, সেটা অন্যায় নয়। আচ্ছা, জামিনের ব্যাপারটা?”
সার্থক হতাশ গলায় বলল,
-” প্রীতির জন্য ল’য়ার নিয়েছি। জামিনের জন্য আপিল করেছিলাম। কিন্তু খারিজ করে দিয়েছে। জামিন হবে না। তিনটা কেস নীরব করেছে, সব প্রমাণ সহ। দুইটা প্রত্যাশাকে নিয়ে, আরেকটা নীবিড়কে ঠকানোর জন্য।”
অদ্রিকা দীর্ঘশ্বাস ফেলল,
-” আর আন্টি?”
সার্থকের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। মুষ্টিবদ্ধ হাত কাঁপতে লাগল।
-” প্লিজ অদ্রি, ওই মহিলার নামটা আমার সামনে তুলিস না। ওনার জন্যই আজ এই পরিস্থিতি।”
বোনের জন্য নামকরা বড় ল’য়ার ঠিক করলেও মায়ের ক্ষেত্রে নির্বিকার। তানিয়ার পক্ষে কোনো উকিল দাঁড়ায়নি। যেখানে নিজের ছেলেই দাঁড়ায়নি, সেখানে আর কে তার পক্ষ নিবে?
কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ কাটল। দু’জনেই কফির মগের দিকে তাকিয়ে। অদ্রিকা জিজ্ঞেস করল,
-” তুই গিয়েছিলি প্রীতিকে দেখতে?”
সার্থক ধীরে মাথা নাড়ল। বলল,
-” হ্যাঁ। দুই দিন হলো হাসপাতাল থেকে জেলে নিয়েছে। এত অল্প সময়ে এতটা দলে গেছে যে চেনাই যাচ্ছে না। চোখের নিচে কালি জমেছে, শুকিয়ে গেছে। কিছু জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দেয়নি। চুপ করে থেকেছে, আর নীরবে চোখের পানি ফেলেছে।”
এতটুকু বলে থামল। ব্যথাতুর কণ্ঠে ফের বলল,
-” আজ দু’টো সপ্তাহ খাবার মুখে তুলতে গিয়ে প্রীতির মুখটা ভেসে ওঠে। ও কী খাচ্ছে? কীভাবে জেলের চার দেয়ালের মধ্যে আছে? এসির মধ্য ছাড়া থাকতে পারে না, যে সে খাবার মুখে তুলতে পারে না। আমার সেই ছোট্ট বোনটা কী করে সহ্য করছে? ভাবলেই আমার এত অসহায় লাগে বলে বোঝানো যাবে না।”
গলার স্বর ভারী হয়ে ওঠে সার্থকের। চোখ চিকচিক করে উঠল।
দেখা করার মূহুর্তের প্রীতিকে এটাওটা জিজ্ঞেস করলেও নিশ্চুপ থাকে। শুধু একটাই প্রশ্ন করে — ভাইয়া ইচ্ছে কোথায়? কেমন আছে?
ইচ্ছে ওর দাদুর বাসায় আছে। ভালো আছে। সার্থকের উত্তর শুনেই প্রীতি বলে— জানি তো ওখানে থাকলে ইচ্ছে ভালো থাকবে। সবার আদরে খুব খুব ভালো থাকবে।
সার্থক জিজ্ঞেস করে— ইচ্ছেকে দেখতে চাস? একদিন নিয়ে আসব?
প্রীতি সাথে সাথেই না করে। বলে— নাহ। ওকে কখনো এখানে আনিস না ভাইয়া। ও আমাকে ছেড়ে যেতে চাইবে না। কান্নাকাটি করবে। তার চেয়ে ওর বাড়িতে, নিজের পরিবারের লোকদের কাছে ভালো থাক। আর পারলে ওকে বোঝাস, ওর বাজে মাম্মাটা নেই। ওর খারাপ মাম্মাটা ম*রে গেছে। ও যেন এটা জেনেই বড় হয়।
কিছু সময় নীরবে কাটল। মগের কফি ঠান্ডা হয়ে গেছে। সেই ঠাণ্ডা কফিই গলাধঃকরণ করতে থাকে সার্থক। তবে তেতো ঠেকছে। বোনের কথা মনে পড়ল গলা দিয়ে কিছু নামানো কষ্ট হয়ে ওঠে। অদ্রিকা হতাশ নিঃশ্বাস ফেলল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে অন্য প্রসঙ্গে গেল,
-” সার্থ, তুই এখন কোথায় থাকিস?”
-” ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট নিয়েছি।”
অদ্রিকা কফির মগে ঠোঁট ছোঁয়াল। খানিকক্ষণ দ্বিধা দ্বন্দ্বে থেকে নিচু গলায় বলল,
-” জানি, এই মুহূর্তে আমার কথাটা বলা একদম ঠিক না। তবু বলছি, বাবা-মা আমার বিয়ের জন্য অনেক চাপ দিচ্ছে। তোকে তো আমি কতবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। ইভেন বলেছি; আমার তোকে ভালো লাগে। তুই অবুঝ নোস সার্থক। এই ভালোলাগার মানে বোঝার জ্ঞান আছে। আর আমি-ও বোকা নই। ওই মেয়েটার প্রতি তোর যে টান আছে। কুয়াকাটায় থাকতে সেটা আমিও বুঝেছি। সব জেনেশুনেই বলছি, এভাবে সময় ন*ষ্ট না করে জীবনটা গুছিয়ে নেওয়া যায় না?”
সার্থক থম মে*রে গেল। চোখ নামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
-” অদ্রি আমার একটু সময় লাগবে। এখন এই পরিস্থিতিতে…”
অদ্রিকা কথার মাঝখানেই বলল,
-” সময় নিতে নিতে বুড়ো হয়ে যাবি। কিছুদিন গেলে চুলে পাক ধরে যাবে কিন্তু। আর এদিকে গ্রামের বাড়িতে গেলেই সবাই আড়ালে আড়ালে আমাকে আয়বুড়ো বলে। মেয়েটার সমস্যা আছে নইলে বিয়ে করে না কেনো? ভাবছি, সবার মুখ বন্ধ করার জন্য হলেও দ্রুত বিয়ে করে দেখিয়ে দিবো। তিনদিন সময় দিলাম সার্থ। ডিরেক্ট হ্যাঁ বা না বলবি। নয়তো বাবা-মায়ের ঠিক করা পাত্রকে বিয়ে করে নেবো। আর বিয়ে হলে আপনাআপনি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়। পুরনো মোহটোহ কোথায় চলে যায়, হুঁ।”
অদ্রিকা একটু অ্যাক্টিং করে বলতে থাকে। একাকী নিঃসঙ্গ লাইফের দুঃসময়ে অদ্রিকার সাথে কথা বলে একটু হলেও হালকা লাগছে সার্থকের।
রাত সাড়ে এগারোটা। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। ঘরে হালকা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব। প্রত্যাশা ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পড়ল। নীরব পাশ ফিরে ফোনে স্ক্রল করছিল। কাঁথাটা গায়ে টেনে নিতে নিতে প্রত্যাশা বলল,
-” আবহাওয়াটা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমার তো শীত শীত লাগছে। এরমধ্যেও এসিটা অন করে রেখেছেন। পাওয়ারটা একটু বাড়িয়ে দিন।”
নীরব ফোনটা নামিয়ে একহাতে প্রত্যাশাকে কাছে টেনে নিল। বলল,
-” শীত লাগলে উষ্ণতা পেতে কাঁথা না টেনে আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারো। এতে কিন্তু আমি একটুও আপত্তি করব না, বরং খুশিই হবো।”
প্রত্যাশা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
-” জানি তো সেটা।”
-” জানো, তাহলে নিজে থেকে করো না কেন?”
-” আমি না করলেও, আপনি তো ঠিকই জড়িয়ে নিবেন।”
নীরব দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মজা করে বলল,
-” কপাল মন্দ, শুধু জড়িয়ে ধরেই থাকতে হচ্ছে। ডক্টরের কথা মেনে চলতে গিয়ে নিজের উপরই জুলুম করছি।”
প্রত্যাশা হেসে মাথাটা নীরবের বুকের উপর রাখল। নীরব আলতো করে হাত পেঁচিয়ে ধরল। হঠাৎ প্রত্যাশা জিজ্ঞেস করল,
-” আচ্ছা, বলুন তো আপনার মনে হয় ছেলে হবে নাকি মেয়ে?”
-” আই হ্যাভ নো আইডিয়া।”
-” আরে, শুধু অনুমান করে বলুন না।”
-” ছেলে হোক বা মেয়ে, যাই হোক না কেন সুস্থ হলেই আমার খুশি।”
প্রত্যাশা মিষ্টি হেসে বলল,
-” উমম! যদি টুইন হয়? যেমন ধরুন, নীড় আর প্রাপ্তি একসাথে আসল।”
নীরব ভ্রু কুঁচকে তাকাল,
-” ওটা কী সম্ভব নাকি?”
-” কেনো, হতে পারে না?”
-” না মানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে তো সিঙ্গেল ফিটাস লেখা ছিল। তাই টুইনের সম্ভাবনা নেই।”
প্রত্যাশা একটু ভেবে নিয়ে মাথা নাড়ল,
মধ্য রাতের চাঁদ পর্ব ৫১
-” ও হ্যাঁ, ঠিকই বলছেন। আমার মাথায়ই আসেনি। একদম খেয়াল করিনি।”
নীরব এক ঝটকায় প্রত্যাশাকে নিচে ফেলল। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে মৃদুস্বরে বলল,
-” তোমার বাড়তি কোনোকিছুর খেয়াল রাখার দরকার নেই। এখন শুধু আমার দিকেই খেয়াল রাখো।”
কথা শেষ করে কাঁথাটা টেনে নিল নীরব। জানালার কাঁচ বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। ঘরটা ধীরে ধীরে ভালোবাসার উষ্ণতায় ভরে উঠল।
