ধূসর রংধনু ৩ পর্ব ২৭
মাহিরা ইসলাম মাহী
তাসফি নিজ শ্বশুর মশাই নিলয় সাহেবের স্টাডি রুম গোছাতে প্রবেশ করেছে বিশাল রুমটায়। চারপাশের শুধু ফাইল পত্রের বহর।তার উকিল শ্বশুর মশাইয়ের কাজ তো এই কাগজপত্র নিয়েই।
অনিমা বেগমের শরীরটা কদিন যাবত বেশি ভালো যাচ্ছে না।নয়তো স্বামীর এসব কাজ তিনি নিজেই করেন।
ইয়ানা ভাবী ওসমান ভিলা ছেড়ে গিয়েছে আরো অনেক বছর আগে।
তার বিদেশী হাসবেন্ড বউয়ের কথায় উঠবস করে।
নিলয় সাহেব কাঠকাঠ কন্ঠে ছেলেকে বলে দিয়েছে হয়তো বউকে সামলা নয়তো বউ নিয়ে আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবি।
ইয়ানা নিজেকে সামলায় নি বরং দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিয়েছে।
জীবন মানুষকে কখন কোথায় নিয়ে যায় বলা বড্ড মুশকিল।
কাগজ পত্র গুছাতে গুছাতে একটা ফাইলের উপর মান্সা সেন লেখা নামটা নজরে পরতেই তাসফি থমকে দাঁড়ালো।
পুরোনো কিছু স্মৃতি দৃশ্যপটে ভেসে উঠে তার।
মান্সা সেন?
কোন মান্সা তাসফি যাকে চেনে সে?
ঝটপট ফাইটটা খুলে দেখে সে।
হতভম্ব দৃষ্টি তাক করে চেয়ে রয় সে ডিভোর্স পেপারের দিকে।
মান্সার বর্তমান হাসবেন্ড নয়ন সেন তাকে ডিভোর্স দিচ্ছে।
মান্সার হাসবেন্ড নয়ন সেন হলে তবে আরাধ্য?
সেদিন ভার্সিটিতে তো দুজনকেই দেখলো সে।আরাধ্য সঙ্গে নিস্তব্ধ তাকে পরবর্তী তে আর যোগাযোগ করতে দেয় নি।কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক কি এত সহজে ভোলা যায়?
সে চেয়েছিলো আরাধ্য ভালো থাকুক।কিন্তু সব এমন এলোমেলো হলো কেমন করে?ভালো থেকে খারাপ হলো কেমন করে।
নিলয় সাহেব রুমে ঢুকে তাসফিকে দেখে এগিয়ে এলেন,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“ কোনো সমস্যা মামনী?”
তাসফি চমকে চায়।
“ না বাবা, তবে.. এটা?”
নিলয় সাহেব তাসফির হাত থেকে ফাইল টা নিয়ে চেক করে।
ভদ্রলোক মুচকি হেসে বলেন,
“ তুমি যাকে চেনো এই সেই।আরাধ্য’র সঙ্গে মান্সা’র ডিভোর্স হয়েছিল আরো কয়েক বছর আগে। মান্সার দ্বিতীয় স্বামী নয়ন সেন আমার কাছে ডিভোর্সের আপিল নিয়ে এসেছিল সপ্তাহ খানেক আগে।তারই পেপার রেডি করছিলাম আমি।”
“ মানে কি বাবা ওই অসভ্য মেয়েটা দুজন কে ডিভোর্স দেবে?”
“ উহু মেয়েটা নয় ওর বর্তমান হাসবেন্ড দেবে।দেখ মামনী আরাধ্য’র সঙ্গে ওর যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে আরো অনেক আগেই।”
“ তবে কি সেদিন আমরা ভুল করেছিলাম বাবা?”
“ নিলয় সাহেব জবাব দেন না।কি জবাব দেবেন তিনি এর। একমাত্র ওপর ওয়ালাই জানেন কার কিসে ভালো কিংবা মন্দ। সেই যে সব কিছুর মালিক।”
তাসফির মাঝে অপরাধ বোধ দৃঢ় হয়। সেদিন সে,নিস্তব্ধ আর সুজন কি কোনো ভুল করেছিল মান্স আর আরাধ্য’র জুটি বেঁধে? কিন্তু তারা তো দুটো মানুষকে ভালোবাসার বাঁধনে বাঁধতে চেয়েছিলো কিন্তু উল্টো হলো কেন?
কার দোষ ছিল সেখানে।তাদের নাকি অপর দুজনের?
“ বাবা ওদের কোনো সন্তান..? “
“ ওদের দুটো সন্তান মামনী, নীলাদ্র ও মুসফিকা নাওমী। তবে বর্তমানে দুজনের একজনও বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে না।”
তাসফি নিজেও তো একজন মেয়ে, কারো স্ত্রী,কারো মা।
কই তার তো নিস্তব্ধ কে ছাড়ার কথা মাথায় আসে না।আর ডিভোর্স? তা তো সে কল্পনায় ও আনতে পারে না। তবে অপর মেয়েরা কি করে পারে না।
কই আরাধ্য কে দেখে তো কখনো খারাপ ছেলে মনেও হয় নি যে তার সঙ্গে সংসার করা যাবে না।
একটা ভুলে ছেলের থেকে তার যোজন যোজন দুরত্ব বেড়েছে।সেই অপরাধ বোধে আজও রাতের আঁধারে নিস্তব্ধ’র বক্ষমাঝে অশ্রু ঝরায়।তার একমাত্র ছেলের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি সে। একজন ভালো স্ত্রী হতে পারলেও নিজের ভুলে সে একজন ভালো মা হতে পারে নি।
সে জানে জীবনে সব সময় সব ক্ষেত্র সাকসেস আসে না।তবে তার বাবা কি করে এতটা সাকসেস পেল।তাসফির কাছে তার বাবা মা আজও অমর হয়ে আছে।
আজও বাবার শেষ চিঠিগুলোতে সে পরম যত্নে হাত বুলায়।
আমাদের সমাজে সকলের চিন্তা ধারা কেন এক হয় না।তাহলে তো পুরো জগৎ টাই বিশুদ্ধ হয়ে যেত।কোনো ভাবে কি এই অসম্ভব কে সম্ভব করা সম্ভব নয়?কোনো ভাবেই কি নয়?
গত দুটো দিন আদ্রিতের ভীষণ ব্যস্ততায় কাটছে।
হসপিটালের কাজের চাপ বাড়ছে ক্রমাগত।ইদানীং রুগীর সংখ্যা হুট করেই বাড়ছে।
হঠাৎ এত মানুষ যে কিভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একটা মিনিট রেস্ট নেবার সুযোগ পাচ্ছে না সে।
মাহরিসা আদ্রিতের চেম্বারে নক করে।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পিয়ন মাহরিসাকে হাজার বার বাঁধা দেবার চেষ্টা করে কিন্তু মাহরিসা তা আমলে নেয় না।
শেষমেশ নিজে থেকেই দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে যায়।
পিয়ন বোঝানোর চেষ্টা করে স্যার ক্লান্ত এই মুহুর্তে কাউকে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছে।রাগ করবেন স্যার।
মাহরিসা সে কথা আমলে নেয় না বরং ভেতরে ঢুকে পিয়নকে বলে,
“ চিন্তা করবেন না আঙ্কেল। আমার উপর আস্থা রাখুন আপনার স্যার কিচ্ছু বলবে না।প্রমিস।”
মাহরিসা ভেতরে তাকিয়ে দেখে আদ্রিত চেয়ারে মাথা এলিয়ে ঘাড় কাত করে বসে আছে।
মাহরিসার মনে হয় আদ্রিত ঘুমিয়ে পড়েছে।
যেই সে পুনরায় বাহিরে পা রাখতে যাবে আদ্রিত কন্ঠস্বর তার কানে বাঁজে,
“ কাছে আয় বউ।”
ইশশ কেমন মাতাল করা স্বর,সে স্বরের মহোনীয় সম্মোধন। মাহরিসা থমকে দাঁড়ায়।
গুটি গুটি পা এগিয়ে যায় আদ্রিতের দিকে।আদ্রিত এখনো চোখ বুজে তবে সে বুঝলো কেমন করে মাহরিসা এসেছে।
“ তোর চিন্তা শেষ হলে পিছনে এসে দাঁড়া।”
“ কেন আদু ভাইয়া?”
আদ্রিতের আজ ঝগড়া করার মুড নেই মাথা ফেটে যাচ্ছে তার ব্যথায়।ঔষধ খেল কাজ হলো না।স্পেশালিষ্টরা যে কি ঔষধ বানায় কে জানে।
যে ঔষধে রোগে কাজ করে না তেমন ঔষধ বানিয়ে বাজারে ছাড়বো কেন আশ্চর্য।
আদ্রিত ফিসফিস করে আদুরে জড়ানো স্বরে বলল ,
“ চুল গুলো টেনে দে মেরিগোল্ড। ব্যথা…।”
মাহরিসা চিন্তিত হয়।
“ মাথা কি বেশি ব্যথা আদ্রিত ভাই।মেডিসিন দেব?”
“ তুই এখনো পুরোপুরি ডাক্তার হোসনি বোকা।যেটা কাজ দিয়েছি সেটা সম্পূর্ণ কর।”
মাহরিসা কাঁপা হাতে আদ্রিতের সিলকি চুলে হাত রাখে।
“ ইশশ কি সফ্ট।ছেলেদের চুলো ও বুঝি এত সুন্দর হয়?”
আস্তে আস্তে সে টানতে আরম্ভ করে আদ্রিতের মসৃন চুলগুলো।
আদ্রিত আবেশে চোখ বুঝে। মাহরিসা’র উষ্ণ হাতের ছোঁয়ায় কেমন অদৃশ্য জাদুতে তার ব্যথা গায়েব হতে থাকে ক্রমাগত।
বিরবির করে সুধায়,
“ বিয়ে করার বুঝি এতোই সুখ। হে অবিবাহিত যুবক গন আর দেরী করো না। এই সুযোগ গুলো লুফে নিতে বিবাহ করে নাও ঝটপট।মা বাবা বিয়ে দিতে না চাইলে আমার মতো করে ফেল বুঝলে।অবুঝ মা বাবা কে বোঝানোর সাধ্য কারো নেই।কারো না।
রাত তখন বারোটা প্রায়।
নিস্তব্ধতা রুমময় পায়চারি করছে আর সাদাফ কে কল করছে।
বিরবির করে অসংখ্য গালি ছুড়ছে অভদ্র সজনেডাঁটার বাচ্চার উদ্দেশ্যে।
সাদাফ ঘুম ঘুম চোখে ফোন রিসিভ করলো অবশেষে। বেচারা আঁধ ঘন্টা আগেই ঘুমিয়েছে।
নিস্তব্ধতা ঝারি মেরে বলল,
“ নাকে কানে সরষের তেল মেখে ঘুমাচ্ছিস?ফোন দিচ্ছি কানে যায় না তোর?”
সাদাফ ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে উঠলো,
“ কেনওওও? ঘুমাচ্ছি রাখ না। পরে ফোন দেইইই?”
“ এইই একদম ফোন কাটবি না।ফোন কাটবি তো তোর খবর করে ছাড়বো।”
ওপাশে সাদাফের সাড়া শব্দ নেই।
“ সজনেডাঁটার বাচ্চা এখুনি বের হ তুই বাসা থেকে। “
“ অসম্ভব। “
“ অসম্ভব মানে কিসের অসম্ভব। ওসমান ভিলার নিচে আসবি তুই এখুনি।সঙ্গে আমার জন্য আইসক্রিম কিনে আনবি।”
“ এত রাতে আইসক্রিম অসম্ভব। আহাঃ তুই বুঝতে পারছিস না নিরু রাতের বেলা আইসক্রিম খেলে গলা ব্যথা হয়,দাঁতে পোকা ধরে
টনসিল ফুলে, শেষে পেটে সমস্যা হবে।
তুই বুঝতে পারছিস এত এত সমস্যা যেখানে একটা খাবারে তাহলে সেই খাবারটা বর্জন করাই কি ভালো নয়?”
“ উহু বর্জন নয় বরং বেশি করে খাওয়া উচিত।”
ওপাশ থেকে সাদাফের আর কোনো কন্ঠস্বর শোনা গেল না।হতভাগা আবার ঘুমিয়ে পরেছে।
নিস্তব্ধতার রাগে ফেটে পরার যোগাড়।
নিজের ফ্লাটের বেলকনির রেলিংয়ে পা ঝুলিয়ে বসে নীলাদ্র।
সাফওয়ান ফ্রিজ থেকে হাতভর্তি দুটো কোকের ক্যান এনে নীলাদ্র পাশে একই ভঙ্গিতে বসলো।
নিজের ক্যান খুলে তাতে চুমুক দিতে দিতে বিজ্ঞের ন্যায় সুধলো,
“ আচ্ছা দোস্ত বলতো এখন যদি এই তিনতলার ছাঁদ থেকে আমরা নিচে পরে যাই কি হবে ভাবতে পারছিস?”
নীলাদ্র সাফওয়ানের কাঁধ জরিয়ে বলল,
“ তাহলে তোকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই? পরার পরে তোকে হসপিটালে ভর্তি করবো।এরপর আমায় বিস্তারিত এক্সপেরিয়েন্স জানাস কেমন? অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকবো আমি তোর এক্সপেরিয়েন্স জানতে।”
সাফওয়ান কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
“ এমন করিস কেন দোস্ত আমি না তোর রুমগুলো গুছিয়ে দিলাম সুন্দর করে? বিশ্বাস কর এবারে তোর জন্য সুন্দরী দেখে একটা ভাবি ও জোগাুকরে দেব।”
“ তাই নাকি?”
নীলাদ্র রহস্যময় হেসে সুধায়
সাফওয়ান সমানে মাথা নাড়ায়।
“ এভাবে হাসিস না প্লিজ ভাই।তোর এই হাসি দেখলেই আমার কলিজা কাঁপে। এ হাসির মানে নির্ঘাত কোনো আকাম-কুকাম করবি তুই।নির্ঘাত কোনো অঘটন ঘটাবি,আ’ম ড্যাম শিওর।”
নীলাদ্র সাফওয়ানের কাঁধ ধরে ধাক্কা দিতে নিতেই সাফওয়ান বন্ধুর কাঁধ শক্ত জরিয়ে ধরে চিৎকার করে উঠলো,
“ ফেলিস না দোস্ত, প্লিজ ফেলিস না।বিয়ের আগে আমার বউকে বিধবা বানাবি তোর একটুও কষ্ট হবে না বল? তুই না আমার ভালো ভাই?”
নীলাদ্র বিরক্ত কন্ঠে বলল,
“ চুপ থাক সালা। কোক আনতে বলেছে কে তোকে? নামমম। ম্যাংগো জুস নিয়ে আয় আমার জন্য যাহ।”
সাফওয়ান চোখ চিপচিপ করে চেয়ে বলল,
“ ভাই তুই কি মেয়ে মানুষ। ওসব তো মেয়েদের খাবার দাবার।”
নীলাদ্র চোখ গরম করে চাইতেই সাফওয়ান সুরসুর করে নেমে গেল রেলিং থেকে।
ভোর তখন ছয়টা প্রায়।
ঘুমন্ত নীবিড়ের কর্ণে ক্রমাগত কলিংবেলের শব্দ ভেসে আসছে।
কানে বালিশ চেপে ধরলো সে।
কি আশ্চর্য বাসায় কি মানুষজনের অভাব পরলো যে একটা দরজা খুলে দিতে পারছে না এরা কেউ।
মাহরিসা ঘুম ঘুম চোখে রুম থেকে বের হয়ে দরজা খুলে দিলো।তার ঘুম ছুটে নি এখনো কাল রাতে আদ্রিত তাকে পড়ার তাগিদে রাত দুটো পর্যন্ত জাগিয়ে রেখেছে।অসভ্য ডাক্তার ডিউটি করবে আর তাকে ভিডিও কলে থাকতে হবে কেন? যতক্ষণ অসভ্য লোকটা ডিউটি করেছে ততক্ষণ মাহরিসাকে সে নিজ বাহানা জাগিয়ে রেখেছে।তার ওপর তার মা বাসন্তী আবার সকাল সকাল বেরিয়েছে নাওমী কে আনতে।
তখনও তার দরজা লাগাতে হয়েছে।
ভাইয়ের রুমের দিকে কটমট চোখে চায় সে।বেয়াদব টা কেমন অসভ্যের মতো পরে পরে ঘুমাচ্ছে দেখ।
দরজা খুলে দিতেই মায়ের ক্লান্ত মুখখানা দৃষ্টিগোচর হয় মাহরিসা।
“ নীবিড় উঠেছে রে?”
“ তোমার বাউণ্ডুলে ছেলে কখন ঘুম থেকে উঠে তুমি জানো না মা? আমায় জিজ্ঞেস করছো।”
বাসন্তী রেগে গেল ছেলেটাকে যে যাওয়ার পথে একবার ডেকে গিয়েছে।কত কষ্ট হলো তার আর মেয়েটার।
শেষমেশ রিক্সা ওয়ালাকে ডাবল টাকা দিয়ে জিনিসপত্র রিক্সায় তোলানো হয়েছে। আজকাল জুয়ান রিক্সা ওয়ালা গুলোও এত লোভী হয়েছে না, সুযোগ পেলেই টাকার বায়না করতে ছাঁড়ে না।
কই আগে যখন রিক্সা ওয়ালা গুলো পায়ে পেট্রল মেরে রিক্সা চালাতো তারা তো কখনো এমন টাকার বায়না করে নি। তারা ছিল ও যথেষ্ট সৎ।
এখন কিসব মটর ফটর বের হয়ে সকলের দাম বেড়েছে।আশ্চর্য।
পুনরায় রিক্সা ওয়ালাকে মালপত্র গুলো দোতালায় উঠাতে বললে আরো ডাবল টাকা নেবে।
তার চেয়ে বরং নিজের লোক দিয়ে কাজ করানোই বরং ভালো।
বাসন্তী ছেলের দরজায় ধুমধামে করে কিল দেয়।
“ নীবিড় এই নীবিড় দরজা খোল বাজান।”
“ মা ঘুমাতে দাও না প্লিইইজ।”
“ আর এক সেকেন্ড ওও নয়।তুই উঠবি কি না?”
নীবিড় প্রচন্ড বিরক্ত।
দরজা খুলে দিয়ে পুনরায় বিছানায় যেতে উদ্যত হয়। বাসন্তী তার হাত টেনে ধরে।
“ একদম না।নিচে যা দেখ মেয়েটা একা একা কি করছে।”
“ কোন মেয়েটা মা। মেয়েরা কি করছে তা দেখে আমার কি লাভ।”
“ লাভ লোকসানের চিন্তা পরে হবে। এখন নিচে যা নাওমীর মালপত্র গুলো উপরে নিয়ে আয় বেশি কিছু নয়। তুই তো জানিস আমার কোমরে ব্যথা।”
“ নাওমী মানে? আর মালপত্র উঠাবো মানে টা কি?’
“ হ্যাঁ তো? নাওমী এসেছে ওকে হাতে হাতে সাহায্য কর যা।”
“ অসম্ভব। আর নাউডুবা চশমিশ আর দুটোদিন অপেক্ষা করতে পারলো না মা? আজই আসতে হলো?”
“ হ্যাঁ হলো যা যাবি তুই।”
শেষমেশ উপায় না পেয়ে অগত্যা তাকে নিচে নামতে হলো।
নিচে নেমে রিক্সার কাছে দুহাত বুকে গুঁজে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা নাওমীর পানে চোখ কটমট করে চাইলো।
নাওমী নীবিড়ের সে দৃশ্য পাত্তাই দিলো না বরং
নিজ উদ্যগে নিজ কাপড়ের ব্যাগটা নীবিড়ে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
“ এই নিন যান এটা রেখে এসে আরো পাঁচবার আসবেন।”
নীবিড় ব্যাগ হাতে চোখ বড় বড় করে চেয়ে।
অসভ্য মেয়েটার কত্তবড় সাহস।তার হাতে ব্যাগ ধরিয়ে দেয়।
নীবিড় দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ আমায় কি তোমার কুলি মনে হয় মিস নাউডুবা চশমিশ? “
“ উহু।হয় না।একদিনের জন্য নাহয় হলেন কুলি সমস্যা কি তাতে।”
“ পারবোনা।তোমায় আমি চিবিয়ে খাবো অসভ্য মেয়ে।”
“ সেটা আপনি চাইলেও পারবেন না।”
নীবিড় রাগী চোখে চায়।
ধূসর রংধনু ৩ পর্ব ২৬
“ চ্যালেঞ্জ করছো তুমি আমায়?”
নাওমী জবাব দেয় না। গাঁ ছাড়া ভাব নিয়ে নীবিড় কে ঠেলে উপরে পাঠায়।
“ এই শুনুন আরো পাঁচবার আসবেন কিন্তু। “
“কেন এত জিনিসপত্র দিয়ে কি তুমি খাটা গুলিয়ে খাবে মিস নাউডুবা চশমিশ? সব কিছু একটু কম কম কিনতে পারো না? আশ্চর্য।একজন মেয়ে মানুষের থাকতে এত জিনিসপত্র লাগে নাকি। “
“ কম নয় আরো বেশি বেশি কিনবো বুঝলেন। “
