vilen part 28
আনু
ভালোবাসা থেকে যদি ঘৃনা সৃষ্টি হয় তাহলে সেই ঘৃনা ভাঙানো যায় নাহ। তবে ঘৃনা থেকে কাউকে ভালোবাসলে যতো ঝড়,জামেলা আসুক বন্ধন ভাঙানোর শ্রাদ্ধ নেই কারো!
রোজি যে কীনা সেই লোকটাকে ঘৃনা করতো তাকে তার মতামতের বিরুদ্ধে বিয়ে করে। কারো সাথে বলতে গেলে ছেলেদের সাথে চলা পছন্দ করতো নাহ। তাকে তার ভুল দেখলে শাসন করতো। তার মতামতের বিরুদ্ধে। যেই লোকটাকে সে ঘৃনা করতো কেনোনা তাদের সম্পর্কটা প্রথম প্রথম এক তরফা ছিলো।
যেই লোকটা তাকে পাওয়ার জন্যে তার মন পাওয়ার জন্যে কতো শতো ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে তাকে ভালোবেসেছে। তাকে তর পাশে চেয়েছে। যেমন একটও ডালে দুইটি পাখি বসে থাকে তেমন করে পাশে চেয়েছে। কিন্তু সে তখন তার কাছে ধরা দেয় নি। কিন্তু এখন যখন সে নিজে থেকে সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। তখন আশেপাশের সকল কিছু যেনো বাঁধা দিচ্ছে!
আজ তিনদিন হলো সেই রেকর্ডটা শুনে আর কোথাও যায় নি রোজি। কেননা রেদোয়ান রোজিকে থানায় আর নিলয়ের খোঁজ করতে নিষেধ করেছে। যদি রোজি তাও বের হয় নিলয় এসে দেখে নিবে। আজ থেকে দুইদিন পর তাদের প্রথম বিবাহ বার্ষীকি। মেয়েটার মনেও নেই মনে হয়। মনে থাকবে কেমনে? স্বামী যদি কাছে নাহ থাকে তাহলে কী মনে সুখ থাকে?
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
দুইবোন তাদের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই একই সাথে ঘুমায়। সাথে রেদোয়ান নিজের বউকেও দিয়ে রেখেছে কেননা আশা এবং রোজি দুজনই মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। তাই নিজের বউকেও তাদের সাথে রাখা। তবে বলতে হবে এই কয়দিনে রেদোয়ান এর বউ শিউলি সকল কিছু সামলেছে। রোজি সকল কিছু খেয়াল রেখেছে। আগে রোজির কেয়ারটেকার হলেও এখন সে তার ক্লোজ অনেক ক্লোজ। এখন আরও বেশি কেয়ার করে তবে শুধু রোজির নাহ আশার ও!
শিউলির কেয়ারে তর ধমক ধমকানিতে তিনবেলা খাওয়া ও তার কিছুখন পর পর স্নেকস দিবেই নাহ খেতে চাইলে এক রাম-ধমক আর কী ধমক খেয়ে ফেলতে হয় তাকে। নিলয়ের অনুপস্থিতিতে রেদোয়ান অফিস সামলাচ্ছে। কোথাও সাইন লাগলে রোজির সাইন নিচ্ছে। লোকটা এতোই আত্মবিশ্বাসী রোজির উপর যে তাকে তার কম্পানির মালিকানা দিয়ে রেখেছে নিলয়ের পর যদি কারো অধিকার থাকে অফিসে সে হচ্ছে রোজি। রোজি যেহেতু ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেছে তাই সে রেদোয়ান যেখানে সাইন করতে বলে দেখে শুনে বুঝে তখনই সাইন কারে। যদি কোনো উল্টা পাল্টা হয়ে যায় লোকটা এখন কোথায় আছে সে জানে নাহ কেমন আছে যানে নাহ। যদি এই ঝামেলা থেকে এসে এমন কছু দেখে তাহলে সে কিভাবে এতো কিছু সামলাবে? অবশ্য সে সামলাতে পারবে তবে এতোটা ধকল রোজি তাকে দিতে চায় নাহ।
চলে গেলো একটি দিন। নিলয় এর দেখা পায় নি রোজি আজ ২০ দিন। তবে দুদিন হলো রেদোয়ান কোথায় যেনো দৌড়াদৌড়ি করছে। রোজি বেশি রুম থেকে বের হয় নাহ। তাই শিউলিকে আজ মুখ খুলে জিজ্ঞেস করলো,
রোজি : শিউলি তোর জামাই মানে রেদু ভাইয়া কোথায় দৌড়া দৌড়ি করছে রে?
শিউলি : এই আমি কী জানি আমি জিজ্ঞেস করছি। আমাকে বলে কী জানিস?
রোজি : কী বলে?
শিউলি : তোমার মাথা মোটা আর তোমাকে কেনো বলবো? তুমি যেনো যেয়ে তোমাদের মহিলা আস্তানায় খবরা-খবর পাচার করে রোজি ভাবিকে হাইপার করে দেও?
রোজি : কী বল্লি আমাদের মহিলা বলোছে?
আশা ও বলে উঠলো,
আশা : কী বললা আপু আমারা মহিলা?
শিউলি কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,
শিউলি : হ্যা রে এটাই বলেছে আর কাল তো বাড়িতেও আসে নি জানিস এটা তোরা?
রোজি : ওরা কিছু না কিছু একটা করেছে আমাদের বলেছে নাহ রে এটা বের করতে হবেই!!
আশা : ঠিক বলেছো আপু।
শিউলি : ঠিক ঠিক!!!
এটা বলে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে লাগলো। কিন্তু শিউলি স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করছে সে আসলেই খবার দিবে। তার সামনে বসিয়ে খাওয়াবে। কাল বাড়ি ফিরলো নাহ। আহ ও আসবে কীনা জানে নাহ। এই ২০ দিন লোকটা ঠিক মতো দুমোঠো খেয়েছে কিনা সন্দেহ। তবে রাত ২ টা পেরলেও রেদোয়ান এর খোঁজ নেই বুঝে গিয়েছ এই বধ লোক আসবে নাহ ওমনি মন টা খারাপ হয়ে গেলো শিউলির। ইতিমধ্যেই চোখে পানি চিক চিক করছে। রোজি আর আশা ঘুম দিয়েছে এসি চলছে অল্প পাওয়ারে রোজির ঠান্ডা লেগে যাবে তাই রোজির যদি ঠান্ডা লেগে যায় নিলয় ভাই এসলে কী বলবে? তারপর শিউলি উঠে বারান্দায় গেলো রেদোয়ান এর জন্যে টেনশন হচ্ছে একটা কল করা যাক,
শিউলি : উনি কী কল ধরবে?
তাও দিলো কল প্রায় ৩ টা কল দিলো লোকটা ধরলো নাহ সে আশা হত হলো। ৫/১০ মিনি নিরবতা সে আবার ও একটা কল দিলো ধরছে নাহ একদম শেষ সময়ে কলটা ধরলো। ধরেই,
রেদোয়ান : বলো?
শিউলি কিছু বলছে নাহ অভিমান জমেছে মনে এই কয়দিন ঠিকমতো কথা ও বলে নি এই লোক তাকে ভালোবাসে কিনা যানে নাহ হঠাৎ নিলয় ভাই বলেছিলো তার নিখোঁজ হওয়ার আগে যে আশা ও রোহিদ এর সঙ্গে তোমার ও রেদোয়ান এর বিয়ে নাহ করলে ক্রসফায়ার করে দিব। এই ভয়ে বিয়ে করেছে। তবে বিয়ের পর থেকে লোকটা না দেখিয়ে তাকে কেয়ার করতো সে বুঝতো। এই আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে আবারও কথা বেসে এলো ফোন থেকে,
রেদোয়ান : এই কল করে কথা বলছো নাহ কেনো?কী লাগবে বলো গার্ড দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি?
বলতে দেরি শিউলির হু হু করে কাঁদতে দেরি হলো নাহ। শিউলির কান্না শুনে রেদোয়ান চুপ করে গেলো। বিচলিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
রেদোয়ান : এই মেয়ে কাদছো কেনো? কিছু হয়েছে?
শিউলি কাদতেই ব্যাস্ত। রেদোয়ান আবার বললো,
রেদোয়ান : কী চাই?
শিউলি : আপনাকে!
রেদোয়ান থমকে গেলো ঠোঁটে কিঞ্চিত শান্ত হাসি।দেখলে বুঝা যাবে নাহ সে হাসছে। রেদোয়ান আবার বললো,
রেদোয়ান : তাই?
শিউলি নিশ্চুপ রেদোয়ান আবার বললো,
রেদোয়ান : সময় মতো পেয়ে যাবে বউ এখন ভাবি আর আশার খেয়াল রাখ এবং নিজের খেয়াল রেখ ওকে আমি আসবো খুবই তারাতাড়ি!
রেদোয়ান এর মুখে বউ ডাক শুনে হেসে উঠলো শিউলি। শিউলি হাসি শুনে রেদোয়ান ও হাসলো,
শিউলি : আচ্ছা নিজের খেয়াল রাখবেন!
কথা শেষ হতেই পেছন ফিরতেই দেখলো রোজি এবং আশা বারান্দার দরজায় পর্দার ফাকে কান পেতে শুনছে কান ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে নাহ তাদের। এটা দেখে শিউলি ফোনটা দাঁত দিয়ে কামরে ধরলো। হয়তো তারা বুঝেছো অন্ধকারে শিউলি দেখেবে নাহ কিন্তু সে তো দেখে ফেলেছে। শিউলি ফোনটা দাঁত দিয়ে কামরে ধরে দুটোর কান মুচরে ধরলো। দুটোই লাফিয়ে উঠলো।
রোজি : আ’হহহহহ!!!!
আশা : ও’রেেেেে!!!!
শিউলি : তোরা আমার আর আমার স্বামীর রোমেন্টিক কথা শুনছিলি?
রোজি : তোর জামাই এতোই রোমেন্টিক যে প্রথম কথা নাহ বলতে পেরে হুহু করে কাঁদছিলি?
আশা : রোমেন্টিক নাহ ছাই নিলয় ভাই কে দেখ আরও একটা নিলয় নিয়ে আসছে আর আমরা?
শিউলি : ঠিক ঠিক বলেছিস রে আমাদের কপালে নেই।
রোজি তীক্ষ্ণ চোখে নিজের বোন এবং শিউলির দিকে চাইল। বাবা এই বাচ্চা মেয়ের এত উন্নতি কবে হলো নিজের বোনের দিকে তাকিয়ে ভাবলো। মুখে বললো,
রোজি : তোদের বিয়েই হল কিছুদিন মাসে হলোনা এখনই এই অবস্থা?
আশা : ওওওও আসলেই তো!
শিউলি : ওওও হ্যা হ্যা আমরা তো একটা চুমুও খাইনি।
আশা : হ্যা আমি ও।
রোজি : কীরে আশা আমি তোর বড় বোন নাহ কী বলছিস?
আশা জিহবায় কামরে বললো,
আশা : উপস ভুলে গেছি সরি।
শিউলি : এখন তো ফ্রি হ তোরা বিয়ে হইছে বোন বোন করে লাভ নেই।
বলেই তিন জন হেসে উঠলো। এভাবেই কথা বলতে বলতে তিন জন ঘুমিয়ে পরলো।
~পরদিন সকালে শিউলি ঘুম থেকে উঠলো উঠেই রোজির নাস্তা বানালো তার পর বাকি সবার নাস্তা বনাবে। রোজি যেহেতু প্রেগনেন্ট ওর সকাল সকাল উঠতেই খিদে লেগে যায়। শিউলি রোজিকে ডেকে উঠালো মেড দিয়ে। সকাল সকাল রোজির ঘুম ভাঙলেই ওকে শরীরের জন্য উপকারী বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান রাতরে বিজিয়ে রাখে সকালে তা ছেকে রোজিকে খালি পেটে খেতে দেয়। তারপর হালকা নাস্তা দেয় তবে সব কিছুই উপকারী এমন খাবার রোজিকে কছুখন পর পর কিছু নাহ কিছু খেতে দেয় যেনো বাচ্চা সুস্থ থাকে। রোজিকে মেড ডাকতেই রোজি উঠলো। উঠে আরমোরা ভাঙলো। তারপর ফ্রেস হয়ে নিচে চলে গেলো।
নিচে,
শিউলি সকালের নাস্তা বানিয়ে আনুষাঙ্গিক কাজ করছে আর মেডরা নাস্তা সার্ভ করছে। রোজি নিচে নেমে তাড়াতাড়ি ডাইনিংয়ে বসে পরলো।
রোজি : এই শিউলি তাড়াতাড়ি খেতে দে না আমায় অনেক খুদা লাগেছে।
শিউলি : এইতো দিচ্ছি।
শিউলি নিজের হাতের কাজ ফেলে আগে রোজিকে রোজির হেম্দি খাবার দিলো। রোজি কিছু নাহ বলে খাওয়া শুরু করলো। রোজির কোনো কাজ মেড দিয়ে করে না হয় আশা না হয় শিউলি। তারপর শিউলি ও আশা খেতে বসলো মেডরা তাদের খাবার দিলো। তারাও খেতে লাগলো। খেতে খেতে রোজি বললো,
রোজি : রেদু ভাই আসছিলো রাতরে বা সকালে?
শিউলি : নাহ রে আসে নি দুদিন ধরে কই যে গেলো।
আশা : রাতরে জিজ্ঞেস করিস নি?
শিউলি : নাহ জানি তো করলেও বলবে নাহ এই বধ লোক।
আশা : আমার টাও বধ কিন্তু আমি মিস করছি ওকে অনেক।
রোজি : আমি আর কি বলবো আমি তো তাকে ছাড়া অন্ধকার দেখি সকল কিছু।
আশা : কেনো নিলয় ভাই কী তোর ব্যক্তিগত টর্চ?
শিউলি : হা হা হা টিক বলেছিস আশা।
রোজি : চুপ বেয়াদপগুলো আমার পিছনে লেগেই থাকে নিলয় আসুক বলছি ওনাকে।
আশা : নাহ নাহ রোহিদ আমায় পিটাবে।
শিউলি : সরি ভাই আমারটায়ও আমাকে পিটাবে।
বলতে বলতে হাসতে থাকে ওরা। হঠাৎ রোজির চোখে পানি চলে আসলো। চোখের পানি লুকাতে মাথা নিচু করে রাখলো শিউলি বুঝে খাবার ছেড়ে রোজির কাছে গেলো। মুখটা তুলে দেখলো রোজি কাদছে।
শিউলি : কাঁদিস নাহ এসে পরবে।
বলে নিজেও কেঁদে দিলো আশাও কাঁদছে সকলেই সকলকে সান্তনা দিচ্ছে। সকলে খেয়ে যে যার মতো রুমে গিয়ে গোসল করলো। রোজি তার বেজা চুলগুলো শুখাতে বারান্দায় গেলো। চুল নেড়ে শুকাতে লাগলো। আজ কেনযেনো মনটা খুবই ভালো লাগছে। কেমন যেনো লাগছে কিছু হতে চলেছে। আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতে বারান্দার দোলনায় বসে বসে গোলাপ ফুলের সুবাস নিতে লাগলো। নিলয়ের বারান্দায় অনেক রকল ফুল গাছ বেশির ভাগই গোলাপ রোজির গোলাপ পছন্দ তাই, অরকিট আরও অনেক। এমনি অনেকখন গেলো রোজি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলো। বিকেলে শিউলি এসে দেখলো রোজি ঘুম বারান্দার দোলনায় নিলয়ের একটা শার্ট বুকে জড়ানো। শিউলি কিছু বললো নাহ সে ও রোজির পাশে বসে রইলো হাতে একটা উপন্যাসের বই। পড়তে লাগলো বইটা। আশা নিজের রুমে আছে কী যেনো করছে।
রোজির ঘুম ভাঙলো প্রায় ৫:৩০ এর পর। উঠে দেখলো ও রুমে কেননা অন্ধকার হয়ে আসছিলো বলে শিউলি ওকে রুমে নিয়ে এসেছে। রোজি নিচে গেলো গিয়ে দেখলো কেমন যেনো নিবর নিবর সকল কিছু। মেডগুলোও কেমন যেনো কাজ করেই যাচ্ছে। এই সময় তাদের বাড়ীতে কাজ থাকে নাহ তবে আজ সকলে সকল কিছু পরিষ্কার করছে। সে মাথা ঘামালো নাহ। উপরে চলে গেলো আশা ও শিউলির সাথে আড্ডা দিবে।
এখন বাজে রাত ৯ টা। শিউলি ও আশা কেমন যেনো খুশু খুশি। রোজি এটা দেখলো কিছু বললো নাহ কেননা এতো দিন আশা মন মরা ছিলো হাসি কী ভুলে গেছে সে নিজেও। কিন্তু আজ এতো হাসি কেনো বুঝতে পারছে নাহ। কিনৃতু তাদের কথায় অভাক হলো অনেক। কেনোনা তারা রোজির দিকে একটা পাতলা কালো শাড়ি আচলে নিখুত কাজ। কাজগুলোও কালো হালকা ব্লাক পাথড়। ব্লাউজ টা ব্যাকলেস। আর আশা ডায়মন্ড এর ব্লাক জুয়েলারি দিলো তাতে আছে একটি নেকলেস, কানের দুল, দুটো চুড়ি। হালকা কাজ তবে নিখুঁত!
রোজি : এগুলো কী করবো?
শিউলি : যা বাবা এগুলো কী রেধে খাবি নাকি?
আশা : তোকে পরতে দিসি।
রোজি : চুপ!
শিউলি : তুই চুপ।
আশা : পর বলছি।
রোজি : কী শুরু করলি নিলয় নেই আমি কী করবো?
আশা : ভাই নেই তো কী হইছ?
শিউলি : পর নাহ প্লিজ???
তারা এতোটাই জোর করলো রোজি নাহ পরে পারলো নাহ আর।
রোজি : চুপপপপপ যয় বাবা পরছি।
বলতেই দুটি মেকআপ আর্টিস্ট ডুকলো ডুকে কিছু নাহ বলে ওকে সাজাতে লাগলো। রোজি অবাক তবে আশা আর শিউলি বের হয়ে গেছে তারা জানে রোজি কিছু নাহ কিছু জিজ্ঞেস করবে। তাই তারা বের হয়ে গেলো। রোজি তাদের দেখতে নাহ পেরে আর কী বলবে। মনে অনেক কথা আঁকিবুঁকি করতে লাগলো। সাজা শেষ হতে তারা চলে গেলো। আশা ও শিউলিও হালকা সেজেগুজে আসলো। তারাও শাড়ি পরেছে তবে এতোটা গরজিয়াস নাহ।
শিউলি ও রোজি রুমে ডুকতেই বিষম খেলো। রোজিকে পড়ি লাগছে। লাগছে আকাশ থেকে পড়ি নেমেছে। শাড়িটা পরা নিখুঁত ব্লাউটা শরীরে লেগে আছে একদম তার মাপে শাড়িটা গায়ে ফুটে আছে। চুলগুলো সামনে থেকে পেচিয়ে নিয়ে পেছনে একটা কাটা দেয়া তাও ব্লাক পাথর দিয়ে। আর নিচে খেলা চুল তা কার্ল করা।
শিউলি : মাশাআল্লাহ!!!!
আশা : মাশাআল্লাহ।
রোজি লজ্জা পেতে লাগলো। এটা দেখে তার আর কিছু বললো নাহ রোজিকে নিয়ে নিচে নামতে লাগলো এটা দেখে রোজি বললো,
রোজি : কীরে কই নেয়া হচ্ছে?
শিউলি : চুপ কর চল।
আশা : চল তো।
বলেই রোজিকে আশা পেছন থকে ঠেলে নিয়ে যেতে লাগলো। আর শিউলি হাত ধরে রাখলো শাড়ি পড়া যদি পরে যায় তাই। তারা গাড়িতে উঠলো। এটা দেখে রোজি বললো,
রোজি : কই নিচ্ছিস গাড়ি তে কেনো?
শিউলি : চুপ কর আমার মা!!!
আর কথা বললো নাহ একটা জায়গায় পৌছে রোজির চোখগুলো ডেকে দিলো এটা দেখে রোজি আরও ভরকালো।
রোজি : কী রে?
আশা : একটা কথা ও বলবি নাহ।
~বলেই ওকে নিয়ে যেতে থাকলো। নিয়ে ওর চোখ খুলে দিলো। রোজি পুরো অভাক চারিদিকে ব্লাক থিম দিয়ে সাজানো। অনেক সুন্দর এগুলো এতোটাই সুন্দর যে চোখ সরানো যায় নাহ। আবার দেখলো একটা বড় কেক সেখানে বড় বড়করে লিখা Happy Anniversary Rose and Niloy। রোজিতো ভুলে গেছিলো এটা। রোজি বললো,
vilen part 27
রোজি : এগুলো করে কী লাভ সে কই তো নেই?
তখনি চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গেলো একটা ফোকাস লাইট একজনের উপরে পরলো তার মুখটা নিচু দেখা যাচ্ছে নাহ। মুখটা নিচু করেই রোজির সামনে আসলো। এসে মুখটা তুলতেই সেই ব্যক্তিকে দেখে রোজি চিৎকার করে উঠলো এবং সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে ডলে পড়লো লোকটির বুকে। লোকটিও তাকে আগলে ধরলো!
