Home বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫০

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫০

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫০
রানী আমিনা

“ইয়োর ম্যাজেস্টি, শেহজাদা নামীর আসওয়াদ দেমিয়ান দূত পাঠিয়েছেন। অনুমতি দিলে তাকে আপনার সামনে হাজির করবো।”
“আসওয়াদ তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সব শুরু করতে চাইছে, তাকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সে চিরকালই বেশ পছন্দ করে।”
ক্ষণিক চুপ থেকে ইলহান যোগ করলো,
“নিয়ে এসো ভেতরে।”
ইযান রয়্যাল ফ্লোরের দরজায় দাঁড়ানো গার্ডের দিকে ইশারা করতেই তারা দরজা খুলে দিলো। দুজন গার্ড অ্যাশটনকে ধরে নিয়ে এলো ইলহানের সামনে। হাতে তার নকশাদার ধাতব বার্তাধার৷
ইলহান বার্তাধারটির দিকে চেয়ে বিড়বিড় করে উচ্চারণ করলো,

“ইম্প্রেসিভ….!”
ইযান অ্যাশটনের পেছনে গিয়ে তার হাটুর পেছনে লাথি মেরে বসিয়ে দিলো ইলহানের সামনে। অ্যাশটন হাটু গেড়ে ধপ করে বসে পড়ে ইযানের দিকে কড়া চোখ তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। ইযান ওকে পাত্তা না দিয়ে আবার ইলহানের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। ইলহান অ্যাশটনকে কিছুক্ষণ বাকা চোখে পর্যবেক্ষণ করে নিয়ে বলল,
“আসওয়াদ তবে আজকাল সকল কাজে জানোয়ারের ব্যাবহার শুরু করেছে? ভালোই! জানোয়ারদের বুদ্ধিসুদ্ধি কম, যা বোঝানো হয় তাই বুঝে, যা করতে বলা হয় তাই করে। গ্যুড!”
তারপর অ্যাশটনকে উদ্দ্যেশ্য করে বলল,
“পড়ে শোনাও তো তোমাদের বাপে কি লিখে পাঠিয়েছে।”
অ্যাশটনের হাত ছেড়ে দিলো গার্ড দুটো। অ্যাশটন বার্তাধারের মুখ খুলে তার ভেতর থেকে বের করলো একটি বার্তা। শক্তপোক্ত কাগজটি সম্মুখে মেলে ধরে ঝাঝালো স্বরে পড়তে আরম্ভ করলো,
“আমরা, সৃষ্টিকর্তার করুণাধন্য, বাদশাহ নামীর আসওয়াদ দেমিয়ান, যিনি আমাদের শ্রদ্ধেয় বাদশাহ হুজায়ফা আদনান দেমিয়ানের বৈধ উত্তরাধিকারী এবং পঞ্চদ্বীপের ন্যায্য রক্ষক, এই মর্মে ঘোষণা করিতেছি যে, আপনি, শেহজাদা জাজীব ইলহান দেমিয়ান, আপনার বিশ্বাসঘাতকতা এবং কূট ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই পবিত্র সিংহাসন ও রাজ্যের অধিকার হরণ করিয়াছেন। আপনার এই কর্ম প্রজাদের প্রতি করা শপথ এবং দেমিয়ান সাম্রাজ্যের প্রতি চরম অপমান স্বরুপ। আপনার এই ক্ষমতা দখল সম্পুর্ন অবৈধ এবং আপনার প্রতিটি আদেশ ন্যায়বিচারের চোখে অকার্যকর।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

​অতএব, রাজ্যের শান্তি ও প্রজাদের উপর রক্তপাতের অভিশাপ নিবারণের জন্য, আমরা আপনাকে চূড়ান্ত এবং শেষবারের মতো আহ্বান জানাইতেছি। আপনি অবিলম্বে, এই ফরমান হস্তগত হইবার তিন দিনের ভেতর আপনার সকল দাবি ত্যাগ করিয়া শান্তভাবে সিংহাসন ছাড়িয়া দিন এবং শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের নিকট আত্মসমর্পণ করুন। আপনাকে অবশ্যই সকল রাজকীয় প্রতীক, রাজকোষের হিসাব, সীলমোহর ও নথি আমাদের বিশ্বস্ত প্রতিনিধির কাছে সমর্পণ করিতে হইবে এবং স্বেচ্ছায় এই প্রাসাদ ত্যাগ করিয়া ডার্ক প্যালেসে নির্বাসন গ্রহণ করিতে হইবে। পুনরায় কখনো ডার্ক প্যালেস হতে অবৈধভাবে বাহির হইতে পারিবেন না।

​মনে রাখিবেন, যদি এই চরমপত্র মানিতে আপনি ব্যর্থ হন, তবে এই লিখিত ফরমানটিই আপনার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঘোষণা রূপে গণ্য হইবে। এবং আমরা, বাদশাহ নামীর আসওয়াদ দেমিয়ান, আমাদের সুসংগঠিত ও ন্যায়ের প্রতি অনুগত বিশাল সামরিক বাহিনী নিয়ে আপনার অবৈধ শাসন গুঁড়িয়ে দিতে দেমিয়ান প্রাসাদ অভিমুখে যাত্রা শুরু করিবো। সেই মুহূর্ত হইতে যে ধ্বংসযজ্ঞ, প্রাণহানি এবং রক্তপাত ঘটিবে, তাহার সম্পূর্ণ দায়ভার এবং চরম পরিণতি শুধুমাত্র আপনার অবৈধ ঔদ্ধত্যের উপরই বর্তাবে।
​ন্যায়ের পথে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
বাদশাহ নামীর আসওয়াদ দেমিয়ান
১০/০১/২০৩০”

বার্তা শেষ করে অ্যাশটন চোখ তুলে তাকালো ইলহানের দিকে। ইলহান মৃদু হাসলো। উঠে দাঁড়িয়ে হাত জোড়া কোমরের পেছনে বেঁধে অ্যশটনের দিকে এগোতে এগোতে বলল,
“আমার সিংহাসন আমি আবারও অর্জন করে নিবো অ্যাশটন। হোক ধ্বংসযজ্ঞ, প্রাণহানি বা রক্তপাত। তবে…. শুরু টা আমি তোমাকে দিয়েই করবো।”
ইলহানের কথায় চমকে উঠলো অ্যাশটন, পরমুহূর্তে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাশে থাকা গার্ডের কোমরে বাধা খাপ থেকে এক ঝটকায় তলোয়ার বের করে নিয়ে ক্ষীপ্র বেগে ঢুকিয়ে দিলো অ্যাশটনের গলা বরাবর।
মুহুর্তেই রক্ত ছিটকে উঠে কন্ঠনালী ভেদ করে ঘাড়ের পেছন দিয়ে বেরিয়ে এলো তলোয়ারের অগ্রভাগ। অ্যাশটন বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইলো সম্মুখে এসে দন্ডায়মান কোনো ভয়ানক অশরীরীর দিকে। ঠোঁট নাড়িয়ে বলতে গেলো কিছু, মুহুর্তেই মুখ থেকে গাঢ় তরল ছিটকে বেরিয়ে এলো তার!
পরক্ষণেই হ্যাচকা টানে তলোয়ারটি বের করে নিয়ে এলো ইলহান। গলা হতে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলো অ্যাশটনের, আকুতি পূর্ণ চোখ জোড়া দিয়ে সে তাকিয়ে রইলো শূন্যে। ক্ষণিক পরেই মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো তার নিথর দেহ।
ইযান সেদিকে তাকিয়ে শঙ্কিত গলায় বলে উঠলো,

“ইয়োর ম্যাজেস্টি, এবার কি হবে? রাজদূত হত্যা করার অর্থ সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করা! অ্যাশটনকে মেরে ফেলেছেন শুনলে শেহজাদা আরও অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠবেন। তিন দিন সময় দিতে চেয়েছিলেন সেটিও আর দিবেন না, তার আগেই হামলা করে বসবেন! এখন আমরা কি করবো?”
ইলহান তলোয়ারটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে পূর্বের স্থানে এসে বসে বলল,
“আসতে দাও ওকে। আসওয়াদের রাগ বাড়ুক সেটাই আমি চাই। রেগে গেলে মানুষ প্রতি পদে পদে ভুল করতে থাকে, আমি চাই সে ভুল করুক। মানুষকে তার দুর্বলতা দিয়ে ঘায়েল করতে পারলে তার মতোন স্যাটিসফ্যাকশন আর কোনো কিছুতে মেলে না।”
ক্ষণিক বিরতি দিয়ে ইযানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“লাশটিকে আসওয়াদের কাছে পৌছানোর ব্যাবস্থা করো। সে একটু দেখুক, তার আস্থাভাজন জানোয়ারের মৃতদেহ। আর হ্যাঁ, আসওয়াদ যেকোনো সময় হামলা করতে পারে, তাই সবাইকে জানিয়ে দাও। সবাই যেন যে যার স্থানে সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকে।
“আপনার যেমন আদেশ ইয়োর ম্যাজেস্টি।”

যুদ্ধ উপলক্ষে বাচ্চারা সব রেড জোনে। কোকো, লিও কাঞ্জি ব্যাতিত সবাই সেখানে উপস্থিত। জোভি তার স্ত্রী সন্তানকে অ্যানিম্যাল টাউনেই রেখে এসেছে, শার্লট ফাতমা আর ব্রায়ানকেও সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওদেরকে এদিকে রাখা রিস্ক।
জোভির বাসার পাশের একটি খালি কামরাকে গ্যারাজে রুপান্তর করে রেখে দেওয়া হয়েছে আনাবিয়ার সুপার কারটি। ইযান সেদিন কুরো আহমার থেকে গাড়িটি কিনে এনে দিয়ে গেছিলো এখানে, আনাবিয়ার নিকট পৌছে দিতে। কিন্তু আনাবিয়া বার্ডির মাধ্যমে বলে পাঠিয়েছিলো গাড়িটিকে রেড জোনেই রেখে দিতে। প্রয়োজন হলে সে নিজেই আসবে নিতে৷

ফ্যালকন জঙ্গলে ফিরে রোজ সেটাকে দুবার করে পরিষ্কার করে। ময়লা না জমলেও পরিষ্কার করে। তার ধারণা শেহজাদী হুট করে এসে যদি দেখেন গাড়ির ওপর ময়লা পড়েছে তবে তিনি মন খারাপ করবেন।
তার এত শখের গাড়ি! চাচাজি নামক শত্রু থেকে আবদার করে পাওয়া।
রেক্সা বসে আছে উদাস মুখে, পাশে বাচ্চারা সকলে আসন্ন যুদ্ধ নিয়ে কথা বার্তায় ব্যাস্ত। আনাবিয়ার দেওয়া লিসনিং ডিভাইস গুলোর কানেকশন ঠিক ঠাক আছে কিনা সেগুলো একে অপরের সাথে কথা বলে পরীক্ষা করছে তারা।
কিন্তু রেক্সার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, আনমনে কি যেন ভেবে চলেছে সে৷ কি যেন আজকাল ফাঁকা ফাঁকা লাগে তার। হয়তো পূর্বে কোকো নামক ব্যাক্তিটার চব্বিশঘন্টার খোঁচাখুঁচি, আক্রমণাত্মক কথা বার্তাতে মজে থাকতো সে, এখন সেগুলো দৈনন্দিন জীবনে অনুপস্থিত থাকায় এত শূন্যতা…!

কিন্তু নিজের মনকে মনে মনে বকা দেয় সে, কারো সহিংস, উল্টোপাল্টা কথা বার্তার অভাব কিভাবে কেউ অনুভব করতে পারে? এগুলো কি অভাব বোধ করার জিনিস? এগুলো তো এড়িয়ে চলার জিনিস। তবে সে কেন সেগুলোই চাইছে আজকাল? নাকি শুধুই চাইছে ব্যাক্তিটির উপস্থিতি?
ফ্যালকনের কোলের ভেতর ল্যাপটপ রাখা। সে নজর রেখে চলেছে শিরো মিদোরির বর্ডারের দিকে। শেহজাদা ইলহান কোথায় কিভাবে সৈন্য সাজাচ্ছেন সেগুলো দেখে দেখে মুখস্ত করার চেষ্টায় আছে সে, যেন উপযুক্ত সময়ে কেউ জিজ্ঞেস করলেই তোতাপাখির মতোন বলে দিতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করা মানা তার, শেহজাদী মানা করেছেন।
বার্ডি তার পাশে বসে, প্রায় গা ঘেঁষে। আগ্রহী চোখে তাকিয়ে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে। ঝুঁকতে ঝুঁকতে সে এবার এসে পড়লো ফ্যালকনের চোখের সামনে। ফ্যালকন এইবার দিয়ে তিনবার ওর মাথাটা সরালো সামনে থেকে। আবারও একই কাজ করায় ফোস করে শ্বাস ছাড়লো সে। ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে বলল,

“আমার কোলের ভেতরে এসে বসো।”
বার্ডি অবুঝের মতো করে তাকিয়ে শুধোলো,
“সত্যি বসবো? আপনি কিছু মনে করবেন না?”
ফ্যালকন অসহায় চোখে তাকালো বার্ডির নিষ্পাপ মুখশ্রীর দিকে। আলফাদ ওদের পাশে ছিলো, বার্ডির প্রশ্ন শুনে হোহো করে হেসে উঠে ফ্যালকনের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলল,
“ওয়াও, কিতনি সুন্দার কুয়েশ্চেন হ্যায়। উত্তর দে না হাঁসের বাচ্চা, সত্যি বসবে?”
ফ্যালকন ওর দিকে কটমটে চোখে তাকিয়ে চাপা সুরে বলল,
“একদম হাসবে না ভাইজান! ও এসব বুঝে না, সেইভাবে ওর কখনো বেড়ে ওঠা হয়নি। জেনে শুনেও এভাবে হাসো!”

আলফাদ খিকখিক করে হাসলো তবুও। বার্ডি অপ্রস্তুত হলো, এখানে এত হাসাহাসির কি হলো?
হাইনা পাশে প্রচন্ড সিরিয়াস মুখভঙ্গিতে বর্তমান পরিস্থিতি এবং তারা কে কি করবে কোন পজিশনে থাকবে সবই একে একে বিবরণ দিচ্ছিলো। এদেরকে এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে দেখে ধমকে উঠে বলল,
“কি হচ্ছে কি এখানে? এটা কি মজা করার সময়? ফ্যালকন, তুই ওদিকে গিয়ে কাজ কর। আলফাদ, বার্ডি দুজনেই এদিকে এসো, ওকে বিরক্ত কোরোনা।”
আলফাদ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে হাইনার কাছাকাছি বসলো। বার্ডি মুখ ভার করে ধীর পায়ে এগোলো আলফাদের পেছন পেছন। এগোতেই টান পড়লো ওর পরণের হুডির স্লিভে। চমকে পেছনে ফিরতেই দেখলো স্লিভের নিম্নাংশ দু আঙুলে আকঁড়ে ধরে আছে ফ্যালকন। বার্ডি তাকাতেই মোলায়েম স্বরে বলল,

“মন খারাপ কোরোনা, যুদ্ধ শেষে, এসব ব্যাস্ততা শেষ হলে তোমাকে আমি সমস্ত শিরো মিদোরি আর পঞ্চদ্বীপের বর্ডার ঘুরিয়ে দেখাবো। আর…. আলফাদ ভাইজানের কথার জন্য সর‍্যি, তুমি কিছু মনে কোরোনা।”
বার্ডি বিস্মিত হলো প্রথমে, পরক্ষণেই বিস্ময় কাটিয়ে উঠে মিষ্টি করে হাসলো। বলল,
“আমি কিছু মনে করিনি, আমি জানি আলফাদ ভাইজান একটু দুষ্টু। আর… তুমি যে আমাকে ঘুরিয়ে দেখাতে চেয়েছো এতেই আমি খুশি, আমার আর কিছু চাইনা৷”
ওদের কথা শেষ হতে না হতেই কানে এলো গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ, ক্ষণিক পরেই একটা খয়েরী রঙা চকচকে গাড়ি গ্রুম গ্রুম শব্দ তুলতে তুলতে ঝড়ো গতিতে এসে ব্রেক কষলো ওদের কাছাকাছি।
গাড়ি থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে পড়লো কোকো, গায়ে তার সেনা প্রধানের ফর্মাল পোশাক, হাতা গোটানো। এলোমেলো কোকড়ানো মাস্তানি চুলগুলোতে আর্মি কাট দেওয়া, চোখে মুখে পেশাদারী গাম্ভীর্য।
ওকে এই মুহূর্তে এখানে এভাবে দেখা মাত্রই সকলে বেশ বিস্মিত হলো। কোকোকে দ্রুত পায়ে এদিকে আসতে দেখে হাইনা চিন্তিত স্বরে শুধোলো,

“সব ঠিক আছে ভাইজান?”
“কিছু ঠিক নেই। অ্যাশটনকে মেরে ফেলেছেন শেহজাদা ইলহান। তার মৃতদেহ পাঠিয়ে দিয়েছেন মসভেইলে। হিজ ম্যাজেস্টি ভয়ানক রেগে গেছেন, পারলে উনি এখনি গিয়ে শেহজাদাকে কতল করে আসেন।
রাত পোহালেই অ্যাকশন নিতে চাইছেন তিনি। সংবাদ পাঠিয়েছিলেন, আমি শুনেই রওনা দিয়েছি। আমাদের সৈন্যরা রামাদিসামা থেকে রওনা করেছে ইতোমধ্যে। রাত পোহানোর আগেই পৌছে যাবে৷
শেহজাদা বসে থাকবেন না, তিনি ইতোমধ্যে সমস্ত সৈন্য তার প্রাসাদের আশেপাশে নিয়ে চলে এসেছেন। জানতে পেরেছি কয়েক প্লাটুন সৈন্য তিনি আজ রাতে রেড জোনের উদ্দ্যেশ্যে পাঠাবেন, যেন আমাদের ঘুমন্ত থেরিওন আর্মিদের ইজিলি সরিয়ে দেওয়া যায়।
এবং ধারণা করা হচ্ছে ওরা ডার্ক ফরেস্ট এরিয়া দিয়ে ভেতরে ঢুকবে, কারণ এদিক দিয়ে ঢুকলে হিজ ম্যাজেস্টির সৈন্যরা টের পেয়ে গেলে প্রাণে বাঁচতে পারবে না।”
কথা শেষ করে কোকো হাইনার দিকে ফিরে বলল,

“হাইনা, এখুনি অ্যানিম্যাল টাউনে গিয়ে সবাইকে সতর্ক করবি যেন যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকে। বাচ্চা, গর্ভবতী নারী আর বৃদ্ধ দেরকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা করবি।
আর আমাদের কে কে আছে সেখানে?”
“ব্রায়ান, শার্লট আর ফাতমা আছে ভাইজান। জোভির ওয়াইফ আর বেবিও আছে সেখানে।”
“ওদের ওখানে থাকার প্রয়োজন নেই৷ এখানে আমাদের সাথেই থাকুক। তাছাড়া ফাতমা হেকিম, সে একসময় নার্সিং এর কাজ করেছে। ব্রায়ান মেডিক্যাল স্টুডেন্ট ছিলো, সেও উপকারে আসবে৷ ওদেরকে এখানে রাখাই শ্রেয়। দ্রুত বেরিয়ে পড়।”
কোকোর আদেশ পাওয়া মাত্রই হাইনা জোভি কে সাথে নিয়ে ছুটলো অ্যানিম্যাল টাউনের দিকে৷ কোকো লিন্ডার দিকে ফিরে বলল,

“লিন্ডা, ছেলেরা কেউ এখানে থাকবে না। মেয়েদের সবার দায়িত্ব তোর ওপর৷ এই বাসা ছেড়ে বের হবি না। কখন কি পরিস্থিতি আসবে উই কান্ট সে। যতরকমের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব আজ রাতেই নিয়ে নিতে হবে, পর্যাপ্ত খাদ্য আর চিকিৎসার ব্যাবস্থা করতে হবে। একবার গোলাগুলি শুরু হলে বাইরে বের হতে পারবিনা।
আমাদের ভেতর কেউ আহত হলে সর্বপ্রথম এখানেই আসবে। আম্মার ভরসায় থাকা যাবেনা, তিনি নিজেও ব্যাস্ত থাকবেন৷ তার হয়তো সময় হবে না বা সুযোগ হবে না, সময় সুযোগ হলেও যে তিনি এখানে আসতে পারবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফার্স্ট এইড তোদেরকেই দিতে হবে৷ আর ফ্যালকন…. ”
নিজের নাম শুনে ফ্যালকন সোজা হয়ে দাঁড়ালো। কোকো বলল,

“আজ সারা রাত তোকে বর্ডারে নজর রাখতে হবে। শুধুমাত্র শিরো মিদোরির বর্ডারে। বিশেষ করে সেনসিটিভ স্থান গুলোতে, যেখান থেকে শত্রুপক্ষ সহজেই প্রবেশ করতে পারবে৷ তবে এখানে বসে নয়।
শত্রুপক্ষের অধিকাংশেরই জানা আছে তোর ব্যাপারে, তাই ওরা তোকেই আগে খুঁজবে যেন ওদের মুশকিল আসান হয়। বার্ডিকে সাথে নিয়ে তুই ওপরের দিকে থাকবি, যেখানে চাইলেও কেউ যেতে পারবেনা বা তোদের খুঁজে পাবে না। আমরা কেউ না কেউ তোর সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখবো৷
আমাদের হয়তো সবসময় সুযোগ হবে না ওদের স্থান সম্পর্কে জানার, তাই প্রতি মুহুর্তে আমার সবরকমের আপডেট চাই। আর কখনো আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হলে বার্ডিকে প্রয়োজনীয় ইনফর্মেশন দিয়ে পাঠিয়ে দিবি। ঠিক আছে?”

ফ্যালকন ওপর নিচে মাথা নেড়ে বলল,
“জ্বি ভাইজান।”
“প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় আর খাবার দাবার নিয়ে বেরিয়ে পড়, যে গাছ গুলোতে উঠে আম্মা সূর্যাস্ত দেখতেন সেগুলোতে উঠে পড়বি। যেন তোদের খুঁজে পাওয়া না যায়৷”
ফ্যালকন আর বার্ডি তৎক্ষনাৎ নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আর খাদ্যসামগ্রী প্যাক করে রওনা করলো কোনো সুউচ্চ রেডউড গাছের উদ্দ্যেশ্যে।
“আলফাদ, ওকামি, তোরা আমাদের অ্যানিম্যাল আর্মিদেরকে জড়ো করবি এখনি। একদলকে অ্যানিম্যাল টাউনের দিকে গার্ডে রেখে বাকিদের নিয়ে এদিকে চলে আসবি। দুইটা গ্রুপে ভাগ করবি তাদেরকে। একদল রেড জোনের ভেতরে থাকবে ব্যাক আপ হিসেবে, আর অন্যদল আমার আর্মিদের সাথে যোগ দিবে।”
আলফাদ ওকামি বেরিয়ে পড়লো তৎক্ষনাৎ। রেক্সা তখনো অবিশ্বাসী চোখে তাকিয়ে। হুট করে সবকিছু হওয়ায় তার সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বাস কর‍তে পারছেনা এখনো যে সত্যিই আজ যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে। ভয় লাগছে তার, ভীষণ ভয়, কান্না পাচ্ছে!

লিন্ডা রেক্সাকে ডেকে তার সাথে যেতে বলে ছুটলো সব জোগাড়যন্ত করার কাজে। কিন্তু রেক্সা ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো, চোখে মুখে আতঙ্ক। কোকো গাড়ির দিকে ফিরেই যাচ্ছিলো, রেক্সার দিকে চোখ পড়তেই ফিরে এলো আবার। নিজের বুক সমান রেক্সার শঙ্কিত দৃষ্টির ওপর ঝুঁকে তাকিয়ে নরম গলায় শুধোলো,
“ভয় পাচ্ছো?”
রেক্সা এবার সত্যি সত্যিই কেঁদে ফেললো, ফুপিয়ে উঠতেই নিচের ঠোঁট ফুলে উঠলো তার। কোকো দুহাতে রেক্সার চোয়াল জোড়া আকড়ে ধরে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে চোখ মুছিয়ে দিতে দিতে বলল,
“ভয়ের কিছু নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে দ্রুতই। আমরা সবাই আবার এভাবে একসাথে থাকবো।”
“আপনাদের কারো যদি কিছু হয়!”
কান্না জড়ানো গলায় শিশুর মতোন প্রশ্ন করলো রেক্সা। কোকো হেসে উঠে বলল,
“আমি আছি না, সবাইকে টেনে টুনে আবার এই রেড জোনে হাজির করবো, তোমার জন্য।”
“আপনার যদি কিছু হয়ে যায়!”

বলে এবার উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলো রেক্সা। কোকো কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে রইলো ওর ক্রন্দনরত মুখের দিকে, পরক্ষণেই টেনে নিলো বুকে। শক্ত করে নিজের সাথে জড়িয়ে মুখ গুজলো চুলে, বলল,
“কিছুই হবে না আমার, আমার আম্মা আছে না! আমাকে কিছুই হতে দিবেন না তিনি। তুমি নিশ্চিন্ত থাকো।”
“আপনাদের অস্ত্রের জোগান নেই! ওদের ওই বুলেটের সামনে আপনারা কিভাবে টিকবেন!”
“বাদশাহ নামীর আসওয়াদ দেমিয়ানকে চেনোনা তুমি, তার নিজেরই আস্ত অস্ত্রাগার আছে। আমরা সেখান থেকেই সাপ্লাই পাবো। তবে তার জন্য আমাদেরকে আগে প্রাসাদে ঢুকতে হবে, যে কোনো উপায়ে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমি টিকে থাকবো, কথা দিচ্ছি তোমাকে।”
“আমাকে আপনার সাথে নিয়ে চলুন! প্লিজ!”
হাসলো কোকো আবার, রেক্সার মাথায় ঠোঁট ছুইয়ে বলল,

“তুমি এখানেই থাকো, আম্মা যদি আমাকে প্রোটেক্ট করতে ব্যর্থ হন তবে আমি তোমার কাছেই ফিরে আসবো। তখন আমাকে সেবা শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তুলবে। ঠিক আছে? এখন আর কান্নাকাটি কোরোনা৷ লিন্ডার সাথে গিয়ে কাজে হাত লাগাও, আমরা যখন তখন এখানে এসে পড়তে পারি।আমি সুযোগ পেলেই এসে দেখা দিয়ে যাবো, তাই মন খারাপ করবে না একদম, ওকে?”
রেক্সা ভেজা চোখে নাক টেনে মাথা নাড়ালো ওপর নিচে। কোকো আরেকবার ওর কপালের পরে ঠোঁট ছুইয়ে চেপে ধরে রইলো। পরক্ষণেই ছেড়ে দিয়ে দ্রুত পায়ে গাড়িতে উঠে অবিলম্বে প্রস্থান করলো।
রেক্সা সেখানেই থমকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার পানে।

ভোরের আলো ফুটছে। দেমিয়ান প্রাসাদ এর চতুর্দিকে দফায় দফায় ভারী ভারী অস্ত্র আর অ্যামো সহকারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ইলহানের সৈন্যরা। সুসজ্জিত পোশাক, সুগঠিত ভারী শরীর, চোখে মুখে হিংস্রতা।
রয়্যাল ফ্লোরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইযান, সতর্ক চোখ জোড়া তার বাইরে দিকে নিবদ্ধ। ফ্লোরের চতুর্দিকে সুদক্ষ, বাঘা বাঘা সৈন্য দিয়ে পরিপূর্ণ, হাতে তাদের ভারী অস্ত্র৷ ফ্লোরের কিছু কিছু স্থানে সাপ্রেসড হাতে কেমোফ্লাজ করে বসা কিছু দক্ষ স্নাইপার। তাদের একমাত্র কাজ শেহজাদা নামীর আসওয়াদ রয়্যাল ফ্লোরে পা রাখা মাত্রই ঝাঝরা করে দেওয়া।

তাদেরি অন্য পাশে ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজন। বুলেটে ধরাশায়ী করার পর তাঁকে এই দুনিয়ে হতে চিরবিদায় দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।
ইযানের ফোনে সেই মুহুর্তে এলো একটি কল। রিসিভ করে কানে ধরতেই টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো সে। কান থেকে ফোন নামিয়ে দ্রুত পায়ে ঢুকলো ইলহানের কামরায়। উত্তেজিত স্বরে বলল,
“ইয়োর ম্যাজেস্টি, ওরা আসছে!”
ইলহানের পরণে অত্যাধুনিক আর্মর। মীরের মতোন তার লাইফট্রি প্রদত্ত আর্মর না থাকায় নিজেই একটা তৈরি করে নিয়েছে। ইযানের কথা শোনা মাত্রই জিজ্ঞেস করলো,
“আসওয়াদের অবস্থান বলো।”
“ক্ষমা করবেন ইয়োর ম্যাজেস্টি, শেহজাদার অবস্থান জানা যায়নি।”
ইলহান মাথায় শিরোস্ত্রাণ পরতে পরতে বলল,
“আনাবিয়া যেন শিরো মিদোরিতে ঢুকতে না পারে, সৈন্য দের বলে দিবে নিজেদের সর্বোচ্চটক দিয়ে আনাবিয়াকে ঠেকাতে। তবে তার যেন কোনো অসম্মান না হয়।”
“আপনার যেমন আদেশ ইয়োর ম্যাজেস্টি, আমি এখনি জানিয়ে দিচ্ছি।”

দেমিয়ান প্রাসাদের সম্মুখে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার সৈন্য। তাদের সাথে মিশে আছে রেড জোনের প্রাণীদের এক বিরাট অংশ। সকলের হাতে ধারালো অস্ত্র, কারো কারো হাতে রাইফেল, মেশিনগান। সকলের হাতেই বুলেট ঠেকানোর জন্য বিরাট বিরাট রায়ট শিল্ড।
বিপরীতে, ইলহানের সৈন্যদের নিকট অত্যাধুনিক রাইফেল, অ্যামো, মেশিনগান সহ বেশ কয়েকটি ক্যানন। তারা ঘিরে দাঁড়িয়ে দেমিয়ান প্রাসাদ।
কোকো দাঁড়িয়ে প্রাসাদের অনতিদূরে, তার সাথে কয়েকজন আর্মি জেনারেল। তাদের নিরাপত্তা দিতে ঘিরে রেখেছে এক দল সৈন্য৷ কোনোর কানে লিসনিং ডিভাইস, সংযুক্ত ফ্যালকন, হাইনা সহ তার মেজর জেনারেল এবং আর্মি ক্যাপ্টেন দের সাথে। পাশেই ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ লাগিয়ে বসে একদল ছেলে। ওয়ার ফিল্ডের ওপর তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ।

ফ্যালকন বসে রেড জোনের গভীরের কোনো রেড উড গাছের ওপর। কোকোকে সমগ্র যুদ্ধক্ষত্রের একটি বিশদ বিবরণ দিতেই কোকো বা হাতে নিজের লিসনিং ডিভাইসটি চেপে ধরে মেজর জেনারেল এবং ক্যাপ্টেন দের উদ্দ্যেশ্যে শক্ত গলায় বলে উঠলো,
“অ্যাটাক…!”
মূহুর্তেই দূর হতে ভেসে এলো সৈন্যদের সমস্বর চিৎকার, অদম্য শক্তিতে তারা ছুটে চললো প্রাসাদাভিমুখে। অবিলম্বে শোনা গেলো প্রাসাদের সাইরেনের বিকট, দীর্ঘ আওয়াজ। পরমুহূর্তেই গোলাগুলির তীব্র শব্দে ভরে উঠলো সমগ্র শিরো মিদোরি।

প্রাসাদের প্রধান ফটক হতে কয়েকশো মিটার দুরত্বে অবস্থিত কোকোর আর্মিদের ওপর তীব্র গোলাবর্ষণের কারণে একে একে মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে রইলো সৈন্যরা। তবুও প্রাণের পরোয়া না করে দ্রুত পায়ে তারা এগোতে শুরু করলো প্রাসাদের দিকে। একবার প্রাসাদের প্রধান ফটক দখল নিতে পারলে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
রাইফেল বাহিনি ইলহানের সৈন্যদেরকে একে একে হটিয়ে দিতে দিতে তলোয়ার বাহিনীকে নিজেদের আড়ালে নিয়ে এগোতে শুরু করলো প্রধান ফটকের দিকে। ইলহানের সৈন্যরা প্রচন্ড গতিতে শ্যুট করতে করতে এগিয়ে আসতে শুরু করলো আরও।

রায়ট শিল্ড দিয়ে নিজেদেরকে কোনো রকমে প্রটেক্ট করে তলোয়ার বাহিনী যখন এগিয়ে এলো ইলহানের সৈন্য পর্যন্ত, সেই মুহুর্তেই কোকো নিজের লিসনিং ডিভাইসে হাইনা, জোভি দের উদ্দ্যেশ্যে বলে উঠলো,
“সময় এসেছে তোদের।”
কোকোর বার্তা জানা মাত্রই হৈহৈ পড়ে গেলো রেড জোনের প্রানীদের ভেতর। মুহুর্তেই নিজেদের হিউম্যান ফর্ম ছেড়ে অ্যানিম্যাল ফর্মে এলো তারা। পরক্ষণেই হামলে পড়লো ইলহানের সৈন্যদের ওপর।
দুই দলের সৈন্যই প্রথমবারের মতো রেড জোনের থেরিয়নথ্রপ দের সরাসরি দেখে প্রচন্ড বিস্মিত হলো। সাধারণ প্রাণী হতে প্রায় তিন গুণ আকৃতি দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তাদের দিকে।
কিন্তু বেশিক্ষণ বিস্মিত হওয়ার সময় রইলোনা তাদের। অবিলম্বে তাদের কপালে জুটলো বিশাল প্রাণীগুলোর ভয়ানক হিংস্রতা।

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৯

হাইনা আর জোভি নেতৃত্ব দিয়ে দুটো দলকে নিয়ে সবেগে চলল প্রধান ফটক অভিমুখে। নিজেদের সামনে যেই পড়লো তাকে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করে, পায়ে পিষে, থাবার আঘাতে ছিটকে দিয়ে তীব্র গতিতে এগিয়ে চলল।
আলফাদ আর ওকামি মিলে অন্য দুটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে চলল ফিল্ডে থাকা শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করতে৷ অস্ত্রধারী যোদ্ধারা এই ভয়ানক পশুদের সামনে টিকে থাকতে পারলোনা, একের পর বুলেটের আঘাতেও তাদেরকে এতটুকু টলানো গেলোনা। দীর্ঘ, তীক্ষ্ণ বুলেট ভেদ করতে পারলোনা তাদের শরীরের শক্ত চামড়া, বিনিময়ে ছিন্নভিন্ন হলো সৈন্যদের শরীর, কেউ কেউ হারালো মস্তক, কেউ নিজের শরীরের অর্ধাংশ, কেউ হাত, কেউ পা, কেউ দৃষ্টি।
কিন্তু পরমুহূর্তেই আবার দ্বিগুণ অস্ত্রধারী সৈন্য এসে দখল করলো তাদের স্থান। পিছিয়ে যেতে বাধ্য করলো রেড জোনের পশুদেরকে।
দুই শত্রুপক্ষের বারংবার আগপাছের ভেতরেই শিরো মিদোরিতে পা রাখলো আনাবিয়া।

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫১