Home Remedy Remedy part 18

Remedy part 18

Remedy part 18
মীরা রায়াদ

ঝুম মুলতান শাইয়ানের কাছে এসেছে প্রায় ৩ মাস হতে চলল। আজ জুম্মাবার। শাইয়ান নামাজ পড়ে হসপিটালে যায়নি। সে আজ হাফ ডে ছুটি নিয়েছে। তাদের আবার ২৪/৭ ডিউটি থাকে। আজ সে বড় কষ্ট করে এই সময়টা ঝুমের সাথে কাটানোর জন্য বের করে ছিল। কিন্তু মেয়েটা তাকে শান্তি দিলে তো! সেই কখন থেকে ঝুম শাইয়ানের সামনে ঘুরঘুর করে যাচ্ছে, শাইয়ান ফিরেও তাকাল না। বেজায় চটেছে সে আজ ঝুমের ওপর। মেয়েটা একটা কথা শোনে না। ভীষণ অবাধ্য হয়েছে। শাইয়ান কিছু বললে করাচি যাওয়ার হুমকি দেয়। তারওপর মেহেরুন্নেসা আর আহিরের অত্যাচার বোনাস হিসেবে তো আছেই। ফোন দিয়ে শুধু একবার বললে হয় শাইয়ান বকেছে, ব্যাস দুজন ফোন করে শাইয়ানের মাথা খেয়ে ফেলে।

আহির রীতিমত হুমকি দেয় সে নিতে আসছে ঝুমকে। এই কথা শুনলে শাইয়ান মিইয়ে যায় একদম। দিন দিন তার অভ্যাস খারাপ করেছে মেয়েটা। ঝুমকে ছাড়া তার ঘুম আসে না। কোনো কাজ ঠিক মতো করতে পরে না। কোনো কেস স্টাডি করতে গেলেও মেয়েটাকে তার পাশে বসিয়ে রাখে, নয়তো অশান্তি হয় মনে। কিন্তু আজ আর সে কোনো কিছু মানবে না। এভাবে করলে হয়? সেদিন রিপোর্টের অবস্থা যাচ্ছে তাই ছিল। আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর অভাব আছে ঝুমের। যার দরুন শরীর এতো দুর্বল। এতটুকু দেখেই শাইয়ানের অবস্থা নেই নেই। তারওপর হিমোগ্লোবিন যেখানে ১২ থাকতে হয় সেখানে ঝুমের ১০.৮। এরপর কি শাইয়ান আর শান্তিতে থাকে? কই সে ভেবেছিল বেবি প্ল্যানিংয়ের কথা আর এদিকে মেয়েটার এই অবস্থা।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

তৎক্ষণাৎ সে সবরকম চিন্তা বাদ দিয়ে ঝুমের সুস্থতা নিয়ে ভাবনা শুরু করলো। খাওয়া – দাওয়ায় প্রপার রুটিন বানিয়ে দিল, সাথে মেডিসিন যুক্ত করলো কিছু। কিন্তু মেয়েটা তার চিন্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি ওষুধপত্র ছেড়ে তাকে বোকা বানিয়ে গেছে। ফলস্বরূপ আজ দুপুরে খাওয়ায় পর মাথা ঘুরে পরে গেল। সেই থেকে শাইয়ান ঝুমের সাথে একটাও কথা বলছে না। শাইয়ানকে হসপিটালে থাকতে হয় বেশির ভাগ সময়। চাইলেও সে ঝুমের প্রতি এক্সট্রা যন্তশীল হতে পারে না। এমনিতেই সে চিন্তায় মরে মেয়েটার জন্য, তার মাঝে যদি এভাবে ছেলেমানুষী করে কে সহ্য করবে? রাগে শাইয়ান ঝুমের দিকে ফিরে চাইলো না। হাতে একটি বই নিয়ে তাতে মনোযোগ দিলো।
ঝুম ঘরের এমাথা থেকে ওমাথা পায়চারী করে যাচ্ছে। তার হাঁটার তালে তালে পায়ের নুপুরগুলো মৃদু শব্দ করে যাচ্ছে। সেদিন বাড়িতে ফিরে শাইয়ান তাকে নিজ হতে নূপুরটা পরিয়ে দিয়েছিল। শাইয়ানের কাছে নুপুর দেখে সে প্রশ্ন করেছিল কোথায় পেয়েছে? কিন্তু শাইয়ান তখন প্রতিউত্তরে শুধু হেঁসে ছিল।

” ডক্টর, ডক্টর রাগ করেছেন বেশি?”
ঝুম বিড়াল ছানার মতো শরীর ঘেঁষে বসলো শাইয়ানের। শাইয়ান একবার কপাল কুঁচকে আবার নিজের কাজে মনোযোগ দিল। শাইয়ানের থেকে পাত্তা না পেয়ে ঝুমের কান্না পেয়ে গেলো মুহূর্তেই।
” আর করবো না ডক্টর। সব কথা শুনবো। ঠিক করে খাবো। মেডিসিনও সময় মতো খাবো। আর রাগ করবেন না প্লিজ। এত্তোগুলো সরি তো।”
ভীষণ আদুরে কন্ঠ তার, তবুও শাইয়ান কথা বলল না। আর নাই বা ফিরে তাকালো। ঝুম নাক টেনে রেগে মেগে বলল –

” ঠিক আছে, আমাকে নিয়ে এতো সমস্যা হলে আমাকে করাচি দিয়ে আসুন। থাকবো না আমি এখানে।”
ধুম করে ফিরে চাইলো শাইয়ান। রাগে তার নাক লাল হয়ে গেলো। সহ্য হলো না কথাটা তার। ঝুম বুঝলো ভুল সময়ে ভুল কথা বলে ফেলেছে। ভয়ে সে কিছুটা দূরে সরে বসলো। শাইয়ান রাগে গজগজ করতে করতে ফোন লাগালো আহিরকে।
” কাল এসে তোমার বোনকে নিয়ে যাবে। এসব উটকো ঝামেলা আমি নিজের কাছে আর রাখতে পারবো না। কিছু না করেও শেষে তোমাদের দোষের ভাগিদার হতে হবে আমায়।”
রাত তখন প্রায় ১১ টা। আহির ঘুমিয়ে পরেছিল। আচমকা শাইয়ানের কথার মানে তাই সে বুঝতে পারেনি।
” মানে? কাকে কোথায় নিয়ে যাবো?”
” যাকে নিয়ে যাওয়ার হুকমি প্রতিনিয়ত দাও আমাকে তাকে।”
শাইয়ানের তেরা জবাব। আহির উঠে বসলো। বুঝতে পারল ঝুম কিছু করেছে। নয়তো শাইয়ান ঝুমকে কাছ ছাড়া করার মতো মানুষ না।

” কি করেছে? এতো ক্ষেপেছো কেন?”
” সেটা তোমার বোনকে জিজ্ঞেস করো। সারাদিন গাধার মতো খেটে মরি। তারওপর ওনার নিত্য নতুন বাচ্চামো। আমি আর পারছি না আহির। ওনাকে নিয়ে যাও তোমাদের কাছে। অন্তত এটা ভেবে শান্তি পাবো যে, উনি ওখানে ভালো আছে, সুস্থ আছে।”
শাইয়ানের কন্ঠ ভীষণ ক্লান্ত, অসহায়। ঝুম হতভম্বের মতো তাকিয়ে। আহির ধীর স্থির ভাবে বলল –

” শান্ত হও আগে। কি করেছে?”
” হিমোগ্লোবিন ১০.৮। আয়রন, ক্যালসিয়াম আর ভিটামিন ডি এর অভাব। এতো করে বলি নিজের যত্ন নিন, আমার কথা কানে তোলে না। তুমি তো জানো আমার কাজ। ২৪ ঘণ্টার ডিউটি আমার। যখন ডাকবে যেতে হবে। চাইলেও যত্ন নিতে পারছি না। আমি আমার কথা রাখতে পারছি না আহির। তুমি এসে ওনাকে নিয়ে যাও।”
শেষের কথাগুলো তার ভেঙে ভেঙে এলো। চোখের কোনে পানি। মেয়েটার চিন্তায় শান্তিতে ঘুম হয় না। কিন্তু ঝুম বুঝলে তো তাকে! ঝুম নিজের ভুল বুঝতে পারল বুঝি। শাইয়ানের থেকে ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কেটে দিলো। আগাম কোনো সতর্কতা ছাড়া শাইয়ানের বুকে ঝাঁপিয়ে পরে কেঁদে বুক ভাসালো। শাইয়ান ধরলো না একদম। পাঁজি মেয়েটা তার ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। চিন্তায় চিন্তায় শাইয়ান সত্যিই অতিষ্ট। এখনো কি বাচ্চা আছে? এতো বড় মেয়ে নিজের ভালো বুঝবে না কেন? সে বললেও কেন শুনবে না?

” এই ডক্টর, ডক্টর। আমি যাবো না আপনাকে ছেড়ে। ক্ষমা করে দিন প্লিজ। এই যে কানে ধরলাম( সে সত্যিই দুহাতে দুকান ধরে বসলো)। এইবারই শেষ, আর কখনো অনিয়ম করবো না।”
” আপনি পিলগুলো নিচ্ছেন?”
পিল! ঝুম কাচুমাচু করলো মুখটা। এবার কি হবে? শাইয়ান তো আরো রেগে যাবে।
শাইয়ান জানতো এই মেয়ে একটাও কথা শুনেনি তার। বুঝেনি তার চিন্তা। তাই তো রাগ আরও বেড়ে গেল। দুহাতে ঝুমের দুবাহু খামচে ধরে চেঁচিয়ে উঠলো –
” কেন এমন করেছেন? কিছু কি বোঝেন না আপনি? ছোট আছেন? নিজের ভালো কেন বুঝছেন না আরীবা? আমার চিন্তা কেন বুঝেন না?”

ঝুম কেঁদে ফেলল। তার হাতে ব্যাথা পাচ্ছে কিন্তু মুখে বলতে পারল না। শাইয়ানকে ভয় লাগছে খুব। সে মানছে ওষুধগুলো না খেয়ে অন্যায় করেছে। কিন্তু পিলগুলো? ওগুলো না খেয়ে সে কোনো অন্যায় করেনি। শাইয়ান বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসে ঝুম দেখেছে। তারা যখন কোথাও ঘুরতে যেতো, তখন কোনো বাচ্চা দেখলে শাইয়ান কেমন করে তাকাতো। মুখে না বললেও ঝুম বুঝতো অনেক কিছু। এই তো কিছু দিন আগে হসপিটালে গেট – টুগেদার পার্টি হলো। সেখানে শাইয়ানের এক স্টাফ ডক্টর তার ওয়াইফ আর দুবছরের ছেলেকে নিয়ে আসলো। শাইয়ান বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে কি ভীষণ আদর করলো। ঝুমকে বারবার দেখিয়ে বলতে লাগলো, বাচ্চাটার গা, হাত কতো নরম, সুন্দর। পুরোটা সময় সে বাচ্চাটাকে বুকের সাথে আগলে রাখলো। ঝুম সবটা বুঝলো। অথচ শাইয়ান মুখ ফুটে ঝুমের কাছে বলল না। কারণ সে ভয় পাচ্ছিল ঝুমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে। শরীরে রক্ত কম থাকায় শাইয়ান এখনই এসব নিয়ে ভাবতে চায়নি। সে তখনো ঝুমের কথা ভেবেছে। এতো কিছুর পরও শাইয়ানের একটা বাচ্চার ইচ্ছা সে অপূর্ণ কিভাবে রাখে?

” ডক্টর।”
” হ্যাঁ বলুন, বলুন। আমি শুনতে চাই আপনি কি ভেবে এমন কাজ করেছেন। দিন আপনার অজুহাত।”
” সরি আপনার কথা না শোনার জন্য। কিন্তু আমি মা হতে চাই ডক্টর।”
আচমকা শাইয়ানের হাত আলগা হয়ে গেলো। ঝুম তার দিকে না তাকিয়ে দুহাতে আড়াআড়ি ভাবে দুবাহু আঁকড়ে ধরে ব্যাথা জায়গাতে হাত বুলিয়ে গেল। শাইয়ান স্থির ঝুমের দিকে তাকিয়ে
বলল –
” কি বললেন?”
ঝুম উত্তর করলো না। তার চোখে পানি কিন্তু পরতে দিলো না। পাষাণ লোক। অভিমান হলো খুব। হাত বাড়িয়ে ফোন তুলে আহিরকে কল লাগালো। আহির ধরলো সাথে সাথেই। হয়তো সে অপেক্ষা করছিল ফোনের।
” ভাইয়া।”
” ভাবি কি হয়েছে? আপনি কাঁদছেন কেন? শাইয়ান বেশি বকেছে?”
আহিরের আদুরে প্রশ্রয়ে ঝুম কেঁদে ফেলল। হিচকি তুলে বলল –
” আমাকে নিয়ে যান ভাইয়া। এই পাষাণ লোকের কাছে থাকবো না। এখানে আমার আর প্রয়োজন নেই। আমি দেশে ফিরে যেতে চাই।”
” কিন্তু ভাবি আপনার পাসপোর্ট….”
বাকিটা শোনা হলো না। শাইয়ান ফোনটা টেনে নিয়ে কানে চেপে বলল –
” ঘুমাও আহির। আমার বউ আমি বুঝে নিবো।”
আহির এতক্ষনের চিন্তা ফেলে শরীর ছেড়ে অলসতা টেনে বলল –

” বুঝলাম তোমার বউ, তা বউকে নিতে তাহলে আমাকে ফোন দাও কেনো? এতোই যখন বউ নিয়ে সমস্যা পাসপোর্টটা দিয়ে দাও। পাখি এমনিই উড়ে যাবে।”
” শাট আপ আহির।”
রেগে কল কেটে ফোন অফ করে দিলো সে। ঝুম পাশে বসে কাদঁছে তখনো। শাইয়ান হাতে টেনে নিজের কাছে আনতে চাইলে ছিটকে দূরে সরে বসল।
” আমার পাসপোর্ট দিয়ে দিন। আমি কালই চলে যাবো।”
শাইয়ান শুনল না ঝুমের বারণ। শক্ত হাতে চেপে কাছে নিয়ে এলো।
” বলেছি না, আমি বেঁচে থাকতে ওটার কথা ভুলে যান। আমার থেকে দূরে যাওয়ার কথা মাথায় আনলে পা ভেঙে নিজের কাছে বেঁধে রাখবো। বাই দ্যা ওয়ে, কি যেন বলছিলেন তখন? কি হতে চান?”
ঝুম লজ্জা পেল। কান্নার কারণে মেয়েটার ঠোঁট, নাক, চোখ লাল হয়ে আছে। কাঁদলে মেয়েটার স্বর্গীয় রূপ বেরিয়ে আসে। তখন এতো বেশি আদর আদর পায় শাইয়ানের, তা যদি জানত ঝুম? তাহলে আর কখনো কাদতো না। এই যে এখন বাঁজে বাঁজে ইচ্ছা করছে শাইয়ানের। অথচ মেয়েটা তার ভালোবাসা নিতে পারে না। শরীর তার সায় দেয় না। বড্ড নাজুক।

” বলুন।”
” ছাড়ুন ডক্টর।”
শাইয়ান ছাড়লো না। ঝুমকে আরো একটু ঘনিষ্ট ভাবে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে বলল –
” আপনার শরীরের কন্ডিশন জানেন আরীবা?”
ঝুম মিনমিনিয়ে কিছু একটা বলল। শাইয়ান হেঁসে ঝুমের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল –
” আগে সুস্থ হোন তারপর। আপনার জন্য তার শরীরের অবস্থাও খারাপ হতে পারে। আপনি কি তাই চাইবেন?”
ঝুম মাথা নাড়িয়ে না বুঝলো।
” আমি ব্যস্ত থাকি পাখি। আপনি দেখেন তো সব। নিজের যত্ন নিবেন এবার থেকে। আর পিল গুলো অফ করবেন না। যখন মনে হবে আপনি সুস্থ তখন দেখা যাবে ঠিক আছে?”

ঝুম শাইয়ানের কথা মেনে নিয়ে ছিল। তারপর থেকে সে শরীর নিয়ে হেলাফেলা করেনি। ভালো মেয়ের মতো নিয়ম মেনেছে। খাওয়া দাওয়া করেছে। দীর্ঘদিন অযত্নের ফলে ঝুম অনেক বেশি দুর্বল ছিল, যা তাকে ভালই কাবু করে নিয়েছিল। প্রায়শই শাইয়ান তাকে হসপিটালে নিয়ে টেস্ট করিয়ে আনে। রিপোর্ট দেখে মেডিসিন বাড়ায় কমায়। আজও ঝুম লাঞ্চ নিয়ে টেস্ট করতে হসপিটালে গেল। এখন প্রায় সকলেই তাকে মিসেস শাইয়ান রেহমান আনসারী এর পরিচয় চেনে। ভীষণরকম সন্মান করে তাকে। হসপিটালে প্রবেশ করলে ২/৩ জন তাকে দেখে সৌজন্যতা রক্ষার্থে হেঁসে কেমন আছে প্রশ্ন করে। সেও প্রতিউত্তরে মিষ্টি হেসে উত্তর দেয়। দুপুর ১:৩০-৩:৩০ টা শাইয়ানের লাঞ্চ টাইম থাকে। এই সময় শাইয়ান রোগী দেখে না। ঝুম তাই কোনরকম অনুমতি ছাড়া আজ শাইয়ানের ক্যাবিনে ঢুকে গেল। দরজা ঠেলে ঢুকতেই দেখতে পেল শাইয়ানের সাথে অত্যধিক সুন্দরী এক রমণীকে বসে থাকতে। ঝুমের কপাল নিজ ইচ্ছায় কুঞ্চিত হলো।

শাইয়ান ঝুমকে দেখতে পেয়ে উঠে দাড়ালো। হেসে এগিয়ে এসে হাত ধরে ভিতরে নিয়ে গেলো। ঝুম ভালো করে দেখলো মেয়েটিকে, আগে কখনো দেখেছে বলে মনে হচ্ছে না। মেয়েটি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ঝুমের দিকে। মেয়েটির পোষাক দেখে মনে হচ্ছে সেও একজন ডাক্তার। তাদের এগিয়ে আসতে দেখে মেয়েটি দাঁড়িয়ে গেল। ঝুম লক্ষ্য করলো উচ্চতায় সে প্রায় শাইয়ানের কাঁধ সমান। বিষয়টি ঝুমের একদম ভালো লাগলো না। অত্যধিক ফর্সা, সুন্দরী এই মেয়েটাকে একদেখায় না জেনেই অপছন্দের তালিকায় ফেলে দিল সে। ঝুম চোখে অসন্তুষ্টি নিয়ে শাইয়ানের দিকে আগুন চোখে তাকালো। শাইয়ান কিছুই বুঝল না। সে আবার কি করেছে?
মেয়েটি এবার নিজ উদ্যোগে কথা বলল।

” ডঃ শাইয়ান, হু ইজ শি?”
ঝুম একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। কেনো যেন অসম্ভব রাগ হচ্ছে তার। মেয়েটার চাহনি ভালো লাগেনি ঝুমের। শাইয়ান মুচকি হেসে ঝুমের কাঁধ পেঁচিয়ে বলল –
” মিট মাই লাভলি ওয়াইফ আরীবা ঝুম। এন্ড মিসেস আনসারী শি ইজ ডঃ ইউসরা।”
ডঃ ইউসরা চমকে উঠলো। তার চোখে মুখে বিস্ময়। সে মেনে নিতে পারল না। অত্যধিক উত্তেজিত হয়ে বলল –
” ওয়াইফ? আপনি বিয়ে করেছেন ডঃ? কিন্তু কই আমরা তো জানি না।”
শাইয়ান ঠাণ্ডা স্বরে হেঁসে বলল –
” ছুটিতে থাকার কারণে আপনি জানেন না ডঃ ইউসরা। বাকি হসপিটালের প্রত্যেকেই জানে।”
ডঃ ইউসরা ফিনফিনে স্বরে ভেঙে ভেঙে বলল –
” একবার জানাতে পারতেন ডঃ। অন্তত একবার।”

তার কন্ঠে কষ্ট তা স্পষ্ট ঝুম বুঝতে পরলো। মেয়েটি যে শাইয়ানকে পছন্দ করে বুঝতে একবিন্দু সমস্যা হলো না। মেজাজ খিঁচে গেল তার। শাইয়ান কিছু বলার আগে আগুন চোখে শাইয়ানের দিকে তাকিয়ে থমথমে গলায় বলল –
” সরি আমি হয়তো ভুল সময় চলে এসেছি। অনুমতি নিয়ে আসা উচিত ছিল। বুঝতে পারিনি সমস্যা সৃষ্টি করবো। আপনারা কন্টিনিউ করুন, আমি বাইরে আছি।”
কথাগুলো বলে দাড়ালো না। ঘুরে যেতে নিলে শাইয়ান তার হাত ধরে ফেলল। খুব আদুরে ভঙ্গিতে কাছে টেনে নাকের ডগায় জমা ঘাম মুছে দিয়ে বলল –
” আপনাকে যেতে হবে না মিসেস আনসারী। আমরা তেমন কোনো ইম্পর্ট্যান্ট কাজ করছিলাম না। যদিও করতাম তাও আপনার থেকে সেগুলো বেশি গুরুত্বপুর্ণ নয়।( ডঃ ইউসরার পানে তাকিয়ে বলল) ডঃ প্লিজ যদি আমাদের একান্ত সময় দিতেন?”

ডঃ ইউসরা করুন চোখে তাকিয়ে শাইয়ানের দিকে। অথচ শাইয়ান তার বউকে দেখতে ব্যস্ত। মেয়েটা এখানের আবহায়ার সাথে একদম মানিয়ে নিতে পারছে না। গরমে অতিষ্ট হয়ে যায়। অল্পে ঘেমে বিশ্রী অবস্থা করে, যেমন এখন হচ্ছে তেমন। কেমন হাসফাঁস করে। তারওপর অত্যধিক রাগে তার ফুলো ফুলো গাল দুটো লাল হয়ে আছে। শুধু কি গাল! উহু। নাকের ডগায় ঘাম জমে আছে। সাথে ডগাটা লাল হয়ে আছে। কি ভারি মিষ্টি লাগছে। এই মেয়েটি এতো মিষ্টি কেন? তার ইচ্ছা করে যখন তখন খেয়ে ফেলতে।

ডঃ ইউসরা চলে যেতেই ঝুম দুহাতে শাইয়ানকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো। রেগে কতক্ষন এদিকে তো কতক্ষন ওদিকে হাঁটতে লাগলো। শাইয়ান নীরবে ঝুমের রাগ দেখে যাচ্ছে। মেয়েটাকে এর আগে এমন রাগতে দেখেনি। সে বুঝতে পারছে রাগের কারণ, তাই তো তার আরো বেশি শান্তি শান্তি লাগছে। ঝুম শাইয়ানের নির্বিকার রূপ সহ্য করতে পারল না। তেড়ে এসে শাইয়ানের কলার টেনে ধরলো। শাইয়ান তার থেকে অত্যধিক লম্বা হওয়ায় কলার ধরতেও ঝুমের কষ্ট হয়ে গেলো। দুপায়ের আঙ্গুলে ওপর দাঁড়িয়ে বলল –
” ঘরে বউ থাকতেও সুন্দরী কলিগ দেখে ছুকছুকানি স্বভাব ভালো না মি. আনসারী।”
শাইয়ান কোমর বাঁকিয়ে কিছুটা ঝুঁকে এলো ঝুমের দিকে। এতে ঝুম পা সমান করে দাড়ালো। শাইয়ান ঝুমের রাগে লাল হওয়া নাকে আলতো কামড় দিয়ে বলল –

Remedy part 17

” স্বামীর ওপর বৃথা সন্দেহ করাও ভালো স্বভাব না মিসেস. আনসারী।”
ঝুম শাইয়ানের চোখ চোখ রেখে মৃদু হেসে দিলো। শাইয়ান তার হাসিতে নিজেও হেসে দুহাতে বুকে জড়িয়ে নিল। তারপর খুব ধীর কন্ঠে স্নেহ মেখে
বলল –
” ডঃ শাইয়ান রেহমান আনসারী আপনাকে ভীষণ ভালবাসে মিসেস. আনসারী।”

Remedy part 19