Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

কাঠফাঁটা রৌদে বিরক্ত হয়ে গত বিশ মিনিট ধরে ভার্সিটির মাঠে দাঁড়িয়ে আছে লামিয়া আর মাহির। তাদের ঠিক সামনে দাঁত কেলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভার্সিটির কুখ্যাত সিনিয়র ছেলেদের গ্যাং।
তাদের দেখে লামিয়া চরম বিরক্ত। একে তো গরমের মধ্যে তাদের দাঁড় করিয়ে রেখেছে তার উপর এই দাঁত কেলানো হাঁসি দেখে লামিয়ার রাগে শরীর জ্বলছে। তবুও নিজের রাগ কন্ট্রোল করে বিরক্ত নিয়ে বললো – এই ভাবে নিজেদের হলুদ রঙের দাঁত নিয়ে যে হাসছেন লজ্জা করে না? আপনাদের টুথপেস্টে কী লবণ নেই নাকি?
সব গুলো ছেলের মুখ থেকে হাঁসি উধাও হয়ে গেলো লামিয়ার কথা শুনে।
লামিয়া আবারো বললো – আমাদের এইভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার মানে কী?
তাদের মধ্যে থেকে একটি ছেলে বললো – কেনো, দাঁড়িয়ে থাকতে কী সমস্যা হচ্ছে?
লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো – জি হ্যাঁ, অনেক অসুবিধা হচ্ছে। আপনাদের এমন উদ্ভট মার্কা চেহারা দেখতে খুব বিরক্ত লাগছে।

সিনিয়ররা সবাই কপাল কুঁচকে তাকালো।
একটা ছেলে বললো – এই যে মিস, আমরা উদ্ভট দেখতে?
সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো লামিয়া – কোনো সন্দেহ আছে?
পিছন থেকে একটি ছেলে বললো – রাসেল ভাই, মাইয়া কিন্তু বেশি পটর পটর করতাছে।
লামিয়া বাঁকা চোখে ছেলেটার দিকে তাকালো।
মাহির একবার লামিয়ার দিকে তাকিয়ে আবার ছেলেগুলোর দিকে তাকালো।
রাসেল বললো – এই মেয়ে আমাদের ভয় পাও না?
লামিয়া বললো – কেনো, আপনারা জংলি নাকি যে ভয় পাবো?
রাসেল বললো – দাঁড়া, ভাইয়ে আইতাছে, আইলেই মাইয়ার পটর পটর বন্ধ করে দেবে।
লামিয়া ভ্রু উঁচিয়ে বললো – তাই নাকি?
রাসেল বললো – হ।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

লামিয়া বললো – আর ঠিক কতোক্ষণ অপেক্ষা করবো?
রাসেল বললো – যতোক্ষণ ভাইয়ে না আসে।
লামিয়া কিছু বলতে যাবে, তার আগেই একটা বাইক এসে থামলো তাদের সামনে। সব ছেলেরা একসাথে বলে উঠলো – ওই তো ভাই এসেছে। তা শুনে লামিয়া কপাল কুঁচকে তাকালো।
সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট পড়া একটি ছেলে তাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। একটা ছেলে একটা চেয়ার এনে দিলেই সে আরাম করে বসে বললো – এইবার বল, কী হয়েছে?
রাসেল বললো – ভাই, এই মাইয়া বেয়াদবি করেছে। মাইয়ার অনেক তেজ ভাই। আমরা পারি নাই, তাই আপনেরে ডাকছি।
বসে থাকা ছেলেটা সামনে তাকাতেই তার চোখ আটকে গেলো শ্যামবর্ণের মেয়েটাকে দেখে।
খয়েরি রঙের কামিজ, উড়না গায়ে ক্রস করা, চুলগুলো বেণী, সামনে দিয়ে লেয়ার কাট চুলগুলো মুখের চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, মুখে একরাশ বিরক্তি আর কালো বাদামী রঙের চোখগুলোতে তেজ দেখা দিচ্ছে – যা তাকে মুগ্ধ করেছে।

সে সবসময় ভার্সিটিতে আসলেই মেয়েরা গলায় উড়না ঝুলিয়ে রাখে, মুখে একগাদা মেকআপ করে আসে, যা দেখতে তার বিরক্ত লাগে। কিন্তু এই মেয়ের মধ্যে তা ছিটেফোঁটাও নেই। একদম সাদামাটা।
এক ধ্যানে চেয়ে আছে ছেলেটি লামিয়ার দিকে।
পাশ থেকে রাসেল হালকা ধাক্কা দিয়ে বললো – জুনায়েদ ভাই।
তা শুনে জুনায়েদ ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলো।
লামিয়া ভ্রু কুঁচকালো। তার মানে ছেলের নাম জুনায়েদ, তাতে তার কী!
জুনায়েদ হালকা কাশি দিয়ে বললো – সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবি করেছো?
লামিয়া বললো – রেগ না নিলে যদি বেয়াদবি হয় তাহলে বলবো হ্যাঁ করেছি।
জুনায়েদ বড় বড় চোখ করে বললো – চিনো আমাকে আমি কে?
লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো – আপনিই নিজেই যদি আপনাকে না চিনেন তাহলে আমি কে যে আপনাকে চিনবো?
সবাই হা করে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে।

জুনায়েদ গম্ভীর গলায় বললো – তোমার নাম কী?
লামিয়া বললো – নাম দিয়ে কাম কী? যে কাজের জন্য এসেছেন সেইটা বলুন।
জুনায়েদ লামিয়ার কথায় থমকে গেলো।
রাসেল তেড়ে এসে বললো – এই মেয়ে ভাইয়ের সাথে এইভাবে কথা বলার সাহস কী করে হয় তোমার?
রাসেলের বকবক এতোক্ষণ লামিয়া মুখ বুজে সহ্য করেছিলো, কিছু বলে নাই। কিন্তু রাসেল লামিয়ার দিকে তেড়ে আসতে দেখে লামিয়া রাগ কন্ট্রোল করতে পারলো না।
রাসেল তেড়ে আসতেই লামিয়া রাসেলের মেইন পয়েন্ট বরাবর এক লাথি মেরে বসলো। রাসেল ব্যথায় ককিয়ে উঠলো। সবাই লামিয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে ফেললো।

মাহির সাইডে যেয়ে দাঁড়ালো।
জুনায়েদ চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠে গেলো।
লামিয়া রাগে রি রি করতে করতে বললো – সাহস আমার অনেক, আমার সাহস দেখছেন কী! আমার দিকে দ্বিতীয় বার তেড়ে আসার সাহস দেখালে খুব খারাপ হবে।
বলেই রাগি চোখ দিয়ে জুনায়েদকে শাসিয়ে চলে গেলো।
জুনায়েদ হা করে তাকিয়ে রইল লামিয়ার যাওয়ার পানে।
পাশ থেকে একটা ছেলে বললো – ভাই, মাইয়ার তেজ দেখলেন? আর আপনেরে শাসিয়ে চলে গেলো।
জুনায়েদ বাঁকা হেঁসে বললো – I like her
রাসেল ব্যথায় কঁকিয়ে বললো – ভাই, আপনে পাগল হয়ে গেছেন! মাইয়া মাইরি অনেক ডেঞ্জারাস।
জুনায়েদ হেঁসে বললো – But I like her মেয়েটাকে আরো জানতে হবে। খোঁজ নাও মেয়েটার।
বলেই চলে গেলো।

কাঠফাঁটা রৌদে পাশে দোতলা বাড়ি সহ একটা খালি জমির উপর কোদাল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেলাল শিকদার। তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে তার ছেলে রাহিম শিকদার। তাদের ঠিক সামনে কোমড়ে আঁচল গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে আজমেরী বেগম।
আজমেরী বেগম রেগে বললো – দেখ রাহিম, আমাগো জমির ওপর এক বিন্দু পরিমাণের একটা কোপ দিলে তোরে আমি মাটিতে পুত্তা রাখমু।
রাহিম বললো – এহ বুড়ি, পারলে আইও দেখুম কে কারে মাটিতে পুঁত্তা রাখে। আর এইডা তোমগো না, আমগো জমি।
বাড়ির পাশে জমি ইসলাম পরিবারের। কিন্তু শিকদার পরিবার দাবি করে – এটা নাকি তাদের জমি।
বাড়ির সব কর্তীরা এক সাইটে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির সব কর্তারা অফিসে, এখনো বাসায় আসে নাই।
রাশেদা বেগম তা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
তাহমিনা বললো – আজকে আবার কী হবে কে জানে! এই বেলাল শিকদারের যে মানুষের জমিতে এতো লোভ। মন চায় বেডার চুল ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলি।

তখনই মাহির আর লামিয়া বাসায় এসে পৌঁছে চিল্লাচিল্লি শুনে সেখানে গেলো।
তাদের দুজনকে দেখে তায়েব আর তায়েবা দৌড়ে চলে গেলো তাদের কাছে।
লামিয়া জানতে চাইলে সব খুলে বললো।
লামিয়া রেগে সেখানে গেলো। সাহস কতো তাঁর প্রাণ প্রিয় জমির থেকে আবার মাটি নিতে এসেছে।
ভেবেই আরো রেগে গেলো লামিয়া।
পিছন পিছন তায়েব, তায়েবা আর মাহিরও।
লামহা চোখের চশমা টেনে বললো – তোমরা টেনশন করো না। আর দেখো, চলে এসেছে আমাদের বাড়ির বিখ্যাত তিন বিচ্ছুদের সর্দারা।
হামিদা হেসে বললো – এইবার তো তাহলে আমরাই জিতবো।
রাশেদা বেগম বললেন – চার মাথা যখন এক হয়েছে, তাহলে আর কারোর কিছু করতে হবে না।
বলেই সবাই সামনে তাকালো।
রাহিম আজমেরীর কথা না শুনে মাটিতে কোদাল দিয়ে কোপ দিতেই লামিয়া কোদাল ধরে ফেললো।
লামিয়া কপাল কুঁচকে বললো – চাচা, আপনে খুব ভালো করে জানেন এটা আমাদের জায়গা। তাহলে সবসময় এইখান থেকে মাটি কেটে নেন কেনো?
রাহিম বললো – এহ, আইছে ওগো জায়গা। কান খুইলা শুন, এইডা আমগো জায়গা। আব্বা, আপনে কিছু কন না কেনা?

বেলাল সাহেব লুঙ্গি তুলে বললো – ওই ছেড়ি, ওই, এইডা আমগো শিকদার পরিবারের জমি মানে আমগো জমি।
পাশ থেকে মাহির বললো – আপনাদের জমি, তার প্রমাণ কী?
রাহিম বললো – দেখছেন আব্বা, দেখছেন ওরা প্রমাণ চায়।
বলেই শার্টের হাতা গুটিয়ে আবার বললো – আব্বা, আপনে খালি আদেশ দেন, এইহানে লা*শ ফালায় দিমু।
আজমেরী বেগম তেড়ে বললেন – ওরে আমার গোলাম রে! তুই লা*শ ফালবি আর আমরা চইয়া দেহুম? আয় খালি একবার, এই কোদালের বাড়ি একটাও মাটিতে পরবো না আয় তুই।
কী, তুই আমার পোলারে কোদাল দিয়ে মারবার চাস?
পিছন থেকে বেলাল সাহেবের স্ত্রী রাহিমা বেগম বললেন। তার স্ত্রী অনেক মোটা শরীরের ভারে হাঁটতে পারে না। তাই সবাই আলুর বস্তা বলে সম্বোধন করে তাকে।

আজমেরী বেগম বললেন – ও আল্লাহ! ঝগড়া করবার পারবি না দেইখা কী এখন এই আলুর বস্তারে মাঠে নামাবি? এই মুটকি, সর সর সর কইলাম সইড়া দাঁড়া। আমগো জমির কষ্ট হইতাছে।
রাহিমা বেগম অনেক কষ্টে এগিয়ে এসে বললেন – এই বুড়ি, কথা হিসেব কইরা ক, কিন্তু কইলাম।
আজমেরী বেগম বললেন – ইউ ইসটুপিট! ইউ যতো নষ্টের গোড়া! তোর জামাই আর তোর পোলার কত্তো বড় সাহস, আমার জমিতে আইয়া মাটি তুইল্লা লয়! সাহস কতো!
রাহিমা বেগম বললেন – ওই, তোরা কী মনে করোস তেজ তোগো আছে, আমগো নাই? শোন, বেশি কিছু করমু না, এমনে ধরুম, আর পায়ের নিচে হালামু।
এইযে আমার এই শরীরডা দেখছোস, এই শরীর দিয়া এমন এক যাতা দিমু, গত কইরা পেটের সব বাহির হইয়া যাইবো।

আজমেরী বেগম বললো – আহারে, ওই যাতা দিবো আর আমি আঙুল চুষুম! তোর ওই পেট ফুটা কইরা সব তেল বাহির কইরা বাজারে বেইচা দিমু।
রাহিমা বেগম বললেন – ওরে আল্লাহ গো আল্লাহ, ওই আমার পেট ফুডা করবো আর আমি চাইয়া দেহুম? ওই বুড়ি, ওই মাথায় তুইল্লা আমি যদি তোরে একটা আছাড় মারি, তুই কই যাইয়া পরবি? হিসাব আছে!
লাস্টের কথা হাত ঝুলিয়ে বললো।

আজমেরী বেগম রেগে বললো – এই মুটকি, হাত নাড়ায় কথা কবি না। হাত একবারে ভাইঙা হালামু! তোর জামাই আর পোলারে সাবধান কইরা দিস, কইলাম। আবার যদি আমগো জমির মাটি নিবার আহে, তাইলে ঠ্যাং কাইট্টা হাতে ধরায় দিমু। ওই ঠ্যাং নিয়া আর হাটবার পারবি না। ওকে থ্যাংক ইয়ু।
রাহিমা বেগম চেঁচিয়ে উঠলো – আহারে, আমার পোলার আর জামাইয়ের ঠ্যাং কাটবো, আর আমি বইয়া থাকমু? গুষ্টি সুদ্ধা সবগুলার মা*মলা দিমু। ইউ আর কালপ্রিট।
কালপ্রিট কথাটা আজমেরী বেগম বুঝে নাই, তাই সে রেগে বললো – তুই কি কইলি, কালকে আমার পিঠে কিলাবি? আর আমি বইয়া থাকমু? তোর মুখ ধইরা আমি ভাইঙা দিমু। এই জমি থেইক্কা তোরা কোমনে মাটি নেস, আজকে আমি দেইখা ছাড়ুম। ইউ আর আডারেসটিমেট।
রাহিমা বেগম হোহো করে হেসে বললো – মূর্খ বেডি, আই উল কি*ল ইউ।
আজমেরী বেগম বললো – আই লাভ হিম।
রাহিমা বেগম বললো – আই হেইট ইউ।
আই হেইট ইউ।

রাহিমা বেগমের সাথে তাল মিলিয়ে তার ছেলে বললো – হ হ, আই হেইট ইউ।
আজমেরী বেগম লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবার দিকে তাকিয়ে বললো – তোরা দাঁড়ায় দাঁড়ায় কি দেখোস? তোরা তোর দাদীর প্রতিশোধ নিবি না?
লামিয়া এগিয়ে এসে বললো – আহা দাদী, তুমি এমন গরীব ছোট্ট লোকদের সাথে মুখ লাগাচ্ছো কেনো? ওরা তো ছোট্ট লোক, দেখো না, বারবার অন্যের জমি নিজের নামে করে। গরীব তো।
তায়েব এগিয়ে এসে বললো – ঠিকই তো দাদী, ওই গরীব ছোট্ট লোকদের সাথে আমাদের কী যায় বলো।
রাহিম রেগে বললো – এই এই তোরা কাগো ছোট্ট লোক কস? ছোট্ট লোক হইলো তোরা।
মাহির শান্ত গলায় বললো – আমরা তোদের মতো ছোটলোকি করে অন্যের জিনিস টানাটানি করি নাকি?
রাহিম দাঁত চেপে বললো – দেখ, তোরা বেশি কথা বলিস না কিন্তু। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমার মা রে দেখছোস না? তোগো উপর ঢিলা মাইরা ফালায় দিমু।
তায়েবা হো হো করে হেসে উঠলো – ঢিলা মারার আগে তুই উঁচা করতে পারিস কি না তাই দেখি। পরে দেখুম ঢিলা মারার সময় তোর মা তোর উপরে পড়ে গেলো আর তুই শহিদ হয়ে গেলি।
পাশ থেকে মাহির খিলখিল করে হেসে বললো – ঠিকই তো বলেছিস, পরে চারদিকে ব্রেকিং নিউজ হবে – শিকদার বাড়ির ছেলে, বেলাল শিকদারের একমাত্র ছেলে রাহিম শিকদার আলুর বস্তা অন্যের উপর ঢিল মারতে যেয়ে সে বস্তার নিচে নিজেই চাপা পড়ে শহিদ হয়ে গেছে।

সবাই হেসে উঠলো।
রাহিম কিছু না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো – আব্বা, আপনে আম্মা রে কম কম খাওয়াইবেন এখন থেইক্কা। বলেই ভৌ ভৌ করে কান্না করতে করতে দৌড়ে চলে গেলো।
পিছন থেকে সবাই আবার হেসে উঠলো।
রাহিমা বেগম হাত ঝুলিয়ে বললো – তোদের আমি দেখে নিবো। বলেই তার ভারী শরীর টেনে আস্তে আস্তে চলে গেলো। সাথে বেলাল সাহেবও সরে গেলেন।
আজমেরী বেগম খুশিতে নাতি-নাতনিদের কাঁধে হাত রেখে বিজয় উল্লাস করতে করতে বাড়ির দিকে চলে গেলেন।
নিজের রুমে গিয়ে লামিয়া লম্বা শাওয়ার নিয়ে খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। সে আজ ভীষণ ক্লান্ত। চোখ বুজতেই সকালে কিছু অতীত ভেসে উঠতেই লামিয়া ফট করে তাকিয়ে উঠে বসলো। পাশ থেকে পানি নিয়ে খেয়ে হাতের উল্টো দিক দিয়ে মুখ মুছে গা এলিয়ে দিলো বিছানায়।

অফিসে বসে একরাশ বিরক্তি নিয়ে বসে আছে লাবিব। দেশে এসেছে এত বছর পর, ভেবেছিল একটু ঘুরবে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবে। কিন্তু তার বাবা জোর করে অফিসের সব দায়িত্ব তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। এই নিয়ে লাবিব ভীষণ বিরক্ত।
সব কাজ শেষ করে ক্লান্ত শরীরে বাড়ির পথে রওনা দিলো।
বাড়ি ফিরেই ফ্রেশ হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিল। হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। ফোন কানে দিতেই তার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রেখে ঘড়ির দিকে তাকালো – বিকেল চারটা ত্রিশ বাজে। মনে হলো একটু ঘুমালে ভালো লাগবে। কিছু না ভেবেই সে ঘুমিয়ে গেলো।
ওদিকে, ঘুম থেকে উঠে লামিয়ার কোনো কিছু ভালো লাগছিল না। বিরক্ত মুখে সে এক মগ চা বানিয়ে নিলো। হাতে গিটার নিয়ে ছাদে উঠে গেলো শেষ বিকেলটা উপভোগ করার জন্য।
ছাদে গিয়ে দেখলো, তার আগেই শারমিন, লামহা, হামিদা, মাহির, তায়েব, তায়েবা, ফাহিম আর হাফসা সবাই বসে আছে।

লামিয়ার হাতে গিটার দেখে হাফসা অবাক হয়ে বললো – তুমি গিটার বাজাতে পারো?
হামিদা গর্ব করে বললো – শুধু গিটার না, আমাদের লামিয়া খুব ভালো গানও গাইতে পারে।
হামিদার কথা শুনে সবাই খুশিতে চিৎকার করে উঠলো – তাহলে প্লিজ একটা গান শুনাও!
লামিয়া হেসে মাথা নাড়লো – ঠিক আছে।
মাহির হাত চাপড়ে বললো – তাহলে আজকে ছোট্ট খাটো একটা গানের আসর জমুক, কী বলো?
সবাই একসাথে বললো – হ্যাঁ!
তায়েবা আর লামহা নিচে গিয়ে জুস, চিপস, চানাচুর নিয়ে এলো। সবাই মিলে গোল হয়ে বসলো।

শারমিন হাসিমুখে বললো – তাহলে শুরু করা যাক?
লামিয়া হেসে গিটারে টুং টাং সুর তুলে গান ধরলো –
আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা
আর কতকাল আমি রবো দিশেহারা
রবো দিশেহারা…
(বাকি গান নিজ দ্বায়িত্বে শুনে নিবেন )
গানের আসর জমে উঠলো। সবাই মুগ্ধ হয়ে লামিয়ার গান শুনছিল।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪

ওদিকে, লাবিব তখনও ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ এত চেঁচামেচি আর গান শুনে বিরক্ত হয়ে ছাদের দিকে পা বাড়ালো।
কিন্তু চিলেকোঠার কাছে এসেই তার সব রাগ উধাও হয়ে গেলো। বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
অবাক হয়ে লামিয়ার গান শুনছিল। মিনমিন করে বললো – এই মেয়ে আবার গান শিখলো কবে থেকে?
তারপর কিছু একটা ভেবে ঠোঁটে মুচকি হাসি এঁকে লামিয়ার গান শুনতে লাগলো আড়াল থেকে।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬