Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭ (২)
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

আবরার রুম থেকে বের হতেই চোখ মুখে হিংস্রতা প্রকাশ পেলো।
ধীর পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসতেই আবরারের পাশ কাটিয়ে একটি গুলি চলে গেলো।
আবরার দ্রুত সরে সামনে তাকাতেই দেখলো একটি কালো হুডি পরা লোক দৌড়ে নিচের দিকে যাচ্ছে।
আবরার দৌড়ে লোকটির পিছু নিলো। দরজার কাছে লোকটি আসতেই আবরার লোকটির পায়ে শুট করে দিলো। লোকটি ব্যাথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। আবরার এগিয়ে এসে লোকটির মাস্কে হাত বারাতেই লোকটি কোমড় থেকে ছুড়ি বের করে আবরারের হাতে আঘাত করে বসলো।
আবরার দূরে ছিটকে সরে গেলো। লোকটি উঠে পালিয়ে যেতেই আবরার পিছন থেকে লোকটির হুডি টেনে ধরলো। লোকটি ছাড়া পাওয়ার জন্য ছোটাছুটি করতে লাগলো।

এক প্রকার ধস্তাধস্তি শুরু হলো তাদের মধ্যে। লোকটি সুযোগ বুঝে আবরারের হাতে আবারো এক জায়গায় আঘাত করে বসলো। আবরার ব্যাথায় ছেঁড়ে দিতেই লোকটি পালিয়ে গেলো।
আবরার দৌড়ে লোকটির পিছু ছুটলো কিন্তু আর দেখা পেলো না। চারদিকে ঝুম বৃষ্টি। অন্ধকারে ঢাকা।
লোকটিকে না পেয়ে আবরার ফিরে এলো। দরজা লাগিয়ে ভালোমতো আশেপাশে তাকালো।
হাত থেকে রক্ত টুপটপ করে পড়ছে। উপর থেকে কিছুর শব্দ পেতেই। আবরার দৌড়ে লামিয়ার রুমের সামনে আসতেই দেখলো দরজা খোলা। আবরার দ্রুত রুমে ঢুকলে দেখলো লামিয়া গালে হাত রেখে ঘুমিয়ে আছে।
বারান্দার দরজা খোলা। আবরার দৌড়ে বারান্দায় এগিয়ে যেতেই দেখলো কালো হুডি পরা লোকটা গাড়িতে করে উঠে চলে গেলো। আবরার অগ্নি চোখে তাকিয়ে রইল লোকটির দিকে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

লোকটির গাড়ি অদৃশ্য হতেই আবরার আবার রুমে ফিরে এলো। সোফায় বসে গেঞ্জি খুলে হাতে ড্রেসিং করে নিলো। সামনে তাকাতেই দেখলো ঘুমন্ত তার প্রেয়সীকে। আবরার আস্তে ধীরে এগিয়ে লামিয়ার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসে লামিয়ার মুখের সামনে থাকা এলোমেলো চুল গুলো কানে গুঁজে দিয়ে পাশ থেকে পানির গ্লাসে হাত বারাতেই একটা চিরকুট দেখতে পেলো। ভ্রু কুঁচকে চিরকুট খুলে পড়তেই মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো।
সামনে ফিরে ঘুমন্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো – এই শুভ্রের প্রাণ থাকতে শুভ্রের দিলের রাণীর কেউ ক্ষতি করতে পারবে না।
বলেই পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখলো রাশেদের অনেক গুলো মিসকল। তাড়াতাড়ি করে রাশেদকে কল ব্যাক করলো।
রাশেদ মনে হয় তার অপেক্ষায় ছিলো। ফোন দিতেই রাশেদ রিসিভ করে চিন্তিত গলায় বললো – শুভ্র তোরা ঠিক আছিস?
শুভ্র কঠিন কন্ঠে বললো – একটু আগে হামলা হয়েছে, অন্ধকারে থাকায় দেখতে পারিনি।

– লা.. লামিয়া ঠিক আছে? ওর কিছু হয়নি তো?
চিন্তিত হয়ে বেশ তাড়াতাড়ি করে বললো রাশেদ।
– আমার জান দিয়ে হলেও আমি তোর বোন কে রক্ষা করবো। আমি থাকতে তোর বোনের কোনো ক্ষতি হতে দিবো না। নিশ্চিন্তে থাক।
রাশেদ হালকা হেসে কিছু কথা বলে ফোন রাখলো।
লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলো পাশে লামিয়ার ফোনে গ্রুপ থেকে কল আসছে।
শুভ্র ভ্রু কুঁচকে রিসিভ করলো। অন্ধকারে মাহির তায়েব তায়েবা শুভ্র কে দেখতে পেলো না তারা লামিয়া ভেবে বসলো।
তায়েবা তাড়াতাড়ি করে বললো – তুই পরিক্ষা শেষ করে কোথায় গিয়েছিস? আর বাড়ি আসিস নি কেনো কোথায় আছিস তুই।

শুভ্র কোনো কথা বললো না।
মাহির ভ্রু কুঁচকে বললো – মুখে কী কুলু এটে বসেছিস কোথা বলিস না কেনো? আর অন্ধকার কেনো?
শুভ্র এবার আস্তে ধীরে মোমের আলোতে এগিয়ে গেলো।
মোমের আলোতে শুভ্র কে দেখে তায়েব তায়বা মাহির ভরকে গেলো।
তায়েব শুভ্র কে দেখে বললো – আবরার ভাই আপনি ? লামিয়ার ফোন আপনার কাছে কেনো? আর লামিয়া কোথায়?
আবরার গম্ভীর গলায় বললো – এতো রাতে এমন পেঁচা মতো না ঘুমিয়ে বসে আছো কেনো তোমরা? যাও ঘুমাতে। তোমাদের পেঁচার সর্দার ঘুমাচ্ছে। বলেই ব্যাক ক্যামেরাতে লামিয়াকে দেখিয়ে বললো – ঘুমাও আর এখন আমাদের ও ঘুমাতে দেও বলেই ফোন কেটে দিয়ে ঠোঁট টিপে হেসে সোফায় শুয়ে পড়লো।
ওইদিকে মাহির তায়েব তায়েবা মনে হলো শক খেয়েছে।

তায়েব হা করে বললো – লামিয়া আবরার ভাইয়ের সাথে কী করছে?
মাহির চিন্তিত হয়ে বললো – এটা কী দেখলাম?
লামিয়া আবরার ভাইয়ের সাথে এক রুমে? আমরা কি ঠিক দেখলাম?
তায়েবা আতংকে বললো – তোরা চিন্তা করছিস এক রুমে আবরার ভাইয়ের সাথে কী করছে আর আমি চিন্তা করছি লামিয়া শার্ট প্যান্ট পড়ে আছে আ…আররর আবরার ভাই খালি গাঁয়ে কেনো?
তায়েবার কথায় মাহির তায়েব চমকে বললো – ঠিক বলেছিস, লামিয়া তো এসব জামা পড়ে না তাহলে?
তিনজন কিছু একটা ভেবে এক সাথে চিৎকার করে উঠলো
– না আমি বিশ্বাস করি না, এএএএ হতে পারেএএ নাআআআ।

জানালার পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো মুখে এসে পড়তেই লামিয়া চোখ মুখ খিচে নিলো।
পিটপিট করে তাকাতেই দেখলো সকাল হয়ে গিয়েছে। শোয়া থেকে উঠে বসতেই মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো।
কালকে রাতে পানি খাওয়ার পর সে আর চোখ খোলা রাখতে পারেনি। ঘুমের রাজ্যে পারি জমিয়েছিলো সে।
তারপর কি হয়েছে তার মনে নেই।
চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই চোখ বড় বড় করে ফেললো।
ওভাই সকাল সকাল এতো লোভনীয় জিনিস কী না দেখালে হতো না।
শুভ্র গালি গায়ে শুয়ে আছে।
লামিয়া শুকনো ঢোক গিলে, শুকনো ঠোঁট জিহ্বা দিয়ে ভিজালো।
ও আমার আল্লাহ, এই ছেলে এতো হট কেনো। ও গড একবার মিলা দে।
এসব ভাবতে ভাবতে বিছানা থেকে উঠে এক পা এক পা করে শুভ্রের সামনে যেয়ে দাঁড়ালো।
হঠাৎ চোখ গেলো তার হাতের দিকে। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে ফ্লোরে বসে ব্যান্ডেজের দিকে হাত বাড়াতেই শুভ্র ঘুমের ঘোরেই লামিয়ার হাত খপ করে ধরে ফেললো। লামিয়া চমকে উঠলো।

শুভ্র লামিয়ার হাত তার বুকের সাথে চেপে ধরে ঘুমিয়ে রইল। লামিয়ার অস্থির লাগছে। হাত ছুটানোর জন্য ছটফট করতেই শুভ্র পিটপিট করে তাকাতেই দেখলো লামিয়া বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
তা দেখে শুভ্র বাঁকা হেঁসে ঘুমের ভান করে হাত বাড়িয়ে লামিয়ার ঘাড়ে টেনে মুখের সামনে নিয়ে আসলো।
লামিয়া চোখ বড় বড় করে ফেললো। শুভ্র চোখ বন্ধ করেই লামিয়ার ঠোঁটে আচমকা চুমু দিয়ে ছেঁড়ে দিলো।
আচমকা এমন হওয়াতে লামিয়া স্তব্ধ হয়ে বসে রইল ফ্লোরে। ঠোঁটে হাত দিয়ে হা করে তাকিয়ে আছে শুভ্রের দিকে।
শুভ্রের কোনো হুশ নেই সে দিব্যি ঘুমাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর লামিয়ার হুশ আসতেই কেঁপে উঠলো। চোখে তার পানি জমে এলো।
রেগে শুভ্রের দিকে তাকালো। পাশ থেকে পানির গ্লাস নিয়ে শুভ্রের মুখে ছুঁড়ে মারতেই শুভ্র ধরফর করে উঠলো। লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলো সে অগ্নিকান্ডের মতো বসে আছে তার দিকে তাকিয়ে। শুভ্র বেশ ভালো করেই বুঝতে পেরেছে সে কেনো রেগে আছে। মনে মনে হাসলো। তারপর গম্ভীর গলায় বললো
– কী হয়েছে মিস, আপনি আমার উপর পানি নিক্ষেপ করলেন কেনো?
শুভ্রের কথা শুনে লামিয়া তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।
রেগে চিৎকার করে উঠলো

– আপনাকে এতো বড় স্পর্ধা কে দিয়েছে আমাকে স্পর্শ করার?
– মানে আমি আপনাকে কখন স্পর্শ করেছি? ইনোসেন্ট ফেস নিয়ে বললো শুভ্র।
তা শুনে লামিয়া রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললো
– একটু আগে আ…আপনি আমাকে স্পর্শ করেছেন।
– কোথায় স্পর্শ করেছি? ভ্রু কুঁচকে বললো শুভ্র।
– আ…আমার ঠোঁটে চুমু দিয়েছেন আপনি।
– কীহ? এসব কী বলছেন? দেখুন মিস, আমি ভদ্র আর ভার্জিন একটা ছেলে, আমার ঠোঁট থেকে শুরু করে সব ভার্জিন। আমার মনে হয় আপনি আমার ঠোঁটের প্রতি ইন্টারেস্ট তাই হয়তো স্বপ্ন দেখেছেন আমি আপনার ঠোঁটে চুমু খাচ্ছি। আর এসব স্বপ্ন দেখে আপনি
শুধু শুধু আমার ঠোঁটের ভার্জিনিটি নষ্ট করতে চাইছেন?
শুভ্রের কথা শুনে লামিয়ার রাগ আরো তিরতির করে বেরে গেলো, সে স্বপ্ন নাকি দেখেছে আবার নাকি তার ঠোঁটের প্রতি ইন্টারেস্ট সে। আর তার ঠোঁটের নাকি ভার্জিনিটি নষ্ট করতে চাইছে।
রাগে লামিয়া নাক বরাবর ঘুষি মেরে বসলো। শুভ্র নাকে হাত দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
সে ভাবতেও পারেনি লামিয়া তাকে আক্রমণ করে বসবে।
লামিয়া গজগজ করতে করতে বললো

– আপনার ঠোঁট কেন? আপনার শরীরের সবচেয়ে দামি জিনিসের প্রতিও আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। এবার নাকে মেরেছি, দ্বিতীয়বার এইরকম স্পর্ধা দেখালে এমন জায়গায় মারবো দাঁড়ানোর শক্তি পর্যন্ত পাবেন না।
বলেই কালকের জামা কাপড় নিয়ে বাথরুমে চলে গেলো।
শুভ্র হা করে ভাবতে লাগলো, তার শরীরের সবচেয়ে দামি জিনিস মানে, আর এমন করলে দ্বিতীয়বার কোথায় মারবে?

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৭

শুভ্র কিছু একটা ভেবে হেসে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলো ফর্সা নাক লাল টুকটুকে হয়ে গেছে।
– উফ, নাক আমার শেষ। বাপরে, হাত নাকি হাতুড়ি।
লামিয়ার চোখের পানি তখন চিকচিক করছিলো। তা ভেবে শুভ্র হেঁসে উঠলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৮