Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৭

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৭

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৭
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

সময়টা রাত এগারোটা
একের পর এক ড্রিংক করে যাচ্ছে মিলি। তার সামনে মাথা নিচু করে ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে মুচকি হাসছে শুভ্র। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে আছে লামিয়ার মারামারির ভিডিও। ভার্সিটির প্রথম দিনের সেই মারামারি ভিডিও পেয়েছে আজ শুভ্র তা এই নিয়ে দশবারের উপড়ে দেখে ফেলছে। ভিডিও দেখে বেশ হাসি পাচ্ছে তার, যে মেয়ে আগে একটা পিঁপড়া মারতে ভয় পেতে সে মেয়ে এমন জংলির মতো মানুষ পেটাচ্ছে।
শপিং মল থেকে শুভ্র আর মিলি শুভ্রর বাড়িতে এসেছে কারণ মিলি বাংলাদেশে আশার পর থেকে শুভ্রর বাড়ি থাকছে। আর শুভ্র ইসলাম বাড়িতে।

মিলি ড্রিংক করে করে পুরোই মাতাল হয়ে গিয়েছে। নেশা বেশ চড়েছে আজ। সামনে তাকিয়ে শুভ্র কে দেখলো সে এখনো ফোনেই আটকে আছে। আসার পর থেকে ফোন থেকে চোখ সরছে না তাঁর।
মিলি তা দেখে বেশ বিরক্ত হয়ে, চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এলোমেলো পায়ে শুভ্রর গলা পেঁচিয়ে ধরতেই শুভ্র ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিলো। যার কারণে মিলি ফ্লোরে পড়ে গেলো।
শুভ্র রাগে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

– একদম সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করবে না। নয়তো জানে পুঁতে ফেলবো। শপিং মলে কিছু বলিনি দেখে এখন যে বলবো না তা নয়। আমাকে তুমি বেশ ভালো করে চিনো আমি কি জিনিস?? যতোটুকু কাজ দেওয়া হয়েছে ঠিক ততটুকু করবে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে এর ফল খারাপ হবে। দ্বিতীয়বার আমাকে স্পর্শ করতৈ আসলে ওই হাত টুকরো টুকরো করে দিবো।
বলেই শুভ্র পাশ থেকে পানির বোতল নিয়ে নিজের শরীরের ঢেলে দিয়ে শরীর ঝাড়া দিলো এমন ভাবে যেনো গায়ে ময়লা লেগে গিয়েছে।
এমন অপমানে মিলি ছলছল চোখে তাকালো শুভ্রর দিকে। চোখ দিয়ে দু ফোঁটা বেঁয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো।
শুভ্র তাঁর দিকে ফিরে না তাকিয়ে তিহা কে বলে বেড়িয়ে গেলো বাড়ি থেকে।
তিহা মিলি কে ফ্লোর থেকে উঠাতেই মিলি তিহাকে সরিয়ে দিলো, চোখ মুখ লাল হয়ে উঠেছে তার। তিহা মিলির অবস্থা বুঝতে পেরে দ্রুত পকেট থেকে একটা ইনজেকশন মিলির হাতে পুশ করে দিলো।
মিলি আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো।

বারান্দায় বসে গেম খেলছে লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা। দেখে মনে হচ্ছে বেশ কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। বাড়ির সবাই কিছুক্ষণ আগে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
তাঁরাই পেঁচার মতো শুধু জেগে আছে। হঠাৎ বাগানের পিছনের গেট খোলার শব্দ শুনে কান খাঁড়া করলো চারজন কিন্তু চোখ তাদের ফোনে।
পুরাতন লোহার গেট হওয়ায় গেট খুললে বেশ শব্দ হয়।
আস্তে আস্তে শব্দ বাড়াতেই চারজন ফোনে থেকে চোখ সরিয়ে একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করলো।
তারপর বারান্দা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখলো কেউ কালো রঙের হুডি পড়ে বাগানে প্রবেশ করলো। তা দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে দ্রুত যে যার ঘরে চলে গেলো। লামিয়া তাঁর খাটের নিচে থেকে হকি বের করে বেরিয়ে আসলো রুম থেকে। মাহির হাতে ক্রিকেট ব্যাট, তায়েব ক্রিকেট স্ট্যাম্প আর তায়েবা একটা দা নিয়ে দৌড়ে বের হলো রুম থেকে। তায়েবার হাতে দা দেখে লামিয়া, মাহির, তায়েব ভ্রু কুঁচকে তাকালো তার দিকে।
মাহির পাশ থেকে বললো

– সব ঠিক আছে দা কেনো??
তায়েবা মাহিরের কথা শুনে বিরক্ত হয়ে বললো
– ওই চোরের গলা আলাদা করে দিবো তাই।
এখন চল তাড়াতাড়ি।
কেউ আর কিছু না বলে দ্রুত দৌড়ে বাহিরে আসলো।
এসে দেখলো বাগানে কালো হুডি পড়া লোকটা বাগানের থেকে হাসনাহেনা ফুল ছিঁড়ে সেটা পকেটে গুঁজে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির তাকে অনুসরণ করে তাঁর পিছন পিছন এগিয়ে গেলো। হুডি পড়া লোকটি সোজা লামহার বেলকনির সামনে এসে দাঁড়ালো।
লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির চুপচাপ অন্ধকারে দেখতে লাগলো লোকটা কি করে।
হুডি পড়া লোকটি পাশ থেকে মই এনে লামহার বেলকনি বরাবর রাখলো।
তা দেখে তায়েব ফিসফিস করে বললো

– সব ই বুঝলাম কিন্তু চোরটা লামহার ঘরের বেলকনিতে মই রাখলো কেনো??
পাশ থেকে মাহির আস্তে করে বললো
– ঠিকই তো চোর কি লামহার ঘর থেকে চুরি শুরু করবে নাকি??
পাশ থেকে তায়েবা বললো
– যেখান থেকেই চুরি করুক না কেনো এর মৃত্যু আমার হাতেই আজ হবে।
লামিয়া বাঁকা হেঁসে বললো
– এ কোনো সাধারণ চোর নয় লা, এ হলো প্রেমিক চোর এর ক্ষমতা সাংঘাতিক।
তায়েব বললো
– কেমন সাংঘাতিক??
লামিয়া নিচের ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বললো
– খুব সাংঘাতিক আর এর শাস্তি পেতে হবে। রাত বেরাতে প্রেম চুরি ইসলাম বাড়িতে নট এলাউ।
লামিয়ার কথা তখন না বুঝতে পারলেও এখন তাঁরা তিনজন বেশ ভালো মতোই বুঝতে পেরেছে। তাই বুঝতে পেরে বাঁকা হেঁসে বলে উঠলো আব তেরা কেয়া হোগা কালিয়া?
লামিয়া দাঁতের পাটি বের করে বললো

– ১,২,৩
– চোর চোর, ও চাচা, ও চাচি, ও দাদা,ও দাদী, ও আম্মা,ও আব্বা আমগো বাড়ি চোর আইছে গোওও
আমগো সব চুরি হইয়া গেলো গোওওওও।
গানের মতো সুরে সুরে বলে উঠলো চারজন।
গানের মতো সুরে সুরে চেঁচানো শব্দ শুনে হুডি পড়া লোক হকচকিয়ে উঠলো। পিছনে তাকাতেই হঠাৎ তার পশ্চাদ্দেশে তায়েব স্ট্যাম্প দিয়ে এক বারি বসিয়ে দিতেই হুডি পড়া লোকটি ও বাবাগো বলে চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
তায়েব, মাহির আবিরের পশ্চাদ্দেশে আরো চার পাঁচ বারি বসিয়ে দিলো।
তায়েবা তার হাতে দা উপরে তুলে চেঁচাতে লাগলো দে ব্যাটাকে, আরো দে, খুব করে দে ব্যাটাকে, আর দুটো বেশি দে।

তাদের এমন চেঁচামেচি শুনে জ্যাকি দৌড়ে এসে ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো।
এদিকে আবির ও বাবা ও মা বলে চিৎকার করতেই আছে।
সবেই গেট দিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করছিলো শুভ্র বাগানে থেকে এমন চেঁচামেচি শুনে দৌড়ে সেখানে গিয়ে তাদের এ অবস্থায় দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো।
ইসলাম বাড়ির চারজনের গলা নয়তো যেনো পাড়ার মসজিদের মাইক। তাদের এমন চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের সবাই লাঠি ঝাটা নিয়ে বের হয়ে খুঁজতে লাগলো কোথা থেকে এমন চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ আসছে।
ওইদিকে তাদের চিৎকার শুনে ইসলাম বাড়ির সবাই দৌড়ে বাগানের দিকে দৌড়ে আসলো। এদিকে আজমেরী বেগম ফেসপ্যাক মুখে লাগিয়ে সবসময় ঘুমায়। আজকেও ফেসপ্যাক লাগিয়ে ঘুমিয়ে ছিলো চোর চোর চিৎকার শুনে আজমেরী বেগম উঠে দ্রুত আলমারি খুলে একে একে সব গয়না পড়ে ফেললো।
তারপর তাড়াতাড়ি করে বাগানের দিকে দৌড় দিলো।

এদিকে খান বাড়ির লোকজন ও লাঠি নিয়ে দৌড়ে এসেছে ইসলাম বাড়ি।
আমির সাহেব রেগে বললেন
– চোর এসেছে কোথায় চোর। ওর পিছনে মেরে চামড়া তুলে ফেলবো।
বলে দৌড়ে গেলেন বাগানের দিকে।
তায়েব হুডি পড়া লোকটার হাত ধরে বললো
– ইয়ে হাত মুঝে দে দো চোর।
পাশ থেকে তায়েবা তায়েবকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে হুডি পড়া লোকটি মাথা ধরে দা উপরে তুলে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো

– হে নর পিশাচ আমার হাতেই তোমার মৃত্যু নিশ্চিত।
তোমহারা ইয়ে সার মুঝে দে দো চোর।
হুডি পড়া লোকটি তায়েবার হাতে দা দেখে ভয় পেয়ে অনবরত মাথা নাড়াতে লাগলো। তায়েবা ভিলেনের মতো হো হো করে হেঁসে উঠলো।
হুডি পড়া লোকটি মাথা নেড়ে বললো
– কাভি নেহি, কাভি নেহি।
তায়েবা তা দেখে সয়তানি হাঁসি দিয়ে বললো
– প্রস্তুত হও মৃত্যুর জন্য। আজ আমি চোর বোলি দিবো তারপর এর হাড্ডি দিয়ে আমি রানী অরুন্ধতীর মতো
একটা অস্ত্র বানাবো। হা হা হা।
পাশ লামিয়া, তায়েব, মাহির এক সাথে সুর তুলে বলে উঠলো

– জয় জয় মা তায়েবা, জয় জয় মা তায়েবা, জয় জয় তায়েবা
শুভ্র দাঁড়িয়ে তাদের কান্ড দেখছে। সে হাসবে নাকি তাদের আটকাবে সে তা বুঝতে পারছে না।
হঠাৎ পিছন থেকে আনিসুল সাহেবের কন্ঠ শুনে সবাই পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখলো আশেপাশের সবাই এসে উপস্থিত হয়েছে তাদের বাগানে। তায়েব, তায়েবা, মাহির, লামিয়া থেমে গেলো।
তায়েবার হাতে দা দেখে জাহিদ হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তাঁর দিকে।
হুডি পড়া লোকটি মাটিতে শুয়ে চুপসে আছে। ইসলাম বাড়ির চার বিচ্ছুদের হাতে পড়ে বেচারি আধা মরা হয়ে গিয়েছে। এখন যদি তাদের হাতে উত্তম মাধ্যম খায় তাহলে বেচারি আজকে ইন্নিনিল্লাহ হয়ে যাবে। ভেবেই হুডি পড়া লোকটি চুপসে আছে।
এদিকে তায়েব,তায়েবা,মাহির,লামিয়া বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাঁরা চোর ধরেছে।
তাদের আনিসুল সাহেব চারজনের দিকে তাকিয়ে গর্বের সাথে বললো

– আজ আমার অনেক গর্ব হচ্ছে কারণ ইসলাম বাড়িতে চার বাঘ আর বাঘিনী জন্ম দিয়েছি আমরা।
পাশ থেকে তায়েব খুশিতে গদগদ করে বললো
– আমিও গর্ভবতী হচ্ছি দেখো খুশিতে আমরা সবাই গর্ভবতী হয়ে গিয়েছি।
তায়েবের কথা শুনে মাহির তায়েবের পায়ে পারা দিলো।
ভীষণ এক্সাইটেড হয়ে যে সে উল্টোপাল্টা কথা বলে ফেলছে সে এখন বুঝলো।
তায়েব থতমত খেয়ে তার বাবার দিকে তাকাতেই দেখলো তিনি চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
তায়েবের কথায় পাত্তা না দিয়ে আমির সাহেব রেগে হুডি পড়া মানুষটার দিকে তাকিয়ে বললো

– চুরি করার শখ তাই না অনেক দাঁড়া আজকে চুরি করাচ্ছি। তোমাকে মেরে তোমার মা বাবাকে ডাকবো দাঁড়াও।
বলেই লোকটির পশ্চাদ্দেশে আরো কয়েকটা বারি বসিয়ে দিলো।
ওই দিকে আজমেরী বেগম ফেসপ্যাক মুখে লাগিয়ে সমস্ত গয়না গাটি পড়ে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে আনিসুল সাহেবের পিছনে।
আমির সাহেব ইচ্ছে মতো পিটিয়ে হুডি পড়া লোকটির মুখ থেকে মাস্ক টেনে খুলে তাকিতেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। সে কি ঠিক দেখছে নাকি মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ঘুমের চোখে ভুল দেখছে।
তাই চোখ গুলো ভালো ভাবে কচলিয়ে আবার তাকাতেই দেখলো হুডি পড়া লোকটি আর কেউ নয় তার ই বড় ছেলে আবির। এতোক্ষণ নিজের ছেলেকেই নিজে এভাবে পেটালো।
আমির সাহেব ঘুরে সামনে তাকাতেই দেখলো সবাই স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। তাদের দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা ৪৪০ ভোল্টের ঝাটক্কা খেয়েছে।

সবাই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।
পাশ থেকে মাহির, তায়েব, তায়েবা, লামিয়া মুখ টিপে হাসছে।
এদিকে আবিরের লজ্জায় মরি মরি অবস্থা।
বিয়ে হওয়ার পরও বউকে নিয়ে না ঘুমিয়ে একা ঘুমাতে হয় এই দুঃখে বেচারা ভেবেছিলো আজকে রাতে মই
দিয়ে লামহার বেলকনি দিয়ে তাঁর রুমে গিয়ে বন্ধুরে বুকে নিয়ে ঠাইস্সা ঘুম দিবে। সকাল ভোরে আবার আস্তে করে চলে আসবে সবার ঘুম ভাঙার আগে। কিন্তু তা আর হলো না।
আবিরকে দেখে লামহা হতবাক।
শফিকুল সাহেব আবিরের দিকে তাকিয়ে বললো

– কী ব্যাপার তুমি এতো রাতে এখানে কী করছো। তাও এমন করে এসেছো কেনো?
আবির কোনো কথা বলছে না। তা দেখে
পাশ থেকে আমির সাহেব গম্ভীর গলায় বললো
– কী ব্যাপার কথা বলছো না কেনো?
আবির নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে বলে উঠলো
– বউয়ের কাছে এসেছিলাম। বিয়ের পর ও বউ ছাড়া ঘুমাতে ভালো লাগে না। কিন্তু এসে যে এই এই ইসরাইল দের হাতে পড়বো তা জানা ছিলো না।
আবিরের কথা শুনে সবাই হতবাক হয়ে গেলো। এদিকে
লামহার লজ্জায় মরি মরি অবস্থা।
আমির সাহেব আবিরের দিকে চোখ পাকিয়ে তাকালো।
আবির কি বলতে চায় কেনো এসেছে সেটা সবাই বুঝতে পারলো।
আমির সাহেব রেগে বললেন

– অসভ্য ছেলে, লজ্জা শরম খেয়ে ফেলেছো নাকি?
আর কয়েকটা দিন সহ্য করা যেতো না।
সাফওয়ান বুঝতে পেরে পরিস্থিতি সামলে বললো
– আচ্ছা যা হবার হয়েছে এখন যে যার বাসায় যান।
পাশ থেকে দুই বাড়ির ছোট্টরা মিটমিট করে হাসছে।
বাড়ির বড়রা কিছু না বলে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলো। আনিসুল সাহেব দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পিছন তাকাতেই চিৎকার করে উঠলো

– আল্লাহ গো ডাইনি ।
আনিসুল সাহেবের চিৎকার শুনে সবাই তাঁর দিকে তাকালো । রাশেদা বেগম দৌড়ে স্বামীকে ধরলেন। হার্টের রোগী এই লোক। যদি কিছু হয়ে যায় তাই সে সবসময় ভয়ে থাকে।
আজমেরী বেগম বিরক্ত হয়ে বললো
– ডাইনি না তোর আম্মা ব্যাডা চুপ কর।
আজমেরী বেগমের কথা শুনে রাশেদা বেগম বিরক্ত হয়ে বললো
– আম্মা এই রার বেরাতে এসব কী? আর এতো গয়না পড়ে বাহিরে এসেছেন কেনো? আর মুখে এসব কি লাগিয়েছেন জানেন না আপনার ছেলে হার্টের রোগী।
– জানি হার্টের রোগী। আর এই গয়না পড়ছি চোর আইছে বলে তাই পইরা চোররে দেহাইবার
আইছিলাম যে দেখ তুই ধরা খাইছোস আমার এতো গয়না চুরি করতে পারছ নাই তাই পরছি।
আজমেরী বেগমের কথায় রাশেদা বেগম বিরক্ত হয়ে তাঁর প্রাণের প্রিয় স্বামী কে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলেন।
হামিদ সাহেব তার মায়ের কাঁধে ধরে কিছু বলতে বলতে তাঁকে নিয়ে চলে গেলো বাড়ির ভেতর। আস্তে আস্তে খান বাড়ির সবাই চলে গেলো।

এদিকে বাগানে খান আর ইসলাম বাড়ির ছেলে মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আবির ইসলাম বাড়ির চার বিচ্ছুদের দিকে তাকিয়ে বললো
– তোরা ইচ্ছে করে এমন করেছিস তাই না??
তায়েব, তায়েবা, মাহির, লামিয়া এক সাথে মাথা উপর নিচ করে আবার দ্রুত ডান বামে মাথা নাড়ালো।
তা দেখে আবির ক্ষিপ্ত হয়ে বললো
– দেখেছিস তোরা ওরা ইচ্ছে করে করেছে। আবার না বলছে।
তা শুনে লামিয়া একদম ইনোসেন্ট ফেস নিয়ে বললো
– ছিঃ আবির ভাই এসব কি বলেন? ইচ্ছে করে করবো কেনো?? আমরা তো ভেবেছিলাম চোর আর আপনি যেভাবে এসেছেন চোর না ভেবে উপায় আছে??
আর আমরা কী জানতাম আপনি মধু খেতে এসেছেন। জানলে তো আমরাই আপনাকে মধুর চাকে ছুঁড়ে দিতাম।
পাশ থেকে মাহির, তায়েব, তায়েবা বলে উঠলো

– হ্যাঁ, হ্যাঁ হ্যাঁ।
রাশেদ আর কাউকে কিছু বলতে দিলো না কারণ রাত অনেক হয়েছে। আবিরকে লাবিব আর সাফওয়ান ধরে উঠালো।
তা দেখে সবাই হাসছে। আবির লামহার দিকে অসহায় চোখে তাকালো। সাফওয়ান তা বুঝতে পারলো।
তাই সাফওয়ান লামহাকে বলে উঠলো
– লামহা তুই ও চল আমাদের সাথে।
লামহা রাশেদের দিকে তাকিয়ে তারপর মাথা নিচু করে বললো
– আমি কীভাবে যাবো?
রাশেদ তা খেয়াল করে বললো
– চাইলে যেতে পারিস।
– কিন্তু!
– আমি সামলে নিবো।
লামহা আবির দিকে তাকিয়ে দেখলো অসহায় চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
লামহা তা দেখে রাজি হয়ে গেলো।
খান বাড়ীর দিকে তাঁরা রওনা দিতেই পিছন থেকে লামিয়া বলে উঠলো

– যা লামহা যা আবির ভাইয়ের বামে বাম লাগিয়ে দিছ আজকে।
তা শুনে মাহির, তায়েব, তায়েবা হেঁসে উঠলো। হামিদা লামিয়ার মুখ চেপে ধরতেই পাশ থেকে তায়েব বলে উঠলো
– আবির ভাই সকালে বাথরুমে বসতে পারবেন তো?
পাশ থেকে মাহির বলে উঠলো
– লামহা বামে মালিশ করে দিলে সকাল হবার আগেই
দেখবি বাথরুমে বসে গিয়েছে।
রাশেদ চোখ পাকিয়ে তাকালো চারজনের দিকে।
আবির যেতে যেতে বিরক্ত হয়ে বললো
– তোদের চারজন কে আমি দেখে নিবো।
লামিয়া পিছন থেকে বললো
– আজকে আগে নিজের রেড বাম দেইখেন তার পরে
আমাদের দেখার কথা মাথায় ও অনবেন না।
আবির কিছু বলতে গেলেই সাফওয়ান আবিরকে টেনে নিয়ে চলে গেলো।
তাঁরা যেতেই রাশেদ হেঁসে উঠলো। সাথে সাথে আরিফ, তায়েব, তায়েবা, মাহির,লামিয়া, হামিদা।
পাশ থেকে শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হাসছে।
রাশেদ হাসতে হাসতে বললো

– তোরা সত্যি জানতি এটা আবির তাই না?
তায়েব, তায়েবা, লামিয়া, মাহির হাঁসি থামিয়ে রাশেদের দিকে তাকিয়ে আরো উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠলো।
খান বাড়িতে প্রবেশ করতেই সাফওয়ান আবিরকে মজা করে বলে উঠলো
– মধু খেতে গিয়ে শালা শালি দের আপ্যায়ন কেমন লাগলো??
আবির দুঃখি মুখ করে বললো
– জানতে চাস??
সাফওয়ান মাথা নাড়ালো, সে জানতে চায়।
আবির তা দেখে দুঃখি মুখ করে গেয়ে উঠলো

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৬

– রাতের বেলা মধু খেয়ে তে করতে গেলাম চুরি, মধুর মালিকের ভাই বোন আমায় ওমনি নিলো ধরি, ধইরা নিয়া পিডান দিলো, তবুও মধু দিলো না রে, আর আসবো না মধু খেতে, ও বউ রে আর আসবো না মধু খেতে।
আবিরের গান শুনে সবাই হেঁসে উঠলো। লামহা রাগি চোখে আবিরের দিকে তাকাতেই আবির লামহাকা চোখ মারলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ২৭ (২)