Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৪

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৪

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৪
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

ধরনীতে রাতের অন্ধকার কাটিয়ে দিনের আলো ফুটে উঠেছে। চারপাশে পাখির কিচিরমিচির শব্দ করছে। জানালা দিয়ে সূর্যের আলো সাদা রঙের পর্দা ভেদ করে শুভ্রর মুখে এসে পড়তেই চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো। বেশ বিরক্ত নিয়ে ধীরে ধীরে চোখ খুলে একটু নড়েচড়ে উঠতেই হাতে ব্যাথা অনুভব করতেই মুখ থেকে “উফ” শব্দ বেরিয়ে আসতেই নিজের কাজে নিজেই বিরক্ত হলো শুভ্র। সামনে তাকিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সকাল ছয়টা বাজে। তারপর কপাল কুঁচকে নিজের গাঁয়ের দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো।

তারপর কালকে রাতের কথা মনে পড়তেই শুভ্র নিজের ব্যাথা ভুলে আশেপাশে তাকিয়ে লামিয়া কে খুঁজতে লাগলো। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে লামিয়া কে দেখতে না পেয়ে শুভ্রর বুক ধক করে উঠলো, লামিয়া অভিমান করে চলে যায় নি তো কোথাও ভেবেই শুভ্রর মনে ভয় এসে জড়ো হলো। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বেশ।
শুভ্র আর কিছু না ভেবে দ্রুত বিছানা থেকে উঠে বাথরুম চেক করলো। না লামিয়া এখানেও নেই তাহলে কোথায় গেলো? সব কিছু বলার পর ও তাঁর ভ্রমর চলে গেলো তাকে রেখে। হারানোর ভয়ে চোখ থেকে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো চোখ দিয়ে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

না না যায় নি, তার ভ্রমর তাঁকে ছেঁড়ে যাবে না কোনোদিন সে এটা জানে। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই দেখলো হল রুমে সোফায় গুটিয়ে শুয়ে আছে লামিয়া। আর ফ্লোরের কার্পেট এর উপর শুয়ে আছে জ্যাকি। লামিয়া কে দেখে মনে হলো শুভ্র প্রাণ ফিরে পেলো। দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে লামিয়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো। লামিয়ার গাঁয়ে শুভ্রর কালো টিশার্ট আর পরনে শুভ্রর ট্রাউজার। লম্বা এলোমেলো চুল গুলো ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে। শুভ্র চুলে হাত দিতেই কপাল ভাঁজ করে ফেললো। চুল গুলো ভেজা কেনো? এই মেয়ে কী একটু আগে গোসল করেছে নাকি। দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। ভেবেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো। তারপর আস্তে করে লামিয়া কে পাঁচ কোল তুলে নিয়ে রুমের দিকে রওনা হলো।

রুমে এনে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে গাঁয়ে কমফোর্ট টেনে দিলো। তারপর টাওয়াল এনে চুল গুলো যত্ন করে মুছে দিতে লাগলো। চুল গুলো মুছে দিয়ে উঠে দাঁড়ালো তারপর গতকাল রাতের সিসিটিভির ফুটেজ চেক করতে লাগলো। এই বাড়ির প্রতিটি কোণায় ক্যামেরা লাগানো। পুরো বাড়ির ফুটেজ চেক করে, কিছু একটা ভেবে নিজের রুমে ফুটেজ চেক করতেই শুভ্র চোখ গোল গোল হয়ে গেলো আচমকাই মুখে হাঁসি ফুটে উঠলো। তারপর ফোন পকেটে রেখে এগিয়ে গেল বিছানার কাছে। লামিয়ার পাশে বসে মাথায় সযত্নে হাত বুলিয়ে দিয়ে লামিয়ার দিকে একটু ঝুঁকে কপালে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিতেই লামিয়া করে চোখ খুলে ফেললো। শুভ্রকে মুখের এত কাছে দেখে লামিয়া ভ্রু কুঁচকে ফেলল।

শুভ্র তবুও সরলো না। তাকিয়েই আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া তা দেখে ভ্রু নাচালো। শুভ্রর তবুও কোনো হেলদোল নেই। সে তাকিয়েই আছে লামিয়ার দিকে। তা দেখে লামিয়া বিরক্ত হয়ে ঝাঝালো কন্ঠে বললো ” কী সমস্যা এইভাবে ঝুঁকে আছেন কেনো? সরুন সামনে থেকে।”
শুভ্র চুপচাপ লামিয়ার থেকে সরে দাঁড়ালো। শুভ্র সরে দাঁড়াতেই লামিয়া শোয়া থেকে উঠে বসলো। চোখ ঘুরিয়ে চারপাশে তাকিয়ে নিজেকে রুমে দেখেই রেগে বললো ” আমাকে আপনি এখানে নিয়ে এসেছেন কেনো? আর মানা করার পরও আপনি আবার আমাকে স্পর্শ করেছেন? ”

” বেশ করেছি আরো করবো ! কোনো সমস্যা?” শুভ্র কপাট রাগ দেখিয়ে বললো।
” সমস্যা মানে? আপনি অনুমতি ছাড়া আমার গাঁয়ে হাত দিবেন আবার বলছেন কোনো সমস্যা?”
” হ্যাঁ বলছি।”
” আপনাকে আমি ঘৃণা করি বুঝতে পারছেন? কান খুলে শুনে রাখুন, দ্বিতীয়বার আমার অনুমতি ছাড়া আমাকে স্পর্শ করবেন না।”

” হুহহহ! আর একজন যে আমার অনুমতি ছাড়া কালকে রাতে আমাকে স্পর্শ করলো, আমার কপালে চুমু খেলো, আবার…।” বলেই থেমে লামিয়া দিকে তাকালো লামিয়া আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে শুভ্র দিকে।
শুভ্রর চোখে চোখ পড়তেই লামিয়া হাঁসফাঁস করে উঠলো। তা দেখে শুভ্র সয়তানি হেঁসে একটু লজ্জা পাওয়ার অভিনয় করে বললো ” আবার আমাকে টিশার্ট আর ট্রাউজার ও পড়িয়ে দিয়েছে তাঁর বেলায়?”
শুভ্রর কথায় লামিয়া কী বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না। আর এই লোক কীভাবে জানলো কালকে চুমু খাওয়ার কথা? তাঁর মানে সে কি কালকে ভেবেই লামিয়া লজ্জায় নুইয়ে পড়লো। উফফ এই লজ্জায় নানীরে কিছু কইবার লেইগ্গা। এখন এই লোকের সামনে লজ্জায় পড়া যাবে না। না হলে ইজ্জত যতোটুকু আছে তাও থাকবে না। সব লজ্জা সাইডে রেখে লামিয়া হালকা কেশে মুখে বিরক্তি ভাব নিয়ে বললো ” কী যাতা বলছেন? ”

” হুমমম সত্যি কথা বললেই যাতা তাই না?”
” দেখুন উল্টো পাল্টা কোনো কথা বলবেন না। আর আপনি আপনাকে চুমু খাবো?? মাথা খারাপ নাকি আপনার গন্ধযুক্ত শরীরে চুমু খাওয়ার চেয়ে জ্যাকি কে চুমু খাবো তাও ভালো।”
” আপনার নাক খারাপ হয়ে গিয়েছে তাই বলছেন আমার শরীর গন্ধ! আর যদি গন্ধ হয়েও থাকে তবুও তো আপনি চুমু খেয়েছেন শিকার করুন মেডাম।”
” দুনিয়াতে কী ছেলের অভাব? যে , আপনার মতো একটা বিলাতি সাদা ইঁদুর কে চুমু খেতে যাবো?”
” উঁহু দুনিয়াতে ছেলের অভাব নেই, তবে শাহরিয়ার শুভ্রর মতো হ্যান্ডসাম ছেলের বদ্দ অভাব।”
” এই এই কথায় কথায় নিজেকে হ্যান্ডসাম দাবি করেন কেনো? কে বলেছে আপনাকে আপনি হ্যান্ডসাম? দেখতে দেখা যায় বিলাতি ইঁদুর তাঁর উপর গোরিলা বডি। আবার এই বডি নিয়ে দাবি করে হ্যান্ডসাম ছেলে হুহহহ যত্তসব নাটকীয় কথাবার্তা।”

” তবুও তো চুমু খেয়েছেন আবার আমার জামা ও চেঞ্জ করে দিয়েছেন।”
” দেখুন বারবার এক কথা বলবেন না আমি কিছু করি নি।”
” করতে কতোক্ষণ? কালকে তো আমার জ্ঞান ছিলো না। তখন যদি আমার সর্বনাশ করে দিতেন তখন? তখন আমাকে কে বিয়ে করতো? আর আমার বউয়ের ই বা কী হতো?”
বলেই মুখ টিপে হাসলো।
” বউ মানে?” বেশ অবাক হয়ে জিগ্যেস করলো লামিয়া।
” বউ মানে, এটা আবার কেমন প্রশ্ন?”
” যেমন ই প্রশ্ন আপনি উত্তর দিন বউ মানে?”
” বউ মানে বউ আমার বউ এর কথা বলছি। বউ চিনেন না আপনি?”
” আপনি বিয়ে করেছেন?” বেশ নরম গলায় বললো লামিয়া।
” না তবে করি নি তবে খুব শীঘ্রই করবো।”
” কাকে?”

” মিলি কে! আমার ভীষণ পছন্দ ওকে। দেখেছেন তো কতো সুন্দর, কিউট, স্মার্ট একটা মেয়ে। ” বলেই মুখ চেপে ধরলো। ভীষণ হাঁসি পাচ্ছে তাঁর লামিয়ার চুপসে যাওয়া মুখ দেখে।
এদিকে মিলির কথা শুনে লামিয়া যেনো থমকে গেলো। বুকে আবারো অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হলো। তবুও নিজেকে শক্ত করলো। দূর্বল হলে চলবে না, আজ ফজর পর্যন্ত ও এই লোকটা কে নিয়ে ভেবেছিলো কিন্তু না আর ভাববে না সে। এই লোকটার সাথে আর কোনো কথাই বলবে না। ভেবেই লামিয়া চুপচাপ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বারান্দায় রুম থেকে বের হতে লাগলো। এই লোকটার সামনে থাকলে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবে না সে। আস্তে ধীরে রুম থেকে বের হতেই শুভ্র লামিয়ার হাত টেনে ধরলো। হঠাৎ হাতে টান পড়তেই লামিয়া শান্ত চোখে পিছনে ঘুরে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললো ” হাত ছাড়ুন।”

” কোথায় যাচ্ছিস?”
” আপনাকে বলার প্রয়োজন মনে করছি না।”
” বলার প্রয়োজন না মনে হলেও বলতে হবে।”
” হাত ছাড়ুন।”
” ছাড়বো না।”
শুভ্রর কথায় লামিয়ার রাগ উঠে গেলো। লামিয়া হাত মোচড়া মোচড়ি করতে করতে রেগে চেঁচিয়ে উঠলো
” এই বাল হাত ছাড় আমার, ছাড় বলছি। বলেছি না ধরবি না আমাকে কথা কানে যায় না তোর।”

শুভ্র লামিয়ার হাত মুচড়ে নিজের কাছে টেনে নিয়ে এসে কঠিন স্বরে বললো ” অনেক মুখ বেরে গিয়েছে তাই না? কথায় কথায় খারাপ ভাষা করিস কেনো? এইগুলো আমার একটুও পছন্দ নয়। ”
শুভ্রর কথায় লামিয়ার ভীষণ কান্না পাচ্ছে। কেনো খারাপ ভাষা করছি তা কি এই লোক বুঝে না নাকি বুঝতে চাইছে না। কোথায় আগে তো তাঁকে কিছু বলার আগেই বুঝে যেতো আর এখন এতো টা পাল্টে গেলো?
ভেবেই লামিয়ার দুঃখ আরো বারলো।

” বেশ করেছি খারাপ ভাষা করেছি দরকার পড়লে আরো করবো। যে ভালো ভাষা করে তাঁর কাছে যা আমার কাছে কেনো এসেছিস? যা তোর মিলির কাছে সুন্দর আছে তো কিউট স্মার্ট আছে। আমার মতো কালো, আনস্মার্ট না। ” রেগে ভাঙা গলায় বললো লামিয়া।
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়ার চোখে পানি চিকচিক করছে। শুভ্র তাঁর বৃদ্ধা আংগুল দিয়ে লামিয়ার চোখের পানি মুছে দিয়ে লামিয়ার দু গালে হাত রেখে কপালে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো ” আমার এই আনস্মার্ট, কালো, অগোছালো, রাগী – জেদি, বদমেজাজি, পাগল কেই যে পছন্দ ভ্রমর।”

” ছাড়ুন আমাকে।”
” ছাড়ার জন্য ধরিনি তো!”
” আমি বলছি ছাড়ুন।”
” আগে চুমু ফিরিয়ে দিবো তারপর।”
লামিয়া একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে বললো ” কীসের চুমু?”
” গতকাল রাতের আমাকে যে চুমু দিয়েছিলি সেই চুমু।”
” দেখুন মিথ্যে বলবেন না। ”
” আমি মিথ্যে বলছি না। প্রমাণ আছে কিন্তু আমার কাছে।”
” কি…কি প্রমাণ?” বেশ তোতলিয়ে বললো লামিয়া।

তা দেখে শুভ্র পকেট থেকে মোবাইল বের করে ভিডিও দেখাতেই লামিয়া লজ্জায় নুইয়ে পড়লো। শুভ্রর থেকে দূরে সরতেই শুভ্র লামিয়ার কোমড় চেপে ধরে আবারো নিজের কাছে টেনে আনলো।
লামিয়া নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে লাগলো কিন্তু শুভ্র ছাড়লো না। তা দেখে লামিয়া রাগ দেখিয়ে বললো ” দে… দেখুন বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনাকে আমি ঘৃণা করি।”
” ডোন্ট কেয়ার ভ্রমর।” বেশ হাস্কি কন্ঠে বললো।
” ছাড়ুন আমাকে বলেছি না স্পর্শ করবেন না।”
” এক কথা শুনতে শুনতে কানের পোকা মরে যাচ্ছে নতুন কিছু বল।”
” আআআআ ছাড়ুন আমাকেএ।”
” নতুন কিছু বলতে বলছি তাই বলে আআ এই কথা বলবি? বলেছি না এই শব্দ করবি না আমার কেমন কেমন লাগে।”

” ফালতু লোক।”
” তোর কাছে আসলেই কেনো জানি ফালতু গিরি করতে ইচ্ছে করে।”
” ছাড়তে বলেছি।”
” নিজের জিনিস ধরেছি ছাড়বো কেনো?”
” আমি আপনার জিনিস না।”
” তুই আমার জিনিস না তবে এই ছোট্ট শরীর টা আমার।”
” ছাড়বেন নাকি জায়গামতো বসিয়ে দিবো?” এইবার বেশ রেগে বললো লামিয়া।
লামিয়ার কথা শুনে শুভ্র হেঁসে উঠলো।

” সিরিয়াসলি ভ্রমর তুই নিজের হাতে নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি করতে চাইছিস?”
“চুপ করবেন? আপনার মতো ফালতু লোক আমি একটা ও দেখি নি।”
” দেখবি কীভাবে আমি এক পিস। আমার মতো ফালতু লোক এই দুনিয়াতে আর কোথাও নেই।”
লামিয়া কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই শুভ্রর ফোন আসতেই শুভ্র লামিয়ার নাকে চুমু দিয়ে ছেঁড়ে দিলো। তারপর পকেট থেকে মোবাইল বের করে কথা বলে ফোন রেখে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” চলুন মেডাম বাড়ি থেকে কল এসেছে তৈরি হয়ে নিন। আমি গাড়ি বের করছি।”

” আমি তৈরি আছি।”
” এইভাবে যাবেন?” ভ্রু কুঁচকে বললো শুভ্র।
” জ্বি হ্যাঁ! কেনো কোনো সমস্যা?”
” গাঁয়ে উড়না নেই।”
” কাল ও ছিলো না।”
” আমার পছন্দ নয় ভালো করেই জানিস।”
” জামা ভেজা তাঁর উপর জামা ছিঁড়ে গিয়েছে ভেজা জামা খুলতে গিয়ে।”
শুভ্র ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো তাঁর বললো ” ঠিক আছে বের হ আমি গাড়ি নিয়ে আসছি। ”
” বড় ভাই বাদে আর কে কে জানে আপনার আসল পরিচয়?”
” তুই ছাড়া সবাই জানে।”
” সবাই বলতে?”
” সবাই।”
” মাহির, তায়েব, তায়েবা ওরাও?”
” হুমম।”

লামিয়ার চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো। তাঁর দাঁত চেপে বললো” আপনাকে আমি কখনোই ক্ষমা করবো না। আপনি আপনার শাস্তি পাবেন।”
লামিয়ার কথায় শুভ্র ধীর পায়ে হঠাৎ লামিয়ার সামনে এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসলো। লামিয়া একটু পিছিয়ে যেতেই শুভ্র লামিয়ার কোমড় জড়িয়ে ধরে পেটে মুখ গুঁজে নিচু গলায় বললো
” তুই যা শাস্তি দিবি মাথা পেতে নিবো। কিন্তু আমাকে ছেঁড়ে যাস না। আর যদি যেতে হয় আমাকে মেরে চলে যাস, আমি হাসতে হাসতে প্রাণ দিয়ে দিবো। তবে আমাকে জীবিত রেখে কোথাও যাস না। তিলে তিলে মারার চেয়ে আমাকে একবারেই মেরে চলে যাস। ”

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৩

লামিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুভ্রর কথা শুনলো তাঁর পর আস্তে করে শুভ্রর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে শক্ত গলায় বললো ” আপনাকে যেই ভাবে মারলে আপনি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবেন আমি ঠিক সেইভাবেই আপনাকে শেষ করবো।” বলেই চলে গেলো।
শুভ্র লামিয়ার চলে যাবার দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে সে ও চললো লামিয়ার পিছু।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৫