Home Tell me who I am Tell me who I am bonus part 2

Tell me who I am bonus part 2

Tell me who I am bonus part 2
আয়সা ইসলাম মনি

কথাগুলো শুনে মিরার গাল যেন পরিপক্ব ডালিমের মতো লালচে আভা পেল। লজ্জা তার চোখের ভাষায়ও খেলা করল; ঠোঁট কাঁপল, কিন্তু কোনো শব্দ উচ্চারিত হলো না। কারণ সে জানে, কারানের সামনে কোনো প্রত্যুত্তর উচ্চারণ মানে নিজের লজ্জাকে আরো প্রগাঢ় করা।
কারান কপালে সামান্য ভাঁজ ফেলে ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে দ্রুত বলল, “সুইটহার্ট…”
“হ্যাঁ, বলো,” মিরা মৃদু স্বরে জবাব দিল।
“কাল রাতে তোমাকে বলেছিলাম না, আজ আমার একটা স্পেশাল মিটিং আছে? একটু পরই শুরু হবে। ফোনটা সাইলেন্ট করে দিচ্ছি, সোনা। তুমি কিন্তু ঘর থেকে একদম বের হবে না। খুব দ্রুত ফিরে আসব। বাই, বেইবি।”
কারান এক নিশ্বাসে কথাগুলো শেষ করল। অন্য প্রান্তে মিরা তার স্বর শুনে কিছুটা থমকে গেল।
“আচ্ছা,” শুধু এই শব্দটুকুই বেরোল মিরার ঠোঁট থেকে, তাও নিস্তেজ সুরে। কারণটা এই যে, এখন তাকে আবার একা থাকতে হবে।

কারান ক্ষীণ এক হাসি হেসে কল কেটে দিল। ফোনের স্ক্রিন নিভে যেতেই মিরার মনটা শূন্যতায় ডুবে গেল। মিরা অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইল; তার দৃষ্টি ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে এলো, মুখের প্রশান্তি মিলিয়ে গিয়ে জায়গা নিল মৃদু বিষণ্নতা।
সে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই চোখে পড়ল টেবিলের ওপর কিছু ছড়ানো কাগজ। কারানের আজকের স্পেশাল মিটিং-এর ফাইলটাও ওখানেই পড়ে আছে। মিরা কপালে হাত রেখে অসহায় স্বরে উচ্চারণ করল, “হে আল্লাহ!”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

সে এগিয়ে গিয়ে ফাইলটা হাতে নিল। মোটা কভারটির ওপর কারানের হাতের লেখা দেখে স্বচ্ছ হাসল। সেটার উপর আলতোভাবে হাত বুলিয়ে নিয়ে ফাইলটা খুলল। তাকিয়ে দেখল, তাতে জরুরি নোট, পাতাগুলোর কোণে অফিসের সিল, বিদেশি নাম, ক্লায়েন্টের স্বাক্ষর, আর কিছু গোপন তথ্যের কপি রয়েছে। মিরার মনে উদ্বেগ দানা বাঁধল। বলল, “এবার আমি কী করব? বাংলাদেশে থাকলে ফরিদ কাকাকে দিয়েই পাঠানো যেত। এখন তো সে উপায়ও নেই।”
ফোনটা হাতে নিয়ে কারানকে কল দিতে গেল মিরা। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ল, কারান তো নিজেই বলেছিল, ফোনটা সাইলেন্টে রাখবে। হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ফোনটা নামিয়ে টেবিলের ওপর রাখল।
নিজেকেই প্রশ্ন করল, “এবার কী করব?”
একটু থেমে ভাবল, “আচ্ছা, আমি কি যাব?”

যুক্তি খুঁজে বেড়াতে লাগল নিজের ভেতরে, “উপায়ও তো দেখি নেই, কিন্তু যাওয়াটা কি ঠিক হবে?”
কিছুক্ষণ কপাল ডলে ভাবনার গভীরে ডুবে রইল। তারপর আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে ফিসফিস করে বলল, “আমিই যাই। নাহলে আজকের এত গুরুত্বপূর্ণ মিটিংটা নষ্ট হয়ে যাবে।”
এই সিদ্ধান্তেই মন স্থির হলো তার। প্রস্তুতি নিতে ধীরে ধীরে ক্লোজেটের দিকে এগিয়ে গেল। ভেতরে গিয়ে যত্ন করে হ্যাংগার থেকে পোশাকগুলো নামাল। আজই প্রথম কারানের অফিসে যাবে, তাই পোশাকের প্রতিটি বাছাইয়ে সে নিখুঁত হতে চাইল।

পোশাকগুলো বিছানায় ছড়িয়ে রেখে গোসলের প্রস্তুতি নিল। কিছুক্ষণের মধ্যে ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে নিজেকে পুনর্জীবিত করতে লাগল। ঠান্ডা জলের স্রোত গায়ে লেগে যেন ক্লান্তি ধুয়ে নিচ্ছিল। স্বচ্ছ ফোঁটাগুলো গড়িয়ে পড়ছিল তার কাঁধ বেয়ে। ফরসা ত্বকের উপর সেই ফোঁটাগুলোর দীপ্তি তাকে করে তুলছিল আরও স্নিগ্ধ, আরও কোমল।
গোসল শেষে বাথরোব পরিধান করে বেরিয়ে এলো মিরা। চুলের ভেজা গোছা মুছতে মুছতে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই নিজের প্রতিবিম্ব দেখে হালকা হাসল। নিজের এত সৌন্দর্য দেখে পুলকিত হয়ে চেহারায় হাত রেখে বলল, “এ মুহূর্তে কারান যদি আমাকে দেখত, নিশ্চিত আরেক দফা দুর্বল হয়ে পড়ত।”

চিন্তাটা মনে হতেই গাল দুটো লালচে আভায় রাঙা হয়ে উঠল। মিরা হেসে কানের পাশে ভেজা চুলগুলো গুঁজে নিল সযত্নে। এরপর একে একে পরিধান করতে লাগল পোশাকগুলো— প্রথমে ঢিলেঢালা সাদা ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার, তারপর অফ-হোয়াইট ঢিলেঢালা টপ, তার উপর পড়ল হালকা বেজ রঙের লং ব্লেজার। এই পোশাকের পরিপূর্ণতায় দেহের কোনো রেখা বোঝা গেল না। এরপর মাথায় পরল অফ-হোয়াইট রঙের হিজাব, নিপুণভাবে সেটাকে প্যাঁচিয়ে গলাটা সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলল। উপরে আরেকটি স্কার্ফ ঘুরিয়ে মুখও ঢেকে ফেলল, এখন কেবল চোখ দুটি দৃশ্যমান।
আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল, “সব ঠিক আছে তো? উমম… আর কীভাবে ঢাকা যায় নিজেকে?”

অবশেষে বুঝল, চোখই এখনো অনাবৃত। তাই একটা গাঢ় বাদামি সানগ্লাস পরে নিল। ড্রেসারের পাশে রাখা বাদামি চামড়ার হ্যান্ডব্যাগটা হাতে নিল, এরপর সাদা স্নিকার্স পায়ে গলিয়ে নিল। অতঃপর, টেবিল থেকে ফাইলটা তুলে নিল সযত্নে।
গাড়িতে উঠে ফাইলটা পাশে রেখে গভীর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল মিরা। শহরের সকাল তখন ব্যস্ততার গুঞ্জনে মুখর; গাড়ির জানালা দিয়ে ধূসর সূর্যালোক তার মুখে পড়ছিল। আধঘণ্টার মধ্যে গাড়ি এসে থামল ‘কে.ছি কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার্স’-এর সামনে।
গাড়ি থেকে নামতেই সামনে ভেসে উঠল এক বিরাট ভবন। ভবনটির কাচ-ঢাকা দেয়ালটি সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে। বিশাল উঁচু গ্লাস টাওয়ার, চারপাশে সোনালি আভাযুক্ত স্টিলের ফ্রেম, আর প্রবেশপথের সামনে সাজানো রয়েছে বিদেশি পামগাছ আর নিখুঁতভাবে ছাঁটা সবুজ লন।

প্রবেশদ্বারের সামনে রয়েছে ঝকঝকে মার্বেল পাথরের সিঁড়ি। কাচের স্বয়ংক্রিয় দরজার ওপারে দেখা যাচ্ছে ভিতরের ঝলমলে লবি। বিল্ডিংয়ের চারপাশে রয়েছে সুশৃঙ্খল পার্কিং লট, যেখানে সারি সারি লাক্সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ‘কে ছি টেক্সটাইল’ কোম্পানির নামটা বিশাল ধাতব অক্ষরে ভবনের গায়ে খোদাই করা।
দৃশ্যটা এমনই মনোমুগ্ধকর যে মিরার চোখ অজান্তেই ওপরে উঠল। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে সে মৃদু স্বরে বলল, “এটা দেখার ইচ্ছেও আমার উইশলিস্টে রাখা উচিত ছিল, যেটা না চাইতেই আজ পূরণ হয়ে গেল।”
এরপর মিরা পা বাড়াল প্রধান প্রবেশপথের দিকে। দরজা পেরোতেই ঠান্ডা এয়ার কন্ডিশনের হালকা শীতল বাতাস তার মুখ ছুঁয়ে গেল। ভিতরের ক্রিস্টাল চ্যান্ডেলিয়ারের আলো লবির মেঝেতে প্রতিফলিত হচ্ছে, দেয়ালে ঝুলছে বিমূর্ত চিত্রকর্ম।
রিসেপশন ডেস্কের পেছনে বসে থাকা তরুণী কর্মচারী মিরাকে দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়াল, মুখে অভ্যর্থনাসূচক হাসি নিয়ে বলল, “Good morning, ma’am. How can I help you?”

মিরা কিছু না বলে কেবল এক ক্ষীণ হাসি দিল। তারপর ব্যাগ থেকে তার নতুন পরিচয় Melek Yılmaz নামের একটি নিখুঁতভাবে তৈরি ফেইক আইডি বের করল। যা কারান আগেই নিখুঁতভাবে যাচাই-যোগ্য সব তথ্যসহ তৈরি করে দিয়েছিল। মেয়েটি আইডিটা হাতে নিয়ে চোখ বড়ো করে তাকাল, মুখের ভাব পালটে গেল মুহূর্তেই।
“এক্সকিউজ মি, ম্যাম… আপনি-আপনি কি…?”
সে বাক্য শেষ করার আগেই চেয়ারে থেকে উঠে দাঁড়াল, প্রায় কুর্নিশের মতো ভঙ্গিতে বলল, “হ্যালো, মিসেস কারান চৌধুরি। আ’ম এক্সট্রিমলি সরি। আমরা জানতামই না আপনি আসছেন। যদি জানতাম, আপনার আগমন উপলক্ষ্যে পুরো ফ্লোর প্রস্তুত রাখতাম। আপনি একটু বসুন, আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা করছি।”
সে আতঙ্কিত ভঙ্গিতে ফোনের দিকে হাত বাড়াতেই মিরা হালকা হাসল।
“আরে না, এত আনুষ্ঠানিক হওয়ার কিছু নেই। আপনি দয়া করে আপনার কাজে মনোযোগ দিন। আমি কেবল একটা ফাইল দিতে এসেছি, ব্যাস।”

রমণীটি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। ফিসফিস করে বলল, “যাক, তিনি রাগ করেননি। নাহলে কে.ছি স্যার জানলে বিপদই হতো।”
তারপর একটু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, “ম্যাম, আপনি দয়া করে বসুন। কিছু ড্রিংকস অর্ডার করব? কফি? গ্রিন টি?”
মিরা মাথা নেড়ে বলল, “ধন্যবাদ, কিছু লাগবে না। আপনি শুধু বলুন—কারানকে কোথায় পাবো?”
সে মাথা নেড়ে টেলিফোন তুলে দ্রুত এক্সটেনশনে কল লাগাল। কণ্ঠে সামান্য নার্ভাসনেস নিয়ে বলল, “মিসেস কারান চৌধুরি এসেছেন।”
মিরা কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে দরজার দিকে তাকাতেই লক্ষ্য করল একজন তরুণী এগিয়ে আসছে। এ মেয়েটিকেই মূলত রিসেপশনিস্ট কল করেছিল। তার নাম রিলে উইলসন। সে সাদা শার্টের সঙ্গে কালো শর্ট টপ পরিহিত, গলায় ঝুলছে অফিসের আইডি কার্ড। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এসে কুর্নিশ করল, ভয় মিশ্রিত স্বরে বলল, “ম্যাম, প্লিজ আসুন।”

মিরা হেসে তার পিছু নিল, অথচ মেয়েটা কিছুই বলার সাহস পাচ্ছিল না। তার এই ভীতসঙ্কুল মুখ দেখে মিরার মনে সামান্য অস্বস্তি হলো। হালকা হাসিতে সে বলল, “আপনি… বাংলা জানেন?”
রিলে এবার সামান্য হেসে বলল, “জি, ম্যাম। আমি স্যারের ট্রান্সলেটর হিসেবে কাজ করি।”
“ওহ, আচ্ছা। গ্ল্যাড টু মিট ইউ,” মিরা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দিল। তবে মনে ছোটোখাটো দ্বিধা কাজ করছিল। মেয়েটির ভয়ের প্রকৃত কারণ সে জানে না; পরিচিত নয়, তাই কেমন ভঙ্গিতে কথা বলবে, তাও বুঝতে পারছিল না।
রিলের চোখে হঠাৎ স্বস্তি দেখা গেল। সে হেসে পিছনে ফিরে বলল, “মিট ইউ টু, ম্যাম। আমি… মানে, বস এত রাগী মানুষ, ভাবিনি আপনি এত স্বচ্ছন্দে কথা বলবেন। তাই একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, যদি কোনো ভুল হয়ে যায়…”
মিরা চওড়া হাসি দিয়ে বলল, “তাহলে ধরতে পারেন আমি আপনার বসের পূর্ণ বিপরীত। একদম ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আমি শুধু ওর এই ফাইলটা দেওয়ার জন্য এসেছি।”

রিলের বুক থেকে যেন পাথর নামল। সে হেসে বলল, “আচ্ছা আচ্ছা। আসুন, ম্যাম।”
পদক্ষেপ নিয়েই সে বলল, “ফাইলটা আমি একজনকে দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আসলে বস মিটিং চলাকালীন একেবারেই ডিস্টার্ব পছন্দ করেন না। তাই–আপনি নিশ্চয়ই বুঝবেন, ম্যাম…”
মিরা হেসে বলল, “ইট’স ওকে। আপনি আমাকে ব্রেক রুমে নিয়ে যান।”
“জি, ম্যাম।”

এরপর দুজনেই লিফটে উঠল। তবে রিলে একবারও মিরার দিকে তাকায়নি; হয়ত আড় চোখে তাকানোও তার কাছে অসম্মানস্বরূপ মনে হচ্ছিল। লিফটের স্বাভাবিক গুঞ্জনের মধ্যে তারা নীরবভাবে উপরে পৌঁছাল; মিরাকে ব্রেক রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। রিলে ফাইলটি হাতে নিয়ে বলল, “ম্যাম, আপনি এখানে বসুন। আমি এটি দিয়ে আসছি। বসের মিটিং শেষ হলেই আমি আপনার কথা জানিয়ে দিব।”

“ঠিক আছে,” মিরা হেসে উত্তর দিল এবং ব্রেক রুমের নরম সোফায় বসে পড়ল। রিলে হেসে চেহারায় সংযম রেখেই প্রস্থান করল। মিরা সামনের টেবিলে রাখা একটি ম্যাগাজিন হাতে তুলে পড়তে শুরু করল।
কিছুক্ষণ পর চারজন মহিলা স্টাফ ব্রেক রুমে প্রবেশ করল। মিরা তাদের দিকে চোখ তুলে না তাকিয়ে কেবল ম্যাগাজিনের পৃষ্ঠায় মনোনিবেশ করল। তবে তার পর্যবেক্ষণ থেকে বাদ যাচ্ছিল না, জুলির চোখে যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ঝলকাচ্ছে। জুলি অবশ্যই অতি সুন্দরী, নিখুঁত রূপের অধিকারী; কিন্তু তার চোখে রক্তিম বেগুনি রঙের মতো ক্রোধ ও হিংসার অশনি সংকেত বিদ্যমান। পাশের এরিনা হালকা কণ্ঠে বলল, “I’ve heard that K.C. Sir’s wife come to the office.”

জুলি কিছু না বলে শুধু দাঁতে দাঁত পিষতে থাকল।
এদিকে এই বাক্য মিরার কানে পৌঁছাতেই তার মস্তিষ্কে সজাগ হলো, যদিও বাইরে সে প্রকাশ্যে চুপচাপ বই পড়ার ভান করছিল।
আরেকটি মেয়ে লিউ বলে উঠল, “আবার বলো না, নইলে রাগে শরীরই পুড়ে যাবে। আমি তো জানতামই না যে কারান চৌধুরি ম্যারিড।”
জুলি তীব্র কণ্ঠে হেসে বলল, “Married, so what! Don’t you know that I dangerously love him? I just want to see that girl once, to understand how she managed to entangle the boss in marriage.”
এদিকে এঞ্জেলিনা আয়নার সামনে গিয়ে ঠোঁটে লাল লিপস্টিক ছড়িয়ে বলল, “বসের ওয়াইফ অবশ্যই অনেক বেশিই হট হবে। বাট আজকে আমি তাকে সিডিউস করে দেখাব—আমার সে’ক্সি-নৈসর্গিক মোহ তার বউকেও ছাড়িয়ে যাবে।”

মিরা সোফায় বসে থেকে শুধু ফুসফুস ভরে নিশ্বাস ছাড়ছিল। হাতে ধরা মার্কারটা এত শক্তভাবে ধরেছিল যে মনে হচ্ছিল, সেটি যে কোনও মুহূর্তে তাদের গলার দিকে ধেয়ে যাবে। তার চোখ ইতোমধ্যেই রক্তাভ হয়ে উঠেছে; কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে। নিজের সঙ্গে নিজের মনেই বারবার বলল, “আল্লাহ, এই রাগটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখো। মনে হচ্ছে আজ চারটা লাশ পড়বে। হে আল্লাহ! সামলাও নিজেকে, মিরা…”
একটু পর মিরা দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল, “আমার স্বামীর দিকে চোখ দেওয়ার সাহস করলে? একবার যদি আমি আমার আসল রূপে সামনে দাঁড়াই, তোমাদের র’ক্তে পুরো অফিস ভিজে যাবে।”
ওদিকে জুলি ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল, “সি’ডিউস করবে মানে? ওহ হ্যাঁ, এই অফিসের মেয়েদের তো কাজ ছাড়া আর একমাত্র কাজ—কে.ছি কে সিডি’উস করা। লাভ নেই, সে আমার দিকে ছাড়া আর কারো দিকে তাকাবে না।”
এ কথা কর্ণগোচর করে তিনজনেই খিলখিল করে হেসে উঠল। এরিনা মুখ উঁচিয়ে বলে, “ওহ, রিয়েলি? বস কবে কারো দিকে তাকিয়েছে?”

লিউ হেসে ব্যঙ্গভরে বলল, “তুমি তার সামনে নে’ই’কিড হয়ে দাঁড়াও, দেখি সে তাকায় কিনা!”
জুলি এবার ঠোঁট বেঁকিয়ে হেসে বলল, “যদি এতটাই বোঝো, তাহলে এত আয়োজনই কেন করা হচ্ছে তার জন্য?”
অন্যদিকে মিরা রাগের আগুনে ভস্মীভূত হয়ে আর সহ্য করতে না পেরে হুট করে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। স্কার্ফের নীচে তার ঠান্ডা মুখমণ্ডল দেখলে চারজন মেয়েই হয়ত ভয়েই কাবু হয়ে যেত। তার রাগ এতটাই প্রবল হয়েছে যে, থরথর করে কাঁপছিল সে। মিরা শীতল স্বরে হুংকার দিয়ে বলল, “হ্যালো, আ’ম মিসেস কারান চৌধুরি।”
এই শব্দগুলো চারজনের কানে যেন বজ্রপাত হয়ে ধরা দিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চারজনই প্রায় পড়ে যেত, কিন্তু নিজেদের অহংবোধ তাদের সামলে রাখল।
মিরা চোখের সানগ্লাস খুলে ফেলল। এবার তার রক্তিম চোখ সবাইকে স্তম্ভিত করে দিল। লিউ বিড়বিড় করে বলল, “তার মানে এতক্ষণ ম্যামের সামনেই বসের নামে… ওহ, ফা’কিং শি*ট!”
জুলি ছাড়া বাকিরা একযোগে কুর্নিশ করে বলল, “হাই, ম্যাম। সরি, ম্যাম। উই আর এক্সট্রিমলি সরি। স-সরি এগেইন, ম্যাম।”

মাথা উঁচু করে হাত জোড় করে আকুতি করল, “প্লিজ, ম্যাম, আমাদের জব থেকে ফায়ার করবেন না।”
মিরা তাদের ভয়ে কাবু হওয়া মুখের দিকে তাকাল না। বরং জুলির দিকে সরু চোখে তাকিয়ে দুই হাত বুকে বেঁধে কঠিন কণ্ঠে বলল, “Excuse me, do you want me to show you my power?”
জুলি ঠোঁট বেঁকিয়ে আড় হেসে বলল, “Expensive clothes can’t buy the aura of Mrs. KC. The real wife of the boss doesn’t need to prove who she is.”
মিরা ব্যঙ্গাত্মক হেসে কিছুক্ষণ জুলির দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাল। রাগে ভিতরে ভিতরে মনে হচ্ছে সে তাদেরকে কয়েকবার মে’রেও ফেলেছে। তারপর হাত পিছনে নিয়ে মুখের স্কার্ফ খুলে ফেলল। মিরার সৌন্দর্য এত গভীর ছিল যে, চারজন মেয়ের চোখ মুহূর্তেই ছলছল করে উঠল। যেন স্বর্গ থেকে কোনো পরি নেমেছে। এরিনা এক ভ্রূ উঁচিয়ে বলল, “ও এম জিইই!”

আর কোনো শব্দ বের হওয়া সম্ভব হল না। এক মুহূর্তে এরিনা হেলে পড়ে গেল নিচে। বাকিরাও স্তব্ধ থেকে হঠাৎ হুঁশে ফিরে এসে মেঝেতে ঢলে পড়ল। মিরা একেবারে স্থবির হয়ে রইল। চোখ বড়ো করে বলল, “আরে, হলো কি সবার? এই, হ্যালো?”
অকস্মাৎ মিরা সামনের আয়নায় নিজের প্রতিফলন লক্ষ্য করল। যা দেখে তার ঠোঁটের কোনে অল্পতম হাসির রেখা ফুটে উঠল। সে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে রইল, চোখের অন্তরালে নিজের সৌন্দর্যকে মাপকাঠিতে তুলল। আর এই মেয়েদের অচেতন হওয়া আরও স্পষ্ট করে দেখিয়েছে সে কতটা চিত্তাকর্ষক! কারান চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে তার সৌন্দর্য সত্যিই অপ্রতিরোধ্য।

একটু সময় পর মাথার স্কার্ফটা পুনরায় বাঁধল, চোখে সানগ্লাস পরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে পড়ল। কয়েক মিনিট ধরে ঘুরে, অবশেষে এক কক্ষের বাইরে থেমে দাঁড়াল। ভিতরে কারান গম্ভীর কণ্ঠে প্রোজেক্টরে ডিজাইন ব্যাখ্যা করছে। মিরা হালকা মুচকি হাসি দিয়ে দরজাটা আস্তে খুলল।
দেখল কারান গম্ভীর মুখে প্রেজেন্টেশন দিচ্ছে। হঠাৎই কারানের নজর দরজার দিকে পড়ল। মিরার সমস্ত চেহারা ঢেকে থাকলেও চোখ দেখেই তার পরিচয় চিনতে তার কোনো অসুবিধা হল না। ভ্রূ কুঁচকে সে বলল, “কুইন ভিক্টোরিয়া!”

মিটিংরুমের সকলের মুখে বিস্ময়ের ছাপ স্পষ্ট হলো। কেউ কেউ একে অপরের দিকে তাকাল। কারানের ম্যানেজার প্রশ্ন করল, “স্যার, রানি ভিক্টোরিয়া কোথায়? আর এখানে তিনি কীভাবে আসবে?”
এদিকে মিরা মুচকি হেসে দরজা বন্ধ করে সেখান থেকে সরে গেল। কারান অবাক চোখে বলল, “কুইন ভিক্টোরিয়া আমার বউ।”
সবার চিত্তে ধাক্কা খেল। একসাথে বলল, “এ্যা!”
ম্যানেজার স্টিফেন বিস্মিত হয়ে বলল, “কিন্তু সে তো বহুদিন আগেই মারা গেছেন!”
কারান আর কোনো ব্যাখ্যা দিল না; দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে মিরাকে খুঁজতে শুরু করল। রিলে তাকে দেখে এগিয়ে এসে বলল, “স্যার, মিসেস চৌধুরি—মানে মেলেক ইলমাজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।”
কারান ঠোঁটের কোনে হালকা হাসল। রিলে অবাক হয়ে তাকাল, কারণ কারানের মুখে হাসি দেখা খুবই বিরল।
“সে কোথায় এখন?” কারান জিজ্ঞেস করল।

রিলে চোখ নামিয়ে বলল, “ব্রেক রুমে অথবা আপনার কেবিনে।”
কারান ধীরে ধীরে স্যুট সমন্বয় করে সেই দিকে অগ্রসর হলো। ব্রেক রুমে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই তার কপালে ভাঁজ পড়ল। সে অনুপ্রবেশের পর মুহূর্তেই সেখান থেকে বেরিয়ে নিজ কেবিনে প্রত্যাবর্তন করল।
কেবিনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে কারানের কপালে আবারও ভাঁজ পড়ল, কারণ তার চেয়ারে বসে আছে মিসেস মিরা চৌধুরি। পেছনের দিকে মাথা হেলিয়ে সে এক পা অন্য পায়ের উপর তুলে রেখেছে। মনে হচ্ছে, পুরো কক্ষ তার রাজ্য, আর সে তার অনন্ত সাম্রাজ্যের অমর রানি। মিরার এই অহংকারী, রাজসিংহাসনসমান ভাব দেখে কারান সামান্য বিস্ময়াভিভূত হয়ে ভ্রূ উঁচু করল। কারান পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে গম্ভীর, গভীর স্বরে উচ্চারণ করল, “হ্যালো।”

মিরা চেয়ার ঘুরিয়ে অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রেখেই বলল, “ইয়েস, কাম ইন।”
কারান হালকা বাঁকাহাসি দিয়ে বলল, “বেচারি মেয়েগুলোকে সেন্সলেস না করলে চলত না, সুইটহার্ট?”
মিরা কারানের মতো করেই ঠোঁটের কোন চুলকাতে চুলকাতে বাঁকা হেসে বলল, “দ্যাথস নট মাই ফল্ট, হানি। কারান চৌধুরীর বউয়ের এলইডি লাইট একটু বেশিই চকমকে কিনা!”
“চলো, এবার তোমাকে কারানের এলইডি আলো দেখাই!”
মিরা কপাল কুঁচকে বলল, “কোন এলইডি?”
এক ভ্রূ উঁচু করে কারান বলল, “যার আলোতে একমাত্র মিসেস মিরাই আলোকিত হয়েছে। নো প্রবলেম, স্টারলিং—পাঁচ বছরের আগে ওই আলো দিয়ে গর্ভ আলোকিত করব না।”

মিরা হঠাৎ বুঝল কারান আসলে কী বোঝাতে চেয়েছে। তার চোখ বড়ো হয়ে গেল। দ্রুত চেয়ার থেকে উঠে কারানের মুখ হাত দিয়ে চেপে রেখে কটমট কণ্ঠে বলল, “আমরা কোথায় আছি, মনে নেই নাকি?”
কারান কিছুক্ষণ স্থির, নেশালাগা চোখে তাকিয়ে রইল মিরার দিকে। মিরা তার সেই দৃষ্টি বুঝে সেও তাকিয়ে রইল একইভাবে। হঠাৎই কারানের মুখের ভাব পালটে গেল। মৃদু কোমলতা ছিঁড়ে গিয়ে জায়গা নিল কঠিন গাম্ভীর্য। মিরার হাত ওষ্ঠাধর থেকে সরিয়ে নিল। তার চোখ দুটো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল, কঠিন গলায় বলল, “এভাবে কেন বেরিয়েছ?”
মিরা প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না। তারপর হালকা কাশি দিয়ে ভরকে যাওয়া গলায় বলল, “কেন? আমার কি শরীর বোঝা যায়?”
“না, কিন্তু আজ তোমাকে অস্বাভাবিকভাবে সুন্দর লাগছে। চেহারা না দেখেও কেউ এভাবেও তোমার প্রেমে পড়তেই পারে।”

মিরা ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি এনে বলল, “সে তো বোরকা পড়লেও হতে পারে।”
“হ্যাঁ, হতেই পারে, তাই তুমি বেরোবে না। কেন বেরিয়েছ?”
তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, গলার শিরাগুলো স্পষ্ট দেখা গেল। মিরা কাঁপা গলায় বলল, “তো-তোমার ফাইলটা রেখে এসেছিলে, ওটাই দিতে এসেছিলাম।”
“থাপ্পড় চেনো?”
মিরার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। চোখ নামিয়ে ফেলল, কিন্তু কিছু বলল না। পরক্ষণেই কারান তার বাহু ধরে টেনে নিল নিজের কাছে।
“কে বলেছিল এতটা বেয়াদবি করতে?”
মিরার চোখে আগুন জ্বলতে শুরু করল। এক ঝটকায় তার হাত ছাড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে কটমট করে বলল, “কেন? আমি আসাতে কি তোমার খুব ক্ষতি হয়েছে?”
কারান এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। মিরার হঠাৎ কঠিন হওয়ার কারণ অনুধাবন করতে পারল না। কিন্তু মিরারও রাগ থামল না। তার চোখমুখ শক্ত হয়ে উঠল, শ্বাস দ্রুত হয়ে এল।
দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “অফিসের মেয়েগুলো যেভাবে তোমার দিকে তাকায়… ওদের গলা কেটে ফেলতে ইচ্ছে করছে আমার!”

কারান ঠোঁটে বক্র হাসি টেনে দুই হাত বুকের কাছে গুটিয়ে নিয়ে শান্ত গলায় বলল, “আর ইউ জেলাস, মিসেস চৌধুরি?”
মিরা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিচু স্বরে বলল, “আবার জিগায়!”
কারান মাথা সামান্য কাত করে হাসল।
“আচ্ছা, ওদের ফায়ার করে দিব।”
মিরা এবার ঘুরে কঠিন চোখে তাকাল। তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল, “শুধু ফায়ার?”
কারান হালকা নিশ্বাস ফেলে চুলে ব্যাকব্রাশ চালাতে লাগল। তারপর শান্ত কণ্ঠে হঠাৎ বলল, “ঠিকাছে, তোমার স্যাটিসফিকশনের জন্য ওদেরকে মে’রে ফেলব।”
মিরা মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।
“কি? কী বললে?”
কারান আগের মতোই অদ্ভুতভাবে শান্ত স্বরে প্রতিক্রিয়া জানাল, “যা শুনলে।”
“তুমি কি মজা করছ?”
“না।”
মিরা রাগে তার গায়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল, “সরো তো।”
কারান মৃদু হাসি নিয়ে মিরার কোমর ধরে টান দিল। মিরার শরীর স্বাভাবিকভাবে তার সাথে মিলিত হয়ে গেল। নেশায় ভরা কণ্ঠে কারান ফিসফিস করল, “উঁহুঁ, আমি অন্য মুডে চলে এসেছি, বেইবি।”
মিরা কথার প্রতিক্রিয়া জানানোর আগেই কারান তার কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করল, “আমি টায়ার্ড হতে চাই, মিরা।”

মিরার চোখ মুহূর্তেই বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। সে স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল কারানের সম্মোহনী এবং অনিবার্য চেহারার দিকে। ঠিক তখনই বাইরে থেকে কারানের ম্যানেজার স্টিফেনের কণ্ঠ ভেসে এলো, “স্যার, আসবো?”
কারান দরজার দিকে না তাকিয়ে বলল, “নো। আগামী দেড় ঘণ্টায় এই রুমের আশেপাশেও যেন কেউ না আসে।”
“কিন্তু স্যার, মিটিং?”
“ক্যানসেল।”
তারপর ধীরে ধীরে কারান দরজায় হাত রেখে তা আস্তে করে বন্ধ করল। ধীরগতিতে মিরার দিকে এগোতে থাকল। মিরার একদম কাছে এসে সে হালকা ঝুঁকে বলল, “রিল্যাক্স, মাই লাভ… দ্য রুম ইজ কমপ্লিটলি সাউন্ডপ্রুফ।”
কারানের মনোভাব বুঝতে পেরে মিরা হঠাৎ হুঁশে ফিরল। তার রোমান্টিক চাহনি যেন হিমায়িত করে দিয়েছে। ভয়ে সে আস্তে আস্তে পেছনে সরে যেতে লাগল। কেঁপে কেঁপে বলল, “কারান, অফিসে আমরা…”
কারানও একইভাবে ধীরে ধীরে এগোতে এগোতে বলল, “ম্যাটার করে না।”
মিরার শ্বাসপ্রশ্বাস আগের চেয়ে দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠল।

“রাগ হচ্ছে কিন্তু আমার।”
“হোক রাগ!”
“আমি কিন্তু তোমার নামে অফিসে কমপ্লেইন করব।”
কারান ভ্রূ উঁচিয়ে বাঁকা হেসে বলল, “কার কাছে?”
“অফিসের সিইও—”
কারান চুপচাপ ঠোঁট ভিজিয়ে নিল। মিরা চোখ বন্ধ করে নিজেকে কল্পনায় অসংখ্য গালি দিতে লাগল। কয়েক মুহূর্তের নীরবতা পর চোখ খুলে বলল, “ধুর, কাছে এলে আজ খু’ন করে ফেলব।”
কারান নেশালো চোখে এগিয়ে আসতে আসতে বলল, “কাম অন বেইব, খুন করে ফেলো।”
“তুমি কি কখনো ভালো হবে না?”
“অফিস থেকে বের হলেই ভালো হয়ে যাবো।”
মিরা হালকা করে কারানের কাঁধ ছুঁয়ে বলল, “কিন্তু তোমার হাতে তো ব্যথা, কারান।”
“সেটারই তো মেডিসিন নেব এখন।”

আর এক পা মিরা পিছনে সরতেই হুট করেই ডেক্সের পাশে রাখা চেয়ারে বসে পড়ল। কারান ঝুঁকে চেয়ারটি নিজের দিকে টেনে আনল। এরপর চুপচাপ মিরার মুখের স্কার্ফটি খুলে ফেলল, চোখের চশমা ডেক্সের ওপর রাখল। তারপর আরও কাছাকাছি ঝুঁকে এলো। দুজনেরই নিশ্বাস একে অপরের মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছিল। মিরা শুধু স্তব্ধ চোখে কারানের দিকে তাকিয়ে রইল।
কারান হালকা স্পর্শে মিরার পায়ের মাঝখানটা হাত দিয়ে সরিয়ে জায়গা করে নিয়ে, সেখানে দাঁড়িয়ে বাঁকা হাসি দিয়ে বলল, “চেয়ার অর কাউচ? কোনটা প্রেফার করবে?”
মিরা লজ্জায় লাল হয়ে নীচে চোখ নামিয়ে ভারী নিশ্বাস ফেলতে থাকল। তার উত্তর না পেয়ে, কারান হঠাৎ তার কোমর ধরে কোলে তুলে নিল। মিরা মুখ লুকিয়ে কারানের বুকের কাছে নিজেকে সঁপে দিল।
কারান নেশালো গলায় মৃদু সুরে গাইতে লাগল,

“আ তুজহে ইন বাহোঁ মে ভার কে,
অর ভি কার লু মে কারীব…
তু জুদা হো, তো লাগে হে…
আতা যাতা হার পাল আজীব।
ইস জাহা মে হে অর না হোগা,
মুজসা কোই ভি খুশ নাসিব…
তুনে মুজকো দিল দিয়া হে,
মে হু তেরে সাবছে কারীব।”

গানের লাইনের অর্থ বুঝে মিরার কান লালচে তাপে তপ্ত হয়ে উঠল। মুখের রং এমনভাবে রক্তিম হয়ে উঠেছে যে মনে হয়, ফরসা ত্বকের ভেতর দিয়ে উষ্ণতা গলে গলে বাইরে পড়বে। সে কারানের গায়ের কোট আরও শক্ত করে টেনে ধরল, যেন সেই বুকের ভেতর নিজেকে আশ্রয় দিয়ে সমস্ত বিব্রততা আড়াল করতে পারে।
কারান মিরাকে কোলে তুলে কাউচে বসালো। তারপর নীচু হয়ে মিরার পায়ের কাছে বসল। এক হাতে মিরার স্নিকার্সের ফিতে খুলছে, অন্য হাতে মিরার হাঁটুর ওপর আলতো স্পর্শ করতে করতে বলল, “I’m burning to feel every inch of your skin against mine. Let me unwrap you, my wife.”
মিরার চোখ মুহূর্তেই বড়ো হয়ে উঠল, সে ঠোঁট কামড়ে নিজেকে স্থির রাখতে চাইল। কিন্তু কারানের দৃষ্টি ততক্ষণে তার আত্মার ভেতর গলে ঢুকে গেছে। ধীরে ধীরে কারান মিরার গায়ের পোশাকগুলো সরাতে শুরু করল। একে একে খুলে ফেলল ব্লেজার, হিজাব। মিরার কাঁধের নিচে নেমে আসতেই তার হাত থেমে গেল; কাঁধের ধবধবে রেখা যখন আলোয় উন্মোচিত হলো, কারানের নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। সম্মোহনী গলায় বলল, “You look like a dream I’ve waited my whole life to sin for; May I begin?”

তার আঙুলের ডগা মিরার চোয়ালের রেখা বেয়ে ধীরে ধীরে গড়িয়ে নামল গলার নিচে। সেখানে এসে সে আলতোভাবে ছোঁয়া দিতে লাগল, প্রতিটি ছোঁয়ায় মিরার শরীরে এক অদৃশ্য কম্পন বয়ে যাচ্ছিল। মিরার বুক ছন্দহীন তীব্রতায় ওঠানামা করছিল। কণ্ঠ একেবারে শুকিয়ে গেছে; ঠোঁটের কোণে নোনা আর্দ্রতা জমে আছে। আঁখির পলক কাঁপছে বিক্ষিপ্তভাবে, শরীরের প্রতিটি পেশি টান টান হয়ে আছে। সে অনুভব করছিল—নিজেকে ধরে রাখার সমস্ত শক্তি আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আর তার শরীর কারানের বুকে ঢলে পড়তে চাইছে অজান্তেই।
মন দ্বিধায় বিভক্ত হলো; একদিকে অজানা ভয়, অন্যদিকে তার চেয়েও গভীর, অবদমনহীন আকাঙ্ক্ষা। সে জানে এই স্পর্শ বিপজ্জনক, তবু তার ভিতরের নারীসত্তা সেই বিপদের দিকেই তীব্র আকর্ষণে ছুটছে।
তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল, রক্ত জমে গেছে সেখানে, অথচ গাল জ্বলছিল প্রজ্বলিত লাভার মতো। কারান যখনই তার দিকে আরও ঝুঁকে আসে, মিরার শ্বাস আটকে যায়; বুকের ভেতর অনুভূতির প্রজাপতিরা ডানা মেলে।
কারানের এই স্পর্শকাতর ছোঁয়ায় তার কণ্ঠে নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি ফুটলো, “আজ নিশ্চয়ই ও আমাকে সি’ডিউস করেই ছাড়বে।”

এদিকে কারান মিরার কপালে কপাল ঠেকিয়ে শ্বাস নিতে নিতে বলল, “তোমার কাছ থেকে দূরে থাকা মানে শাস্তি মনে হয় আমার।”
তারপর মিরার ঠোঁটের কোণে আঙুল ছুঁইয়ে বলল, “তুমি কি চাও না, আমি সম্পূর্ণটা তোমার ভিতরে ঢুকে যাই?”
মিরা ঢোক গিলে তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। কারান মিরার চুলে আঙুল চালাতে চালাতে বলল, “বলো, সোনা।”
মিরা ছোট্ট করে মুখ খুলল, “হুঁ, চা-চাই।”
কারান আবারও সেই মাদকতাপূর্ণ গলায় গাইতে থাকে,
“Baby, you can
Ride it, ooh, yeah
Bring it over to my place
And you be like
Baby, who cares?
But I know you care
Bring it over to my place
You don’t know what you did, did to me
Your body lightweight speaks to me
I don’t know what you did, did to me
Your body lightweight speaks to me…”

গান শেষ হতেই কারান আর কোনো সংযম রাখল না। আকস্মিক ঝড়ের মতো তার ঠোঁট গিয়ে আছড়ে পড়ল মিরার ঠোঁটে। মুহূর্তেই ভেঙে গেল মিরার সমস্ত প্রতিরোধ; এক অপ্রতিরোধ্য টানে অজান্তেই সে আত্মসমর্পণ করল।
তার নিশ্বাস ভারী হলো, দমবন্ধ করা উত্তাপে ভরপুর হলো শরীরের প্রতিটি অংশ। বুকের ভেতর প্রলয় ঢেউয়ের ন্যায় স্পন্দন হচ্ছিল—প্রতিটি ধকধকে শব্দে তার শরীর কেঁপে উঠছিল। সে কারানের শার্টের কোনা শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। স্ব ঠোঁটে যখন জিভের ডগা আলতোভাবে ছুঁয়ে গেল, মিরা বুঝল যে তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এসেছে।
কারানের পারফিউমের গোলাপের ঘন সুবাসে মিরা তখন সম্পূর্ণ বিভোর। সেই গন্ধে ছিল এক শ্লথ মাদকতা, যা তার ইন্দ্রিয়কে গ্রাস করে নিচ্ছিল ধীরে ধীরে। মনে হচ্ছিল, কারানের প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে সে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে, তবু এই হারিয়ে যাওয়াতেই যে গভীর তৃপ্তি লুকিয়ে আছে।

কারান যখন সামান্য দূরে সরে এলো, মিরার চোখ তখন শুধু তার মুখে নিবদ্ধ রইল; তার নিশ্বাসের প্রতিধ্বনি, চোখের মাদকতা, ত্বকের উষ্ণতা সব একাকার হয়ে মিরাকে আচ্ছন্ন করে রাখল। সে গভীরভাবে ঢোক গিলল। তারপর এক ঝটকায় দু’হাতে কারানের গলা জড়িয়ে নিজের ঠোঁট এগিয়ে দিল। কারণ এখন সে কেবলই মানুষটিকে অনুভব করতে চায়।
কারান বাঁকা হাসল। মিরাকে নিজের বাহুবন্ধনে টেনে নিয়ে আবার ওষ্ঠাধরের চুম্বনে তাল মিলাল। তারপর মিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে ফিসফিস করল, “The way you tremble under my touch… it’s like your body was made for me.”

কথাগুলো কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই মিরা কানের পাশে হালকা শিরশির কাঁপন অনুভব করল। সে কারানের গলা আঁকড়ে ধরে ঘন ঘন শ্বাস নিতে থাকল। তার ফুসফুস থেকে বেরোতে থাকা গরম বাতাস কারানের গলার ত্বকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। মিরা ফিসফিস করে বলল, “চুপ করো প্লিজ… আমি—”
কারান তার কপোলে অধরের আলতো ছোঁয়া দিতে দিতে বলল, “তোমাকে কিছুই করতে হবে না, শুধু আমার দিকে তাকাও, বেবিগার্ল।”
তারপর কারান ঠোঁটের কোণে এক তীক্ষ্ণ হাসি টেনে ধীরে ধীরে নিচে নামতে থাকল। তার গরম নিশ্বাস মিরার মুখ ছুঁয়ে গলে পড়ছিল শরীরের প্রতিটি কোমল বাঁকে। কয়েক মুহূর্ত পর সে উঠে মিরাকে মাঝখানে বসিয়ে নিজের দুই পা রাখল কাউচের পাশে। মিরা প্রতিরোধের পরিবর্তে দুই পা দিয়ে কারানের কোমর জড়িয়ে ধরল। সেই স্পর্শে কারানের চোখে জ্বলে উঠল কামনার শিখা।

সে মিরার বুকের কাছে মুখ নামাল, নরম চামড়ার গায়ে গরম নিশ্বাস ফেলল। মিরার দেহ কম্পনে ভরে উঠল, কাউচের বুকে সে ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়তে লাগল। কারানের শ্বাস তখন অসম হলো, তবু সে নিজের মধ্যে এক দুর্বার স্থিরতা ধরে রাখার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মিরার চোখের গভীরতা তাকে ভেঙে দিল। তার অধর সামান্য কেঁপে উঠল। কারানের আঙুল মিরার গলার পাশে এসে থেমে গেল, মুহূর্তের মধ্যে সে সেখানে আলতো এক কামড় বসিয়ে দিল। নিঃশব্দ ঘরে মিরার ঠোঁট ফাঁক হয়ে বেরিয়ে এল এক ক্ষীণ গোঙানি। কিন্তু ভেতরে ভিতরে তার শিরায় যেন এক অদ্ভুত তৃপ্তি ছড়িয়ে পড়ছিল।
কারান মুখ তুলে কিছুক্ষণ স্থির তাকিয়ে রইল। তার চোখের সামনে মিরা যেন এক অপ্সরার মতো প্রতিভাত হচ্ছিল। তার শরীরের রেখা-রূপ, কোমল ত্বকের উজ্জ্বলতা, আঙুলের স্পর্শে সাড়া দেওয়ার স্নিগ্ধতা—সবকিছু তাকে মিরার দিকে আরো গভীরভাবে টানছিল। নগ্ন দেহের মিরার সৌন্দর্যের মায়াজাল যেন ঘরটিকে পূর্ণ করে তুলছিল।
কিয়ৎকাল বাদে কারান অকস্মাৎ উঠে ভিতরের কক্ষে চলে গেল। ঘরজুড়ে তখন শুধুই শ্বাসের শব্দ শোনা গেল।
অল্প পরেই সে হাতে ভেলক্রো স্ট্র্যাপ নিয়ে ফিরে এলো। আলোতে সেটা মিরার চোখে পড়তেই সে কপাল কুঁচকালো।

“এটা কী, হানি?”
কারান ঠোঁটে নির্লিপ্ত হাসি টেনে বলল, “তুমি বড্ড নড়াচড়া করো, তাই এটা তার ওষুধ। অফিসে তো আর হ্যান্ডকাফ নেই, তাই ভাবলাম— ইট’স ওকে, এটাও চলবে। নো টেনশন, সুইটহার্ট… কারান চৌধুরি যে-কোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে জানে।”
বলতে বলতে সে স্ট্র্যাপ দিয়ে মিরার দুই হাত নিপুণভাবে বেঁধে ফেলল। মিরা কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু কারান তর্জনী তার ঠোঁটে ঠেকিয়ে হুমকিসূচক গলায় বলল, “I won’t ask again, spread those legs, or I’ll do it for you.”

মিরার চোখ বিস্ময়ে চড়কগাছ। তার নিশ্বাস কেঁপে উঠছিল, গলা শুকিয়ে গেছে, কিন্তু কিছু বলতে পারছিল না। কারান নেশাময় দৃষ্টিতে মিরার প্রতিটি শিরা-উপশিরা, প্রতিটি নড়াচড়া পড়ে ফেলছিল। তারপর নিজের সুবিধামতো মিরার পা সরিয়ে, এক টানে তার মাথা নিজের কাছে টেনে এনে, তার ঠোঁটে নিজের তাপ ছড়িয়ে দিল। সেই মুহূর্তে ঘাম গলে পড়ছিল তাদের শরীরের তাপে।

কারান মিরার কাঁধ, বক্ষাস্থল, গলা—সব জায়গায় চুম্বন আঁকতে শুরু করল। মিরার শরীর কেঁপে উঠছিল প্রতিবার, তার আঙুলগুলো নিজের অজান্তেই কারানের পিঠে আঁচড় কেটে যাচ্ছিল। ঠোঁটের কোণে অনিয়ন্ত্রিত কাঁপন হলো, চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। নোনাজল গড়িয়ে পড়ল অক্ষিপটের কোন বেয়ে। নিশ্বাসের গতিতে টানটান হয়ে আসলো শরীর, বুকের মধ্যে দ্রুত হৃৎস্পন্দনের আওয়াজও শুনতে পেল। কাউচের পাশের মেঝেতে তাদের মিলনের ছায়া এলোমেলোভাবে পড়ছিল। কারান ঘন ঘন শ্বাসের সাথে নেশালো গলায় বলল, “Don’t hide that moan… I want to hear every sound I pull from you.”
ঘণ্টাখানেক পর মিরা ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে কারানের চুল আঁকড়ে ধরে বলল, “কারান, এবা… এবার সরে যাও, প্লিজ…”
কারান মাথা নামিয়ে তার ঘাড়ে মুখ রাখল। হাস্কি কণ্ঠে বলল, “আর একবার… জাস্ট একবার, সুইটহার্ট; আই’ল স্টপ, প্রমিজ।”

তবে তার কণ্ঠে প্রতিশ্রুতির চেয়ে প্রলোভন বেশি প্রকাশ পেল। ঠিক তখনই ঘরের ভেতর কিছু একটা ভাঙার তীক্ষ্ণ শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো। দু’জনেই স্থির হয়ে গেল। কারান চোখ তুলে চারপাশে তাকাল, তারপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মিরার কানের লতিতে চুমু খেয়ে ফিসফিস করল, “কাউচ ভেঙে গেছে।”
একটু বিরতি নিয়ে মৃদু হেসে পুনরায় বলল, “তাহলে বুঝো, আমরা কতটা ডেঞ্জারাস কম্বিনেশন?”
মিরা দীর্ঘক্ষণ চোখ বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু কারানের কথার ঝটকায় হঠাৎ চোখ খুলে সামনে তাকালো। কারান মিরার হতবাক চেহারা দেখে মাথা সামান্য কাত করে আড় হাসল। মিরার বক্ষ ভাঁজে থাকা কামড়ের দাগে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, “তোমাকে চেয়ারের ফিলিংস দেওয়া এখনো বাকি, বেইবি।”
এই বলে কারান মিরার উপর থেকে উঠে চেয়ারে গিয়ে বসল। তার নগ্ন দেহে ঘামের হালকা আভা দেখা যাচ্ছিল, ঘাড়ের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রশস্ত কাঁধ, আঁটসাঁট বুকে খোদাই করা পেশির রেখা, আর সেই অদ্ভুত শান্ত কর্তৃত্বময় ভঙ্গিমা তাকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে। সে স্থির হাতে চেয়ারের হ্যান্ডেল ধরে রাখল। নেশালো চোখে মৃদু মাথা কাত করে চোখ বোলাতে লাগল মিরার শরীরে।

মিরার গাল দুটো রাঙা হয়ে উঠল। যদিও একটু আগেও তারা অন্তরঙ্গতায় হারিয়ে গিয়েছিল, তবে মিরা কেন জানি দু’হাত নিজের দেহের ওপর টেনে দেহখানি ঢাকতে চেষ্টা চালালো; পিছনের চুলগুলো সামনের দিকে এনে চোখ নামিয়ে রাখল। অবশ্য তার ভেতরের এক অংশ আবারও চাচ্ছে, সেই দৃষ্টি তাকে পুরোটা ভিজিয়ে দিক, সেই ঠোঁট তাকে আবার আয়ত্ত করুক।

কারান কপাল কুঁচকে চোখ সরু করে বলল, “এদিকে এসো।”
মিরা হকচকিয়ে কারানের দিকে তাকাল। তার অজান্তেই কেন যেন কারানের কথা তার ইচ্ছার উপর প্রভাব ফেলেছিল। সে ধীরে ধীরে এগোতে থাকল। কারানের চোখ আরও সরু হয়ে গেল, মিরা বুঝল তার এই দূরত্ব কারান পছন্দ করছে না। ঢোক গিলে সে কারানের একদম কাছে চলে এলো।
কারান পা দুটি ফাঁক করে মিরার হাতে টান দিয়ে হঠাৎ কোলে বসাল তাকে। পিছন থেকে মিরার চুল সরিয়ে সামনে এনে চুম্বনের আবেশে ভরিয়ে দিল; দুই হাত দিয়ে মিরাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখল। এতটা জোরে চেপে ধরল যে দুজনের শরীর একাকার হয়ে গেল, অথচ এখন কেউই এসব তুচ্ছ ব্যথা অনুভব করছে না।
মিরা কিছুক্ষণ পর ঘাড় ঘুরিয়ে কারানের কণ্ঠদেশে আলতো চুমু খেয়ে বলল, “কারা-কারান, এখন আমার যাওয়া উচিত।”

কারান মিরার পাঁচ আঙুলের ভাঁজে স্ব আঙুল ঢুকিয়ে বলল, “বেশি কথা বলো না, তাহলে টেপটাও ব্যবহার করতে বাধ্য হবো।”
এরপর তারা আবার আবেশের মাঝে হারিয়ে গেল।
কয়েক ঘণ্টা পর কারান মিরাকে কোলে তুলে এগোতে থাকল। মিরা তার বুকের মধ্যে গুটিয়ে বলল, “কোথায় যাচ্ছ?”
কারান হেসে উত্তর দিল, “আমার হাত পবিত্র হয়ে গেছে তোমার স্পর্শে, আর তোমার হাতটা… জুস লেগে নোংরা হয়ে গেছে। চলো, ধুয়ে ফেলি।”
মিরা লজ্জায় লাল হয়ে মুচকি হেসে কারানের বুকের মধ্যে নিজের মাথা আরও জোরালোভাবে চেপে ধরল। ওয়াশরুমে গিয়ে ঠান্ডা জলের নীচে কারান যতটুকু সম্ভব মিরার হাত এবং শরীর পরিষ্কার করল। নিজের শরীরও সামান্য পরিষ্কার করল। এরপর কক্ষে ফিরে এসে সযত্নে মিরাকে আগের মতো সাজিয়ে দিল।
মিরা এক নজর কারানের দিকে তাকাল। কারান সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে, মৃদু হাসি দিয়ে তার কপালে চুমু খেয়ে বলল, “এই অবস্থায় তুমি হাঁটতে পারবে না। তাই আমি তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি, ঠিক আছে?”

মিরা চোখ নামিয়ে সম্মতি জানালো। কারান এক হাতে মিরাকে কোলে তুলে, অন্য হাতে তার জুতো নিল। মিরা তার গলায় হাত রেখে কারানের সঙ্গে অফিসের বাইরে বের হলো। অফিসের স্টাফরা হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। অন্য দিকে মিরাকে এভাবে দেখে মেয়ে-স্টাফদের মন ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। তবে সবাই ভালোভাবেই বুঝতে পারল যে, এটাই কারানের স্ত্রী মেলেক ইলমাজ, অর্থাৎ মিরা।

Tell me who I am bonus part 1

পরদিন সকালেই সমুদ্রের ধারে চারজনের বিকৃত লা*শ ধরা পড়ল। দেহগুলো এতটাই বিধ্বস্ত ছিল যে, চেনার কোনো স্বাভাবিক রূপই ছিল না। হাত ও পা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো, চোখ দুটি ফেটে পড়া, মুখ অর্ধেক মাঝখান থেকে কে*টে দুদিকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। র*ক্তমাখা কাপড়গুলো টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল চারপাশে। তাদের দেহের কিছু অংশে সরু করে কাটা চিহ্ন ছিল, যা বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে আঘাত প্রয়োগ করা হয়েছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নিখুঁতভাবে। আর এরা সবাই সেই চারজন নারী, যারা মিরার সামনে কারানের সম্পর্কে প্রলোভন দেখিয়েছিল। এখন তাদের লা*শ এমন রূপ ধারণ করেছে যে, যে-কোনো সাধারণ মানুষ দেখলেই শিহরনে অবচেতন হয়ে যেত।

2 COMMENTS

Comments are closed.