Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১২২+১২৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১২২+১২৩

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১২২+১২৩
neelarahman

নূর ধীরে ধীরে নিচে নেমে এলো ।নিচে ছিল নওরিন আফরোজ এবং সামিহা বেগম ।দুজনে নূরকে সুন্দর করে পরিপাটি করে রেডি করে দিয়েছে । বললো,” যা যা শপিং করার যা যা ইচ্ছে সব কিনে নিবি ।টাকার কথা চিন্তা করিস না আমার ছেলের কাছে কিন্তু টাকা আছে।”
সামিহা বেগম নুরের দিকে তাকিয়ে মাথায় হাত রেখে বললেন ,”আর বেশি জ্বালাবি না যা যা পছন্দ হবে কিনবি কিন্তু নকরামি করবি না ।ও যা তোকে পছন্দ করে তাই কিনবি।”

এমন সময় দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকলো সাদাফ ।বললো,”মেয়েকে শিখিয়ে দাও পুরো শপিংমল কিনে নিয়ে আসতে ।টাকার তো কোনো সমস্যা নেই ।ব্যাংকটা আমি পকেটে নিয়েই যাচ্ছি ।”বলেই হাসতে হাসতে ভিতরে ঢুকলো সাদাফ।সামনে এসে বললো,” রেডি?”
নুর হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে বুঝালো রেডি ।
নওরিন আফরোজ বললো,” কিনবে না? প্রথম স্বামীর সাথে শপিং যাচ্ছে। ইচ্ছে মতো শপিং করবে আমার মেয়ে।”
সাদাফ নওরিন আফরোজের দিকে তাকিয়ে বললো,”ও মেয়ে তাহলে আমি মেয়ের জামাই?”
নওরিন আফরোজ বললেন,”হে তাই।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

সাদাফ নওরিন আফরোজ এর দিকে তাকিয়ে বললো,” তাহলে যাই আম্মু দেরী হয়ে যাচ্ছে।”
নওরিন আফরোজ বললো,”হ্যাঁ যাও যা যা কিনতে চায় সবকিছু কিনে দিস কেমন ?”বলেই নুরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন এবার যা দেরি হয়ে যাচ্ছে।
নূরকে নিয়ে নওরিন আফরোজ ও সামিয়া বেগমের থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে গেল সাদাফ।সাথে সাথে গাড়ির আধা ঘন্টা ড্রাইভ করে পৌঁছে গেল শপিংমলে।
শপিংমলে পৌঁছে প্রত্যেকটি দোকান ঘুরে ঘুরে সাদাফ দেখছে ।নুর কিছুই বলছে না ।যেন শপিং নুর না সাদাফ করবে ।নুর শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে।

সাদাফ দুইটা শাড়ী ধরলো নুরের সামনে।বললো কোনটা সুন্দর?
নুর বললো জানি না।একটা শাড়ী লাল আরেক টা রয়েল অফহোয়াইট।নুর লজ্জা পেয়ে চুপ করে আছে।
সাদাফের দুইটাই পছন্দ।তাই বললো,” দুটোই দিন।”
নুর বললো ,”কেনো দুইটি?”
সাদাফ বললো,”কেন তুই কি শুধু একদিন আসবি?তুই তো মাঝেমধ্যে আসবি।”
নুর লজ্জা পেয়ে চুপ হয়ে গেল।এই লোক খালি লজ্জা দেয় নুর কে।
সাদাফ বললো,” পারলে তো তোকে যেতে দিতাম না। সারাদিন রাত আমার চোখের সামনে রাখতাম।”
নুর লজ্জায় মাথা নত করে রইলো।সাদাফ শাড়ী দুটো নিয়ে একে একে জুতা চুরি সালওয়ার কামিজ কিনলো। হঠাৎ মনে পড়লে পেটিকোট ব্লাউজ কিনে নি।

ব্লাউজের সেকশনে দাড়িয়ে নুরের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো।তারপর সেলস গার্ল কে বললো ,”৩৩ সাইজের রেড এন্ড অফহোয়াইট দুটো ব্লাউজ দিন।
নুর অবাক হয়ে গেলো।নিজেকে একটু আড়াল করে মনে মনে ভাবলো ,” সাদাফ ভাই কি করে জানলো নুরের সাইজ?”
সাদাফ মুচকি হাসলো।হেসে বললো,” আমার জিনিসের খোঁজ আমি রাখবো না ভাবলি কি করে?”
নুর পারছে না লজ্জায় ম*রে যেতে।

সাদাফ নুর কে দোকানের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে বললো,” তুই একটু দাঁড়া ।আমার একটু কাজ আছে ।”
বলেই ভিতরে গেল ।গিয়ে কিছু একটা কিনে প্যাকেট হাতে নিয়ে আসলো ।নুর জানতে চাইলো কি?
সাদাফ কিছুনা বলে নুরের হাত ধরে এগিয়ে গেল ফুলের সেকশনের দিকে।
কয়েক টা কাঠগোলাপ ফুল নিয়ে নুরের দুহাতের মুঠোয় নিলো॥নুরের খুব পছন্দের ফুল।
সাদাফ বললো,” আরো চাই?”
নুর বললো,” না!”
সাদাফ: বেলী ফুলের মালা দিন।”
দোকানী ফুলের মালা দিলো।

সাদাফ ফুলের মালা গুলো হাতে নিয়ে নুরকে শাড়ী চুড়ি ফুলের মালা পরিহিত অবস্থায় কল্পনা করলো।
শপিং শেষ করে রাতে ডিনারের জন্য শপিং মলের ই ফুড কর্নারে বসলো সাদাফ এবং নূর ।নূর কে জিজ্ঞেস করল কি খাবে নূর?
নুর বললো,” পিৎজা।”
সাদাফ দুটো পিৎজা অর্ডার করলো।সাখে ড্রিংকস।আর দুটো ফ্রাইড রাইস চিকেন কারি বিফ স্টেক ভেজিটেবল কারি।
ডিনার শেষ করে গাড়ী নিয়ে বের হয়ে পড়লো বাড়ির উদ্দেশ্যে সাদাফ নুর।৪০ মিনিট ড্রাইভ করে পৌঁছে গেল বাড়িতে ।নূরের কেমন যেন লজ্জা করছে ।লজ্জায় হাত পা কাপাকাপি করছে নূরের ।এখন এই বাড়িতে আর কেউ থাকবে না শুধু নুর আর সাদাফ।ভাবতেই ভিতরে কেমন কলিজা কেঁপে উঠছে নূরের।

নূর গাড়ি থেকে নামতেই ঠান্ডা হাওয়া গাল ছুঁয়ে গেল।
লজ্জায় লাল হয়ে থাকা গাল দুটো আরও দু’শেড গাঁঢ় লাল হয়ে গেলো।
শপিং ব্যাগগুলো গাড়ির পিছনের সিটে সাজানো ।সাদাফ হাত বাড়িয়ে সব নামিয়ে নিল।আড় চোখে তাকিয়ে দেখলো নুর কে।কিন্তু নূর তখনো নিচের দিকেই তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।দু’হাতের আঙুলগুলো জড়িয়ে ধরে আছে।
লিফ্ট থেকে নেমে ফ্ল্যাটের দরজা খুললো সাদাফ।নুরকে ভিতরে ঢুকতে বললো।নুর ছোট ছোট পা ফেলে ভিতরে প্রবেশ করলো।আজ পুরো ফ্ল্যাট নিস্তব্ধ।কোনো শব্দ নেই, কোনো মানুষ নেই, শুধু দু’জনের নিঃশ্বাসের ভারী গম্ভীর শব্দ।

সাদাফ নূরের পাশে এসে দাঁড়ালো।
নূরের মাথার কাছে সামান্য ঝুঁকে থাকায় নুরের আলতো কাঁপুনি সবই সাদাফ অনুভব করতে পারছে।
সাদাফ কন্ঠ নরম করে গভীর স্বরে বলল ,”নূর ভয় পাচ্ছিস নাকি লজজা?”
নূর মাথা আরও নিচু করে ফেললো, যেন চোখ তুললেই নিজেকে সামলাতে পারবে না।
খুব আস্তে বলল ,” ভয় পাচ্ছি না।”
কথাটা শেষই করতে পারল না নুর।
গলাটা কেঁপে উঠলো নুরের।
সাদাফ কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো নুরের দিকে তারপর দু’হাতে শপিং ব্যাগগুলো থেকে সেই দুটো শাড়ি বার করলো।একটা লাল…
একটা অফ-হোয়াইট।

নূরের সামনে ধরে জিজ্ঞেস করলো,”আজ কোনটা পড়বি? পড়তে পারবি?নাকি হেল্প লাগবে।”
নূর চমকে মুখ তুলে তাকাতেও পারল না।ঠোঁট কাঁপছে, হাতের তালু ঘেমে গেছে।নুর জানে খুব ভালো করেই জানে আজ এসব শাড়ি শুধু সাজবার জন্য নয় সামনে যা হতে চলেছে, সেই ভাবনাতেই বুক ধড়ফড় করছে নুরের।
নূর খুব আস্তে বলল,”পারবো।”
সাদাফ ওর খুব কাছে এসে দাঁড়াল।

সাদাফের কণ্ঠটা আরও নিচু আরও গভীর হয়ে গেল।ঘোর লাগা কন্ঠে বললো,”নূর আজ তুই যা চাইবি তাই হবে।কোনো জোর কোনো তাড়া নেই। কিন্তু আমি চাই তোকে।তুইকি তোকে আজ আমায় দিবি?”
নূর লজজায় মাথা নত করলো।কিন্তু লজ্জাটা এমনভাবে বাড়ছে এক পা বাড়িয়ে সামনে হাঁটতেও পারছে না।
ভেতরের কাঁপুনিটা পুরো শরীরে ছড়িয়ে আছে।
সাদাফ শাড়িগুলো আবার নূরের হাতে ধরিয়ে দিল।সাদাফের আঙুল গুলো নূরের আঙুল ছুঁয়ে গেল।নূরের বুকের ভেতর কেমন উথাল পাথাল ঝড় শুরু হলো।

“লালটা পড়বি? না অফহোয়াইট টা?”সাদাফ জিজ্ঞেস করল।
নূর চোখ না তুলেই মাথা সামান্য নাড়ল।বললো ,”অফহোয়াইট টা পড়বো।
সাদাফ মৃদু হাসলো ।সেই পরিচিত হাসি।যার শব্দও নূরের শরীরের ভেতর কেমন উষ্ণতা সৃষ্টি করে।
সাদাফ ঘোর লাগা কন্ঠে বললো,”তাহলে ভেতরে চল।
তোকে আজ আমি নিজ হাতে সাজিয়ে দেব।”
নূর হাঁটা শুরু করতে গিয়ে থেমে গেল।একইসাথে কাঁপছে লজ্জা পাচ্ছে আর একটা অদ্ভুত টানও অনুভব করছে সাদাফের প্রতি।

সাদাফ লক্ষ্য করল নুর লজ্জা পাচ্ছে।
সাদাফ ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে নূরের হাত ধরল।বললো,”নূর।”
কণ্ঠ খুব নরম করে ডাকলো সাদাফ।এভাবে মাথা নিচু করে থাকিস না।বেশি লজ্জা পাচ্ছিস?তোকে দেখে আমার মনে হচ্ছে তুই ভিষন লজ্জা পাচ্ছিস।”
নূর মাথা আরও নিচু করে ফেলে ফিসফিস করে বললো,”লজ্জা লাগছে।”
সাদাফ ওর হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল ,”লজ্জা পাস পা কিন্তু ভয় পাবি না।”

তারপর খুব ধীরে খুব যত্ন করে নূরকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করালো।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা যেন পুরো রাতটাকে বদলে দিল।
ঘরের নরম আলোয় নূর দাঁড়িয়ে আছে।লজজায় আর কাঁপুনিতে ঠোঁট থরথর করে কাপছে।
হাতে ধরা অফহোয়াইট শাড়িটা যেন ওর বুকের সাথে লেগে আছে।
সাদাফ ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে নূরের কানে ঝুঁকে ঘোর লাগা কন্ঠে ফিসফিস করে বললো,”আজ… তোকে আমার চোখের সামনে সাজতে দেখবো নূর।নিজ হাতে সাজাবো তোকে আর তুই শুধু আমার চোখের কাছে থাকবি।”
নূর চোখ বন্ধ করে ফেললো।

লজ্জায়, উত্তেজনায় আর সেই অনিবার্য অদ্ভুত টানে।
নুরের হাত থেকে শাড়িটি নিয়ে একটি ব্যাগ থেকে পেটিকোট এবং ব্লাউজ বের করে বললো,” ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে আয় ।আমি শাড়ী পড়িয়ে দিচ্ছি।নূর আর কোন কথা বলল না।”
নুর সাথেসাথে ব্যাগটি নিয়েই ওয়াশরুমের দিকে বড় বড় পা ফেলে চলে গেলো।ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়েই নুর জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।লজজায় যেনো দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নুরের।

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১২০+১২১

সাদাফ বেলী ফুলের মালা দুটো হাতে নিয়ে চোখ বন্ধ করলো।মনে মনে ফুলেল সাজে সজ্জিত নুর কে কল্পনা করতে লাগলো।
ওয়াশরুম থেকে বের হতেই সাদাফ চোখ তুলে তাকালো নুরের দিকে।চোখ দুটো যেনো ঝলসে যাচ্ছে সাদাফের নুরের দিকে তাকিয়ে।

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১২৪+১২৫