চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ১৩+১৪
আয়াত বিনতে নূর
ভোরের নরম রোদ জানালার কাঁচ ছুঁয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকছে—মেঝেতে, পর্দায়, বেডশিটের উপর সেই আলো যেন হালকা সোনালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে। নিশির চোখ ধীরে ধীরে খুললো।
ভেজা পাপড়ির চাহনি, ক্লান্ত মুখ—
মনে হয় যেন পুরো রাতটা সে ঘুমায়নি।
ও উঠে বসে বেডের কিনারায়। একটু চুপচাপ।
নীরবতা যেন বুকের ভেতরে একটা পাথরের মতো জমাট বেঁধে আছে। হঠাৎই মনে পড়ে গেলো—
গতকাল ফারিস তাকে যে কথা বলেছে।
“নষ্ট মেয়ে…”
“নষ্টামি করতে কলেজে যায়…”
হৃদয়ে যেন আবার ছুরি ঢুকিয়ে দিলো কেউ।
মুহূর্তেই চোখ ভিজে উঠলো।
ঠোঁট কাঁপতে লাগলো।
এরপর হঠাৎ ফুঁপিয়ে কান্না—
—”আমিই নাকি নষ্ট মেয়ে?
আমি নাকি নষ্টামি করতে কলেজে যাই?
এটাই আপনার চোখে ইমেজ আমার, ফারিস ভাই?”
তার কান্নায় পুরো রুমটা কেঁপে ওঠে। বালিশ ভিজে যায়। তবু কান্না থামে না।
এমন সময় রিয়া ভিতরে ঢোকে। নিশিকে এভাবে কান্না করতে দেখে তার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
সে দৌড়ে গিয়ে নিশিকে জড়িয়ে ধরে—
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—”লক্ষ্মী বোন, কী হয়েছে? এভাবে কাঁদছিস কেনো? বলতো?”
কিন্তু নিশি শব্দই করতে পারছিল না…
ও শুধু রিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না করে যায়।রিয়ার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে।
ও মনে-মনে ভাবে—
“ফারিস ভাইই কি কিছু বলল?”
রিয়া জিজ্ঞেস করে—
—”ফারিস ভাই কিছু বলেছে?”
কিন্তু নিশি মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
কান্না থামিয়ে গলা আড়ষ্ট হয়ে বলে—
—”না, রিয়া… কিছু হয়নি। আমি ঠিক আছি।”
রিয়া বুঝতে পারে—
কিছু একটা হয়েছে, কিন্তু নিশি বলতে চাইছে না।
তাই আর চাপ দেয় না।
সে নরম গলায় বলে—
—”যা, নামাজ পড়ে আয়। মন হালকা হবে। আমি পরে আসছি।”
নিশি উঠে যায় ওয়াশরুমে। ওয়াশরুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই নিজের ক্লান্ত, কান্নায় ভেজা চেহারা দেখে নিশির বুকটা ভেঙে যায়।
নিজেকে ব্যঙ্গ করে সে বলে—
—”দেখ, দেখ নিশি… তুই কী!
তোর রূপ, তোর সৌন্দর্য, তোর মায়া—
কিছুই তো মূল্য নেই!
যেই মানুষটার ভালোবাসা চাই, সে তোকে ঘৃণা করে।তার চোখে তুই নাকি নষ্ট মেয়ে…”
আবার কান্না…দেয়াল ধরে দাঁড়ানো অবস্থায় কাঁপতে থাকে।কিন্তু কোনো মতে নিজেকে সামলায়।
অজু করে।ফ্রেশ হয়ে রুমে ফিরে আসে।
নিশি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ শুরু করে।
তার কণ্ঠ কাঁপে, চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।
কিন্তু তবুও সিজদায় মাথা রাখে—
—”আল্লাহ… আমাকে শক্তি দাও।”
নামাজ শেষে দু’চোখে শান্তির আভা দেখা গেলেও মনটা ভারীই রয়ে যায়।
রিয়া বাইরে থেকে এসে নিশির রুমে দেখে—
ও তখন নামাজ পড়ছে।
রিয়া আস্তে বলে—
—”ভালো হয়েছে, অন্তত নামাজে শান্তি পাবি…”
নামাজ শেষে রিয়া বলে—
—”চল নাস্তা খেতে যাবি?”
নিশি নরম গলায়—
—”তুই যা, আমি আসছি। একটু পড়বো।”
রিয়া চলে যায়। নিশি পড়ার টেবিলে বসে।
কিন্তু মন বইয়ে নেই। কালকে ফারিস তার সাথে যা করেছে মেন হচ্ছে সব ফিলিংস মরে গেছে।কিন্তু সত্যি কি তাই? বারবার ফারিসের কড়া কথা মনে পড়ে। বুকের ভেতর ব্যথা বাড়ে।
ও নিজেকে বোঝায়—
—”ফারিস ভাই তো আমার কেউ না…
তিনি যা বলেছে, বলুক।
আমাকে শুধু পড়াশোনায় মন দিতে হবে…”
কিন্তু মনের কথা কি বলার মতো সহজ?
তবুও সে চেষ্টা করে।
দীর্ঘসময় ধরে পড়তে থাকে।
ঘড়িতে ৮:২০। সে উঠে শাওয়ার নিতে ওয়াশরুমে যায়। ভেজা চুল শুকাচ্ছে।
হালকা করে কাজল দেয়…ঠোঁটে লিপগ্লস…
নিজেকে আয়নায় দেখে বলে—
—”এই রূপের কি লাভ?
যার কাছে আমার দামই নেই…”
মনটা আবার ভেঙে যায়।
ও নিচে নেমে দেখে—রিয়া বসে আছে
আর আফিয়া চৌধুরী ও আমেনা চৌধুরী রান্নাঘরে ব্যস্ত।
নিশিকে দেখে আমেনা চৌধুরী স্নেহভরে বলেন—
—”কি হইছে মা? গতকাল তোকে দেখিই গেলাম না…”
নিশি মৃদু হাসে—
—”মাথা ব্যথা করছিল আম্মু।”
আমেনা আর কিছু বলেন না।
নিজের হাতে প্লেটে খাবার তুলে দেন।
নিশি তাড়াহুড়ো করে খেতে থাকে।
—”এভাবে খাইস না মা! গলায় আটকে যাবে।”
—”আম্মু, আজকে তাড়াতাড়ি কলেজে যেতে হবে…”
খাওয়া শেষ করে সে দৌঁড়ে উপরে চলে যায়।
রিয়াও খেয়ে রেডি হয়ে নিচে নামে ঠিক সেই সময় নিশিতা কলেজ ব্যাগ গাধে নিয়ে আসে।তারপর রিয়ার পাশে এসে দাঁড়ায় —
“নিশিতা বলল -দেড়ি হয়ে যাচ্ছে চল তাড়াতাড়ি”।
এইবলে রিয়াকে একপ্রকার টানতে লাগে।
রিয়ার আচমকা ফারিসের কথা মনে পরে,
কারণ ফারিস ভাই তাদের নিয়ে যাবে তারপর দিয়ে আসবে এইটাত একপ্রকার ভুলেই গিয়েছিলো। তার
রিয়া বলে—
—”ভাইয়াকে ডাকছি—”
কিন্তু নিশি থামিয়ে দেয়—
—”আজ আমরা রাজু আঙ্কেলের সাথে যাবো।
তুই যদি ভাইয়ার সাথে যেতে চাস, চলে যা।
আমি যাবো না তার সাথে।”
রিয়া চমকে যায়। সে বুঝে—
নিশির কষ্ট খুব গভীর।
—”না না, আমি তোর সাথেই যাবো।”
দু’জনে বাড়ির গাড়িতে ওঠেপরে।
এইদিকে ফারিস জিম সেরে সাওয়ার নিতে চলে যায় তারপর এসে রেডি হয়ে ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখে ৯:২০ দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আবার ওদের দুজনকে কলেজে দিয়ে আসতে হবে তাই তাড়াতাড়ি কালো শার্ট আর সাদা জিন্স পরে নিচে আসে।
তারপর তার মা কে উদ্দেশ্য করে বলে—
—”আম্মু, খেতে দাও। আর নিশি আর রিয়াকে বলো তাড়াতাড়ি আসতে। ড্রপ করে অফিস যাবো।”
আফিয়া চৌধুরী অবাক—
—”ওরা তো রাজুর সাথে কলেজে চলে গেছে।”
ফারিসের গ্লাসে ধরা হাত শক্ত হয়ে যায়।
রাগে চোয়াল শক্ত। সে শব্দ না করে ঘুরে দাঁড়ায়।
গম্ভীর, ভারী পায়ে উপরে উঠে যায়।
বক্সিং রুমে যায়।
এদিকে ছেলের এই খাপছাড়া ব্যবহার নিতে পারলেন না। তারপর হতাশা নিয়ে তাকিয়ে রইলো ছেলের যাওয়ার পানে।
সে পাঞ্চিং ব্যাগে ঘুষি মারতে থাকে।
ভয়ানক রাগ। হাতের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে।
হঠাৎ সে আয়নার সামনে গিয়ে থামে।
নিজের দিকে তাকিয়ে ঠাণ্ডা, কঠিন গলায় বলে—
—”অনেক ছাড় দিয়েছি তোকে, নিশি…
কিন্তু আর না।তুই ভাবতিস আমি তোকে অবহেলা করি?বাট ইউ আর রঙ।
আমি সবসময় তোর খবর রেখেছি।
আর তুই আমার হবি। ইটস ফাইনাল।
আমার থেকে তুই পালাতে পারবি না।”
রাগে সে আয়নায় ঘুষি মারে।
আয়না ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ।
হাতে কেটে রক্ত বের হলেও সে টের পায় না।
তার চোখ লাল—
মুখ গম্ভীর—
তার ভেতরের আগুন যেন বাইরে বেরিয়ে আসছে।
তখনই কল আসে সেক্রেটারি নিহানের।
ফারিস ছোট করে বলে—
—”হুম, আসছি।”
দীর্ঘ শাওয়ার শেষে স্যুট পরে অফিসে যায়।
মিটিংয়ে বসে থাকলেও তার মন নেই সেখানে।
মন পড়ে আছে একজন মেয়ের ওপর—
একটা অচেনা কষ্টে ভরা ছোট্ট মেয়ের ওপর…
নিশি।ফারিস মুখ ঘুরিয়ে নিজেকে শক্ত করে বলে—
—”আর বেশি দেরি নয়…”
কলেজে পৌঁছে রিয়া আর নিশিতা নিজেদের ক্লাসরুমে গিয়ে আগের মতোই জায়গায় বসে।
রিয়া প্রাণখোলা স্বভাবের মেয়েটা—প্রতিদিনের মতো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হাসাহাসি আর গল্পে মেতে আছে।
কিন্তু নিশি আজও অদ্ভুত চুপচাপ; তার দৃষ্টি যেন শূন্যে হারিয়ে গেছে, মনটা কোথাওই নেই। পাশে বসা অহনা বুঝতে পারছিলো কিছু একটা সমস্যা আছে, কিন্তু তবুও জোর করে কিছু বলতে গেলেও নিজেকে সামলে নিলো।
ক্লাস শুরু হতেই সবাই বই খাতা খুলে মনোযোগ দিলো। কিন্তু নিশির চোখ বোর্ডে থাকলেও মনটা যেন অনেক দূরে কোথায় যেন হারিয়ে। এভাবে দুইটা পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলো।
তৃতীয় পিরিয়ডের পর নতুন স্যার ক্লাসে ঢুকে হাসিমুখে বললেন—
— “দুই দিন পর কলেজে বাৎসরিক এনুয়াল ফাংশন হবে!”
পুরো ক্লাসে যেন হইচই পড়ে গেলো। রিয়া আর অহনা খুশিতে হাত চাপড়াতে লাগলো।
বছরজুড়ে যেই অনুষ্ঠানটার জন্য সবাই অপেক্ষা করে, সেটাই যখন সামনে—উত্তেজনা তো থাকবেই!
স্যার আবার বললেন—
— “নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি—যার যেটা ইচ্ছে, অংশগ্রহণ করতে পারবে।”
সবাই মেতে উঠলেও নিশি যেন এখনও নিস্তব্ধ—যেন কিছুই হয়নি।
সেটা দেখে অহনা রিয়ার কানে ফিসফিস করে বলল—
— “নিশির মনটা ভালো করতে হবে রে।
ও তো দারুণ নাচে! আমরা তিনজন মিলে নাচ করলে কেমন হয়?”
তারপর দু’জন মিলে নিশিকে ডাকল।
অহনা বলল—
— “নিশি চল না! আমরা তিনজন একসাথে নাচ করবো এনুয়াল ফাংশনে। তুই তো দুর্দান্ত নাচতে পারিস, আমরা দুইজনও মোটামুটি করে নেবো।”
নিশি ধীরে মাথা নেড়ে বলল—
— “তোরা কর। আমি করবো না। আমার ইচ্ছে নেই।”
রিয়া আর অহনা দু’জনেই মুখ ফুলিয়ে বসলো, যেন পাঁচ বছরের বাচ্চা রাগ করেছে। সেটা দেখে নিশির মন নরম হলো।
নিশিতা মনে মনে বলল, ফারিস ভাইয়ার জন্য আমি এদের কেন কষ্ট দেব। তাই কিছু একটা ভেবে
হালকা মুচকি হেসে সে বলল—
— “ঠিক আছে… তবে একটা শর্ত আছে।”
নিশিতার কথা শুনে রিয়া আর অহনা একবার নিজেদের দিকে তাকালো
তারপর
রিয়া হাসতে হাসতে বলল—
— “বল মা, আমরা তোর সব শর্ত মানতে রাজি !”
নিশি বলল—
— “আমি হিজাব নাচবো না। হিজাব পরে নাচবো।”
শাড়ীর সাথে হিজার পরব।
অহনা আর রিয়া দু’জনই হাততালি দিয়ে বলল—
— “যো হুকুম মহারাণী!”
কলেজ ছুটি হতেই তিনজন হাসতে হাসতে বের হলো। রিয়া আর নিশি গাড়িতে উঠে চৌধুরী ভিলার পথে রওনা দিলো। আজকের চেয়ে আগের দিনের তুলনায় নিশির মনটা কিছুটা ভালো।
বাড়ির সামনে গাড়ি থামতেই দু’জন নেমে ভেতরে প্রবেশ করলো।
আমেনা চৌধুরী তাদের দেখে বললেন—
— “কি রে, আজ এত তাড়াতাড়ি?”
নিশি শান্ত সুরে বলল—
— “আম্মু, আজকে এক্সট্রা ক্লাস ছিল না। আর দুদিন পর আমাদের কলেজে এনুয়াল ফাংশন…”
মেয়ের কথা শুনে আমেনা চৌধুরি হেসে বললেন—
— “আচ্ছা ঠিক আছে। আগে ফ্রেশ হয়ে আয়। আমি খাবার দিচ্ছি।”
দু’জনই সোজা রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলো। দেখলো টেবিল গোছাচ্ছেন শুধু আমেনা চৌধুরী।
নিশি বসে জিজ্ঞেস করল—
— “বড় আম্মু কোথায়?”
মেয়ের কথা শুনে আমেনা চৌধুরি বললেন**
— “ভাবির মাথা ব্যথা। নামাজ পড়ে শুয়ে আছে বোধহয়।”
নিশি চুপচাপ খেতে শুরু করলো। আজ তার ভীষণ পছন্দের সব খাবার—গরুর মাংস, চিংড়ি মালাই, ইলিশ ভাজা। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো, এগুলো তার জন্যই রান্না হয়েছে।
নিশিতা খাচ্ছিলো আর এমন সময় রিয়া ফ্রেইস হয়ে নিচে এলো
তারপর বলল**
—কিরে নিশুর বাচ্চা আমাকে রেখেই খেয়ে নিজে খেয়ে নিচ্ছিস??
নিশিতা হালকা হেসে জবাব দিলো*
—নারে খাচ্ছি না তারাতারি বস খেয়ে নেই।
নিশিতার কথা শুনে রিয়া বসে পরলে। নিশিতা আর রিয়া একসাথে খাওয়া শুরু করে। কিন্তু তাদের খাওয়া মাঝে তনয়া তারাতাড়ি এসে ডাইনিং
হলের সোফায় এসে বসে পরে।
রিয়া তনয়াকে দেখে জিজ্ঞেস করে কি হলো আপু এত তাড়াতাড়ি চলে এলে।
এমন সময় তনয়া বলল—
— “এতো বোরিং ক্লাস ছিলো যে পালিয়ে চলে এলাম!”
তার ভঙ্গিতে এমন মজার একরকম নাটকীয়তা ছিলো যে রিয়া আর নিশি হেসে গড়াগড়ি খেলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হলো তনয়া
রাজীবের দুষ্টুমি, কানমলা–দৌড়াদৌড়ি–হাসাহাসি—বাড়িটা যেন মুহূর্তেই সরব হয়ে উঠলো।
কিন্তু বিশৃঙ্খলার মাঝেও কারো চোখে একটা অভাব—
ফারিস আজও বাড়ি ফেরেনি।
আরাফাত চৌধুরী বিরক্ত স্বরে বললেন—
— “তার নিজের ব্যবসা নিয়ে আবার কত ব্যস্ত! এত টাকা দরকার পড়ে কোন কাজে?”
সবার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। আর নিঃশব্দে উঠে চলে গেলো নিশি। কেউ কিছু বলতে পারলো না।
নিশি টেবিলে বসে পড়তে পড়তে হঠাৎই পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো—
যখন সে অসাধারণ নাচ করতো…
বাড়ির সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো…
কিন্তু— একটি ঘটনাই সব পাল্টে দিয়েছিলো।
একটি ছেলের নির্দোষ প্রশংসাতেই ফারিসের অকারণ রাগ— আর সে রাগের কারণেই নিষেধাজ্ঞা…ঝড়ের মতো থেমে গিয়েছিলো তার নাচ, তার আনন্দ, তার রঙিন ইচ্ছেগুলো।
স্মৃতি মনে আসতেই নিশির চোখ লাল হয়ে উঠলো।
নিজেকে বলল—
“যা ইচ্ছে হবে আমি তাই করবো। আর কারো কথা শুনবো না। ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরী—আপনার জন্য আমার জীবন থেমে থাকবে না।”
সময় দেখলো—১০:৩০।
বই গুছিয়ে রুম থেকে বের হতেই দেখলো রিয়া ডাকতে আসছে।
দু’জনে নিচে এলেও ফারিস এখনও ফিরে আসেনি।
আফিয়া চৌধুরী উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন—
— “ফারিস কোথায়? সকাল থেকে বেরিয়ে আছে।”
নিশির বুক ধক করে উঠলো।
কিন্তু মুখ ভার করে কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো।
ঢাকা শহর থেকে অনেক দূরে, এক পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো ফারিস।
তিনজন লোক বাঁধা। ফারিসের চোখে হত্যার আগুন।
— “তুই আমার নিশিতার দিকে হাত বারিয়ে ছিলি?”
এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে ফারিস গুলি চালালো।
হাত, পা—অসহায় চিৎকারে ভরে উঠলো বাড়ির ভেতরটা।
ফারিস শান্ত, ঠান্ডা, নির্মম স্বরে বলল—
— “আমার জানকে কষ্ট দিতে চাইছিস? ভবিষ্যতে করিস তো দেখি!”
পায়ে গুলি করতে করতে যেন তার মুখে সন্তুষ্টির ছাপ।
চৌধুরী ভিলা – রাত ১২টা নিশি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর দেখছে ফারিসের গাড়ি আসে কি না।কিন্তু রাস্তা ফাঁকা।
আকাশ নীরব। মনটা তুচ্ছ, অবহেলিত, কষ্টে ভরা।
নিজেকে বলল—
— “ফারিস ভাই স্বার্থপর! কেনো আমি ভাবছি ফারিস ভাইয়ের কথা?”
তারপর নিজের রুমে এসে বিছানায় কিছু একটা ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গেলো।
চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ১১+১২
রাত ২টাঅন্ধকার ভেদ করে মার্সিডিজ-বেঞ্জ ঢুকে দাঁড়ালো চৌধুরী ভিলার সামনে।
হেডলাইট নিভে গেলো।
ফারিস নামলো…চোখে রক্ত, শরীরে ক্লান্তি, মুখে আগুন…আর ভেতরে? কারও কোনো ধারণাই নেই সে কোথায় ছিলোকী করলো। কোন ছায়া তাকে ঘিরে আছে।
