Home লাল শাড়িতে প্রেয়সী লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৪

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৪

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৪
Fatima Fariyal

“নীলা! তুই এখানে?”
দরজাটা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই আদিলের চোখে ধরা পড়ল একেবারেই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য। নীলা মেঝেতে বসে আছে। দুটো হাঁটুর ভাঁজে চিবুক ঠেকানো, কাঁধ দুটো কাঁপছে, ঢুকরে ঢুকরে কান্নায়। কান্নাটা এমন যে শব্দ বেরোচ্ছে না। শুধু ভেতরের আর্তনাদ গলায় আটকে আছে। আদিলকে দেখামাত্রই নীলা চোর ধরা পড়ে যাওয়ার মতো চমকে উঠল। ধড়ফড়িয়ে উঠে হাতের উল্টোপিঠে তাড়াহুড়ো করে চোখ মুছে মুখে স্বাভাবিকতার মুখোশ টানার প্রাণপণ চেষ্টা করল। কিন্তু তৎক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। তার লাল হয়ে যাওয়া চোখ, কাঁপা ঠোঁট, অস্থির নিঃশ্বাস আদিলের চোখ এড়িয়ে যেতে পারেনি।

“তুই কাঁদছিলি?”
আদিলের কণ্ঠে উদ্বেগ স্পষ্ট।
“কেন? কী হয়েছে? তোকে কেউ কিছু বলেছে? কেউ কিছু করেছে?”
“ক… কই কাঁদছিলাম।”
নীলার কণ্ঠে ভাঙা কাঁচের মতো ভঙ্গুরতা। কথাটা বলেই সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। আদিল এক পা এগিয়ে এলো। তার বুকের ভেতর অজানা আশঙ্কা দানা বাঁধছে।
“আমি স্পষ্ট শুনেছি নীলা। তুই কাঁদছিলি। কেন কাঁদছিলি বল। তোকে কেউ কিছু বলেছে? কেউ খারাপ কিছু করেছে? আমাকে বল।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নীলা ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল। যেন আদিলের চোখে নিজের জন্য কোনো অবলম্বন খুঁজছে। নাক টেনে, গলা পরিষ্কার করার বৃথা চেষ্টা করে বলল,
“পাপা আর মাম্মার… ডিভোর্স হয়ে গেছে।”
“হোয়াট!”
শব্দটা আদিলের মুখ থেকে বেরোল অবিশ্বাস আর ধাক্কার মিশেলে। নীলা মাথা নিচু করে ফেলল। ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরল, যেন ভেতরের তীব্র যন্ত্রণাটা বাইরে বেরিয়ে না আসে। এই চরম সত্যিটা সে জেনেছে মাত্র গত সপ্তাহে। এতদিন মা-বাবা দুজনেই বিষয়টা তার কাছ থেকে লুকিয়ে এসেছে। হঠাৎ করেই তার সামনে ভেঙে পড়েছে একটা গোটা পৃথিবী।

নীলা মাঝে মাঝেই ভাবে, তার জীবনে সুখের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। একটার পর একটা দুঃখ এসে তাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে তিলে তিলে। আজ আবার সেই দুঃখের ওপর নতুন করে আঘাত, যাকে সে নিঃশব্দে একতরফা ভালোবেসে এসেছে, তার বিয়ের আয়োজন চোখের সামনে দেখতে হচ্ছে। এর চেয়ে তো ভালো ছিল, সে নীলাভ বিষ পান করেই শেষ হয়ে যেত।
“এসব কবে হলো?” আদিলের কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
“আমরা তো কিছুই শুনিনি।”
“তোর বাবা আর আঙ্কেল সব জানে। শুধু আমিই জানতাম না। কী বোকা আমি!”

নীলা নিঃশ্বাস ছাড়ল। নিজের উপর নিজেই বিদ্রুপময় হাসল সে। পরমুহূর্তেই বাঁধ ভাঙা কান্না। হু হু করে কেঁদে উঠল। আদিল ভাবল, সে হয়তো মা-বাবার বিচ্ছেদের কষ্টেই ভেঙে পড়েছে। কিন্তু নীলার ভেতরে জমে থাকা নীলচে যন্ত্রণার অতল গভীরতা সে বুঝতে পারল না। অপ্রস্তুতভাবে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। তার অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে শেষে নিজের মায়ের কাছে নিয়ে গেল।
অন্যদিকে, এই পুরো দৃশ্যটাই ধরা পড়েছে আহাদের চোখে।
হলুদের কারণে গালে অস্বস্তিকর জ্বালা ধরেছিল তার। ভাবছিল একটু রোজ ওয়াটার লাগালে হয়তো জ্বালা কমবে। সেই ভাবনা নিয়েই এদিকে আসা। কিন্তু এসে নীলার অবস্থা দেখে তার বুকের ভেতর তীব্র অপরাধবোধ চেপে বসল। তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তুহিন সবই লক্ষ করেছে। মাথার ভেতর একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। শেষমেশ আর চেপে রাখতে না পেরে বলেই ফেলল,

“আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, নীলা তোকে ভালোবাসে। তুই কি এসব জানিস না?”
“জানি।”
ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়ল আহাদ। তুহিন কিছুটা অবাক হয়ে তাকাল।
“তাহলে চুপ করে আছিস কেন? কিছু বলছিস না কেন?”
আহাদ কণ্ঠ নামিয়ে বলল,
“কী বলব তুহিন? ছোটবেলা থেকে নীলাকে আমি বোনের চোখেই দেখেছি। আহিয়া আর নীলাকে কখনো আলাদা করে ভাবিনি। কিন্তু যেদিন বুঝলাম, ও আমার জন্য অন্যরকম অনুভূতি বহন করছে, সেদিন থেকেই ইচ্ছা করে দূরত্ব রাখি। যেন সেই অনুভূতিটা বড় না হয়। প্রসয় না পায়। নীলাকে অন্য চোখে দেখা আমার পক্ষে অসম্ভব।”
তুহিন ওদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল, “সেটা তো আমি ও জানি। কিন্তু নীলাটা কষ্ট পাচ্ছে। দিন দিন ওর কষ্ট বাড়ছেই। আমার মনে হয় এবার ওর একজন জীবনসঙ্গী দরকার। যে ওকে বুঝবে, আগলে রাখবে, প্রায়োরিটি দেবে। তোর তো চেনাজানা অনেক লোক আছে। কিছু একটা করতে পারিস।”

“নীলার উপযুক্ত কেউ নেই।”
“আদিলের সাথে কেমন মানাবে?”
তুহিন চোখের ইশারায় আদিলের দিকে তাকাল।আহাদের কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়ল।
“তোর মাথা খারাপ তুহিন? একেবারে ব্রেনলেসের মতো কথা বলছিস। আমি চাই ও আমাকে ভুলে নতুন জীবন শুরু করুক। আর তুই বলছিস আদিলের বউ বানিয়ে একই বাড়িতে আনার কথা! তাছাড়া আদিল সারাক্ষণ বান্দরের মতো লাফিয়ে ঝাপিয়ে চলে। সে রাখবে নীলার খেয়াল? বয়সই বা কত ওর? নাক টিপলে দুধ বের হবে।”
তুহিন সরাসরি কটাক্ষ ছুড়ে দিল,

“চব্বিশ বছর বয়স। আর কত বয়স দরকার? তোর মতো বুড়ো বয়সে বিয়ে করবে নাকি?”
“তুই কি আমাকে বয়সের খোঁটা দিচ্ছিস?”
আহাদের চোখে রাগের ঝলক। তুহিন নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,
“আমাকে দেখ। পঁচিশে বিয়ে করেছি, এই বয়সে তিনটা বাচ্চার বাপ। আর তুই কেবল বিয়ে করছিস। খোঁটা দিব না তো কী করব?”
“তুই আমাকে বাচ্চার খোঁটা দিলি?”
আহাদের চোখে রক্ত জমে উঠল। সে মনে মনে স্থির করল, না! এবার এর একটা বিহিত করতেই হবে। এই অপমানের জবাব সে তুহিনকে দেবেই। মুখে ঝামা ঘষে দেবে। খুব শিগগিরই দেবে।

রাত অনেকটা গড়িয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু মীর হাউজের পরিবেশ এখনো জমজমাট। হলুদের অনুষ্ঠান প্রায় শেষের পথে। স্টেজে বসে থাকা রিদিতার কপালে জমে আছে একরাশ বিরক্তি। একটানা বসে থাকতে থাকতে তার কোমর অবশ হয়ে এসেছে। শরীরটা টনটন করছে। কিন্তু চারপাশে এত মানুষ, এত চোখ, লজ্জা আর সামাজিক সৌজন্যতার বেড়াজালে মুখ ফুটে কিছু বলার উপায় নেই। দাঁতে দাঁত চেপে শুধু সহ্য করে যাচ্ছে। পাশে বসে থাকা আহিয়া সবটাই লক্ষ করছে। রিদিতার গোমড়া মুখটা দেখে আর চুপ থাকতে পারল না।
“কিরে? তুই মুখটা এমন বাংলার পাঁচের মতো বানিয়ে বসে আছিস কেন?”
রিদিতা গাল ফুলিয়ে রাখল। অভিমান করার মতো কারণ তার এক-দুটো না। গুনলে তালিকা বানানো যাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে সে সেগুলো প্রকাশ করতে নারাজ।

“কিছু না। এমনিই।”
“এমনিই?”
আহিয়া চোখ কুঁচকে তাকাল।
“তোর মুখ দেখলেই বোঝা যায়, কিছু একটা হয়েছে।”
রিদিতা কথাটা এড়িয়ে গিয়ে প্রসঙ্গ ঘোরাল,
“আচ্ছা, নীলা কই? অনেকক্ষণ ধরে ওকে দেখছি না।”
আনিকা পাশেই ছিল। সে উত্তর দিল,
“ওর শরীরটা ভালো না। বাসায় চলে গেছে। সম্ভবত আদিল নিয়ে গেছে।”
একটু থেমে তাড়াহুড়ো যোগ করল,
“আমিও বের হচ্ছি দোস্ত। অনেক রাত হয়ে গেছে। আব্বু বারবার কল দিচ্ছে।”

আহিয়া আর রিদিতা জোর করল থাকতে, কিন্তু আনিকা নানা অজুহাত তুলে শেষমেশ চলে গেল। রাতবিরেতে মেয়ে মানুষ বাড়ির বাইরে থাকা তার বাবার পছন্দ না। শাহীন নিজে গাড়িতে করে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিল।
সারাদিনের ক্লান্তি গায়ে মেখে একে একে আত্মীয়স্বজনরা বিদায় নিতে লাগল। রিদিতার বাড়ির লোকজনও চলে গেল। থেকে গেল শুধু রাইসা, তানভীর আর ত্বোহা। বড় বড় নেতা-মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকায় আহাদ বেশির ভাগ সময় সেদিকেই ব্যস্ত ছিল। সব বিদায়ের শেষে অবশেষে সে যখন ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিজের ঘরে ফিরল। তখনই টের পেল তার প্রেয়সী নেই। মুহূর্তেই তার মেজাজ চড়ে গেল। আজও সে আহিয়ার ঘরে গেছে। এই আল্লাহর বান্দিকে সে কতবার বলেছে ঘর ছেড়ে না যেতে। কিন্তু রিদিতার এক কথা, বিয়ের আগ পর্যন্ত আলাদা থাকবে। বিয়ের আগে একসাথে থাকলে নাকি “বিয়ে বিয়ে ফিল” আসে না!

প্রতিদিনের মতো বিরক্তি নিয়ে আহাদ আহিয়ার ঘরের দিকে পা বাড়াল। পরিকল্পনা একই, রিদিতা ঘুমিয়ে পড়লে তাকে নিজের ঘরে নিয়ে আসবে। কিন্তু আজ দৃশ্যটা আলাদা। আহিয়ার ঘরে ছোটখাটো আড্ডা বসেছে। সবাই বিছানার ওপর গোল হয়ে বসে আছে, হাসি-ঠাট্টা চলছে।
আহাদকে দেখেই আহিয়া প্রশ্ন করল,
“ভাইয়া, তুমি এখানে? কিছু লাগবে?”
আহাদ কপাল কুঁচকে রিদিতার দিকে তাকাল।
“হ্যাঁ।”
সহজ, নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি। তানভীর হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল,
“দুলাভাই আসেন! আমাদের সাথে খেলায় যোগ দেন। আমরা ট্রুথ অ্যান্ড ডেয়ার খেলছি।”
রিদিতা চমকে উঠল।

“না! মোটেও না। আমি এই গেম খেলব না।”
ত্বোহা নিষ্পাপ চোখে তাকিয়ে বলল, “কেন? কী সমস্যা?”
“সমস্যা আছে। বলা যাবে না।”
রিদিতার গলা শক্ত। হঠাৎ আহাদের কণ্ঠে ভেসে এলো, “আমি খেলব।”
এক মুহূর্তে সবাই থমকে গেল। আহাদ? খেলবে? রিদিতার বুক ধক করে উঠল। সে বুঝে গেল লোকটা ইচ্ছে করেই করছে। কারণ এই ট্রুথ ডেয়ার খেলেই তো তার জীবনে প্রেয়সীর আগমন ঘটেছিল। রিদিতা গলা একটু উঁচু করে বলল,

“কোনো খেলা হবে না। আপনি যান।”
“আমার প্রয়োজনীয় জিনিস না নিয়ে আমি যাবো না।”
রিদিতা কটমট করে তাকাল।
“আপনার যা যা প্রয়োজন, নিয়ে যান।”
“ওকে।”
আহাদ ঠোঁট উল্টে বাঁ হাতের উল্টোপিঠে নাক ঘষল। চোখে একচিলতে ক্রুর হাসি। হঠাৎ সবার মাঝখান থেকে ঝট করে রিদিতাকে কোলে তুলে নিল। সবাই হতভম্ব। রিদিতা আঁচমকা কয়েকটা কিলঘুষি মারল,
“কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? নামান!”
আহাদ ফিসফিস করে বলল,
“তুমিই তো বললে, আমার যা যা প্রয়োজন নিয়ে যেতে। আমার তোমাকেই প্রয়োজন।”
এই একটা বাক্যেই রিদিতার সব প্রতিবাদ গলে গেল। ভগ্ন হৃদয় হার মানল এই বজ্জাত বেডার কাছে। আহাদ রাজার সামনে সে তো চুনোপুঁটিও না।

সবাই বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে। এমন সময় হালিমা বেগম দৃঢ় ভঙ্গিতে সবাইকে শাসিয়ে দিলেন ঘুমোতে যেতে। রাত তো আর কম হয়নি। সারাদিনের ধকল, হৈচৈ, আনন্দ। সব মিলিয়ে শরীর-মন দুটোই ক্লান্ত। তার কথায় আর কেউ টু শব্দ করল না। যে যার মতো করে বেরিয়ে গেল। পুরোবাড়ি আস্তে আস্তে নিস্তব্ধ হয়ে এল। আহিয়া সবে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েছে। চুল থেকে পানির গন্ধ এখনো পুরো শুকায়নি। মাথায় হালকা তোয়ালে, চোখে ঘুমঘুম ভাব।
ঠিক তখনই হঠাৎ পিছন থেকে কেউ তাকে জড়িয়ে ধরল। কিন্তু এবার আর সে চমকে উঠল না। আগের মতো বুক ধক করে ওঠেনি, শরীর শক্ত হয়ে যায়নি। বরং ঠোঁটের কোণে একচিলতে মুচকি হাসি খেলে গেল। এই আলিঙ্গনের মালিককে সে খুব ভালো করেই চেনে। আদনান। আদনানের হুটহাট আলিঙ্গনে আহিয়া এখন অভ্যস্ত। এই অপ্রস্তুত মুহূর্তগুলোই ধীরে ধীরে তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সে ধীরে ঘুরে তাকাল। আদনানের চোখে প্রশান্তির ছায়া। ঠোঁটে সন্তুষ্ট হাসি। নাকে নাক ঘষে নরম স্বরে বলল,

“সারাদিন পর অবশেষে তোকে পেলাম।”
আহিয়া মৃদু হেসে উঠল।
“সারাদিন কোথায়? একটু আগেও তো আপনার পাশেই বসে ছিলাম।”
আদনান গভীর নিশ্বাস ছাড়ল। সেই নিশ্বাসে জমে থাকা অপেক্ষা, অতৃপ্তি, অধিকার, সব একসাথে মিশে আছে।
“তখন তো একা ছিলেন না। এত এত মানুষের ভিড়ে ভালো করে দেখতেই পারলাম না আপনাকে। আমারও তো লজ্জা-টজ্জা আছে নাকি?”

আহিয়া আবার হাসল। তার হাসিটা আজকাল অনেক সহজ, অনেক উষ্ণ। আদনানের কথা বলার ভঙ্গি ইদানীং তাকে অদ্ভুতভাবে মাতাল করে দেয়। সে নিজে থেকেই আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
“আপনি যে বিয়ের আগে চুরি করে আমার ঘরে এলেন, এখন লজ্জা করছে না?”
আদনান ঠোঁট বাঁকিয়ে উত্তর দিল, “উহুম।”
“কেন?”
“কারণ আপনি আমার বউ। আর বউয়ের সামনে কিসের লজ্জা?”
আহিয়া কৌতুকভরা চোখে তাকিয়ে বলল, “আপনি কী প্রেম করছেন?”

“উহুম।”
আদনানের স্বর নিশ্চিন্ত।
“ওসব প্রেম-ট্রেমে আমার পোষায় না।”
“আপনি দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছেন।”
আদনান হালকা হেসে জবাব দিল, “বিয়ে করলে সব পুরুষই খারাপ হয়।”
“সবার চোখে কিন্তু আমাদের বিয়ে এখনো হয়নি। কেউ দেখলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।”
আদনান একচুলও বিচলিত হলো না। বরং গম্ভীর অথচ আত্মবিশ্বাসী স্বরে বলল,
“কেলেঙ্কারির কারণটা যদি আমি হতে পারি, সেটাই আমার জন্য অনেক।”

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৩

আহিয়া হেসে উঠল। ভীষণ তৃপ্তির হাসি। সেই হাসিতে কোনো ভয় নেই, কোনো দ্বিধা নেই। শুধু শান্তি আর বিশ্বাস।
কেন জানি তার মনে হলো, তার জীবনটা এখন স্বর্গসুখের মতো। এতদিনের টানাপোড়েন, চাপা ভয়, অনিশ্চয়তা, সব ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। সে আদনানের বাহুতে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল। গভীর করে শ্বাস টানলো। এই শ্বাসে সে নিরাপত্তা খুঁজে পেল, আশ্রয় পেল, নিজের মানুষটাকে পেল। এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ পৃথিবীটা আদনানের নিজের বলে মনে হলো।

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৫