Home ভবঘুরে সমরাঙ্গন ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৭৫

ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৭৫

ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৭৫
তাজরীন ফাতিহা

প্রভাতের নরম আলো বিছানায় পড়ছে। বিছানায় শায়িত দুই বাপ, বেটা। ইহাব অবশ্য ফজর পড়েই আবার শুয়েছিল। এখন নির্বিঘ্নে পুত্রের পাশে শুয়ে আছে। ঘুমের ঘোরে বিছানা হাতড়াতে গিয়ে অনুভূত হলো তরল আঠালো জাতীয় কিছু হাতে লাগছে। সে তড়িৎ চোখ মেলে সেদিকে চাইতেই দেখল হলুদ হলুদ কি যেন হাতে লেগে আছে। পাশেই ইনাম গুলুমুলু পা দুটো উঁচু করে মুখে আঙুল ভরে বাবার দিকে পিটপিট নজরে চেয়ে আছে। ইহাবের চট করে কিছু মনে পড়তেই উঠে বসে নাক শিটকে ফেলল। উচ্চস্বরে ডাকল,

“এই রিন পাউডার দেখে যাও তোমার পুত্রধন কি করেছে?”
স্বামীর ডাকে মানহা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলল,
“কি করেছে?”
“দেখতে পারছ না টয়লেট করেছে। ওকে ডায়াপার পরাওনি কেন?”
“আরে মনে ছিল না। আপনি একটু পরিষ্কার করিয়ে ফেলুন। আমি রুটি বানাচ্ছি।”
বলেই মানহা চলে গেল। ইহাব হতাশ হয়ে ছেলের দিকে চেয়ে বলল,
“টয়লেট ছাড়া থাকতে পারিস না তোরা?”
ইনাম উচ্ছ্বাসিত হয়ে শব্দ করতে করতে হাত-পা ছড়িয়ে হাসল। ইহাব গম্ভীর মুখে বলল,
“আবার হাসে? পিছনে একদম কস্টেপ মেরে দেব।”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

ইনাম আবারও ফোকলা হাসল। ইহাব ছেলেকে উঠিয়ে পরিষ্কার করালো। এরপর বেসিনে পানি ভর্তি করে ছেড়ে দিল। নিজের হাত ভালোভাবে ওয়াশ করল। ইনাম বাবার দিকে মুখে আঙুল ভরে চেয়ে আছে। যেন বোঝাতে চাচ্ছে আমাকে এই সমুদ্রে ছেড়ে দিলে কেন? ইহাব ছেলের তাকানো দেখে বলল,
“শোনো পাপার সামনে কখনোই মলমূত্র ত্যাগ করবে না অনলি মায়ের সামনে করবে। ঠিক আছে?”
মানহা পিছন থেকে এসে বলল,
“হ্যাঁ মা পেটে রাখবে, পরিষ্কার করাবে, খাওয়াবে, ঘুম পাড়াবে আর বাপ বসে বসে চুমু দেবে। ভাবটা এমন করতেছে যেন নিজে কোনোদিন হাগে না। ছেলে একটু টয়লেট করেছে নাটকের শেষ নেই।”
ইহাব রাগান্বিত গলায় বলল,

“হোয়াট ডু ইয়্যু মিন বাই হাগে না? কথাবার্তা সুন্দর করে বলবে।”
মানহা ভ্রু নাচিয়ে কৌতুকের সহিত বলল,
“ওকে পয়ঃনিষ্কাশনকারী, আপনি করলে নিষ্কাশন আর বাকিরা করলেই নির্বাসন?”
ইহাব গরম চোখে মানহার দিকে চেয়ে বলল,
“তুমি কথাবার্তায় তোমার ভাইয়ের মতো লাগামহীন হয়ে যাচ্ছ। ইটস টোটালি ব্যাড ম্যানারস।”
মানহা ছেলেকে গোসল করিয়ে বুকে জড়িয়ে বলল,
“ভাইয়ের বোন ভাইয়ের মতো হবো না তো কার মতো হবো? আর এটাই ওয়েল-ম্যানার্ড।”
ইহাব এপর্যায়ে শান্ত হয়ে বলল,

“দেখো আমি কিন্তু তোমাকে হেল্প করি। আসলে এসব পি, পু আমার কেমন যেন লাগে।”
মানহা ঘরে এসে ছেলের গায়ে বেবি লোশন লাগিয়ে দিতে দিতে বলল,
“বাবা হয়েছেন এখনো কেমন লাগলে তো হবেনা। মা যদি সব করতে পারে বাবাকেও পারতে হবে।”
ইহাব হতাশ হয়ে মানহার গা ঘেঁষে বসে বলল,
“বাবু হওয়ার পর থেকে তুমি যেন কেমন হয়ে গেছ।”
ইনামের শরীর থেকে জনসন বেবি ক্রিমের ঘ্রাণ আসছে। মানহা সেটা নাক দিয়ে টেনে নেয়ার ভঙ্গিতে বলল,
“ইচ্ছে করেই হয়েছি। কারণ আমি যখন নরম, লাজুক ছিলাম তখন আপনি আমাকে জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টটা দিয়েছিলেন। আমার সন্তান হওয়ার সময় আপনাকে আমি কাছে পাইনি। একজন মেয়ের জন্য এটা কতটা কষ্টকর তা কি আপনি জানেন? একজন পুরুষ কোনোদিন একজন নারীর সাইকোলজি বুঝতে চায়না। একটা নারী মাতৃত্বের সময় স্বামীকে সবচেয়ে বেশি আপন ভাবে আর সেই আপনি আমাকে এমন কষ্ট দিয়েছেন বাকি যতবছর বাঁচব এই ক্ষত সারবে বলে মনে হয়না।”

ইহাব স্ত্রীর অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনল। নারীটি বেশ অভিমানী। কিভাবে তাকে অভিযোগ করছে। এই নারীই তো তার সন্তানের মা। তাকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পুরস্কার দেয়া নারী। তার অংশকে গর্ভে ধারণ করে হয়েছে সন্তানের জননী। ইহাব মানহার দিকে ফিরে বলল,
“আমার প্রতি তোমার অনেক অভিযোগ তাই না?”
মানহা ছেলেকে সুতির একটা ফতুয়া পরিয়ে দিয়ে বলল,

“উহু, আপনার জন্য কষ্ট পেয়েছি ঠিকই কিন্তু সবচেয়ে সুখী আমি আপনার কাছেই। আপনি না থাকলে সুখ কি জিনিস তাই বুঝতাম না। ভালোবাসার সংজ্ঞাও আপনার কাছ থেকেই শিখেছি। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নেয়ামত কী? আমি একবাক্যে আপনার নাম বলব। এখন হয়তোবা ভাবছেন ইনামের নাম কেন বলব না? কারণ আপনি না থাকলে ইনাম আসতই না। আপনি হলেন গাছ, আমি হলাম গাছের ডাল ও পাতা; যেটায় সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। আর ইনাম হলো সেই গাছের ফল। বিয়ের আগে আমি ছিলাম অপূর্ণ এখন আলহামদুলিল্লাহ আমি পরিপূর্ণ, সম্পূর্ণ। সমস্ত প্রশংসা আমার রবের যিনি আমাকে আপনাকে দিয়েছেন।”
ইহাব মানহার কথাগুলো শুনে আপ্লুত হয়ে বলল,

“আর তোমাকে পেয়ে আমি জীবিত।”
মানহা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“বিয়ের আগে বুঝি মৃত ছিলেন?”
“হ্যাঁ, বউ ছাড়া প্রত্যেকটা পুরুষই মৃত। যেদিন তোমায় বিবাহ করলাম সেদিন অর্ধজীবিত হয়েছি, যেদিন তোমার ললাটে চুম্বন করলাম সেদিন আরেকটু জীবিত হয়েছি, যেদিন তোমায় ভালবাসলাম সেদিন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছি সর্বোপরি যেদিন বাবা হলাম সেদিন আমি দৌঁড়াতে শিখেছি।”
মানহা ইনামকে বুকে আগলে স্বামীর বুকে মাথা রাখল। প্রশান্তি ছুঁয়ে গেল তাকে। ইহাব মানহাকে আঁকড়ে বলল,
“কি ব্যাপার তোমার লজ্জা ইদানিং কোথায় গেল?”
মানহা বুকে থাকা ইনামকে দেখিয়ে বলল,

“ও হওয়ার পর ভেঙে গেছে।”
ইহাব সুর দিয়ে বলল,
“আচ্ছা, তাই?”
মানহা মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো। ইহাব মানহার চুলের ঘ্রাণ নিতে নিতে বলল,
“তাহলে মুখ উঁচু করো, একটা চুমু খাই।”
মানহা বেশ লজ্জা পেল। ইহাব মানহাকে লাল হয়ে যেতে দেখে হো হো করে হেসে স্ত্রী, সন্তানকে আগলে নিয়ে বলল,
“গাছে দেখি এখন একটা টকটকে লাল পাতা দেখা যাচ্ছে। দুঃখিত ওটা আমার একান্ত রক্তজবা হবে।”
মানহা এবার লজ্জায় পুরোপুরি মিইয়ে গেল।

ইহাব বেডে হেলান দিয়ে ল্যাপটপে কি যেন করছিল। পাশেই মানহা ছেলেকে কোলে নিয়ে বই পড়ছিল। মায়ের কোল থেকে নেমে ইনাম বিছনায় হামাগুড়ি দিয়ে আসতে আসতে ডাকল,
“পাপ পা, বা বা বা..”
ইহাব ছেলেকে দেখেই একটা হাসি দিল। ইনাম বাবার উরুর উপরে উঠে এসে ফিচফিচ করে হাসল। ইহাব ছেলের গাল টেনে বলল,
“দেখি পাপাকে একটা পাপ্পি দাও তো।”
ইনাম বুঝতে না পেরে আবারও ফোকলা হাসল। ইহাব কঠিন তপস্যায় নামার ভঙ্গিতে ছেলেকে চুমু দেয়া শেখাচ্ছে কিন্তু এইটুকু বাচ্চা চুমুর কি বোঝে তাই মুখে আঙুল ঢুকিয়ে চোখ বড় বড় করে বাবার দিকে চেয়ে আছে। মানহা বই বন্ধ করে বলল,

“হায়রে চুমুখোর বেডা, শেষ পর্যন্ত নিজের দুধের বাচ্চাকে চুমু শেখাচ্ছেন?
ইহাব নাছোড়বান্দার মতো বলল,
“রসকষহীন মহিলা তুমি কিভাবে বুঝবে চুমুর কি মূল্য?”
“আচ্ছা তাই? তা রসে ভরা কষযুক্ত পুরুষ বলুন শুনি এটার কি মূল্য?
ইহাব আগ্রহ নিয়ে ছেলেকে আদর করতে করতে বলল,
“চুমু খেলে আয়োডিনের ঘাটতি দূর হয়, চোখের পাওয়ার বাড়ে। আর চুমু দিলে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় হয়। এছাড়াও শরীরে ভিটামিনের জন্য চুমুর কোনো বিকল্প নেই। ফটাফট একটা চুমু খেয়ে দেখো, দেখবে নিমিষেই সব সমস্যার সমাধান।”

এরপর ছেলের নাকে নাক ঘষে বলল,
“তাইনা ইলুবিলু?”
ইনাম ছোট্ট ছোট্ট গুলুমুলু হাতদ্বয় দিয়ে বাবার পা জড়িয়ে ধরে ফিচফিচ করে হেসে উত্তর দিল,
“পাপ পা।”
মানহা হতাশ চোখে স্বামী সন্তানের দিকে চেয়ে আছে। যেসমস্ত লজিক দিল সবই তার মাথার উপর দিয়ে গেল। তার ভাবনার মাঝে উর্মি ভুঁইয়ার ডাক শোনা গেল। মানহা ডাক শুনেই তড়িঘড়ি করে চলে গেল। একটু পর উর্মি ভুঁইয়ার চিৎকার শোনা গেল। তিনি চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে মানহাকে শাসন করছেন,
“ফ্রিজে খাবার রেখে গিয়েছ কেন? সবসময় খাবার নিয়ে চোরামি। গরম করে এনেছি এক্ষুনি খেয়ে শেষ করো। খেয়ে ইনামকে খাওয়ায়। এমনিতেই শরীরে কিছু নেই মাসে মাসে হাসপাতালে ছুটতে হয় তবুও শুধরালে না? একদম পাটকাঠির মতো হয়ে গেছ খেয়াল আছে সেদিকে? এক বাচ্চার মা হয়েও খাবার নিয়ে জ্বালানো গেল না।”
মানহা নিরুপায় হয়ে বলল,

“আম্মু, খেতে পারব না দেখে রেখে গিয়েছিলাম। পরে খাব।”
উর্মি ভুঁইয়া চোখ রাঙিয়ে হাত ধুয়ে প্লেটে ভাত মাখিয়ে খাইয়ে দিতে লাগলেন। মানহা খেতে না চাইলে এমন ধমক দিলেন যে সুড়সুড় করে খেতে লাগল। ইমতিয়াজ ভুঁইয়া এসে এসব দেখে বললেন,
“কি অবস্থা? ছেলের বউকে তো ভালোই আদর অ্যাপায়ন করছ।”
উর্মি ভুঁইয়া বললেন,
“আদর আপ্যায়ন না। এমন চোর, কি করেছে জানেন?”
“কী?”

“অর্ধেক খেয়ে ফ্রিজে বাকি অর্ধেক রেখে গেছে যেন কেউ সন্দেহ করতে না পারে। এই বয়সে যদি এমন খাবার ফাঁকিবাজ হয় তাহলে ভবিষ্যতে কি হবে আল্লাহ জানেন।”
মানহা মুখ ভর্তি খাবার নিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,
“আব্বু দেখুন আম্মু আমাকে টর্চার করছে।”
উর্মি ভুঁইয়া চোখ রাঙাতেই ইমতিয়াজ ভুঁইয়া মুখ টিপে হাসলেন। মানহা ছলছল চোখে ভাত খেয়ে চলেছে। এরমধ্যে ইহাব ইনামকে কোলে নিয়ে এসে বলল,
“ইনামকে খাওয়াতে হবে, এখন দেখি তুমি খেতে বসেছ।”
মানহা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,
“আম্মু ইনামকে খাওয়াতে হবে, যাই।”
উর্মি ভুঁইয়া রাগান্বিত গলায় ইহাবের দিকে চেয়ে বলল,
“তুমি খাওয়াও যাও।”
ইহাব হতবাক হয়ে বলল,

“আমি খাওয়াবো কোত্থেকে? আমার কি আর সেই সাধ্য আছে? বাবারা কি আর মায়ের ভূমিকা পালন করতে পারে?”
ইনাবা ভাইয়ের পিছন থেকে ফিক করে হাসল। উর্মি ভুঁইয়া রাগী গলায় বললেন,
“এই খাবার শেষ না করে এক পাও নড়তে পারবে না। নাবা যাও তোমার ভাইপোকে ফিডার খাওয়াও। ওর মাকে খাইয়ে পাঠাচ্ছি।”
ইনাবা ঘাড় নাড়িয়ে ইনামকে কোলে নিয়ে নিজের রুমে গেল। এদিকে ইহাব বলল,
“আচ্ছা, আমি তাহলে বাইরে গেলাম। একটু মাহদী, মাহফুজের সাথে আলাপ করে আসি।”

বলেই ইহাব চলে যেতে নিলে মানহা ইহাবের শার্টের কোণা ধরে ছলছল চোখে চেয়ে রইল। যেন বোঝাতে চাইল, আমাকে এখানে একা রেখে যাবেন না প্লিজ। এই খাবার খাওয়া থেকে উদ্ধার করুন আমায়। ইহাব বউয়ের চোখের ভাষা বুঝল যেন। বউয়ের ছলছল চোখ তাকে ভীষণ ব্যথিত করল। মায়ের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে গিয়ে একটু পরের দৃশ্য একদম বদলে গেল। মানহা ও ইহাব দুজনকেই উর্মি ভুঁইয়া ঠেসে ঠেসে ভাত খাওয়াচ্ছেন। পার্থক্য শুধু আগে প্লেট ছিল এখন সেটা বোলে রূপান্তর হয়েছে। ইমতিয়াজ ভুঁইয়া এসব দেখে কিছু বলতে নিয়েও আর বলেননি। পরে দেখা যাবে সেও ভাত খাওয়া পার্টির মধ্যে ঢুকে গেছেন। না বাবা, একটু আগে পেট ভরে ভাত খেয়েছেন এখন কিছুতেই তার পক্ষে ভাত খাওয়া পসিবল না। বেচারা ইহাবটা বড্ড ফাঁসা ফেসেছে। পেট ভর্তি থাকার পরেও আবার ভাত খাওয়ার যে বিষয়টা। খুবই কষ্টদায়ক!

রাত্রির মধ্যভাগ। তমসাচ্ছন্ন রুম। নিশাত ছেলেকে আঁকড়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। নিশ্চিন্ত বলা যায় এই কারণে যে, বহুদিনের নিদ্রাহীন সে। বেশ অনেকদিন হয় রাতে কিছুতেই দুচোখের পাতা এক করতে পারেনা নিশাত। আজকে কিভাবে কিভাবে যেন ঘুমেরা এসে চোখে ধরা দিয়েছে। সোজা হয়ে শুয়ে খুব সাবধানে ছেলেকে একহাতে আঁকড়ে ঘুমিয়ে আছে শান্ত হয়ে। একটু পর রুমের দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল। একটা ছায়ামূর্তির প্রবেশ। অন্ধকার রুমে একটা অস্তিত্বের উপস্থিতি বোঝা গেল। ছায়ামূর্তিটি ঘুমন্ত নাহওয়ানের কপালে চুমু খেল। মাথায় হাত বুলিয়ে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল। এরপর নিশাতের পাশে এসে উঁচু পেটটা নজরে এল। বুকটা ধ্বক করে উঠল কি? এগিয়ে এসে ঘুমন্ত নিশাতের মুখাবয়বের দিকে চেয়ে রইল।

ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৭৪

নিশাতের মনে হলো, তার পেটে কে যেন মোলায়েমভাবে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তার বেশ আরাম লাগছিল এমনটা করায়। একটা বহু পরিচিত ঘ্রাণ নাসারন্ধ্রে তীব্রভাবে বারি খেল। তন্দ্রা ভেঙে যেতেই আশেপাশে চাইল কিন্তু কাউকে দেখল না। নিশাত বহু কষ্টে উঁচু পেটটা নিয়ে উঠে বসে চারদিকে চাইল। লাইট জ্বালিয়ে দেখল কেউ নেই। কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতা ছাপিয়ে একটা বহুল আকাঙ্ক্ষিত ঘ্রাণ ঠিকই তার নাসিকা গহ্বরে ঢুকে গেছে। আর সে সেই সুবাসে আচ্ছন্ন হয়ে ঘোরে চলে গেছে। আচ্ছা, এটা কি স্বপ্ন ছিল? স্বপ্ন কখনো এতটা বাস্তব হয়? তার হঠাৎ এত কান্না পেল মনে হলো পৃথিবীতে স্বপ্ন জিনিসটা যদি উধাও হয়ে যেতো বড্ড ভালো হতো। এই স্বপ্নগুলো কেন যে তাকে আশ্বাস দেয়! ঘুটঘুটে তিমিরের ম্লান প্রদীপশিখা এই স্বপ্নগুলো। যতক্ষণ দেখে ততক্ষণ কি শান্তি আর আরাম লাগে! যখনই ঘুমটা ভেঙে যায় বুক ভেঙে কান্নারা দলা পাকিয়ে বেরোতে চায়।

ভবঘুরে সমরাঙ্গন শেষ পর্ব