Home প্রেমের বাজিমাত প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১
রোজ ও রুশা

একটা ৫ বছরের মেয়ে বায়না ধরেছে ১০ বছরের ছেলেকে বিয়ে করবে ভাবা যায়!যেখানে বিয়ে সম্পর্ক কিছুই বুজে না মেয়েটা””ছেলেটার ক্ষেত্রে ও তাই, কিভাবে এই ধরনা গুলো এই ছোট মাথায় এলো,এদিকে মেয়েকে সারাদিন বিয়ের কথা ভুলাতে তৌহিদা জিহান কতো জায়গায় ঘুরাঘুরি করেছে কিন্তু ফলাফল শুন্য এই পুচকে মেয়ের মাথায় কিভাবে এই কথা এটেছে যে ভুলতে পারছে না। পারবে কি করে এদিকে যে প্রান প্রিয় বান্ধবি উরফে ননদ এর মেয়ের মাথায় এগুলো ডুকিয়েছে তা কি আর কারো জানা,,,অল্প বয়সে বিয়ে হলে যা হয় আর কি,মেয়েটাকে জিহান তালুকদার জিজ্ঞের করে।

“”আম্মু তোমায় এগুলো কথা কে বলেছে? বাবা কে বলো তো?
কাজল তো মহা বিপদে পরেছে এই পুচকে মেয়েকে যা জিজ্ঞেস করে তাই তুতলিয়ে সব বলে দেয়,,,বেচারি কাজল তো একবার নিজ স্বামী জাওয়াদ খান এর দিকে তাকায় তো আরেকবার পিচ্ছি পরিটার দিকে একবার বলে দিলে সব শেষ।
বেচারি পানি মুখে নিতে নিতেই বলে উঠে ৫ বছরের পিচ্ছি পরিটা,বয়স ৫ হলে কি হবে পিচ্ছি পরিটার যে কথা এখনো অনেক বেজে বেজে আসে মুখে।এটার জন্য অবশ্য ডাক্তার দেখাচ্ছে জিহান তালুকদার, তুতলানো কথা গুলা অধীক মাত্রায় শুনতে ভালো লাগে সবার কাছে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

পা পা পাপা, বিয়ে কলবো লাভান বর কে,বিয়ে করলে তো অই লাভান বর এর সাথে ঘুমাতে পালবো, তাই বিয়ে কলবো!!
মেয়ের কথায় চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যায় জিহান তালুকদারের বিয়ে করলে একসাথে থাকতে পারবে মানে কি? হায় এই মেয়ের মাথায় কে এগুলো ডুকিয়েছে,,জিহান তালুকদার এর ধারনা তার বউ,আর একমাত্র বাস্টি উরফে সালার বউ এর কাজ এটা,ক দিন ধরে দুই বান্ধবী কি বিয়ান বিয়ান বলে ডাকাডাকি করছিলো,,জিহান তালুকদার নিজের বউ এর দিকে তাকাতে কাদো কাদো সুরে বলে দিয়েছে সে কিছু জানে না,এবার কাজল এর দিকে তাকাতে সেও কিছু বলতে যাবে তার আগেই তুতলিয়ে তুতলিয়ে বলে উঠে পিচ্ছি পরিটা

“”পা পা পাপা তুমি চুন্দরী মা কে কিছু বলো না,আমি তো চুন্দরী মার কথা বলি নি,আমাকে সুন্দরী মা বলে দিয়েচে চুন্দরী মার কথা বললে তুমি বোকা দিবে তাহলে আমি তো বলি নি তুমি আমাল সুন্দরী মাকে বকা দিচ্চো কেনো পা পাপা!
এবার জাওয়াদ খান অট্ট-হাশিতে ফেটে পরে,সে তো আগেই ধারনা করেছে এটা তার পিচ্ছি বউ এর কাজ,এবার বন্ধু উরফে একমাত্র বোনের স্বামীর দিকে চেয়ে বলে উঠে
সালা আরো বিয়ে কর পিচ্চি মেয়েকে , সামাল দে এবার বউ এর সাথে মেয়েকে,আমার জীবন টা তো শেষ করলি নিজের বন্ধুকে ঘাড়ে চেপে দিয়ে এখন বোঝ সালা-
জিহান তালুকদার এবার কাজল এর সামনে এসে কান টেনে ধরে বলে উঠে।

—এই ফাজিল তোর মতো বাদর বানাতে চাচ্ছিস আমার মেয়েকে?বল এগুলা কেন শিখালি?
সর তো হারামি তর বউ শিখিয়ে দিয়েছে তর বউ কে জিজ্ঞেস কর আমায় কেন বকছিস,,হারামি কান টা তো ছাড়,জাওয়াদ দেখছো না তোমার বন্ধু আমার কান টা ছিড়ে ফেলছে তো?
এই সালা আমার পিচ্চি বউ এর কান ছাড়,তর বউ এর টা ধর,,, বেশ করেছে শিখিয়ে দিয়েছে,,আরো শিখাক তর মেয়েকে,সব দোষ তোর নিজের আমার বোন টাও তো পিচ্ছি থাকতে বিয়ে করেছিস এখন নিজের মেয়ের বেলায় এমন কেনো? তারা আমাদের থেকে আধুনিক যুগের হবে
আমাদের থেকে ১০ বছর এগিয়ে থাকবে,,,এটাই স্বাভাবিক নয় কি সালা?
মিকি হাশি দিয়ে কাজল তার স্বামীর বুকে ঝাপটে ধরে, আর তার বোন তৌহিদাও ভাই এর বুকে ঝাপিয়ে পরে!!!
ইস কতই না সুন্দর দৃশ্য,মন প্রান জুরিয়ে যায়!
কথায় আছে না যায় দিন ভালো আসে দিন খারাপ,আসলে তাই??

চাঁদের আলোয় আধার ধরণী যখন নিস্তব্ধ, তখন চাঁদর গায়ে দাঁড়িয়ে সৃতিচাড়নে বেস্ত কাজল খান ! হটাৎ ফোন কল এসে জানান দেয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা,হাতের স্মার্ট ফোন টি টেবিলের উপর রেখে নিজের বিছায় গিয়ে গা এলিয়ে দেয়।আজ শান্তিতে একটা ঘুম দিবে।
জানুয়ারীর শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে উঠে এক অন্যরকম সুন্দর,,,চারিপাশে ফুলের কি বাহার,নাম জানা না জানা কতো ফুলের সমারহ! সব চেয়ে আকর্ষণ করে বাগান বিলাশ ফুলের গাছা গুলো, রাস্তার ধার দিয়ে কিছু পথচারীদের দেখা যায় ছবি তুলতে,তার মধ্যে অবশ্য প্রেমিক প্রেমিকাই বেশি,কিন্তু তারা একেবারে শালীন ভাবে ছবি তুলছে,,

(বি:দ্র) _____[ ঢাকা শহরের চলাফেরা নিয়ে একটু তুলে ধরা হবে,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাবি,টাবি,রাজনৈতিক কিছু তুলে ধরা হবে অবশ্য আমি রাজনৈতিক কিছু বোঝি না তাই কাল্পনিক ভাবে লিখছি, কেউ বাস্তবের সাথে মিলাতে যাবেন না ধন্যবাদ ]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে ছাত্রদের প্রভাব ব্যাপক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন সক্রিয়, যা ক্যাম্পাস জীবনে আন্দোলন, মিছিল, সেমিনার এবং হল-কেন্দ্রিক কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যদিও সম্প্রতি হলগুলোতে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।ছেলেমেয়েরা যায় পড়ালেখা করতে কিন্তু তাদের কোনো কনো সময় স্বীকার হতে হয় বাজে পরিস্থিতির সাথে,গতো ৩ বছর আগেও কি বাজে অবস্থা ছিলো হল গুলোতে,গাদাগাদি করে এক রুমে ৬/৭ জন থাকতো ২ জনের রুমে,,আর সন্ধ্যার পরে বিশ্ববিদ্যালয় এড়িয়া হয়ে উঠে এডাল্টদের মিনি বাসর সাইড এড়িয়া তাইতো কড়াকড়ি ভাবে এই এড়িয়ার এম এল এ এর কাছে দায়িত্ব পরে, আর দক্ষতার সাথে ঢাকার এডভোকেট MLA কাজল খান নিজ ছেলের হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেয়,যা সুনিষ্টার সাথে পালন করে শেহতাজ খান নাভান , তার অবশ্য একটা আলাদা পরিচয় আছে এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা সে, যার এক ডাকে সারাদেশের স্টুডেন্ট একত্র হয়ে যাবে,নাভান
ভার্সিটির শেষ বর্ষের ছাত্র,,সবচেয়ে বড় কথা পুরো বাংলাদেশ শেহতাজ খান নাভান বলতে পাগল, কতো প্রডিউসার রা তাকে মুভি নাটক এর জন্য অফার ও করেছে,, তার বডি কুরিয়ান ছেলেদের মতো !

ফর্সা গালে খোচা কুচকুচে দাড়ি গিটার ঝুলিয়ে দামি বাইক নিয়ে যখন ভার্সিটি কেম্পাসে ঢুকে তখন ছেলে মেয়ে উভয় হা হয়ে তাকিয়ে থাকে,মাশা-আল্লাহ আল্লাহর সৃষ্টি কতই না সুন্দর,যেমন তার এটিটিউড,তেমন গানের গলা আর গিটার টা তো অস্থির বাজায়,,গান টা সে খুব কম গায় কিন্তু যখন গায় তখন চারিদিকে হই হই পড়ে যায়।সবচেয়ে আকর্ষণ হচ্ছে তার এডামস এপেল ঠোট,চুল আর বডি,যা একবার দেখলে আবার কোনো নাড়ী ফিরে তাকাবেই ।কিন্তু এই ছেলের মুডের কারনে মেয়েরা পাত্তা পায় না,তার মেয়ে ফেন্ড বলতে অইরকম কেউ নেই আছে বন্ধু কম ভাই বেশি দুইজন জানে জিগার দোস্ত, ও একটা মেয়ে ফ্রেন্ড, ভার্সিটির এড়িয়ায় তার একজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে তার নাম নিলয় চৌধুরী,,,,

ভার্সিটি কেম্পসে বাইক নিয়ে ঢুকতেই সব মেয়েরা হা হয়ে আছে শেহতাজ খান নাভান এর উপর এতে যে সে খুব বিরক্ত তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।কিন্তু তাতে কি মেয়েরা যে এই সুদর্শন ছেলেকে কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছে এটাই কম কিসের। নাভান এদিক সেদিক তাকিয়ে কাওকে বিরক্ত নিয়ে খুজতেই তার সামনে এসে হাজির হয় নিলয় চৌধুরী, বেশ রাগান্বিত স্বর তার কিন্তু মুখে হাশি দেখে বোঝা যাচ্ছে তাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক, মিষ্টি ভাষায় তারা কথা বলছে”” কিন্তু তা যে না,সবাইকে দেখায় এক আর আড়ালে তারা আরেক বেক্তি,নিলয় থুতনি ঘসে তিক্ষ্ণ চোখে বলে উঠে!

“”” শেহতাজ খান নাভান “” তুই আবার ও আমার পিছু নিয়েছিস,,আমাদের কিন্তু চুক্তি হয়েছে তুই তর ডিপার্টমেন্টে থাকবি আর আমি আমার। আমাদের এড়িয়া দুই ভাগে ভিভক্ত,,,,কথার বরখেলাপ করছিস তুই?
এবার নাভান চুলগুলো পিছনের দিক ব্রাশ করে কপাল ঘসে নিলয় চৌধুরীর মতো করে বলে উঠে।
_____ উফফফ সো সেড মি: নিলয় চৌধুরী,,, আবারো হেড়ে গেলি ,,, ভুলে যাস না তোর এড়িয়ার ধার ধারে না এই শেহতাজ খান নাভান যেখানো পুরো ঢাকা শহর শেহতাজ খান এর এক কথায় উঠবে বসবে আর তুই তর সো কল্ড এড়িয়ার কথা বলছিস,,,? হাউ ফানি!

নিলয় যেনো এবার বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে যায়,,কিন্তু না সে নিজের রাগ কন্ট্রোল করে সামনে নির্বাচন, এখন রেগে কিছু করলে সব হাড়াতে হবে আর তার বাবার সম্মান ও নষ্ট হবে,সে বখাটে মেয়েবাজ হতে পাড়ে কিন্তু, বাবার সম্মান নষ্ট হক তা সে চায় না যা করে আড়ালেই করে,,,সব কিছুর প্রতিনিধি থাকে,, আগে যেমন প্রতি ডিপার্টমেন্টে ছিলো কিন্তু এখন তা না,,নির্বাচন এর জন্য দল থাকবে এটাই স্বাভাবিক সেটা যে কোনো জায়গার হতে পারে,নির্বাচন মানেই দল গঠন ও ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রিয় প্রতিনিধি ঠিক করা গতো তিন বছরে একবারের জন্য নিলয় এই প্রতিনিধি পায় নি তার একমাত্র কারন শেহতাজ খান নাভান
এবার বেশ আট সাট বেধে নেমেছে নিলয়,,এখানে হল গুলো দুই ভাগ করা বলতে গেলে দুই এড়িয়ার যার এক এড়িয়ার দায়িত্বে আছে শেহতাজ খান নাভান আরেক এড়িয়ার দায়িত্বে রয়েছে নিলয়,,, যার হলে স্টুডেন্ট বেশি তার তো দল ভাড়ি থাকবেই,,,নাভান কটাক্ষ করে বলে।

“” চু চু চু মেয়েদের বডি দেখিয়ে ও দ্যা বিগ স্টালিশ হেন্ডসাম বয় নিলয় চৌধুরী মেয়েদের তার কব্জে নিতে পারে না,,সো সেড!
নিলয় পালটা উত্তরে বলে উঠে।
এইসব তুই করছিস, আই এম ডেম সিউর তা না হলে সবাই আমার হলে উঠে, সকাল হতে না হতে তর হলে চলে যায় কেনো। আর তুই তাদের সিট দিচ্ছিস কেনো?
পিছন থেকে অধীর খান কিছুটা ঠাট্টার সুরে বলে উঠে!
—– ভাই নিলয় শীত কাল এসেছে তোকে একটা পরামর্শ দেই, আমি আবার ফ্রিতে জ্ঞান দেই তার জন্য অবশ্য চার্জ নেই না,যাই হোক তোকে একটা সেই পরামর্শ দেই তুই চাইলে ট্রিট দিতে পারিস আমি কিছু মনে করবো না।
ঠোঁটে হাসি রেখে আবার বলে উঠে।
শীতকাল এসেছে দিনে সবজি বেচবি আর রাতে পিঠা বেচবি, এই রাজনীতি তোর জন্য না ভাই,,
আর পরাশোনায় ও তো ঘোরার ডিম পাশ,থাকার ভিতরে খালি বডি টা!! মগজে বুদ্ধি না থাকলে বটি থুক্কু বডি দিয়ে কি হবে?

এবার মনে হয় নাভান ও হাসলো কিন্তু না এই মুডি ছেলেটা তো হাসেই না এই যে অধীর কতো মজার কথা বলে অন্য সবাই হেসে মাঠে গড়াগড়ি খায় কিন্তু নাভান নিরলিপ্ত হয়ে বসে থাকে।মাঝে মাঝে অধীর এর মনে হয় নাভান এর লাভ ফাংশন আর হাসার ফাংশন মহান আল্লাহ তালা দেয় নি। তখন অধীর নিজেকে শান্তনা দেয়
___ থাক বন্ধু আমার দেখতে তো মাশা-আল্লাহ, কতো গুনের অধীকারি, বাইক রাইডার চেম্পিয়ান,নিজের একটা ব্যাবসা রয়েছে যা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে নাম উজ্জ্বল করছে। থাক আল্লাহ তো সবাইকে সব দেয় না,,,
তখন নিজের মনে অধীর আবারো বলে উঠে

— যদি থাকে নসিবে,,,বন্ধু একদিন প্রেমে পরিয়া একা একা হাসিবে!!
___ নিলয় বেচারা একটু বেশি অপমানিত হলো যেনো,অধীর স্পষ্টবাদী ছেলে যা বলে ডিরেক্ট,নিলয় আর না দাঁড়িয়ে হুমকি স্বরে বলে উঠে।
—- ভাবিস না আমি আমার জায়গা থেকে সরে যাবো,শেষ জিত টা দেখবি আমার হবে,,আর তর ক্ষমতার থেকে কিন্তু আমার ক্ষমতা কম না।আমার বাবা মন্ত্রী ভুলে যাস না।আমি মন্ত্রী আজমির চৌধুরীর ছেলে!!
নিলয় এর উদেশ্য আবারো অধীর বলে উঠে
— দুল দুল দুলনি মানুষ চিনতে শেখোনি,,, বাশ খাবে যখনি শিক্ষা হবে তখনি!!
না আর এক মূহুর্ত দাড়ালো না নিলয়,নিলয় যেতে নাভান অধীর এর দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত স্বরে বলে।
তর ফোন কই?

কেনো?
দে ফোন টা দে?
পকেট হাতড়ে ফোন টা নাভান এর দিকে বাড়িয়ে দিতে গম্ভীর মুখে বলে উঠে নাভান।
যে ফোন দরকারের সময় কাজে লাগে না সেই ফোনের দরকার নেই!!
বেচারা অধীর না বোঝে হাসি মুখে ফোন টা দিতে অধীর ফোন হাতে নিয়ে পুকুরে ডিল মারে,বেচারা অধীর ছুটে যায় ফোন উঠাতে, হুজুগের বসে ভুলে বসেছে নাভান লেকে ফোন টা ডিল মেরে ফেলেছে,কি আর ঝপাস শব্দে পানিতে পরে অধীর,,,চারিদিকের ছেলে মেয়েরা ছুটে আসে দেখতে,, এসে দেখে অধীর রাগি চোখে নাভান এর দিকে চেয়ে আছে।তাদের বোঝতে বাকি নেই আবারো নাভান এর রাগের স্বীকার হতে হয়েছে অধীর কে তাদের খুনসুটি সবাই দেখে উপোভোগ করে দুইজন দুই মেরুর, একজন প্রানবন্তর আরেকজন গম্ভির,অধীর যখন বোঝতে পারে হুজুগে সে পানিতে ঝাপ দিয়ে দিয়েছে তখন কোমড় পানিতে দাঁড়িয়ে কোমড়ে দুই হাত রেখে নাভান কে উদেশ্য করে বলে?

এটা কি করলি তুই,,সালা আমার ফোন টাকে কেনো হত্যা করলি। এর দায়ে তোর নামে আমি এডভোকেট কাজল এর কাছে মামলা দিবো।
ছেলে মেয়েরা অধীর এর কথা শুনে হাসে,মায়ের কাছে ছেলের নামে মামলা দিবে তাও ফোনের জন্য লাইক সিরিয়াস,,,বাইক স্টাট দিতে দিতে নাভান বলে উঠে।
“”” যদি তর বডি মেয়েদের চোখে ধর্ষণ না করতে না চাস তো জলদি আয়!!
ব্যাস আর কে পায় অধীর কে নিজের শরীর দু হাতে বুকে ঢেকে মেয়েদের উদ্দেশ্য বলে।
— এই নির্লজ্জ শাকচুন্নিরা দূর হ আমি তোদের চোখে ধর্ষণ হতে চাই না,এটা আমার বউ এর হক
বেচারা বউ কে তখন কি জবাব দিবো তার থেকে বড় কথা,, নজর লাগবে তোদের!! আমায় আজ কিউটি পাই নজর টিকা দেয় নি,,, ও মাই গড
বলে ছুট লাগায় নাভান এর বাইক এর পিছু,, বেশি দৌড়াতে হয় না অধীর কে বাইক এর স্পিড স্লো হতেই অধীর লাফ দিয়ে উঠে পরে।
____চল না জানু প্লিজ দুই বছর এর ব্যাপার প্লিজ আমি অনেক কষ্ট করে পাপা কে রাজি করিয়েছি,,

হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপাল বিশ্বের প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পর্যটনের এক আকর্ষণীয় জায়গা। ভক্তপুরের প্রাচীন আকর্ষণ, চিতওয়ানের বন্য প্রাণীর বিস্ময় এবং সাগরমাথার সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্বতগুলোর কয়েকটির অবস্থানও এখানে। দুঃসাহসী অভিযান পছন্দ করেন, এমন মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হয়ে আছে এই দেশ।

নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোখারার অবস্থান হিমালয়ের প্রবেশদ্বারে। পোখারা এলাকাটি নেপালের রত্ন হিসেবে পরিচিত। এখানকার ফেওয়া হ্রদে তুষারাবৃত অন্নপূর্ণা পর্বত শৃঙ্গের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। রোমাঞ্চপ্রেমীরা ভোরের দিকে সারাংকোট থেকে হিমালয় অঞ্চলের সূর্যোদয় উপভোগ করতে পারেন। আছে প্যারাগ্লাইডিং-এর ব্যবস্থাও।
কাঠমান্ডুর চেয়ে এ শহরের বাতাস বেশি পরিষ্কার। এখানকার জলবায়ু বেশ স্বস্তিদায়ক। একই সঙ্গে মনোরম পরিবেশ ও দুঃসাহসিক অভিযানের স্বাদ নিতে চাইলে নেপালের পোখারা অবশ্যই দর্শনীয় একটি স্থান।

নেপালের পোখারা অঞ্চলের ধাম্পুস গ্রামটি অন্নপূর্ণা রেঞ্জের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা এবং শান্ত গ্রাম্যপরিবেশ,নেপালের এই শহরে গতো ৫ বছর হয় এসেছে তারা রাশিয়া থেকে, মেহরিমা ইসলাম হেরা নামের মতো যেনো সুন্দর মেয়েটা শুধু সুন্দর বললে ভুল হবে অত্যাধিক সুন্দর এই মেয়ে, রাশিয়ান দেশে জন্মগ্রহণ করার কারনে কি এই সুন্দর্য নাকি আল্লাহ তাকে এমন সৌন্দর্যের অধীকারী বানিয়েছে ভালোবেসে যত্ন করে,না আল্লাহ তো তার একার না,আল্লাহর সৃষ্টি সব কিছুই সুন্দর তার মধ্যে একজন সে। অধীক সৌন্দর্যের অধীকারী মেহরিমা ইসলাম হেরা। হেরার মা নেই বাবা তার ব্যবসার কাজে দেশে দেশে ঘুরে, রুশার ও মা নেই তার বাবা ইতালি থাকে হেরার বাবার সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব তাই তো মা হারা দুই মেয়েকে একসাথে রাখে, মেয়েদের যখন যা লাগে তাই বলতে দেরি হয় দিতে দেরি হয় না।অত্যাদিক ভালোবাসে মেয়েদের, তাই তো মেয়ের কথা রাখতে বাংলাদেশে যেতেও রাজি হয়ে যান জাওয়াদ খান। রুশা মেয়েটাও অধিক মাত্রায় সুন্দরী, হেরার চুল গুলো কোমোড় অব্দি আর রুশার চুল বিদেশি স্টাইল ছোট, দুজনি আগুন সুন্দরী বলা যায় হেরা ”

সারাদিন ঘুরঘুর করছে মেয়েটাকে রাজি করানোর জন্য,,কিন্তু এই মেয়ে যা ভাব ধরেছে যেনো বাংলাদেশ নামে কোনো দেশ আছে তা তার অজানা।হেরার তো মন চাচ্ছে থাপ্পড় দিয়ে গালে ব্লাসন ফুটিয়ে তুলতে।কিন্তু না এই মেয়ের কাছে সব, সে রাজি তো বাংলাদেশ কনর্ফাম হবে যাওয়া তার জন্য, তার গানের গলা বরাবরি ভালো, সে চায় বাংলা গান,নাট্যশিল্প এগুলা খুব ভালো করে শিখতে কিন্তু বিদেশে তা হবে না।তাই তো এতো তোর জোর!
তর এই নেপাল শহর ছেড়ে কোন দুক্ষে বাংলাদেশে যেতে মন চাচ্ছে,তার চেয়ে বড় কথা অই বাংলাদেশ আমাদের জন্য অভিশাপ ভুলে গেলি,,,

না ভুলি নি,,, এর জন্য তো যাওয়া।
কথাখানা মনে মনে বলে উঠে মেহেরিমা ইসলাম হেরা ,,,রুশা এবার সন্দেহ বাজন চোখে তাকায়
“”কি ব্যাপার বল তো! তুই নাট্যশিল্পকলা নিয়ে পরছিস ভালো কথা! এখানে ও তো কতো ভার্সিটি আছে এমন কি আংকেল ও বলেছে তোকে অন্য দেশে যেতে কিন্তু তুই ঘুরে ফিরে বাংলাদেশে কেনো?কাহিনি কি মামা, শোন মনের মধ্যে কুটনিতি কিছু চললে ফটাফট বলে ফেল
রুশার কথার পিষ্টে হেরা বলে উঠে _
” ছি” রুশা তুই এতো দিনে আমায় এই চিনলি?এই জীবন রেখে কি লাভ আমার, যা আজ থেকে আমি আমার রাস্তায় তুই তোর রাস্তায় চলবি,যেখানে বিশ্বাস নেই যেখানে থেকে কি লাভ!
“” হইছে নাটক বাজ মহিলা ” নাট্যকার হইতে পারবি তুই,আর পড়াশুনা ও তো অই সাবজেক্ট নিয়ে”
“” আমি কিছু বললেই এগুলো কথা বলিস! তর মতো সারাদিন তো উপন্যাস এর নায়ক দের উপর ক্রাস খাই না,যাদের কোনো অস্তিত্ব নেই তাদের নিয়ে সকাল সন্ধ্যা ভাবিস! ছে!! ছোটলকি ব্যাপার সেপার–
হেরার কথায় তরাৎ গাতীতে বলে উঠে।

“” এই তুই উপন্যাসের নায়কের ডায়লগ বললি কেনো?একদম আমার হিরোর ডায়লগ বলবি না কপিবাজ মহিলা!!
এবার হেরা বেশ রেগে যায়,,, খাটের উপর পা ভাজ করে বসে , চোখ ছোট ছোট করে বলে উঠে
এই লুচ্চা মহিলা আমি খাই তর উপন্যাসের নায়ক রা খায়,আমি গাড়ি দিয়ে চলি তারাও চলে আমি কথা বলি তারাও কথা বলে, আরে মহিলা ক,খ,গ,ঁ, অ থেকে ঔ এর ভিতরে যা শব্দ ঘঠন হবে তাই কি কপি নাকি!! তাহলে তাদের উগান্ডা দেশের ভাষা ব্যাবহার করতে বলিস,, তর উপন্যাসের নায়ক ভাগ্য ভালো হাগে না তা না হলে বলতি আমি অইটার ও কপি করি।গেট আউট
এই আবার আউট বললি কেন রিদ জান্স তো আউট বলে।

না আর সহ্য করা যায় না,এই মেয়েটার স্বভাব এমনি,কে জানি বলেছে অল্প বয়সি যুবক যুবতীদের মাথা নষ্ট করার একমাত্র মাধ্যম উপন্যাস পড়া।হুম সে একদম ঠিক কথাই বলেছে,প্রমান সহিত তার একমাত্র জানেজিগার দোস্ত রুশা সিকদার তো আছেই।মেয়েটা এতো উপন্যাস পরে,,,এর জন্য তো কোনো ছেলেদের পছন্দ হয় না,আরে ভাই অই টা তো নিজে লিখে একটা কেরেক্টার তৈরি করে,আর বাস্তবতা তো আলাদা,,এই পাগল মেয়েকে তা কে বোঝাবে?
হেরা রাগি চোখে তাকিয়ে মোনাজাতের মতো করে বলে উঠে।
ও মোর আল্লাহ এই ডায়লগ গুলা পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলো!!দয়া করে রহম করো আল্লাহ!!

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ২