Home আমি তার সন্ধ্যামালতী আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ১৫ (২)

আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ১৫ (২)

আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ১৫ (২)
DRM Shohag

নিয়াজ বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায় আকাশের দিকে। সৃজনের মা মানে সন্ধ্যার দিকে রিহানের নজর মানে? অবাক হয়ে বলে, “কি বলছ তুমি এসব?”
আকাশ দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“রিহান তোমার কাজিন, এটা লুকিয়েছ কেন?”
নিয়াজ উত্তরে বলে,
“ব্যাপারটা এমন নয়, যে আমি এটা লুকিয়েছি। আসলে আমাদের পারিবারিক ঝামেলা আছে৷ আর তাই…….
আকাশ মাঝখান থেকে বলে,

“আর তাই তেমাদের ঝামেলা মেটাতে কাজিনের ইচ্ছে পূরণ করতে লেগে পড়েছ।”
আকাশের সব কথা নিয়াজের মাথার উপর দিয়ে যায়। বলে,
“এসব আবোলতাবোল কি বলছ তুমি?”
আকাশ গুমগমে স্বরে বলে,
“আমি আল্লাহর মতো জাহান্নাম বানাতে না পারলেও, আমার পার্সোনাল জাহান্নামে অবশ্যই একটা ট্যুর দেয়াবো তোমাদের। স্পেশালি তোমার কাজিন। রি রেডি।”
কথাটা বলে আকাশ নিয়াজকে একটা ধাক্কা দেয়। নিয়াজ দু’পা পিছিয়ে যায়। সৃজন এতক্ষণ ডিভানের উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আকাশ আর নিয়াজকে দেখছিল। বাচ্চা ছেলেটি কিছুই বুঝতে পারেনি। সে ধীরে ধীরে ডিভানের উপর থেকে নেমে এসে আকাশের দিকে চেয়ে রেগে বলে,

“বাতাচ বাবু তুমি আমাল খিয়াজ মামাকে মালচো কেন?”
আকাশ সৃজনের দিকে তাকায়। সৃজনের মুখে দু’টো উদ্ভট নাম শুনে তার ভ্রু কুঁচকে যায়। রাগ হয় নিজের নামের বিকৃত রূপ শুনে। ধমকের স্বরে বলে, “হোয়াট?”
সৃজন ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। ভয় পেয়ে সে নিয়াজের কাছে গিয়ে দু’হাতে নিয়াজের পা সাপ্টে ধরে দাঁড়ায়। নিয়াজ নিচু হয়ে সৃজনকে কোলে তুলে নেয়। সৃজন দু’হাতে নিয়াজের গলা জড়িয়ে ধরে বিচার দেয়,
“খিয়াজ মামা, বাতাচ বাবু শুদু সবাইকে মালে আল বকে।”
নিয়াজ সৃজনকে জড়িয়ে নেয় নিয়াজের সাথে। পকেট থেকে একটি চকলেট বের করে সৃজনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে মৃদুস্বরে বলে, “এটা নাউ আব্বু।”

সৃজন তার পছন্দের আরেকটি চকলেট পেয়ে খুশি হয়ে নিয়ে নেয়। আকাশের থেকে মন ঘুরে চকলেটের দিকে আসে। হেসে নিয়াজের গালে একটা চুমু খেয়ে বলে, “খিয়াজ মামা কুব বালো।”
নিয়াজ মৃদু হাসল। সৃজনকে কেউ যে কয়টা চকলেট দেয়, বাচ্চাটি তাকে সেই কয়টাই চুমু দেয়। সবার ক্ষেত্রেই করে এটা সৃজন। নিয়াজও সৃজনের গালে চুমু খাওয়ার জন্য মুখ এগিয়ে নিলে আকাশ এগিয়ে এসে নিয়াজের থেকে একপ্রকার ছিনিয়ে নেয় সৃজনকে। ডান হাতে নিয়াজের কলার ধরে রাগান্বিত স্বরে বলে,
“তেমার সাহস কি করে হয়, ওর সাথে এতো ভাব জমানোর?”
নিয়াজ থমথমে মুখে চেয়ে বলে,
“মানে?”

আকাশ উত্তর করেনা। নিয়াজকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে সৃজনকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে আকাশ। সৃজন রাগী রাগী ভাব নিয়ে বলে,
“বাতাচ বাবু তুমি আবাল আমাল খিয়াজ মামাকে বুকচো কেনু? আমাকে কুলে নিচ কেনু?
আকাশ পাত্তা দিল না সৃজনের কথা। সৃজন আকাশকে চুপ দেখে মোচড়ামুচড়ি করে। সে নেমে যেতে চায় আকাশের কোল থেকে। কিন্তু আকাশ নামালো না। সৃজন মোচড়ায় আর জাবিবের বলা কথা থেকে কিছু শেখা বুলি আওড়ায়,
“আবাল আমাকে ছুলে পেলে দিলে তোমাল কবল করে ছালবো বাতাচ বাবু। বুচ্চো?”
আকাশ এবার ধমক দেয় সৃজনকে,

“সাটআপ।”
সৃজন ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। কাঁদোকাঁদো মুখ করে তাকায়। আকাশ ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। নিজেকে সামলে সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে নরম কণ্ঠে বলে,
“তুমি কি খেতে ভালোবাসো?”
সৃজনের মনটা তৎক্ষনাৎ ঘুরে যায়। সবাই তাকে শুধু চকলেট দিচ্ছে। কেউ জেলি দিচ্ছেনা। তাই তার এখন জেলির কথাই মনে পড়ে বেশি। সে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে,
“আমি জেলি কেতে কুব বালোবাচি।”

ভার্সিটিতে অরুণের বলা কথাটা মনে পড়ল আকাশের। অরুণ জেডিকে বলেছিল, সৃজনের জেলি পছন্দের খাবার। আকাশ আড়চোখে সৃজনের দিকে চেয়ে মৃদুস্বরে বলে, “ওকে।”
আকাশ সৃজনকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসলে চোখ পড়ে সন্ধ্যা ভেজা চুলে হতদন্ত পায়ে তার ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে। বোধয় গোসল করে বের হয়ে সৃজনকে না পেয়ে চিন্তায় এই হাল।
সন্ধ্যা ঘর থেকে বেরিয়ে সামনে তাকালে চোখে পড়ে আকাশের কোলে সৃজন। অবাক হয় বাবা ছেলেকে দেখে। আকাশের ফর্সা উদাম শরীর। সাথে সৃজনের। গায়ের রঙটা সেইম। চোখের মণিও সেইম। দু’জনেই গোসল করায় আলাদা একটা স্নিগ্ধতা প্রকাশ পাচ্ছে দুই বাবা ছেলের মাঝে। সন্ধ্যার বুক ধুকধুক করে। অবাক হয় সৃজনকে আকাশের কোলে শান্ত হয়ে থাকতে দেখে। সাথে অবাক হয় আকাশ সৃজনকে কোলে নিয়েছে ভেবে। কিন্তু সে আকাশকে বিশ্বাস করতে পারলো না।

মেয়েটি আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে একপ্রকার দৌড়ে এসে আকাশের সামনে দাঁড়ায়। কোনো কথা ছাড়াই সৃজনকে ছিনিয়ে নেয় আকাশের কোল থেকে।
আকাশ কিছু বলল না৷ উল্টে সে তার হাত আলগা করে সন্ধ্যার দিকে বাড়িয়ে দেয় সৃজনকে। দৃষ্টি সন্ধ্যার সদ্য গোসল করা স্নিগ্ধ ভীত মুখপানে।
সন্ধ্যা সৃজনকে কোলে নিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে রাগান্বিত স্বরে বলে,
“আপনার সাহস কি করে হয়, আমার ছেলেকে কোলে নেয়ার?”
আকাশ সন্ধ্যার কথার উত্তর করে না। উল্টে ঠান্ডা গলায় বলে,

“ছেলেকে নিজের কাছে রাখো। অন্যকারো কোলে দিলে ওকে আজকেই দত্তক দিয়ে আসব। মাইন্ড ইট।”
সন্ধ্যার চোখেমুখে ভীতি জড়ো হয়। ঢোক গিলল সে। মনে পড়ল, আকাশের বলা সেই শর্তগুলোর কথা, যার মধ্যে ছিল সৃজনকে দত্তক দেয়ার কথা। সন্ধ্যা সৃজনকে বুকে চেপে ধরে।
ওদিকে নিয়াজ আকাশের পিছু পিছু নেমে এসে দাঁড়িয়ে ছিল। আকাশের কথাটা শুনে সে বেশ বুঝল, আকাশ সৃজনকে তার কোলে দেয়ার কথা নিষেধ করেছে ইনডিরেক্লি। কিন্তু সৃজনকে দত্তক দেয়ার কথাটিতে ভীষণ অবাক হলো। আপাতত এসব ভাবনা চেপে সে পিছন থেকে আকাশের উদ্দেশ্যে বলে,
“সৃজনকে তুমি আমার কোলে আসা থেকে আটকাতে পারবে না আকাশ। সৃজন আমার বেশ ভালো ভক্ত।”
নিয়াজের কথা কানে আসতেই আকাশের চোখমুখ শক্ত হয়ে যায়। চরম
বিরক্তি ফুটে ওঠে চোখেমুখে।

এদিকে সন্ধ্যা নিয়াজকে দেখে দ্রুত ডান হাতে শাড়ির আঁচল টেনে মাথা ঢেকে নেয়। অবাক হয় নিয়াজের কথা শুনে। আকাশ নিয়াজকে সৃজনের কোলে দিতে চাইছে না? নিয়াজের কথা শুনে তো তাই মনে হলো। কিন্তু আকাশ এমন কেন করবে? আকাশ তো সৃজনকে সহ্যই করতে পারেনা। এজন্য তার ছেলেটাকে দত্তক পর্যন্ত দিয়ে দিতে চায়। সৃজনের কথায় সন্ধ্যার ধ্যান ভাঙে।
সৃজন নিয়াজের দিকে চেয়ে বলে,
“হু হু, আমি খিয়াজ মালাল বেচ বালো বক্ত।
এরপর সৃজন দু’হাত নিয়াজের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
খিয়াজ মামা আমাকি কুলে নাউ, কুলে নাউ।”

নিয়াম সৃজনের দিকে চেয়ে মৃদু হাসলো। এগিয়ে এসে আকাশের পাশে দাঁড়িয়ে মৃদুস্বরে বলে, “দেখলে তো, সৃজন নিজের মুখেই স্বীকার করল, সে আমার ভক্ত।”
এমনিতেই সৃজনের কথা শুনে আকাশ রেগে আছে। তার মধ্যে নিয়াজের কথা তার রাগ আরও কয়েকশো ধাপ বাড়িয়ে দিল। বাদিকে ফিরে নিয়াজের কলার চেপে ধরে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
“ওর সাথে ভাব জমাতে নিষেধ করেছি আমি।”
নিয়াজ অদ্ভুদভাবে তাকায়। সৃজনকে নিয়ে আকাশের রিয়েকশন এরকম কেন? নিজের মনে তৈরী হওয়া প্রশ্নটা নিয়াজকে ভীষণ ভাবাচ্ছে।
আসমানী নওয়ান নামাজ শেষ করে তার রুম থেকে বেরিয়ে আসে। বাইরে থেকে পরিচিত কিছু গলার আওয়াজ পেয়ে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়েছে ঘর থেকে। চোখে পড়ে আকাশ নিয়াজের কলার ধরে রেখেছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে, আকাশ রেগে আছে। ভদ্রমহিলা বুঝলেন না, আকাশ নিয়াজের উপর কেন রেগেছে। এতোকাল তো সন্ধ্যা আর সৌম্য’র উপর রেগে থাকতো আজ আবার নিয়াজের সাথে কি হলো? এগিয়ে এসে বিচলিত কণ্ঠে বলে,
“আকাশ কি করছ? নিয়াজকে ছাড়ো।”

সৃজন তার দাদিমার অনুকরণ করে বলে, “বাতাচ বাবু কি কলছ? খিয়াজ মামাকে ছালো।”
সৃজনের মুখে আবারো নিজের নামের বিকৃত রূপ শুনে আকাশ চটে গেল। সৃজনের দিকে চেয়ে রে’গে বলে, “হোয়াট?
সৃজন আকাশকে একটু ভয় পেল। তবে মায়ের কোলে থাকায় সাথে দাদিমা পাশে থাকায় সে ভয় বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। সে ডান হাতের বুড়ো আঙুল মুখে ঢুকিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করে, “য়োআট মানে কি?”
আকাশ বিরক্তি কণ্ঠে বলে, “ইডিয়ট!”

সৃজন আসমানী নওয়ানের দিকে চেয়ে বলে, “দাদিমা, বাতাছ বাবু বুলচে য়োআট মানে ইলিয়ট।”
সৃজনের কথা শুনে নিয়াজ মুখ টিপে হাসল। আসমানী নওয়ান নাতির কথায় নিজেও না চাইতেও একটু হেসে ফেলল। তবে আকাশ আর সন্ধ্যার মুখে হাসি নেই। দু’জন একে অপরের দিকে চেয়ে আছে। দৃষ্টি থমথমে। আকাশ দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। নিয়াজের কলার ছেড়ে নিয়াজের হাত ধরে টেনে বাড়ির দরজার দিকে নিয়ে যায়।
সন্ধ্যা, আসমানী নওয়ান ভ্রু কুঁচকে দেখছে আকাশের কান্ড। আসমানী নওয়ান একবার বলে,
“আকাশ নিয়াজকে এভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? ও খেয়ে যাবে এখানে।”
আকাশ মায়ের কথা শুনলো না। সে দরজা খুলে নিয়াজকে টেনে দরজার বাইরে বের করে দেয়। নিয়াজ আকাশের দিকে চেয়ে মিটিমিটি হাসছে। আকাশ দরজা আটকাতে গিয়ে নিয়াজের হাসি তার দৃষ্টিগোচর হতেই আকাশের কপালে ভাঁজ পড়ে। রেগে বলে, “কি প্রবলেম, হাসছ কেন?”
নিয়াজ নিজেকে সামলে বলে,

“তুমি কি জানো, সেটা তো আমি জানি না। বাট আমার মনে হচ্ছে, আমি সামনে অনেক কিছু জানবো। টপিক কিন্তু তুমি। একটু সাবধানে থাকবে।”
আকাশের দৃষ্টি থমথমে হয়ে যায়। হঠাৎ-ই ঠাস করে নিয়াজের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়। এপাশে নিয়াজের মুখটা থমথমে হয়ে যায়। মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়ায় নয়। রিহান আর তাকে আকাশ ভুল কিছু ইঙ্গিত করছে। কিন্তু কি? আর কেন? এখানে সন্ধ্যাও রিলেটেড। সে কিছুই বুঝতে পারছে না। ভাবল, রিহানের সাথে কথা বলবে। সৌম্য’র ফ্রেন্ড রিহান। কিন্তু সন্ধ্যার সাথে রিহানের কি সম্পর্ক? নিয়াজ হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে ছুটল রিহানের বাড়ির উদ্দেশ্যে। তবে আকাশের কথা ভেবে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। মনে হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত কিছু হাতের কাছে ধরা দিচ্ছে।

ঘড়ির কাটা ঠিক ২ টা ৩০ এর ঘরে। পুলিশ স্টেশনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একটি কালো রঙের গাড়ি। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে আকাশ। কোনোদিকে না তাকিয়ে বড় বড় কদম ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
নিজেকে পুরো কালো পোষাকে আবৃত করেছে। মুখে রুমাল বাঁধা যেটা মাথাসহ ঢেকে রাখা। চোখদু’টোয় কালো লেন্স লাগানো। ডানহাতে পিস্তল, যার ট্রিগারে আঙুল রাখা। চোখেমুখে অসম্ভব দৃঢ়তা।
স্টেশনের ভেতরে জাবির, সাইফ আছে৷ সাইফ সৃজনকে রেখে সাইফের ফোন পেয়ে এখানে ছুটে এসেছে। কারণ সৌম্যকে জেলের ভেতর নিয়েছে। জাবির কিছুতেই আটকিয়ে রাখতে পারেনি। খবরটি সাইফ জাবিরের কাছ থেকে পেয়েই ছুটে এসেছে। সন্ধ্যাকে জানায়নি, টেনশন করবে বলে। সন্ধ্যাকে জানালে সে আর সৃজন দুজনেই বিপদে পড়ে যায়। সাফা আর লামিয়াকেও বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। মেয়ে মানুষ স্টেশনে থাকা সেইভ নয়। সবমিলিয়ে দুই বন্ধু আরেক বন্ধুর ভাইকে বাঁচাতে দিশেহারা প্রায়।

হাঁটার ফলে বুটের গুমগুম শব্দে সাইফ আর জাবির দরজার দিকে তাকায়। চোখে পড়ে কালো পোষাক পরিহিত একটি লোক দৃঢ় পায়ে এগিয়ে আসছে। তারা চিনতে পারলো না আকাশকে। ভ্রু কুঁচকে চেয়ে রইল। এভাবে পর্দা নিয়ে এই স্টেশনে এটা কে এসেছে?
আকাশ ভেতরে প্রবেশ করে তীক্ষ্ণ চোখে দেখে নেয় অফিসারের অবস্থান। আর কোনোদিকে তাকায় না। সোজা অফিসারের দিকে আসতে আসতে ডান হাতের পি’স্ত’ল উঠিয়ে চোখের পলকে অফিসারের বুক বরাবর একাধারে ছয়টি গু’লি ছুড়ে দেয়।

অফিসার কলে কথা বলছিল, বেচারা বুঝতেই পারেনি তাকে কেউ এভাবে হুটহাট এসে গুলি করে দিবে৷
স্টেশনে থাকা কনস্টেবলরাসহ সাইফ, জাবির সকলেই হতভম্ব হয়ে গেছে। সেলের ভেতরে দাঁড়ানো সৌম্য দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসে। পুরো ছয় ছয়টি গু’লির শব্দ পেয়ে সে ভয় পেয়েছে। সেলটি বা পাশে। যার ফলে সাইডে কি হচ্ছে, সেভাবে দেখা যায় না। সৌম্য ভীত কণ্ঠে ডাকে, “সাইফ, জাবির?”
সৌম্যর কণ্ঠে সাইফ জাবির দু’জনেই পিঠ ফিরিয়ে রাখা আকাশের দিক থেকে চোখ সরিয়ে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে।
আকাশের শক্ত দৃষ্টি সামনে চেয়ারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা অফিসারের পাশে। সৌম্য’র কণ্ঠ পেয়ে কপালে ভাঁজ পড়ে। ঘাড় ঘুরে যায় ডানদিকে।

চোখে পড়ল সাইফ আর জাবির ব্যস্ত পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আকাশ দিক ফেরায়। দৃষ্টি ঘোরাফেরা করে প্রত্যেক ভীত কনস্টেবলের দিকে। তারা খুব ভালো করেই বুঝেছে লোকটা সাধারণ কেউ নেই। তাদের অফিসের বসকে একদম চোখের পলকে মে’রে দিল? আকাশ এগিয়ে এসে দাঁড়ায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কনস্টেবলদের সামনে। বা হাত উঠিয়ে মুখে বাঁধা রুমাল উম্মুক্ত করে দেয়। এতক্ষণ সকলে যেটুকু ভয় পাচ্ছিল, তার পরিমাণ হুড়হুড় করে বেড়ে যায়। থরথর করে কাঁপতে থাকে আকাশকে দেখে। আকাশ হাতের পিস্তল ছুড়ে ফেলে দেয়। পিছনে গুঁজে রাখা আরেকটি পিস্তল বের করে। শক্ত দৃষ্টি এখনো কনস্টেবলদের দিকে ঘুরছে। একজনের উপর দৃষ্টি স্থির হয়। লো ভয়েসে বলে,

“আমি নিষেধ করার পরও কে ওকে জেলে ভরেছে?”
লোকটি কাঁপতে কাঁপতে বলে,
“আমরা কিছু জানি না বস। স্যার আমাদের বলেছিল তাই…….
বাকিটুকু শেষ করার সুযোগ দেয় না আকাশ। লোকটির পেট বরাবর পিস্তল ঠেকিয়ে সুট করে দেয়। ক’সেকেন্ডের মাথায় লোকটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এদিকে বাকিরা এই দৃশ্য দেখেই বোধয় বুঝে গিয়েছে তাদের কি করতে হবে। সবাই একসঙ্গে একপ্রকার দৌড়ে গিয়ে দাঁড়ায় সৌম্য’র সেলের সামনে। যার কাছে চাবি ছিল, সে হতদন্ত হয়ে সেলের তালা খুলতে লেগে পড়ে। বাকি দু’জন তাড়া দেয়।
এদিকে সেলের ভেতরে থাকা সৌম্য ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে। সাথে সাইফ আর জাবির। তারা মাত্র আরেকটি গু’লির আওয়াজ পেয়েছে। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না।
তখনই জাবিরের ফোন বেজে ওঠে। বাবার ফোন দেখল সে কল রিসিভ করে। কলের ওপাশ থেকে জাবিবের বাবা হেসে বলেন,

“তোমার জন্য ভালো খবর। তোমার ফ্রেন্ডের ভাইয়ের মানে সৌম্য’র সকল অভিযোগ তুলে নেয়া হয়েছে। ওকে সাবধানে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এসো।”
কথাটা শুনে জাবির বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। কিছুক্ষণ আগেও যে সৌম্যকে জেলে ঢুকানোর জন্য সবাই মিলে তার সাথে তুলকালাম কান্ড বাঁধিয়ে ফেলেছিল, বাবাও তার কথা শোনেনি। পুলিশ অফিসার তাকে দুটো থাপ্পড়ও মেরেছে সে বাঁধা দিচ্ছিল বলে। এখন তারাই এসব বলছে? পুলিশগুলোও সৌম্য’র সেলের তালা খুলে দিচ্ছে। জাবির বিস্ময় কণ্ঠে বলতে নেয়,
“বাবা কিভাবে কি….

ওপাশে জাবিরের বাবা তাড়া দেখিয়ে বলে, ‘পরে বুঝিয়ে বলবে, এখন সে ব্যস্ত।’ এরপর কল কেটে দেয়।
জাবিরের কল লাউডে ছিল বিধায় সৌম্য, সাইফ জাবিরের বাবার কথা শুনতে পায়। সৌম্য নিচু হয়ে সেলের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। জাবিবের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে নেয় সৌম্য। তার আগেই জাবির, সাইফ দু’জনেই সৌম্য টেনে বাইরে নিয়ে যেতে থাকে। সৌম্য বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
“আরে আজব, তোমরা আমাকে এভাবে টানছ কেন? ভালোভাবে কথা বলে তারপর আমি নিজেই যাবো।”
সাইফ, জাবির কেউই শুনলো না সৌম্য’র কথা। এই স্টেশনে থাকলেই কিছু না কিছু ঘটছে। এখানে আর এক মুহূর্ত থাকবে না। সৌম্য একটু ভেজালে আছে। যদি জানে এখানে কেউ এসে ওই অফিসারকে মেরে দিয়েছে, তখন আবার এক গোয়েন্দা হয়ে যাবে, এজন্যতারা সৌম্যকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাইছে। নয়তো তাদের শান্তি হচ্ছেনা। তারা দু’জনেই সৌম্যকে জোর করে টেনেই স্টেশনের বাইরে বের করে এনেছে। বড় বড় পায়ে এগোচ্ছে। এবার সৌম্যও জাবিরদের সাথে এগোয়।

হঠাৎ-ই পিছন থেকে সৌম্য’র পিছন বরাবর কেউ একজন শব্দহীন হাঁটতে হাঁটতে ছু’রি বাড়িয়ে দেয়, সৌম্য’র পিঠে গেঁথে দেয়ার জন্য। কিন্তু লোকটির হাত থেমে যায় মাঝপথেই। সৌম্যরা এগিয়ে যায়, কিন্তু সে না তো সামনে এগোতে পারে, আর না তো তার হাত এগিয়ে নিতে পারে। লোকটির দৃষ্টি তার বাড়িয়ে রাখা লম্বা ছু’রিতে। যার আগা আকাশ ডান হাতে মুঠো করে ধরে রেখেছে। নতুন, চকচকে ধা’রা’লো ছু’রি হওয়ায় আকাশের হাতের বোধয় বিঁধে গিয়েছে। এক, দু’সেকেন্ড পর পর হাত চুইয়ে চুইয়ে র’ক্ত পড়ছে কাঁচা মাটিতে। আকাশের সেদিকে বিশেষ ভ্রুক্ষেপ নেই। তার শক্ত দৃষ্টি লোকটির পানে। লোকটি আকাশকে দেখে থরথর করে কেঁপে ওঠে। কম্পিত ঠোঁট দ্বারা কিছু উচ্চারণ করতে চায়, তার আগেই আকাশ বা হাতে লোকটির মুখ চেপে ধরে লোকটির হাত থেকে ছু’রি কেড়ে নেয়। ছু’রিটি সামান্য উপরে উঠিয়ে ছু’রির গোড়ায় কেচ ধরে চোখের পলকে বা দিক থেকে এক কোপ দিয়ে লোকটির মাথা বডি থেকে আলাদা করে দেয়। বা হাতে বডিটি একদিকে ধাক্কা দেয়, আর মাথাটি ছিটকে গিয়ে সৌম্যদের পায়ের কাছে গিয়ে ধাক্কা খায়। সৌম্যদের পা থেমে যায়। কারো চিৎকারের শব্দে তারা তিনজন দ্রুত উল্টো ঘুরে তাকায়। পায়ে কাছে মানুষ তড়তাজা এক মাথা দেখে তিনজনের শরীর শিউরে ওঠে। সৌম্য বিস্ময় কণ্ঠে আওড়ায়,

“ইন্নালিল্লাহ! এটা কার মাথা?”
সাইফ, জাবির স্তব্ধ চোখে চেয়ে আছে। দৃষ্টি উঠিয়ে সামনে তাকালে দেখল, রাস্তা থেকে নেমে গিয়ে সামনে ফাঁকা জায়গাটিতে একটি মাথা ছাড়া বডি নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে। আশেপাশে কেউ নেই। সাইফ, জাবির তিনজনেই একপ্রকার দৌড়ে গিয়ে সেখানে দাঁড়ায়।
সৌম্য’র মনে হচ্ছে, সে কোনো ঘোরের মধ্যে আছে। নিজেকে সামলে সামনে এক পা এগোলে আকাশের সাথে ধাক্কা খেয়ে সৌম্য বা দিকে সামান্য সরে যায়। ডানদিকে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালে দেখল একজন কালো পরিহিত লোক এগিয়ে একটি দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ির সামনে দাঁড়ায়। সৌম্য ব্যাপারটি স্বাভাবিকভাবেই নিল, কারণ মনে হচ্ছে লোকটি রাস্তার বিপরীত দিক থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জায়গাটি অনেক নির্জন। এখন দুপুর হওয়ায় আরও নির্জন। কিন্তু এই দিন দুপুরে এইখানে একটা জ্বলজ্যান্ত মানুষকে কে এভাবে জবাই করল? সৌম্য দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে গেলে আকাশের সাথে চোখাচোখি হয়। খুব বেশি দূরত্ব নয়, যার ফলে বেশ স্পষ্ট দেখতে পেল দু’জন দু’জনকে। কিন্তু সৌম্য আকাশকে চিনতে পারলো না।

কারণ আকাশের মাথা মুখ দু’টোই রুমাল বাঁধা। আর সৌম্য’র মাথায় আকাশের কথা আসলো না, কারণ সে জানে আকাশের চোখের মণি সোনালি। কিন্তু এখন আকাশ লেন্স পরায়, আকাশের চোখ কালো দেখল সে। তাই আকাশকে চেনার উপায় নেই। আকাশের চোখে চোখ রেখে সৌম্য ভ্রু কুঁচকে তাকায়। তার মনে হচ্ছে, এই লোকের চোখ দু’টো হাসছে। নাকি সে ভুল বুঝছে? ভাবনার মাঝেই আকাশ গাড়ির সামনে থেকে অপর পাশে এসে দাঁড়ায়। ডান হাতে র’ক্তমাখা ছু’রি। যেটা সৌম্য’র চোখে পড়ে। দৃষ্টিতে বিস্ময় ভর করে। আকাশ ডানদিকে ঘাড় বাঁকিয়ে আরেকবার দেখল সৌম্যকে। সেদিক তাকিয়েই রক্তমাখা ছু’রিটি গাড়ির ভেতরে ছুড়ে মারে। এরপর চোখের পলকে সে গাড়ির উঠে গাড়ি স্টার্ট দেয়। সৌম্য গাড়িটির পিছন পিছন দৌড়ায় আর ডান হাত উঠিয়ে ডাকে,

“আরে এ্যাই, দাঁড়া,, দাঁড়া বলছি।”
আকাশ আয়নায় সৌম্যকে দেখে হাসল। বা হাতে মুখের রুমাল খুলে ছুড়ে ফেলে গাড়ির স্পিড বাড়ায়।
ওদিকে সৌম্য’র চেঁচানো শুনে সাইফ আর জাবির সৌম্য’র পিছু দৌড়ে আসে। ততক্ষণে সৌম্য দাঁড়িয়ে গিয়েছে, কারণ গাড়িটি চোখের আড়াল হয়ে গেছে। তবে সে গাড়ির নাম্বারটিতে বেশ ভালোভাবে চোখ বুলিয়ে নিয়েছে। মনে আছে খুব ভালো করে।
সাইফ আর জাবির জিজ্ঞেস করে,
“কি হয়েছে ভাইয়া?”
সৌম্য হাঁপায় খানিক। এরপর নিজেকে সামলে বলে, “ওই লোকটা এই লোকটাকে মেরেছে। আমি শিইওর।”
জাবির ভ্রু কুঁচকে বলে,
“কোন লোকটা? আর কেন মেরেছে?”
সৌম্য অদৃশ্য হওয়া গাড়ির রাস্তার পানে চেয়ে উত্তর করে, “কিছুই জানিনা।”

দুপুরের খাবার সব ফেলে রাখা। কেউ খায়নি। আসমানী নওয়ান সন্ধ্যার ঘরে এসে বলে, “অনেক বেলা হয়েছে। এখনো খাসনি কেন?”
সন্ধ্যা আসমানী নওয়ানের দিকে চেয়ে বলে, “খাবারের গন্ধে চারিদিক মো মো করছিল। বুঝেছি ওগুলো তুমি তোমার ছেলের জন্য রান্না করেছ। ওগুলো তাকেই খাইয়ো আম্মাজান। ছেলে তোমার, ভাবনাও তোমার। এখন তোমার ছেলে আমাদের সাথে যতই নির্মম ব্যবহার করুক না কেন!”
আসমানী নওয়ান অসহায় কণ্ঠে ডেকে ওঠে, “সন্ধ্যা?”
সন্ধ্যা ধরা গলায় বলে,
“আমার জীবনটা নরক বানিয়ে দিল তোমার ছেলে। আর কি বাকি আছে আম্মাজান? এখন আমার ভাই আর আমার ছেলেটার পিছনে লেগেছে। তুমি তার জন্য টেবিল ভর্তি করে খাবার সাজিয়ে রেখেছ। ওই খাবার আমার গলা দিয়ে নামবে না। আমাকে জোর কর না। আমি এই বাড়ি আর থাকবো না। আমি আমার ছেলেকে নিয়ে চলে যাবো এখান থেকে।”

আসমানী নওয়ান ঢোক গিলে বলে,
“আকাশ নাকি তোকে শর্ত দিয়েছে। ওগুলো…”
ভদ্রমহিলা সন্ধ্যার দিকে চেয়ে থেমে যায়। সন্ধ্যার চোখমুখের অসহায়ত্ব তার কথা থামিয়ে দিয়েছে। সন্ধ্যা কতক্ষণ অবাক হয়ে দেখল আসমানী নওয়ানকে এরপর বিদ্রূপ হেসে বলে,
“তুমিও তোমার ছেলের মতো চাইছ, আমি তার শর্তগুলো মেনে নিই? কেন চাইছ? আবার তোমার ছেলের বউ বানাতে চাও এইজন্য? ওরকম জা’নো’য়া’রের মতো মানুষের বউ আমি আর নতুন করে হব না। সুযোগ হলে আগের বাঁধনটাও ছিঁড়ে ফেলব।

এটুকু বলে থেমে যায়। ঢোক গিলে বহুকষ্টে উচ্চারণ করে, “আমি আমার সৃজনকে অন্যকারো কাছে দিব না। প্রয়োজনে আমি, ভাইয়া সবাই এই শহর ছেড়ে চলে যাবো। তোমার ছেলে তবুও শান্তিতে থাকুক।”
কথাগুলো বলতে গিয়ে এতক্ষণের আটকে রাখা নোনাজল দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার দৃষ্টি হঠাৎ দরজায় পড়লে দেখল আকাশ চোখমুখ শ’ক্ত করে তার দিকে চেয়ে আছে। সন্ধ্যা ঢোক গিলল। ভাবনার মাঝেই আকাশ বড় বড় পায়ে ঘরের ভেতরে এসে সন্ধ্যার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “সৃজন কোথায়?”
সন্ধ্যা কেঁপে ওঠে। বুঝল না আকাশ সৃজনকে কেন খুঁজছে। তখন যে বলল, সৃজনকে আজকেই দত্তক দিয়ে দিবে, সেজন্য কি সৃজনকে খুঁজছে? সন্ধ্যা ঢোক গিলে শক্ত গলায় বলে,

“ও যেখানেই থাকার থাকুক। আপনাকে কেন বলব আ…..
আকাশ ডান হাতে সন্ধ্যার গাল চেপে ধরে শক্ত করে। হুংকার ছেড়ে বলে,
“তোকে বলেছিলাম না, সৃজনকে তোর কোলে রাখবি? বে’য়া’দ’ব মেয়ে কার কোলে দিয়েছিলি ওকে? ও এই বাড়ির কোথাও কেন নেই? হোয়াই?”
লাস্ট কথাটা আকাশ আগের চেয়েও চিল্লিয়ে বলে। সন্ধ্যা বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। সৃজন এই বাড়ি নেই মানে? তাহলে কোথায়? সন্ধ্যা অস্পষ্ট স্বরে আওড়ায়, “ও কোথায়?”
আকাশ আগের চেয়েও শক্ত করে সন্ধ্যার গাল চেপে রাগান্বিত স্বরে বলে,
“ও কোথায় সেটা তুই বলবি। নয়তো…
আকাশ থেমে যায় সন্ধ্যার জলেভরা চোখজোড়া দেখে। সন্ধ্যার চেপে ধরা গাল ছেড়ে দেয়।
সন্ধ্যা দাঁত কিড়মিড় করে বলে,

“সৃজন আমার ছেলে।”
আকাশ গমগমে স্বরে বলে,
“আর আমার অধিকার।”
সন্ধ্যা বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। আকাশের মুখে এহেন কথা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। সন্ধ্যার সাথে সাথে আসমানী নওয়ানের বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে আকাশের ব্যবহারে, আকাশের কথায়। সে বিস্মিত কণ্ঠে আওড়ায়,
“কি বললে আকাশ?”

আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ১৫

আকাশ জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁটজোড়া ভিজিয়ে নেয়। সন্ধ্যার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। ঘর থেকে দ্রুতপায়ে বেরিয়ে যেতে যেতে গম্ভীর গলায় বলে,
“দু’দিন পর আমার আর সন্ধ্যার বিয়ে। সেই হিসেবে সৃজন আমার সৎ ছেলে প্লাস অধিকার। দ্যাট ইট।”

আমি তার সন্ধ্যামালতী পর্ব ১৬