তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২৪
রাফিয়া জান্নাত রিফা
নিধিকে দেখতে পাত্রপক্ষের লোক এসেছে আজ। ড্রয়িংরুমে জমে উঠেছে এক নীরব উত্তেজনা। পাত্র, তার বাবা, মা ও ছোট ভাই সবাই এসে সোফায় পরিপাটি হয়ে বসেছে। পাত্র এক নামী বহুজাতিক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত, পরিবারটিও যথেষ্ট সচ্ছল ও অভিজাত তা তাদের পোশাক আসাকই বলে দিচ্ছে।
সিদ্দিকী বেগম ও মিলি বেগম নাস্তা পরিবেশেন করছেন।চা, সমুচা, কাবাবের গন্ধে ঘরটা মো মো করছে। সবাইর মুখে সৌজন্যের হাসি, তবু এক অদৃশ্য অস্বস্তি ঘুরপাক খাচ্ছে যা তাদের তীব্র পীড়া দিচ্ছে।
পাএ দেখতে বেশ স্মার্ট, আত্মবিশ্বাসী বলেই মনে হলো, কিন্তু তার হাঁটু অনবরত কাঁপছে,থামছেই না। সিদ্দিকী বেগমের চোখে পড়লো সেই সূক্ষ্ম কম্পন। তিনি চুপচাপ তাকিয়ে রইলেন, বুঝতে পারলেন না এই কম্পনের কারণ। কিসের জন্য এই উত্তেজনা, নার্ভাসনেস, নাকি অন্য কিছু?পাএের বাবা কথার মাঝেই বললেন,,,
__ মেয়েকে আনুন তবে?
নাঈম তালুকদার সিদ্দিকী বেগমকে ইশারায় নিধি আনায় হুকুম আরোপ করলেন।সেই অনুযায়ী নিধিকে আনার জন্য ঘরমুখো হলেন তখনি দেখলেন তার তিন কন্যা সোফার দিকেই এগিয়ে আসছে।
ইতি, বিথীর মাঝখানে নিধিকে নিয়ে এঁকে বেঁকে হাঁটছে।নীল শাড়ির আঁচল দিয়ে বড় করে ঘোমটা টেনে রেখেছে নিধি,মুখ অনাবৃত,ঘোমটা খানা পেট বরাবর পড়েছে হয়তো। উপস্থিত থাকা সকলে একটু থমথমে খেয়ে গেল, কারণ মেয়েকে তো কেউ এখনো আনতেই গেল তার আগেই আসছে,এই কারণে,যাই হোক এ নিয়ে বেশি মাতামাতি করলো না উপস্থিতগণরা। কিন্তু সিদ্দিকী বেগমের মুখ হা হয়ে আছে,তিনি তো মা তিনি তার এই তিন কন্যা কে ভালো করেই চিনেন,এরা কিছু একটা যে ফন্দি এঁটেছে তা ভালো করেই বুঝলেন মা সিদ্দিকী বেগম।
নাঈম তালুকদার ও কিছুটা অবাক হলেন,তবে তার নিমেষেই উবে গেল।
ইতি, বিথী মুখে চওড়া হাসি দিয়ে সোফায় নিধি কে বসাল।পাএের হাঁটু এবার আরো বেশি করে কাঁপতে লাগলো।মাথা নিচু করেই রেখেছে।,চোখ তুলে নিধিকে দেখার সাহস পাচ্ছে না।পাএের বাবা নিধির এত্তো বড় ঘোমটা দেখে বললেন,,
__ মা এত বড় ঘোমটা দিয়ে রাখার কোন প্রয়োজন নেই?
সিদ্দিকী বেগম নিধির কাঁনের কাছে এসে ফিসফিস করে বলেন,,
__ কি রে এ বড় ঘোমটা দিয়ে রেখেছিস কেন?ঘোমটা তোল?
নিধি কিছু বলল না, কিন্তু বিথী ফিসফিসিয়ে তা মাকে বলল,,
__ উফফ মা চুপ থাকো তো?
সিদ্দিকী বেগম আর কিছু বললেন না।ইতি নিধির কানে ফিসফিস করে বলে,,,
__ ঘোমটা তোল এবার?
তড়িৎ বেগে ঘোমটা টা তুললো নিধি, ড্রয়িং রুমে উপস্থিত থাকা সকলে এক প্রকার ভয়ংকর ভাবে আঁতকে উঠলো নিধির মুখ দেখে।নিধি দাঁত বের করে খিলখিল করে হাসছে।নিধির কপালে দুইটা তিনটে বড় টিপ দেখা গেল। চোখের উপরে নিচে ভর্তি কাজলের কারণে চোখ গুলো ভয়ংকর দেখাচ্ছে,দেখতে একদমই বাজে লাগছে কিন্তু পাএের মা নিধির এই সাজে যেন মুগ্ধ হয়ে হাড়িয়ে গেলেন অন্য জগতে।তিনি নিজ বাহু দিয়ে পাশে থাকা তার ছেলে অর্থাৎ পাএকে ধাক্কা দিতে লাগলো। এবং ফিসফিস করে বলল,,
__ মাথা তুলে মেয়েটাকে দেখ,একদম তোর নানির মতো দেখতে,আহা সেই টানা চোখ,সেই চোখে গাঢ় করে কাজল।সেই বড় টিপ।আমি তো এই মেয়েকেই আমার বউ বানাবো।মাথা তোল,দেখ?
পাএ বিরক্তিতে নাক মুখ কুঁচকে বাধ্য হয়ে নিধি মুখ পানে তাকাতেই ভয়ে আঁতকে উঠলো বিকট শব্দে চিৎকার করে সোফায় উপরে পা দুটো তুলে উঠে বসলো, তার মায়ের পিট পাশে মুখ লুকিয়ে বলতে লাগলো,,
__ মা মা ভূত ভূত,আবার সেই ভূত দেখছি? কিছু করো মা ।
উপস্থিত থাকা সকলের চোখ বড় বড় হয়ে গেল পাএের এহেন কান্ডে।ভূত বলাতে নিধির রাগ হলো কিন্তু তা প্রকাশ পেল না,এখন তেমন কিছু করলে চলবে না।পাএের বাবা মা দুজনেই ছেলের এমন কান্ডে লজ্জিতবোধ করলেন।পাএের বাবা আড়োচোখে বারবার তার ছেলেকে শাসাচ্ছেন ,পাএের মা ও তার ছেলেকে পিট থেকে সরানো অনেক চেষ্টা করছেন, কিন্তু তার ছেলে আরো বেশি করে তার পিটে সিটিয়ে যাচ্ছেন।
নাজিম তালুকদার মেয়ের এমন সাজ দেখে রাগে ফেটে যাচ্ছে, ইতি, বিথীর দিকে রাগি চোখে তাকাচ্ছেন,ইতি বিথী একটু ভয় পেলেও তা পাত্তা দিচ্ছে না। নাজিম তালুকদার নিধি কে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি পাএের বাবা নিধিকে প্রশ্ন করে,,
__ মা তোমার কপালে দুইটা টিপ কেন?
ব্যাস নিধি ফরফর করে বলতে লাগলো,,
__ আচ্ছা আঙ্কেল বলেন তো আমি কি কি রঙের টিপ পড়েছি?
__ লাল,কালো,।
__ কালো কেন পড়েছি জানেন?
__ কেন?
__ কুনজর থেকে বাঁচার জন্য?
__ ওহহ।তাহলে লাল কেন পড়েছো?
__ কুনজর কে মেরে রক্তাক্ত করার জন্য?
__ বাহহ তুমি তো বেশ বুদ্ধিমান?
__ হ্যাঁ জানি,তবে আজ প্রথম আপনার মুখেই শুনলাম। এজন্য খুশি লাগছে খুব।
এবার পাএের মা বেশ খুশি হয়ে হকচকিয়ে বললেন,,
__ তোমাকে একদম আমার মায়ে মতো দেখতে, তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে মা।
পাএের বাবা রাগি চোখে তাকাতেই তিনি আর কিছু বললেন না।এ কথা শুনে ইতি, বিথী, নীধি তিনজনরই মুখ শুকিয়ে খাঁঠ হয়ে গেল।নিধি রাগি চোখে ইতি,বিথী, নীধি পানে তাকালো। বিথী ঝুকে নিধির কানে কানে বলল,,,
__ প্লান বি?
মাথা ঝাকালো নিধি,তারপর ট্রে থেকে এক কাপ চা নিয়ে পাএে সামনে এগিয়ে ধরলো,পাএ অনবরত কেপেই যাচ্ছে।তার মায়ের খোঁচাখুঁচিতে কোন রকমে ভালো হয়ে বসে নিধির থেকে কফি খানা নিল, কাঁপুনির কারণে পাএের হাত থেকে চায়ের কাপ সহ চা পড়ে গেলো কোলে,মজার ব্যাপার হলো যে পাএ কোলে পড়ে যাওয়া চা গুলোকে অনবরত হাত দিয়ে তোলার চেষ্টা করছে,কি করবে বুঝতে পারছে না ভয়ে। প্রাইভেট পার্টে ও পড়েছে চা, ভীষণ অস্বস্তি লাগছে এজন্য। ভাগ্যিস চা খানা গরম ছিল না।পাএের মা তার হাত খানা চেপে ধরে থামালেন ও বললেন,,
__ কি করছিস টা কি?
পাএ কিছু বলল না।পাএের মা নিধির দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বললেন,,,
__ মা হরলিক্সকে নিয়ে একটু ওয়াস রুমে যাও তো।
বিথী ফট করে বলল,,
__ আমার বোন কেন একটা ছেলেকে হিসু করাতে নিয়ে যাবে,শুনি?
__ না মা হরলিক্স ওর প্যান্ট টা পরিষ্কার করবে।
এমন নাম শুনে তিন বোনেরই খুব হাসি পেল, কিন্তু হাসি চেপে রাখলো, বিথী ছোট করে আবার বলে,,
__ ওহহ। আপনার ছেলে যেভাবে নড়াচড়া করছে তাতে সবাই বুঝবে যে ওনার হিসু পেয়েছে।
পরক্ষণেই বিথী চোখ চলে য়ায় তার বাবার ক্রুদ্ধ লাল চোখজোড়ায়, মুহূর্তেই মাথা নিচু করে ফেলল বিথী। নাঈম তালুকদার রাগ সংবরণ করে বলে,,
__ নিধি হরলিক্সকে ওয়াসরুম দেখিয়ে দাও।
নিধি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে, হরলিক্স তার মায়ের জোড়াজুড়িতে উঠেই নিধি সাথে যায়,নিধি পিছোন পিছোন ইতি, বিথী ও যায়,তা দেখে সিদ্দিকী বেগম অসহায় মুখ নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাস থেকে বলেন,,,
__ গেলো? এই ছেলে আজ গেলো?
হরলিক্স নাম শোনার পর থেকেই ইতি মনে একটাই প্রশ্ন,,
__ হারলিক্স নামটা কেন রাখলো? আরো তো নাম ছিল নাকি?
নিধি হরলিক্সকে বেসিন দেখিয়ে দিলো, হরলিক্স কোন কথা না বলে ট্যাপ চালু করে প্যান্ট পরিষ্কার করতে লাগলো,আর বারবার আল্লাহ নাম নিতে থাকল,হাতটা ধুয়ে সামনের দিকে ঘুরলো হরলিক্স ঘুরতেই দেখলো তার গলায়,একটা বটি,একটা ছুড়ি,একটা দা বসানো। হরলিক্স কাঁপতে লাগলো মাএাতিক্ত ভয়ে,বেচারার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে যাচ্ছে,নিধি বেশ রাগী কন্ঠে ভাব দেখিয়ে বলে,,
__ তুই জেনে বুঝে গরুর লেজে পা দিয়েছিস।
ইতি নিধির মাথায় হালকা করে থাপ্পড় মেরে বলে,,
__ বলদি,গরুর লেজ নয় ওটা সাপে লেজ হবে।
__ ওহ হ্যাঁ,তুই সাপের লেজে পা দিয়েছিস।
হরলিক্স কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে,,
__ ক কি করেছি আমি?
__ কি করিস নি সেটা বল?
__ আচ্ছা কি করিনি?
__ আরে হোলা ব্যাঙ রে।
বিথী বলে,,,
__এখন কি বলি শোন? তুই তোর বাপ মায় রে গিয়া কইবি যে আমার মেয়ে পছন্দ হয় নি,বিয়ে টিয়ে করতে পাবো না।
নিধি বলে,,
__ যদি না শুনিস তো “পাদবো এখানে লাস পড়বে তোর শ্মশানে”
ইতি, বিথী দুজনেই হাত দিয়ে নিজেদের কপালে হালকা বাড়ি মারে নিধির ভুল উক্তি শুনে,ইতি তো দাঁত কটমট করে নিধিকে বলতে লাগলো,,
__ বলদি রই উক্তিটার গাঁয়ে দিলি তো কলঙ্ক লেপে।
নিধি কিছুটা সংকোচ করে বলে,,
__ কেন সঠিকই তো বললাম?
__ ওরে চেংড়ি ওটা পাদবো হবে না মারবো হবে।
__ ওহহ ভুলে বলে ফেলছি?
বিথী এবার হরলিক্সকে আবার বলে,,
__ কথা বলেন মিয়া?
হরলিক্স অসহায় ভঙ্গিমা করে বলে,,
__ কি বলবো?
এবার ইতি বেশ রাগ দেখিয়ে বলে,,
__ ওরে হোলা ব্যাঙ রে,এই বিয়ে হবে না তা আপনার মা বাবারে বলে দিবেন।
হরলিক্স কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে,,,
__ আচ্ছা।
নিধি বলে,,
__ আপনার গলায় যে বটি,দা,ছুড়ি ধরেছিলাম এসব আবার বলিয়েন না কাউকে?
হরলিক্স ছাড়া পেতেই শার্টটা টেনেটুনে ঠিকঠাক করে নিল।আমতা আমত করে বললো,,
__ আপনারা ভয় পাচ্ছেন বোধহয়?
বিথী আবার গর্জে আসে হরলিক্সের কাছে আবার গলায় ছুড়ি ধরে দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে বলে,,
__ হুস,আমরা ভয় পাই না, আমরা হলাম এ দেশের, শুধু দেশের না পুরো বাংলাদেশেরই বিশ্বস্ত নাম করা তিন লেডি মাফিয়া।আমাদের তো অনেক নাম ,জস,খ্যাতি। আপনি জানেন?এমনকি সবাই জানে?
__ না জানি না।
ইতি, বিথীর কানে ফিসফিস করে বলল,,
__ হেত বাল এত চাপা মারার কি দরকার ছিল।
__ তুই চুপ থাক।
বিথী এবার নিধিকে বলে,,
__ নিধি হরলিক্সকে আমাদের গ্যাংয়ের ছবিটা দেখা তো?
নিধি ফোনে একটি ছবি বের করে হরলিক্সের সামনে ধরে বলল,,
__ এই যে দেখেন?
চোখ মুখ কুঁচকে হরলিক্স ছবিটি দেখে বলল,,
__ আমি তো এখানে অনেক গুলো,হাস মুরগি,গরু, ছাগলের ছবি দেখতে পাচ্ছি?
__ হ্যাঁ এটাই আমাদের গ্যাং।
ইতি বলে,,
__ ভুলবশত আমরা তাদের সাথে ছবি তুলতে পারি নি।
বিথী বলে,,
__ তাদের অবলা প্রাণী ভেবে ভুল করবেন না।ওরা কিন্তু ভয়ংকর?
হরলিক্স মনে মনে বলল,,
__ ঠিকই আছে,এরাই আসল প্রতিভার অধিকারীনি।
হরলিক্স টেনেটুনে হেঁসে বলল,,,
__ আচ্ছা,কাউকে কিছুই বলবো না?
নিধি বলে,,
__ আপনার সাথে দেখাই হতো না,বলুন কেন?
__ কেন?
__ গতকালই আমি আমেরিকা চলে যেতাম, এবার বলুন যান নি কেন?
__ যান নি কেন?
__ প্লেনের চাকা হঠাৎ করেই ব্লাস্ট করলো,তাই?
__ ওহহ ।
এবার বিথী একটা জুসের বোতল হরলিক্সের সামনে দিয়ে বলে,,
__ এটা খেয়ে নিন।
__ কি এটা?
ইতি বলে,,
__ আগে খান?
__ না আগে বলেন?
নিধি হরলিক্সের গলায় আবার দা খানা ধরে বলে,,
__ এখন খাবেন কি খাবেন না?
হরলিক্স ভয়ে বড় বড় চোখ করে নিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল,,,
__ হ্যাঁ হ্যাঁ খাবো খাবো?
এই বলে ঢোঁক ঢোঁক করে বোতলে থাকা জুস গুলো খেয়ে নিল হরলিক্স।
ইতি, বিথী, নীধি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।সেটি খেয়ে বেশ কিছুক্ষণ পর হরলিক্সের মাথা ঘুরতে লাগলো,সব কিছু ডাবল ডাবল দেখতে লাগলো। মস্তিষ্কে এক অন্যরকম শান্তি অনুভব হলো। ব্যাস কি যেন দেখে হো হো করে হাসতে শরু করে দিল হরলিক্স।তা দেখে ইতি, বিথী,নিধি ও হাসতে শুরু করে দিলো।ইতি পাঁচ আঙুল হরলিক্সের সামনে দিয়ে বলে,,
__ এখানে কয়টা আঙ্গুল বলেন তো?
হরলিক্স টোলতে টোলত গুনে দু হাত দু দিকে ছড়িয়ে দিয়ে বলল,,,
__ দশ গ্রাম এক টা?
তিন বোনের মুখে হাত চেপে হাসতে লাগলো। বিথী হাসতে হাসতে বলল,,
__ শালার ভালোই নেশা ধরেছে রেয়য়।
নিধি বলে,,
__ ব্যান্ডের হুইস্কি বলে কথা?
ইতি বলে,,
__ এত নেশা হওয়ার তো কথা না।
নিধি হাসতে হাসতে গর্ব করে বলে,,
__ হুইস্কির পুরো বোতলটাই জুসে মিক্স করছি?
ইতি, বিথী জোরে নিধির মাথা একটা টালা বসিয়ে বলল,,
__ কি বললি?
ইতি বলে,,
__ ওরে দাবানল ভাই দেখলে আমায় মেরে ফেলবে।
নিধি অসহায় মুখ করে বলে,,
__ বোতলের অস্তিত্বই রাখি নেই?
তিন বোনেই নানা ধরনের তর্ক বিতর্ক করে সামনে তাকাতেই দেখলো হরলিক্স নেই।ইতি, বিথী, নীধি হরলিক্সকে খুঁজতে লাগলো।তখনি সুহানা চিৎকার ভেসে এলো,,
__ ও মা গেলাম গোওও।
তিনজনেই সেদিকে তাকলো, সেদিকে দৌড়ে গেল তিনজনই। সুহানা উপরে হরলিক্স পড়ে পাগলের মতো জোরে জোরে হাসছে।সুহানা রাগে ফেটে যাচ্ছে।আর বলছে,,
__ ওই পোলা কেডা তুই,ওঠ আমার ওপর থাইকা ওঠ কইতাছি?
হরলিক্স তাও উঠলো না, সুহানার উপরেই ওভাবেই পড়ে রইলো। সুহানার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম,রাগ দিকবিদিক শূন্য হয়ে দুহাত দিয়ে হরলিক্সের বুক বরাবর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল সুহানা। মেঝেতে চিত হয়ে পড়লো কিন্তু তাও হাসি থামছেই না, পাগলের মতো হরলিক্স হাসতেই আছে।
সুহানা নিজের কোমড়খানা কে ধরে টেনেটুনে বহুত কষ্টে উঠালো, অসহায় মুখে গালি দিতে লাগলো,,
__ নাউয়ার বাচ্চা,গোলামের পুত, বাল ছিঁড়া,আমার কোমড়ের যদি কিছু হয়েছে তো তরে জেলের ভাত খাওয়ামু?
বিথী তড়িৎ বেগে এসে সুহানার চেপে ধরে বলল,,
__ চুপ কর বইন,চুপ,এটা তোর মুখ নয় এটি আন্তর্জাতিক বোমা।
সুহানা চুপলো কিছুক্ষণ পর হরলিক্স উঠে দাঁড়ালো, সুহানার দিকে এগিয়ে এসে দুহাত দিয়ে সুহানার গালে টেনে বলে,,,
__ ওলে ওলে গলুমলু টা নাম কি তোমার?
সুহানা রাগে তাপে এক ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিল হরলিক্সের হাত, হরলিক্স হালকা হাতে ব্যাথা পেল,আবার এলো সুহানার কাছে।এসে বলল,,
__ ওই বাবু তোমার গাল গুলো এত নরম কেন? আর অনেক সুন্দর, আমি খেতে চাই।
এমন কথা শুনে উপস্থিত থাকা ইতি, বিথী, নীধি, সুহানা তিনজনরেই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।ইতি, বিথী, নীধি অসহায়ের মতো ছটফট করছে তারা কি চেয়েছিল আর কি হয়ে যাচ্ছে,এটারই ভয়ে আঁতকে উঠছে বারবার।
সুহানা আরো ক্ষেপে গেল রাগ দেখিয়ে হরলিক্সকে বলতে লাগলো,,
__ আয় তোর খাওয়া বের করছি,বাল আয় দেখি তোর কত সাহস?
ব্যাস হরলিক্স করে বসলো আর এক কাজ। তড়িৎ বেগে এগিয়ে সুহানা গালে গাঢ় করে চুমু খেলো। আসমান ভেঙ্গে পড়লো সুহানা ও ইতি, বিথী, নীধির মাথায়। সুহানা শরীরে কম্পন শুরু হয়ে গেল। হরলিক্স এখনো তার গালে ঠোঁট ছুঁইয়েই আছে। সুহানার শরীর জমে গেছে।মেয়েটা নড়ার শক্তি ও পাচ্ছে না।
ইতি, বিথী, নীধি সেদিকে ভেবলার মতো হা হয়ে চেয়ে দেখছে আর একের পর এক শুকনো ঢোক গিলছে।তখনি এক ভারী কন্ঠস্বর ভেসে আসলো,,,
__ হরলিক্স,,ইইইইইইইইক্স
তাও হরলিক্সের কোন ভু ক্ষেপ দেখা গেল না।এবার হরলিক্সের বাবা তার দিকে এগিয়ে আসলেন। সুহানার কাছ থেকে টেনেহিঁচড়ে হরলিক্সকে সরালেন। নাঈম তালুকদার ও বাড়ির বাকি সদস্যরা এমন দৃশ্য দেখে চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে রেখেছেন। হরলিক্সের এমন কান্ডে তার বাবা মা লজ্জায় মাথা নুইয়ে রাখলেন। হরলিক্সের বাবা হরলিক্সকে জোরে একটা চড় মারলেন, সুহানা মাথা নুইয়ে আছে।ইতি, বিথী,নিধি ভয়ে কাঁপছে।
নাঈম তালুকদার তার বাড়ির মেয়েকে অসম্মান করছে এটা ভেবেই রাগে কাঁপছেন। নাঈম তালুকদার নিজের রাগকে আর সংযত রাখতে না পেরে চিৎকার করে বললেন,,
__ বেরিয়ে যান আমার বাড়ি থেকে?
হরলিক্সের বাবা নাঈম তালুকদারের কাছে এগিয়ে এসে বললেন,,
__ মাথা গরম করবেন না নাঈম তালুকদার,আমার ছেলে এমন কাজ করতেই পারে না,দেখেন ছেলেটা কেমন করে টুলছে,ওকে দেখেই মনে হচ্ছে যে সে নিজের মধ্য নেই?
__ আমি কিছু জানতে বা বুঝতে চাই না,ও আমার বাড়ির মেয়েকে অসম্মান করেছে,সেটা সে যেভাবেই করুক না কেন? অবশ্যই তা অন্যায় করেছে।চলে যান?
আর কোন কথাই বলতে দিলো না হরলিক্সের বাবাকে। এদিকে হরলিক্স তার বাবার গালে এঁকে পর এক চুমু খাচ্ছে আর বলছে,,
__ বাবা তোমার গাল গুলো এত নরম কেন?
__ হরলিক্স কি করছো টা কি?আমি তোমার বাবা হই? নিজেকে সামলাও। হরলিক্সের মা তোমার ছেলেকে সামলাও না হলে আমার থেকে খারাপ কিন্তু আর কেউ হবে না বলে দিলাম?
হরলিক্সের মা হকচকিয়ে ছেলের কাছে গেলেন ছেলেকে ধরে বলেন,,
__ হরলিক্স তুই এমন করছিস কেন বলতো?বাবা আমার,মান সম্মান টা আর ডুবাশ না?
হরলিক্স চোখের পাতা ঝাপ্টে ঝাপ্টে তার মাকে দেখতে লাগলো, পরক্ষণে তার মায়ে গাল দুখানা টেনে টেনে বলতে লাগলো,,
__ গুলু গুলু পাপ্পা।
হরলিক্সের মা কান্না ভঙ্গিমা করে বলতে লাগলো,,
__ ওগো হরলিক্সের বাবা আমার ছেলেটা এমন করছে কেন গো।
হরলিক্স বাবা নাঈম তালুকদারকে অনেক বুঝালেন যে এসব অপ্রত্যাশিত ভাবে হয়ে গেছে, কিন্তু নাঈম তালুকদার বুঝতে নারাজ।হতাশ হয়ে হরলিক্সের বাবা মা তার মাতাল ছেলেকে নিয়ে চলে গেলেন।
নাঈম তালুকদার নিজের ঘরে যাওয়ার আগে ইতি, বিথী, নীধির দিকে তাকিয়ে বলল,,
__ বিয়ে কিন্তু হবেই মনে রেখো?
এই বলে চলে যান তিনি।ইতি, বিথী নীধির মা সিদ্দিকী বেগম তাদের দিকে এগিয়ে এসে ক্রুদ্ধ কন্ঠে বলেন,,
__ এসব তোদের কাজ তাই না?
তিনি বোনেই মাথা নাড়িয়ে না বলল। সিদ্দিকী বেগম সুহানার দিকে এগিয়ে গেলেন,মেয়েটা এখনো পাথরের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে, সিদ্দিকী বেগম সুহানার মাথায় হাত দিয়ে বলে,,
__ এসব ভুলে যাও মা,সোনা মা আমার?
এই বলে তিনি ও চলে যান।ভয় সব উবে গেল তিন বোনেরই সিদ্দিকী বেগম চোখের আড়ালে যেতেই নিধি খুশিতে নাচতে শুরু করে দিলো,নিধির সাথে ইতি, বিথী ও নাচতে শুরু করে দিল, গানের কথা মনে পড়তেই ইতি বলে,,
__ গান ছাড় রে আবাল?
নিধি ফোন বের করে হালকা সাউন্ড দিয়ে গান ছাড়লো
,🎶Hum us ke paas jaate thhe magar
Aahista aahista
Chale… Aahista
Khitab aahista aahista
Nazar aahista aahista
Chale to kat hi jayega
Safar aahista aahista
Aahista aahista
গানে তালে তালে তিন বোনেই এক সাথে সুর তুলে বলছে,,
__ হাম উস্কে পাছছ যাতে তেহ মাগার।পাদিস না পাদিস না।
সুহানা চোখ মুখ কুঁচকে এতক্ষণ যাবৎ ইতি, বিথী,নিধির নাচই দেখছিল কিন্তু পাদিস না পাদিস না,এই কথা শুনে জোরে হাসতে লাগলো সুহানা। বিথী সুহানার এক হাত টেনে নিজের দিকে আনলো ব্যাস হাসতে হাসতে সুহানা ও নাচতে শুরু করে দিল।
রাত আটটা।
আর্দ্র,দির্শক, আলবান তিনজনই নিধির বাবা নাঈম তালুকদার ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, সন্ধ্যার দিক নিধি সবটাই জানিয়েছে আর্দ্র কে।তারপর অফিস থেকে এসেই ফ্রেশ হয়ে নিধি বাবার রুমে এসেছে আর্দ্র। আর্দ্রের মনটা প্রচুর খারাপ কিন্তু তা বুঝা দায়। আর্দ্র ভালো করেই জানে নিধি বাবা কেন তাকে জামাই মানতে রাজি না?
কিন্তু এখন সেসবের কোন ধার ধারছে না আর্দ্র,এখন তার কাছে নিধি প্রধান প্রায়োরিটি, আর্দ্র মতে নিধির বাবার পা ধরে হলেও নিধিকে চেয়ে নিবে।তাও নিধিকে তার চাই চাই। আর্দ্রের এখন আর আগের মতো ঘুম হয় না।চোখ বন্ধ করলেই নিধিকে হাড়ানোর বেতারক যন্ত্রণা তাড়া করে বেড়ায়। নির্ঘুমেই দুই রাত পার করে দিল।
আলবান আর্দ্রের ঘাড়ে চাপ্পর মেরে বলে,,
__ যা আর্দ্র?
__ ভয় করছে রে,যদি নিরেট না বলে দেয় তখন।
দির্শক বলে,,
__ এখন ভয় করার সময় নয় আর্দ্র,যাহ।
__ তোরা ও চল না?
আলবান বলে,,
__ না তুই আগে যা,আমরা পরে যাবো?
দির্শক বলে,,
__ আমরা এখানেই আছি তুই যা।
আর্দ্র শুকনো ঢোঁক গিলে ঘরে প্রবেশ করলো। সিদ্দিকী বেগম এখন ঘরে নেই রান্না ঘরে কাজ করছেন। আর্দ্র ঘরে ঢুকে এপাশ ওপাশ সব পাশেই তাকালো কিন্তু নাইম তালুকদারকে পেলেন না, হঠাৎ এক গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসলো,,
__ বেলকোনিতে আমি?
আর্দ্র তা অনুসরণ করে বেলকনিতে গেল,নাঈম তালুকদার কেদারায় বসে আছেন। আর্দ্রের দিকে না তাকিয়েই বলল,,
__ কিছু বলবে?
__ হ্যাঁ মেজো বাবা?
চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালেন নাইম তালুকদার আর্দ্রের মুখোমুখি হয়ে বলেন,,
__ নিধি আর তোমার বিয়ের দাবি নিয়ে এসেছো তো?না
আর্দ্র কিছু মাথা নুইয়ে বলল,,
__ হ্যাঁ?
__ আমি তো আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি তোমার বাবাকে।
এই বলে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। আর্দ্র সাহসা কন্ঠে বলে দিলো,,
__ নিধিকে ভালোবাসি আমি,মেজো বাবা?
__ ভুলে যাও?
__ আমাকে কেন মেয়ে দিতে চাইছেন না মেজো বাবা?
__ জানিনা?
আর্দ্র ফেচেল হেসে বলে,,,
__ কথা এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন?
__ আমার মেয়েকে তোমাকে দিবো না,এখন তোমার যা ইচ্ছা তাই করো?
__ আমি নিধিকে অনেক সুখে রাখবো মেজো বাবা, আগলে রাখবো, ঠিক যেভাবে আপনি এতদিন দিন যাবৎ রেখেছিলেন।
__ এত কথা শুনতে চাচ্ছি না আর্দ্র।
__ একটা কথা বলি মেজো বাবা।
__ কি?
__ থাক না বলি?
__ ঠিক আছে?
অসহায় কন্ঠে আর্দ্র বলল,,
__ নিধি কে ছাড়া আমার চলবে না মেজো বাবা?দিয়ে দেন না আপনার মেজো মেয়েটাকে?
__ বললাম তো না।
__ কিন্তু কেন?
__ জানি না?
আর্দ্রের চোখ ছলছল করে উঠলো, কিন্তু তাও দমে গেল না,নিধিকে নিজের করে নেওয়া এ যুদ্ধে আর্দ্রকে জিততেই হবে।এতে যা করতেই হোক না কেন তাই করবে আর্দ্র, হঠাৎ আর্দ্রের মাথা এক উপায় এলো, ব্যাস সাথে সাথেই নাঈম তালুকদারের দুই পা জড়িয়ে ধরে, আহাজারি করে বলতে লাগলো,,,
__ মেজো বাবা গো আপনার মেজো মেয়েটাকে দিয়ে দেন, প্লিজ।আমার আর কিছু লাগবে না গো মেঝোবাবা।
নাঈম তালুকদার হকচকিয়ে উঠলো আর্দ্রের এহেন কান্ডে পা ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে লাগলো এবং বলতে লাগলো,,
__ আর্দ্র করছো টা কি,পা ছাড়ো,ওঠো বলছি?
নাঈম তালুকদার লুঙ্গি পড়েছেন,তাতে টান ধরল নাইম তালুকদারের , কিন্তু আর্দ্র তার মতো করেই পা ধরে আহাজারি করেই যাচ্ছে।নাঈম তালুকদার বারবার বলতে লাগলো যে পা ছাড়ো,তিনি বলতেও পাচ্ছেন না “যে লুঙ্গি খুলে পড়তে পারে”।
কিন্তু কে শুনে কার কথা আর্দ্র তো আজ আট ঘাট বেঁধেই এসেছে পারমানেন্ট ভাবে নিধিকে নিজের করে নেওয়ার জন্য।
এবার পা দুটো ধরে বেশিই জোরাজুরি করতে লাগলো আর্দ্র। ব্যাস লুঙ্গিতে একপ্রকার বেশিই টান পড়ল, তারপর লুঙ্গি আর্দ্রের মাথায় পড়লো, আর্দ্র অন্যকিছু ভেবে বারবার সেটাকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু পাচ্ছে না।এক পর্যায়ে নাঈম তালুকদার রাগে, দুঃখে, লজ্জায় চেঁচিয়ে বলতে লাগলো,,,
__ আর্দ্র ওওওওওওও
এমন ক্রুদ্ধ কন্ঠে কেঁপে উঠল আর্দ্র হকচকিয়ে নাঈম তালুকদারের মুখ পানে তাকাতেই দেখলো লুঙ্গি নিচে পড়ে আছে। আর্দ্র চোখ বড় বড় করে এক প্রকার ভয় পেয়ে নাঈম তালুকদারের পাশ থেকে সরে উঠে দাড়ালো, পাঞ্জাবি টা বাঁচিয়ে দিল নাঈম তালুকদারকে।
নাইম তালুকদার জোরে চেঁচিয়ে বললেন,,
__ বেরিয়ে যাও, যাও বলছি?
এই বলে লুঙ্গি টা মেঝে থেকে তুলে হাতে নিল নাইম তালুকদার। আর্দ্র মাথা নিচু করে নিজের মাথা নিজেই চুলকাতে লাগলো,এমন একটা অবস্থার জন্য নিজেই নিজেকে ইচ্ছা মতো গালিগালাজ করতে লাগলো। কাঁদো কাঁদো মুখ করে আর্দ্র বলে,,
__ যাহহ এটা কি করলাম?নিধি পাওয়ার এক পার্সেন্ট চান্স ও হারালাম?
প্রচুর লজ্জা লাগলো আর্দ্রের তার পক্ষে সেখানে থাকা সম্ভব নয় তাই তড়িৎ বেগে উঠে দাঁড়িয়ে, দৌড়ে রুম থেকে চলে যেতে যেতে বলে,,
__ কাল নিধিকে বউ হিসাবে আবার চাইতে আসবো মেজো বাবা।আজ গেলাম ?
নাঈম তালুকদার লুঙ্গির গিট বাঁধতে বাঁধতে বলেন,,,
__ কচু দেবো,নিও?
আর্দ্র রুম থেকে বেরিয়ে হাঁটুতে ভর করে হাফাতে লাগলো,আলবান এ দির্শক সেখানেই ছিল আর্দ্রের এমন অবস্থা দেখে আলবান বলল,,
__ কি রে কি হয়েছে হাফাচ্ছিস কেন?
দির্শক পানি বোতল এনে দিল আর্দ্র কে এবং বলল,,
__ পানিটা খেয়ে শান্ত হয়ে বলে কি হয়েছে?
আর্দ্র ঢকঢক করে পানি খেয়ে বলল,,
__ লুঙ্গি খুলে গেছে?
আলবান মুখ কুঁচকে বলে ,,,
__ কার?
__ মেজো বাবার?
দির্শক বলে,,,
__ কিইই?
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২৩
__ হ্যাঁ,আমি মেজো বাবা দুই পা ধরে কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম যে নিধিকে আমার চাই মেজো বাবা, ব্যাস কি থেকে যে কি হয়ে গেল লুঙ্গিটাই খুলে পড়ে গেল মেঝেতে।
আলবান দির্শক দুজনেই এমন কথা হাসতে লাগলো,দির্শক হাসতে হাসতে বলে,,
__ নিধিকে আর পেলি না আর্দ্র,সব শেষ করে দিলি, প্রেমিকার বাবাকে পা ধরে পটাতে গিয়ে লুঙ্গি খুলে গেল,বাহ কি সুন্দর ব্যাপার রে।
বলে পেটে হাত দিয়ে হাসতে লাগলো আলবান, আর্দ্র। আর্দ্রের প্রচুর রাগ হলো,এদের হাসি দেখে তো গাঁ জ্বলে যাচ্ছে আর্দ্রের,মুখ খান গোমড়া করে আর্দ্র সেখান থেকে চলে গেল।
