Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৫

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৫

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৫
কায়নাত খান কবিতা

—- নিজের হাতে মার’বো তোকে।”
কিংশুকের হাতের চাপ ধীরে ধীরে আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।আঙুলগুলোর শক্ত বন্ধনে জমে ওঠে দমচাপা এক অস্থিরতা।
অরিনের নিঃশ্বাস ক্রমেই ভারী হয়ে আসে।
হাত দুটো ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে যায়, শক্তি হারাতে থাকে শরীর।চোখ দুটো অনিচ্ছায় উপরের দিকে উঠে যেতে থাকে। এই বুঝি দম বের হলো।
এক পর্যায়ে অরিনের শরীর থেকে যেন সমস্ত গতি হারিয়ে যায়।
নড়াচড়া থেমে আসে, নিঃশ্বাসের অস্তিত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে তার চোখের পাতা নেমে আসে। চারপাশের পৃথিবী অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।

ভালোবাসার আরেক নাম হলো বিশ্বাস
করা,সঙ্গীকে মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়তে দেওয়া।যেখানে ভালোবাসা মানে আশ্রয়, নিরাপত্তা, প্রশান্তি।
সেখানে কিংশুকের ভালোবাসা ছিল ভিন্ন।
তার কাছে ভালোবাসা মানে বেষ্টনী,আলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখা এক ছায়াময় কারাগার।
যেন পৃথিবীর চোখ থেকে আড়াল করে ফেললেই
তার প্রিয়তমা কেবল তারই হয়ে থাকবে। ভালোবাসার নামে কিংশুক চেয়েছিল অরিনের অস্তিত্বটাই মুছে দিতে এই পৃথিবী থেকে।

শুধু কিংশুক জানবে অরিন নামে পৃথিবীতে একজন মেয়ে আছে। বাকি পৃথিবীর কাছে সে থাকবে অদৃশ্য।অরিনের নাম, নিঃশ্বাস, হাসি সবকিছুর ওপর অধিকার থাকবে একমাত্র কিংশুকের।তার অস্তিত্বের প্রতিটি স্তর জুড়ে লিখে দেওয়া থাকবে একটাই নাম কিংশুক।ভালোবাসার নামে নয় বরং অধিকারবোধের নিষ্ঠুর ঘোষণায়, যেখানে অরিন সাধারণ কোনো মানুষের কাতারে নয়, বরং সে শুধু মাত্র কিংশুকের একান্ত জড়বস্তু ।
অন্ধকারে আচ্ছন্ন ঘরের ভেতর অরিন ধীরে ধীরে চোখের পাতা মেলে। আস্তে আস্তে করে তাকালেও চারপাশে কিছুই স্পষ্ট হয় না। এতটাই ঘন অন্ধকার, যেন আলো এখানে পথ হারিয়ে ফেলেছে।সে কোথায় আছে, কীভাবে আছে।
বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই।মাথার ভেতর ঝাপসা শূন্যতা, শরীরজুড়ে অবসন্নতা।
তবু একটি সত্য অরিন পরিষ্কার বুঝে ফেলে সে এখনো বন্দি। এখনো সেই একই অভিশপ্ত বাহুর ভেতর,যার নাম কিংশুক।

হাত নিজের শরীরে হাত রাখতেই চমকে উঠে অরিন। তার শরীরে কাপড়ের লেস মাত্র। হয়তো এ যাত্রায় সে বেঁচে গেছে। আর একটু হলেই তার প্রাণ চলে যাচ্ছিলো।
মুহূর্তের মধ্যেই অরিনের চোখের কোণে জমে থাকা পানি গড়িয়ে পড়ে নিঃশব্দে।অশ্রু বেয়ে নামে তার নিস্তেজ গালে।এই নীরব কান্নার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে একটাই আর্তনাদ।সে যে একজন মানুষ,এই সত্যটা বোধ হয় কিংশুক অনেক আগেই ভুলে গেছে।
গড়িয়ে পড়া সেই চোখের পানি কিংশুকের শরীর ছুঁয়ে যায় অনিচ্ছায়।

—— এখনো ম’রনি, বেঁচে আছো।’’
এক মুহূর্তে অরিন একেবারে নিঃশব্দ হয়ে যায়।
কান্না থামে, নিঃশ্বাসও যেন নিজের শব্দ লুকিয়ে ফেলে।
চোখ দুটো স্থির, যেন অনুভূতিগুলোও ক্লান্ত হয়ে চুপ করে বসে পড়ে।
কিংশুক উঠে অরিনকে বসায় তার সামনে। অরিন ও নিঃশব্দে বসে পরে। কিংশুক এক দৃষ্টিতে অরিনের নুয়ানো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

দু-হাতে অরিনের চুল গুলো সরিয়ে কানে গুঁজে দেয় কিংশুক।আস্তে আস্তে উঠে আধ কোল করে অরিনকে নিয়ে ওয়াশ রুমের দিকে নিয়ে যেতে থাকে কিং। অরিন ও চুপচাপ গলা জড়িয়ে ধরে কিংশুকের।
ঝর্নার পানিতে শরীরের ময়লা দূর হলে ও মনের কখনোই দূর হয়। আর না দাগ ছুঁয়ে মুছে যায়। চুপচাপ পানির নিচে দাড়িয়ে থাকে অরিন কিংশুক। হয়তো অরিন মুখ করে বলতে চাইছিল কেন তাকে এভাবে আঁটকে রাখা হচ্ছে? কেন এতো অত্যা’চার করা হচ্ছে? আর কেনই বা তার গা’য়ে হাত তোলা হচ্ছে। আচ্ছা ভালোবাসলে কী কেউ গায়ে হা’ত তুলতে পারে? কই অরিনের তো জানা ছিলো না। তাহলে এটা কোন ভালোবাসা? আর এটা কী আদোও কোনো ভালোবাসা?
অসংখ্য প্রশ্নরা দানা বেঁধে জমাট হতে থাকে অরিনের মস্তিষ্ক জুড়ে।
ঠিক তখনই ঝর্না থেকে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যায়। কিংশুক তয়লা নিয়ে অরিনকে উষ্ণ করতে থাকে। তারপর নিজে ও ফ্রেশ হয়ে অরিনকে নিয়ে রুমের ভেতরে নিয়ে চলে যায়। চুপচাপ অরিনকে বসিয়ে দেয় আয়নার সামনে।

—ভাবছি তোর জন্য কাফনের কাপড় কিনে রাখবো।”
অরিন আর কিছু বলে না। নীরবে, অবনত চোখে শুধু কিংশুকের কথাগুলো শুনে যেতে থাকে। ঠোঁট কাঁপে, কিন্তু কোনো শব্দ বেরোয় না।চোখের কোণ বেয়ে নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু।
এক অদ্ভুত নীরবতায় খুব যত্নসহকারে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে অরিনের ভেজা চুল শুকাতে থাকে কিং। তার আঙুলের ছোঁয়া এখন আর রূঢ় নয় যেন আগের সমস্ত রাগ মুহূর্তের জন্য কোথাও চাপা পড়ে গেছে। উষ্ণ বাতাসে চুলগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসে, আর অরিন নিঃশব্দে বসে থাকে।
পাশ থেকে এন্টিসেপটিক ক্রীম নিয়ে অরিনের গলায় আলতো করে লাগাতে থাকে কিং। অরিনের মুখ থেকে অস্পষ্ট আর্তনাদ বেরিয়ে আসে। থেমে যায় কিংশুক। মুখ গুঁজে দেয় অরিনের কাঁধে।

—- তুই শুধুই আমার ভালোবাসা না বউ, যেটা কিছু দিন পর বিলীন হয়ে যাবে। তুই আমার আনহেলদি অবসেশন যেটা মৃত্যুর আগ অব্দি থেকে যাবে।’’
কিংশুকের কথা গুলো শুনে তার দিকে এক পলকে তাকিয়ে থাকে অরিন। কিংশুকের দৃষ্টি ও অরিনের পানেই থেকে যায়। তারা বেশ কিছু ক্ষণ একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে থাকে নির্বাক হয়ে। সারা কক্ষ জুড়ে শুধুই তাদের নিঃশ্বাসের আওয়াজ বিদ্যমান। তাছাড়া একটি পিন পড়ার মতো ও আওয়াজ হয় না।
কিংশুক অরিনের হাত ধরে তাকে নিয়ে বিছানায় বসায়। নিজে ও খুব কাছাকাছি গা ঘেঁসে বসে অরিনের সাথে। মুহুর্তের মধ্যে অরিনকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কিংশুক অরিনকে।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৪

—- কেন বোঝোনা অরিন? কতটা ভেঙে চুড়ে চাই তোমাকে।’’
অরিন কিছু না বলে শুধু চুপচাপ বসে থাকে। পরক্ষণেই কিংশুক অরিনের মুখটা নিজের মুখের সামনে ধরে।দখল করে নেয় অরিনের ওষ্ঠ যুগল।
প্রায় ১৫ মিনিট ধরে কিংশুকের দখল করে থাকে অরিনের ওষ্ঠ যুগল। তার অবাধ্য হাত দুটো কোথায় কোথায় স্পর্শ করছে অরিনের, সেটা সে নিজেও জানে না।
কিছু ক্ষণ পর কিংশুক ছেড়ে দেয় অরিনকে।দু-জনেই প্রচন্ড হাঁপাতে থাকে।
—সরি বউ! তোর সেবা করতে এসে চু’মু খেয়ে গেলাম। কিছু মনে করিস না।’’

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩৬