দাহশয্যা পর্ব ৪২
Raiha Zubair Ripti
নওগাঁ ছাড়িয়ে জয়পুরহাটের রেলগেট পাড় হচ্ছে সোলেমান ফুল স্পিডে গাড়ি চালিয়ে। পেছনেই ৪-৫ টা বাইক থেকে অনবরত গুলি ছোড়া হচ্ছে। রাগে সোলেমানের কপালের রগ ফুলে আছে। দাঁত কামড়াচ্ছে। মেহরিন আতঙ্কিত। গলা শুকিয়ে আসতেছে। একবার পেছনে তাকাচ্ছে তো আরেকবার সামনে। সোলেমানের গাড়ি চালানো দেখে মেহরিন অলরেডি তার কলিজা টা হাতে নিয়ে বসে আছে। মারাত্মক রকমের স্পিডে চলছে গাড়ি। মেহরিন সোলেমানের শার্ট খামচে ধরে জিজ্ঞেস করলো-
-” ওরা কারা সুলতান সাহেব? ওভাবে গুলি ছুড়ছে কেনো?
সোলেমান ড্রাইভ করতে করতে বলল-
-” আমার জাত শত্রু ওরা। আমি যে মিঙ্গেল সেটা ওদের সহ্য হয় নি। সেজন্য হিংসায় জ্বলেপুড়ে ছারখার হচ্ছিল বলে গুলি ছুড়ছে।
এরমধ্যে সোলেমানের ফোন আসলো। গাড়ি ছুটে চলছে তখন আক্কেলপুর বাইপাস হয়ে আদমদীঘি, তারপর পিচঢালা রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছে বগুড়া শহরের বাইপাস রোডে। রাস্তায় তখনো কিছু ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ঘুম ঘুম ভাবে চলাফেরা করছে। প্রায় ৬-৭ টা ফোন কল। সোলেমান বিরক্ত হয়ে ফোনটা রিসিভ করে ব্লুটুথ টা কানে নিয়ে বলল-
-” ফোন দিয়ে দিয়ে জ্বালিয়ে মারছিস কেনো তোরা? ফোন রাখ।
ওপাশ থেকে রেস্টুরেন্টের মালিক বলল-
-” স্যার আমাদের সব অ্যারেঞ্জ করা শেষ আপনি আসবেন কখন?
সোলেমান দাঁত চেপে বলল-
-” প্রাণে বেঁচে ফিরি আগে তারপর আসতেছি বউ নিয়ে। জ্বালাস না আর। ড্রাইভ করতে দে।
একটা মোড়ে এসে বাইকাররা গুলি ছোড়ে আবার। এক রাউন্ড গুলি ছুটে যায় বাম পাশের দরজা ঘেঁষে।
সোলেমান জোরে ব্রেক কষে ডান দিকে গিয়ার ঘোরায়। গাড়িটা ছুটে চলে ধুনট হয়ে কাজিপুর। রাস্তা সরু, কিন্তু ট্রাফিক নেই বললেই চলে। সোলেমানের গাড়ির গতি ১২০–১৩০ এর কাছাকাছি।
সোলেমান ড্যাশবোর্ড থেকে কোল্ট ১৯১১ টা বের করে গাড়ির জানালা দিয়ে ঐ সব বাইক গুলোর দিকে পাল্টা গুলি বর্ষন করে।
মেহরিন চমকে উঠলো স্বামীর হাতে হ্যান্ডগান দেখে।
সোলেমান মেহরিনের এই চমকানি দেখে বলল-
-” লাইসেন্স প্রাপ্ত এটা। ভয় পেও না।
মেহরিন ভয়ার্ত চেহারায় বারবার পেছনে তাকাচ্ছে। এখন ৪ টা বাইক। ১ টা বোধহয় সোলেমানের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
একটা বাইক একদম সোলেমান দের গাড়ির জানালার কাছাকাছি এসে পড়েছিল। গু’লি ছুঁড়তে যাচ্ছিলো। তার আগেই সোলেমান মেহরিন কে মাথা নিচু করে ফেলে বিধায় গুলিটা জানালা দিয়ে বেরিয়ে যায়। সোলেমান সাথে সাথে তার হ্যান্ডগান দিয়ে বাইকে থাকা লোক দুটোর বুক বরাবর গু’লি করে। সোলেমানের হাতের নিশানা একদম পাকা। মিস হওয়ার চান্স নেই।
সাথে সাথে চলন্ত বাইক থেকে লোক দুটো ছিটকে পড়ে যায়।
মেহরিনের শরীর কাঁপছে ভয়ে অসম্ভব ভাবে। এমন ভয়াবহ দৃশ্যের সাথে মেহরিন আগে কখনও পরিচিত হয় নি।
সোলেমান মেহরিনের ভয়ার্ত চেহারা দেখে একটানে মেহরিন কে তার কোলের উপর বসিয়ে মাথাটা বুকে চেপে ধরে বলল-
-” আমি আছি তো। একটা টোকাও পড়তে দিব না তোমার শরীরে। শান্ত হও। কিচ্ছু হয় নি।
কি আশ্চর্য এই ভয়াবহ সময়ে শান্ত থাকা যায়? সুলতান সাহেব এ কথা বলছে কি করে?
সিরাজগঞ্জ শহর পার হতেই সামনে পড়ে বঙ্গবন্ধু সেতু। সেতু পেরিয়ে এলেঙ্গা, কালিহাতি হয়ে সোজা টাঙ্গাইল শহরের বাইপাস ধরে গাড়ি ছুটে চলছে।
গোলামের ফু’তেরা তারপরও পিছু ছাড়ছে না। সোলেমানের বিশ্রী লাগছে। বউকে চুমু খেতে গেলেই যত গ’জব পড়ে। বউ সাথে না থাকলে এই বান্দির ছেলেদের যে কি করতো সোলেমান তা ভাবনার বাহিরে। এদিকে হ্যান্ডগানে আর মাত্র দুটো বুলেট আছে। দুটো বাইক এখনও পেছনে। গুলি ছুড়ছে না তবে। ওদের কি গুলি শেষ নাকি?
সোলেমান রাগে কাঁপতে কাঁপতে বউকে বলল-
-” এই ল্যাদা বউ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তোমার
কানটা বন্ধ করো তো। শু’য়োরের বাচ্চাদের কয়েকটা বাংলা ভাষায় গা’লি দিয়ে নেই। আমি মুডে আসলেই মাঙ্গের নাতি দের শুধু গ’জব পড়ে।
সোলেমান গাড়ির সাইড আয়নায় বাইকগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল-
-” শু’য়োরের বাচ্চারা। কু’ত্তার বাচ্চারা। আমার
রোমান্সে তোরা বাঁধা দিছিস না? একটা চুমুর বা’লই তোরা আমাকে খেতে দিচ্ছিস না ঠিকমতো। জাস্ট প্রাণে বেঁচে ফিরি এবার। তোদের টুনটুনি কেটে যদি আমি কু’ত্তাকে না খাইয়েছি তাহলে আমার নামও নওয়াজ সোলেমান সুলতান না।
এবার গাড়িটা ঘাটাইল হয়ে গোপালপুরের দিকে ঢোকে। রাস্তার পাশের গাছে ঘন বন।
এখানে রাস্তাটা একটু ঝাঁকুনি দেয়। মেহরিন আরও শক্ত করে চেপে ধরে সোলেমানকে।
গাড়িটা মধুপুর থেকে ছুটে চলে ঈশ্বরদী হয়ে শেরপুর শহর। রাত এখন ১১ টা বাজে। পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে চলে তারা নালিতাবাড়ী হয়ে ঝিনাইগাতি রোডে।
একটা বাঁকে এসে হঠাৎ সামনে দাঁড়িয়ে যায় একটা বাইক। মুখে মাস্ক, হাতে এসএমজি।
সোলেমান গিয়ার ঘুরিয়ে গাড়িকে জঙ্গলের পাশের কাঁচা রাস্তায় তুলে নেয়। একেবারে উল্টো দিকে বাঁক খায়। পেছনে গুলির শব্দ মিলিয়ে যায়।
গাড়ির হেডলাইট জ্বলে-নিভে উঠছে ঘন জঙ্গলের আঁধারে। ঝিনাইগাতি রোড ধরে আসার পর থেকেই পাহাড়ের ঢালু শুরু হয়েছে। এর ভেতরই হঠাৎ করেই গাড়ি থেমে গেল। সোলেমান ফের স্টার্ট দিলো। নাহ্ চলছে না গাড়ি। সোলেমান পেছন ফিরলো। না বাইক গুলোকে আর দেখা যাচ্ছে না। সোলেমান গাড়ি থেকে নেমে চেক করে দেখলো। তেল ফুরিয়ে গেছে।
সোলেমান কণ্ঠে চাপা ক্ষোভ নিয়ে বলল-
-” শালা তোরও তেল ফুরিয়ে গেলো?
ঘড়ির কাঁটা রাত ১১টা ৪৭ দেখাচ্ছে।
এখান থেকে সামনেই ঘুনুয়া ঝোঁপের গা ঘেঁষে পাহাড়ি জঙ্গলের শুরু।
পেছন থেকে বাইকের শব্দ শোনা গেলো। সোলেমানের হ্যান্ডগানে অবশিষ্ট দুটো বুলেটই এখন হাতিয়ার।
বাইক দুটোর জায়গায় একটা দেখামাত্রই সোলেমান তার অবশিষ্ট দুটো বুলেট দিয়ে তাদের বাইকের চাকা পাঞ্চার করে দেয়। তাল সামলাতে না পেরে বাইক নিয়ে তারা পড়ে যায়। বন্দুক গুলো ছিটকে পড়ে যায় তাদের হাত থেকে দূরে কোথাও।
সোলেমানের হাত খালি। বাইক আরো একটা আছে পেছনে। খালি হাতে লড়াই করা অসম্ভব। এখন উপায় একটাই, বউ নিয়ে দৌঁড়ানো।
-” নেমে পড়ো। আমাদের পালাতে হবে।
সোলেমান তড়িঘড়ি করে দরজা খুলে মেহরিনকে টেনে নামায়। সামনের রাস্তায় ল্যাম্প লাইট আছে। সেই রাস্তা দিয়ে সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে দৌড়াতে লাগলো। দৌঁড়ানোর সময় একবার সোলেমান পেছন ফিরেছিলো। স্পষ্ট আলোয় দেখতে পেলো আরেকটা বাইক চলে এসেছে। সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে পড়ে। চারপাশ ঘন ঝোপ।
কাঁটার ডাল মেহরিনের পড়নের শাড়ি আঁকড়ে ধরে।
সোলেমান তা টেনে ছাড়িয়ে নেয়। তাড়াহুড়ো করে শ্বাস ফেলছে মেহরিন। দৌড়াতে পারছে না ঠিকমতো। আজকের দিনটা মেহরিন জীবনে ভুলবে না। এই ছিলো তাদের টাইমপাস!
যখন তারা জঙ্গলের শেষ ভাগে চলে এসেছে তখন ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। এটাকে বলে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। জঙ্গল ধীরে ধীরে পিচ্ছিল হয়ে উঠছে। গুলি ছোড়ার আওয়াজ এখনও কানে ভেসে আসছে।
মেহরিন আর পারবে না দৌড়াতে। হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। দু’জনের শরীর বৃষ্টির পানিতে ভিজে ছুপছুপ হয়ে গেছে। সোলেমান বউকে পাঁজা কোলে নিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটা শুরু করলো।
কিছুদূর গিয়ে হঠাৎ এক জায়গায় সোলেমান দাঁড়িয়ে গেল। পাতা সরিয়ে একপাশে তাকিয়ে দেখে, গাছের আড়ালে একটা ছোট্ট কুঁড়েঘর।
ছাউনি নিচু, কাঠ-পাতার গাঁথুনি, পাশে কুয়ো-র মত গর্ত আর কয়েকটা শুকনো কাঠ। হারিকেনের আলোও জ্বলছে। তারমানে তারা জঙ্গল শেষ করে জনবসতি এলকায় এসে পড়েছে। সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে সেদিকে এগিয়ে গেলো। বাড়িতে নিশ্চয়ই কেউ আছে। রাতটা তারা এখানেই আশ্রয় নিবে। সাহায্য চাইলে নিশ্চয়ই সাহায্য দিবে।
সোলেমান মেহরিন কে কুঁড়ে ঘরের সামনে নামিয়ে হাক ছেড়ে ডাকতে লাগলো।
-” কেউ আছেন? হ্যালো শুনছেন? কেউ কি আছেন ভেতরে?
নাহ্ কেউ নেই ভেতরে। এদিকে ওরাও নাছোড়বান্দা। ঠিক চলে আসবে এই অব্দি। সোলেমান সোজা মেহরিনের হাত টা ধরে ঘরের কাঠের দরজায় হাল্কা ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেলো। সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়লো। আগে প্রাণ তারপর মান। রুমের ভেতর একটা কাঠের চৌকি, একটা মাটির পানির কলসি। রশিতে হাড়ি পাতিল বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা। আর এক সাইডে রশিতে জামাকাপড় ঝুলিয়ে রাখা।
এদিকে শীতে কাঁপুনি ধরে গেছে মেহরিনের। তাদের শরীরে পানিতে মাটির ফ্লোর টাও ভিজে ছুপছুপ হয়ে গেছে।
মিয়াচি ও চেংকিম এক বৃদ্ধ দম্পত্তি। বয়স তাদের ৬৫ ছুঁইছুঁই। পাশেই কিছুটা দূরে এক প্রতিবেশীর প্রসব বেদনা উঠে। সেখানেই তারা জামাই বউ ছাতা নিয়ে ছুটেছিল। মিয়াচি ও চেংকিমের এক ছেলে আছে। সেই ছেলে বউ সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকে। মাঝেমধ্যে খোঁজ খবর নেয়। চেংকিম ক্ষেত আবাদ করে সংসার চালায়।
মিয়াচি ও চেংকিম ছাতা মাথায় করে বাড়ি ফিরছে। সুস্থ ভাবে একটা পুত্র সন্তান জন্মেছে ঐ বাড়িতে। সেই উপলক্ষে মিয়াচি ও চেংকিম কে ঐ বাড়ি থেকে তাদের নতুন জামাকাপড় দিয়েছে ।
চেংকিম বারান্দাতে উঠেই ছাতাটা বন্ধ করে। মিয়াচি হাতে থাকা জামাকাপড় গুলো নিয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পাশ ফিরতেই ভয়ে চমকে উঠে।
-” মাগো মা চোর ডাকাত। লা’ঠি ডা কইরে।
বলে রুম থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে।
চেংকিম বউকে এভাবে দৌড়ে আসতে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
-” কি হয়েছে কি? চেঁচাচ্ছো কেনো?
মেহরিন সোলেমান আকস্মিক বৃদ্ধ মহিলাকে ঢুকতে দেখে হুট করে চেঁচামেচি করে বেরিয়ে যেতে দেখে ভরকে গেলো। সিরিয়াসলি চোর ডাকাত লাগছে তাদের!
মিয়াচি রুমের দিকে তাকিয়ে বলল-
-” ঘরের ভেতর এক জুয়ান বেডা।
চেংকিম এগোতেই সোলেমান বেরিয়ে আসলো। চেংকিম থতমত খেয়ে গেলো। লোকটার মুখটা কেমন চেনাচেনা লাগলো। কই দেখেছে মনে পড়ছে না। জিজ্ঞেস করলো-
-” এই তোমরা কে? আমাদের ঘরে কি করতেছো? দেখেতো চোর ডাকাত লাগছে না।
সোলেমান এগিয়ে আসলো। বৃদ্ধ লোকটার সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
-” দাদু খুব বিপদে পড়ে আপনার এখানে আশ্রয় নিয়েছি। আপনাদের শুরুতে ডেকেছিলাম। কেউ সারা দেয় নি। দরজা খোলা দেখে ঢুকে পড়েছি।
-” কিসের বিপদ তোমার?
এরমধ্যে মেহরিন ও বেরিয়ে আসলো। শাড়ির আঁচল দিয়ে শরীর জড়িয়ে থরথর করে কাঁপছে।
বৃদ্ধা মহিলা মিয়াচি মেহরিন কে দেখে চোখ বড়বড় করে বলল-
-” কি নোংরা ছেলেপেলে এরা। কোন বাড়ির মেয়ে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছে এই বদ লোক? এই বের হও আমাদের বাড়ি থেকে তোমরা।
সোলেমান এমন অপমান বোধহয় আগে কখনও হয় নি। সোলেমান মেহরিন কে জড়িয়ে ধরে বলল-
-” ভাগিয়ে নিয়ে আসতে যাব কেনো নিজের স্ত্রী কে?
মিয়াচি সন্দিহান চোখে চেয়ে বলল-
-” সত্যি নাকি মিছা কথা কইতাছো তোমরা?
-” মিথ্যা কেনো বলবো? সন্দেহ লাগলে বিয়ে পড়ায় দেন।
-” তা তোমরা কেরা? কিসের বিপদ আইছাল তোমাগো?
সোলেমান সব খুলে বলল তাদের। সব শুনে মহিলা আশ্চর্য হয়ে বলল-
-” তুমি কি বদ লোক নাকি? তোমার পিছনে মাইনসে বন্দুক নিয়ে দৌড়ায়বো ক্যান?
সোলেমান হতাশ হলো। নিজের পরিচয় দেখি এবার বলতেই হবে।
-” আমি বদ লোক না। আমি ঢাকার একজন এমপি।
সোলেমান তার ঠিকানাও বলল।
চেংকিমের মনে পড়লে এবার। গতবছর ঢাকায় যাওয়ার পথে ব্যানারে এই লোকেরই ছবি দেখছিলো। তার ছেলে বলেছিলো এর কথা।
মিয়াচি আরো কিছু বলতে চাইলে চেংকিম থামিয়ে দিয়ে বলল-
-” আহ থামো তুমি। আমি উনারে চিনি। দেখছো ওরা বিপদে পড়ছে। এত কথা বলো না। তোমরা ভেজা জামাকাপড় পাল্টে নাও।
-” কিন্তু শুকনো জামাকাপড় তো সাথে নেই।
-” আমাদের পোষাক পড়তে পারবা?
সোলেমান লোকটার পড়নের পোষাকের দিকে তাকালো। গারোদের সেই নির্দিষ্ট গান্ডো জিমফং পড়া ওনার শরীরে। গান্ডো মূলত গারো পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী একটি পোশাক, কোমরে পেঁচিয়ে পরা হয়। আর জিমফং হলো একটি ছোট জ্যাকেট বা কোটের মতো,
এসব সোলেমান পড়তে পারবে না।
চেংকিম বুঝলো পারবে না পড়তে। ফের ছাতা মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লো পাশে এক বাঙালি বাড়ি আছে। ওখান থেকে প্যান্ট শার্ট এনে দিবে।
মিয়াচি ভীষণ রেগে আছে মেহরিন আর সোলেমানের উপর। এদের জন্য এখন আবার তার স্বামী কে বাহিরে যেতে লাগলো বৃষ্টি মাথায় করে।
কেমন আড়চোখে মেহরিন কে দেখছে। মহিলার চোখের ধারেই মেহরিনের ভয় লাগতে শুরু করলো।
মিনিট দশেক পর চেংকিম আসলো। কালো প্যান্ট আর কালো টি-শার্ট নিয়ে। সোলেমানের হাতে দিলো পড়ার জন্য। সোলেমান সেটা হাতে নিয়ে ফের বলল-
-” আমার বউয়ের জন্য একটা ব্যবস্থা করে দিন। আমি সকালেই আপনাদের টাকা দিয়ে দিব।
মিয়াচি রেগে বলল-
-” এই ব্যাটা টাকার গরম দেখাও আমাদের?
তারপর রুমে ঢুকে ডাকমান্দা আর জাইনসেম নিয়ে আসলো।
ডাকমান্দা মূলত এক ধরনের লম্বা, সুতায় বোনা বা হাতের কাজ করা রঙিন কাপড়, সাধারণত ২-৩ গজ লম্বা হয়। আর জাইনসেম চাদরের মতন।
সোলেমানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল-
-” যাও জামাই বউ ঘরে ঢুইক্কা বদলায় আসো জামাকাপড়।
মেহরিন ডাকমান্দাটা উল্টেপাল্টে দেখলো। এই ছোট কাপড় কিভাবে পড়ে? ব্লাউজ কই এটার? পেটিকোট কই?
মেহরিন বিরবির করে সোলেমান কে জিজ্ঞেস করলো-
-” এটা পড়ে কিভাবে?
সোলেমান মিয়াচি কে বলল-
-” শাড়ি নেই? বা কামিজ?
-” আমাকে কি তোমার বউয়ের মতন কচি মনে হচ্ছে? শাড়ি পাব কই আমি?
-” তাহলে এটা পড়তে একটু সাহায্য করুন আমার বউকে।
-” বউ তোমার। সাহায্য করবো আমি? কেমন ব্যাটা ছাওয়াল তুমি?
চেংকিম বউকে ধমক দিয়ে বলল-
-” ওরা জানে নাকি এটা কিভাবে পড়ে? তুমি উনার বউকে একটু সাহায্য করো। মাইয়াটা শীতে কাঁপতেছে।
জামাইয়ের কথা আবার পাই টু পাই মেনে চলে মিয়াচি। মেহরিন কে নিয়ে পোশাক টা পড়ে দিলো। লাল টকটকে ব্লাউজ, তার উপরে সেই ২-৩ গজের কাপড় টা কোমড় থেকে পেঁচিয়ে বেঁধে দিলো। নিচে পেটিকোট নেই। কি অদ্ভুত লাগছে মেহরিনের।
মেহরিনের হতেই সোলেমান পোশাক পাল্টে নিলো।
চেংকিম তাদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করলো। মাছ আর সাদা ভাত। সোলেমান মেহরিনের পেটে ক্ষুধা থাকায় খেয়ে নিলো। চেংকিমের সাথে বেশ ভালোই বন্ডিং হয়ে গেলো সোলেমানের। প্রথম প্রথম অল্প কথার মনে হলেও খাওয়ার সময় বোঝা গেলো উনি ভীষণ কথা বলে।
চেংকিমের আবার রাতে একটু লাল পানি খাওয়ার অভ্যাস আছে। চেংকিম এক প্রকার জোর করে সোলেমান কেও খাইয়ে ছাড়লো তার সাথে বারান্দায় বসে। মিয়াচি এখনও সন্দিহান হয়ে মেহরিন কে জিজ্ঞেস করছে-
-” হাছাই তোমরা জামাই বউ?
মেহরিন দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল-
-” জ্বি।
এখন ঘুমানোর পালা। অথচ শোয়ার রুম মাত্র একটাই। চেংকিম বউকে নিয়ে বলল-
-” তোমরা দরজা আঁটকে ঘুমাও। আমরা পাশের বাড়িতে যাচ্ছি ঘুমাতে।
সোলেমান মাথা নেড়ে দরজা আঁটকে দিলো।
চেংকিম বউকে নিয়ে বাড়ির বাহিরে আসতেই দুটো হুডি পড়া লোক তাদের জিজ্ঞেস করলো-
-” আপনারা একটা লোক আর একটা মেয়েকে দেখেছেন?
মিয়াচি জিজ্ঞেস করলো-
-” এই তোরা কে রে? আমাদের কি ঠেকা নাকি,কে গেলো না গেলো তা দেখার।
চেংকিম বউকে থামিয়ে দিয়ে বলল-
-” হ্যাঁ দেখছি।
-” কোথায়?
-” ঐ তো ঐ রাস্তা দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছিলো।
লোক দুটো ঐ রাস্তা ধরে যেতে লাগলো।
মিয়াচির রাগ হচ্ছে স্বামীর উপর।
সোলেমান দরজা আঁটকে চৌকির কাছে আসলো। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। বাংলা মত ছিলো নাকি কে জানে। বুইড়া ব্যাটা বুইড়া কালেও এসব খায়!
মেহরিনের শরীরে হাল্কা জ্বর আসতে লাগলো। সোলেমান পাশে বসেই মেহরিনের দিকে তাকালো। চেংকিম থাকা কালিন পুরোটা সময় মেহরিন জাইনসেম দিয়ে শরীর ঢেকে ছিলো। এখন পা বেরিয়ে আছে। ডাকমান্দা কোমড় থেকে হাঁটুর নিচ অব্দি ঢাকে শরীরে। পুরো পা না।
এখন চাদর সরে গিয়ে মেহরিনের ধবধবে ফর্সা পা টা বেড়িয়ে আসছে। কি আকর্ষণীয় লাগছে!
মেহরিন সোলেমানের দিকেই তাকিয়ে ছিলো। দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজের দিকে তাকাতেই আঁতকে উঠলো। তড়িঘড়ি করে পা ঢেকে নিলো। রুমের এক কোনে শুধু একটা হারিকেন জ্বলছে। মিয়াচি পইপই করে বলে গেছে হারিকেনের তেল যেনো না ফুড়ায়। সোলেমানের মনে নেই সে কথা। সে তো ঢোক গিলতে ব্যস্ত।
মেহরিন শুয়ে পড়লো। তারপাশে সোলেমান ও শুয়ে পড়লো মেহরিনের শরীর ঘেঁষে। চৌকি টা ভীষণ ই ছোট। মেহরিনের উষ্ণ শরীরে ছোঁয়া লাগতেই সোলেমানের শরীরে লোম দাঁড়িয়ে যায়। মেহরিন গুটিশুটি হয়ে সোলেমানের দিকে ফিরে বুকে মুখ গুঁজে টি-শার্টের বুকের বুতামে এক হাত রাখলো।
মেহরিনের গরম নিশ্বাস সোলেমানের বুকে আছড়ে পড়তে লাগলো। সোলেমান জোরে জোরে শ্বাস ছাড়লো। এভাবে থাকা যায়?
সোলেমান বেশকিছুক্ষন এভাবে থেকে তারপর আর না পেড়ে উঠে বসলো। মেহরিন ও উঠে বসলো। জিজ্ঞেস করলো-
-” কোনো সমস্যা হয়েছে আপনার?
কথাটা কানে আসতেই সোলেমান মেহরিনের দিকে ফিরে মেহরিনের কোমর ধরে টেনে কোলের উপর বসালো। মেহরিন ভরকে গেলো। সোলেমান নেশালো চোখে চেয়ে আছে মেহরিনের ঠোঁটের দিকে। হৃদস্পন্দন দ্রুত,ঠোঁট শুকিয়ে আসছে কিন্তু জিভে তৃষ্ণা। কিন্তু এই তৃষ্ণা তো পানীয়ের নয়।
সোলেমান কোনো কথা ছাড়াই মেহরিনের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। নাহ্ এবার আর কেউ বিরক্ত করলো না সোলেমান কে। তৃপ্তি মিটিয়ে ছাড়লো। কিন্তু এই তৃপ্তিই যে কাল হয়ে দাঁড়ালো। সোলেমানের এখন ভীষণ বাজে কিছু করতে মনে চাইছে। বাজে মানে খুব বাজে। মেহরিনের তুলতুলে নরম শরীরটার প্রতি লোভ জাগছে।
মিনিট বিশেক পর মেহরিনের ঠোঁট ছেড়ে দিলো সোলেমান। মেহরিন হাঁপাচ্ছে। কি ভয়ংকর সময় ছিলো ২০ টা মিনিট। দম বন্ধ করে নেওয়ার মতন।
সোলেমান গরমে হাসফাস করতে করতে পড়নের টি-শার্ট টা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। অথচ বাহিরে এখন ঠান্ডা শীতল হাওয়া বইছে। সোলেমান মাথার চুল খামচে ধরে পায়চারি করতে লাগলো। কাম সারছে। নিজেকে তো কন্ট্রোলই করতে পারছে না সে। এখন যদি ভুলভাল কিছু করে তার দায়ভার কার?
মেহরিন আচমকা সোলেমান কে এভাবে পায়চারি করতে দেখে সরু চোখে তাকালো। মেহরিনের ঐ তাকানো দেখেই সোলেমানের শরীরের ভিতরে কোথাও রক্তের প্রবাহ বেড়ে গেলো।
একটা কোমল যন্ত্রণা হচ্ছে। সোলেমান আর না পেরে মেহরিনের কাছে আসলো। দু গালে হাত রেখে জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল-
-” আই ক্যান্ট কন্ট্রোল মাইসেল্ফ ল্যাদা বউ। আই ক্যান্ট। আই ওয়ান্ট ইউ সো ব্যাডলি। প্লিজ।
মেহরিন এ কথা শুনে একটা ঢোক গিললো। কি বলছে কি উনি। হুঁশে আছে তো?
মেহরিন কে চুপ থাকতে দেখে সোলেমান ফের চেপে ধরে বলল-
-” অ্যানসার মি! হোয়াই আর ইউ সো ড্যাম সাইলেন্ট হানি?
মেহরিন কাঁপা কাঁপা গলায় বলল-
-” ক..কি আশা করছেন আপনি আমার কাছে?
-” তোমার সম্মতি।
-” আমরা এখন কোথায় দেখেছেন?
সোলেমান মেহরিন কে বিছানায় চেপে ধরে মেহরিনের গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল-
-” আই ওনলি নো ওয়ান থিং, আই ওয়ান্ট ইউ রাইট নাও, নো ম্যাটার হোয়্যার উই আর।
কথাটা শেষ করেই সোলেমান উন্মাদের মতন মেহরিনের ঠোঁটে, গালে, ঘাড়ে কপালে চুমু খেলো।
এদিকে মেহরিনে অবস্থা ক্রমশঃ খারাপ হচ্ছে। এই প্রথম এভাবে এত গভীর ভাবে তার স্বামী তাকে ছুঁয়ে দিচ্ছে।
সোলেমানের হুঁশ নেই বললেই চলে। সে মেহরিনের মাঝে আরো গভীর ভাবে ডুবতে ব্যস্ত। সোলেমান আরো গাঢ় ভাবে কাছে আসলো। এই প্রথম অন্তরঙ্গতায় যেন মেহরিনের আত্মা টা বেড়িয়ে আসতে চাইলো। ব্যথায় চোখ মুখ কুঁচকে ফেলছে।
সোলেমান বেশি ওয়াইল্ড হয়ে গেছে। তার অ্যাগ্রেসিভনেস আরো ভয়ংকর হচ্ছে। মেহরিন বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারলো না স্বামীর এই ভালোবাসা। কিছু সময় পাড় হতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। মেহরিনের নিস্তব্ধতা দেখে হুঁশ আসলো সোলেমানের। বিছানা অলরেডি র’ক্তে ভিজে গেছে। মন চাচ্ছে সোলেমানের নিজেকে নিজের থাপড়াতে। সে আজ এত ভুল করছে কেনো?
সোলেমান সাথে সাথে মেহরিনের থেকে সরে এসে মেহরিনের গালে হাত রেখে অস্থির গলায় মেহরিন কে ডাকলো-
-” এই মেহরিন, ল্যাদা বউ অ্যা’ম সরি বউ। চোখ খুলো জান। সরি তো। আমি কন্ট্রোল করতে পারি নাই বউ। শুনছো? উঠো জান।
মেহরিন উঠছে না। সোলেমানের এবার ভয় হতে লাগলো। কি করবে বুঝতেছে না। পাগল পাগল লাগছে। কি দরকার ছিলো এসব করার? মাথায় কেনো ছিলো না বউ তার শারীরিক ভাবে প্রস্তুত না এসবের জন্য।
সোলেমান বাড়ি খুঁজে খুঁজে মিয়াচি ও চেংকিম কে ডেকে নিয়ে আসলো। সোলেমান চাদর আগেই সরিয়ে ফেলেছে।
রাত বাজে এখন সাড়ে তিনটার উপরে। মিয়াচি চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে সোলেমান কে। সোলেমান লজ্জায় চোখে চোখ রাখতে পারছে না। পাশেই ডক্টরের বাড়ি হওয়ায় বেশি বেগ পেতে হয় নি। চেংকিম ডক্টর কে ডেকে এনেছিল। ডক্টর নিজেই লজ্জা পেয়ে গেলো। সোলেমান কে জাস্ট বলে গেলো-
-” একটু ধীরেসুস্থে আগাও ইয়াংম্যান। বেশি চাপ নিতে পারে নি তোমার বউ। তার উপর জ্বর ছিলো শরীরে।
ইশ কি যে লজ্জায় পড়তে হলো সোলেমান কে। শালার বউ ছুঁয়েও শান্তি নাই। মানুষজন জেনে যায়।
ডক্টর পেইন কিলার,আর জ্বরের ঔষধ দিয়ে গেলো। মেহরিনের জ্ঞান ফিরলেই যেন খাইয়ে দেওয়া হওয়া।
মেহরিনের জ্ঞান ফিরলো ভোরের দিকে। শরীরে অসহ্য ব্যথা। চোখ মেলেই সর্বপ্রথম নজরে আসলো স্বামীর মুখ খানা। অস্থির অনুশোচনার চোখ মুখ নিয়ে তাকিয় আছে বউয়ের জ্ঞান ফেরার। সোলেমান এক বছরে আর কাছে যাবে না বউয়ের।
মিয়াচি মেহরিন কে ধরে উঠিয়ে বলল-
-” মাইয়া জামাইয়ের আদর সুহাগ সহ্য করতে পারো না? জ্ঞান হারায় ফেলাও।
চেংকিম বাহিরে চলে গেছে আগেই। সোলেমান বউয়ের কাছে আসলো। মিয়াচি চোখ দিয়ে গিলে খেয়ে আবার উপচিয়ে বের করে বলল-
-” আহাগো কি চিন্তা বউয়ের। করার আগে মনে ছিলো না? যেই তুলোর লাহান নরম বউ। এমন বউতো আদর করতে হয় ধীরেসুস্থে।
সোলেমান বিরবির করে বলল-
-” পুরুষ মানুষ হলে বুঝতেন। কতটা অপারগ হয়ে এমনটা করে ফেলছি।
মিয়াচি মেহরিন কে ধরে নিয়ে কলপাড়ে নিয়ে গোসল করতে বললো। মেহরিন গোসল করে তার আগের অফ হোয়াইট শাড়িটা পড়ে নিলো। মিয়াচি সোলেমান কেও বলল গোসল সেরে নিতে।
সোলেমান ও গোসল নিয়ে রুমে এসে দেখলো মিয়াচি চৌকির পাশ থেকে সেই চাদর টা উঠাচ্ছে।
কাম সারছে। এখন আবার এটা নিয়ে কথা শুনাবে। সোলেমান পেছন ফিরে চলে যেতে নিলে মিয়াচি বলে উঠলো-
-” দেখছো নি কারবার। আমার বিছানার চাদর টারেও ছাড়ে নাই বেডায়। এহন এটা ধুইবে কে?
সোলেমান সরু চোখে তাকিয়ে বলল-
-” আমি আপনাকে রুম ভর্তি চাদর কিনে দিব। প্লিজ আর কিছু বইলেন না।
মিয়াচি চাদরটা নিয়ে বাহিরে চলে আসলো। সোলেমান বউয়ের পাশে বসলো। চোখ তুলে তাকাতে পারছে না বউয়ের দিকে। মেহরিন লজ্জায় ম’রে যাচ্ছে। ছি ছি তাদের এই প্রাইভেট মূহুর্তের কথাও লোক জানাজানি হয়ে গেল!
চেংকিম দোকান থেকে পরোটা আর ডাল নিয়ে এসেছে। সোলেমান মেহরিন কে পরোটা ডাল খাইয়ে মেডিসিন খাইয়ে দিলো। খাওয়া শেষে মেহরিনের হাত চেপে ধরে নরম গলায় বলল-
-” অ্যা’ম সরি। আমার নিজেকে সামলে নেওয়া উচিত ছিলো। অ্যা’ম সরি ল্যাদা বউ। আমাকে সামলানোর বয়স এখনও হয় নি তোমার।
মেহরিন বাহু চেপে সোলেমানের কাঁধে মাথা ঠেকালো। তার শরীর এত চাপ নিতে পারে নি। আসলেই তার বয়স হয় নি?
সোলেমান বউকে এক হাতে জড়িয়ে ধরলো। কেমন শরীর টা ছেড়ে দিছে মেহরিনের। সোলেমান মাথায় চুমু খেয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করলো। সুইচ অফ হয়ে গিয়েছিল। ফেনটা অপেন করতেই ইব্রাহিম এজওয়ানের ৫৬ টা কল ভেসে উঠলো স্ক্রিনে। সোলেমান ডাটা অন হতেই ইব্রাহিমের মেসেজ ভেসে আসলো।
-” এই সোলেমান তুই কাকে নিয়ে ভেগে গেছিস ভাই? ফোন ধর। নিউজ পাড়া তো পুরোই যাচ্ছে তাই ছড়াচ্ছে।
সোলেমান ফেসবুকে ঢুকলো। ঢোকার সাথে সাথে প্রথমেই দেখতে পেলো একটা নিউজ চ্যানেলের ক্যাপশন। ক্যাপশনটায় ছিলো—
দাহশয্যা পর্ব ৪১
-” ঢাকা ৮ এর ১৮১ নং আসনের এমপি নওয়াজ সোলেমান সুলতান এক মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে…
ক্যাপশনের নিচেই সোলেমান তার বউয়ের দৌড়ানোর ছবি। মেহরিনের মুখ দেখা যাচ্ছে না। সোলেমান দৌঁড়ানোর সময় যে পেছন ফিরেছিলো একবার। সেই ছবিটা দেওয়া।
সোলেমান মেহরিন কে ধরে রেখেই রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দাঁত চেপে বলল-
-” হোয়াট দ্যা হেল। ফা*ক থিজ বুলশিট নিউজ ব্যাস্টার্ডস!
