মহামায়া পর্ব ২৬
তুশকন্যা
“বাইয়া, এক্টু ইন্দু মরা বিছ দাও। মুজা মুজা লাগবে।”
আনায়ার এহেন কথা শুনে ভিভিয়ান তৎক্ষনাৎ তার দিকে ফিরে তাকাল। ভ্রু উঁচিয়ে গুরুগম্ভীর স্বরে আওড়াল,
“তারা!”
সহসাই আনায়া হুঁশে ফিরে এলো৷ ইতস্তত ভঙ্গিতে মিটমিট করে হেসে বলল,
“আমি মুজা কসসি, হি হি।”
ভিভিয়ান বিরক্তিতে ভারী শ্বাস ফেলল। আর কথা না বাড়িয়ে ওভেনে কেকটা দিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। সে কাউন্টারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ঘড়ির দিকে তাকায়। আনায়া তখন নিজের ছোট্ট ছোট্ট আঙুল দিয়ে গলানো চকলেটের বাটির গায়ে লেগে থাকা অবশিষ্টাংশ চেটেপুটে খেতে ব্যস্ত। তার নাকে আর গালে চকোলেটের দাগ লেগে একাকার।
ভিভিয়ান গম্ভীর স্বরে বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গিতে বলল,
“ওয়াউ! তোকে দেখতে তো বেশ লাগছে! এখন যদি এসব ছোট-মা দেখে ফেলে, তবে কেকে বেক হওয়ার আগে তোর পিঠের চামড়া তুলে দেবে।”
আনায়া ফিক করে হেসে দিল। আত্মবিশ্বাসী কন্ঠস্বরে বলল,
“তুমি আসো না! কিসু কববে না।”
আনায়ার কথায় ভিভিয়ান ক্ষীণ মুচকি হাসল। সে হঠাৎ ভিভিয়ানের টি-শার্টের হাতা টেনে জিজ্ঞেস করল,
“বাইয়া, কেক পছনদো হলে তোমা-র বউ কি আমায় কিসি দিবে?”
ভিভিয়ান কপালে বৃদ্ধাঙ্গুলি ঘষে, ভ্রু উঁচিয়ে বিড়বিড় করল,
“আশ্চর্য! এই বিচ্ছু এগুলো কোনো ড্রামা দেখে শিখেছে নাকি?” তবে মুখে বলল,
“কিসি দেবে কি না জানি না, তবে তোর জন্য চকলেট আনব কথা দিচ্ছি।”
আনায়া মুখ কুঁচকে অবাক হয়ে বলল,
“মানে আমি তুমার ছাতে যাবো না? তুমি আমাকে রেকেই একা একা যাবে?”
—“তো তুই ওখানে গিয়ে কি করবি?”
—“ইহ্, এতো বুড় কেক তুমার বউ খেতে পাবে? সে কুষ্টু পাবে না? আমি একতু একতু কেক খেলে সে কুষ্টু পাবে না। তাহনে আমিও তো যাবো।”
আনায়া একসাথে এতোকথা বলে কিছুটা হাঁপিয়ে গেল। ভিভিয়ান তাচ্ছিল্যের সহিত ক্ষীণ হেসে, আনায়ার মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলল,
“ছুঁচো কাঠবিড়ালী!”
আনায়া চকলেটে মাখোমাখো মুখটা উঁচিয়ে বলল,
“কে আমি? কিন্তু তুমি তো বলেসিনে আমি একতা লি…লিটিল রাবিত ঐ খগ্গোসতার মতো।”
ভিভিয়ান ফ্রস্টিং এর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মাঝখান হতে আনায়ার এতোসব কথাবার্তায় সে নিস্পৃহে ভারী শ্বাস ফেলে বলল,
“তুই এতো কথা বলিস কেন বলতো? মুখ ব্যাথা করে না?”
আনায়া দ্রুততর মাথা নাড়ে।
—“না, না, একতুও মুক ব্যাতা কলে না।… ভিবান বাইয়া তুমি কুবিতা শুনবে? আমি কুবিতা বলতে পারি।”
—“হু,হু, বল। তোকে থামিয়ে রেখেছে কে?” ভিভিয়ান নিজের মতো কাজে ব্যস্ত। আনায়া একমুহূর্তও কালবিলম্ব না করে হাত-মাথা-কোমড় নেড়েচেড়ে বলতে শুরু করল,
“কাতবিলালী কাতবিলালী পায়রা তুমি কাও, গুলমুলি কাও,পাতাবালিবুনু বুনাও, বিলাই বাসসা কুকুর ছানা তাও, চুচা তুনি তোমার সনে আরি আমার যাও,হুঁশ! হুঁশ!”
ব্যস্ত ভঙ্গিতে কাজ করতে থাকা ভিভিয়ানও, অচিরেই হেঁসে ফেলল। সে আনমনে ভঙ্গিতে হঠাৎ বলে উঠল,
“জান রে, তুই বড় হয়ে কি হবি বলতো?”
—“আমি? আমি বউ হবো!”
ভিভিয়ান মুখ ফিরিয়ে আনায়ার দিকে তাকাল। ভ্রু-কুটি করে বলল,
“বউ হবি? পৃথিবীতে এতো কিছু থাকতে তুই কার মাথা খেতে চাস?”
আনায়া ভিভিয়ানের কথাটা ঠিক বুঝল না। হাসোজ্জল মুখটা খানিক মিইয়ে গেল। সে অবুঝ ভঙ্গিতে শুধালো,
“মানে?”
—“আ…কিছু না। তুই বরং চুপচাপ আমায় আরেকটা কবিতা শোনা।”
ভিভিয়ানের কথামতো আনায়া পুনরায় আরেকটা ছড়া গাইতে শুরু করল। ততক্ষণে ভিভিয়ান নিজের কাজগুলোও গুছিয়ে নিল। সারাবছর সে যেকয়টি কথা মুখে বলে, তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি কথা হয়তো এই দুদিনে আনায়ার সাথে বলে ফেলেছে।
মিনিট চল্লিশ পর কেকটা ওভেন থেকে বের করা হলো। মিষ্টি গন্ধে পুরো রান্নাঘর ম ম করতে লাগল। যদিও কেকের ওপরের দিকটা কিছুটা এবড়োখেবড়ো হয়েছিল, কিন্তু ভিভিয়ানের চোখে এটাই হয়তো পৃথিবীর সেরা কেক। হালকা ফ্রস্টিং করে, সে চকলেট সিরাপ দিয়ে ওপরে বাঁকা অক্ষরে লিখল—
“Happy Birthday Sweetheart”
আনায়া হাততালি দিয়ে উঠল,
“ওয়াআআও! অনেক চুনদর হয়েচে বাইয়া!”
ভিভিয়ান ভাবুক ভঙ্গিতে কেকটার দিকে কিছুক্ষণ কি যেন ভাবল। অতঃপর নিজেও বলল,
“হু, খারাপ না। আই থিংক আই ক্যান বিকাম আ গ্রেট শেফ ইন দ্য ফিউচার।”
ভিভিয়ানের পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল যে তার বর্তমান জীবনের সবচেয়ে বড় বাধা এখন আনায়া’ই। রাত এগারোটা থেকেই ভিভিয়ান আনায়াকে তার মায়ের ঘরে পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল, কিন্তু আনায়া আজ যেন কোনো এক অদৃশ্য শপথ নিয়ে বসেছে—সে তার বিভান বাইয়া কে এক মুহূর্তের জন্যও কাছছাড়া করবে না।
রাত বারোটা বাজল। ফোনের স্ক্রিনে মাওরার চ্যাটবক্স ওপেন করে ভিভিয়ান অস্থির হয়ে পায়চারি করতে লাগল। ঘরে তৈরি করা কেকটা এখনো ফ্রিজে রাখা, কিন্তু সেটা নিয়ে মাওরার কাছে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। আনায়া বিছানায় বসে পা দোলাচ্ছে আর বড় বড় চোখে ভিভিয়ানের অস্থিরতা দেখছে।
ভিভিয়ান যদি এখন তাকে জোর করে বকা দিয়ে বের করে দিতে যায়, তবে মেয়েটা চিৎকার করে কান্নাকাটি জুড়ে দেবে। আর মাঝরাতে আনায়ার কান্না মানেই পুরো বাড়ি জেগে ওঠা—রাতের বেলায় মাওরার কাছে যাওয়ার অভিযান সম্পূর্ণ দফারফা হয়ে যাবে। বাড়িতে তার বাবা-কাকা দুজনেই আছে। ঢাকায় থাকলে অবশ্য এতো কিছু ভাবতে হতো না। কিন্তু এখন সে করবে টা কি? হুট করে আনায়া যে এভাবে তার পেছনে পড়বে,এটা সে মোটেও আশা করেনি৷ মেয়েটার হাবভাবে তো এটাই স্পষ্ট যে, আনায়া নিজের কথামতো তার সাথে এই রাতের বেলায় মাওরার কাছে যেতে চাচ্ছে। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব? এ তো আরো বড় মুসিবত।
ভিভিয়ান এসব ভাবতে ভাবতে বিরক্তিতে পুনরায় অস্থির হয়ে উঠল। সে আনায়ার উদ্দেশ্যে বলল,
“তারা! তুই ঘুমাবি না?
—“গুমাবো তো, তুমি গুমালে আমিও গুমাবো। তুমি আমায় গপ্প ছুনাবে না?”
—“আমার এখনই ঘুম আসবে না, তুই ঘুমিয়ে না!”
—“উঁহু, আমি তো একা একা গুমাবো না। আমি একা গুমালে তুমি কেক নিয়ে বউয়ের কাসে চলে যাবে।”
আনায়ার নির্বিকার ভাবভঙ্গি। ভিভিয়ান বিরক্তি ও অস্থিরতায় চোখ-মুখ খিঁচে ধরল। এবং শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে ভিভিয়ানকে হার মানতে হলো। ঘড়িতে তখন রাত একটা। আনায়াকে কোলে নিয়ে পায়চারি করতে করতে ভিভিয়ান পুনরায় ক্লান্ত স্বরে বলল,
“ঐ জানবাচ্চা! এবার তো ঘুমা। আর কত রাত জাগবি?”
আনায়া তার বাহুতে মাথা রেখে আধো ঘুমে বিড়বিড় করল,
“তুমি শুবে না তো, আমিও শুব্ব না।”
পরদিন সকালে ভিভিয়ানের যখন ঘুম ভাঙল, তখন রোদ অনেকটা কড়া হয়ে জানালার পর্দা ভেদ করে তার ঘরের ভেতর ঢুকেছে। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকার কারণে সে বেঘোরে ঘুমাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ অনুভব করল তার পিঠের ওপর কেউ সওয়ার হয়েছে। আনায়া ঘুম থেকে উঠে ফুরফুরে মেজাজে ভিভিয়ানের পিঠের ওপর চড়ে বসেছে। তার ছোট ছোট আঙুলগুলো ভিভিয়ানের এলোমেলো চুলে ঝড় তুলেছে।
ভিভিয়ান বালিশে মুখ গুঁজে উফফ করে উঠল,
“তারা… সর এখান থেকে। ঘুমাতে দে।”
আনায়া আরও উৎসাহ নিয়ে ভিভিয়ানের কানের কাছে এসে চেঁচাল,
“বাইয়া! উতো,উতো, সকাল হয়েচে, আমরা কেক নিয়ে যাবব না?”
ভিভিয়ান বিরক্ত হয়ে এক হাত বাড়িয়ে আনায়াকে সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু সে নাছোড়বান্দা। শেষমেশ ভিভিয়ান চোখ না খুলেই তাকে জাপটে ধরে নিজের পাশে শুইয়ে দিল।
“আরও দশ মিনিট, একদম নড়বি না।”
আনায়া কিছুক্ষণ তার প্রশস্ত বুকে আঙুল দিয়ে আঁকিবুঁকি করল। বিড়বিড় করে ভিভিয়ানের ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে কিসব যেন বলতেও থাকল। অতঃপর ভিভিয়ানের হাতের বাঁধন কিছুটা আলগা হতেই,সে উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
আরো বেশ খানিকক্ষণ পর ভিভিয়ানের ঘুম ভাঙ্গল। সে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসতেই মেজাজ আরও বিগড়ে গেল। মাওরার জন্মদিনের প্রথম ভাগটা তো আনায়ার জ্বালায় মাটি হলোই, এখন নিচতলার ব্যস্ততা দেখে মনে হচ্ছে আজকের দিনটাও সহজ হবে না। এই মূহুর্তে তার ব্যাগ গুছিয়ে সোজা ঢাকায় ফিরতে ইচ্ছে করছে।
রান্নাঘরে অনিমার সাথে দেখা হতেই সে ক্লান্ত স্বরে বলল,
“আব্বা ভিভান,এসেছো? তোমাকেই খুঁজছিলাম। একটা কাজ দিচ্ছি, আজ একটু আনায়ার ওপর খেয়াল রেখো তো। আমি আর ভাবী কাজে খুব ব্যস্ত থাকব সারাদিন। আগামীকাল তোমার কাকার পার্টির লোকজন আসবে বাড়িতে, বুঝতেই পারছো…। দেখো গিয়ে বেয়াদবটা বাগানে ধুলোবালি নিয়ে খেলছে, কারোর কথা শুনছে না। তুমি একটু বকা দিয়ে ওকে ঘরে নিয়ে যাও, তোমাকে ছাড়া ও এখন আর কাউকে ভয় পায় না। এতো বজ্জাত কি করে হলো, নিজেও বুঝতে পারছি না।”
অনিমা একনাগাড়ে সবটা বলে থামল। ভিভিয়ান কিছুটা হকচকিয়ে বলল,
“আ…কিন্তু ছোট মা আমি তো…”
অনিমা আর তাকে কিছু বলার মতো সুযোগ দিল না। বরং কাজের ব্যস্ততায় আনমনে সে ভিভিয়ানকে কাটিয়ে নিজের কাজে চলে গেলো।
এদিকে ভিভিয়ানের কপালে হাত। ভাবছে কি আর হচ্ছেটা কি? তবে সে মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিল—আনায়াকে ঘরে আটকে রাখা যেহেতু সম্ভব নয়,এবং ঘুরেফিরে আজ সারাদিনের দায়িত্ব তার উপরই চাপানো হয়েছে, তাই আনায়াকে নিয়েই সে মাওরার সাথে দেখা করতে যাবে।
এই ভাবনায় ভিভিয়ান বাড়ি হতে বেরিয়ে এলো। বাগানে গিয়ে দেখল আনায়া কাদামাটি আর শুকনো পাতা দিয়ে এক এলাহি কাণ্ড করে বসেছে। তার সুন্দর জামাটা ধুলোয় ধূসর। ভিভিয়ান কোনো কথা না বলে পেছন থেকে গিয়ে, নিজের সহজাত কায়দায় তার পিঠে থাবা দিয়ে শূন্যে তুলে নিল। অতঃপর আলুর বস্তার মতো ঝুলিয়ে নিজের মুখের সামনে উঁচিয়ে ধরল। আনায়া পা ছুঁড়ে চিৎকার করে উঠল,
“বাইয়া ছাড়ো, ছাড়ো! আমি গাস বানাচ্চি!”
—“অনেক গাছ বানানো হয়েছে, এখন চল।”
—“নাআআ, আমার খেলা বাকি আসে।”
ভিভিয়ান কথা বাড়ায় না। ভাবগম্ভীর্য দৃঢ় রেখে তাকে ওভাবেই ঝুলিয়ে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেল।
সরাসরি ওয়াশরুমে ঢুকে ভিভিয়ান নিজের টিশার্টটা খুলে একপাশে রাখল। আনায়ার গায়ের নোংরা দেখে সে তাকে বাথটাবে বসিয়ে দিল। কিন্তু শাওয়ার অন করতে গিয়ে সে লক্ষ্য করল আনায়া খুব অদ্ভুত আচরণ করছে। সে আড়ষ্ট হয়ে দুই হাত দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ধরে বাটটাবের এক কোণায় কুঁচকে বসে আছে।
তবে ভিভিয়ান বিষয়টাকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে, স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলল,
—“ব্লাড! জামা’টা খোল।”
আনায়া নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। ভিভিয়ান লুফায় সাবান মাখতে মাখতে আবারও গুরুগম্ভীর স্বরে আওড়ায়,
“দ্রুত জামা খোল, তারা! ধুলোবালি লেগে সব একাকার হয়ে আছে।”
আনায়া এবারও কোনো নড়চড় করল না। সে মাথা নিচু করে ইতস্তত হয়ে হাসার চেষ্টা করছে, আবার কুঁকড়েও যাচ্ছে। সে ক্ষীণ স্বরে বলল,
“আমি একন গুসল করবব না।”
ভিভিয়ান ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর স্বরে বলল,
“তারা আমার হাতে সময় নেই, দ্রুত গোসল সেরে রেডি হতে হবে। নয়তো আমি তোকে রেখেই চলে যাব।”
আনায়া আরও সংকুচিত হয়ে মিনতি করল,
“আমি মা’র কাসে গুসল কবব।”
ভিভিয়ান বিরক্ত হয়ে চড়া গলায় বলল,
“ছোট মা ব্যস্ত আছে। আর সারাক্ষণ তো আমার পেছন পেছন ঘুরিস। এখন আমার কাছে গোসল করতে সমস্যা কোথায়?”
আনায়া এবারও নাছোড়বান্দা,
“না, আমি বড় আম্মুর কাছে গুসল করব।”
ভিভিয়ান রেগে গিয়েও নিজেকে সামলে নিল। মেয়েটার অস্বাভাবিক জড়তা দেখে সে কয়েক মুহূর্ত নিবিষ্ট মনে তাকে পর্যবেক্ষণ করল। তারপর হঠাৎ তার মাথায় ভিন্ন কিছু একটা খেলে গেল। সে ভ্রু উঁচিয়ে অদ্ভুত এক সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আওড়াল,
“তারা! তুই কি লজ্জা পাচ্ছিস?”
আনায়া কোনো জবাব দিল না। সে মাথা নুইয়ে একদম চুপসে গেল, যেন তার কোনো বড় গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। ভিভিয়ান আশ্চর্যের সাথে আবারও বলল,
“সিরিয়াসলি? সত্যি লজ্জা পাচ্ছিস তুই?”
মহামায়া পর্ব ২৫
সে খানিকক্ষণ নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নিজের বলিষ্ঠ দেহের সামনে এইটুকু বাচ্চার এরূপ অনুভূতি দেখে সে অবাক না হয়ে পারল না। ভিভিয়ান কপালে ভাঁজ ফেলে আওড়াল,
“কী আশ্চর্য! এই বয়সে তোর মধ্যে এই সিস্টেম কে ভরল?”
ভিভিয়ান কিছু সময়ের জন্য থেমে আবারও বলল,
“তার চেয়েও বড় কথা, তোর লজ্জা পাবার মতো আছেই বা কি?”
