এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫
সুহাসিনী
রাহি:”আপনি নাকি খুব খারাপ তাই আমার মতো বাচ্চা মেয়ের সাথে উনার বিয়ে দিয়েছেন।আচ্ছা বাবা আপনি বলুন তো আমি কি এখনোও বাচ্চা?”
“একদমই না।আমার বউমা তো খুবই ম্যাচিউর।ওই বজ্জাত ছেলে আর কি কি বলেছে বলো তো আম্মু।”
রাহি আর একটু মনে করার মতো ভান ধরে বলল,
রাহি:”আপনি নাকি খুব রাগী।যাকে তাকে যখন তখন মেরে দেন।আমাকেও নাকি আপনি মারবেন।”
“এসব বলেছে তোমাকে ওই ছেলে?”
রাহি উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে বুঝালো হ্যাঁ বলেছে। তখনই হাতে গাড়ির চাবি ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে বাড়িতে ঢুকছিল প্রেমের ফুপাতো ভাই শান্ত। প্রেমের বিয়ের খবর শুনে সকাল সকাল চলে এসেছে।
ডাইনিংয়ে রাহিকে দেখে শান্তর চিনতে অসুবিধে হয়নি এটায় যে প্রেমের বউ। কিন্তু এই মেয়ে যে এতো ধড়িবাজ এটা তাকে দেখে বুঝার উপায় নেই। রাহির কথা গুলো সে এসে সব শুনতে পেয়েছে এবং তখন থেকেই হা হয়ে গেছে।
বিয়ের প্রথম দিনেই শ্বশুরের কাছে স্বামীর নামে কান ভাঙ্গাচ্ছে। যাক ভালোই হয়েছে তার দল এবার কিছুটা ভারী হবে। শান্ত সামনে এগোতে যাবে তখন পেছন থেকে গম্ভীর স্বরে প্রেম বলে উঠে,
প্রেম:”এগোবি না। একদম আমার বউ এর কাছে ঘুরঘুর করবি না।তোর স্বভাব একদমই ভালো না।তোর হাওয়া আমার বউ এর গায়ে কোনমতেই লাগতে দেওয়া যাবে না।”
শান্ত পেছনে ফিরে লম্বা একটা হাসি দিয়ে প্রেমের কাছে গিয়ে বলে,
শান্ত:”ঠিক বলেছিস ভাই।আমার হাওয়া তোর বউ এর গায়ে লাগানো যাবে না। কারণ তোর বউ মনে হয় আমার মেলায় হারিয়ে যাওয়া বোন।তাই হাওয়া ছাড়ায় ও আমার মতো।”
বলেই দাঁত বের করে হাসলো। প্রেমের কানেও এলো রাহি আর তার বাবার কথোপকথন। কোনো মতে নিজেকে সামলে খেতে বসলো।
প্রেমের মা খুব যত্ন সহকারে প্রেম আর শান্তর প্লেটে নাস্তা তুলে দিয়ে আবার কিচেনে চলে গেলো।
রাহি ভয়ে ভয়ে প্রেমের দিকে তাকাচ্ছে।এতক্ষণে শান্তর সাথে তার পরিচয় হয়ে গেছে।রাহির মনে এখন একটায় ভয়,সে যে তার শ্বশুরকে বানিয়ে বানিয়ে তার স্বামীর নামে এতো বদনাম করলো যদি তার স্বামী কোনো ভাবে এগুলো শুনে নিয়ে থাকে তাহলে তো আজকে তার এই বাড়িতে শেষ দিন।
রাহি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো,
রাহি:”আচ্ছা আপনার কখন এসেছেন?”
প্রেম কিছু বলার আগেই শান্ত বলে উঠলো,
শান্ত:”তুমি যখন মামার কাছে কাল রাতের ঘটনা বলছিলে তখনই।”
এবার রাহি ভয়ে কেঁদে দিলো। প্রেমকে বললো,
রাহি:”আর এমন করবো না এমপি সাহেব।এবার এর মতো মাফ করে দিন।আমি তো শুধু কাল রাতের প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছিলাম।”
শান্ত সন্দিহান গলায় বলল,
শান্ত:”কিসের প্রতিশোধ রাহি?”
রাহি:”কাল উনাকে বলেছিলাম আমাকে যেনো সকালে শিখিয়ে দেয় যে বড়রা কীভাবে চুমু খা…”
প্রেম রাহির মুখ চেপে ধরেছে । রাহি ছটফট করতে করতে শান্তর দিকে তাকালো।যেনো তাকে প্রেমের হাত থেকে বাঁচায়। প্রেমের বাবা অনেক আগেই চলে গেছে অফিসে। আর প্রেমের মা রান্নাঘরে।তাই এখন তার শেষ ভরসা শান্ত।
কিন্তু শান্ত বেচারা তাকে বাঁচানোর বদলে উল্টো মিটি মিটি হাসছে। প্রেম রাগে গজগজ করতে করতে রাহিকে কোলে তুলে নিজের রুমের দিকে হাঁটা ধরলো।
রুমে এসেই এক প্রকার বিছানায় ছুঁড়ে ফেললো রাহিকে। শক্ত কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”খুব শখ না বড়দের চুমু দেওয়ার স্টাইল শেখার?”
রাহি ভয়ে কথা বলতে পারলো না।শুধু মাথা নাড়ালো।
প্রেম:”আসো বউ তোমাকে আমি চুমু দেওয়া শিখাচ্ছি। বলেই রাহির ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরলো। রাহি মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো।এমন স্পর্শ সে আগে কখনো পাইনি।
প্রেম কয়েকটা কামড় বসিয়ে ছেড়ে দিলো রাহিকে। রাহি ব্যথায় কেঁদে দিলো।কান্না করতে করতে বললো,
রাহি:”অসভ্য লোক। বড়দের চুমু একদমই ভালো না ।খুব ব্যাথা দেয়। লাগবে না আমার আপনার চুমু।আমার ছোটদের চুমুই ভালো।”
রাহির অবস্থা দেখে প্রেম ঠোঁট কামড়ে হাসলো।কিন্তু সেটা রাহির চোখে পড়ল না।সে তার ঠোঁটে হাত বুলাতে বেস্ত।
প্রেম:”আরও ক্লাস করবে চুমুর? নেক্সট ক্লাসে কিন্তু খুব গভীর চুমু দেওয়া শিখাবো।”
রাহি তৎক্ষণাৎ দু পাশে মাথা নাড়ালো। এবারের মতো তার চুমু খাওয়া শিক্ষার ভূত মাথা থেকে নেমে গেছে।
প্রেম নিজের জন্য বরাদ্দ রুমে বসে আছে। সামনের চেয়ারে বসে আছে শান্ত। মূলত সে তার অফিস রেখে প্রেমকে জ্বালাতেই এসেছে।এটায় তার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মনে হয়।এসেই বাসার সকল ঘটনা লিয়নকে বলে ফেলেছে এতক্ষনে।
প্রেমকে নির্লিপ্ত দেখে শান্ত লিয়নের দিকে ফিরে বললো,
শান্ত: ছিঃছিঃ। শেষে কিনা দেশের এমপি বউ এর কাছে নিজের বাবার নামে সমালোচনা করছে,ছিঃ
প্রেম রাগী কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”একদম উল্টা পাল্টা গুজব ছড়াবি না বলে দিলাম।আমি কখন আমার বজ্জাত বাবার নামে সমালোচনা করলাম?”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪
শান্ত:”আমি তো তোর নাম উল্লেখ করিনি।তোর গায়ে লাগলো কেনো?দেশে কি এমপি শুধু তুই একায়?”
প্রেম:”তুই যা তো এখান থেকে।তোকে আমি দু চক্ষে সহ্য করতে পারি না।নেহাত তুই আমার ভাই।”
শান্ত:”লিয়ন শোন, কথায় আছে না কুত্তার পেটে ঘি হজম হয় না।সেই দশা হয়েছে তোর ভাই এর।”
প্রেম কটমটিয়ে তাকালো শান্তর দিকে। শান্ত তা দেখে বোকার মতো হেসে বলল,
শান্ত:”আসলে এমপি মহোদয় আমার না অফিসে যেতে হবে।আপনার এই গরুর চোখ গুলো দিয়ে আপনি আপনার পিএ কেই ভয় দেখান।”
বলেই ভোঁ দৌড়। প্রেম পেছন থেকে তার হাতে থাকা ফাইল ছুঁড়ে মারল কিন্তু তাতে কোনো লাভ হলো না। তার আগেই শান্ত পগারপার।
