Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২
ছায়া

রাত গভির বৃষ্টির শব্দ তখনও থেমে থেমে আসছে জানালার কাঁচে। ইলা ঘুমোতে যাওয়ার আগে আবারও শাওনের নতুন ভিডিওতে চোখ রাখল। ভিডিওতে শাওন আগের মতোই মজার ছলে কিছু বলছে ভয়েজে সেই চিরচেনা আকর্ষণ। কিন্তু হঠাৎ ইলার চোখে পড়ল নিচে একটা কমেন্ট একজন মেয়ে উল্টো পাল্টা কথা লিখেছে, যেন শাওনকে রাগ দেখিয়ে কথা বলছে ইলার ভেতরটা যেন আগুনে জ্বলে উঠল। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না দ্রুত কমেন্টের রিপ্লাই দিল,

কমেন্টের রিপ্লাইঃ
আপনার যদি ভালো না লাগে ভিডিও দেখবেন না।উল্টো পাল্টা কথা বলে লাভ নেই। শাওনের ভয়েজ সবার মন ছুঁয়ে যায় আজাইরা কথা বলতে আসবেন না।
মেসেজ লিখেই ফোনটা পাশে রাখল মনটা হালকা হলো, আর কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে গেল।
পরের দিন সকাল পাখির ডাক আর মৃদু আলোয় ঘুম ভাঙল ইলার। ফোন হাতে নিয়েই প্রথমে সেই ভিডিওটা খুলল দেখল
সেই মেয়েটি রাতেই তার কমেন্টের উত্তরে কিছু কটু কথা লিখেছে। ইলা শান্ত থাকতে পারল না সরাসরি আবার লিখল
কমেন্টের রিপ্লাইঃ
আপনার এই নেগেটিভ এনার্জি অন্য কোথাও ব্যবহার করুন। এখানে কেউ আপনাকে পাত্তা দেবে না।
এইবার কিছুটা রাগ নিয়ে কলেজে চলে গেল ইলা দুপুর কলেজ থেকে ফিরে আবার ফোন হাতে নিল। শাওনের ভিডিও খুলে বিস্মিত হয়ে গেল। সেই মেয়েটার একটাও কমেন্ট নেই সব মুছে গেছে যেন কিছুই ঘটেনি। ইলার মনে সন্দেহ হলো,

ইলাঃ- শাওন কি মেয়েটাকে ব্লক মেরে দিয়েছে?
ইলা শাওনের নতুন আপলোড করা ভিডিও দেখা শুরু করলো, যেখানে শাওন জানিয়েছে তার কমেন্ট বক্স এ কেউ ঝগড়া করবেন না। ভিডিও ভালো লাগলে ভিডিও দেখবেন দেখে চলে যাবে। আরো অনেক কিছু বলেছে ইলা শাওনের ভিডিও দেখা শেষ করে নিজের নোটিফিকেশন এর দিকে নজর দিলো। ইলার মনের ভেতর গোপন আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল। আর একটা নোটিফিকেশন তার খুশি দ্বিগুণ করে দিল
“@🪖🪖শাওন🪖🪖 viewed your story.”
ইলার চোখ চকচক করে উঠল সে বিছানায় লাফ দিয়ে উঠে বসে পড়ল। নিজের গালে হাত রেখে ফিসফিস করে বলল,

ইলাঃ- সে আমার স্টোরি দেখেছে মানে আমি ওর চোখে পড়েছি।
হার্টবিট আবার বেড়ে গেল গাল লাল হয়ে উঠল।ইলার মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সব আনন্দ আজ তার হাতের মুঠোয়। কলেজ থেকে আসার পর থেকেই ইলার মনটা অদ্ভুতভাবে আনন্দে ভরে উঠেছে। শাওন তার স্টোরি দেখেছে এই ছোট্ট ঘটনাটাই যেন তার পৃথিবীটাকে রঙিন করে দিয়েছে।
বিকেলে হালকা রোদ ঝলমল করছে ইলা আর পরি দু’জন বের হলো নদীর ধারে। নদীর তীরে কয়েকটা ছোট বাচ্চা কাদায় খেলা করছে। কেউ পানিতে কাগজের নৌকা ভাসাচ্ছে কেউবা চিৎকার করে হাসছে। ইলা কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে মিশে গেল, একটা বাচ্চাকে কোলে তুলে নিয়ে হেসে উঠল আরেকটার নৌকায় হাওয়া দিল
ইলাঃ- চল চল পাল তোলো।
বাচ্চাদের সাথে খেলার ফাঁকে ইলার চোখে-মুখে ঝলমল করছে আনন্দ। পরি পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকল একটু পরে ইলার খুশি দেখে বললো
পরিঃ- তুই আসলেই একেবারে অন্যরকম ইলা।
ইলাঃ- তাই না, আজ আমি অনেক খুশি আমার তো মন চাচ্ছে খুশিতে নাচতে।
পরিঃ- তো নাচ না আমিও একটু দেখি।

হঠাৎ ইলা ফোন বের করল কিশোর- কিশোরী ট্রেন্ডিং গান প্লে দিল। গান বাজতে শুরু হতেই নদীর পাড়টাই যেন ছোট্ট একটা স্টেজ হয়ে উঠল। ইলা হাত দুটো ছড়িয়ে নাচতে শুরু করল চুল উড়ছে বাতাসে চোখে হাসির ঝিলিক। কখনো ঘুরে কখনো লাফিয়ে পুরো শরীর যেন খুশিতে ভরে গেছে।
বাচ্চারাও হাততালি দিতে লাগল কয়েকজন তো ইলার সঙ্গে নাচতেও শুরু করে দিল। পরি হেসে ফোন বের করে ভিডিও রেকর্ড করল,
পরিঃ- আজকের দিনে তুই একেবারে উড়ছে রে ইলা
ইলাঃ- উরবো না কেনো আজ যে আমার খুশির দিন।
ইলার মুখে হাসি থামছে না তার ভেতরটা বারবার বলছে
“সে আমার স্টোরি দেখেছে আমি অদেখা হলেও তার চোখে আমি পড়েছি।”
সন্ধ্যার আগেই ইলা বাড়ি ফিরল ভেজা জামা আর চুলে এখনো নদীর হাওয়ার ছোঁয়া আছে। ঘরে ঢুকতেই মায়ের চোখে পড়ে গেল। ইলার মা সাবিহা বেগম কড়া স্বভাবের মহিলা তিনি গম্ভীর গলায় শুরু করলেন
সাবিহাঃ- এত বড় মেয়ে হয়েছিস তবুও মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়াস কোনো লজ্জা-শরম নেই? মেয়ের আবার নদীর পাড়ে নাচ-গান করার শখ হয়েছে।

ইলা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল মাথা নিচু করে গলায় কোনো উত্তর আসছে না শুধু বুকের ভেতর চাপা কষ্ট জমে উঠছে। ঠিক সেই সময় ঘরে ঢুকলেন ইলার বাবা রাশেদ তালুকদার। তিনি গ্রামে সবার সম্মানিত মানুষ শান্ত কিন্তু দৃঢ় স্বভাবের। সাবিহা বেগম রাশেদ তালুকদার কে দেখে আবার বললেন
সাবিহাঃ- দেখো তো কেমন মেয়েটা দিন দিন লাগাম ছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
রাশেদ তালুকদার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিলেন,
রাশেদঃ- আমার মেয়ে যা ইচ্ছা করবে ওর জীবনে ওকে আটকে রাখার কেউ নেই। তুমি তোমার কাজ করো সাবিহা।
মুহূর্তেই ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল ইলার চোখে পানির ঝিলিক এল কিন্তু সে কিছু বলল না। শুধু বাবার দিকে একবার তাকাল চোখে ভরসা আর ভালোবাসার আলো।তারপর মাথা নিচু করে নিজের রুমে চলে গেল দরজা বন্ধ করে বিছানায় বসে গভীর শ্বাস নিল।

ইলাঃ- আব্বু আমার পাশে আছে এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
ইলা বিছানায় বসে পড়ল বাইরে মা-বাবার কথাগুলো এখনো কানে বাজছে, কিন্তু তার মনের ভেতর ঘুরছে শুধু এক নাম শাওনের শূন্য দৃষ্টিতে ছাদের দিকে তাকিয়ে নিজেকে বলল
ইলাঃ- সবাই ভাবে আমি শুধু ছেলেমানুষী করি কিন্তু যদি তারা জানত আমি কেন এত হাসি, কেন এত নাচি, কেন এত ভাবনায় হারিয়ে যাই তারা হয়তো বুঝতে পারত।
ইলা ফোনটা হাতে নিল টিকটক খুলে সরাসরি ঢুকে গেল শাওনের আইডিতে।শাওনের নতুন কিছু ভিডিও আসছে কোথাও একটা ফুলের বাগান,কোথাও হেটেযাওয়া আর তার ভয়েস যেটা শুনলেই মনে হয় মনের গভীরে ঢুকে যায়।
ইলা একে একে কয়েকটা ভিডিও প্লে করল শুনতে শুনতে তার ঠোঁটের কোণে একটা মৃদু হাসি ফুটে উঠল তারপর হঠাৎ থেমে গিয়ে বলল

ইলাঃ- আমি তো আপনাকে কাছে পাবো না অন্তত আপনার ছবি নিয়ে একটা ভিডিও বানাই।
ইলা কয়েকটা ভিডিও থেকে কয়েকটা মুহূর্ত স্ক্রিনশট নিল,কখনো হাতের,কখনো পায়ের আবার কখনো ফুলের সাথে, সবগুলো একসাথে এডিট করে ছোট্ট একটা ভিডিও বানাল ব্যাকগ্রাউন্ডে দিলো হালকা মিউজিক যেন প্রতিটা ছবির ভেতর শাওনের কণ্ঠস্বরই বাজছে। ভিডিও বানিয়ে শেষ করে একটু থমকে গেল।
মনে হলো “এটা কি পোস্ট করা উচিত?” কিছুক্ষণ দ্বিধায় থেকে শেষমেশ আপলোড করে দিলো। স্টোরি দেওয়ার পর বিছানায় শুয়ে মোবাইল বুকে চেপে ধরল ইলা। চোখ বন্ধ করেই মনে হলো যেন শাওনকে ছুঁয়ে ফেলছে যদিও সে হাজার মাইল দূরে।

ইলাঃ- যদি একবার বুঝতে পারতো আমার হাসির পেছনে কার নাম লুকানো আছে…!!!
অন্য দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের রাতে ডিউটির ফাঁকে নিজের রুমে বসে আছে শাওন। টেবিলে ফাইলের স্তূপ পাশে ধোঁয়া উঠছে আধখাওয়া কফির কাপ থেকে। ক্লান্ত চোখে ফোনটা হাতে নিল নোটিফিকেশন চেক করতে গিয়ে হঠাৎ চোখ আটকে গেল একটা ভিডিওতে নামটা তেমন চেনা নয় কিন্তু প্রোফাইল পিকচারে চেনা। ভিডিও ওপেন করতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল তারই ভিডিও থেকে নেয়া ছবির কোলাজ কিছু ছবি ব্যাকগ্রাউন্ডে নরম সুর বাজছে।
শাওন কয়েক সেকেন্ড নীরবে তাকিয়ে রইল চোখে পড়ল ছোট্ট ক্যাপশন “যার কণ্ঠস্বর আমার দিনকে বদলে দেয়।” তার ভেতরটা অদ্ভুতভাবে আলোড়িত হয়ে উঠল হৃদপিণ্ড যেন কয়েকটা বিট মিস করল। সে গম্ভীর মুখে ফিসফিস করে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে বলল,

শাওনঃ- এই মেয়ে কে তুমি?
আঙুল থেমে গেল রিপ্লাই বাটনের উপর কিন্তু চাপল না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা রেখে দিল টেবিলে।
অন্যদিকে ইলা বিছানায় শুয়ে আছে মোবাইল বুকে চেপে।বারবার ভিডিও তে ভিউ দেখছে। হঠাৎই চোখ আটকে গেল যে শাওন তার ভিডিও দেখে গেছে। ইলার চোখ চকচক করে উঠল মনে হলো বুকের ভেতর আতশবাজি ফেটে পড়ছে।সে বিছানায় লাফিয়ে উঠল
ইলাঃ- ও দেখেছে ও আসলেই দেখেছে।
নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে খিলখিলিয়ে হেসে উঠল ইলা।হার্টবিট এত বেড়ে গেছে মনে হলো যেন পুরো গ্রাম শুনে ফেলবে ইলার হার্ডবিট এর শব্দ সেই রাতে দু’জন দু’ভাবে জেগে থাকল শাওনের মনে অদ্ভুত প্রশ্ন, আর ইলার মনে অফুরন্ত খুশি।
পরের দিন সকালে ইলা শাওনের নতুন ভিডিও দেখলো ভিডিওতে ফুলের বাগানের ভেতর দিয়ে হালকা কণ্ঠে একটা ভয়েস,

শাওনের ভয়েজঃ
কিছু পথ থাকে যেগুলোতে শুধু হাঁটার জন্যই জন্ম হয় সেগুলোতে সঙ্গী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
ইলার চোখ চকচক করে উঠল সে কমেন্ট করে দিল
ইলার কমেন্টঃ
আপনার কণ্ঠস্বর যেন বৃষ্টির পরের মাটির গন্ধ শুনলেই মন ভালো হয়ে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটা রিপ্লাই এলো এক অচেনা মেয়ের কাছ থেকে ইমোজি দেয়া, ইলা আবার কমেন্ট এর রিপ্লাই ইমোজি দিলো। মেয়েটা সাথে সাথে ইলাকে ফলো দিলো তাই ইলাও ফলোব্যাক দিয়ে দিলো। মেয়েটা ইলার স্টোরি দেখে ইলাকে মেসেজ দিলো,
মেয়ের মেসেজঃ-
তুমি অনেক ভাগ্যবতী রে শাওন ভাইয়া তোমার ভিডিওতে লাইক দিয়েছে এমনকি তোমার স্টোরিও দেখেছে।
ইলা চমকে গেল নিজের ভেতরে লুকানো খুশিটা হঠাৎ যেন অন্য কারও মুখ থেকে শুনল ইলা রিপ্লাই দিলো
ইলাঃ- আমি সত্যি নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে করতেছি।
কিছুক্ষণ পর ইলার ইনবক্সে একটা মেসেজ এলো।

মেয়ের মেসেজঃ-
হেই আমি তোমার কমেন্ট দেখি শাওন ভাইয়া আইডিতে তোমার কমেন্ট গুলো ইউনিক হয়। আর আজ তোমার স্টোরি দেখলাম বিশ্বাস করো তুমি খুব লাকি। আমি তো এতদিন ধরে ভাইয়ার ভিডিও দেখি কমেন্ট করি কিন্তু উনি কোনোদিন আমার কিছু দেখেননি।
ইলা অবাক হয়ে গেল মনে হলো কেউ তার মনের খুশি ভাগ করে নিচ্ছে সে রিপ্লাই দিল
ইলাঃ- আমিও অবাক হয়ে গেছি প্রথমে ভাবছিলাম হয়তো ভুল দেখছি কিন্তু না উনি সত্যিই আমার ভিডিও দেখেছে দেখেছে।
কথা বলতে বলতে মেয়েটার নাম জানা গেল মায়া রহমান। রাজশাহীতে বাড়ি ক্লাস ৯ এ পড়ে শাওনের কণ্ঠের ভক্ত অনেকদিন ধরে। কথা বলতে বলতে ইলা আর মায়ার মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি হলো তারা শুধু শাওনকে নিয়ে নয়, নিজেদের পড়াশোনা, শখ, গান সবকিছু নিয়ে আড্ডা দিতে শুরু করল। রাতের শেষে ইলা জানাল
ইলাঃ- তুমি না থাকলে আমার এই খুশি কাউকে শেয়ার করতে পারতাম না মায়া মনে হচ্ছিল বুক ফেটে যাবে খুশির ঠেলায়।

মায়াঃ- তুমি শুধু ভাগ্যবতী না মনে হচ্ছে তোমার জীবনে কিছু স্পেশাল হতে চলেছে।
ইলা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। মায়ার কথায় যেন বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত আলোড়ন উঠল।
পরের দিন সকাল ক্যান্টনমেন্টের ঘন সবুজ মাঠের মাঝখান দিয়ে হাঁটছে শাওন ডিউটি শেষে ফোনটা হাতে তুলে নিল।আকাশটা নীলচে দূরে মেঘের ফাঁক গলে রোদ ঝরে পড়ছে।
সে একটা ভিডিও বানাল পাশে ফুটে থাকা গাঁদা ফুলের সারির উপর ক্যামেরা ফোকাস করল আর ব্যাকগ্রাউন্ডে গলায় হালকা কণ্ঠে বলল
শাওনের ভয়েজঃ
কিছু অনুভূতি আছে যেগুলো না চাইলে ও অচেনা কারও কাছে পৌঁছে যায়। হয়তো সে বুঝতেও পারে না এই লাইন গুলো আসলে তার জন্যই।
ভিডিও আপলোড হতেই ঝড়ের মতো কমেন্ট আসতে লাগল।কিছুক্ষণ পর মায়া এসে কমেন্ট করল ইলাকে মেনশন দিয়ে
এটা মনে হয় তোমাকেই উদ্দেশ্য করে লিখেছে।
ইলার বুক ধক করে উঠল মুহূর্তেই শত শত চোখ যেন তার দিকে ঘুরে গেল হাত কাঁপতে কাঁপতে সে রিপ্লাই দিল
ইলাঃ- আরে না আমার জন্য কেন লিখবে উনি?উনি তো আমাকে চেনেনই না…!!!
কিন্তু রিপ্লাই দিয়েই মনে হলো নিজের কথা নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না। তারপর কমেন্ট বক্স বন্ধ করে ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে দিল। অন্যদিকে শাওন তার ভিডিওর নোটিফিকেশন স্ক্রল করতে গিয়ে হালকা হাসল। চোখে পড়ল সেই পরিচিত নাম ইলা তালুকদার। চোখে এক ঝিলিক খেলে গেল তবে কিছু লিখল না। শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো

শাওনঃ- তুমি কি জানো তুমি যতটা ভাবছো তার থেকেও বেশি……..!!!
শাওন অন্য কেউ দেখার আগে মায়ার আর ইলার সেই কমেন্ট ডিলিট করে দিলো,তারপরে বাকি কমেন্ট গুলো পড়া শুরু করলো,
কেউ লিখছেঃ
ভাইয়া আপনার ভয়েজে এত শান্তি কেন?
কেউ লিখছেঃ
আপনি তো আমাদের একেবারে স্বপ্নের মানুষ।
আবার কেউ কেউ হালকা রসিকতা করছেঃ
একবার হলেও ফেস রিভিল দেন ভাইয়া প্লিজ।
সব কমেন্ট স্ক্রল করতে করতে শাওনের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি। হঠাৎ ইলার নামটা আবার চোখে পড়ল
ইলার কমেন্টঃ
ভুল করেও ফেস রিভিল করবেন না, নাহলে খবর আছে।
কিছুক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল তারপর মুচকি হেসে ফোনটা রেখে দিল।
রাত নামল অফিসার ক্যান্টিনের রুমে নিঃশব্দে বসে শাওন আবার ফোন তুলে নিল।হেডফোন কানে দিয়ে একটা ভিডিও বানাতে শুরু করল। অন্ধকার ঘরে তার কণ্ঠ ভেসে উঠল

শাওনের ভয়েজঃ-
আসালামু আলাইকুম সবাইকে, কেমন আছে সবাই? অনেকেই প্রশ্ন করে আমি কার জন্য এই ভিডিওগুলো করি? আসলে উত্তরটা সহজ নয় কারণ আমার হেটে হেটে কথা বলতে ভালো লাগে, আপনাদের সাথে আমার সুন্দর মূহুর্ত গুলো শেয়ার করতে ভালো লাগে তাই আমি ভিডিও বানাই অন্য কোনো কারণ নেই। তবে একটা কথা সত্য আপনাদের প্রতিটা কমেন্ট আমি দেখি অনুভব করি। কিন্তু উত্তর না দিলেও বিশ্বাস করেন সেই কথাগুলো আমি রেখে দেই নিজের ভেতরে। আপনাদের কমেন্ট পড়ে আমার অনেক ভালোলাগে।
শেষে শুধু একটা হাসি দিয়ে ক্যামেরা বন্ধ করে দিল, তারপরে ভিডিওর ক্যাপশন দিলো, “সব উত্তর শব্দে হয় না।” ভিডিও আপলোড হতেই ফ্যানদের উল্লাস

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১

“ভাইয়া আমাদের কমেন্ট পড়েন মানে”
“আপনার এই ভিডিও দেখে কেঁদে ফেললাম”
“উত্তর না দিলেও এই ভিডিওটাই যথেষ্ট”
ইলাও ভিডিওটা দেখে এক মুহূর্ত চুপ করে রইল তার মনে হলো শাওন যেন সরাসরি তার জন্যই বলল, কিন্তু আবার সবার জন্য বলেছে এমন ভান করছে। সে ধীরে ধীরে একটা রিপ্লাই লিখল,
ইলাঃ- আমরা যদি আপনার শব্দে নিজেদের খুঁজে পাই তবে হয়তো সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩