আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫২
কায়নাত খান কবিতা
__কিং?’’
অরিন সুন্দর মতো উঠে দাড়ায়। কী বলবে কিছু বুঝতে পারে না। পরক্ষণেই কিংশুক তাকে পাত্তা না দিয়ে লাড়াকে নিয়ে তারই চোখের সামনে দিয়ে, আরেকটা গাড়িতে গিয়ে বসে।কিংশুকের কোনো রিয়েকশন না দেখে বেশ তেলে বেগুনে জ্বলে যায় অরিনের। তবু ও কী করার আর? হয়তো কিংশুক সত্যি তাকে চায় না।
একটু পর গাড়ি বেরোতে থাকে গ্যারেজ থেকে। পিছনে দাঁড়ানো অরিনকে স্পষ্ট দেখা যায় মুখ ভার করে দাড়িয়ে থাকতে। কিংশুক তাকে এমন ভাবে ইগনর করে যেন সে কোনো জড়বস্তু। কিছুক্ষণ পর লাড়া একা ভিতরে আসে। অরিন সবে মাত্র বের হবে ঠিক তখনই লাড়া এসে হাজির হয়। তাচ্ছিল্যের সুরে অরিনকে উদ্দেশ্যে করে বলে, সো স্যাড অরিন। কিংশুক তোমাকে পাত্তাই দিলো না!”
লাড়ার এমন আচরণ দেখে খানিকটা কপাল কুঁচকে তাকায় অরিন। সকাল অব্দি তো এমন আচরণ করছিলো যেন ভাজা মাছটি ও উল্টে খেতে জানে না সে। অথচ এখন ডিগবাজির মতো তার পারসোনালিটি পাল্টে গেলো?অরিনের চুল ঠিক করতে করতে বলে, ‘’ ইউ নো ওয়াট অরিন! ছেলে মানুষ আসলে যা চায়, তা আমার মাঝে রয়েছে। তাই কিং ও নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। তুমি বরং আমাদের মাঝ থেকে সরে দাড়ায়।”
অরিন খুব শান্ত ভাবে লাড়ার দিকে তাকায়, মুখে হাসি টেনে এনে বলে, ‘’ পুরো শরীরে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে যদি স্বামী ছিনতাই করা যায়! তাহলে বলবো সার্জারীই ভালো। রাস্তার প্র** দের ও তো কামাই ভালো হয় বড়লোক ছেলেদের পটিয়ে।”
__ইউউউ ব্লাডি বি**”
লাড়া হাত উপরে তোলে….!
খান বাড়ির বিশাল সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত পায়ে উপরে উঠতে থাকে অরিন। তার চলার ভঙ্গিতে ছিল অস্থিরতা, যেন প্রতিটি পদক্ষেপে ভেঙে পড়ছে তার ভেতরের সাহস। ডান হাতটা শক্ত করে চেপে রেখেছে গালে। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আতিয়া বেগমের সাথে মুখোমুখি হয়ে যায় সে।
— “কী হয়েছে, আম্মা? এভাবে বেখেয়ালি করে কেন হাঁটছিস?”
অরিন চোখ নামিয়ে ফেলে। কণ্ঠটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলে,
— “কিছু না, মনি…”
কিন্তু মায়ের চোখ ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব। আতিয়া বেগমের দৃষ্টি গিয়ে থামে অরিনের গালে।যেখানে তার আঙুলের চাপে লুকিয়ে আছে ব্যথা।
— “গালে কী হয়েছে?”
এক মুহূর্ত থেমে থাকে অরিন। তারপর খুব নিচু স্বরে বলে,
— “চড়…”
— “চড় মানে?
— “ওই… লাড়া…”
শব্দগুলো যেন ভারী হয়ে ঝরে পড়ে।আতিয়া বেগমের চোখে এক ঝলক রাগ আর বিস্ময় খেলে যায়
— “কী করেছে লাড়া?”
কিন্তু অরিন আর দাঁড়ায় না
— “কিছু না… আমি আসছি।”
বলে দ্রুত পায়ে সরে যায় সে।নিজের রুমে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেয় অরিন।পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। বুকটা ধড়ফড় করছে তার। কিংশুক না জানি তার কী করবে। সে তো বলেছিলো লাড়ার থেকে দূরে থাকতে। কিংশুকের রাগ সে খুব ভালো করেই চেনে।এই ঘটনা জানলে,সে কী করবে?লাড়াকে শাস্তি দেবে?নাকি উল্টো তাকেই দায়ী করবে?এই অনিশ্চয়তাই তাকে কাঁপিয়ে তোলে।পুরো শরীরটা যেন ঠান্ডা হয়ে আসে।ঠিক তখনইদরজাটা আচমকা খুলে যায়।
ঝড়ের গতিতে রুমে প্রবেশ করে কিং।চোখে আগুন, মুখে তীব্র কঠোরতা। কোনো কথা না বলে সোজা এগিয়ে এসে অরিনের হাত চেপে ধরে।
— “চলো।”
কোনো প্রশ্ন নয়, কোনো সুযোগ নয়।অরিন ভয় পেয়ে যায়। তবু বাধা দেয় না।চুপচাপ তার সাথে নিচে নামতে থাকে।
খান বাড়ির বিশাল হলরুম—ঝাড়বাতির আলোয় উজ্জ্বল, অথচ সেই মুহূর্তে পরিবেশটা অদ্ভুত ভারী।
সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে লাড়া, আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।কিংশুক সোজা গিয়ে অরিনকে দাঁড় করায় লাড়ার সামনে।
তারপর হঠাৎই সে অরিনের হাতটা শক্ত করে ধরে, আর সেই হাত দিয়েই লাড়ার গালে একের পর এক চড় বসাতে থাকে।চড়ের শব্দে যেন পুরো ঘর কেঁপে ওঠে।
— “তোকে নাটক করতে বলেছিলাম… আর তুই ওর গালে চড় দিলি?”
কিংশুকের কণ্ঠে দমিয়ে রাখা ক্রোধ বিস্ফোরিত হয়।
অরিন হতভম্ব। সে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না।
তার নিজের হাত,কিংশুকের শক্ত মুঠোয় বন্দি।আর সেই হাত দিয়েই লাড়ার উপর নেমে আসছে শাস্তি।
লাড়ার শরীর দুলে ওঠে, মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
কিন্তু কিংশুক থামে না।
অরিনের হাত ব্যথায় অবশ হয়ে আসে। চোখে পানি জমে ওঠে,
— “কিং… স্টপ… আমার হাত ব্যথা করছে…”
— “করুক!ও তোর গায়ে হাত দিলো কীভাবে? how dare this bit*ch”
— “কিং…”
— “আমি ছাড়া তোকে ফুলের টোকাও লাগতে দেই না… আর ও চড় দিলো তোকে?”
— “কিং… ও দেয়নি…”
—
— “কিংহহহ!”
হঠাৎ করেই নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে কিংশুককে সরিয়ে দেয় অরিন।হাঁপাতে থাকে সে। তার হাতটা এখনও কাঁপছে।
লাড়া মাটিতে যায়।বর্তমানে তার অবস্থা বেশ সূচনীয়।
— “আমি চড় মেরেছি, কিং… ও মারেনি, উল্টো খেয়েছে চারটা!”
চোয়াল শক্ত করে অরিনের দিকে তাকায় কিং। ভয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে অরিন।সে তো এতোক্ষণ যাবৎ ভয় পাচ্ছিল, নিজে মেরেছে বলে। কিন্তু কিংশুক রেগে গেলো সে চ’ড় খেয়েছে বলে।
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫১
__কিং।”
__আই হেট ইউ অরিন।”
__তাহলে ও মারলেন কেন?”
__ ও তোকে মেরেছে তাই।”
__ এরপর ও বলবেন ইউ হেট মি?”
__ইয়েস, আই হেট ইউ। আমি এ জীবনে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবোনা এটা সত্যি। কিন্তু তোর সাথে সংসার ও নয়।”
