Home দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৭৪

দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৭৪

দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৭৪
রিক্তা ইসলাম মায়া

শেষ রাতের প্রহর। অর্ধ জ্ঞান অবস্থায় চোখ বন্ধ করে বিছানায় নেতিয়ে পরে আছে মায়া। নড়াচড়া বিহীন। রিদ ঝুঁকে মায়াকে বিছানার চাদরসহ মুড়িয়ে কোলে তুলে নেয়। রিদের কোলে নেওয়াতে ও যেন মায়া ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল। বন্ধ দু-চোখের পাতা টেনে রিদকে দেখতে চাইল মায়া কিন্তু নীল ব্যথায় কুঁকড়ে দেখা সম্ভব হলো না। রিদ মায়াকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমের শাওয়ারের নিচের নামিয়ে দিল। একহাতে মায়ার পিঠ আঁকড়ে ধরে উম্মুক্ত বুকে জড়িয়ে নিয়ে অন্যহাতে শাওয়ার ছেড়ে দিল। ঠান্ডা পানির স্পর্শ দেহে পরতেই যেন ব্যথায় জ্বলে উঠে মায়ার শরীর। জ্বালাময় শরীরে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে মায়া ডুকরে কেঁদে উঠে রিদের বুকের সাথে নেতিয়ে পরে। রিদ কিছু বলল না। বরং একহাতে মায়ার পিঠ জড়িয়ে রেখে অন্যহাতে দিয়ে মায়ার মাথা ধরে কপালে ভেজা ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। হাত বাড়িয়ে মায়ার খোঁপা করা চুল গুলো ছেড়ে দিতে চাইলে মায়া কান্না ভেজা গলায় গুমরে একটু করে নাহুচ করল…

—” উহুম!
রিদ মায়ার নাহুচ শুনলো না। বরং চুল ছেড়ে দিতে দিতে বলল…
—” চুল না ভেজালে ফরজ গোসল হয়না। অপবিত্রতা থেকে যায়।
মায়া চুপ থাকল। কিছু বলল না। রিদ মায়াকে যত্ন সহকারে গোসল করিয়ে বাথটব পড়িয়ে রুমে নিয়ে আসে কোলে করে। তার গাও পুরো ভেজা। প্যান্ট থেকে ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে পানি ফ্লোর ভেজে যাচ্ছে। রিদ সেদিকে মনোযোগ হলো না। বরং মায়াকে সোফায় বসিয়ে সে গেল গোসল করতে নিজের কাপড় নিয়ে। তবে যাওয়া আগে বিছানার ব্ল্যাঙ্কেটটি নিয়ে মায়ার গায়ে মুড়িয়ে বসিয়ে দিয়ে গেল। অল্প সময় নিয়ে রিদও দ্রুত গোসল সেরে বের হলো। মাথা মুছতে মুছতে সোজা কর্বাড থেকে নতুন বিছানার চাদর নিয়ে বেডে বিছিয়ে দিল। পুনরায় কর্বাডের দরজা খুলে মায়ার কাপড় খুঁজল কিন্তু শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পেল না।
রিদের মেয়েলি কাপড় সম্পর্কে ধারণা নেই। কখনো মেয়ে সঙ্গ নেইনি তাই জানা নেই। শুধু বউ বউ করে মেয়েদের সম্পর্কে অনেক কিছু অবগত হয়েছে রিদ। কিন্তু তাই বলে সে যে মেয়েদের শাড়ি পড়াতে পারে ভুলেও সেটা না। তার তো শাড়ি খুলার কাজ! তাহলে সে কি করে শাড়ি পড়াতে জানবে? রিদ মায়ার শাড়ির রেখে শটকার্ট নিজের একটা সাদা পাঞ্জাবি হাতে তুলে নিয়ে কর্বাডের দরজা বন্ধ করে ফের মায়ার কাছে গেল। মায়াকে সোফায় হেলিয়ে পরে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখে রিদ বুঝতে পারে সে কতটা ব্যথায় আছড়ে পরে আছে। রিদ মায়াকে নরম হাতে টেনে সোফায় বসিয়ে গায়ের ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে পাঞ্জাবিটা পড়িয়ে দিতে দিতে বাথটবটা নেয়। রিদের পাঞ্জাবি মায়ার গা মুড়িয়ে পায়ের পাতা ঢেকে ফ্লোর পযন্ত ঠেকলো অর্ধ হাত। রিদ পুনরায় মায়াকে কোলে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে মাথার টাওয়াল খুলে নিয়ে ভেজা মাথা মুছে দিতে লাগে। মায়া নিরব ভূমিকা পালন করে। রিদ রয়েসয়ে সময় নিয়ে মায়ার চুলের মুছে দিয়ে, খাটের পাশে ছোট টেবিলের ড্রয়ার থেকে খুঁজ করে ফাস্টের বক্স থেকে পেইন কিলার্স নিয়ে মায়াকে খাওয়াল।
সুন্দর করে মায়াকে বিছানায় শুইয়ে গায়ে ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে দিয়ে রুমের লাইট নিভিয়ে সেও এসে মায়ার পাশে শুলো। মায়ার ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে ঢুকে আলতো হাতে মায়াকে টেনে নিজের বুকে নিয়ে ফের মায়ার কপালে চুমু খেল। আস্তে করে বলল…

—” বেশি ব্যথা পেয়েছ?
—” হুমমম।
—” খুব বেশি?
—” হুমমম।
—” আচ্ছা ঘুমাও! সকালে সব ঠিক হয়ে যাবে।
রিদ মায়াকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। আরাম পেয়ে মায়াও বিড়াল ছানার মতো রিদের বুকে ল্যাপ্টে পরে রইল। একটা সময় দুজনই ঘুমিয়ে পড়ল।

সকাল এগারোটা। শীতের দিন। বাহিরে কর্ড়া রোদ থাকলেও গরম নেই। আবহাওয়া নরম। মায়া রিদের বাহুতে মাথা রেখে কাত হয়ে শুয়ে আছে। তবে চোখ খুলা। নড়াচড়া নেই। মাথা পযন্ত ব্ল্যাঙ্কেট টেনে ঘন ঘন আঁখি পলব নাড়িয়ে অনবরত বিছানার চাদর খুটাচ্ছে সে। মূলত মায়া পেটের খিদায় জেগে আছে বিগত দুই ঘন্টা ধরে। ঘুম নেই দু-চোখে পাতায়। কিন্তু রিদকে ডাকতে পারছে না লজ্জায়। তাই ঘুমের ভান ধরে চুপচাপ শুয়ে আছে শক্ত হয়ে। রিদ মায়ার পিছনে থেকে পেট জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ গুঁজে শুয়ে আছে। রিদের প্রতিটা ঘন গরম নিশ্বাস ব্যক্ত করছে রিদ কতটা গভীর ঘুমে আছড়ে আছে। মায়ার পিঠ রিদের খোলা বুকের সাথে ঠেকানো। সময়টা এইভাবেই আরও কিছুক্ষণ কাটল। মায়ার অবস্থাও একি। তবে রিদের ঘুমের রেশ ধীরে ধীরে কেটে উঠে মায়ার পেটের ভিতর গুমগুম শব্দে কারণে। রিদ তখনো পুরোপুরি ঘুমের রেশ কাটাতে পারি। দু-চোখের পাতা বন্ধ রাখা অবস্থায় নাক ঘষলো মায়ার চুলে ভেজা ঘাড়ে। ঘুম জড়ানো কন্ঠে আস্তে করে বলল…

—” কখন উঠেছ?
মায়া শব্দ বিহীন ঠায় পরে রইল। রিদের উষ্ণ ছুঁয়া, রিদের নেশাক্ত কন্ঠ সবকিছুই মায়ার শরীর যেন মূহুর্তেই কম্পন সৃষ্টি করে। রিদ মায়ার কম্পিত শরীরটার সাথে আরও চেপে গেল। মায়ার পেটের উপর জড়িয়ে রাখা হাতটা হাতড়ে মায়ার পেট চেপে চেপে চেক করে বুঝতে পারলো আসলে শব্দটা মায়ার পেট ডাকার শব্দ। রিদ নিজের মুখটা মায়ার ঘাড়ে আরও চেপে ধরে আগের নেয় বলল…
—” খিদা পেয়েছে তো আমাকে ডাকলে না কেন?
মায়া নিরুত্তর হয়ে ঠায় পরে রইলো চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে। এতোটা শক্ত যে সামান্য হাতটা পযন্ত নাড়াচ্ছে না গাঢ় লজ্জায়। রিদ মায়ার শব্দ না পেয়ে ফের বলে…
—” ফোনটা দাও খাবার অর্ডার করি।
মায়া তাও নড়লো না। ঠায় আগের নেয় শক্ত হয়ে পরে রইলো। রিদ মায়ার সাড়াশব্দ না পেয়ে মাথা উঁচিয়ে তাকায়। আশ্চর্য বউটা জাগ্রত থেকে কেন কথা বলছে না? রিদ ভ্রুর কুঁচকে মায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু না বলে নিজেই মায়ার উপর দিয়ে হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিয়ে উঠে বসল। হোটেলের ম্যানেজারকে বলে খাবার অর্ডার করে ফের মায়ার দিকে তাকাল। অদ্ভুত তো! খিদা পেয়েছে সেটা না বলে এমন শক্ত হয়ে পরে আছে কেন? কারণটা রিদ তখনো বুঝল না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ব্ল্যাঙ্কেটের উপর দিয়ে মায়ার বাহুতে হাত রেখে ডেকে বলল…

—” রিত উঠো! খাবার অর্ডার করেছি ফ্রেশ হয়ে আসো যাও।
মায়াকে তখনো উঠতে না দেখে কপাল কুঁচকে রিদ। কি সমস্যা? বউটা এমন করছে কেন? কি হয়েছে সেটাই তো বুঝতে পারছে না সে। রিদ সম্পূর্ণ বিষয়টি তখন বুঝতে পারে যখন মায়ার মাথার উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেটটি টেনে সরাতে চাইল কিন্তু পারলো না। মায়া জোর খাটিয়ে পরে থাকে তখন রিদ বুঝতে পারে আসলে তার বউ তাকে লজ্জা পাচ্ছে। সেজন্য এমন মটকা মেরে শক্ত হয়ে বিছানায় পরে আছে। রিদ দুষ্টু হেঁসে ফের মায়ার দিকে ঝুকে পড়লো। মায়ার কানে কানে ফিসফিস করে বলল…

—” তুমি কি লজ্জা পাচ্ছ রিত? লজ্জা কাহিনি কিন্তু রাতে শেষ। তবে আমি কিন্তু নিষ্পাপ, পুরো ভার্জিন। তাই আমাকে দোষারুপ করা যাবে না।
রিদের কথায় মায়া উত্তর করলো না। বরং নাকে মুখে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে শরীর ঢেকে আরও শক্ত হয়ে চেপে শুলো বিছানায়। লজ্জায় নাক মুখ গুঁজে গেল মায়ার। শরীর কাপছে অনবরত তারপরও রিদের কথার উত্তরে কিছুই বলার চেষ্টা করছে না সে। রিদ মায়ার সাথে ফের দুষ্টু করে দুই একবার ডেকে চলে গেল ওয়াশরুমে। আপাতত ফ্রেশ হওয়া দরকার। তারপর না-হয় বউয়ের লজ্জা ভাঙ্গানো যাবে। রিদ সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে মায়ার দিকে তাকাল। সেই আগের নেয় এখনো মটকা মেরে বিছানা পরে আছে মায়া। নড়ছে না পযন্ত। রিদ মায়াকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে কর্বাড থেকে নতুন পাঞ্জাবি নিয়ে পড়ে ফেলল চট করে। ডোরবেলের শব্দে রিদ কর্বাডের দরজা বন্ধ করে সেদিকে এগিয়ে যেতেই মায়া টুপ ব্ল্যাঙ্কেট ভিতর থেকে মাথা বের করে উকি মারল। রিদ দরজা খুলতেই সামনে পেল দুজন সার্ভেন্ডকে সাথে নিয়ে ম্যানেজার দাঁড়িয়ে আছে খাবার নিয়ে। রিদকে দেখে প্রথমে ম্যানেজারই বলে উঠে…

—” গুডমর্নিং স্যার! আপনার খাবার গুলো নিয়ে এসেছি।
রিদ কপাল কুঁচকে দু-ট্রে ভরতি খাবার গুলো দেখলো। কিন্তু একটা চিন্তা করে গম্ভীর কণ্ঠে বলল…
—” প্রতিটা খাবার আইটেম একটা প্লেটে নিয়ে টেস্ট করুন কুইক।
রিদের কথায় কেউ বিচলিত হলো না। বরং স্বাভাবিক ভাবেই নিল। যেন এটি এর আগেও বহুবার ঘটেছে তাদের সাথে। ম্যানেজার মিষ্টি হেঁসে বলে…
—” জ্বিই স্যার! শিওর।
একে একে প্রতিটি খাবার প্লেটে অল্প অল্প নিয়ে টেস্ট করে রিদকে খেয়ে দেখাল ম্যানেজার সাহেব। রিদ সন্তোষ হয়ে গম্ভীর মুখে তাদের চলে যেতে বলে। সবাই চলে যেতেই রিদ খাবার ট্রে টেনে ধরতেই মায়া পুনরায় টুপ করে ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে ঢুকে গেল। মূলত মায়া খাবার কথা শুনেই মাথা বের করেছিল কিন্তু রিদকে এদিকে আসতে দেখে লজ্জা ফের গুঁজে যায় ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে। রিদ দরজা লাগিয়ে খাবার ট্রে চালিয়ে সোফার সামনে রেখে মায়ার দিকে এগিয়ে গেল ডাকতে। মায়ার গায়ের ব্ল্যাঙ্কেট উঠাতে চাইলে বুঝতে পারল মায়া সেটি শরীরে পেচিয়ে শুয়ে আছে। রিদ জোর খাঁটিয়ে টানতেই ব্ল্যাঙ্কেট-সহ মায়ার শরীর বেঁকে গেল তারপরও মায়ার শরীর থেকে সেটি আলাদা করা গেল না। রিদ ব্ল্যাঙ্কেট টেনে হতাশ গলায় বলে…

—” রাতের কাজ রাতে শেষ হয়ে গেছে রিত এখন কিসের লজ্জা? আমি কিছু করছি এখন? উঠো না রিত! খাবারটা খেয়ে আবার লজ্জা পেও কেমন। উঠো।
এবারও মায়ার নড়াচড়া বিহীনা মটকা মেরে পরে থাকায় দেখে রিদ মায়াকে ব্ল্যাঙ্কেটসহ মুড়িয়ে ঐ অবস্থায় কোলে তুলে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসল। মায়াকে কোলে বসিয়ে বামহাতে আকড়ে ধরে ডানহাতে প্লেটের খাবার তুলে নিল। মায়ার পছন্দের মাছ ভাত মাখিয়ে বলে…
—” আচ্ছা তুমি লজ্জা পাও আমি কিছু বলবো না। কিন্তু একটু করে মুখটা বের করো আমি খাবারটা খাইয়ে দেয় তোমায়। খাবার না খেলে ঠিকঠাক লজ্জা পাওয়া হবে না রিত। চলো খা করো।
রিদ ভাত মাখিয়ে মায়ার মুখের সামনে ধরতেই, মায়া রিদের কথা মতো একটু মুখটা বের করে টুপ করে খাবারটা মুখে তুলে নিয়ে পুনরায় ফেস ঢেকে নিল ব্ল্যাঙ্কেটে রিদকে নিজের মুখটা দেখাবে না বলে। কাল যাহ হলো তারপর কি মায়া আর জীবনে রিদকে মুখ দেখাতে পারবে? লজ্জায় মরে-টরে যাবে না সে। উফফ এতো লজ্জা মায়া জীবনেও এই মুখটা আর দেখাবার নয় মিস্টার ভিলেনকে। ইশশ! মায়ার কেঁপে উঠা রিদ বুঝতে পারলো। একহাতে মায়াকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে অপর হাতে ফের মায়ার মুখের সামনে ধরতেই মায়া পুনরায় একি কাজ করলো। রিদ প্রসন্ন হেঁসে দুষ্টু কন্ঠে বলল..

—” অল্পতেই এই অবস্থা তোমার রিত? সবে তো সংসার শুরু করেছি মাত্র। আর তো থামাথামি প্রশ্নই উঠে না। আমি যা মানুষ! রোজ তো কয়েক বার করে ধরবো তোমায় তখন কি এভাবে লজ্জা পেলে চলবে?
রিদের ঠোঁট কাটা কোথায় তীব্র হাড়ে গা কাপিয়ে কেঁপে উঠে মায়া রিদের বুকে হেলিয়ে পরে। রিদ হাসে তবে আর কিছু বলে না। বউ তার এমনিতেই লজ্জায় মুখ দেখাচ্ছে না। আরও বেশি কিছু বললে দেখা যাবে আর ভাতটাও খেল না। রিদ মায়াকে রয়েসয়ে পেট পুরিয়ে খাইয়ে দিয়ে পানি খাওয়াল। মায়া পানি খেয়ে ফের মুখ ঢেকে রিদ বুকে পরে রইলো। রিদ মায়াকে কোলে নিয়ে সে নিজেও খেয়ে নিল। হাতটা ধুয়ে টিস্যুতে মুছে মায়াকে সোফায় বসিয়ে বলে’ ড্রেস চেঞ্জ করে নিতে সে একটু বাহিরে যাবে জরুরি কাজে। কয়েক মিনিটের ভিতর ফিরে আসবে। মায়ার উত্তর না পেয়ে রিদ বাধ্য হয়ে মায়াকে সোফায় বসিয়ে বের হয় একটা কাজে।

বাহির থেকে দরজা বন্ধের শব্দ পেয়ে মায়া মাথা বের করে উঁকি দিল। রিদকে দেখতে না পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাসে গায়ে থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে নিজের দিকে তাকাল। শরীরে রিদের সাদা একটা পাঞ্জাবি দেখে মায়া রাতে কথা মনে করে লাজুক হেঁসে তৎক্ষনাৎ দু’হাতে মুখ ডেকে নেয়। ছিঃ কি লজ্জা? কি লজ্জা? মায়া লজ্জায় লাল হয়ে বেশ কিছুক্ষণ পর মুখ থেকে হাত সরিয়ে আষ্টশ হয়ে উঠে দাঁড়াতে চাইল। কিন্তু তীব্র তলপেটে টনটন ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে টুপ করে জায়গায় বসে পরে। কিছুটা সময় দাঁতে দাঁত চেপে বসে থেকে ফের উঠে দাঁড়াল। এতোটা সময় হাঁটেনি মায়া তাই ব্যথাটা বুঝেনি। কিন্তু এখন যেন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে। মায়া খুবই ছোট ছোট পা ফেলে কর্বাড পযন্ত গিয়ে সেখান থেকে শাড়ি আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ওয়াশরুমের ঢুকল। এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে রেডি হতে থাকল। রিদ গুটি কয়েক মিনিটের মধ্যে রুমে ফিরে আসল। দরজা বন্ধ করে পিছন ফিরে মায়াকে সোফায় দেখতে না পেয়ে হালকা কপাল কুঁচকায়। ওয়াশরুম থেকে পানি শব্দ কানে আসতেই রিদ বুঝতে পারলো মায়া ওয়াশরুমে আছে। রিদ স্বতস্ফুর্তার সঙ্গে বিছানা পাশে দাঁড়িয়ে হাতের ফোন ও পিল ঔষধের পাতাটা ছোট টেবিলের উপর রাখল। আজকে আর বাসায় ফিরবে না সে, আর না কাজে যাবে। একেবারে কাল ফিরবে। আপাতত আসিফকে বলা হয়েছে অফিসিয়াল দিকটা সামলাতে যতটা পারা যায়। ঝামেলা হলে রিদকে ডাকতে। আর বাড়ি যাবে না কারণ হলো বউয়ের সাথে একান্ত সময় কাটাতে চাই বলে।

বাড়ি গেলে দেখা যাবে তার পাগল বউ তাকে ভুলে যাবে অন্য মানুষদের পেয়ে। এজন্য মূলত সে আজ বাড়িই যাবে না। কাল ভোর সকালে যাবে কারণ কাল বউভাতে অনুষ্ঠান হবে তাই। রিদ বিছানায় আর্ধ শুয়া অবস্থায় বসে কপাল হাত ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে। তার ঘুমটা পূরণ হয়নি। বউটা বের হলে ফের ঘুমাবে দুজন। কারণ রাতে আবার তাদের দুজনকে জাগ্রত ও থাকতে হবে। এখন ঘুমটা কম হলে চলবে? রিদের বেশ অনেকটা সময় একা পার হলো। একটা সময় ওয়াশরুমের দরজা খট করে খুলার শব্দ পেয়ে রিদ কপাল থেকে হাত সরিয়ে চোখ তুলে তাকাল সেদিকে। মায়ার গায়ে ভাঙরি কার্লারের একটা পাতলা শাড়ি পড়া। রিদ কপাল কুঁচকায়। তার সুন্দরী বউ কি আরও সুন্দর হয়ে গেল নাকি? এতো ঝলঝল করছে কেন চেহেরা, শরীর, সবকিছু? রিদ ছুঁয়ে দিয়েছে বলে এজন্য? সাংঘাতিক ব্যাপার তো! বউ যদি এমন ঝলঝল করে তাহলে রিদের সারাদিন ছুঁয়ে দিতে মন চাইবে। আর সারাদিন ছুয়ে দিতে মন চাইলে তো রিদের কাজ-কর্ম সব আকাশে উঠবে। অফিসেও মন বসবে না। উফফ না এই বউটা নিয়ে সে আর পারছে না। সে যায়ই করে না কেন? সবকিছুতে রিদ নিজেই ফেঁসে যায় বউটাকে নিয়ে। এবার তো বউটাকে ছুঁয়ে দিয়েও ভুল হয়ে গেছে। এখন বউ ছাড়া তো তার একদিনও চলবে না। রোজ তার বউ চাই-ই চাই ফাইনাল। রিদ নড়েচড়ে বসে। মায়া রিদকে রুমে দেখে হকচকিয়ে যায়। লজ্জায় পালাতে না পেরে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে পরে নত মস্তিষ্কের নার্ভাসে হাত কচলাতে কচলাতে। মায়া চাইলেও দৌড়াতে পারছে না তলপেটের ব্যথায়। রিদ এক দৃষ্টিতে মায়াকে দেখতে দেখতে বিছানার পাশে বসে। মায়ার দিকে তাকিয়ে মিহি স্বরে ডেকে বলে…

—” আমার কাছে আসো।
রিদ কথায় মায়া নড়েচড়ে উল্টো বেঁকে দাঁড়ায়। রিদ মায়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বলে…
—‘ এদিকে আসো! এখন কিছু করবো না আমি। আসো!
মায়া চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয় লজ্জায়। ছিঃ কি কথা? এখন কিছু করবে না মানে আরও কিছু করার বাকি ছিল বুঝি? রিদ ফের ডাকে। মায়া এবার বাধ্য মেয়ের মতোন রিদকে দিকে আগায় ছোট ছোট পা ফেলে হেঁটে। রিদ মায়াকে ছোট ছোট পা ফেলে হাটতে দেখে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেসা করে…
—” হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে?
মায়া হাল্কা নড়েচড়ে দাঁড়ায়। ইতস্তত ভঙ্গিতে আষ্টশ হয়ে নত মস্তিষ্কের দাঁড়িয়ে একটু করে বলল…
—” হুমমম।
—” বেশি?
মায়া কথা বলে না। রিদ ফের জিজ্ঞেসা করে…
—” বেশি?
—” হুমম।

রিদ চুপ করে যায়। ইশারায় নিজের পাশে বসতে বলে মায়াকে। মায়া এগিয়ে এসে আস্তে করে বসতেই রিদ দুটো টেবলেট, দুটো ঔষুধের পাতা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মায়ার হাতে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। এগিয়ে সোফার টি-টেবিলে থেকে মায়ার জন্য পানির গ্লাসটা আনতে সামনের দিকে পা বাড়াতেই, মায়া ঔষধ গুলোর দিকে তাকাল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। একটা ঔষধ মায়া চিনে সেটা পেইন কিলার্স। রাতে একটা খেয়েছিল বলে মনে আছে। কিন্তু অন্যটা কি ঔষধ চিন্তে পারছে না বলেই মায়া ঔষধের পাতার দিকে তাকিয়ে নামটা দেখে নিল ‘পিল’। কিন্তু মায়া পিল ঔষধটা কিসের কাজ করে সেটাও জানে না। তাই সে দুটো ঔষধ হাতে নিয়ে বসে রইল। ততক্ষণে রিদ পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে মায়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল…

—” নাও! ঔষধ দুটো ঝটফট খেয়ে নাও।
মায়া হাসফাস করলো। ঔষধের পাতার দিকে আরও একবার আড়চোখে তাকিয়ে মিনমিন স্বরে বলল…
—” এই ঔষধ গুলা কিসের?
মায়ার কথায় রিদ সোজাসাপ্টা উত্তর করলো..
—” একটা তোমার ব্যথার জন্য পেইন কিলার্স। অন্যটা পিল। নাও খাও।
রিদ পানি এগিয়ে দিতে মায়া গ্লাটা হাতে নিল। ঔষধ গুলো মুখে না নিয়ে ফের বলল…
—” পিল কি? এটা কিসের ঔষধ?
মায়ার কথায় এবারও রিদ সোজাসাপ্টা উত্তর করলো মায়াকে..
—” এটা জম্ম নিরোধন ঔষধ। এটা খেলে তোমার বেবি হবে না। এবার খাও।

মায়ার বুক কেঁপে উঠে। না জেনেই সে এখন এই ঔষধটা যদি খেয়ে ফেলত তাহলে কি-হত? মায়ার পেটের বেবিটা মরে যেত না। এতো বড় পাপ কি মায়া জেনেশুনে কখনো করবে? অবশ্যই করবে না। রিদের বেবি চাই না। মায়া কখন বলল যে মায়ারও বেবি চাই না। অবশ্যই মায়ার বেবি চাই। একটা দুটো না গুনে গুনে পাঁচটা বেবি চাই মায়ার। সে যতক্ষণ না পাঁচ বেবি নিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত মায়া রিদের সাথে ছলনা করে যাবে বেবির বিষয় নিয়ে। এবার যতকিছু হোকনা কেন? মায়া স্বস্তির স্বাভাবিক চোখ তুলে রিদের দিকে তাকায় একবার। কোনো প্রকাশ রিয়েক্ট না করে চুপচাপ মুখে একটু করে পানি নিয়ে প্রথম পেইন কিলার্সটা খেল রিদের সামনে।

দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৭৩

দ্বিতীয় বার মুখে পানি নিয়ে পিল মুখে নিল ঠিকই কিন্তু গিলল না। গালের ভিতর জমিয়ে রাখল। শুধু রিদকে বুঝাল মায়া ঔষধটা খেয়েছে। রিদ সম্পূর্ণ বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে নিল মায়া ঔষধটা খেয়েছে ভেবে পানির গ্লাসটা নিয়ে সোফার দিকে এগিয়ে যেতেই, মায়া টুপ করে গালের ভিতর থেকে পিল টেবলেট-টা বের করে তৎক্ষনাৎ বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলল রিদের দেখার আগেই। বেবির বিষয়টা এতো সহজে মায়া মেনে নিবে না। ঝামেলা হলে হোক তারপরও বেবি নিবে। মিস্টার ভিলেনকে তো বাবা বানিয়ে ছাড়বে মায়া।

দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ পর্ব ৭৪ (২)