ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৬১
ছায়া
অন্ধকারে থাকা লোকটি আলোর নিচে এসে দাঁড়াল। ইলা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল। ইলা তাকে চিনে না কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে আর্মি পার্সোন। ইলা ভাঙা গোলায় বলল
ইলাঃ- কে….কে আপনি??
লোকটি ইলার কাছে এসে বুক টান করে বলল
“ভয় পাবেন না ম্যাম আমি গোয়েন্দা বিভাগের চৌকস অফিসার শাহারিয়ার কাবির।
ইলা এই নাম আগে কখনো শুনেনি আজ প্রথম শুনলো
ইলাঃ- কিন্তু আপনি আমাকে এখানে কেনো নিয়ে এসেছেন???
শাহারিয়ার নিশ্বাস ছেরে বলল
শাহারিয়ারঃ- আরিয়ান স্যার আমাকে আপনার নিরাপত্তার রেখেছে সিকরেট ভাবে। সে চেয়েছিলো আমি যেনো কখনো আপনার সামনে না আসি কিন্তু পরিস্থিতি আজ আমার বাধ্য করেছে ম্যাম তার জন্য সরি।
ইলা শাহারিয়ার এর কথা শুনে অবাক হয়ে যায়
ইলাঃ- আমার নিরাপত্তার জন্য কেনো আমার তো কোনো শত্রু নেই।
শাহারিয়ারঃ- আরিয়ান স্যার নকল শাওন এর সাথে ঝামেলার পর থেকে আমাকে রাখছিলো সব সময় আপনাকে প্রেটেক্ট করার জন্য।
ইলা শাহারিয়ার এর কথা শুনে চোখে পানি চলে আরিয়ান কতটা ইলাকে ভালোবাসতো সেটা আরিয়ান ছাড়া হয়তো কেউ জানে না।
শাহারিয়ারঃ- স্যার বলেছিলো শাহরিয়ার যদি আমার কিছু হয়, তবে ইলাকে প্রোটেক্ট করার দায়িত্ব তোমার। সেই তখন থেকে আমি আপনার ছায়া হয়ে আছি কিন্তু কখনো বুঝতে দেইনি।কিন্তু আজ যখন
আমি খবর পেয়েছিলাম আপনার মা-বাবা কী করতে যাচ্ছেন। তাই আমি বাধ্য হয়েছি আপনাকে সেখান থেকে তুলে আনতে।
আমার স্যার এর শেষ চিহ্ন আমি আমার শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হয়েও প্রোটেক্ট করার চেষ্টা করবো।
ইলা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল শাহারিয়ারের দিকে তাকিয়ে বলল,
ইলাঃ- আজ আরিয়ান বেচে থাকলে হয়তো অনেক খুশি হত আপনার জন্য।
শাহারিয়ারঃ- এই সব চিন্তা বাদ দিন ম্যাম আর এখন শোনেন আপনার মা-বাবা বা খান বাড়ির কেউ এখন আপনার হদিস পাবে না। অন্তত কয়েকদিন আপনাকে আমার হেফাজতে থাকতে হবে। আপনার শরীরের ওপর যে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল, তার অ্যান্টিডোট দেওয়া হয়েছে। আপনি এখন নিরাপদ।আপনাকে অন্তত বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত আমার সাথে থাকতে হবে। দয়া করে আমার সাথে কো-অপারেট করবেন প্লিজ
ইলা জানালার বাইরে তাকাল।অন্ধকার রাত দূরে ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে। সে মনে মনে বলল,
ইলাঃ- ‘ভয়েজ কিং’’ আপনি মরেও আমাকে আমার বাচ্চাকে মরতে দিলেন না। আপনি আপনার বন্ধুকে পাঠিয়েছেন আমাদের বাঁচাতে।
ঘরে ইলা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। গত কয়েক ঘণ্টার ঝড় যেন তাকে পাথরের মতো করে দিয়েছে। নিজের বাবা-মা যখন তার সন্তানের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন আরিয়ানের পাঠানো বন্ধু শাহারিয়ার তাকে উদ্ধার করেছে।
শাহারিয়ার ঘরে ঢুকে ইলার সামনে এসে বসল। তার হাতে একটি রূপালি রঙের পেনড্রাইভ। সে সেটা ইলার দিকে বাড়িয়ে ধরল।
শাহারিয়ারঃ- ম্যাম আরিয়ান স্যার বর্ডারে যাওয়ার ঠিক আগে আমাকে এটা দিয়ে বলেছিল
“শাহারিয়ার যদি আমি আর ফিরে না আসি, তবে ইলা যখন একা হয়ে পড়বে, তখন ওকে এটা দিবি।আর আজ সেই সময় এসেছে।
ইলা কাঁপাকাঁপা হাতে পেনড্রাইভটি নিল। তার মনে হচ্ছে এটা শুধু একটা যন্ত্র নয়, আরিয়ানের শেষ স্পর্শ। শাহারিয়ার একটা ল্যাপটপ দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল ইলাকে কিছুটা একান্তে সময় দেওয়ার জন্য। ইলা ল্যাপটপটি খুলে পেনড্রাইভটি কানেক্ট করল। স্ক্রিনে একটি ফোল্ডার ভেসে উঠল ‘আমার ইলাফুলের জন্য’
ফোল্ডারটি খুলতেই একটি ভিডিও ফাইল প্লে হলো। স্ক্রিনে আরিয়ান ইউনিফর্ম পরা, সেই তীক্ষ্ণ চোখ কিন্তু মুখে সেই মায়াবী হাসি। ইলা স্ক্রিনে হাত রাখল যেন আরিয়ানকে ছুঁতে চাইছে।
ভিডিওতে আরিয়ান: >
“ইলাফুল যদি তুমি এই ভিডিওটা দেখছো, তার মানে আমি এখন তোমার থেকে অনেক দূরে, হয়তো আকাশের কোনো তারা হয়ে তোমাকে দেখছি। আমি জানি আমার দেয়া কথা আমি রাখতে পারিনি সেটার জন্য আমাকে মাফ করে দিও। কেঁদো না লক্ষ্মীটি আমি জানতাম তুমি একা ভেঙে পড়বে আমাকে ছাড়া। তাই আজ এই ভিডিও টা তোমার জন্য রেকর্ড করে রাখছি। আমাদের সেই স্বপ্নের বাড়ির কথা মনে আছে? সিলেটের সেই নিরিবিলি জায়গাটা? যেটার দলিল তোমার কাছে আছে। হ্যাঁ সেটার কাজ আমি অনেক আগেই শুরু করে দিয়েছি আমি চেয়েছিলাম মালদ্বীপ থেকে ফিরে তোমাকে আরো একটা সারপ্রাইজ দিতে। কিন্তু সেটা হয়তো আমার স্বপ্ন থেকে গেলো। আর শুনো আমার সব সেভিংস, ইনস্যুরেন্স সব অর্থ তোমার আর আমাদের অনাগত সন্তানের নামে ফিক্সড করে রেখেছি। সেই কাগজ আমার অফিসের লকারে আছে।
ইলার চোখের পানি ল্যাপটপের কিবোর্ডে টপটপ করে পড়ছে। আরিয়ান ভিডিওতে আবার বলতে শুরু করল
> “ইলাফুল, আমি জানি তোমার বাবা-মা হয়তো তোমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন, আমি মারা গেলে কিন্তু আমি চাই তুমি শক্ত হও। তুমি আরিয়ানের স্ত্রী একজন বীর এর স্ত্রী। আমার অবর্তমানে তুমিই আমাদের এই ছোট প্রাণটাকে বড় করবে। ওই বাগানবাড়িতে আমাদের সব স্মৃতি থাকবে। টাকা বা আশ্রয়ের জন্য তোমাকে কারো সামনে হাত পাততে হবে না। তুমি সব সময় ভালো থাকো এটাই আমার শেষ চাওয়া। ভালো থেকো আমার ইলাফুল।
আরিয়ান ক্যামেরার ল্যান্স এ চুমু খেলো ইলার মনে হয়ে এটা তার কপালে এসে লাগলো ভিডিওটি শেষ হলো। ইলা স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তার ভয়েজ কিং তাকে শুধু ভালোবাসাই দেননি, তার পুরো জীবনের সুরক্ষাও নিশ্চিত করে গেছেন।
কিছুক্ষণ পর শাহারিয়ার ভেতরে এল। ইলা চোখ মুছে তার দিকে তাকাল।
ইলাঃ- শাহারিয়ার ভাই আমাকে এখনই সিলেটের ওই বাড়িতে যেতে হবে। আমি আর কারো আশ্রয়ে থাকতে চাই না।
শাহারিয়ারঃ- আমি জানি ম্যাম আরিয়ান স্যার আমাকে আগেই বলে রেখেছিল ওই বাড়ি বানানোর কথা। ওটা এখন সম্পূর্ণ তৈরি। কিন্তু আপনার নিরাপত্তার কথা ভেবে এখনই ওখানে যাওয়া ঠিক হবে কি? আপনার বাবা-মা আর খান বাড়ির লোকজন আপনাকে এখন পাগলের মত খুঁজছে।
ইলাঃ- আমি আর ভয় পাই না যারা আমার সন্তানকে শেষ করতে চেয়েছিল, তাদের থেকে আমি দূরে থাকতে চাই। আপনি আমাকে সাহায্য করুন।
শাহারিয়ার মাথা নাড়ল সে জানে আরিয়ানের মতো ইলাও অনেক জেদী।
ওদিকে মেহেরাব খান আর নাফিযা বেগম হাসপাতালে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কিন্তু কোনো কিছু খুজে পায় না। মেহেরাব খান এর ফোনে একটা আবার মেসেজ আসে সেটা দেখে মেহেরাব খান আদিব আর রায়েদ কে বলে যত তারাতাড়ি সম্ভব গাড়ি বের করতে।
আদিবঃ- ফুফু আব্বা কোথায় যাচ্ছি আমরা?
মেহেরাবঃ- ইলার খোজ পেয়েছি তারাতাড়ি চলো।
আদিব আর কথা না বাড়িয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো। রাশেদ তালুকদার এসে বলল
রাশেদঃ- বেহাই আমিও যাবো আপদের সাথে।
মেহেরাব খান কিছু না বলে এগিয়ে এসে বসার জায়গা করে দিলো।আদিব কিছুটা রাগ রাশেদ তালুকদার আর সাবিহা বেগম এর উপরে।
রাশেদঃ- যে এই পদক্ষেপ দিয়েছে সে ভালো করেনি কাজটা।
আদিবঃ- পদক্ষেপ নেওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনারা বাবা মা হয়ে যা করেছেন সেটা ক্ষমার যোগ্য নয়।
গাড়িটা দ্রুত ছুটছে রাতের অন্ধকার রাস্তা ধরে। আদিব স্টিয়ারিং-এ শক্ত করে ধরে আছে, চোখ সামনে। পেছনের সিটে মেহেরাব খান ফোনটা হাতে নিয়ে বারবার স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছেন। মেসেজটা এসেছে একটা অজানা নম্বর থেকে—
শুধু একটা লোকেশন:
“ইলা এখানে আছ্ব তাড়াতাড়ি আসুন।
মেহেরাব খানের মুখে একটা আশার আলো জ্বলে উঠেছে। তিনি রাশেদ তালুকদারকে বললেন,
মেহেরাবঃ- এই লোকেশনটা দেখেন বেহাই, এটা ঢাকার রোডের কাছাকাছি।
রাশেদঃ- বেহাই আমার মনে হয় এটা সত্যি হতে পারে।যাই হোক চলুন দেখি। আমার মেয়ে যদি সেখানে থাকে
আদিব মুখ না ফিরিয়ে বলল,
আদিবঃ- ফুফু আব্বা এই নম্বরটা কার? কেনো কেউ এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে মেসেজ পাঠাচ্ছে? আর সিসিটিভি-তে কিছু না পাওয়ার পর হঠাৎ এই মেসেজ?
মেহেরাব খান একটু থমকে গেলেন। তার মনের মধ্যে একটা সন্দেহের ছায়া পড়ল। কিন্তু ইলার কথা ভেবে তিনি সন্দেহকে দূরে সরিয়ে দিলেন।
মেহেরাবঃ- যাই হোক আমরা যাচ্ছি। যদি ইলা সেখানে থাকে, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
গাড়ি ঘণ্টাখানেক ছুটে একটা নির্জন এলাকায় পৌঁছাল।লোকেশন পিন অনুযায়ী এটা একটা পুরনো গুদামঘরের কাছে। চারপাশে অন্ধকার, দূরে দূরে কয়েকটা আলো জ্বলছে। গাড়ি থামতেই মেহেরাব খান দ্রুত নেমে পড়লেন। রাশেদ আর আদিবও নামল।
কিন্তু গুদামঘরের সামনে কেউ নেই। দরজা খোলা, ভেতরে অন্ধকার। মেহেরাব খান ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে ভেতরে ঢুকলেন।
মেহেরাবঃ- ইলা! ইলা আছো?
শুধু প্রতিধ্বনি ফিরে এল। কোনো সাড়া নেই। আদিব চারপাশে তাকাল। মেঝেতে কিছু পুরনো কাগজ, ভাঙা কাঠের বাক্স। কিন্তু ইলার কোনো চিহ্ন নেই।
আদিবঃ- ফুফু আব্বা… এখানে কেউ নেই
এটা ফাঁকা।
মেহেরাব খানের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি আবার ফোনটা দেখলেন। লোকেশন এখনো সেখানেই আছে। কিন্তু কোনো মানুষ নেই। হঠাৎ তার মনে পড়ল এই ধরনের লোকেশন শেয়ার করা যায় স্পুফিং অ্যাপ দিয়ে। কেউ ইচ্ছা করে আমাদের এখানে টেনে এনেছে।
রাশেদঃ- এটা… এটা একটা ফাঁদ! কেউ আমাদের ভুল পথ দেখিয়েছে!
আদিব রাগে ফেটে পড়ল,
আদিবঃ- আমি তো আগেই বলেছিলাম! এই মেসেজ কার? কেনো এমন করছে? যে ইলাকে নিয়ে গেছে, সে চায় না আমরা তাকে খুঁজে পাই। আর এই লোকেশন… এটা ফেক! পুরোটাই ফেক!
রাশেদ তালুকদার মাটিতে বসে পড়লেন। তার চোখে পানি চলে এসেছে।
রাশেদঃ- আমার মেয়ে আমার নাতি-নাতনি… কোথায় গেল? আমরা যা করেছি,তার শাস্তি কি এটাই?
রাশেদ তালুকদার এর মনে হচ্ছে তার সিদ্ধান্তের জন্যই আজ এই অবস্থা।
আদিব ফোন বের করে বলল,
আদিবঃ- আমি পুলিশকে জানাচ্ছি। এই নম্বর ট্র্যাক করতে হবে।আর যে এই মেসেজ পাঠিয়েছে… তাকে খুঁজে বের করতেই হবে।
ওদিকে,
দূরের একটা নিরাপদ বাড়িতে ইলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। শাহারিয়ার তার পাশে এসে বলল,
শাহারিয়ারঃ- ম্যাম, আমি একটা ফেক লোকেশন পাঠিয়েছি তাদের কাছে। তারা এখন ঢাকার দিকে ছুটছে।
ইলা চুপ করে তাকাল তার চোখে কোনো রাগ নেই, শুধু একটা গভীর কষ্ট।
ইলাঃ- শাহারিয়ার ভাই আমি চাই না তারা আমাকে আর খুঁযে পাক। আমি শুধু আমার বাচ্চাটাকে নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই।আরিয়ান যা রেখে গেছে, সেটাই আমার সব।
শাহারিয়ার মাথা নাড়ল।
শাহারিয়ারঃ- আমি আপনার সাথে আছি, ম্যাম।
রাত গভীর হচ্ছে একদিকে ইলা তার নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে আরিয়ানের স্মৃতি নিয়ে, অন্যদিকে মেহেরাব খানরা ফাঁকা গুদামঘরে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারছে না কি করবে।
দূরে কোনো কুকুরের ডাক আর বাতাসে পাতার খসখস শব্দ। মেহেরাব খানের গাড়িটা ফাঁকা গুদামঘরের সামনে থেমে আছে। তিনি সামনের সিটে হেলান দিয়ে বসে আছেন, চোখ বন্ধ, কিন্তু ঘুম আসছে না। পাশে আদিব ফোনটা হাতে নিয়ে বারবার রিফ্রেশ করছে, যেন কোনো নতুন মেসেজ আসবে। রাশেদ তালুকদার পেছনের সিটে চুপচাপ, মাথা নিচু করে।হঠাৎ মেহেরাব খানের ফোনটা ভাইব্রেট করল।একটা নতুন মেসেজ।
অজানা নম্বর।মেসেজটা খুলতেই তার হাত কেঁপে উঠল।
মেসেজঃ
“বেশি চালাকি করবেন না মেহেরাব খান
আজকের এই ফেক লোকেশনটা শুধু একটা সতর্কবার্তা।
ইলা সুস্থ আছে ভালো আছে। তার বাচ্চাটাও নিরাপদ। সঠিক সময়ে যখন সে নিজে চাইবে, তখনই সে আপনাদের কাছে ফিরে যাবে।
ততক্ষণ পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি বন্ধ করুন।
আর যদি পুলিশে খবর দেন বা আরও চালাকি করেন তাহলে পরিণাম খুব খারাপ হতে পারে।
ইলার জন্য ভালো চান তো চুপ করে থাকুন।”
মেহেরাব খানের মুখ ফেকাসে হয়ে গেল। ফোনটা হাত থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। আদিব ঝুঁকে দেখল,
আদিবঃ- কী হয়েছে ফুফু আব্বা?
মেহেরাব খান কাঁপা গলায় বললেন,
মেহেরাবঃ- পড়… পড়ে দেখ।
আদিব মেসেজটা পড়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল।।
আদিবঃ- এটা কে পাঠিয়েছে?যে ইলাকে নিয়ে গেছে সে-ই তো? আর এই হুমকি…
রাশেদ তালুকদারও মেসেজটা দেখে নিঃশব্দে মাথা নাড়ল তার গলা শুকিয়ে গেছে।
রাশেদঃ- আমরা হয়তো সত্যিই অনেক দূর চলে গেছি। ইলা যদি নিজে না চায় তাহলে আমরা কী করব?আমি জানি আমার মেয়ে অনেক অভিমানি।
মেহেরাব খান চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
মেহেরাবঃ- আমি আমার ছেলের বউকে হারাতে চাই না। কিন্তু এই মেসেজ এটা স্পষ্ট বলছে ইলা নিরাপদ। আর আমরা যদি আরও চাপ দিই হয়তো সে আর কখনো ফিরবে না।
আদিব রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
আদিবঃ- কিন্তু আমরা কি চুপ করে থাকব? কেউ আমাদের মেয়েকে লুকিয়ে রেখেছে, হুমকি দিচ্ছে… আর আমরা কিছু করব না?
মেহেরাব খান ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন।
মেহেরাবঃ- না আদিব আজ রাতে আমরা বাড়ি ফিরব। পুলিশকে জানাবো না কালকে দেখি ইলার রাগ কমে কি না। আমি চাই না আমার নাতি-নাতনির কোনো ক্ষতি হক। ইলা যদি সত্যিই সুস্থ থাকে আর যদি সে ফিরতে চায় তাহলে আমরা অপেক্ষা করব তার ফিরার।
গাড়ির ভেতর নীরবতা নেমে এল। শুধু ইঞ্জিনের হালকা গুঞ্জন।
এদিকে,
দূরের সেই নিরিবিলি বাড়িতে শাহারিয়ার ফোনটা টেবিলে রেখে ইলার দিকে তাকাল। ইলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রাতের আকাশ দেখছে তার হাতে আরিয়ানের সেই পেনড্রাইভটা এখনো ধরা।
শাহারিয়ারঃ- ম্যাম মেসেজটা পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা এখন বুঝবে যে আপনি নিরাপদ। আর আপনি যদি আপনি চান তখন আমি নিজে তাদের কাছে পৌঁছে দেব।
ইলা ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল তার চোখে পানি, কিন্তু মুখে একটা শান্ত ভাব।
ইলাঃ- না শাহারিয়ার ভাই আমি এখনো প্রস্তুত নই। আমার বাচ্চাটা যতদিন না একটু বড় হয় আমি কাউকে মুখ দেখাতে চাই না। আর আমার বাবা-মা তারা যেন বুঝতে পারে, যা করেছেন তার দাম কতটা। বাবা মার থেকে সন্তান দূর করার কষ্ট।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৬০
শাহারিয়ার মাথা নাড়ল।
শাহারিয়ারঃ- যেমন আপনি বলবেন ম্যাম। আমি আপনার ছায়া হয়ে থাকব।
ইলা আবার জানালার দিকে তাকাল। রাতের আকাশে একটা তারা ঝলমল করছে। সে মনে মনে বলল,
ইলাঃ- ভয়েজ কিং আপনি দেখছেন তো? আমি আর আমাদের বাচ্চা আপনার দেওয়া সুরক্ষায় আছি।
