Home শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৯

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৯

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৯
নূরজাহান আক্তার আলো

_’এই পাগল কাঁদছ কেন, হুম? খবরদার! একটুও কষ্ট পাবে না। একদম কাঁদবে না বলছি। আমি আমার ‘বিশুদ্ধ পুরুষ’কে ভেঙে পড়তে দেখতে অভ্যস্ত নই! আমি সব সইয়ে নেব, সব সাজা হাসিমুখে মেনে নেব, তুমি শুধু ছায়াসঙ্গী হয়ে আমার সঙ্গে থেকো।’
মনে মনে একথা বলে নত মস্তকে দাঁড়িয়ে রইল শীতল। চোখের পানিতে ঝাপসা হলো এলো চারপাশ। দৃষ্টি তুলে কারো দিকে তাকাতে পারল না।
কেন জানি সাহসই হলো না। তবুও বুঝতে বাকি রইল না তার প্রিয়জনরা তার দিকেই তাকিয়ে আছেন। বুকে পাথর তুলে নীরবে অঝরে কাঁদছেন। হয়তো উনারা শেষ পর্যন্ত আশা রেখেছিলেন জামিন হবে, হলো না। বরং তার বাড়ি ফেরার যাত্রা দীর্ঘ হলো। অপেক্ষার পাল্লা আরো ভারী হলো। যদিও নিজের জন্য কষ্ট না হলেও প্রিয় মুখগুলোর দিকে তাকাতে পারল না। উনাদের করুন দৃষ্টি সহ্য হলো না। উনাদের এভাবে ভেঙে পড়ার দৃশ্য তার ভেতরটাকে নাড়িয়ে দিলো। পুরনো ক্ষততে আবারও রক্তাক্ত হলো।

এদিকে বিচারক যাওয়ার পর আদালতকক্ষে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কত রকমের কথা হচ্ছে। কেউ কেউ এ রায়ে খুশি কেউ বা বেজার। কেউ বা শুনিয়ে বলছেন বিচারককে টাকা খাইয়ে সাজা কম করানো হয়েছে। বড়লোককে বিচার হয় না, টাকার কাছে তাদের মস্ত অপরাধও মওকুফ। একথা শোনামাত্রই রুবাব রেগে কিছু গেলে সাফওয়ান চৌধুরী থামিয়ে দিলেন। বুঝিয়ে শুনিয়ে ছেলেটাকে শান্ত করালেন। এখানে ঝামেলা করা
ঠিক হবে না। তাছাড়া বললেই তো আর হয়ে গেল না। যদি সত্যিই হতো, তাহলে আজ টাকার বিনিময়ে জামিন কিনে মেয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন।
কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে টাকা কাজে আসে না, ক্ষমতাও কাজে লাগে না।
তখন কয়েকজন পুলিশ শীতলের দিকে এগিয়ে এলেন। কাঠগড়া থেকে নামার নির্দেশ দিলে নেমে দাঁড়াল শীতল। রায় অনুযায়ী তাকে এক বছর উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকতে হবে। এখন সেখানেই যেতে হবে। সে ঘাড় ঘুরিয়ে প্রিয় মুখগুলো দেখে নিলো। তারপর নজর ফিরিয়ে পুলিশকে বিনয়ী সুরে বলল,

_’বলছিলাম যে, আমার বাড়ির লোকদের সঙ্গে একটু কথা বলা যাবে? কথা দিচ্ছি, বেশি সময় নেব না মাত্র দুই মিনিট।’
_’না, না, আলাদা করে কথা বলা যাবে না।’
-‘আলাদা না, আপনাদের সামনেই কথা বলব। আসলে আমার বাড়ির লোকরা খুব কষ্ট পাচ্ছে। একটু কথা বলে আসি? বেশি না মাত্র দু মিনিট, প্লিজ!
একথা শুনে উনারা নিজেরা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলেন। কেন জানি ভীষণ মায়া হলো অল্প বয়সীর মেয়েটাকে দেখে। এই কয়েকদিনে কাছে থেকে দেখেছে মেয়েটাকে। প্রথমে বাবা মারা গেল তারপর পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে হলো, আজ জামিনটাও হলো না, সব মিলিয়ে খারাপ লাগল। তবে উনারাও আইনের কাছে বাঁধা। উনাদের হাতেও কিছু করার নেই। তবে এখনো যেহেতু আলাদত কক্ষে আছে তাই বিবেচনা করে বললেন,
_’ঠিক আছে দ্রুত কথা সারুন। আমরা এখানেই আছি।’
_’জ্বি, ধন্যবাদ।’

একথা বলে দ্রুত পা বাড়াল সে। হাতে হ্যান্ডকাফ নেই। মলিন মুখ। তবে ঠোঁটের কোণে একচিলতে মৃদু হাসি। তাকে আসতে দেখে সবাই তড়িৎ উঠে দাঁড়ালেন। অঝরে কাঁদতে লাগলেন। ঘিরে ধরে দাঁড়ালেন চৌধুরী নিবাসের ছোটো রাজকন্যাকে। যদিও এখনকার আর আগের শীতলের মাঝে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আগের শীতল সামান্য ব্যথায় সারা বাড়ি মাথায় তুলত আর এখনকার শীতল আদালতের রায় শুনেও ঠোঁটে হাসি এঁটে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। এটাই কী সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নয়? একের পর যা হচ্ছে এখনো মেয়েটা ধৈর্যহারা হয় নি। কাতর হয়ে নুইয়ে পড়েনি।
বরং নিজেকে শক্ত রাখতে যথাসম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কি নিদারুণ তার অভিনয়! সবাইকে কাঁদতে দেখে সে মৃদুভাবে মাথা নাড়াল। অর্থাৎ কাঁদবে না কেউ। কেন কাঁদবে? কিছুদিনের জেল হয়েছে ফাঁসি তো আর হয় নি। তার কথা শুনে কেউ জবাব দিতে পারলেন না শুধু করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তখন শীতল সিমিনের দুই হাত আঁকড়ে ধরে হাঁটু গেঁড়ে বসল। আলতো হেসে মায়ের কোলে মাথা রাখল। আপনাআপনিই তার চোখজোড়া বুজে এলো। বোজা দুই চোখের কার্ণিশ বেয়ে ঝরঝর করে কয়েকফোঁটা জল ঝরে গেল। আগে মা বকলে মনে হতো মা ভালোবাসে না। মরে গেলেই ভালো হবে। বাড়ির সবাই খুশি হবে। আবদার অনুযায়ী কিছু না পেলে ইচ্ছে করতে যেদিন দুচোখ যায় চলে যেতে। যারা সামান্য আবদার মিটাতে পারে না তারা কেমন আপনজন? তার খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা, ঘুম নিয়ে কেউ কিছু বললেও রাগ হতো, খুব বিরক্ত লাগত। মনে হতো একা একা থাকা খুব শান্তির, কেউ বলার নেই, বকারও নেই। কিন্তু কেন্দ্রে থাকাকালীন প্রতিনিয়ত টের পেয়েছে মা কেমন, আপনজন কি! এখন কেন্দ্রে না খেলে কেউ বকে না, না ঘুমালেও কেউ ধমকায় না।

চুলে কতদিন হলো তেল দেওয়া হয় নি, কেউ জোর করে তেল দিয়ে চুল বেঁধে দেয় নি, ভাইদের সঙ্গে ঝগড়া করা হয় নি, কারণে-অকারণে তার প্রিয় মানুষটাকে রাগিয়ে দেওয়া হয় নি। আগে যদি ঘুনাক্ষরেও টের পেত তাকে পরিবার ছাড়া হতে হবে। তাহলে পূর্বের দিনগুলোর প্রতিটা মুহূর্ত খুব করে উপভোগ করত, কারো সঙ্গে কখনো মান-অভিমান করে সময় নষ্ট করত না। এইতো যেদিন প্রাণপ্রিয় বাবা মারা গেল সেদিন রাতে,তার পরদিন সকাল-দুপুরে গলা দিয়ে কিছু নামে নি। প্রতিনিয়ত মনে হচ্ছিল, তার কলিজাখানা ছিঁড়ে যাচ্ছে। সেও মারা যাবে। বাবাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। কিন্তু কই মরল না বরং মাঝরাতে খুব করে টের পেল ক্ষুধা কি! মস্তিষ্ক স্মরণ করে দিলো বাবার শোক মনে থাকলেও পেট খাবার চাচ্ছে, তাকে এক্ষুণি খাবার দাও। অতঃপর চোখের জল ঝরিয়ে পানি দিয়ে ভিজিয়ে কোনোমতে একখানা বিস্কুট গিলেছিল। এছাড়া কি আর করবে? কেন্দ্রে তো আর মা নেই যে মেয়েটা কিছু খায় নি ভেবে খাবার তুলে রাখবে। কিংবা প্রিয় পুরুষটাও তো নেই যে, মাঝরাতে তার ক্ষুধা লাগবে ভেবে শিয়রের পাশেই খাবার ঢেকে রাখবে। জীবন এত সোজা না। আর মনের রাগ-ঝাল সব আপনজনের ওপরেই দেখানো যায়। সেও আগে কত রাগ দেখিয়েছে, কারণে-অকারণে অভিমান করেছে। তবে এখন হারে হারে অনেককিছু টের পাচ্ছে। নিত্যদিন নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। মনে মনে এসব ভেবে চোখ বন্ধ করল। মায়ের কোলে এত শান্তি! এত আরাম! সে এক মায়ের কোলে মাথা রেখেছে অথচ সে নিজেও মা হতে পারত। তার কোলেও কেউ আসত। তারমতো ঠিক এভাবেই কোলে মাথা রাখত। কিন্তু সেই সৌভাগ্যটুকুও যে ভাগ্যে নেই। সন্তানের কথা মনে হতেই মায়ের হাত দুটো আরেকটু শক্ত করে ধরে চুপ করে রইল। তারপর সোজা হয়ে বসে মায়ের চোখের পানি মুছে দিলো। কিয়ৎকাল চুপ থেকে বলল,

_’তুমিই তো বলতে দিন নাকি পানির মতো। চোখের পলকেই দিন কেটে বছরে ঠেকে। দেখবে দেখতে দেখতে দিন পেরিয়ে গেছে। এমনই একটা দিন আসবে যেটা হবে আমার মুক্তির দিন। সেই মুক্তিই আমাকে তোমার কোলে ফেরাবে। আমি আবারও ঠিক আগের মতো দিন-রাত তোমাকে জ্বালাতে পারব। ইচ্ছে মতো তোমার কোলে ঘুমাতে পারব। আর একটু ধৈর্য ধরো। আমাদের সব খারাপ দিন একদিন শেষ হবে। আমরা আবার এক হবো। আমি ফিরব, সায়ন ভাইয়া ফিরবে, আপুর পুঁচকে বাবুসোনা আসবে। ভাবো তো,আগামীর দিনগুলোতো আমরা কত ভালো থাকব, কত সুখে থাকব? কেঁদো না আম্মু! উহুম, আবার কাঁদে! আমাকে যেতে হবে। একটু হাসো, হাসিমুখে আমাকে বিদায় দাও দেখি।’
আবার যেতে হবে শুনে সিমিন হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। শীতল যত্ন করে আবারও উনার চোখ মুছে দিয়ে ভাঙা ভাঙা স্বরে বলল,

-‘ আম্মু….ওহ আম্মা, একটু থামো না! তোমাকে কাঁদতে দেখে গেলে আমি একদন্ডও শান্তি পাব না। তোমার নামে বিচার দেওয়ার মানুষটি নেই দেখে খুব অবাধ্য হচ্ছে কিন্তু।’
সিমিন জবাব দিতে পারলেন না। শব্দ করে কেঁদে মেয়ের সারা মুখে চুমু দিয়ে বুকে চেপে ধরলেন। বাকিরাও মুখ লুকিয়ে যে যার মতো কাঁদতে লাগল। স্বর্ণ ছলছল চোখে মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে। তার হাত-পা থরথর করে কাঁপছে। সে জন্মের পর থেকে বোধহয় মা-বোনকে এতটা অসহায় রূপে দেখে নি। আজকাল নিজেকেও বড্ড বেশি অসহায় লাগে।
মা- বোনকে কাঁদতে দেখে না চাইতেও স্বর্ণও ডুকরে কেঁদে উঠল। কান্নার শব্দে শীতল মাকে ছেড়ে দ্রুত বোনের কাছে এলো। বোনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারপর হাঁটু গেঁড়ে বোনের হাতের উল্টো পিঠে চুমু এঁকে বলল,
_’কাঁদিস না আপু। দোহায় লাগে কাঁদিস না। তুই কাঁদলে সায়ন ভাইয়া রেগে যাবে। আমাকে খুব বকবে। জানিস তো তার ‘স্বর্ণকোমল’ একটু কাঁদলে কেমন পাগল হয়ে যায় সে।’
এইটুকু বলে থামল শীতল। তারপর নিচুস্বরে আবারও বলল,

-‘তোর চোখে-মুখে অপরাধবোধের ছাপ কেন? তুই কি নিজেকে দোষী ভাবছিস? এখানে তো তোর দোষ নেই। যা হয়েছে সেটা নিয়ে আফসোস করিস না। বরং যা হচ্ছে বা হয়েছে আমি মেনে নিয়েছি। পরিবার থেকে দূরে আছি এজন্য কষ্ট পাচ্ছি যদিও। এছাড়া কোনোকিছুতে আমার কষ্ট নেই, বিন্দুপরিমান আফসোস নেই। এমনকি আমি এখনো চাচ্ছি আমার জীবনে আরো দুঃখ এসে ভিড় করুক। আরো কঠিন সময় আসুক।আমি সব সয়ে নেব, ইন শা আল্লাহ! শুধু তার বিনিময়ে আমার ভাই-বোনরা সুখে থাকুক। অনেক ভালো থাকুক। দরকার হলে তাদের ভালোর জন্য আমি আবারও হাতে অস্ত্র তুলে নেব, আবারও খুন করব, আবারও খুনি তকমা গায়ে মাখব। তোর কি মনে হয় একটা খুনের দায়েই তোর বোন নেতিয়ে যাবে? ভেঙে পড়বে? উহুম, আমার পরিবার যতক্ষণ নিরাপদ আমি ততক্ষণই নীবর। নতুবা ঝড়ের মাঝে আমি আবারও ঝড় তুলব, মিলিয়ে নিস। আমার এই মনোবল কোথা থেকে পেয়েছি জানিস? তোর থেকে। অথচ তুই কী না এভাবে ভেঙে পড়ছিস? এটা কি হয়, বল? মানা যায়? যায় না, দোহায় লাগে আপু, নিজেকে সামলা। ‘

নিচুস্বরে বলা তার প্রতিটা কথা স্বর্ণ শুনল। বোনের আদুরে মুখটা তুলে কপালে সময় নিয়ে চুমু আঁকল। তখনই দুচোখ দিয়ে ঝরঝর করে অশ্রু ঝরে গেল। শীতল বোনকে কাঁদতে বারণ করে সাবধানে থাকতে বলে উঠে দাঁড়াতেই শারাফাত, সাফওয়ান, সিতারা, সিরাত একে একে বুকে জড়ালেন। শীতল সবার আদর পেয়ে তাকাল এখনো ওভাবে বসে থাকা শুদ্ধর পানে। যাওয়ার সময় একটু তাকাবে না? কথা বলবে না? এ লোক এমন কেন? তখন হঠাৎ তার চোখাচোখি হলো রুবাবের সাথে। শীতল তখন শুদ্ধর আরেকটু কাছে দাঁড়িয়ে রুবাবকে বলল,
-‘বুঝলে ভাইয়া, কিছু কিছু মানুষ বোধহয় টাকার শোক ভুলতে পারছে না। কিপ্টে, সারাজীবন কিপ্টামিই করে গেল। যাই হোক, তোমরা সবাই সাবধানে ফিরো। আর বড় মা, আগামী সপ্তাহে কেউ দেখা করতে এলে আচার পাঠিও। মেজো মা, বয়ামভর্তি করে শুকনো পিঠা দিবা। আগেই বলে দিচ্ছি, কম দিলে খাব না কিন্তু। আর আম্মু, সুন্দর করে নারকেলের নাড়ু বানাবে, ভুলেও বাদাম দিবা না কিসমিস বেশি দিবা। যা যা বললাম সব যেন পাই!’
একথা বলে আরেকবার শুদ্ধর দিকে তাকিয়ে পা বাড়াল দরজার দিকে।

শীতল আদালত কক্ষ ছেড়েছে বুঝে শুদ্ধ মুখ তুলে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল দরজার দিকে। দেখল দরজায় শীতল এখনো ছলছল চোখে ঠোঁটে হাসি এঁটে তাকিয়ে আছে। চোখাচোখি হলো দুজনের। নীরবে কত কথা হলো।
অতঃপর শীতল ছোট্ট করে, ‘আসছি’ বলে দাঁড়াল না চলে গেল। যেতে যেতেই বারবার চোখ মুছে আরেকবার তাকাল শুদ্ধর দিকে। আর শুদ্ধ এবারও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার চলে যাওয়া দেখল। বুকের ভাঙ্গন লুকিয়ে সবাইকে বাড়ি ফিরতে বলল। তার নাকি জরুরি কাজ আছে সেগুলো সেরে ফিরবে। রাতও হতে পারে। অগত্যা জামিন নিয়ে সবার মনে সূক্ষ্ণ একটি আশা থাকলেও শূন্য হাতে ফিরতে হলো। চৌধুরীদের একটি গাড়ি বাড়ির পথ ধরলে শুদ্ধ গেল পুলিশের গাড়ির পেছন পেছন। সে কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছে কেউ জানতেও পারল না। শীতলের এবারও অজানায় রয়ে গেল, তার বিশুদ্ধ পুরুষের ভালোবাসার মাত্রা কতখানি। সে তাকে ঠিক কতটা ভালোবাসতে জানে। আগলে রাখতে জানে। কতটা চোখে হারায়।

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৮

যানজট পেরিয়ে শুদ্ধ গাড়ি নিয়ে সেভাবেই এগোতে থাকল। যতক্ষণ না পুলিশের গাড়ি উন্নয়ন কেন্দ্রের গেটে ঢুকল ততক্ষণ চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়েই রইল। তারপর সিটে মাথা এলিয়ে হিসাব করল, ১ বছর ৩৬৫ দিন! ৩৬৫ দিনে হয় ১২ মাস। ১২ মাসে হয় ৮,৭৬০ ঘণ্টা ৩,১৫,৩৬,০০০ সেকেন্ড। দিন, মাস, ঘন্টা এবং সেকেন্ডের হিসাবে তার নিজেকে বড্ড অসহায় লাগল। এক হিসাব বারবার করল কিন্তু হিসাব তো কমলোই না বরং লিপ ইয়ারের জন্য একদিনের হিসাব বাড়ল!

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৯০

15 COMMENTS

  1. Golpo ta to anek Valo lage ,,apni sei Kobe porbo diyesilen,,eto late korben na please apu taratari dewr try korben please

  2. গল্প দিলেন এত দিন পরে তাও আবার এত ছোট্ট

  3. আপু পর্বগুলো আর একটু তাড়াতাড়ি দিলে ভালো হয়…

  4. Apu pls ektu taratari porbo deben karon eto late hole ager ghotona to bhule jai i sathe manush gulokeo bhule jai.. Somossa hoi mone kore kore porte karon aro onek golpoi to pori… 🙏🏻

Comments are closed.