সাঁঝের মায়া পর্ব ৩
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
রাত্রীর পোনে বারোটা।
দেওয়ান বাড়ির আলো আজ এখনো নেভেনি।ছোটরা ক্লান্ত হয়ে এদিক ওদিক শুয়ে পরেছে নিশির রুমে।শুধু নিশি, নূরি আর নয়ন জেগে আছে এখনো।
ওদিকে বাড়ির বড়রা সকলেই অপেক্ষা করে আছেন ইশানের ফেরার।ইশান সন্ধ্যা রাতে কল করে জানিয়েছে একটা কাজে আটকে গেছিলো,এর কারণেই রওনা দিতে দেরি হয়েছে।এও বলেছে বাড়ির সবাই জেনো ঘুমিয়ে পরে,আসতে বেশ রাত হবে,কষ্ট করে এতো রাত জাগার দরকার নেই।
বাড়ির কেউ সেটা শুনলে তবে তো!বাড়ির বড় ছেলের বউ আসবে,আর এতটুকু অপেক্ষা তারা করবে না,এটা হয় নাকি!
টেলিভিশন এর সাউন্ড একটু কমিয়ে রাইসুল সাহেব স্ত্রীর দেকে তাকালেন।তার স্ত্রী রাহেলা দেওয়ান তখন পাশের সোফায় বসে ছিলেন।
-গিন্নি শুনছো?ইশানকে একটা ফোন কর,কতদূর আসলো ওরা জিজ্ঞেস করো,আর আমাকে এক কাপ চা দাও…
রাহেলা উঠার আগেই বাড়ির ছোট বউ রিনা উঠে এগিয়ে গেলো রান্না ঘরের দিকে।
-আপা ভাইজানকে আমি চা দিচ্ছি,তুমি বড় আব্বাকে কল দাও…
ফোন কেটে সোফায় স্বামীর পাশে বসলেন রাহেলা।রাইসুল সাহেব চায়ের কাপ টেবিলে নামিয়ে স্ত্রীর দিকে তাকালেন।
-ইশান বললো আরও আধঘন্টা লাগবে।আমরা যেনো শুয়ে পরি সবাই।বউমা নাকি আসছে না ওর সাথে।
রাহেলা দেওয়ান এর কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
রাহিয়ান সাহেব বললেন,
-আসছে না মানে!ও যে বললো বউমা কে নিয়ে আসবে..।
রাহেলা দেওয়ান সবার মুখ পরখ করলেন একবার।তারপর ধীরে গলায় রুষার না আসার কাটণ সবাইকে জানালেন…
-না না ঠিকই আছে,ঠিকই আছে।তাই তো।আজ তো তাহলে বউমা আসতে পারবে না,কিভাবেই বা আসতো।না না বাবার কাছে গিয়েই ভালো করেছ,আমাদের সাথে তো ইনশাআল্লাহ ধীরে সু্স্থেও দেখা করা যাবে।কিন্তু ইশাণ এর তো উচিত ছিলো মেয়েটাকে পৌছে দিয়ে আসা,একটু বউমার বাবার খোঁজ নিয়ে আসা…কি যে করে ছেলেটা..
রাইসুল সাহেব কথাটা বলতে বলতে উঠে দাড়ালেন…
আবার সবার দিকে একবার তাকিয়ে বললেন।
-শুয়ে পরো তোমরা।ইশান ফিরতে ফিরতে আরও রাত হয়ে যাবে।সকালে কথা বলে নিয়ো। এখন তোমাদের জেগে থাকতে দেখলেই ও বরং রেগে যাবে..।
রাইসুল সাহেবের কথায় মাথা নাড়লো সকলে।যে যারযার মতো রুমে গেলো সবার।রাহেলা দেওয়া গেলেন না।উনি বসে রইলেন সোফায় টিভির দিকে তাকিয়ে।ছেলে আসতে
দেরি হবে বলে সে গিয়ে ঘুমিয়ে পরবোন এটা তো হয়না…
ইশান এর গাড়ি এসে দেওয়ান বাড়ির সমানে থামলো রাত আড়াই টায়।রাহেলা দেওয়ান এর চোখ একটু আগেই প্রায় লেগে এসেছিলো।কলিং বেল বাজাইতেই ছুটে এলেন খুলে দেওয়ার জন্য…
দরজা খুলেই ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন।
-মা তুমি এখনো ঘুমাওনি?
রাহেলা বেগম চোখ মুছলেন। ছেলের মুখে হাত বুলিয়ে হাত ধরে টেনে ভিতরে নিয়ে এলেন।
-তুই আসবি বলেছিস।আর আমি পরে পরে ঘুমাবো,অপেক্ষা করবো না।এটা কখনো হয়েছে।
ইশান জানতো এমনটাই হবে।আজ কতগুলো দিন পর মাকে দেখছে সে।
-কতদিন তোমার হাতের রান্না খাইনা বলোতো মা।খেতে দাও আগে।বাকি কথা পরে হবে।
-তুই হাত মুখ ধুয়ে নে,তোর দুম গোছানো আছে।যা রুমে যা।আমি খাবার গরম করছি।ওপরে নিয়ে আসবো খাবার?
ইশান মাথা নেড়ে না করে মাকে।
-উহু,আমি আসছি নিচে…
রাহেলা দেওয়ান রান্নাঘরের দিকে গেলে ইশান নিজের রুমে চলে আসে।প্রায় ২ বছর বাড়িতে আসা হয়না।রুম এ ঢুকেই মুচকি হাসলো সে।বরাবর এর মতো তার রুম গোছানো।যেমনটা সে রেখে গিয়োছিলো।সে না থাকলেও তার মা যে সবসময় তার রুম গুছিয়ে রাখবে তা সে ভালোমতো জানে।
তিতির গভীর ঘুমে মগ্ন। তবে কিছু একটা স্বপ্নে দেখে বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে।জানালা খোলা,বাইরের বাতাসে পর্দা উড়ছে এলোমেলো ভাবে।সাথে খুলে রাখা চুলগুলোর মুখে ওপরে এসে পরছে বারবার। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো তার,চোখ পিটপিট করে তাকালো।ঘেমে গেছে,বাজে স্বপ্ন দেখছিলেলো,বরাবরের মতো।
হাত বাড়িয়ে ফোন হাতে নিয়ে সময় দেখলো।রাত ৩ টা বাজে।রাতে প্রায় রোজ ঠিক এই সময়টাতেই বাজে স্বপ্ন দেখে বিচ্ছিরি অবস্থা হয় তার।অথচ আজ সেরকম হওয়ার আগেই ঘুম ভেঙে গেলো।উঠে বিছানায় বসলো সে।কারণটা টের পেলো।কারোর খালি গলায় গানের আওয়াজ ভেসে আসছে,খুব কাছে থেকে।এই শব্দ কানে যাওয়াতেই অবচেতন মনে ঘুম ভেঙে গিয়েছে।যেই গাক তার প্রতি দারুণ কৃতজ্ঞতা বোধ করলো তিতির।রোজ রাতে এমন সময় গাইলে মন্দ হয় না নেহাৎ…
বারান্দার দিকে উঠে আসলো,শব্দ পাশের কোনো ফ্ল্যাট থেকে আসছে।খোলা চুলেই পর্দা ঠেলে বারান্দায় এসে তাকালো আশেপাশে। কোথাও কাউকে দেখা গেলো না এখন।গানটাও থেমে গেছে এতক্ষণ এ।বাতাসের ঝাপটায় চোখমুখ কুচকে আসছে তার…দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকালো সে,খোদার কাছে অভিযোগ জানানোর মতো কিছু নেই তার, বাবা মা কে কেড়ে নিলেও সে অভাব তসর মামা,মামি,পরিবার কখনো বুঝতে দেয়নি,তবুও মাঝেমধ্যে দারুণ অভিযোগ করতে ইচ্ছে হয়।কেনো!এই যেমন এখন ইচ্ছে হচ্ছে…
গিটার বিছানার ওপর রেখে বারান্দার দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে রইলো রাহাত।তার রুম অন্ধকার। আশপাশ ও অন্ধকার,তবে চাঁদের আলোয় পাশের ২ হাত দূরে বারান্দায় দাড়ানো মেয়েটাকে দারুণ মায়াবী লাগছে।মিনুর কাছে সেদিনই শুনেছে রাতে তিতির এর রোজ রোজ দুঃস্বপ্ন দেখার কথা,আকাশপাতাল ভেবেছে এ থেকে মেয়েটাকে শান্তি দেওয়া যায় কিভাবে।একবার তো ইচ্ছে হচ্ছিলো সব জড়তা কাটিয়ে মেয়েটাকে ঘরের বউ করে আজই নিয়ে আসতে,বুকের মধ্যে চেপে ঘুম পারাবে,এ জীবন কোনো দুঃস্বপ্ন আর মেয়েটাকে স্পর্শ করতে পারবে না…
কিন্তু এখনই তো সেটা সম্ভব নয়,গান গাওয়ার প্ল্যান কাজ করবে কিনা জানতো না সে,তবে মনে হলো…আর কাজ ও করলো।রাহাত মুচকি হাসলো।সামনের মেয়েটাকে হাত বাড়িয়ে ছুঁতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব। বিরবির করে বললো—
-নিয়ো আসবো পরী তোমাকে খুব তাড়াতাড়ি আমার কাছে।
সকাল ১১ টা।ইশান এর সবে ঘুম ভাঙলো। এতো।রাতে ঘুমানোর কারণে,সকালে কেউ ডাকেনি তাকে। উদাম শরীর নিয়ে নেমে আসলো বিছানা থেকে,ফ্রেশ হয়ে বের হতেই দেখলো মা এসে বিছানা গোছাচ্ছে।
-মা আমিই গোছাতাম…
রাহেলা দেওয়ান হাসলো
-আর কয়টা দিনই তো করবো।তারপর আমার বউমা আসলে সেই তো সব করবে নাকি…
ইশান পিছন থেকে মাকে জড়িয়ে ধরে।
-আচ্ছা মা।তোমার কাছে ভালোবাসা কি বলোতো?
-এ আবার কি কথা!ভালোবাসিস অথচ জানিস না ভালোবাসা কি!
-নাহ বলো তুমি!
-তোর কি মনে হয়?
-কি জানি,কখনো রিয়ালাইজ করিনি…
-সেকি!
ইশান জানেনা সে মাকে কথাটা কেনো জিজ্ঞেস করলো।পরমুহূর্তেই কথা ঘুরিয়ে বললে
-চলো নিচে চলো।সবার সাথে দেখা করবো।
-তোর দিদার সাথে আগে দেখা কর।কাল থেকে বোধহয় শরীর টা খারাপ।রুম থেকে একবারও বের হয়নি
ইশান ভ্রু কুচকে তাকালো।
-দিদার শরীর খারাপ!আমি যাচ্ছি।দেখা করে আসি।আর মা..ব্যাগে সবার জন্য গিফট আছে।তুমি একটু দিয়ে দিয়ো।
ইশান গায়ে টি শার্ট জড়িয়ে নেমে আসে নিচতলায়।এসেই আগে দিদার ঘরে ঢোকে।চন্দ্রা দেওয়ান বিছানায় হেলান দিয়ে বসে কিছু একটা পড়ছিলেন।ইশান ঘরে ঢুকতেই মাথা তুলে তাকালেন তিনি।হালকা স্বরে বললেন
-এসো।
ইশান খানিকটা অবাক হলো।এমনটা কখনো হয়নি এর আগে যে তার দিদা তাকে দেখে এতোটা নিশ্চুপ থেকে।সে উনার বড্ড আদরের।ইশান কে দেখলেই চন্দ্রা দেওয়ান বাড়ি মাথায় তোলেন,ছোট মানুষ এর মতো।দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরতে চান যেনো।তাছাড়া দাদুভাই ছাড়া তিনি ইশান কে এর আগে কখনো ডেকেছে বলে ওর তে মনে পরে না।
ইশান এগিয়ে গিয়ে দিদার পাশে চেয়ার টেনে বসলো।হাত খানা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
-দিদা,কেমন আছো তুমি?
চন্দ্রা দেওয়ান এবার অনেকটা নির্বিকার, তবে হালকা হাসির রেষ বোধহয় আনতে চাইলো জোর করে নিজের মুখে।
-ভালো আছি আমি। তোমার শরীর ভালো?
-হ্যা। তুমি একবারও নাকি নিচে নামোনি কাল থেকে।শরীর কি খারাপ ালগছে?
-লাগলেও বা কি।
ইশান বোঝে দিদার কিছুতে অভিমান হয়েছে।ধীর গলায় শুধোয়।
-কিছু হয়েছে দিদা?আমাকে বলো
-তোমাকে কি বলবো দাদুভাই।এ দু বছরে একটা বার এসেছো তুমি আমার সাথে দেখা করতে?
-দিদা তুমি জানো আমি কত ঝামেলায় ছিলাম,কিভাবে আসতাম।
চন্দ্রা দেওয়ান এবারও হাসলেন।
-থাক দাদুভাই।এসব অযুহাত দেখিয়ো না আমাকে তুমি।সবার সাথে দেখা করেছো?যাও দেখা করো।কাল সবাই অনেক রাত অবধি অপেক্ষা করেছে তোমার জন্য। আমাকে নিয়ে ভেবো না।আমি ঠিক আছি।এতো জলদি আমার কিছু হবে না।অনেক দায়িত্ব পালন বাদ আছে আমার এখনো।
ইশান কিছু বলতে যাবে,আবার চন্দ্রা দেওয়ান তাকে চলে যাওয়ার তাড়া দিলেন।ইশান উঠে চলে এলেলো।দিদার এমন রুপ এর আগে সে কখনো দেখেনি।বড্ড ভালোবাসে সে তার দিদাকে।এমন ব্যবহারের কারণ সে বুঝলো না…
বের হতেই রাহিয়ান দেওয়ান এর তিন ছেলেমেয়ে কোথা থেকে এসে ঝাপটে ধরলো একসাথে।
ইশান সবথোকে ছোট ভাইকে কোলে তুলে নিলো।
– আমার চ্যাম্প কেমন আছে?
রাহিয়ান সাহেবের সবচেয়ে ছোট ছেলে রাফি।৮ বছর বয়স।বাড়িরও সবথেকে ছোট সদস্য। ইশান এর দারুণ ভক্ত।
-ভালো আছি ভাইয়া।অনেক মিস করেছি তোমাকে আমরা জানো।
-আমি মিস করেছি আমার ভাইটাকে।
-আর আমাকে?
পাশ থেকে রাহিয়ান সাহেবের বড় দু মেয়ে গাল ফুলিয়ে বলে উঠলো।রোশনি আর রিশা দুজন জমজ।ক্লাস ফাইভ এ পড়ে।
ইশান হেসে আরেক হাসে জড়িয়ে নিলো ছোট দু বোনকে।
-খুব মিস করেছি তো।
ও আমরা বুঝি ফেলনা।
ইশান নিজের বোনের গলা পেয়ে পিছন ফিরলো।নিশি আর নূরী কোমড়ে হাত দিয়ে অভিমানী মুখ করে তাকিয়ে আছে।
ইশান এবার শব্দ করে হেসে ফেললো।
-আয় বুড়ি।আমরা দুই বুড়িকেও আমি খুব মিস করেছিি।রাফিকে কোল থেকে নামিয়ে দু হাতে নূরি আর নিশি কে জড়িয়ে ধরে ইশান।
-নয়ন কোথায়?ওকে দেখছি না।সবকটা তো অভিযোগ জানালি। ভুলে গেছি।ওটা কোথায়।
-নয়ন ভাইয়ার আজ এক্সাম আছে।ফিরতে বিকেল হবে তো
একে একে বাড়ির সবাই চলে এলো ড্রয়িং রুমে। চাচিরা একেকজন যেনো হারানো ছেলে ফিরে পেয়েছে।কেঁদে কেটে অস্থির।ইশান তখন থেকে মানাচ্ছে সবাইকে…
বাবা চাচাদের সাথে বলে চাকরি,বিজনেস সব নিয়ে আলাপ করছে ইশান।
-রাহেলা,তিতির মাকে একবার ফোন করো তো।ওর পরীক্ষা কেমন হলো শোনো।
স্বামীর কথায় তাড়হুড়ো করে সময় দেখলেন রাহেলা দেওয়ান।
-ইশশ দেখো তো কান্ড।আমি ফোন হাতে করে সময় দেখচি বারবার ওর পরীক্ষা কখন শেষ হবে।এই তোমাদের বিজনেস এর আলাপে আমি সব ভুলে গেছি।
রাহেলা দেওয়ান ব্যাস্ত হয়ে তিতির কে ফোন করে।
দুবার রিং হতেই ফোন তোলে তিতির।বড় মা যে এখন কল করবে সেটা সে খুব ভালো করেই জানতো।
-হ্যালো বড়ো মা।
-মা রে।পরীক্ষা কেমন হলো তোর।
-ভালো বড় মা।
-আলহামদুলিল্লাহ। খেয়েছিস দুপুরে?
-না খাবো একটু পর।
-এখনো খাস নি মানে
-খাবো বললাম তো।শোনো না বড় মা।আমি পরশু আসছি বাসায়।এক্সাম শেষ কালকেই আমার।
-আয় মা আয়।কতদিন দেখি না তোকে।
-বড় মা।গত মাসেরই ঘুরে এসেছি আমি বাড়ি থেকে।
-মায়ের কাছে সন্তান কে না দেখে ১ দিন কাটে না।মেয়ে আমাকে ১ মাসের হিসেব বোঝাচ্ছে।
তিতির হেসে ওঠে।সে খুব ভালো করে জানে তার মামিরা তাকে কি পরিমাণ ভালোবাসে।
-ঠিক আছে,আমারই ভুল।আমি আসছি পরশু কিন্তু। এসে যেনো বিরিয়ানি পাই।
সাঁঝের মায়া পর্ব ২
রাহেলা হাসে।
সব হবে মা।তুই খালি বাড়ি আয় মা…
-শুনছো তিতির পরশু দিন আসছে।রাহেলার কথায় সবার মুখেই হাসি দেখা দিলো।রাফি,রোশনি,রিশা লাফাতে লাগলো খুশিতে।
তিতির ফোব রেখে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো।৩ দিন পর বাবা মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী। ভাগ্যিস পরীক্ষা কাল শেষ হচ্ছে…
