সাঁঝের মায়া পর্ব ১৬
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
চন্দ্রা দেওয়া হসপিটাল এ আছে আজকে পাঁচ দিন হলো।শরীরের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে এখন।আরও দু দিন পর রিলিজ দেয়া হবে।রাহেলা দেওয়ান রা তিন জা পালা করে হাসপাতালে শাশুড়ীর কাছে থাকেন।সাথে তিন কর্তাও তাই।আর ইশান,নয়ন তো আছেই।নিশি,নূরি,তিতির সহ বাড়ির সব নাতিনাতনি রা রোজ এসে একবার দেখা করে যান তার সাথে।
এইযে আজকেও যেমন দিদার সাথে দেখা করে তিন বোন বাড়ির দিকে ফিরছে।বাড়ির গাড়ি নিয়ে যায়নি তারা।প্ল্যান করেই রিকশা করে এসেছে।যদিও ইশান যানেনা।জানলে অবশ্যই ছাড়তে চাইতো না।পাড়ার মোড়ে রিকশা থেকে নেমে হেটে বাড়ির দিকে যাচ্ছে তারা।আশেপাশে সারি সারি ধান ক্ষেত,পুকুর।এদিক টায় ঘরবাড়ি নেই বললেই চলে।
সামনেই রহমত চাচার চায়ের দোকান।তাকাতেই চোখে পড়লো নিয়াজ আর নাইম বসে আছে।তিতির, নূরি স্বভাবতই উচ্ছসিত হলো।নিশি ভাবলেশহীন থাকার চেষ্টা করলো।শেষ দেড় মাস হলো তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে কি না।তিতির দেখলো একনজর নিশিকে।তারপর নূরির সাথে চোখাচোখি হতেই দুজনই বাঁকা হাসলো।চোখে চোখে কথা হলো বোধহয়।দ্রুত পায়ে তিতির রাস্তার পাশে চায়ের দোকান টার সামনে গিয়ে থামলে।
নিশি পিছন থেকে ডাকলো এবার তিতির কে।তিতির শুনলো না।
“বড়পু চলো আমরাও যাই।রোদের মধ্যে দাড়িয়ে না থেকে।”
নূরির কথায় বাধ্য হয়ে এগিয়ে গেলো সেও।
দোকান টার আশপাশে খুব সুন্দর। গ্রামটাই সুন্দর কিনা।মেইন রাস্তা থেকে শমশেরনগর গ্রামের লোকালয় অবধি যেতে বেশ খানিকটা ফাঁকা রাস্তা পারি দিতে হয়।ফাঁকা বলতে এদিক টায় জনসমাগম একদম নেই।প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ধান ক্ষেত,পুকুর কাটা।সেই সবুজের মাঝখান দিয়ে মাঝারি প্রস্থের আকাবাকা রাস্তা।গ্রামের সৌন্দর্য যাকে বলে আরকি।এদিকটায় দোকানও ওই একটাই।রহমতের চায়ের টং দোকান টা।আরও যা আছে হয় সেগুলো মেইন রাস্তার ওদিকে আর বাকিগুলো একদম শমসেরনগর এর ভিতর এর ওদিকে।আর এই রাস্তার এক বাঁকে প্রকাণ্ড বটগাছের নিচে এই টং দোকান।বসলেই মন ভালো হয়ে যায়।বিকেল বেলা গ্রামের ছেলে বুড়োদের আড্ডায় মুখরিত থাকে এদিকটা।আশেপাশে যত জমি দেখা যায় বেশিরভাগই দেওয়ান দেরই।
নিয়াজ আর নাইম চা খাচ্ছে।বাইকটা পাশে রাখা।নিয়াজ একমনে নিশির দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রইলো।নিশি দেখেও দেখলো না,মুখ অন্য দিকে করে সামনের কাঠের ব্রেন্চ এ বসলো।
তিতির কে দেখেই নাইম নিয়াজ দু’জনেই একসাথে বলে উঠলো,”ভাবি বসেন।”
তিতির লজ্জা পেলো।মুখটা লাল হয়ে গেলো।সবার মধ্যে হাসির রোল পরে গেলো।কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে তিতির গদগদ হয়ে বললো,”
“ইশশ কতদিন এখানটায় বসা হয়না।আপনাদেরও তো,তাইনা ভাইয়া।”
নিয়াজ হেসে মাথা নাড়ে।”অনেকদিন। আগের মতো কেউ তো গ্রামে এখন থাকেই না।ছুটিও মেলেনা।”
তিতির বিজ্ঞের মতো মাথা ঝাকায়।
“চা দিতে বলি।”
“তা আর বলতে।”
নিয়াজ তিনটে চা অর্ডার করে।নূরি আর তিতির, নাইমের সাথে গল্প গুজব করছে।নিয়াজ চুপচাপ দেখছে নিশিকে।নিশিও বেশ চুপচাপ।মাঝেমধ্যে তিতির এর জোরাজোরি তে হু হা করছে। এই অবধিই।নিয়াজ তিতির এর দিকে তাকালো,”হসপিটাল থেকে আসছো নিশ্চয়ই। “
নূরি মাথা নাড়লো।
“গাড়ি কই?”
“আনিনি আজকে।”
“ইশান জানে?”
তিতির, নূরি দুজনেই দুদিকে মাথা নাড়লো।
“বলো কি।এমনি দেওয়ান সাহেবের মাথা গরম।তার ওপর যদি জানে বউ,বোনেরা এভাবে যাতায়াত করছে,রেগে তো বোম হয়ে যাবে।”
তিতির মুখ ভেঙচালো।”রাগুক।পারেই ওই এক জিনিস।রাগতে আর চেঁচাতে। অসহ্য।”
সব্বাই তিতির এর বলার ভঙ্গিতে হেসে ফেললো।
নিয়াজ মাথায় টোকা দিলো একটা।”সংসার করবে আজ বাদে কাল থেকে।অসহ্য কে সহ্য করে নিতে হবে।”
“হিটলার টার কথা বাদ দিন ভাইয়া।মুড টাই নষ্ট হয়ে যায়।”
“বেশ দিলাম।তা তোমাদের কি মন মেজাজ খারাপ?”
নিয়াজ কথাটা নিশির দিকে তাকিয়ে বললো।বাকিদের ও বুঝতে অসুবিধা হলো না।নিশি ভুলেও তাকাচ্ছে না তার দিকে।তিতির, নূরি বাঁকা হাসলো।
“না তো ভাইয়া।আমার আর ছোটপুর মন তো ভালো।বড়পুর মনও ভালোই ছিলো। এখন আছে কি না জানিনা।”
নিশি কপট চোখ গরম করে তাকালো।তিতির ভয় পেলো না।বরং আরও মজা পেলো।নিয়াজ ইশারা করতেই তিতির আর নূরি উঠে এসে অন্য দিকটার ব্রেন্চে বসলো।নিয়াজ গিয়ে নিশির পাশে বসলো।নিশি দেখেও দেখলো না।আপনমনে সে চায়ে চুমুক দিতে ব্যাস্ত।বেশ খানিকটা ঘেষে বসলে,নিশি পাশে সরে গেলো সাথে সাথে। নিয়াজ আওয়াজ নামিয়ে ধীরে গলায় বললে,”ম্যাডাম কি বেশি রেগে?”
নিশি জবাব দিলো না।নিয়াজ মনে মনে হাসলে।
আবার বললো,”প্রচন্ড মাথাব্যাথা বুঝলে,রোজ রাতে কয়েকদিন হলো জ্বরও আসে।খেতে পারিনা ঠিকমতো।”
নিশি ফট করে পাশ ফিরে তাকালো।নিয়াজ এর চোখমুখ সত্যি লাল হয়ে আছে,কেমন একটা শুকনো লাগছে।
“এইতো একটু কমেছে বাকিটুকুও একজনের কন্ঠ শুনলে কমতো।”
নিশি ভ্রু কুচকে চোখ সরিয়ে নিলো।শুধু অযথা বাহানা।ব্যাস্ততা দেখানোর বেলায় ষোলআনা।আবার আসে আহ্লাদ দেখাতে।ইচ্ছে তো করছে গরম চা টা গায়ে ঠেলে দিতে।অসভ্য ছেলে।
এইযে যেমন গতমাসে দিনের মধ্যে যতবার কল করতে ততবার নানা অযুহাত তার রেডিই থাকতো।এমনকি তাদের অ্যানিভারসারির কথাও বেমালুম ভুলে বসে ছিলো।মানে হয় কোনো।তার মধ্যে কল করবে কখন,যখন তার ঘুমের সময় অথবা বাড়ির কেউ পাশে থাকে।তখন কলের ওপর কল।এর চেয়ে ভালো কথা বলারই দরকার নেই।
“ম্যাডাম,ওরা বসুক।চলুক বাইকে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আসি।”
“দরকার নেই।”
“এইতো আরও অনেকটা মাথাব্যাথা কমলো।”
বলেই নিয়াজ হেসে ফেললো।নিশি বিরক্ত চোখে তাকালো।খালি উল্টাপাল্টা কথা।
“বড়পু যাও না প্লিজ। এমন সুযোগ পাবে না।তোমার ভাই হসপিটাল এ।ধরা পরার চান্স নেই।আমরা বসি,নাইম ভাইয়ার সাথে গল্প করি।তাইনা ভাইয়া?”
নাইম সায় দিলো সাথে সাথে। নিশির মধ্যে ভাবান্তর দেখা গেলো না।ঠায় বসে রইলো।নিয়াজ বুঝলো রাগের মাত্রা আকাশছোঁয়া। হওয়ারই কথা।গতমাসে নাক অবধি ডুবে ছিলো অফিসের কাজে।বাড়িতে আসবে ইদের ছুটিতে তাই আরও ব্যাস্ততা ছিলে।তার ওপর মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে সে মাসেই তাদের অ্যানিভারসারি।মনে ছিলো বইকি।সেদিন তার পরপর চার চারটা মিটিং ছিলো।মেসেজ করেছিলো ম্যাডাম কে।কল করে ঘন্টা খানেক গল্প করার সময় পায়নি আরকি।তাতেই ম্যাডাম রেগে অস্থির। সারা মাস ছাড় দিলেও সেদিন এর রাগ আর কমলো না।উল্টো সম্পর্কের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন অবধি যত ভুল করেছে সে সেগুলোর লিস্ট ধরিয়ে দিলো।রাতে কত কল করলো,আর মহারানী কল ধরলো না।তাই তো আরও বাধ্য হয়ে আগে আগে ছুটি নিয়ে চলে এসেছে।কি লাভ হলো তাতে!বাড়ির এসেছে পনেরো দিন।একদিনও তার দেখাসাক্ষাৎ পাওয়া যায়না।ধরাই দেয়না।
ওদিকটায় বসা তিতির রা তিনজন আরচোখে দেখছে প্রেমিক যুগলের মানঅভিমান পর্ব। মুচকি মুচকি হাসছে তারা।নিয়াজ উপায় না পেয়ে আলগোছে পকেট থেকে সিগারেট বের করলো।এটা মোক্ষম ওষুধ।নিশি সিগারেট খাওয়া একেবারে সহ্য করতে পারে না।উঠে গিয়ে আগুন ধরালো দোকান থেকে।নিশির পাশে এসে বসতেই সিগারেট এর গন্ধে চোখমুখ কুচকে তপ্ত চোখে তাকালো নিয়াজ এর দিকে।নিয়াজ এবার তাকালো না।মন দিয়ে সিগারেট টানছে।
“সর্বনাশ। ব্যাটা এবার গেছে।”
নাইম এর কথায় সম্মতি জানিয়ে হতাশ ভঙ্গিতে ওপর নিচ মাথা নাড়লো তিতির আর নূরি।তাদের বলা শেষ হতে দেরি তবে,নিশির কাজের দেরি নেই।ফট করে নিয়াজ বুঝে ওঠার আগেই আধা কাপ গরম চা নিশি ঢেলে দিলো নিয়াজ এর পায়ের ওপর।ফল সরুপ নিয়াজের অফ হোয়াইট কালার প্যান্ট সাথে সাথে দাগ হয়ে গেলো।হুট করে সবাই হতচকিত হয়ে গেছে।তিতির দু হাতে মুখ চেপে ধরেছে। নাইম ফিক করে হেসে ফেললো।
নিয়াজ মৃদু আর্তনাদ করে উঠে দাড়িয়েছে।অসহায় দৃষ্টিতে তে দেখলো নিশিকে।যেনো কিছুই করেনি মেয়েটা।
“হাতের ওটা ফেলো।”
“সেটা তো বললেই হতো।গরম চা ছুড়তে হবে!আর একটু ওপর নিচ হলো তো আমার ভবিষ্যতে পুরে যেতো।”
“সিগারেট না ফেললে পুড়িয়েই ফেলবো।”
নিয়াজ হাতের সিগারেট টা ছুড়ে ফেললো।মিটিমিটি হেসে একদম গা ঘেষে বসলো নিশির।কানের কাছে ঠোট নিয়ে ধীর গলায় বললো,”লস কার?আপনারি তেো।”
নিশি সজোরে কিল বসালে নিয়াজ এর পায়ের উরুতে।”অসভ্য।নির্লজ্জ। আমি ভাইয়াকে বলে দেবো।আপনি আমাকে বিরক্ত করেন।”
নিয়াজ এর চোয়াল ঝুলে পরলো।এ মেয়ে বলে কি।
“এতদিন এ বলো কি!আমি বিরক্ত করি?”
“হ্যা করেনই তো।”
নিয়াজ হতাশ চোখে তিতির দের দিকে তাকালো।ওরা হেসে গড়িয়ে পরছে।
“হাসো হাসো।হাসবেই তো।অত্যাচারিতদের নিয়ে সবাই মজা নেয়।এইযে তোমাদের বড়বোন।যে কথাটা বললো এখন এটা যদি তোমার হবু পতিদেবতার কানে যায় না?আমাকে ওই শমশেরনগর জংশনে ডাউন ট্রেনের নিচে ফেলে মারবে।”
তিতির হেসে কুল পাচ্ছে না।চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে একেকজনের।কোনোমতে হাসি থামিয়ে বললো,”বিরক্ত যখন করছেন।ওটা তো আপনার প্রাপ্ত হবু মৃত দুলাভাই।”
নিয়াজ কপাল চাপরালো।শালিকাগুলো বোনের পক্ষে।কি আর বলবে এখন।
“তোমার এই বোন নিয়াজ ভাই,নিয়াজ ভাই করে হেদিয়ে মরতো জানো?চিঠি লিখতো।তখন ওর বয়স কত জানো?সবে পনেরো।তোমাদের বাড়ি যেতে ভয় পেতাম আমি ওর জন্য। ইশান টা একবার জানলে আমাকে…”
হাত দিয়ে গলায় পোচ দেওয়ার ভঙ্গি করলো নিয়াজ।
“প্রথমে ভাবতাম ছোট মানুষ। না বুঝে।পরে দেখলাম মেয়ে মহা পাকনা।পিছুই ছাড়ে না।আর কি।ফেসে গেলাম আমিও।”
নিশি মুখ বাকালো,”মোটেই না।এগুলে আপনিই করতেন।”
নিয়াজ সহ সবাই উচ্চস্বরে হেসে ফেললো।নিয়াজ আলতো হাতে পিছন দিয়ে জড়িয়ে ধরলো নিশির বাহু।নিশি ছাড়াতে চাইলো।নিয়াজ ছাড়লো না।
“সরি আমার ময়নার মা।আর কখনো ব্যাস্ততা দেখাবো না।তুমি বলো তো চাকরি ছেড়ে এসে জমিতে হাল বই?ধানের জমিতে চাষেবাসে মন দিবো।পুরোদস্তুর কৃষক হবো।তোমার চোখের সামনে থাকবো।লুঙ্গি পরে,মাথায় গামছা বেধে জমিতে কাজ করবো,তুমি দুপুর বেলা খাবার আনবে,শাড়ির আচলে ঘাম মুছে বাতাস করবে।আমি এই বটতলায় পাটি পেরে খাবার খাব।কৃষক,কৃষাণির সুখের সংসার।দু চারটা ছেলেপুলে হবে দু একবছর ঘুরলে।চলবে?রাজি?”
নিশি এবার হেসে ফেললো।আবার থাপ্পড় দিলো নিয়াজ এর উরুতে।রাগ ভেঙেছে বুঝতে পেরে হেসে কাছে টেনে টুপ করে চুমু খেলো নিশির মাথায়।
“ওওওওওওও।আমরা কিছু দেখিনি,দেখিনি…”
তিতির,নাইম নূরি তিনজনই চিৎকার করে চোখ চেপে ধেরেছে।।
“রাস্তার ধারে বসে কি ধরনের অসভ্যতামি।সরো।বাড়ি যাবো।”
“রাস্তায় ভর দুপুরে মানুষ আছে নাকি।কে দেখবে। আর দেখলে দেখুক।আমি কি দেওয়ান দের ভয় পাই নাকি।ইশানকে বলবো তোর বোনটা না দিলে তোদের দেওয়ান বাড়ির খেতায় আগুন।তখন না দিয়ে যাবে কোথায়।ইশানটা আবার আমার খুব মান্য করে কিনা।”
“তাই নাকি।ভাইয়ার সামনে পারবে বলতে?”
“আলবাত।”
“কি বলবি আবার বলতো।”নাইমের কথায় নিয়াজ একই ভঙ্গিতে বলার জন্য ঘুরলো নাইম এর দিকে।নাইম এর হাতে ফোন।তাদের দিকে তাক করা।ভিডিও অন করা।
“ শালা হামাজাদা।সর্বনাশ করবি নাকি।আমার বউটা বিধবা হবে রে হারামজাদা। ডিলেট কর, ডিলেট কর।”
নিয়াজ একপ্রকার ছুটে গেলো নাইম এর কাছে।নাইম ততক্ষণে ভিডিওটা করে ফোনটা পকেটে পুরে ফেলেছে। নিশি শব্দ করে হাসছে।
“ইশানকে দেখাবো না যাহ।তবে বেশি এদিকসেদিক করলে দেখাতেও পারি।”
“শালা বেইমান।আমারও দিন আসবে।
আড্ডা শেষে ততক্ষণে উঠে পরেছে সবাই।নিয়াজ এর দিকে তাকিয়ে বললো,”, এখন উঠি।তোমরা হসপিটাল এ যাবে তো?”
নিয়াজ মাথা ঝাকালো।
“যাও তবে।তোমার ভাইয়ার কান অবধি চলে যাবে এতক্ষণ এখানে বসে থাকলে।”
নাইম,নিয়াজ বাইকে গিয়ে বসলো।বিদায় জানিয়ে চলে গেলো মেইন রাস্তার দিকে।তিনবোন বাড়ির রাস্তা ধরলো।
দুপুর আড়াইটা।বাইরে কটকটে রোদ উঠেছে।বেশ গরম পরে গেছে এরই মধ্যে। নয়ন সবেই বাইরে থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসেছে।দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন রিক্তা দেওয়ান।মাকে দেখে হাসলো নয়ন।
“এসো মা।”
রিক্তা দেওয়ান এর মুখ মলিন।ছেলের হাত থেকে তোয়ালে টা নিজের হাতে নিলো।আলতো হাতে মুছে দিলো ভেজা চুল।
“তোর দিদা আর ইশান এর কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিলো জানিস?”
নয়ন আগ্রহ মুখে তাকালো।”নাহ ওটাই তো জিজ্ঞেস করলাম সেদিন তোমাকে।তখন বললে পরে বলবে।”
রিক্তা দেওয়ান ছেলের মুখপানে তাকিয়ে রইলেন।কি করে বলবেন তিনি।ছেলে শুনে না জানি কি করে আবার।নরম গলায় বললেন,”ইশান এর বিয়ে দিতে চায় তোর দিদা।আজই হয়তো ডেট ফিক্সড করবেন।এ সপ্তাহেই ঘরোয়া ভাবে বিয়েটা হবে।”
নয়নের চোখ খুশি চকচক করে উঠলো, “বলো কি।জানিই তো না।এটায় ভাইয়া এতো রিঅ্যাক্ট করেছে! “
রিক্তা মাথা দোলায়।”তবে রাজি হয়েছে পরে।দেখলি তো।”
“সেরাহ্।”
মায়ের দিকে তাকায়।মা তার দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে।
“মেয়ে কে জানতে চাইবি না?”
“ওহ হো।দেখো।ভাইয়া বিয়ে করবে এটার খুশিতে ভুলেই গেছি পাত্রী কে।কে মা?ছবি আছে?”
রিক্তা দেওয়ান দম নিলেন। ধীর গলা বললো,
“তিতির।”
নয়ন হতবাক হয়ে গেলো।চোয়াল ঝুলে পরেছে।তিতির!বলে কি তার মা।তবে সাথে সাথেই মুখ খুশিতে ভরে উঠলো। লাফিয়ে উঠলো একপ্রকার।
“বলো কি মা।মাই গড্। সত্যি! আমাদের তিতির!আমাদের তিতির এর সাথে ভাইয়া।হোয়াট আ সারপ্রাইজ। “
ছেলেকে রিক্তা দেওয়ান শোকে পাথর হয়ে যাবে এমন আশা করেছিলেন। ছেলের আনন্দ তার কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকলো।
হাত টেনে ধরলো ছেলের,”তুই খুশি?”
“কি যে বলো মা।আমার জন্য কত বড় সারপ্রাইজ জানো তুমি।গ্রান্ড পার্টি দিবো আজ দিদা ডেট ফিক্সড করলে।আমার আদরের ভাই এর সাথে, আমার মণি টার বিয়ে বলে কথা।”
রিক্তা দেওয়ান হাফ ছেড়ে বাচলেন।নয়ন টার মনে অন্য কিছু ছিলো না!সে তিতির কে বোনের নজরেই দেখেছে।আর তিনি না জানি কি ভেবে বসেছিলেন।ছিহ্! যাক বাচলেন তিনি।দুশ্চিন্তা থেকে।বুকের ওপর থেকে পাথর নেমে গেলো যেনো।ছেলের মাথায় হাত বোলালেন।
“একটু পর খেতে আয় তাহলে।আমি নিচে যাই কেমন?”
নয়ন মাথা নাড়লো। রিক্তা দেওয়ান বেড়িয়ে গেলেন হাসতে হাসতে।নয়ন উঠে গিয়ে বিনা শব্দে দরজা আটকে দিলো।মুখটা থেকে নিমিষে হাসি মুছে গেলো।খবর টা সে জানে না?সত্যিই জানেনা!অসহায় হাসলো সে।খবরটা তো সে পরের দিনই জেনেছে,নূরির মুখে,নিয়াজ ভাই এর মুখে।তিতির রাজি,সেটাও শুনেছে বড়মার মুখে।বেড সাইট টেবিল এর ওপর রাখা মানিব্যাগ টা খুললো।চোখের সামনে একটা ছবি আটকে রাখা।তিতির!লাল,সাদা শাড়ি পরা, খোলা চুলে হাস্যজ্জল এক কিশোরি।।তিতির এর তখন কত বয়স!তেরো বোধহয়।প্রায় সাত বছর আগের।পহেলা বৈশাখ এ সেবার শাড়িটা নয়নই দিয়েছিলো।ছবিটাও মেলায় নয়নেরই তোলা।
হাত বোলালো ছবির ওপর।টুপ করে দু ফোটা চোখের পানি পড়লো সেখানটায়।বুকের মধ্যে চেপে ধরলো ছবিখানা।বুকটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে।পুড়ে যাচ্ছে একদম।
কিন্তু সে পুড়তে দেবে।নিজেকেই পুড়তে দেবে।তার মুখ খোলায় এই সংসার টা পুড়ে ছারখার হবে।ভাইয়ের হবু বউকে আরেক ভাই ভালোবাসে ! একবাড়িতে থেকে আজীবন এই কালির দাগ বয়ে বেড়াতে হবে তিতির কে।দাগ লাগলে মেয়েদেরই তো লাগে। সে পুরুষ মানুষ।আজ বাদে কাল জোর করে হলেও তার জন্য বউ আনবে।তার কথা সবাই ভুলে যাবে।কিন্তু তিতির!ওকে সবসময় কথা শুনতে হবে,না শুনলেও ইশান ভাই কি সেটা ভালো চোখে দেখবে! অনেক বুঝিয়েছে এ কয়দিন নিজেকে।অনেক।।দিদা চেয়েছেন ইশান ভাই এর সাথে তিতিরকে।সবাই খুশি,কি দরকার মাঝখানে সবটা জ্বালিয়ে দেয়ার।থাক নাহয় বারো বছরের ভালোবাসা নিশ্চুপ। ভাই, দিদা,তার মণি পরিবার সবার জন্য দিলো না হয় সেটা কবর।
আজ তেরো দিন হয়ে গেলো রাহাত ভাইকে ফোনে পাচ্ছে না তিতির।শুধু ফোন কেনো!কোনো ধরনের যোগাযোগই নেই একদম।উধাও হয়ে গেছে মানুষ টা একপ্রকার। ইশান এর সাথে বিয়ের কথা হওয়ার পর থেকেই মনটা খুঁতখুঁত করছে তার।ভালো না বাসুক।রাহাত ভাইকে সে তো কথা দিয়ে এসেছিলো।অপেক্ষা করবে তার প্রস্তাব এর।সবটা কেমন গুলিয়ে গেলো একদম।এখন এমন একটা অবস্থা মানা করতে পারবে না বিয়েতে।দিদার শরীরের কথা ভেবে হলেও বিয়েটা করতেই হতো।
কিন্তু রাহাত ভাই!তাকে দেওয়া কথা!একটা বার যোগাযোগ করতে পারলে,কথা রাখার জন্য হলেও রাহাত ভাইকে সুযোগ দিতো যদি সব শোনার পরও রাহাত ভাই তাকে চাইতো।বলতে না হয় বাড়ি এসে কথা বলতে।তারপর পরিবার যা সিদ্ধান্ত নিতো মেনে নিতো সে।কিচ্ছু ঠিক হচ্ছে না এখন।যতই সে ইশান এর ওপর উইক থাকুক।এই একপাক্ষিক দূর্বলতা কে প্রশ্রয় দিয়ে যে তাকে ভালোবাসা, এতোদিন আগলে রেখেছে সেই মানুষ টাকে কখনো এভাবে…
কিন্তু দিদা যতই মুখে বলুক।ইশান এর খারাপ ব্যবহার এর থেকে উনি বেশি কষ্ট পেতেন যদি তিতির বিয়েতে না করতো।কি করতো সে রাজি না হয়ে।আর এই সময় রাহাত ভাই মানুষ টার নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না।
ইশান কে জানাবে কথাটা!কি ভাববে আবার!যা ভাবার ভাবুক।মনে মনে ইশানকে কথাটা জানাবে ঠিক করে ঘর থেকে বের হলো সে।ইশানের দরজা আটকানো।হালকা হাতে নক করলো।
“খোলা আছে।”
তিতির ইতস্তত করে দরজা ঠেলে ঢুকলো।ইশান কাগজপত্র দেখছে কিছু।মাথা তুলে তাকাতেই তিতির কে দেখে থমকে গেলো।এসময় ওকে আশা করেনি,বোঝা গেলো।কাগজপত্র সরিয়ে রেখে গম্ভীর গলায় বললেন,” কি দরকার? “
“কথা আছে কিছু।”
“বল।”
আমতা আমতা করলো তিতির।এগিয়ে গিয়ে সমানে দড়ালো।”আপনি বিয়েতে রাজি ইশান ভাই?”
ইশান মুখ তুললো।স্থির দৃষ্টি রাখলো তার ওপর।
“তুই রাজি?”
“রাজি ছিলাম না।এখন রাজি।”
“এখন রাজি কেনো?”
“নানুর জন্য। “
“তাছাড়া না?”
মাথা নামিয়ে ফেললো তিতির।মৃদু গলায় বললো,”
“আমি একজনকে কথা দিয়েছিলাম ইশান ভাই। বলেছিলাম অপেক্ষা করবো তার জন্য। “
ইশান এর হাতের মুঠে শক্ত হয়ে এলো।রাগ সংযত করে বললো,”তো যাচ্ছিস না কেনো তার কাছে?”
“তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না।”
“পারলে যেতি?”
তিতির কি জবাব দেবে!কথার খেলাপ করতে চায়নি সে।বেইমান এর খাতায় নাম উঠুক এটা কিভাবে চায় সে!যতই ইশানের প্রতি তার অনূভুতি থাকুক।মিনমিনে গলায় বললো,”কথা দিয়েছিলাম তাকে।”
ইশান আরও গম্ভীর গলায় শুধালো,”ভালোবাসিস তাকে?”
“না বোধহয়।তবে এক সমান সম্মান আছে। সেরকম কোনো সম্পর্ক আমাদের ছিলো না।আমার অসম্মান হবে এমন কোনো সম্পর্কে উনি কখনো জড়াতে চায়নি।সম্মান দিয়ে ঘরে নিতে চেয়েছিলেন। “
ইশানের মাথা দপদপ করছে রাগে।কেনো সে নিজেও বুঝতে পারছে না।ব্যাঙ্গ করে বললো,”
“তা কোথায় তোর সেই শুদ্ধ প্রেমিক? যে কিনা এখন পালিয়েছে। “
“ওভাবে বলছেন কেনো! নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে।।
খানিকটা থামলো।মাথা নিচু করে ফেললো।
“ইশান ভাই,সত্যি বলবো?আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।কেনো চাই সেটা জানিনা।মনকে জিজ্ঞেস করে উত্তর পাইনি।শুধু নানুআপুর জন্য বোধহয় নয়।আমিও চাই কোথাও একটা।কিন্তু রাহাত ভা…ওনাকে তখন বলেছিলাম। কথার খেলাপ করতে চাইনা আমি।উনি পাগল হয়ে যাবে।শেষ একবার অন্তত ওনাকে জানাতে চাই,মতামত টা জানতে চাই।”
ইশান শুনলো সবটা।বাঁকা হাসলো।আজ বাদে কাল বিয়ে।সে মেয়ে তার পুরান প্রেমিক এর কাহিনি শোনাচ্ছে।সাহস কত বড় ভাবা যায়! পাগলের মতো ভালোবাসে ওকে।হাহ্।
“এ দুনিয়াতে কিছু জিনিস আছে জানিস তো!যেগুলো সবে তে মিশে যায়।খুব সহজেই।তাদের জন্মই হয়েছে সবকিছুর সাথে মিশে যাওয়ার জন্য। তাদের কোনো নিজস্বতা নেই।আই হেট সো মাচ দোওজ থিংস।
“আমাকে বোধহয় আপনি সেই ধরনের মধ্যে ফেলতে চাইছেন। “
“বোধহয় নয়।সত্যি এটা।”
“অপমান টা করার কারণ?”
“আছে সে বোধ?”
“নেই বুঝি?”
“কতজনকে একসাথে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছিস? “
এসব কথা মানে বুঝতে পারছে না তিতির।তবে অমপান তার স্পষ্টতই গায়ে লাগছে।গলা কঠিন করে বললো,”যদি বলি কাউকে না বিশ্বাস করবেন?”
ইশান তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো।পা ভাজ করে বসলো বিছানায়।
“তোরা মেয়েমানুষ অভিনয় এ সেরা।নিজেই মধু চাস করিস।মৌমাছি কাছে ডাকিস,আবার গুছিয়ে নাটকও করিস।”
তিতির এর মনে হচ্ছে এখন এ রুমে আসাই ভুল হয়েছে তার।ভালো বুঝে রাহাত ভাইয়ের কথা বলাটা তো আরও অন্যায় হয়েছে।
“বেশ তো করি না হয় এ সবই।তাতে আপনার সমস্যা কি!
ইশান অবাক হওয়ার মতো করে তাকালো।
,”সমস্যা তো আমারই।যে জিনিস এ বাড়ির মানুষ আমার গলায় ঝোলাতে চাচ্ছে,সে জিনিসে হাজার হাজার মৌমাছি বসে,বসতে চায়,ভবিষ্যতেও বসবে চাইবে।আমি তা মানবো কেনো?সে মৌমাছির দলে নিজের নাম লেখাবো কেনো!”
“ইচ্ছে না হলে লেখাবেন না।জোর জবরদস্তি করা হচ্ছে না।চাইলেই ভেঙে দিতে পারেন।”
ইশান হঠাৎই চোখমুখ ভয়ানক কঠিন করে উঠে দাড়ালো।দু বাহু চেপে ধরলো তিতিরের।ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সাথে লাগিয়ে চেপে ধরলো।পিঠে আচমকা ধাক্কা লাগায় ব্যাথায় গুঙিয়ে উঠলো সে,তার ওপর শক্ত করে ইশানের হাতের চাপ তো আছেই।চোখ ছলছল করে উঠলো।
“তো যা।বিয়েটা তোর আমার সাথেই হবে।একটু আগে অবধিও রাজি ছিলাম না।এখন রাজি।আমার নামেই কবুল পড়াবো তোকে।একা পুড়তে ভালো লাগছে না।”
“মা..।মানে?”
“মানে?মানে কবুল পড়।তারপর বলবো।ইশান আরশাদ দেওয়ান এর সামনে অন্য পুরুষ এর দাবি জানানোর উপহার আছে তোর জন্য। “
একরকম ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো তিতির ইশানকে।ছুটে বেড়িয়ে গেলো ঘর থেকে।ইশান চোখমুখ শক্ত,কঠিন করে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।
চন্দ্রা দেওয়ান কে বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে আজকে বিকেলের দিকে।সাতদিন পর বাড়ি ফিরলেন তিনি।বাড়িতে সাজ সাজ রব।শান্তি ফিরেছে যেনো বাড়িতে।গিন্নিরা রান্নাঘরে ব্যাস্ত সময় পার করছেন।
রাতে আজ অনেকদিন পর সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া করবেন।
বাড়ির নাতি নাতনি রা সবাই চন্দ্রা দেওয়ান এর ঘরে।ইশান আর নয়ন বাদে।নয়ন ঘরে,ইশান ফেরেনি বোধহয়।
রাত সাড়ে নয়টা।খাবার খেয়ে আবার সেদিনকার মতো বৃদ্ধার ঘরে ছোটখাটো আলোচনা সভা বসেছে।যা বলার চন্দ্রা দেওয়ানই বলবেন যদিও।বিয়ের ডেট নিয়ে।কিছুক্ষণ এর মধ্যে নয়ন,ইশান এসেও ঢুকলো।নয়ন হাস্যজ্জল ভাবে বসলো বোনদের সাথে।
ইশান ঘরে ঢোকার সময় চোখাচোখি হলো তিতির এর সাথে। চোখ সরিয়ে নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বসলো বিছানার পাশে।
“দাদুভাই এসেছো?”
ইশান হেসে হাত ধরলো। “এখন শরীর কেমন লাগছে?”
“ভালো।দাদুভাই? “
“বলো”
“আমি তোমাকে জোর করেছি।তুমি চাইলে এখনো না করতে পারো।আমি নিজেকে বুঝিয়েছি। কোনো জোর আমি করবো না।এবার রাগ করে বলছি না।”
ইশান দু দিকে মাথা নাড়লো।নরম গলায় বললো,”,জোর নয়।আমিই রাজি।সেদিন হুট করে ওভাবে শুনে রেগে গেছিলাম।আমার অমত নেই।”
চন্দ্রা দেওয়ান খুব খুশি হলেন।তিতির এর দিকে তাকালো।তিতির এর মুখটা শুকনো।”পুত্তুল?”
তিতিরও হাসার চেষ্টা করলো।”আমি তো আগেই বলেছি নানুআপু।তোমার কথাই শেষ কথা আমার জন্য। “
বৃদ্ধার মুখে সন্তুষ্টতা ফুটে উঠলো।
“বেশ। তাহলে আমার কথা টা বলি।পুত্তুল এর এখন ছুটি।দেরি আমি করতে চাইনা।আমার শরীর এর যা অবস্থা। দূরে তারিখ ফেললে আবার আল্লাহ আমাকে না দূরে করে নেন ততদিনে।”
“আহ মা কি বলছে এসব।”
“নাহ বড় খোকা।বলতে দে।আজকে বুধবার। আমি পরশুদিনই ওদের বিয়েটা সেরে ফেলতে চায়।”
সবাই চমকে তাকালো একে অপরের দিকে।
“কিন্তু মা।একদিন এ কি হবে!কত আয়োজন এর ব্যাপার!”
“সেটা ভেবেছিলাম বড়খোকা।কিন্তু…
একঝলক তাকালো তিতির আর ইশান এর দিকে।
“ওরা যতই বলুক।বিয়েটা হুট করেই হচ্ছে। আমি চাই ঘরোয়া ভাবে বিয়েটা হোক।আমার শরীর ভালো না।এখন এতো হৈচৈ পোষাবে না।ওরা নিজেদের মানিয়ে নিক।তারপর না হয় ধুমধাম করে নয়নের আর ইশান এর বিয়েটা হবে আবার।”
কথাটা মন্দ নয়।সবারই মনমতো হলো।কাল বাদে পরশু শুক্রবার বিয়ের ডেট ফিক্সড করা হলো।ঘরোয়া ভাবে হলেও ঘরের আয়োজন তো আছেই।বাড়িসুদ্ধ সবার ব্যাস্ততা শুরু হয়ে গেলো একপ্রকার।
আত্মীয় সজন দূরের সেরকম কাউকে ডাকা হবে না।পাড়া প্রতিবেশীর মধ্যে শুধু রাইসুল দেওয়ান এর আপন চাচাতো দুই ভাইকে জানানো হবে পাশের বাসা থেকে।আর ইশান এর বন্ধু কয়েকজন।আয়োজনে ওদের হাত ছাড়া এতো দ্রুত তারা পেরেও উঠবে না।তাছাড়া ছোটথেকে সবসময় একসাথে তারা, না জানালে চলবে?
সাঁঝের মায়া পর্ব ১৫
নিয়াজ,অনিমা,সাজিদ,নাইম রিতু কে ইতিমধ্যেই ফোন করে বাড়িতে আসার কথা জানিয়েছেন রাইসুল দেওয়ান।ঘরোরা হলেও ঘরটা তো সাজাতে হবে নাকি।দেওয়ান বাড়ির ছেলেমেয়ের বিয়ে এতো মরাধরা হলে চলে?তিতির এর অবশ্য এই গ্রামে তমা ছাড়া কোনো বান্ধবীই নেই।আর তমা রা পরিবার এমনিতেও থাকবেই।
ছেলে মেয়ে দুটো নিজেদের মানিয়ে নিলে দু তিন মাস পর একেবারে ঢাক ঢোল পিটিয়ে আয়োজন করা হবে।ততদিন না হয় বেশি মানুষ জানাজানি না হলো।নিজেদের মধ্যেই থাকুক এটা।তাছাড়া জানলেও বা কি।জানতে থাকুক।ততদিনে এদিকটায়ও সব ঠিক হয়ে যাবে।
