Home তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৬

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৬

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৬
তানিশা সুলতানা

বাংলাদেশের চৌধুরীদের বিজনেস এর একটা শাখা সুইজারল্যান্ড এ রয়েছে। তবে আবরার কখনোই নিজেদের অফিসে যায় নি। আমানকে ম্যানেজার বানিয়েছে। সব খোঁজ খবর আমানই দেয় তাকে। মাঝেমধ্যে কোথাও সিগনেচার লাগলে সেটা দিতে হয়।
আর আবরার এর তাসিন ফ্যাশন হাউজ এর দায়িত্বে রয়েছে সিয়াম এবং আহাদ।
ইভানের কোনো কাজ নেই। কারণ সে অলস প্রকৃতির। সে খায় দায় ঘুমায় আর মাঝেমধ্যে দুই অফিস থেকেই ঘুরে আসে।

আজকে আবরার অফিসে এসেছে৷ আসলে আসতে বাধ্য হয়েছে।
চীনের এক সফল বিজনেস ম্যান এর মেয়ে দেখা করতে চেয়েছে৷ তার সঙ্গে ডিল করতে পারলে তাদের কোম্পানি আরও বড় করা পসিবল। বিশ্বের নাম্বার ওয়ান কোম্পানি বানানোর চান্স রয়েছে।
তাই হাফিজুর রহমান আবরারকে কল করে আফিসে আসার অর্ডার দিয়েছে।
বাবার কথা না শুনলেও দাদার কথা অমান্য করার সাধ্য আবরারের নেই।
তাই আসতেই হলো।।
অফিসের পার্কিং এরিয়ায় গাড়ি পার্ক করে অফিসে ঢুকতে যেতেই দুজন গার্ড সালাম জানিয়ে দরজা খুলে দেয়।
তাদের নজর আবরার তাসনিনের ওপর আটকে আছে। ফর্মাল ড্রেসআপে দারুণ লাগে তাকে। ঠিক কোনো রাজ্যের রাজপুত্রের মতো।
এই যে সাদা শার্ট, কালো কোট, কালো ট্রাই, কালে সুজ। হাতে ঝুলছে রোলেক্স কোম্পানির দামি ঘড়ি। চুল গুলো জেল দিয়ে সেটআপ করা।
পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে হাঁটছে। কোনোদিকেই তার নজর নেই। অথচ অফিসে কর্মরত সকল স্টাফরা তাকে সালাম জানাচ্ছে। গুড মর্নিং বলছে।

প্রতিত্তোরে সে কিছুই বলছে না।
আবরারের অফিস রুমটা ভীষণ সুন্দর। আব্দুল রহমান নিজ হাতে সাজিয়েছে।
দেয়ালে আবরারের বিশাল বড় এক খানা ছবিও টাঙানো।
আবরার অফিস রুমল ঢুকে চেয়ারে বসে। ঘাড়ে হাত রেখে অদ্ভুত ভঙ্গিমায় ঘাড় বাঁকায়। মটমট শব্দ হয়।
তখুনি আমান আসে। হাতে কফির মগ।
“ওয়েলকাম বসস
আবরার কফির মগ হাতে নিয়ে তাতে চুমুক দেয়।।খানিকটা বিরক্ত ভঙ্গিমায় বলে
” মিস ইয়াং ইউ কখন আসবে?
“অলরেডি চলে এসেছে সে। পাঁচ মিনিটে এখানে আসবে।
” ওকেহহহ
তুই এখন আসতে পারিস।

“হ্যাঁ যাচ্ছি
বেস্ট অফ লাক
চলে যায় আমান। আবরারের কফি শেষ হতে না হতেই ইয়াং ইউ কক্ষে প্রবেশ করে। বিরক্ত হলে আবরার। নক করে ঢোকাটা মেনার্স।
এক পলক তাকায় মেয়েটার দিকে।
ধবধবে ফর্সা, হাঁটু ওবদি লাল ড্রেস পড়েছে। চুল গুলে ঝুঁটি বাঁধা। বেশ সুন্দর।
মেয়েটা এগিয়ে এসে আবরারের মুখোমুখি বসে। আলতো হেসে বলে
” তাসিন
ভালো আছেন?
“ইয়েস
” আমি কেমন আছি জিজ্ঞেস করবেন না?
আবরার কিছু বললো না। তাকিয়ে রইলো মেয়েটার মুখ পানে।
“আপনি সম্পর্কে সব কথাই জানি আমি। এনিওয়ে আপনার সঙ্গে পার্টনারশিপে বিজনেস করতে চাই।
আবরার নিজের ফোন খানা হাতে নিলো। গ্যালারি ঘেটে আদ্রিতার এক খানা পিকচার বের করে মেয়েটার দিলে ফোন এগিয়ে দেয়।

” ওয়াও নাইস
হু ইজ সী?
“মাই অক্সিজেন।
মেয়েটা ভ্রু কুচকে ফেলে। আবরার নিজের ফোন খানা ফেরত নিতে নিতে বলে
” আমি তাকে ভালোবাসি।
সে আমার আসক্তি। আমি অনুমান করতে পারছি যে আপনি আমার পছন্দ করেন।
সেই জন্যই হয়ত বিজনেস করতে ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছে। বাট এ’ম স্যরি
“বিজনেস পার্টনারা রিলেশনশিপ এ যাবে ইটস কমন ম্যাটার।
বউ বাড়িতে। গার্লফ্রেন্ড অফিসে।।
” স্যরি মিস

অফিস বাড়ি ইহকাল পরকাল আমি শুধু ওই একটা মেয়ের প্রতি ইন্টারেস্টেড।
সে ছাড়া গোটা দুনিয়ার কোনো নারীই পারফেক্ট নই।
ইয়াং ইউ অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকে আবরারের মুখ পানে। “আবরার তাসনিন” সুইজারল্যান্ড এবং বাংলাদেশে সহ বিশ্বের সব দেশের মানুষই তাকে চেনে। কার রেস কিংবা বাইক রেসে তাকে হারানোর মতো কেউ নেই৷ এক টানা ৬ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
তার সৌন্দর্যের মুগ্ধ হয় নি এমন নারীর সংখ্যা খুবই কম। প্রতিটা মেয়ের ড্রিম বয় সে।
অথচ তার ড্রিম গার্ল সাধারণ একটা মেয়ে?
দেখতেও এট্রাকটিভ নয়।
ইয়াং ইউ বিশ্ব সুন্দরী। তাকে পছন্দ করে না এমন কেউ নেই।
মুহুর্তেই যে কোনো ছেলে ফিধা হয়
তাকল আবরার তাসনিন রিজেক্ট করছে?
ইয়াং ইউ হেসে উঠলো।
বললো
“বিজনেস করতেই হবে। অলরেডি ডিল সাইন করে দিয়েছে আপনার বাবা।
” ওকেহহহ
আমাদের এই বিজনেস বাবার রেসপন্সিবিলিটি। আশা করি সাকসেস হবে।
শুভ কামনা
বলেই আবরার চলে যায়। ইয়াং ইউ কিছু বলার সুযোগই পায় না।

আদ্রিতার সব সময়কার সঙ্গী এ্যানি। ভীষণই ভালো বাচ্চা। তবে একটু দুষ্টু। আদ্রিতার মতোই ছটফটে। এক মুহূর্ত কোনো জায়গায় স্থির থাকতে পারে না।
এই যে এখন আদ্রিতা এবং এ্যানি বেরিয়েছে হাঁটছে৷ সুইজারল্যান্ড এর ফাঁকা রাস্তায় জুরিখ নদী দেখতে দেখতে হাঁটতে মজাই লাগছে। এখন যদি রাস্তার পাশে ঝালমুড়ি দোকান থাকতো আরও মজা হতো। আদ্রিতা খেতে পারতো।
আসলেই সুইজারল্যান্ড এর রাস্তা ঘাটে ঝালমুড়ি দোকান, ফুসকা দোকান থাকা অতিবজরুরি।
আদ্রিতা ভেবে ফেলেছে সেই একটা ফুসকা দোকান দেবে।
জুরিখ নদীর হাওয়া খেতে খেতে বিক্রি করবে। হাতে কিছু টাকাও আসবে সময়ও কাটবে।
ভাবনার মাঝেই খেয়াল করে এ্যানি সোজা হাঁটছে না। সে লাফিয়ে রাস্তার নিচে চলে গিয়েছে। যেনো জুরিখ নদীর কাছাকাছি যেতে চাচ্ছে। আদ্রিতা অবশ্য সেদিকে পাত্তা দিচ্ছে না। বিশ্বাস আছে এ্যানি হারাবে না।
হঠাৎ করে নজর পড়ে রাস্তার পাশে একটা ফুল গাছ। কি সুন্দর ফুল। কিন্তু ওনেকটা উঁচুতে। আদ্রিতা এক দৌড়ে গাছটার কাছে গেলো। খানিকক্ষণ লাফালাফি করলো ফুল ছিঁড়তে। তবে পারলো না। যখন হতাশ হয়ে ফিরে যেতে নিলো তখনই বড়সর একটা হাত এসে এক থাবায় ফুল গুলো ছিঁড়লো। এবং আদ্রিতার পানে এগিয়ে দিয়ে বললো
“জাস্ট ফর ইউ।
আদ্রিতা ফুল গুলো হাতে নিয়ে লোকটার মুখ পানে তাকালো। টিশান নাম। একদিন দেখা হয়েছিলো। ও ভোলে নি।
তাই খুশিতে গদগদ হয়ে বলে ওঠে

” ওই একদিন দেখা হয়েছিলো আমাদের।
টিশানও হাসলো।
“মনে আছে তাহলে?
” আমি কিচ্ছু ভুলি না। সব মনে থাকে।
বাই দ্যা ওয়ে আপনাট বাসা কোথায়?
ছেলেটা দেখালো জুরিখ নদীর ওপরে থাকা ব্রিজের ওই পাশে দোতলা বাড়িটা। দেখতে বেশ সুন্দর তবে আবরার তাসনিন এর বাড়ির মতো অতোটাও না।
“আমাদের বাড়িটা ওই দিকে।।
চিনেন আপনি?
আবরার’স হাইজ।
” হুমম চিনি।
“ঠিক আছে একদিন চা খাওয়ার দাওয়াত দিবো
বাকিটা শেষ করার আগেই দেখতে পায় এ্যানি একদম নদীর কাছাকাছি চলে গিয়েছে। আদ্রিতার আত্মা কেঁপে উঠলো যেনো। সে “এ্যানি” বলে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে সেদিকে পা বাড়ায়। টিশান পেছন থেকে ডাকছে তবে আদ্রিতা শোনে না। নদীর কাছাকাছি গিয়ে এ্যানিকে কোলে নিয়ে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে।

“দুষ্টু
এখুনি না নদীতে পড়ে যেতিস।
এতো ছটফট যে কেনো করিস?
আবরারের গাড়ি খানা এই রাস্তা ধরেই যাচ্ছিলো।
আজকে ড্রাইভার ড্রাইভ করছে। হঠাৎ আবরার খেয়াল করে আদ্রিতা জুরিখ নদীর একদম কোণায় দাঁড়িয়ে আছে। মুহূর্তেই ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বলে। এবং নিজে নেমে দৌড়ে এগিয়ে যেতে থাকে।
আদ্রিতার কাছাকাছি গিয়ে জাপ্টে জড়িয়ে ধরে। কাঁপা-কাঁপা স্বরে বলে

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৫

” ত…..তুমি এখানে কেনো?
নদীতে পড়ে গেলে কি হতো?
আদ্রিতা অনুভব করতে পারছে আবরারের বুকের কাঁপন৷ একটুখানি অবাকও হচ্ছে। এতো বড় হাতি আবার ভয়ও পায়?

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৭