Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ২৯

সে আমার বন্দিনী পর্ব ২৯

সে আমার বন্দিনী পর্ব ২৯
তানিয়া হুসাইন

হঠাৎ ধারাম করে দরজা খোলার শব্দ হয়।
ভয়ের একটা তরঙ্গ বয়ে যায় পুরো ঘরে।
ইশায়া গা ছমছমে শব্দে আতকে ওঠে।
তার চোখ যায় দরজার দিকে,
আর ঠিক তখন-ই সে দেখে ভীরকে।
মুহূর্তেই তার মুখের রং বদলে যায়
চোখের পাতা থেমে যায় কাঁপতে কাঁপতে।
গলা শুকিয়ে আসে আতঙ্কে,
তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে।

__ভীর দাড়িয়ে যায় দরজায়।
তার চোখ জুড়ে ঝড়, গভীর কিছু, একরোখা অধিকারবোধ।
ভীর শরীর আর মস্তিষ্কের গভীর ক্লান্তির ভার টেনে ঘরে ঢোকে,
ঢুকেই শরীরটা ডিভানে এলিয়ে দেয়।
তার চোখ লাল, ক্লান্ত, তবু ও সেই চোখেই যেন অদ্ভুত শান্তি খোঁজে।
তার চোখ পড়ে ইশায়ার উপর।
মেয়েটা একপাশে বসে আছে ঠায়, নিঃশব্দ, নিঃসাড়।
তবে তার চোখে ভয় গাঢ় হয়ে জমে আছে,
___ভীর কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।
তার চোখের চাহনি তীব্র,
একবারও মৃদু হয়নি।
__চোখের ইশায়ার ইশায়াকে কাছে আসতে বলে।
___ইশায়া গাট হয়ে বসে আছে,
সে এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।
এই লোকটা এতো দ্রুত কেনো চলে আসলো।
___ভীর হঠাৎ কঠিন স্বরে বলে ওঠে,
Come here.
আসতে বলেছি না, বসে আছিস কেনো?

___ইশায়ার সারা শরীর কেঁপে ওঠে।
ভীরের চিৎকারে।
সে জানে,
এই ডাক মানেই আবারও তাকে হারিয়ে যেতে হবে এক অন্ধকার গহ্বরে।
এই লোকের হাত থেকে তার নিস্তার নেই।
তবুও, প্রশ্ন করার বা পিছিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তার নেই।
সে জানে তার পরিণতি কি হবে।
___ইশায়া ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়,
পা দুটো যেন তার ভারী হয়ে আসে।
তবু এগিয়ে যায়,
ঠিক যেন এক পাখি, খাঁচার ভেতরে ফড়ফড় করা অবস্থায় মালিকের হাতে গিয়ে বসছে।
ইশায়া জানে তার কাজ কি,
ভীরের দিকে এগিয়ে এসে যেই নিচে ঝুকতে যাবে।
তখন-ই ভীর হঠাৎ ইশায়ার হাতের কব্জি ধরে
এক টানে তাকে নিজের উরুর ওপর বসিয়ে নেয় তাকে।
একহাতে টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।
এই শরীরের চুলের ঘ্রাণ যেন তাকে মাতাল করে তুলে।
ইশায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ছোট্ট শরীরটা ভীরের শক্ত পোক্ত বুকের সাথে চেপে যায়।
ভীর দুই হাতে তাকে আঁকড়ে ধরে লম্বা শ্বাস টানে।
এই মেয়েটার জন্য সে এক দন্ড ও শান্তি পায়না।
মাথায় জেকে বসে থাকে সারাটাক্ষন, ঘুম অবদি আসে না চোখের পাতায়।
মাফিয়া বস এই মেয়ের প্রতি তার অবসেশন যেন কাটিয়ে উঠতে পারছে না।
দিন দিন সে যেন আরো ডুবে যাচ্ছে।অতল গহব্বরে হারিয়ে যাচ্ছে।

___ইশায়া চমকে ওঠে।
তার বুক অস্বাভাবিক ভাবে ওঠানামা করে, নিঃশ্বাস এলোমেলো।
ভয় পেয়েছে সে এমন কাজে।
ইশায়া সরে যেতে চায়,
কিন্তু ভীরের হাতের বাঁধন খুলে না।
ভীর নিঃশব্দে তার ঘাড়ে মুখ রাখে,
ঠোঁট ছোঁয়ায় তার উষ্ণ ত্বকে,
আরো জড়িয়ে নেয় নিজের সাথে।
এদিকে ইশায়ার মনে হচ্ছে তার শরীরের সব হাড্ডি ভেঙে যাবে।
নড়া চড়া করতে গেলেই আরো শক্ত করে আকড়ে ধরে ভীর।
এ যেনো এক নীরব হুমকি,
যতো দূরে যেতে চাইবে আমি তোমাকে ঠিক আগের থেকেও বেশি কাছে টেনে আনবো।
ভীর ইশায়ার গলায় ঠোঁট বোলাতে বোলাতে ঠান্ডা গলায় বলে,

__এতো শুকাচ্ছিস কেনো?
খাস না ঠিক মতো? আমি তোকে কী কম দেই বল?
এর পর ও এই অবস্থা কেনো।
ইশায়া চুপ থাকে।
নীরবতা যার অর্থ বোঝে ভীর।
আরো শক্ত করে জড়িয়ে নেয় নিজের সাথে।
ইশায়া হাসফাস করে ওঠে।
ভীর আবারো বলে,
দিন দিন এতো ভেঙে যাচ্ছিস কেনো?
আমি তোকে ঠিকমতো খাওয়াই, রাখি, যত্ন নেই
কোন কিছুর কমতি নেই।
যা প্রয়োজন তা লাগার আগেই সামনে হাজির থাকে,
তাহলে এই দুর্বলতা কেনো।
শরীরে তো হাড্ডি ছাড়া আর কিছুই নেই,
বলতে বলতেই ভীর একহাত তার টি-শার্ট এর ভেতরে হাত গলিয়ে উন্মুক্ত উদরে হাত রাখে।

___ইশায়া হঠাৎই কেঁপে ওঠে, কাঁপে বুকটা।
তার চোখে ভয়ের সাথে সাথে একটা ভেতর থেকে গলে ওঠা অসহায় আবেগ।
___ভীরের স্পর্শ গাঢ় হয়।
গাঢ় থেকে গাঢ় হয়।
হাতের ছোয়া এলোমেলো,
ইশায়া হঠাৎই ভীরের চুল মুঠোয় ধরে।
ভীর থামে না। আরো বেশামাল হয়ে ওঠে।
ভীরের হাতের চাপ বাড়লে ইশায়া ব্যাথায় কুকিয়ে ওঠে,
ভীরের অবাধ্য হাতের ছোঁয়া বরাবর-ই বেসামাল।
তার দৃষ্টিতে তখনো ক্ষুধা, অধিকার আর একরকম আবেগময় উন্মাদনা।
এই মেয়েটাকে না পেলে তার মাফিয়া সাম্রাজ্যও যেন শূন্য লাগে।
ইশায়ার চোখে জল জমে ছিল নিঃশব্দ কান্নার মতো।
তবে সেই কান্নাও নড়াতে পারেনি ভীরকে।
সে ধীরে ধীরে সরে আসে, ঠান্ডা অথচ বিষময় কণ্ঠে বলে,
এতোদিনেও সহ্য করতে শিখিসনি?
আমাকে বুঝতে শেখ, কারণ আমি ছেড়ে দেওয়ার মতো পুরুষ না।
তাই নিজেকে মানিয়ে নে।
আমি সব সময় নিজের টাই দেখি।
নিজেকে সব কিছুর উপরে রাখি যা
ভালোবাসার, মায়ার, সহানুভূতির ঊর্ধ্বে।
আমি জানি আমার ছোঁয়া তীব্র,আমাকে সহ্য করা সহজ নয়,
তবে দুঃখের কথা হলো তোর সামনে আর কোনো রাস্তা নেই।
তার কণ্ঠে ছিল এমন এক দম্ভ, যা গলা টিপে শ্বাস বন্ধ করে দেওয়ার মতো।

__ভীর পকেট থেকে একটি ছোট বক্স বের করে।
মখমলের মতো কোমল কালো কাপড়ে মোড়া সেই বক্স খুলে,
বের করল এক ঝলমলে ডায়মন্ডের পেন্ডেন্ট,
সে নিজেই ইশায়ার গলায় পরিয়ে দিল পেন্ডেন্টটা।
তারপর মাথা নামিয়ে, কণ্ঠনালীর ঠিক নিচে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়।
ইশায়াকে ছেড়ে ভীর উঠে দাঁড়ায়।
চোখের নিচে গভীর ছায়া, শরীর জুড়ে তীব্র ক্লান্তি।
এখন শাওয়ার নিতে হবে তাকে।
ধীর কণ্ঠে বলে ওঠে,
___অনেক ঘুমিয়েছিস এই কয়দিন,
Now get ready for a sleepless night.
tonight belongs to me.
ওয়াশরুমের দিকে এগোতে এগোতে বলে ওঠে,
গার্ডেনে যেতে ইচ্ছে হলে মারিয়া এলেনাকে বলবে।
আমি বলে দিয়েছি তাকে,
তবে দিনে একবার, মাত্র ৩০ মিনিট এর বেশি না।
____ভীর শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে খালি গায়ে, তার চুল ভেজা, পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে কাঁধ বেয়ে বুকের মাঝখানে।
তার দেহটা যেন পাথরের মতো শক্ত আর আগুনের মতো গরম।
শরীরে ক্ষত চিহ্নের অভাব নেই।
ইশায়ার চোখ এক মুহূর্তের জন্য পড়লেও সে দ্রুত চোখ নামিয়ে নেয়।
ভীর ধীরে বিছানায় বসে, টাওয়ালটা ইশায়ার দিকে বাড়িয়ে দেয়।
নির্দেশ দেয় চুল মুছে দেওয়ার জন্য।

___ইশায়া ভীরের সামনে এসে দাঁড়ায়,
ভীর দু’পা সরিয়ে তাকে মাঝখানে দাঁড়াতে বলে চোখের ইশায়ার।
ইশায়া আসে ভীর তার দু’হাতে ইশায়ার কোমর চেপে ধরে।
ঠান্ডা হাতের স্পর্শে তার শরীরে কাঁপন ধরায়।
ইশায়া হাত চালায় চুলে, এগুলো এখন তার অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে।
এই নিস্তব্ধতা ভাঙে দরজায় টোকা পড়ে
মারিয়া এলেনা ভীরের খাবার এনে রেখে যায়।
ভীর চোখ না তুলে বলে,
খাবার সার্ভ করো।
ইশায়া খাবার প্লেটে নেয়,
তারপর প্লেট হাতে ভীরের সামনে আসে।
ইশায়ার হাতেই খায় সে।
তার সব কাজ-ই এখন ইশায়াকে করে দিতে হয়।
খাওয়া শেষ হলে ভীর উঠে যায় কাবার্ড থেকে একটা টি শার্ট নিয়ে গায়ে জড়িয়ে নেয় ।
ড্রয়ার খুলে বের করে একটা কালো পেনড্রাইভ এটা
মাফিয়ার প্রতিদিনকার নীরব যন্ত্র।
এটায় থাকে তার যাবতীয় সবকিছু ডকুমেন্টস ইনফরমেশন।
এটা নিয়েই বেরিয়ে পরে কাকে ফোন করতে করতে।

নিকো সবে মাত্র ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে,
একসাথে ফিরলেও সে একটা কাজে বেরিয়ে যায়।
ভেজা চুল, শরীরে এখনও জল ঝরছে।
একটা ট্রউজার পরা, ওপরে কিছু নেই।
চোখে সেই চিরচেনা ঠান্ডা দৃষ্টিভঙ্গি।
তবে দৃষ্টিটা মুহূর্তেই বদলে যায়,
যখন সে নিজের বিছানার ওপর ইসাবেলাকে বসে থাকতে দেখে
একটা ছোট রিভিলিং ড্রেসে, চোখে রূপের ঝড়।
___ইসাবেলা আলভারেয!
এখানে কোন উদ্দেশ্যে?
নিকোর কণ্ঠ ঠান্ডা, কিন্তু চোখে সন্দেহ।

___ইসাবেলা উঠে দাঁড়ায়, তার পায়ের শব্দ যেন মেঝের ওপর একেকটা গর্জন।
সে এগিয়ে এসে নিকোর খোলা বুকের ওপর আঙুল বুলিয়ে বলে,
কেন, এমনি আসতে পারি না?
নিকো একপাশে সরে যায়।
গিয়ে টেবিল থেকে বোতল তুলে নেয়,
গ্লাসে ঢালে গাঢ় হু*ইস্কি,
তাকায় তার দিকে,
চোখে নেশার ঘোরে ঝলক, কিন্তু ঠোঁটে নির্লিপ্ততা।
সে ধীরে ধীরে চুমুক দেয়,
তাকিয়ে দেখে ইসাবেলাকে,
চোখে ঠিকরে পড়ছে কা*মনার আগুন।
___কি চাইছো?
কণ্ঠে গাঢ় ক্লান্তি, কিন্তু দৃষ্টিতে নিরুত্তাপ পলক।
ইসাবেলা হেসে ওঠে,
তোমাকে।
আর সেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো।
__নিকো চোখ নামিয়ে চুমুক দেয় আবার,
তার ঠোঁট থেকে ফিসফিস করে বেরিয়ে আসে,
তুমি ভীরের বোন।

___ইসাবেলা তখন গাঢ় অন্ধকারে দাঁড়িয়ে,
তীব্র চোখে বলে ওঠে
সো হোয়াট? সৎ বোন।
আর আমি কি করলাম না করলাম এতে ভীরের কিছু যায় আসে না।
সেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো।
___আর ব্রো এর কাছে তোমার প্রায়োরিটি অনেক।
সো এসব সিলি বিষয় নিয়ে ব্রো কখনোই মাথা ঘামাবেনা।
আর না কখনো কিছু জানলেও তোমাকে জিজ্ঞেস করবে।
___ব্রো কখনো আমার বা মা এর জীবন নিয়ে মাথা ঘামায়নি।
তাই এইখানে কোন রুলস চলে না।
তুমি আমার চাহিদা মেটাবে শুধু এটুকুই দরকার।
আমার তোমাকে চাই।

____নিকো চুপ করে তাকিয়ে থাকে।
এই নীরবতাতে ইসাবেলা সাহস পায়।
এই নিকোর জন্য-ই তার এখানে থেকে যাওয়া।
কিন্তু সুযোগ খুঁজে পায়নি কখনো।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে,
তার ঠোঁটে নরমভাবে রেখে দেয় নিজের ঠোঁট,
এবং পর মুহূর্তেই নিকো তাকে জড়িয়ে ধরে।
শুধু জড়িয়ে না, সে আঁকড়ে ধরে যেন সেই শরীরেই আশ্রয় খোঁজে।
একদম বন্য, অপ্রতিরোধ্য আবেগে।
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে সে পিছিয়ে যেতে থাকে বিছানার দিকে।
ইসাবেলা একটুও বাধা দেয় না।
উল্টো ঝাপটে ধরে।
সে যেন ঠিক এই জ্বালায় পুড়তে চায়।
বিছানার কাছে এসে হঠাৎ করে নিকো তার শরীরকে টান দিয়ে তুলে নেয়
আর এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলে দেয় নরম বিছানায়।
ইসাবেলা হালকা চিৎকার করে ওঠে,
ভয়ে নয় বরং উত্তেজনায়।

নিকো একদম দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ওপর।
তার চোখ দু’টোয় সেই অন্ধকার, যা শুধু তীব্র আকাঙ্ক্ষার নয়,
বরং আত্মিক ক্ষুধার, যা একবার জেগে উঠলে কিছুতেই থামে না।
এই আহবানে নিকো খুশি, তার আজকের রাতটা বৃথা গেল না।
নিকোর ঠোঁট চলে যায় গলার নিচে, কাঁধ বেয়ে বুকে,
একেকটা চুমু যেন দাবীচিহ্ন।
ইসাবেলার নিঃশ্বাস গাঢ় হয়ে ওঠে,
তার শরীর পুড়ে যেতে থাকে সেই ছোঁয়ায়।
রুমের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে
শুধু নিঃশ্বাস আর শরীরের ঘর্ষণের শব্দ।
ইসাবেলার কাছে এটা স্বপ্নের হলেও, নিকোর কাছে না।

ভীর আর বাড়ি ফেরেনি রাতে। ডিয়েগো আর এনরিকো কে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলো।
___ইশায়া বেচে যায় সেই রাতে, ইশায়ার জন্য রাতটা শান্তির ছিলো।
ফজরের নামাজের পর ইশায়া উঠে নামাজ পড়ে নেয়,
তারপর অনেকক্ষণ বসে কোরআন তেলাওয়াত করে।
এরপর ঘড় জুড়ে পায়চারি করে।তার তো করার মতো আর কিছুই নেই।
ঘুম ধরা দেয় না চোখের পাতার।
সেই মুহূর্তে সে তাকায় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মারিয়া এলেনার দিকে।
হঠাৎই নিজের ভেতর জমে থাকা সাহসটুকু গলায় তুলে বলে,
আমাকে একটু বাইরে নিয়ে যাবেন, প্লিজ?
___মারিয়া এলেনা অবাক হয়ে তাকায় ওর দিকে।
ইশায়া মুখ ফুটে কিছু বলেছে এটা অবিশ্বাস্য তার কাছে।
অন্য চারজন নারী গার্ডসহ বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
চারদিকের অপার সৌন্দর্য, পাহাড়-পর্বত, সবুজের বিস্তার,
আর সেই অট্টালিকা যার প্রতিটি দেয়ালে রাজভীরের একচ্ছত্র আধিপত্য সব দেখতে দেখতে হাঁটতে থাকে ইশায়া।
হঠাৎই প্রাসাদের পেছনের দিক থেকে গর্জন করে ওঠে দুই বিশাল দেহী কুকুর।
কালো বাদামী রঙের, মাংসপিন্ডে ভরা সেই জন্তুদুটোর চোখে যেন আগুন।
চেইনে বাঁধা, তবুও সামনের দিকে এমনভাবে ছুটে আসে যে মাটিতে কাঁপন ধরে যায়।
ইশায়া থমকে দাঁড়ায়।
তার পা থেকে যেন রক্ত সরে যায়।
আতঙ্কিত দৃষ্টিতে পশুগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ,
তারপর হঠাৎ পেছনে ঘুরে দৌড় দেয় বাড়ির ভেতরের দিকে।
খুব ভয় পায় সে এগুলো।

___সিঁড়ির সামনে পৌঁছেই ইশায়ার পা থেমে যায় নিকোকে দেখে।
তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে নিকো।
___নিকো ইশায়াকে দেখে ঠোঁটের কোণে হালকা এক বিষাক্ত হাসি টেনে বলে,
___কি খবর ম্যাডাম?
কেমন আছেন?
সব ঠিকঠাক চলছে তো?
ইশায়ার মুখ মুহূর্তেই বিবর্ণ হয়ে যায়,
ভয়ের নতুন ছায়া নামে চোখে।
ভীরের রাগ যতটা তীব্র,
নিকোর চোখের সেই ঠাণ্ডা নিষ্ঠুরতা যেন আরও ভয়ঙ্কর।
মুখে কিছু বলার সাহসও হারিয়ে ফেলে সে।
___নিকো ধীরে ধীরে ইশায়ার দিকে এগিয়ে আসে।
তার চোখে কৌতুক ঠোঁটে বাঁকা হাসি,
ইশায়ার শরীরের দিকে একবার তাকায়,
পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে,
তার গলার কালচে দাগ, ঠোঁটের ফোলাভাব, ক্লান্ত চোখ, আর লাল হয়ে থাকা গাল সবকিছুই নজরে আসে তার।

___ঠোঁট কামড়ে কটূভাষায় বলে,
একা একা কেমন লাগে বলো তো?
জানি তোমার নিশ্চয়ই ভালো লাগছে না,
কিন্তু কি করার বলোতো তোমার বোন তো তোমার খুব ভালো খেয়াল রাখত,
কিভাবে আগলে আগলে রাখতো তোমাকে সব সময়।
এজন্যই তো তোমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য তোমার বোনকে ও নিয়ে এসেছিলাম তোমার সাথে।
যদিও সে ছিল ঝামেলা।
__নিকোর কথায় ইশায়ার চোখে সাফার রক্তাক্ত মুখ ভেসে ওঠে।
সেদিনকার সব ঘটনা চোখের সামনে ভেসে আসে।
তার নিথর দেহ, নিঃসাড় চোখ,
আর সেই গলা জুড়ে শেষ নিঃশ্বাসের চাপা আর্তনাদ।
___নিকো আরও এগিয়ে এসে বলে,
তোমার বোনের তেজ টা বেশি ছিলো।
আর এই তেজটাই আমার পছন্দ ছিলো না,
তাই তো তেজটাই চিরদিনের মতো বের করে দিয়েছি।
কিন্তু আফসোস একবার…

সে আমার বন্দিনী পর্ব ২৮

___নিকোর কথায় ইশায়ার শরীরে যেন আগুন জ্বলে ওঠে।
চোখে নেমে আসে তীব্র ঘৃণা আর ক্রোধ।
হঠাৎ করেই সাফার সেই আগুন তার মধ্যে ফুটে ওঠে,
অদম্য সাহস নিয়ে সাইড টেবিলে রাখা ফুলদানিটা হাতে নিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে বাড়ি মারে নিকোর মাথায়।
___আহহহহ বলে চিৎকার করে ওঠে নিকো।
মাথা ধরে নিচে বসে পরে।
রক্ত গড়িয়ে পড়ে চোখ-মুখ ভিজিয়ে দেয়।
___সেই মুহূর্তে পাশ থাকা সমস্ত গার্ড ইশায়ার মাথায় বন্দুক তাক করে ধরে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩০