Home দুইজনাতেই দুইজনাতেই পর্ব ১

দুইজনাতেই পর্ব ১

দুইজনাতেই পর্ব ১
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

নিজেরই ভার্সিটির টিচার সাক্ষ্য এহসানের সাথে আকদ হওয়ার দুইমাস পর সাক্ষ্য দ্বিতীকে ক্লাসরুম থেকে বের করে দিয়েছে বেহায়ার মতো তাকিয়ে থাকার অপরাধে। সাথে পুরো ক্লাসের সামনে এটাও বলেছে যে,
“ ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে টিচারের দিকে এভাবে তাকিয়ে থেকে নিশ্চয় আপনার জ্ঞান বাড়ছে না দ্বিতীকা তাসনিম?”

টিচার? দ্বিতী কি টিচার হিসেবে তাকিয়ে দেখছিল নাকি? দ্বিতী তাকিয়ে দেখছিল তার বর সাক্ষ্য এহসানের দিকে। দুইমাস আগেই হুট করে বিয়ে করে, টুট করে এই ছেলের বউ হয়ে গেল সে। অথচ এই ছেলের দিকে তাকানোর অধিকার নাকি তার নেই।বউ হওয়ার আগেই তো দ্বিতী সিনিয়র ভাই হিসেবে বছর তিনেক ড্যাবড্যাব করে তাকাতে তাকাতে কাঁটিয়েছে। আর এখন? এখন কিনা টিচার হয়ে এই ছেলে ভাব দেখাচ্ছে? এই দুঃখে দ্বিতীর রীতিমতো দুঃখবোধের শেষ নেই। জাস্ট একটু তাকিয়েছে, একটুই তো তাকিয়ে দেখেছে সে এই লোককে অথচ এভাবে তাকে বের করে দিল? দ্বিতী দাঁড়ালই না৷ ফোঁসফোঁস শ্বাস তুলে নিজের মোটা ফ্রেমের চশমাটা মুঁছে নিয়ে সে ঝকঝকে চকচকে করে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিল ভার্সিটিতে যতগুলো ছেলে আছে, সবগুলার দিকেই সে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকবে।তাকাতে তাকাতে গিলে খাবে একেকটাকে, তবুও নিজের বর সাক্ষ্য এহসানের দিকে সে ভুলেও কখনো তাকাবে না। সত্যিই তাকাবে না।

দ্বিতী সত্যি সত্যিই ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে না থাকতে পারলেও সাক্ষ্যকে যখন এদিক দিয়ে যেতে দেখল তখনই সে ইচ্ছে করে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকল। দুয়েক কদম এগিয়ে হেসে হেসে কথা বলল,হাত মেলাল এমনকি ছবিও তুলল। অতঃপর বাড়ি গিয়ে আরাম করে সে মাকে জানিয়েছে সে এই হুট করে হওয়া বিয়ে মানে না।যে বরের দিকে তাকানোই যাবে সে বর নিয়ে সে আজীবন করবে কি? লাগবে না তার এমন বর। আকস্মিক এই কথাটা মজার ছলে হলেও পৌঁছাল সাক্ষ্যর পরিবারেও।তার মা হেসে হেসেই মজা করে মেয়ের কার্যকলাপ বলছিল আর হাসছিল। কারণ সাক্ষ্যর মা এবং দ্বিতীর মা উভয়েই ছোটবেলার বান্ধবী।মোটামুটি নিজেদের ছেলেমেয়ের সমস্ত কথাই তারা ফোনে ফোনে আলোচনা করে আর হাসিতে লুটিয়ে পড়ে। এই কথাটাও এভাবেই বলা। অথচ সাক্ষ্যর বাবা এমন কথা শুনে ছেলেকে দুয়েক কথা শুনিয়ে জানিয়েছে, পুত্রবধূর সম্পূর্ণ অধিকার আছে তার ছেলের দিকে তাকানোর। সাক্ষ্য এই নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়াই করল না। তবে ঠিক রাত এগারোটায় সে দ্বিতীদের বাড়ি গিয়ে হাজির হলো। দ্বিতীর আম্মুর সাথে শ্বাশুড়ি আম্মু স্বরূপ কুশলাদি না করে, জাস্ট মায়ের বান্ধবী হিসেবেই সালাম দিয়ে সোজা হাজির হলো দ্বিতীর কাছে। আকদ হওয়ার পর সাক্ষ্য এই প্রথমবারের মতো দ্বিতীদের বাসায় এসেছে, তাও না বলেকয়েই এসেছে।এই রাতের বেলায় এসেই শ্বাশুড়ি আম্মু, শ্বশুড় কারোর সাথে ভালোভাবে কুশলাদি বিনিময় না করে সোজা বউএর কাছে হাজির হওয়াটা কেমন দেখাল সাক্ষ্য ভাবলই না। তবে প্রথমেই দ্বিতীর রুমে গিয়ে দ্বিতীর সামনাসামনি দাঁড়িয়ে কথা ছুড়ল,

“ আমায় দেখতে চেয়েছেন না মিসেস সাক্ষ্য এহসান? নাও টাইম স্টার্ট। মন ভরে দেখুন। আপনি চাইলে আরো ডিটেইলসে ও দেখতে পারবেন, ওয়াইফ না? সম্পূর্ণ অধিকার আছে আপনার।”
দ্বিতীর মনোযোগ ছিল মোবাইলে। হুট করে সাক্ষ্যকে টের পেয়ে সে প্রথমে অবাক হলো। রাত এগারোটা! খেয়ে টেয়ে এখন ঘুমানোর সময়, আর এই সময়ে এই ছেলে কোথায় থেকে এসেছে? দ্বিতী বুঝার চেষ্টা করল। তবে ভার্সিটিতে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার বর সাক্ষ্য এহসানের দিকে কখনোই তাকাবে না সে তা এক মুহুর্তেই ভেঙ্গে গেল। সে তাকাল, বিশ্বাস না হওয়াতে চোখের চশমা খুলে আবারও তাকাল৷ না, সত্যিই সাক্ষ্য এহসান! দ্বিতী নাক মুখ কুঁচকে বলে উঠল,
“ কি আশ্চর্য! এতরাতে আপনি আমার বাসায় কেন স্যার? আশ্চর্য! ”
কথাটা বলার পরই দ্বিতীর মনে পড়ল সে এই ছেলের দিকে কখনোই তাকাবে না সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাই সঙ্গে সঙ্গেই চোখ নামাল। ওপাশ থেকে তা দেখে উত্তর এল,

“ তাকান আমার দিকে মিসেস দ্বিতীকা তাসনিম। যত খুশি মন ভরে দেখুন। আমি নিষেধ করব না এখন। আপনার জন্য আজ পুরো রাতটাই সময় নিয়ে এসেছি। ”
পুরো রাত? পুরো রাত এই ভদ্রলোক এখানে বসে থাকবে নাকি? দ্বিতী সরে গেল। অন্য পাশে গিয়ে নিজের কিছু এলোমেলো বই গোঁছাতে গোঁছাতে নাক সিঁটকে বলল,
” আপনি নিজেকে কি মনে করেন ? খুব সুন্দর যে মেয়েরা তাকিয়ে থাকবে আপনার দিকে? অথচ আমার তো আপনাকে দেখলেই বিচ্ছিরি লাগে। কি জঘন্য দেখতে আপনি! ”
সাক্ষ্য ঠোঁটটা বাঁকা হয়ে এল এবার কিছুটা। বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে ভ্রু বাঁকিয়ে শুধাল,
“ শিওর? মায়ের বান্ধবীর ছেলের পেছনে তো এতকাল ঠিকই পড়ে ছিলেন বেহায়ার মতো।এখন স্যারের পেছনেও পড়েছেন।লজ্জাজনক! ”
দ্বিতী জ্বলে উঠল। ঠিক এই কথাটা, এই কথাটা দ্বারা প্রমাণ হলো যে সাক্ষ্য বিয়েটা জাস্ট নামমাত্রই করেছে তাকে। এটা সত্য যে দ্বিতী এই ছেলেটাকে অনেককাল আগে থেকেই পছন্দ করত, আড়াল থেকে দেখে এসেছে কতশতবার। এমনকি ঐ ভার্সিটিতে ভর্তিও হলো ঐ ভার্সিটিতে সাক্ষ্য পড়ে জেনেই। তারপর যে ভার্সিটির সিনিয়র ভাই থেকে টিচার হয়ে যাবে, টিচার থেকে বর তা কে জানত? দ্বিতী ছোটশ্বাস ফেলে। এই পর্যন্ত সাক্ষ্য তেমন কোন সাইন প্রকাশই করেনি যাতে সে বুঝবে যে সাক্ষ্যরও তার প্রতি দুর্বলতা আছে। হতে পারে সাক্ষ্য জাস্ট এরেঞ্জ ম্যারেজ হিসেবেই বিয়েটা করেছে। দ্বিতীর এই বিষয়টা বুঝে উঠে আরও রাগ হলো। সে কি সুন্দর নয়? একটুও পছন্দ করার মতো কি নয় সে? সাক্ষ্যর দিকে ফিরে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলল সে,

“ শুনুন, বেহায়ার মতো পেছনে পড়িনি আমি কখনো। আপনার দিকে দুয়েকবার তাকিয়েছি, এটা এমনিই।আজও এমনিই ভুলবশত তাকিয়েছিলাম। তাছাড়া আপনার থেকে ভার্সিটিতে হাজারটা সুন্দর সুন্দর ছেলে আছে স্যার। মেয়েরা কোন দুঃখে আপনার পেছনে পড়ে থাকে এটাই বুঝিনি আজ পর্যন্ত আমি।”
দ্বিতী আবারও সঙ্গে সঙ্গে নজর সরাল। তাকাবে না বলেও তাকিয়ে ফেলছে সে। কি মহা মুশকিল! সাক্ষ্য এবারে ঠোঁট এলিয়ে হাসল। দ্বিতীকে চোখজোড়ায় পরখ করছিল তখনও। আবারও বলল,
“ আপনি পড়ে নেই যে শিওর তো? ”
“ অবশ্যই পড়ে নেই। আমার কি এমন ঠ্যাকা পড়েছে যে আপনার পেছনে পড়ে থাকব স্যার?”
দ্বিতী সাক্ষ্যর দিকে খুব একটা তাকাচ্ছে না, আবার তাকালেও দ্রুত নজর সরাচ্ছে বিষয়টা খেয়াল করে সাক্ষ্য ভ্রু উঁচাল। বলল,
“ আপনি কি আমায় ইগ্নোর করছেন মিসেস দ্বিতীকা তাসনিম? আমার দিকে না তাকিয়ে কথা বলছেন কেন?”
দ্বিতী না তাকিয়েই বলল,

“ কারণ ছাত্রী হিসেবে টিচারদের দিকে তাকাতে নেই। টিচাররা টিচারই হয়, বর হয় না যে আমি হা করে তাকিয়ে থাকব। ”
সাক্ষ্যর হাসিই পেল দ্বিতীর কথা শুনে। বলল,
“তো? বর কারা হয় তাহলে? ”
“ বর হয় ভার্সিটির সুন্দর সুন্দর ছেলেরা।”
“ যেমন? ”
দ্বিতী এবারে মোবাইল হাতে নিল। সাক্ষ্যর পাশে দূরত্ব বজায় রেখে বিছানায় বসে তখনকার ভার্সিটিতে তোলা ছেলেদের সাথে ছবিটা দেখাল। মাঝখানে হোয়াইট কালার টিশার্ট পড়া ছেলেটাকে দেখিয়ে সে বলল,
“ দেখুন? ছেলেটা কিউট না স্যার? ”
সাক্ষ্য দেখল। সে নিরবেই তখন দেখেছে দ্বিতীকে ছেলেগুলোর সাথে। ছবি তুলতেও দেখেছে। কিন্তু দ্বিতীকে কিছুই প্রকাশ করেনি তখন। এখনও প্রকাশ করল না। দ্বিতী আবারও বলল,

“ আমি টানা বিশ মিনিট তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিলাম। সে এই তাকানোটা বেশ উপভোগ করেছে, এবং আমার সাথে কথা বলেছে হেসে হেসে। আই থিংক সে বর হিসেবে চমৎকার হবে। ”
সাক্ষ্য ভ্রু উঁচাল। তার রাগ হচ্ছে তখনকার দৃশ্য মনে করে? তেমন নয়। তবুও নিরব একটা ইর্ষা বোধহয় কাজ করছেই! সাক্ষ্য নিজের হাতখানা দ্বিতীর দিকে এগিয়ে কোমড়ে খিচে নিজের পাশেই আনল। দূরত্ব গুঁছিয়ে নিজের পাশে বসিয়ে বলল,
“ তারপর? বিয়ে কবে করছেন তাকে? ”
দ্বিতী মুহুর্তেই প্রতিবাদস্বরূপ বলে উঠল,
“ এসব কি স্যার, স্যার হয়ে ছাত্রীর কোমড় জড়িয়ে ধরছেন কেন? ছিহ ছিহ!”
সাক্ষ্যর উত্তরটা এল এমন,
“ আঁই থিংক আমার বর্তমানকালের স্টুডেন্ট এবং অতীত কালের মায়ের বান্ধবীর মেয়ে বউ হিসেবে পার্ফেক্ট হবে। তাই।”
“ দূরে সরুন। ”
সাক্ষ্য দূরে সরল না তখনই। তবে মুখ নামিয়ে দ্বিতীর কানের কাছে শুধাল,

“ কয়েকবছর যাবৎ পেছনে পড়ে ছিলেন, বছর তিনেক ভার্সিটিতে তোমার সিনিয়র ভাই হওয়া সত্ত্বেও ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে শেষ করে দিয়েছো আমায়। এখনও তাকিয়ে থাকো। কিচ্ছু বলিনি, বলছি না। বাট অন্য ছেলের দিকে যদি ভুলেও ড্যাবড্যাব করে তাকাও না দ্বিতী? চোখ চোখের জায়গায় থাকবে না৷ ”
দ্বিতী ভ্রু কুঁচকে সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন ছুড়ল,
” আপনি আমায় হুমকি দিচ্ছেন স্যার?”
” হুমকি নয়, এটাই নির্দেশ। চোখ শুধু আমার দিকে থাকবে, মাইন্ড ইট।অন্য কোথাও যাতে না ঘুরে। ”
দ্বিতী বড্ড ঘাড়ত্যাড়া। সাক্ষ্য যা বলবে তা যদি করেই সে তাহলে বলা চলে সে নকল দ্বিতী। হ্যাঁ হয়তো সাক্ষ্য যা বলক তাই করত, যদি বুঝতে পারত সাক্ষ্য তার মতো করে তাকে ভালোবাসে। সে জেদ নিয়েই বলল,
“ ঘুরবে, আমার চোখ দুনিয়ার সবজায়গায় ঘুরবে। শুধু আপনার দিকেই ঘুরবে না স্যার।”
সাক্ষ্য এবারে ভ্রু নাচিয়েই বলল,

“ শিওর তুমি? ”
“ একদম শিওর! ”
“ শুধু সারা দুনিয়ায় চোখ ঘুরিয়ে দেখাবেন মিসেস সাক্ষ্য এহসান। প্রয়োজনে চোখ খুলে এনে আমার সামনে এনে রাখব শুধু আমাকে দেখার জন্য। ”
দ্বিতী ভ্রু বাঁকাল। বলল,
“ আবার হুমকি? ”
“ হুমকি হোক অন্যকিছু! একবার যখন জেনেশুনে আমার সঙ্গে জড়িয়েছেন তখন ফল তো খারাপই হবে মিসেস দ্বিতীকা তাসনিম। আফটার অল, সাক্ষ্য এহসান তো এত সাধু পুরুষ নয়। তাই না? ”
দ্বিতী ভ্রু জোড়া কুঁচকে রেখেই চেয়ে থাকল৷ সাধু পুরুষ নয় আবার বলছেও গর্ব করে। মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“ জেনেশুনে? ভালো ভেবেছিলাম আপনাকে! এমন জানলে তো কখনোই লাফাতে লাফাতে কবুল বলতাম না। ”
সাক্ষ্য দ্বিতীকে আড়াল করেই ঠোঁট কামড়ে হাসল। পরমুহুর্তেই দ্বিতীর মুখ বরাবর চেয়ে ভ্রু শিথীল করে বলল,

“ বিগ মিস্টেক! এখন আজীবন এর ফল ভোগ করা ছাড়া কোন অপশনও নেই। ”
“ কেন নেই? আমি আপনাকে বিয়ে করে পঁচে গিয়েছি নাকি? ”
সাক্ষু আরেকটু এগোল। কানের কাছেেমুখ নিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
” পঁচেননি। তবে আমার যেহেতু হয়েই গিয়েছেন একটু একটু করে শেষ হয়ে যাবেন তা নিশ্চিত। সাক্ষ্য আপনার অস্তিত্ব নিজের মাঝে খুব কৌশলেই নিয়ে নিবে। আপনি তখন শূণ্যে ভাসবেন মিসেস সাক্ষ্য এহসান! ”
দ্বিতী আচমকা যেন দূরে সরল। সাক্ষ্য ততক্ষনে উঠে দাঁড়িয়েছে কিছুই করেনি এমন ভঙ্গিতে। অথচ দ্বিতীর চোখের দৃষ্টি ফ্যালফ্যাল করে থাকা দৃষ্টির মতো। সাক্ষ্যর দিকে তাকাবে না বললেও তাকাল। তাকিয়ে দেখতে দেখতেই পুরুষটি নিজের পকেট থেকে মোবাইল বের করে কিছু টাইপ করতে করতেই বের হয়ে গেল একদম ভদ্র পুরুষের মতো। দ্বিতী শুধু তাকিয়েই থাকল। এর ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার ফোনে একটা ম্যাসেজ এল। দ্বিতী হুড়মুড় করে চাইতেই দেখল,
“ লুকিয়ে চুরিয়ে দেখার চাইতে সরাসরি দেখার সুযোগ দিয়েছিলাম মিসেস সাক্ষ্য এহসান। কাজে লাগালেন না। পরে আবার আফসোস করবেন না তো? ”
দ্বিতী মুহুর্তেই মোবাইল ছুড়ে রাখল।আফসোস? কিসের জন্য আফসোস? মোটেও না। দ্বিতী মোটেও আফসোস করবে না। এইটুকু বলতে বলতেই দ্বিতী সটান শুঁয়ে চোখ বুঝল। সাক্ষ্য এহসান! সাক্ষ্য এহসান নামটাই অসহ্য!

পরদিন ভার্সিটিতে গিয়ে দ্বিতী সত্যিই পুরোটা ক্লাসে একবারও চাইল না সাক্ষ্যর দিকে। একটাবারও না। পড়ালেখায় বরাবরই অমনোযোগী দ্বিতী আজ মনোযোগী ছাত্রীর মতো নিচের দিকে চেয়ে ছিল। অতঃপর ওভাবে চাইতে চাইতেই অলস দ্বিতী বেঞ্চে মাথা এলিয়ে দিল। চোখমুখ বুঝে রেখে যেই মাথা এলিয়ে একটা শান্তির ঘুম দিবে তখনই ফের কানে এল,
“ ঘুমানোর জন্য কেউ ক্লাসে থেকে থাকলে প্লিজ বেরিয়ে যান এই মুহুর্তেই। ”
দ্বিতীর লেগে আসা চোখ মুহুর্তেই খুলে গেল। ফ্যালফ্যাল করে চেয়েই মাথা তুলে চাইল সঙ্গে সঙ্গেই। বিড়বিড় করে বলল,
“ আমি আপনাকে জীবনেও ভালোবাসব না সাক্ষ্য এহসান। প্রমিজ! ”

দুইজনাতেই পর্ব ২