Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৮

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৮

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৮
তানিয়া হুসাইন

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
একবার , দুইবার নয় বারবার, যেন ভেতরের নীরবতা ভেঙে ফেলার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে কেউ।
ইশায়া ভয়ে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তার বুকের ভেতরটা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে কেঁপে উঠছে বার বার।
চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল।
সে ডেলমার সামনে গিয়ে দুই হাত জোড় করে মিনতি করে উঠল,

—দয়া করে দরজা খুলবেন না,প্লিজ।
কিন্তু ডেলমা জানেন, এই দরজা না খুললেও ওরা ঢুকবেই।
এই মানুষগুলো কিছুই মানবেনা, দেওয়াল ভেদ করে ঢোকার সাহস রাখে তারা।
ওরা জানে কীভাবে কাউকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনতে হয়।
তাদের রক্তচক্ষু থেকে শুধু এই মেয়ে না ডেলমা আর তার ছেলেটাও রেহাই পাবে না।
ডেলমার কিছু করার নেই।
একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে তিনি দরজার ছিটকিনি খুলেন।
দরজা খোলার সাথে সাথেই টিয়াগো, হন্তদন্ত হয়ে রুমে ঢুকে পড়ে।
পেছন ফিরে সজোরে দরজাটা বন্ধ করে দেয় সে, যেন বাইরে থাকা ভয়টা কিছুটা হলেও আটকে রাখা যায়।
ডেলমা বিস্মিত হয়ে তাকান তার ছেলের দিকে।
কেননা এই মুহূর্তে টিয়াগোর এখানে থাকার কথা না।
টিয়াগো বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে।
কণ্ঠে দম বন্ধ করা উত্তেজনা
মা, বাইরে মাফিয়ার লোকেরা চারদিক ঘিরে ফেলেছে,
ওদের নাকি কারো খোঁজ পাচ্ছে না, কে পালিয়ে গেছে,তাই পুরো গ্রামে তল্লাশি চালাচ্ছে।
কে জানে কী হবে এখন। এই মাফিয়ারা ভয়ংকর।
মিগুয়েলের মতো লোককেও শেষ করে দিয়েছে!
ভীর লোক না দেখে পর্দার আড়াল থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ইশায়া।
চোখে মুখে অস্পষ্ট ভয়, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে, মুখে কোনো শব্দ নেই।
অথচ চোখে ছিল অসহায় আকুতি।

___ঘড়ের কোনে এক পলক তাকাতেই টিয়াগো থমকে যায়।
ঘরের অর্ধেক আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়,
এত অপরূপ!
কিন্তু সেই রূপে মিশে ছিল ভয়, কষ্ট আর এক ধরনের গভীর আর্তনাদ।
টিয়াগো ধীরে ডেলমার দিকে ফিরে প্রশ্ন করে,
—কে এই মেয়ে, মা?
ডেলমা চুপ।
তাঁর মুখে কোনো শব্দ নেই।
এই চুপচাপ থাকায় টিয়াগোর খটকা লাগে,সন্দেহ হয়,
তার বুক কেঁপে ওঠে।
চোখ গোল করে মা কে দেখে আবার জিজ্ঞেস করে সে আবারো,
—এই মেয়ে কি সেই মেয়েটা?
যাকে ওই মাফিয়ারা খুঁজছে?
ডেলমা ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে উপর নিচ করে।
টিয়াগোর চোখ মুখের রঙ বদলে যায়।
সে রীতিমতো কাঁপতে থাকে।
চিৎকার করতে গিয়েও গলার স্বর নিচে নামিয়ে আনে।
কোনোভাবে যেন বাইরে কেউ শুনে না ফেলে।

—তুমি কি পাগল মা?
তুমি জানো না, ওরা কারা?
তারা পিশাচ!
তারা মানুষ মারে চোখ না সরিয়ে,ওদের কাছে মানুষ মারা মানে পুতুল খেলা।
তারা একটা মানুষ খুঁজতে পুরো গ্রাম গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।
পুরো শহর জুড়ে চলছে তান্ডব।
তুমি জানো না?
তুমি কি চাও আমরাও মরে যাই?
ডেলমার মুখ নিস্তব্ধ।
সে অসহায় গলায় ফিসফিস করে বলেন,
—আমি জানতাম না, আমি শুধু ভেবেছিলাম মেয়েটা কোনো সাধারণ ঘরের মেয়ে,
কোনো বিপদে পড়েছে তাই সাহায্য করেছিলাম।
টিয়াগো পাগলের মত রুমের ভেতর পায়চারি শুরু করে।
তার চোখে-মুখে কেবল একটাই চিন্তা,এখন কি হবে,
বাইরে তখনো গর্জে চলেছে পায়ের শব্দ, অ*স্ত্রের ঝনঝনানি,
আর গ্রামের মানুষের আতঙ্কে ভরা কান্না ও চিৎকার।
ইশায়া তখনো দাঁড়িয়ে,নিথর, নিঃশ্বাস বন্ধ করে।
তার ভেতরে শুধু একটাই ভয় এই দরজা যদি আরেকবার কেউ ধাক্কা দেয়,
তাহলে সে আর বাঁচবে না।

টিয়াগোর মস্তিষ্ক তখন ঘূর্ণিপাক খাচ্ছে।
সে জানে, এখন যদি মাফিয়ারা এসে এই মেয়েকে এখানে দেখে,তাহলে শুধু মেয়েটা না, তাদের ও প্রান যাবে।
তারা মনে করবে তারাই লুকিয়েছে,
তারা কোনো কথাই বিশ্বাস করবে না।
তারা চিনে শুধু প্রতিশোধ আর রক্ত।
এই মুহূর্তে কোনো যুক্তির জায়গা নেই।
এখন সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে তাদের পুরো পরিবারই ধ্বংস হয়ে যাবে।
টিয়াগো কপালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল দরজার এক কোণে। ডেলমা তখনও ভয় আর দুশ্চিন্তার চাপে কাঁপছে, সেই মুহূর্তে টিয়াগোর কণ্ঠ ফেটে পড়ে,
— তোমার কাছ থেকে এমন বোকামি আমি আশা করিনি মা! একবার কি হয়েছে ভুলে গেছো তুমি?
তার চোখে ঝলকে ওঠে অভিমান আর আতঙ্কের মিশেল।
এই উত্তপ্ত পরিবেশে ইশায়া এগিয়ে আসে। অন্ধকার ঘরের মৃদু আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা এক বিভোর সৌন্দর্য। তার চোখে জল, তবুও কণ্ঠে বিনয় আর অনুরোধের স্পষ্ট সুর,

— আন্টিকে কিছু বলবেন না, ওনার কোন দোষ নেই। আমাকে একটু সাহায্য করুন প্লিজ, ওরা আমাকে নিয়ে যাবে।
টিয়াগোর চোখ গিয়ে পড়ে তার দিকে। প্রাণের ভয় আর সৌন্দর্যের মোহ যেন একসাথে খেলে তার চেহারায়। এক ঝলক তাকায়, কিন্তু চোখ নামিয়ে নেয় সঙ্গে সঙ্গেই।
— ওরা যদি আপনাকে এখানে পায়, শুধু আপনাকে না, আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে! বুঝেছেন,
আপনি বাইরে কোথাও গিয়ে লুকিয়ে পড়েন।
— কিন্তু আমি কোথায় যাবো? বাইরে তো ওরা ঘিরে আছে!
ইশায়ার কণ্ঠে অসহায়তা ফুটে ওঠে।
টিয়াগো জানালার কাছে গিয়ে একবার উঁকি দিয়ে দেখে। চোখ বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে তার। নিচে ভীরের লোকেরা চারপাশ ঘিরে রেখেছে, পেশাদার ঘাতকের মত ঘোরাফেরা করছে। এখান থেকে বের হওয়া অসম্ভব।
টিয়াগো কিছু একটা ভাবে, তারপর বলে,
— চলুন আমার সাথে।
ইশায়ার চোখে প্রথমবারের মতো ভরসার আলো ঝলকায়। একটা শেষ আশ্রয় পেয়েছে সে এখানে একটু আলো আছে। ধীরে ধীরে টিয়াগো তাকে নিয়ে ছাদে উঠে যায়।
ছাদে একটা পুরনো ট্যাংক ছিলো রুক্ষ ধাতব, কালো রঙের, এখন এটাই লুকানোর জন্য উপযুক্ত।আর কোন রাস্তা নেই।
টিয়াগো বলে,

— এইখানে ঢুকুন। আমি মুখটা বন্ধ করে দিচ্ছি। আমি না আসা পর্যন্ত এখান থেকে ভুলেও বের হবেন না। ওরা চলে গেলে আমি এসে আপনাকে বের করব। একদম নড়াচড়া করবেন না। এটা যেন একচুলও না নড়ে।
ইশায়া একটু স্বস্তি পায়।
চোখ ভিজে ওঠে। গলায় কাঁপন নিয়ে বলে,
— থ্যাঙ্ক ইউ ভাইয়া,আমি আপনার এই উপকার কোনদিনও ভুলবো না।
টিয়াগো ব্যস্ত হয়ে বলে,
— দ্রুত করুন। ওরা যে কোনো সময় চলে আসবে!
ইশায়া তাড়াতাড়ি পানির ট্যাংকের মধ্যে ঢুকে পড়ে। টিয়াগো মুখ ঢেকে দেয় তারপর দ্রুত রুমে চলে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই নিচে থেকে দরজায় ধাক্কার শব্দ ভেসে আসে,
ভীরের গার্ডরা ধাক্কা দিচ্ছে। কয়েকবার ধাক্কার পর টিয়াগো সাহস করে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলতেই এক গার্ড টিয়াগোকে ধাক্কা দিয়ে সোজা ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারপর একে একে আরও গার্ড আসে, সশস্ত্র, চোখে আগুন। মুহূর্তের মধ্যে গোটা বাড়ি তছনছ করে ফেলে।
জিনিসপত্র ভেঙে সব এলোমেলো করে ফেলে, ভেঙে ফেলে, আলমারি ফাঁকা খুলে বিছানার তোশকটা অবধি ছিঁড়ে ফেলে।

খাট উল্টে ফেলে দেয়, খাটের নিচে দেখে, কেউ শৌচাগার খুলে খোঁজ করে। ঘরের প্রতিটি ইঞ্চি ওরা তছনছ করে ফেলে।
এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে কেউ খেয়াল-ই করেনি মেঝেতে পড়ে থাকা ইশায়ার চাঁদর এর দিকে।
গার্ডদের নজর এতটাই ব্যস্ত আর উত্তপ্ত যে, কেউ তা লক্ষই করে না।
সব জায়গা তন্ন তন্ন করে খুঁজে না পেয়ে, গার্ডরা ছাদে উঠে যায়। তাদের ভারি বুটের আওয়াজ ধাতব সিঁড়ি বেয়ে ওঠে,
ইশায়া ভিতরে শুনতে পায় সব। সে নিজের মুখ চেপে ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখে।যাতে তার নিঃশ্বাসের শব্দ ও যেন কেউ শুনতে না পারে। তার বুকের ভেতর এত জোরে ধুকপুক করছে যেন সেটা শুনেই কেউ তাকে ধরে ফেলবে।
গার্ডরা ট্যাংকের চারপাশে ঘোরাফেরা করে। লতাপাতা সরে যায় বুটের ঘর্ষণে। কিন্তু কেউ কল্পনাও করে না যে এই পুরনো পানির ট্যাংকের ভেতরে এক মেয়ে, আতঙ্কে-জর্জরিত হয়ে, মৃত্যুকে উপেক্ষা করে, জীবন বাঁচানোর যুদ্ধ লড়ছে।
তল্লাশি ব্যর্থ হয়।
ওরা রাগে, গালি দিতে দিতে, অস্ত্র গুজে নেমে যায়।
-ভীরের কাছে যায় এই খবর।একের পর এক ব্যর্থতা,

____তার কপালের রগ দপদপ করছে।
চোখের নিচে লাল স্নায়ু স্পষ্ট।
তাকে শান্ত করার মতো কেউ নেই।
এখন আর মানুষ না সে এক হিংস্র দানব।
মাফিয়া বস তার শিকারে ব্যর্থ হবে না আর তার প্রতিশোধ হবে ভয়ংকর, রক্তাক্ত, ধ্বংসাত্মক।
আমাকে এতটা হয়রানি করার জন্য এতটা দৌড়ানোর জন্য যে আমি তোমার সাথে কি কি করবো বেবি সেটা তোমার ধারণারও বাইরে।
তার নিঃশ্বাস গাঢ়, চোখ দুটো লাল হয়ে আছে ক্রোধে।
রাগেজি জেদে মুখ থেকে বেরিয়ে আসে অশ্রাব্য কিছু গালি।
আমি, আমি তোকে হারাবো না। আমি নিজেও জানি না তোর সাথে ঠিক কী করবো, পিষে ফেলবো, নাকি নিজের হাতে তোর পাখনা ছিঁড়ে দেবো?
আমি এখনো ঠিক করিনি।
তোকে পস্তাতে হবে প্রতিনিয়ত তোর এই কাজের জন্য, কিন্তু একটা জিনিস ঠিক তোর শরীর, মন, আত্মা সব আমার। তুই আমার শেষ নিয়ন্ত্রণের সীমা। প্রথমবারের মতো ভুল করার জন্য,এবারের মতো যদি তুই প্রাণে বেঁচেও যাস, পরের বার আমি তোকে শুধু শাস্তি দেবো না, তোকে ধ্বংস করবো, ধ্বংস।

_____ ভীরের গার্ডরা সবাই বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডেলমা টিয়াগো ছুটে আসে।
ইশাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
বেরিয়ে আসুন।
ইশায়া বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।
তারা কি… তারা কি চলে গেছে?
টিয়াগো মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক ইঙ্গিত দেয়।
___ইশায়া শোনার পর তার বুক থেকে যেনো পাথর নেমে যায়।
ভয়ে তার জান বেরিয়ে যাচ্ছিলো,
ইশায়া গভীরভাবে তাকায় তাদের দিকে , গলার থেকে নিজের ডায়মন্ড এর পেন্ডেন্টটা খুলে টিয়াগোর হাতে দেয়,
আপনারা আমার জন্য যা করলেন আমি তা কোনোদিন ভুলবো না। এটা রাখুন।
___হিরা দেখে মাথা ঘুড়ে যায় টিয়াগোর,
চোখে জ্বলজ্বলে দৃষ্টিতে পেন্ডেন্টটা দেখে টিয়াগো,টিয়াগো হাতের মধ্যে থাকা পেনডেন্ট এর দিকে দৃষ্টি রেখেই বলে,
ওরা কারা আপনাকে কেনো খুঁজছে,
ইশায়া লুকায় না সবকিছু খুলে বলে ওদেরকে সংক্ষিপ্তভাবে,
ওদের একটু সাহায্যে সে একটা ভরসার হাত পেয়েছে যেটা সে এতদিন ধরে পায়নি।
___মাফিয়া বস!

দ্যা গ্যাংস্টার ভীর, রাজভীর আলভারেয এর ওয়াইফ এই মেয়ে,এটা শুনতেই টিয়াগোর ভয় আগের থেকে দশ গুন বেড়ে যায়।
টিয়াগো কোনরকমে বলে, আপনি এখনই চলে যান। আর এক মুহূর্ত এখানে থাকা ঠিক হবে না।ওরা খোঁজ বন্ধ করবে না, আবার ও ফিরে আসবে। আমাদের পক্ষে তখন কিছুই করা সম্ভব হবে না।
ইশায়া মাথা নিচু করে বলে, কিন্তু আমি কিছু চিনি না, এখান থেকে কোথায় যাবো আমি?
টিয়াগো গম্ভীর গলায় বলে,
বর্ডার কাছেই আছে, মাফিয়া লোকদের জন্য কিছু গোপন সুরঙ্গ বানানো আছে এখানে, পাচার রুট হিসেবে। আমি আপনাকে একটা চেকপয়েন্ট পর্যন্ত এগিয়ে দেবো। এরপর আপনি সেই গোপন ট্রাকে উঠবেন যেটা আমাদের পুরাতন কন্ট্রোলের আওতায় এখনো ব্যবহার হয়। ট্রাকটা শেষ পর্যন্ত ভারতের মণিপুরের দিকে যাবে। সেখান থেকে সীমান্ত পার হয়ে শিলিগুড়ি, তারপর সেখান থেকে ট্রেন/বাসে করে আপনি বাংলাদেশের দিকে যেতে পারবে।
কিন্তু সাবধান থাকবেন। ভারতীয় ট্রানজিটে নাম প্রকাশ করবেন না। ট্রাক থেকে নামার সময় একটা হিজাব পরে নিবেন, চেহারা ঢেকে রাখবেন। বাংলাদেশের কাছে পৌঁছে কোনো পুলিশ বা লোককে সরাসরি কিছু বলবেন না। ওখানে মহিলা ও বাচ্চাদের নিয়ে বর্ডার ক্রস করা হয় মাঝে মাঝে ওদের দলের সাথে যুক্ত হয়ে পার হয়ে যাবেন।
আপনার এখন এখানে থাকা নিরাপদ নয়, উলটো আপনার জন্য আমরাও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি।
আপনি গুয়াতেমালার যেখানেই থাকুন না কেনো ওরা আপনাকে ঠিকই খুঁজে বের করবে তাই আপনি যত দ্রুত পারেন এখান থেকে চলে যান।

___ইশায়া বিস্মিত চোখে বলে, আপনি আপনি এত কিছু জানলেন কিভাবে?
টিয়াগো তিক্ত হেসে বলে, এই অন্ধকার জগতে থাকতে থাকতে, কেউ কেউ আলো খোঁযে কেউ কেউ আলো সৃষ্টির ইচ্ছে পোষে।
___এখন এসব বাদ দিয়ে যেটা বললা সেটা করুন।
___ইশায়া নিচু স্বরে বলে,
এখন।
____টিয়াগো বলে,
না আপনি এখন এখানেই থাকুন।
আমি বাইরের পরিস্থিতি বুঝি ওরা ২৪ ঘন্টা-ই চারদিকে নজরদারিতে আছে,একটা ভুল করলে আপনার সাথে আমাদের জীবন ও যাবে।
রাত হোক দেখি মধ্যরাতে কিছু করা যায় কিনা।

চারপাশে নিস্তব্ধতা, ভীর প্রতিটা সেকেন্ড গুনছে।
২১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে।
তার রাগ আর আতঙ্ক যেন বিস্ফোরণের মুখে।
__ঠিক এমন সময়,
একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর আসে,
জঙ্গলের দিকে এক বোরখা একটা মেয়েকে আটকানো হয়েছে।
সে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যেতে চাচ্ছিলো,
সন্দেহজনক মনে হওয়াতে পাহারায় থাকা কিছু মানুষ তাকে আটকে রেখেছে। কিন্তু তাদের কেউ মেয়েটার মুখ দেখতে সাহস করে না।
কারণ একটাই,ভীর আলভারেযের আদেশ।
তার কাঙ্খিত নারীকে কেউ স্পর্শ করবে না।
যদি কেউ হাত বাড়ায় তার চোখ উপড়ে ফেলে তাকে মাটিতে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হবে।
এই হুকুম সবাই অবচেতনে গেঁথে নিয়েছে।
তাই কেউ সামনে এগোয় না।
কেউ সাহস করে না মেয়েটার বোরখার ফাঁক দিয়ে তাকানোর।

__তারপর,খবরটা ভীরের কানে পৌঁছতেই, সে রওনা দেয়,
গাড়ির দরজা এমন জোরে ঠাস করে বন্ধ করে সে,
চারদিকে কাঁপন ধরে যায়।
গার্ডরা সবাই ভয়ে জমে আছে,
__গাড়ির চাকা ছুটে চলে,
ভয়, উন্মত্ততা, ক্ষিপ্রতা সব মিলিয়ে এক রক্ত হিম করা পরিবেশ,
এই খবর শোনার পর যে যেই জায়গায় ছিল সেখান থেকেই রাস্তা পাল্টে ওই জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়,
নিকো,ডিয়েগো,ম্যাটিয়াস,এনরিকো,সান্তিয়াগো সবাই।
আকাশে হেলিকপ্টার গর্জে ওঠে,
জিপ ইউনিট বুলেটপ্রুফ গাড়ির বহর ছুটে চলে ধুলোর ঝড় তুলে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৭

___মেয়েটি বার বার চলে যেতে চাইলেও,
তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে ওইখানের লোকেরা,
সবার একটাই উদ্দেশ্য মেয়েটিকে নিরাপদে ঘিরে রাখা।
কিন্তু স্পর্শ করবে না কেউ।
মাফিয়া বস আসুক তারপর যা করারর সেই ঠিক করবে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৯