এই অবেলায় পর্ব ৯
সুমনা সাথী
রাতের অন্ধকার চিরে ভোরের আলো তালুকদার বাড়িতে আছড়ে পড়ছে। অন্দরমহলে ব্যস্ততার গুঞ্জন। ডাইনিং টেবিলে বসে আয়েশ করে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন অলেখা আর মাজহা। ওদিকে রান্নাঘরে মৌনিতা আর মিলুর হুলস্থূল কাণ্ড। নবনী যখন রান্নাঘরে পা রাখল দেখল মৌনিতার মুখে রাজ্যের বিরক্তি মাখানো। সকাল থেকে একহাতে সব সামলাতে সামলাতে তার ধৈর্য যেন শেষ সীমায়। নবনী রান্নায় খুব একটা পটু নয় তাই কিছুটা কুণ্ঠা নিয়েই ধীর স্বরে জিজ্ঞেস করল,
‘আমি কি তোমাকে কোনো কাজে সাহায্য করব?’
মৌনিতা জোরপূর্বক হাসল। সাহায্য করার প্রস্তাবটা এই মুহূর্তে তার কানে উপহাসের মতো শোনাল। সকাল থেকে একা খেটে কাজ প্রায় গুছিয়ে আনার পর নবনীর এই সৌজন্য তাকে আরও বিরক্ত করে তুলল। তবুও গলার স্বর স্বাভাবিক রেখে বলল,
‘হ্যাঁ, কেন নয়! বরং পরোটাগুলো ভেজে ফেলো। পারবে তো?’
নবনী আশ্বস্ত হয়ে মাথা নাড়ল। এইটুকু কাজ অন্তত সে নিখুঁতভাবে করতে পারবে। সে পরোটা ভাজায় মন দিল। কিছুক্ষণ পর বাড়ির সবাই মিলে জমিয়ে নাস্তা সারল। আজকের মূল পরিকল্পনা বিশাল এক শপিং অভিযান। দিব্য আর কাব্য তাদের অফিসে যাওয়ার পথেই সবাইকে শপিংমলে নামিয়ে দিয়ে যাবে।
বাড়ির বাইরে গাড়ি। বাহিরে আসতেই কলরবের চোখে পড়ল ছোট্ট দিয়াকে। মেয়েটা আজ কেমন যেন কুঁকড়ে আছে। তার চঞ্চলতাটুকু উধাও। দিব্যর লম্বা শরীরের পাশে দাঁড়িয়ে সে একদম নিস্পৃহ। পরনে কালো রঙের একটি ছোট্ট ফ্রক, মাথার দুপাশে দুটো কিউট ঝুঁটি করা। কলরব দ্রুত পায়ে ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। আদুরে গলায় জিজ্ঞেস করল,
‘কী ব্যাপার আমার বার্বিডল! সকাল থেকে দেখছি তোমার মুড একদম অফ। কী হয়েছে শুনি? কেউ কি বকা দিয়েছে তোমায়?’
দিয়া কোনো উত্তর দিল না। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে এল কলরবের কাছে। দুই হাত বাড়িয়ে দিতেই কলরব ওর ইশারা বুঝে চট করে কোলে তুলে নিল। দিব্য ল্যাপটপ ব্যাগটা হাতে নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহ ভরে মেয়ের কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। কারণ সকাল থেকে সে নিজেই এই একই প্রশ্ন অন্তত দশবার করেছে। কিন্তু দিয়ার মুখ থেকে কোনো রা শব্দ বের হয়নি। মেয়ের এই গুমরা মুখ দেখে সে রীতিমতো অস্থির হয়ে ছিল। দিয়া কলরবের গলায় দুহাত জড়িয়ে ধরে অভিমানে ঠোঁট উল্টে বলল,
‘জানো চাচ্চু, কালকে রাতে পাপ্পা আমাকে ছেড়ে মাম্মাকে কোলে নিয়েছে। আমাকে একটুও সাধেনি!’
কথাটা শোনামাত্র দিব্যর পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। সে হতভম্ব হয়ে মেয়ের পানে চেয়ে রইল। কলরব ভাইয়ের অপ্রস্তুত মুখটার দিকে তাকিয়ে খুকখুক করে কাশতে লাগল। অবাক হওয়ার ভান করে জিজ্ঞেস করল,
‘কে কাকে কোলে নিয়েছে? ভাইয়া তুমি সত্যি?’
দিয়া খুব গুরুত্বের সাথে মাথা উপর-নিচ করে সায় দিল। আসলে কাল রাতে যখন নবনী ভারসাম্য হারিয়ে দিব্যর বুকে আছড়ে পড়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তটুকু দিয়ার অবোধ চোখে ধরা পড়েছিল। অবুঝ শিশুমন ওটাকে আদর ভেবে নিয়েছে। ওর মনে হয়েছে পাপ্পা বুঝি এখন থেকে ওকে বাদ দিয়ে কেবল মাম্মাকেই বেশি ভালোবাসবে। সেই থেকেই ওর ছোট্ট মনে জমেছে এক বিশাল অভিমানের পাহাড়। দিব্য পুরো ব্যপারটা বুঝতে পেরে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কপালে হাত দিয়ে কলরবকে ধমক দিয়ে বলল,
‘শাট আপ কলরব! ইটস আ পিওর মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং। দিয়া মাম্মা তুমি এসব কী আজেবাজে বলছ? পাপ্পা শুধু তোমাকেই লাভ করে জানো না? এই যে নবনী, তুমি ওখানে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছ কেন? কিছু একটা বলো ওকে!’
নবনী সবেমাত্র ওদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। দিয়ার মুখে এমন অকপট সত্য আর কলরবের হাসি দেখে তার নিজেরই এখন মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। লজ্জায় আর আড়ষ্টতায় তার মুখ একদম লাল হয়ে গেছে। দিব্যর তাড়া খেয়ে সে কোনোমতে আমতা আমতা করে বলল,
‘হ্যাঁ… হ্যাঁ, তাই তো! দিয়া মাম্মা তুমি এসব কী উল্টোপাল্টা বলছ সোনা? ওটা তো একটা এক্সিডেন্ট ছিলো তাইনা? কেন এসব বলছ তুমি?’
ভাই-ভাবির এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় দশা দেখে কলরব মনের সুখে ঠোঁট টিপে হাসছে। সে যেন এক বিশাল গোপন রহস্য ফাঁস করে দিয়ে পরম তৃপ্তি পেয়েছে। দিয়াকে কোলে নিয়ে মিথ্যা গাম্ভীর্য দেখিয়ে বলল,
‘থাক থাক, কথা দিয়ে আর কোল নেওয়া ঢাকতে হবে না। বার্বিডল তুমি বরং আজ তোমার এই কিউট চাচ্চুর সাথেই চলো। পাপ্পার সাথে আপাতত তোমার আড়ি। একদম কাট্টি!’
দিব্য এবার রীতিমতো তেঁতে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে শাসানোর সুরে বলল,
‘কলরব, বেশি বাড়াবাড়ি করছিস কিন্তু। একদম মার খাবি আমার হাতে!’
কলরব ভ্রু কুঁচকে খুব নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দিল,
‘আরে জাস্ট রিলাক্স ভাইয়া! ইটস টোটালি নরমাল। এত প্যানিক করছ কেন? নিজের বউকে তুমি কোলে নিতেই পারো। এটা তো তোমার আইনি অধিকার। তবে হ্যাঁ পরের বার থেকে একটু খেয়াল রেখো।বাচ্চার সামনে যেখানে-সেখানে এসব করাটা মোটেও ঠিক না। তোমাকে দেখে তো আগে কখনো এতটাও অধৈর্য মনে হয়নি!’
কথাটা শেষ করেই কলরব আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। দিব্যর জ্বলন্ত দৃষ্টি থেকে বাঁচতে দিয়াকে নিয়েই হনহন করে নিজের বাইকের দিকে পা বাড়াল। দিব্য পেছন থেকে চিৎকার করে বলতে লাগল,
‘আরে রিলাক্স মানে কী? কী খেয়াল রাখব আমি? তোর সাহস দেখে তো আমি অবাক হচ্ছি! তোকে একবার হাতের কাছে পাই। তারপর দেখাব অধৈর্য কাকে বলে। তুই… তুই আমার সাথে এভাবে কথা বলছিস? মিনিমাম কমনসেন্সের পরোয়া করছিস না।’
নবনী লজ্জায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে। তার মনে হচ্ছে মাটির নিচে যদি এখন একটা সুড়ঙ্গ থাকত তবে সে নির্দ্বিধায় সেখানে ঢুকে পড়ত। কলরবের সামনে এমন বিশ্রী পরিস্থিতিতে পড়ার চেয়ে মরে যাওয়াও ভালো ছিল। সে আড়চোখে দেখল দিব্যর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। লোকটা কি রাগে এমন করছে নাকি তারও খুব লজ্জা লাগছে? দিব্য এবার নবনীর দিকে ফিরে চাইল। নবনী খুব ক্ষীণ স্বরে কেবল একটি শব্দ উচ্চারণ করল,
‘সরি।’
দিব্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের গলার টাইটা একটু আলগা করে নিল। শান্ত গলায় বলল,
‘ইট’স ওকে। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। এখন শোনো দিয়াকে বুঝিয়ে নিয়ে এসে গাড়িতে তোলো। ও যেন কোনোভাবেই কলরবের বাইকে না যায়। ওই ছেলেটা বড্ড বেপরোয়া। আমার জানামতে ও এ পর্যন্ত পাঁচবার বড়সড় অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। আর অগোচরে যে কতবার হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। হাত-পা না ভাঙা পর্যন্ত ও বাড়িতে কিচ্ছু জানায় না।’
নবনী বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ল। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল কলরবের বাইকের দিকে। সেখানে কলরব দিয়াকে বাইকের তেলের ট্যাংকের ওপর বসিয়ে দিয়েছে। দুইজনে কিসব কথা বলছে। দিয়া হাসছে আর উত্তেজনায় দুই পা দোলাচ্ছে। বাড়ির বাকিরা এখনো ভেতর থেকে বেরোয়নি। তাই ওরা আপাতত অপেক্ষারত। নবনী দিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে কোমল স্বরে বলল,
‘দিয়া মাম্মা, চলো আমরা গাড়িতে যাই। পাপ্পা বলেছে বাইকে যাওয়া যাবে না। ওটা রিস্কি।’
দিয়া এক মুহূর্তের জন্য চুপ হয়ে গেল। তার কচি মনে একপাশে চাচ্চুর সাথে মজার রাইড অন্যপাশে পাপ্পার নিষেধ; দুটো ভাবনা লড়াই করছে। অবশেষে সে জেদি গলায় বলে উঠল,
‘নাহ! আমি চাচ্চুর বাইকেই যাব। বাইকে গেলে অনেক হাওয়া লাগে। অনেক মজা লাগে। গাড়িতে তো রোজ যাই। ওটা বোরিং।’
কলরব নবনীর দিকে তাকিয়ে হাসল। হেলমেটটা মাথায় গলিয়ে দিয়ে বলল,
‘আরে ভাবি, ডোন্ট ওরি। আমি থাকতে বার্বিডলের কিচ্ছু হবে না। ভাইয়া আসলে একটু বেশিই প্যানিক করে। তুমি বরং যাও ভাইয়ার পাশের সিটে গিয়ে বসো।’
নবনী বিপাকে পড়ল। একদিকে দিব্যর কড়া নির্দেশ অন্যদিকে দিয়ার এই ছেলেমানুষি জেদ। ওদিকে দিব্য গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে স্টিয়ারিংয়ে আঙুল চালাচ্ছে। তার দৃষ্টি আয়নার মাধ্যমে স্থির হয়ে আছে কলরবের বাইকের ওপর। নবনী নিরুপায় হয়ে কলরবের দিকে তাকিয়ে অনুনয়ের সুরে বলল,
‘ভাইয়া, তুমিও এমন করো না। দিয়াকে একটু বোঝাও। উনি কিন্তু ভীষণ রাগ করবেন।’
কলরব দমবার পাত্র নয়। সে বেশ বীরদর্পী ভঙ্গিতে বাইকের হ্যান্ডেল ধরে বলল,
‘ডোন্ট ওরি ভাবি! কিচ্ছু হবে না। আমি খুব সাবধানে ড্রাইভ করব। আফটার অল আই অ্যাম আ ভেরি গুড বাইকার।’
ঠিক তখনই পাশ থেকে কুহুর তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
‘গুড বাইকার না ছাই! এই জন্যই তো দুই দিন পরপর হাত-পা ভেঙে বাড়িতে ফেরো তুমি।’
কুহু আর নিযানা শপিংয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে সেখানে এসে দাঁড়িয়েছে। ভাইয়ের এমন আত্মবিশ্বাস দেখে কুহু খোঁচা দিতে ছাড়ল না। কলরব তৎক্ষণাৎ রেগে গিয়ে কুহুর মাথায় একটা আলতো চাটি মেরে বলল,
‘চুপ থাক পাতকাঠি! তোকে কি বেশি বুঝতে বলেছি আমি?’
কুহু মাথায় হাত দিয়ে তেঁতে উঠল, ‘ভাইয়া, একদম ভালো হবে না কিন্তু! কত কষ্ট করে আয়না দেখে চুলটা বেঁধেছি। সব নষ্ট করে দিলে!’
ওদের এই ভাই-বোনের খুনসুটি আর সোরগোলের মাঝেই দিব্য ধীরপায়ে ওদের দিকে এগিয়ে আসলো। ওকে দেখামাত্রই কুহুর সব তেজ পানি হয়ে গেল; বড় ভাইকে সে যমের মতো ভয় পায়। দিব্য ওখানে এসে থমকে দাঁড়াল। ওর দুচোখে এখন বিরক্তির স্পষ্ট ছাপ। সে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে নবনীর দিকে শীতল চোখে চাইল।
‘কী চলছে এখানে? নবনী, তোমাকে কখন বলেছি দিয়াকে নিয়ে আসতে? আমার অফিসে যেতে লেট হয়ে যাচ্ছে। সেটা কি কারো খেয়াল আছে?’
মুহূর্তেই পুরো জায়গাটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কলরব বাইকের এক্সিলারেটর ঘোরানো বন্ধ করে দিল। নবনী অপরাধীর মতো মুখ নিচু করে রইলো। অসহায় চোখে দিব্যর পানে চাইলো। কিছু একটা বলতে চাইল কিন্তু তার আগেই দিয়া বেশ গম্ভীর স্বরে বলল,
‘পাপ্পা, প্লিজ আমাকে চাচ্চুর সাথে যেতে দাও।তাহলেই কেবল দিয়া তোমাকে ক্ষমা করে দেবে!’
দিয়ার মুখে এই ‘ক্ষমা’ করার শর্ত শুনে কলরব শব্দ করে হেসে উঠল। কুহু আর নিযানা একে অপরের দিকে চাওয়া-চাওয়ি করল। ওদের মাথায় কিছুই ঢুকল না যে এমন কী ‘অপরাধ’ দিব্য করে ফেলেছে যার জন্য এইটুকু বাচ্চা মেয়ে ক্ষমা করার কথা বলছে! দিব্যর কপাল কুঁচকে গেল। সে গম্ভীর গলায় শাসন করার চেষ্টা করল,
‘একদম না দিয়া! পাপ্পা তোমাকে আজ অনেক চকলেট আর নতুন নতুন খেলনা কিনে দেবে। কিন্তু এই ধরনের জেদ একদম চলবে না মাম্মা। চলো গাড়িতে এসো।’
দিয়া দমবার পাত্রী নয়। সে মুখ ঘুরিয়ে অভিমানী গলায় ঘোষণা করল,
‘নাহ! তাহলে দিয়া আর কক্ষনো তোমার সাথে কথা বলবে না। কাট্টি!’
মেয়ের এমন অটল জেদ আর অভিমানে ফুলানো মুখ দেখে দিব্যর সব গাম্ভীর্য যেন বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়ল। সে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কলরব বলল,
‘আরে ভাইয়া, থাক না! আমি তো আছিই। কথা দিচ্ছি একদম সাবধানে ড্রাইভ করব। কলিজার কিচ্ছু হবে না।’
দিব্য কিছুক্ষণ মেয়ের বুকে হাত বেঁধে মুখ ফুলিয়ে রাখা ভঙ্গিটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর কলরবের দিকে তর্জনী উঁচিয়ে অত্যন্ত কঠিন স্বরে সতর্কবাণী দিল,
‘ঠিক আছে। তবে মনে রাখিস কলরব আমার মেয়ের যদি সামান্য একটা আঁচড়ও লাগে; তবে তুই এই পৃথিবীতেই থাকবি না! কথাটা যেন মাথায় থাকে।’
কলরব জিহ্বায় কামড় দিয়ে অভয় দেওয়ার ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল। দিব্য গাড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
‘কুহু, নিযানা আর নবনী তোমরা আমার গাড়িতে এসো। বাকিরা সবাই কাব্যর সাথে চলে যাবে। জলদি করো আমাদের অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে।’
শপিংয়ের ব্যস্ততা আর রেস্তোরাঁর দুপুরের খাবার শেষে যখন সবাই বাড়ি ফিরল তখন বিকেলের রোদ ড্রয়িংরুমের সোফায় এসে পড়েছে। কিন্তু ঘরের ভেতরের পরিবেশটা রোদের মতো তপ্ত নয় বরং বেশ গুমোট। সেখানে বসে আছেন আরশাদ তালুকদারের একমাত্র বোন, আনতাসা তালুকদার। চোখে চশমা। পরনে বেশ ছিমছাম থ্রিপিস; তবে চেহারায় আভিজাত্যের চেয়েও এক ধরণের কড়া মেজাজ স্পষ্ট ফুটে আছে। অলেখা সৌজন্যের হাসি নিয়ে এগিয়ে গেলেন। আন্তরিক গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
‘কেমন আছেন আপা? কখন এলেন? একটা ফোন তো করতে পারতেন।’
আনতাসা ঠোঁটের কোণে একটা যান্ত্রিক হাসি ঝুলিয়ে রাখলেন। চশমাটা নাকের ওপর একটু ঠেলে দিয়ে বেশ ধারালো গলায় বললেন,
‘এটা তো আমারও নিজের বাড়ি ভাবি। নিজের বাড়িতে আসার জন্য কি তোমাকে ফোন দিয়ে অনুমতি নিতে হবে? তাছাড়া মিলু আপু তো ছিলই। সে আমাকে যথেষ্ট যত্ন করেছে। তাই তোমাদের অভাব বোধ করিনি।’
অলেখার হাসিমাখা মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। বড় ননদের এমন সপাটে উত্তরে তিনি কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেন। মাজহা চটজলদি বললেন,
‘তা তো ঠিকই আপা। তোমার বাড়ি তুমি যখন খুশি আসবে। তুমি বসো তাহলে। আমরা বরং ঘরে যাই। দিনভর কেনাকাটা করে শরীরটা আর চলছে না। ভীষণ ক্লান্ত লাগছে।’
মাজহা আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়ালেন না। কথা শেষ করেই গটগট করে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালেন। অলেখা একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনি চাইলেও মেজ জায়ের মতো এত সহজে পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে পারেন না। আনতাসা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি স্থির হলো নবনীর ওপর। যে সবার পেছনে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আনতাসা বেশ রুক্ষ স্বরে বললেন,
‘তা দিব্যর বউয়ের সাথে তো পরিচয় করালে না ভাবি। ও-ই বুঝি সেই মেয়ে?’
নবনীর বুকটা ধক করে উঠল। আনতাসার চোখের চাউনি যেন তাকে ব্যবচ্ছেদ করছে। অলেখা ডাকলেন নবনীকে। নবনী ধীরপায়ে এগিয়ে এল।
অলেখা নবনীর কাঁধে হাত রেখে আনতাসার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। কোমল স্বরে বললেন,
‘নবনী, ইনি তোমার ফুফু শাশুড়ি। নিযানার মা এবং তোমার শ্বশুরের একমাত্র ছোট বোন।’
নবনী খুব বিনীতভাবে মাথা নিচু করে মুখে একটি স্নিগ্ধ হাসি ফুটিয়ে তুলল। নিচু স্বরে সালাম দিয়ে বলল,
‘আসসালামু আলাইকুম ফুপি। কেমন আছেন আপনি?’
আনতাসা এতক্ষণ খুব কঠোরভাবে নবনীকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন কিন্তু নবনীর শান্ত কণ্ঠস্বর আর বিনয়ী ভঙ্গি দেখে তার চেহারার কাঠিন্য কিছুটা যেন কমল। তিনি চশমার আড়াল থেকে নবনীর মুখটা আর একবার ভালো করে দেখে নিয়ে একটু হেসে মাথা নাড়লেন।
‘ওয়ালাইকুম আসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি মা। আসলে আমি দেশের বাইরে ছিলাম তাই তোমাদের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারিনি। সেটা নিয়ে মনের মধ্যে একটা খচখচানি ছিলই। তা এভাবে দূরে দাঁড়িয়ে কেন? এদিকে আমার কাছে এসো তো।’
আনতাসা এই হঠাৎ নরম হওয়াটা অলেখা বেগমকে কিছুটা অবাক করল। নবনী কিছুটা দ্বিধা নিয়ে ফুফু শাশুড়ির পাশে গিয়ে বসল। মানতাসা নিজের হাতব্যাগ থেকে একটি মখমলের বক্স বের করে নবনীর দিকে বাড়িয়ে দিলেন। মুখে এক চিলতে হাসি ঝুলিয়ে বললেন,
‘এটা তোমার উপহার। খুলে দেখো পছন্দ হয় কি না। আসলে তোমাকে এই বাড়ির বউ করে আনার কথাটা আমিই সবার প্রথমে ভাইয়াকে বলেছিলাম। স্বামীর সাথে সুখে থেকো।’
মানতাসার শেষ কথাটি ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সবার কান পর্যন্ত পৌঁছালো। অলেখা চমকে উঠলেন। তার ভ্রু কুঁচকে গেল। দিব্য আর নবনীর বিয়ের পেছনে বড় ননদের এমন কোনো ভূমিকা ছিল সেটা তাঁর একদমই জানা ছিল না। এই লুকানো সমীকরণটা যেন অলেখার মনে একটা অস্বস্তির জন্ম দিল। তিনি বললেন,
‘নবনী, তুমি বরং এখন যাও। দিয়ার পোশাকটা বদলে দিয়ে ওকে একটু ফ্রেশ করে দাও। আর আপা তুমিও অনেক ধকল সামলে এসেছো। গিয়ে একটু বিশ্রাম করো।’
অলেখার কথায় আপত্তি করলেন না মানতাসা। তিনি ধীরেসুস্থে উঠে দাঁড়ালেন। ঠিক তখনই তার নজর পড়ল ড্রয়িংরুমের অন্য প্রান্তে যেখানে নিযানা, কুহু আর কলরব মিলে বাচ্চাদের সাথে রীতিমতো হইহুল্লোড় আর হাসাহাসি করছে। নিযানার এমন উচ্ছলতা দেখে মানতাসার কপাল আবার কুঁচকে গেল। তিনি বেশ কড়া স্বরে ধমক দিয়ে বললেন,
‘নিযানা! এটা কেমন আচরণ? এভাবে হইহট্টগোল করার মানে কী? অনেকক্ষণ বাইরে ছিলে। রোদ খেয়ে এসেছো। যাও এখনই ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নাও।’
মায়ের কড়া গলা শুনে মুহূর্তেই নিযানার চঞ্চলতা উবে গেল। সে যেন কাঠের পুতুল হয়ে গেল। কলরব আর কুহু বিরক্ত চোখে মানতাসার দিকে তাকাল; ফুপুর এই সামরিক শাসনের কায়দা তারা ছোটবেলা থেকেই চেনে। নিযানা মাথা নিচু করে শুধু বলল,
‘ওকে মাম্মা, আমি এখনই যাচ্ছি।’
কলরব সুযোগ বুঝে নিযানার দিকে তাকিয়ে একটা ভেঙচি কাটল। নিযানা রাগে কড়া চোখে কলরবের দিকে চাইলেও মায়ের ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটে ওখান থেকে প্রস্থান করল। ড্রয়িংরুমের আনন্দঘন পরিবেশটা মানতাসার প্রভাবে নিমেষেই যেন এক গুমোট গাম্ভীর্যে রূপ নিল। নবনী বক্সটা হাতে নিয়ে নিজের ঘরের দিকে হাঁটা দিল।
দিয়া হঠাৎ করেই চনমনে হয়ে খাটের ওপর লাফিয়ে উঠল। ওর দুচোখে রাজ্যের দুষ্টুমি। নবনীর হাত ধরে আবদারের সুরে বলল,
‘মাম্মা, চলো না কানামাছি খেলি!’
নবনী ঘড়ির দিকে তাকিয়ে একটু ক্লান্ত গলায় বলল,
‘এখন তো অনেক রাত হয়ে গেছে সোনা। এখন কি খেলা সাজে?’
‘তাতে কী? আমার ঘুম আসছে না। আমি এখনই খেলব!’
শেষমেশ মেয়ের জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো নবনী। দিয়া পরম উৎসাহে নবনীর চোখের ওপর একটা ওড়না দিয়ে শক্ত করে বাঁধন টেনে দিল। নবনী অন্ধের মতো হাতড়ে দিয়াকে ধরার চেষ্টা করছে আর দিয়া খিলখিল করে হেসে ওর চারপাশ দিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। ঠিক তখনই আচমকা নবনী শক্তপোক্ত কোনো কিছুর সাথে সজোরে ধাক্কা খেল। মুহূর্তের জন্য সে ঘাবড়ে গিয়ে পিছিয়ে আসতে চাইল কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে পড়তে নিতেই দুটো বলিষ্ঠ হাত আষ্টেপৃষ্ঠে আগলে ধরল তাকে। নবনীর বুকের ভেতরটা দুরুদুরু করে উঠল। ঠিক তখনই কানের কাছে অতি পরিচিত সেই গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
‘এভরিথিং ইজ টেম্পোরারি বাট তুমি আমার কোলেই পড়বে এটা মনে হয় পারমানেন্ট হয়ে গেছে, তাই না?’
দিব্যর কণ্ঠস্বর চিনে নিতে এক মুহূর্ত সময় লাগল না নবনীর। সে তড়িঘড়ি করে এক হাত দিয়ে চোখের বাঁধনটা টেনে খুলে ফেলল। চোখ মেলতেই দেখল দিব্যর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সরাসরি তার চোখের ওপর স্থির হয়ে আছে। দিব্যর একটি হাত তখনো নবনীর কোমরে বেশ শক্ত করে জড়ানো। ঠিক সেই মুহূর্তে নবনীর নজর পড়ল নিচে দাঁড়িয়ে থাকা দিয়ার দিকে। দিয়া দুই কোমরে হাত দিয়ে ভ্রু কুঁচকে ওদের এই দৃশ্যটা খুঁটিয়ে দেখছে। নবনী যেন কারেন্টের শক খেল! সে তড়িঘড়ি করে দিব্যর বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে ছিটকে দূরে সরে এল। দিয়া গটগট করে এগিয়ে গিয়ে দিব্যর প্যান্টের কাপড় টেনে ধরল। দিব্যর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমল; তার মনে হলো সকালে যে কাণ্ড ঘটেছিল তার দ্বিতীয় কিস্তি বুঝি এখনই শুরু হবে! সে দ্রুত নিচু হয়ে দিয়াকে কোলে তুলে নিল এবং অত্যন্ত সাফাই দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল,
‘দিয়া মাম্মা, শোনো দেখো আমি কিন্তু মাম্মাকে ইচ্ছা করে কোলে নেইনি। মাম্মা তো পড়ে যাচ্ছিল। না ধরলে অনেক ব্যথা পেত, তাই না?’
দিয়ার কচি মনের মেঘ মুহূর্তেই কেটে গিয়ে সেখানে রোদের ঝিলিক দেখা দিল। সে খিলখিল করে হেসে উঠে দিব্যর গলা জড়িয়ে ধরল। উৎসাহ নিয়ে বলল,
‘থ্যাঙ্কস পাপ্পা! তুমি মাম্মাকে সুপারম্যান হয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছো। কিন্তু এখন আমার একটা ইচ্ছা আছে। চলো আমরা খাটে গিয়ে একটা সুন্দর ছবি তুলব!’
দিব্য একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। যাক, অন্তত মেয়েটা ভুল বোঝেনি। সে দিয়ার নাকে আলতো টোকা দিয়ে বলল,
‘পিকচার? ওকে মাম্মা, পাপ্পা জাস্ট পাঁচ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে আসছে। তারপর আমরা পোজ দেব। ঠিক আছে?’
দিয়া সানন্দে মাথা নাড়ল। দিব্য তাকে বিছানায় নামিয়ে দিয়ে আলমারি থেকে নিজের ক্যাজুয়াল ড্রেস বের করে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। মিনিট কয়েক পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসতেই সে দেখল নবনী আর দিয়া বিছানায় পাশাপাশি বসে আছে। তবে নবনীর মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাশে আর কুঁকড়ে আছে। দিব্য দিয়ার মুখোমুখি বসে বলল,
‘এবার চলো, আমাদের ফটোসেশন শুরু করা যাক!’
দিয়া তার হাতে থাকা ফোনটা দিব্যর চোখের সামনে ধরল। ফোনের স্ক্রিনে একটা ভিডিও ক্লিপ চলছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রথমে একটি শিশু শুয়ে আছে, তার মা এসে শিশুটির গালে আলতো করে চুমু খেয়ে নিজের মাথাটা শিশুর মাথার ওপর রাখল। ঠিক পরক্ষণেই শিশুটির বাবা এসে মায়ের গালে একটা ভালোবাসার পরশ দিয়ে একইভাবে তাদের ওপর মাথা রাখল। এক চমৎকার পারিবারিক মুহূর্ত। ভিডিওটা দেখেই দিব্যর বুকটা একবার ধক করে উঠল। নবনীর আড়ষ্টতার কারণ এতক্ষণে তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। দিয়া আবদারের সুরে আবার বলল,
‘পাপ্পা, প্লিজ! আমরাও ঠিক এমন করে ভিডিও আর ছবি তুলব। প্লিজ, প্লিজ!’
দিব্য মৃদু মাথা নাড়ল ঠিকই কিন্তু নিজের ভেতরে এক প্রবল সংকোচ অনুভব করল। এই প্রথম সে নবনীর খুব ব্যক্তিগত পরিসরে এভাবে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে যা কেবল নামমাত্র স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ের ঊর্ধ্বে। নবনীর অস্বস্তি কি এতে আরও বাড়বে? সে দিয়ার দিকে তাকিয়েই আড়চোখে নবনীকে দেখল। তারপর নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
‘নবনী, তোমার কোনো প্রবলেম নেই তো? তুমি চাইলে আমরা অন্যভাবেও ছবি তুলতে পারি।’
দিয়া বিরোধ করে বলল, ‘না, অন্যভাবে না। এইভাবেই।’
নবনী পাথরের মতো বসে ছিল। দিয়ার এই নিষ্পাপ আবদার সে ফেলতে পারছে না। আবার দিব্যর এত কাছাকাছি যাওয়াটাও তার হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিচ্ছে। নবনীর কণ্ঠস্বর যেন গলার কাছে দলা পাকিয়ে আটকে গেল। সে সরাসরি দিব্যর চোখের দিকে তাকাতে পারল না। আবার দিয়ার এই আনন্দমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে ‘না’ বলার সাধ্যও তার হলো না। মনের ভেতর এক প্রচণ্ড তোলপাড় চললেও সে বাইরে থেকে নিজেকে শান্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করল। খুব ধীরগতিতে দুই পাশে মাথা নেড়ে অসম্মতি নেই বলে জানিয়ে দিল। দিয়া খুশিতে খাটের ওপর এক চক্কর ঘুরে হাততালি দিয়ে উঠল। ওর চোখমুখ তখন বিজয়ের হাসিতে উজ্জ্বল।উত্তেজনায় টগবগ করে বলল,
‘পাপ্পা, তাহলে তোমার ফোনেই করি? ওটা অনেক সুন্দর। চলো চলো, শুরু করো!’
দিব্য মৃদু হাসল। নিজের আইফোনটা বের করে ট্রাইপড বা কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই একটা বালিশের ওপর ঠিকঠাক করে ফোনটা সেট করে নিল। ভিডিওর টাইমার অন করে দিতেই দিয়া যেন এক দক্ষ অভিনেত্রীর মতো পজিশন নিয়ে নিল। সে নিজে থেকেই চট করে বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে পড়ল। তারপর নবনীর দিকে হাত বাড়িয়ে ডাকল,
এই অবেলায় পর্ব ৮
‘মাম্মা জলদি আসো! দেরি করছো কেন? আসো না!’
নবনী অনেকটা যান্ত্রিকভাবে দিয়ার কথামতো এগিয়ে গেল। সে নিচু হয়ে দিয়ার তুলতুলে নরম গালে একটা চুমু খেল। এরপর নিজের মাথাটা দিয়ার মাথার ওপর আলতো করে কাত করে রাখল। তার হৃদপিণ্ড তখন অবাধ্য হয়ে লাফাচ্ছে। সে জানে এর পরের ধাপটি কী। দিব্য সামান্য সময় নিল। হয়তো সে নিজেও নিজের জড়তা কাটাচ্ছিল। তারপর খুব ধীর এগিয়ে এসে অতি সন্তর্পণে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল নবনীর ফর্সা গালে। দিব্যর উষ্ণ স্পর্শে নবনী শিউরে উঠল। অস্ফুট এক শিহরণে মুহূর্তেই তার চোখ দুটো বুজে এল। অতঃপর দিব্য যখন তার মাথাটা নবনীর গালের ওপর কাত করে রাখল। তখন ক্যামেরার লেন্সে এক অসাধারণ পারিবারিক মুহূর্ত ধরা পড়ল।
