এই অবেলায় পর্ব ৩২
সুমনা সাথী
নবনীর কাছে মুহূর্তটা অলৌকিক ঠেকল। সে কি ভুল দেখছে? ঝাপসা বৃষ্টির আবরণে সামনে বসা মানুষটা কি সত্যিই দিব্য তালুকদার। নাকি মনের কোনো গহিন কোণ থেকে উঠে আসা বিভ্রম? নবনীকে দেখামাত্রই দিব্য উঠে দাঁড়াল। তার দীর্ঘ অবয়ব নিয়ে বড় বড় পদক্ষেপে বৃষ্টির তোড় উপেক্ষা করেই সে এগিয়ে এল নবনীর দিকে। নবনী তখন এক জীবন্ত পাথরের মূর্তি; ওর ভেতরটা এক অজানা ঝড়ে কাঁপছে। দিব্য এসে একদম মুখোমুখি দাঁড়াতেই নবনী তড়িৎ মাথা নিচু করে নিল। ওর মস্তিষ্কে তখন হাজারটা চিন্তা। ক্ষমা কি তার চাওয়া উচিত? একটা স্যরি বললে পরিস্থিতির অবসান হবে? কিন্তু আড়ষ্টতা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। মুখ ফুটে একটা শব্দও বেরোচ্ছে না। দিব্য তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বৃষ্টির জলে সিক্ত এই মানবীকে পরখ করতে লাগলো। নবনীর চোখ দুটো রক্তিম। কান্না করেছে বোঝা যাচ্ছে। বৃষ্টির শীতল স্পর্শে তার গোলাপের পাপড়ির ন্যায় নরম ওষ্ঠাধর তিরতির করে কাঁপছে। চারপাশের এই বৈরী আবহাওয়া। দিব্য খুব শান্ত ভাবে বলল,
‘আই অ্যাম স্যরি! রাগ কি এবার একটু কমেছে?’
নবনীর হৃৎপিণ্ড যেন একটা স্পন্দন মিস করল। সে চকিতে মুখ তুলে চাইল। এই লোকটা তাকে ‘স্যরি’ বলছে? কিন্তু কেন? নবনী নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ভেতরের সমস্ত অভিমান, যন্ত্রণা আর ভালোবাসা বাঁধ ভেঙে উপচে পড়ল। ছিটকে গিয়ে সামনে থাকা মানুষটার প্রশস্ত বুকে আছড়ে পড়ল। দু-হাতে জাপ্টে ধরে মাথা ঠেকাল সেই উষ্ণ আশ্রয়ে। আকস্মিক এই ধাক্কায় দিব্য কিছুটা চমকে উঠল। নিজেকে সামলাতে পিছিয়ে গেল এক পা। চারিদিকে তখন মুষলধারে বৃষ্টি নামছে। আকাশ ভেঙে পড়া ঝমঝম শব্দের উন্মাদনা। সেই প্রবল শব্দের অরণ্য ভেদ করেও দিব্য স্পষ্ট শুনতে পেল নবনীর ফোঁপানির শব্দ। মেয়েটা অঝোরে কাঁদছে। দিব্য যখন অতি সাবধানে, আলতো করে একটা হাত নবনীর মাথায় রাখল তখন নবনী ধরা গলায় অভিযোগ করে উঠল,
‘আপনি এখনো যাননি? কেন যাননি? আর আপনি কেন আমাকে স্যরি বলছেন, হ্যাঁ? ভুল তো সব আমার ছিল। আমি তো অনেক বড় অপরাধ করেছি!’
নবনী কাঁদছে। কান্নার ধাক্কায় সে কথা গুছিয়ে বলতে পারছে না। দিব্য কাঁধে হাত রেখে বলল,
‘আচ্ছা, ঠিক আছে। শান্ত হও।’
নবনী কম্পিত গলায় বলল, ‘আমি… আমি আসলে ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। এক অদ্ভুত আতঙ্ক আমাকে সারাক্ষণ তাড়া করেছিলো। আমার মাথায় তখন কিছুই কাজ করছিল না। আপনাকে মেরে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে অথচ আপনি কী অদ্ভুত নির্বিকার! কিন্তু আমার সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা হয়। অদ্ভুত এক ছটফটানি কাজ করে মনের ভেতর। যখন শুনলাম দিয়াকেও ওরা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে তখন আমার যে কী লাগছিল তা আপনাকে বলে বোঝাতে পারব না। আমার শুধু মনে হচ্ছিল, দিয়াকে নিয়ে আমি অনেক দূরে কোথাও পালিয়ে যাই। ওকে এমন কোথাও লুকিয়ে রাখি যেখানে কেউ ওর ক্ষতি করতে পারবে না। সেই ভয় থেকেই ওকে নিয়ে এখানে চলে এসেছিলাম। বিশ্বাস করুন, আমি ওকে বড্ড ভালোবাসি। ওর কিছু হয়ে গেলে আমি সহ্য করতে পারব না। কিন্তু আমি শেষ পর্যন্ত কী করলাম? ওই ছোট্ট বাচ্চাটার সাথেই কত বাজে ব্যবহার করলাম! ও নিশ্চয়ই এখন আমাকে ঘৃণা করবে! আমি নিজের হাতে সব নষ্ট করে ফেললাম! আমি কি করবো।’
একনাগারে কথাগুলো বলে নবনী আবারও কান্নায় ভেঙে পড়ল। দিব্য স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে ভেবেছিল নবনী হয়তো অভিমান করে চলে এসেছে কিন্তু এই অস্থিরতার কথা সে ভাবতেও পারেনি। দিব্য বলল,
‘ইট’স ওকে নবনী। আই অ্যাম স্যরি। আমি তোমাকে বুঝতে পারিনি। তুমি যে মনে মনে আমাকে নিয়ে এতটা আতঙ্কে ছিলে সেটা আমি ধরতেই পারিনি। তুমি চিন্তা করবে দেখে আমি বলিনি। বাড়িতে ও কাউকে বলিনি। শুধু আব্বু জেনে ফেলেছিলো। কিন্তু নবনী, আমি কি তোমাকে আগে বলিনি? আমি আর সবার মতো শুধু মেয়ের দেখাশোনার জন্য তোমাকে বিয়ে করিনি। তাহলে তো আমি কাজের লোক রেখে দিতাম। আমার তো যতেষ্ট সাম্যর্থ আছে। আমি অনেক ভেবেচিন্তেই তোমাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমার কাছে তুমি শুধু দিয়ার জন্য প্রয়োজন নও নবনী।’
নবনী নিজেকে কিছুটা সামলে নিল। দিব্যর বুক থেকে মাথা সরিয়ে নিয়ে খানিকটা দূরত্ব রেখে দাঁড়াল। বৃষ্টির ঝাপটায় চোখ-মুখ ধুয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি আর চোখের পানিতে একাকার। কঠিন গলায় সে বলল,
‘দয়া করে আমাকে মিথ্যে সান্ত্বনা দিয়ে ভোলানোর চেষ্টা করবেন না। এই বিষয়ে আমি আর কোনো কথা শুনতে চাই না। দিয়ার কথা নাহয় বাদই দিলাম কিন্তু আপনি কি সত্যিই কোনোদিন মন থেকে আমার সাথে সংসার করতে পারবেন? এতদিনে ও তো পারেননি। আপনি তো আপুকে ভালোবাসতেন, তাই না? নিজের পছন্দেই তো তাকে বিয়ে করেছিলেন। তাকে কি সত্যিই ভোলা সম্ভব? যদি না-ই হয়, তবে আমাকে এই মায়ার জালে জড়ালেন কেন? আমি দিয়াকে কিভাবে ছেড়ে দিবো? আমি যদি আপনার জীবন রাঙাতে না-ই পারি তবে আমি আপনার কাছে প্রয়োজন ছাড়া আর কী?’
দিব্যর চোয়াল শক্ত হয়ে এল। হাতের মুষ্টি বদ্ধ হলো অজান্তেই। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
‘তোমার আপুকে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলাম ঠিকই। তবে সেটা ছিল আর দশটা সাধারণ অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ -এর মতোই। স্ত্রী হিসেবে তাকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছিলাম। হয়তো ভালোও বাসতাম। আই রিপিট ভালো বাসতাম। তোমাকে বিয়ে না করলে অন্য কাউকে ঠিকই বিয়ে করতাম। তাকে ও ভালোবাসতাম। জীবন তো আর থেমে থাকে না।’
নবনী চকিতে চাইল দিব্যর দিকে। দিব্যর মুখভঙ্গি এখন কঠোর। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজে তার শরীর থেকে পানি কণা গড়িয়ে পড়ছে। তীক্ষ্ণ চোখের মণি জোড়া স্থির হয়ে আছে নবনীর ওপর। নবনী সেই চোখের গভীরে চোখ রেখে কাঁপা গলায় প্রশ্ন করল,
‘এখন বাসেন না? না হয় ধরলাম আমাকে আপনি ভালোবাসেন না। কিন্তু কাল যদি আমি মারা যাই? তখন কী হবে? আপনি কি আবার বিয়ে করবেন এবং কিছুদিন পর তাকেও ঠিক একইভাবে ভালোবাসবেন?’
কথাটা শোনামাত্র দিব্যর শিরা-উপশিরায় যেন বিদ্রহ শুরু করলো। জ্বালা ধরালো গায়ে। প্রচণ্ড রাগে চোখ দুটো মুহূর্তেই রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। আচমকা এক টানে নবনীকে নিজের বুকের একদম কাছে নিয়ে এল। নবনী এই আকস্মিকতায় হকচকিয়ে গেল। দিব্যর শক্ত হাতের বাঁধনে সে তখন দিশেহারা। দিব্য নিচুস্বরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
‘তুমি যদি তোমার আপুর মতো একই কাজ করো তবে প্রয়োজনে আমি ঠিক সেটাই করব। আর যদি মিত্যুর আগ অব্দি শুধু আমার থাকো তাহলে আমি তোমার মিত্যুর পর অব্দি তোমার থাকবো। সেই সময় যদি একশ বছর দীর্ঘ হয় তবুও। আর আমি যেটা ভাবি সেটাই করা উচিত বলে মনে করি। আর কিছু কি তোমার জানার আছে?’
নবনী এই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ ধরতে পারল না। তবে কিছুটা আঁচ করতে পারলো। সে বোকা না। শিউরে উঠলো ভিতরে ভিতরে। এমন কিছু কি শুনে ফেলবে যেটা তার শোনা উচিত না। সে বিচলিত হয়ে ভাঙা গলায় বলল,
‘কী? আপু কী করেছিল? কী এমন কাজ? বলুন, চুপ করে আছেন কেন?’
নবনী মনে মনে দোয়া করতে লাগলো তেমন কিছু যেন তার শুনতে নাহয়। দিব্য বিরক্ত কণ্ঠে বলল,
‘বললে তুমি সহ্য করতে পারবে না নবনী আর আমি সেটা বলতেও চাই না। তবে সত্যিটা হলো, তোমার আপুর সাথে আমার বৈবাহিক সম্পর্ক কখনোই তোমার আর আমার সম্পর্কের মতো ছিল না। সে কেবল পরিবারের চাপে আমাকে বিয়ে করেছিল। তোমার মতো করে এই সংসারটাকে আগলে ধরার চেষ্টা সে কোনোদিন করেনি। যা ছিলো আমার তরফ থেকে ছিলো। আমি তোমাকে এসব বলতে চাইনি কারণ সে তোমার বোন। আর আমি অহেতুক কৈফিয়ত দেওয়া পছন্দ করি না। তুমি থাকলে আমার সাথে এভাবেই তোমাকে থাকতে হবে। এভাবেই সংসার করতে হবে। এটাই বাস্তব, আর এটা তোমাকে মানতেই হবে।’
নবনী আহত গলায় বলল, ‘আর আমি যদি না চাই? তবে কি অনায়াসেই আমাকে ছেড়ে দেবেন?’
দিব্য উত্তর এড়িয়ে গিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, ‘অনেক রাত হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজেছ তুমি। শরীর খারাপ করবে। এবার ঘরে চলো।’
নবনী শুনলো না। এক হাত দিয়ে দিব্যর শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরল। তার চোখে অস্থিরতা। দিব্যর চোখে চোখ রেখে বলল,
‘এত রহস্য কেন করছেন আপনি? আমার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর চাই। আচ্ছা, সত্যি করে একটা কথা বলুন তো। কাল রাতে ফোনে কেন ওভাবে বললেন যে আমি কেন দিয়াকে নিয়ে এলাম? দিয়া আপনার মেয়ে। এটাই তো আপনার মূল কথা ছিল তাই না? আমি ভুলটা কী বলেছি?’
‘রিলাক্স নবনী। এতটা উত্তেজিত হচ্ছ কেন?’
নবনী ঝাঁঝালো গলায় চেঁচিয়ে উঠল, ‘তবে কী করব আমি? ও যদি একা আপনারই মেয়ে হয় তবে আমার অবস্থান কোথায়? বলুন! আমি কে? আম…….!’
নবনীর কথাগুলো আর পূর্ণতা পেল না। তার অবাধ্য ওষ্ঠাধরের নালিশগুলো দিব্যর ওষ্ঠের নিবিড় সান্নিধ্যে মাঝপথেই থমকে গেল। মুহূর্তের সেই অতর্কিত ছোঁয়ায় নবনীর সারা শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল। ঝমঝম করে পড়তে থাকা বৃষ্টির শব্দের মাঝে যেন সময় থমকে দাঁড়াল।
দিব্য মুখ সরিয়ে নিতেই নবনী অস্ফুট স্বরে পুনরায় কিছু বলার চেষ্টা করল,
‘দে… দেখুন… আপ…!’
দিব্য পুনরায় একই কাজ করল। তার পুরুষালি ওষ্ঠাধর দিয়ে দখল করে নিল নবনীর কোমল ওষ্ঠ জোড়া। তবে এবারের ছোঁয়া নিবিড়। নবনীর সমস্ত শরীর যেন অসাড় হয়ে এল। অজানা আবেশে সে চোখ দুটো খিঁচিয়ে বুজে ফেলল। দিব্য তাকে দু-হাতে আলিঙ্গন করতে এক মুহূর্ত সময় নেয়নি। তার একটি হাত লতার মতো নবনীর কোমরে পেঁচিয়ে তাকে আরও কাছে টেনে নিল। অন্য হাতটি নবনীর বাঁ গাল। বেসামাল এই পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগলে নবনী। তার হাতের মুঠোয় পিষ্ট হতে লাগল দিব্যর শার্টের কাপড়। আনিকা যখন দিব্যকে বারবার ঘরে এসে বসার অনুরোধ করেছিলেন দিব্য তা বিনয়ের সঙ্গে মানা করে দিয়েছিল। ক্লান্তিতে আনিকা ঘরে গিয়ে বসেছিলেন এবং কখন যে তার চোখ লেগে এসেছিল তিনি নিজেও টের পাননি। নবনীর একটু চড়া গলার আওয়াজ কানে যেতেই তার তন্দ্রা ছুটে গেল। তড়িঘড়ি করে বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই উঠোনের মাঝে মেয়ে আর জামাইকে এমন ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে তিনি প্রচণ্ড লজ্জায় পড়ে গেলেন। তবে সেই লজ্জার আড়ালে কোথাও যেন এক চিলতে স্বস্তিও পেলেন তিনি। দ্রুত পায়ে আবার ঘরের ভেতরে চলে গেলেন তিনি। নবনীর মনে হচ্ছে সে দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে। লোকটা তাকে মারতে চাইছে। আচমকাই শান্ত নবনী ছটফট করে উঠতেই দিব্য থামল। নবনী বারকয়েক জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করার চেষ্টা করল। তারপর ঝাঁঝালো গলায় বলল,
‘খবরদার! আর একদম আমাকে ছোঁবেন না। নয়তো খুব খারাপ হবে বলে দিচ্ছি। এভাবে দয়া দেখিয়ে মন রাখার কোনো প্রয়োজন নেই আমার। ছাড়ুন আমাকে!’
কিন্তু দিব্য ওকে ছাড়ল না। ছটফট করতে থাকা নবনীকে আরও শক্ত করে নিজের কাছে টেনে নিল। নবনীর কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে বড় করে একটি শ্বাস নিল। গভীর কণ্ঠে বলল,
‘শুধু দিয়ার জন্য কল করার হলে, আমি কেন একবারও ওর সাথে কথা বলতে চাইলাম না? দিব্য তালুকদার মাঝরাতে নিজের শাশুড়িকে পর্যন্ত কল করে মিথ্যা বলেছে…..জাস্ট টু হিয়ার ইউর ভয়েস ফর আ মোমেন্ট। সাম ফিলিংস আর নেভার স্পোকেন লাউডলি। এবার বলো নবনী এর মানে বোঝো? বোঝো বলো?’
নবনীর মনে হলো তার সর্বাঙ্গ যেন অবশ হয়ে আসছে। কাঁপতে থাকা পা দুটো আর শরীরের ভার সইতে পারছে না। বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডের অস্বাভাবিক গতি।
কলরব বিছানায় বসে অস্থিরভাবে উশখুশ করছে। আজ রাতে তাকে বাইরে যেতেই হবে। অথচ নিযানা তখন থেকে বইয়ের ওপর ঝুঁকে পড়ে আছে যে তার ঘুমানোর কোনো নামগন্ধ নেই। কলরব খানিকক্ষণ অসহায়ের মতো তাকিয়ে থেকে বিরক্তি মেশানো গলায় বলল,
‘এত পড়ে কী হবে বল তো? একদিন তো সবাইকেই মরতে হবে।’
নিযানা বই থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই শান্ত গলায় জবাব দিল,
‘তুমি নিজেও তো একদিন মরে যাবে। তো চাইলে এখনই গিয়ে মরতে পারো।’
কলরব মুখ বাঁকিয়ে বলল, ‘কিছু বললেই একদম খৈ ফোটে মুখে। পড়াশোনা ছাড়া দুনিয়ার আর কোনো কাজ কি পারিস তুই? কিচ্ছু তো পারিস না। আর এত সব হাবিজাবি বাল পড়ে শেষমেশ লাভটা কী?’
নিযানা এবার চোখ-মুখ কুঁচকে বই থেকে মুখ তুলল। তীব্র বিরক্তিতে বলল,
‘ছিঃ! নিজের ভাষাটা একটু সংযত করো। এসব কেমন ভাষা তোমার?’
‘তো কী বলব? সামান্য এক ক্লাস টেস্টে কয়েক নম্বর কম পেয়েছ বলে মানুষ ওইভাবে কাঁদে? এতটা সাইকোর মতো আচরণ কেউ করে?’
‘আমি আমার পুরো জীবনে কখনো এত কম নম্বর পাইনি।’
কলরব হোহো করে হেসে উঠল। ‘আর আমি তো জীবনে কোনোদিন তোর মতো এত নম্বর পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। আসলে এত নম্বর পেয়ে কী আনন্দ পাস তোরা? আসল মজা তো তখন, যখন তুই বত্রিশ পাবি আর স্যার দয়া করে এক নম্বর বাড়িয়ে তোকে তেত্রিশ করে দেবেন। সেই যে টেনেটুনে পাস করার আনন্দ তার কোনো তুলনা হয় না!’
নিযানা বিরক্তি নিয়ে কলরবের দিকে তাকাল। কলরব তখন নিজের মনেই হাসছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওর ফোনটা বেজে উঠল। ওপাশ থেকে অনন্ত অধৈর্য গলায় বলল,
‘কিরে, তোর আসতে আর কতক্ষণ লাগবে?’
কলরব তৎক্ষণাৎ নিযানার দিকে একবার তাকিয়ে কণ্ঠস্বর গম্ভীর করে ফেলল। বেশ আয়েশ করে বলল,
‘আসলে শরীরটা খুব একটা ভালো লাগছে না রে। মনে হচ্ছে বেশ জ্বর এসেছে গায়ে।’
অনন্ত বলল, ‘তার মানে তুই কি আসবি না?’
‘কীভাবে আসি বল? তোরা তো অবিবাহিত। তোরা কী বুঝবি বউয়ের মর্ম! টেনশন নিস না। তোর ভাবি আমার খুব যত্ন নিচ্ছে। এই জ্বরের মধ্যে আমাকে এক মুহূর্ত চোখের আড়াল হতে দিচ্ছে না। সে খুব স্বামী ভক্ত। সারাদিন চুমুর উপরে রাখে। তোরা একদম চিন্তা করিস না। বরং তোদের সবার এখন উচিত একটা করে বিয়ে করে ফেলা!’
অনন্ত ওপাশ থেকে বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে উঠল, ‘শালা, তোকে রাতের বেলায় কে গাঁজা খাওয়াল? এসব কী আজেবাজে বকছিস? তুই না গেলে গান কি আমার নানি এসে গাইবে?’
‘তোর ভাবি? শাঁকচুন্নি, গিরগিটি, পেত্নীর নাতনিদের হাত থেকেও আমাকে বাঁচিয়ে নিতে পারবে। সে থাকতে কিসের চিন্তা। তুই এখন রাখ তো। আমার ভীষণ মাথা ব্যথা করছে। একটু ঘুমিয়ে নিই।’
ফোনটা রেখে দিতেই কলরবের চোখ পড়ল নিযানার ওপর। সে তখন রাগী চোখে অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। কলরব সেসবে একদমই পাত্তা দিল না; বরং গুনগুন করতে করতে ফোনটা বিছানায় রেখে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল। কিন্তু তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফোনটা আবারও বেজে উঠল। কলরব বের হচ্ছে না দেখে নিযানা কৌতূহলবশত ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনে অচেনা নম্বর দেখে রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে এক মিষ্টভাষী নারী কণ্ঠ ভেসে এল,
‘কলরব, তুমি কি আজকেও একটু আমার সাথে দেখা করতে পারবে? আমার তোমার সাথে খুব জরুরি দরকার আছে।’
নিযানা যেন আকাশ থেকে পড়ল। বুকটা কেমন কেঁপে উঠল তার। সে খানিকটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
‘কে বলছেন?’
ওপাশ থেকে উত্তর এল, ‘আমি ইরা। এটা কি কলরবের নম্বর নয়? আপনি কে?’
‘ইরা’ নামটা শোনামাত্র নিযানার কানে যেন বিষাক্ত তীরের মতো বিঁধল। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল এক অজানা আশঙ্কায়। ইরার বলা প্রতিটি শব্দ তার মাথায় বারবার বাজতে লাগল। আজকেও দেখা করবে? তার মানে কি কলরব নিয়মিত এই মেয়ের সাথে দেখা করে? নিযানা আর ভাবতে পারল না। তার চোখের কোণগুলো মুহূর্তেই ভিজে উঠল। ওপাশ থেকে আবারও সেই কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
‘হ্যালো! শুনতে পাচ্ছেন? দেখুন, আমার মনে হয় না এটা ভুল নম্বর। আপনি কি কুহু বলছেন?’
নিযানার কানে ওপাশের কথাগুলো পৌঁছাল ঠিকই কিন্তু সে কোনো উত্তর দিতে পারল না। ঠিক সেই মুহূর্তে কলরব ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এল। নিযানাকে ওভাবে কানে ফোন ধরে থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে কিছুটা অবাক হলো। কপাল কুঁচকে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,
‘কী ব্যাপার, কে ফোন করেছে? অভিক নাকি অনন্ত?’
নিযানার হাত থেকে ফোনটা ফসকে বিছানায় পড়ে গেল। কলরব এই আকস্মিকতায় চমকে উঠল। কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলল,
‘আশ্চর্য! তোর মনটা কোথায় থাকে বল তো? ফোনটা এভাবে ফেলে দিচ্ছিস যেন তোর বাবার টাকার সম্পদ! আর এভাবে আছিস কেন?’
কলরব নিচু হয়ে ফোনটা তুলতে যেতেই নিযানা তাকে আটকে দিল। বেশ শান্ত গলায় প্রশ্ন করল,
‘তোমার এক্সের কি বিয়ে হয়নি?’
কলরব চমকালো। তবে খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিল,
‘না তো। যার জন্য আমাকে ছেড়ে গিয়েছিল সেই ছেলেটা শেষ পর্যন্ত ওকে ধোঁকা দিয়েছে। বিয়ে করেনি। মেয়েটা তো দুঃখে মরতেও গিয়েছিল। এখন অবশ্য একটু সুস্থ আছে। কিন্তু হঠাৎ এই কথা কেন? তাতে তোর কী?’
‘তুমি কি এখনো তার সাথে যোগাযোগ করো?’
কলরব বিরক্ত হয়ে বলল, ‘কী সব আজেবাজে বকছিস?’
হঠাৎই নিযানা হাত বাড়িয়ে কলরবের গলার কাছে টি-শার্টটা খামচে ধরল। কলরব হকচকিয়ে গেল। এতক্ষণে তার নজরে পড়ল নিযানার চশমার আড়ালে থাকা সেই টলমলে চোখ দুটো। জলভারাতুর সেই দুটি চোখ যেন ফেটে পড়তে চাইছে। কলরব কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিযানা বলে উঠল,
‘মিথ্যে কেন বলছ? তুমি আজও তার সাথে দেখা করো। ওকে সান্ত্বনা দিতে যাও? তাই না? বলো, কেন মিথ্যে বললে?’
কলরব খুব সহজভাবে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি গিয়েছিলাম। কিন্তু…!’
বাকি কথাটুকু আর শেষ করতে পারল না কলরব। তার আগেই নিযানার ডান হাতটা সজোরে এসে আছড়ে পড়ল ওর গালে। নিযানা চিৎকার করে উঠল,
‘ছিঃ কলরব! আমি ভাবতেও পারছি না তুমি এতটা নিচে নামতে পারো। কীভাবে পারলে তুমি এটা করতে, হ্যাঁ? তুমি আমাকে ভালোবাসো না, সহ্য করতে পারো না, ঠিক আছে। আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমি তো তোমার বিবাহিত স্ত্রী! ন্যূনতম সম্মানটুকু তো দেখাতে পারতে। বিয়ে শব্দটার পবিত্রতা কি তোমার কাছে এতই তুচ্ছ?’
কলরবের মাথায় রক্ত চড়ে গেল। একদিকে বিনা অপরাধে এই অনাকাঙ্ক্ষিত চড় আর অন্যদিকে এমন কুরুচিপূর্ণ অভিযোগ দুটো মিলিয়ে তার মেজাজ বিগড়ে গেল মুহূর্তেই। নিযানার বাহু খামছে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
‘তুই আমাকে মারলি? তোর এত বড় সাহস হয় কী করে? হ্যাঁ, আমি দেখা করেছি। তাতে তোর সমস্যা কী?’
কলরবের এই স্বীকারোক্তি যেন নিযানার বুকে বিষাক্ত তীরের মতো বিঁধল। তার ভেতরটা এক মুহূর্তের জন্য যেন দুমড়ে-মুচড়ে গেল। পা দুটো টলমল করে উঠল। কেমন অবলীলায় ছেলেটা সব স্বীকার করে নিল! নিযানার চোখের অশ্রু বাঁধ ভাঙল। সে ফুঁপিয়ে উঠে কাঁপা গলায় বলল,
‘মাঝেমধ্যেই রাতে তুমি ঘরে থাকো না। অনেক রাত করে বাড়ি ফেরো। আবার কখন ফেরো তাও হয়তো জানিনা। এই…এই জন্য? আমি ভাবতেও পারছি না কলরব! এসব করার আগে কি তোমার একবারও আমার কথা মনে পড়েনি? আমাদের সম্পর্কের কথা মনে পড়েনি? এমনকি কালকে ও আমরা! আল্লাহ! তোমাকে আমার ঘৃণা করতে ইচ্ছে করছে। আবার নিজ মুখে স্বীকার করছো? তুমি কি আসলেই মানুষ?’
কলরব হতভম্ব হয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে কিছু বলতে নিলেই নিযানা ছিটকে সরে গেল ওর কাছ থেকে। কলরব কিছু বলার জন্য মুখ খোলার আগেই সে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বেরিয়ে দৌড় দিল।
নবনী যখন আলমারি থেকে দিব্যর পোশাক বের করে ওর দিকে বাড়িয়ে দিল দিব্য তখন কিছুটা অবাকই হলো। সে তো এবার আসার সময় সঙ্গে বাড়তি কোনো পোশাক আনেনি। নবনী ওর চোখের ভাষা পড়তে পারল। মুচকি হেসে বলল,
‘আমি জানতাম আপনি আসবেন। তাই বাড়ি থেকে আপনার কাপড় গুছিয়ে এনেছিলাম। এতে অবাক হওয়ার কী আছে?’
দিব্য মৃদু হেসে পোশাকগুলো হাতে নিল। বলল, ‘বাহ! ওই সব ঝগড়া আর উত্তেজনার মধ্যেও তুমি এসব মনে রেখেছিলে? তোমার বুদ্ধির জোর তো মানতেই হয়। আসলেই প্রশংসা করার মতো।’
‘হ্যাঁ, কান টানলে যে মাথা আসে। এতটুকু সাধারণ জ্ঞান তো সবারই থাকে।’
দিব্য ওর কথার ধরনে খানিকটা অবাক হয়ে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকাল। নবনী ওর ভাবভঙ্গি দেখে হেসেই ফেলল। এরপর বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন দিয়ার দিকে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে আলমারি থেকে নিজের জন্য একটি শাড়ি বের করল। কিন্তু বের করার পরপরই সে খানিকটা বিপাকে পড়ে গেল। এই ছোট বাড়িতে অতিরিক্ত কোনো ঘর নেই। এখন দিব্যর সামনেই বা সে পোশাক বদলায় কীভাবে? দিব্য পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরে সহজ গলায় বলল,
‘তুমি পোশাক বদলে নাও। আমি ততক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করছি।’
নবনী মাথা নেড়ে সায় দিলে দিব্য ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। নবনীর শাড়ি বদলাতে খুব একটা সময় লাগল না। দিব্য ঘরে ঢোকামাত্রই সে ঘর থেকে বেরিয়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। খুব খিদে পেয়েছে ওর। অন্তত এক কাপ চা তো খেতেই হবে। রান্নাঘরে ঢুকতেই নবনী দেখল আনিকা সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। মাকে দেখা মাত্রই নবনী একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। নিশ্চিত এখন মেয়ে-জামাইয়ের কাণ্ড নিয়ে একগাদা কথা শোনাবেন। নবনী মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে রইল। আনিকা অবশ্য নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,
‘জামাই কি এখনো জেগে আছে?’
নবনী আলতো করে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে শুধাল,
‘তুমি এখনো ঘুমাওনি কেন আম্মু?’
আনিকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ের দিকে চাইলেন। বললেন,
‘তুই কি খুব ঘুমানোর মতো কাজ করেছিস আজ? এই পাগলামিগুলো কি সব সময় না করলেই নয়? যাক গে, সেসব কথা পরে হবে। এখন যেটা বলতে এসেছি শোন জামাই কিন্তু রাতে এক দানাও পেটে দেয়নি।’
খবরটা শুনে নবনী আকাশ থেকে পড়ল। চোখেমুখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে বলল,
‘আশ্চর্য! উনি কিছুই খাননি কেন? কে জানে দুপুরেও কিছু খেয়েছিলেন কি না। কী একটা বিড়ম্বনা! আম্মু, ঘরে কি এখন খাবার কিছু আছে?’
‘হ্যাঁ, রান্না তো করাই আছে। তুই বরং একটু গরম করে ঘরেই নিয়ে যা। আমি এখন শুতে যাচ্ছি।’
নবনী একটু বিরক্ত হয়ে বলল, ‘আম্মু, তুমি কি স্পেশাল কিছু রান্না করোনি? উনাকে কি আমি এখন এসব সাধারণ খাবার দিয়ে খেতে দেব? অথচ আমাকে তো সারা দিন নীতি কথা শোনাও আর এখন নিজে এসব করে বসে আছ!’
আনিকা আজ আর মেয়ের কথায় চটলেন না। সবকিছুর মাঝে তার খেয়াল ছিলো না নবনীর চোখে দিব্যর জন্য এই সামান্য উদ্বেগটুকু দেখে তাঁর মনটা প্রশান্তিতে ভরে উঠেছে। তিনি একটু নরম হয়ে বললেন,
‘আচ্ছা বাবা, ফ্রিজ থেকে কিছু বের করব কি না বল?’
নবনী তৎক্ষণাৎ বলল, ‘আবার জিজ্ঞেস করছ কেন? জলদি বের করো। ঘরে কি ডিম আছে?’
আনিকা ফ্রিজের দরজা খুলে দেখতে দেখতে বললেন, ‘মাংস তো রান্না করাই আছে। এমনকি বিরিয়ানিও আছে কিছুটা।’
নবনী আশ্বস্ত হয়ে বলল, ‘ওহ, তাহলে ওগুলোই বের করে দাও। আমি চটপট গরম করে নিচ্ছি।’
আনিকা ফ্রিজ থেকে বিরিয়ানি বের করে দিলেন। নবনী তা গরম করে প্লেটে সাজিয়ে দিব্যর সামনে রাখল। জিজ্ঞেস করল,
‘আপনি যে কিছুই খাননি সেটা একবারও আমাকে বলেননি কেন?’
দিব্য মৃদু হেসে জবাব দিল, ‘আসলে তেমন খিদে পায়নি তখন। আর তুমিই বা কষ্ট করে এখানে খাবার আনতে গেলে কেন? আমাকে ডাকলেই তো আমি গিয়ে খেয়ে নিতে পারতাম।’
নবনী আর তর্কে গেল না। শুধু সংক্ষেপে বলল, ‘এখন খেয়ে নিন।’
দিব্য আর কথা বাড়াল না। সত্যি বলতে, দুপুর ব্যস্ততায় খাওয়াটা একদমই হয়নি তার। খিদের চোটে পেটের ভেতরটা হাহাকার করছিল। নবনী ওর সামনেই ধীরস্থিরভাবে বসল। দিব্য বিনাবাক্যে প্লেটের সবটা খাবার শেষ করল। কিন্তু খাওয়া শেষ হতেই তার মনের এক কোণে হঠাৎ অপরাধবোধ চাড়া দিয়ে উঠল। নবনী তখন শান্ত মনে ঘুমন্ত দিয়ার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। দিব্য ওর দিকে তাকিয়ে আলতো করে জিজ্ঞেস করল,
এই অবেলায় পর্ব ৩১
‘তুমি খেয়েছ তো?’
নবনী মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বলল, ‘এখন গিয়ে খেয়ে নেব।’
দিব্য আর কিছু বলতে পারলো না। বিব্রতবোধ করলো। নবনী ওর চোখের ভাষা দেখে ঠিকই বুঝল যে লোকটা মনে মনে বেশ লজ্জিত হয়েছে। সে চটপট প্লেটগুলো গুছিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
