Home প্রিয় বেলিফুল প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১৩

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১৩

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১৩
উম্মে হাবিবা

~~~কিচ্ছুক্ষণ পর ফয়সাল সবার দিকে তাকায় সোহা ভাবে এই বুঝি সব বলেদিলো। রাজিয়া আগ্রহের সাথে তাকায়।
তখনি ফয়সাল বলে _
আপনারা একটু বাহিরে যান আপনাদের পিচ্চি রুগির সাথে এক কথা বলা প্রয়োজন।
রুদ্র রেগে যায়। ক্রোধান্বিত কন্ঠে বলে_যা বলার সবার সামনেই বলো। পায়ে ব্যাথা পেয়েছে আলাদা ভাবে কথা বলার কি আছে?
মামুনি তোমার ছেলেকে বলে দাও ডাক্তার আমি সে না। তাই কি করতে হবে এটা আমাকে যাতে শিখাতে না আসে।
আম্মু তুমি ওকে বলে দাও আমি রুম থেকে কোথাও যাচ্ছি না।
রুনিয়া হতাশ ভিষন হতাশ। এই দুটোকে নিয়ে কি করবে ভেবে পান না তিনি। তাও ফয়সালের কথা মেনে জোরপূর্বক রুদকে রুমের বাহিরে নিয়ে যান।
রাজিয়া চৌধুরী ও বাহিরে যায় তবে যাওয়ার আগে কেমন বিরক্তিকর চোখে সোহার দিকে চায়।
সবাই চলে গেলে ফয়সাল এবার সোহার দিকে তাকায়। শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে__

কি নাম তোমার?
সোহা _ সোহা শেখ।
রুদ্র কে ভয় পাও?
সোহা কি বলবে ভেবে পায়না। সে কি আসলেই রুদ্রকে ভয় পায়।
মিনমিন কন্ঠে বলে__
একটু একটু।
ভয় থেকেই কি এমন করছো?
মানে?
এই যে আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি তুমি পায়ে ব্যথা পাও নি, তার পর অভিনয় করছো।
ধরা পড়ে যাওয়ায় সোহা লজ্জায় এদিক সে দিক তাকায়।
ফয়সাল কিছু একটা বুঝে বলে__ ভয় পেওনা আমাকে বলতে পারো কাউকে বলবো না আমি।
তবুও সোহা চুপ আছে।
আচ্ছা তুমি যানো আমি কে। আমি রুদ্রের সব থেকে কাছের বন্ধু।
কিন্তু উনার কথা শুনে তো মনে হলো আপনাকে দেখতেই পারে না।
ফয়সাল হাসে__ আসলে আমাদের মাঝে একটা বিষয় নিয়ে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
কি বিষয়?

সে অনেক কাহিনি অন্য সময় বলবো। আচ্ছা এবার তুমি বলো__
সোহা ইতস্তত করে বলে __ আসলে একজন ইচ্ছে করে সিঁড়িতে তেল পেলে আমাকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিতে ছেয়েছিলো।
আমি সেটা ধরে ফেলি আর__
আর ইচ্ছে করে পড়ার নাটক করো?
সোহা কিছু না বলে মাথা নিচু করে থাকে।
ফয়সাল বলে আচ্ছা তো এখন আমি তাদের কি বলবো তোমার আঘাত নিয়ে।
সোহা ঝটপট বলেউঠে__বলুন আমি ব্যথা পেয়েছি দুই একদিন রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাবো।
আরে পিচ্চি তুমি তো সেই চালাক।
তোমার ফোন কই?
সোহা নিজের ফোন ফয়সাল কে দেয়।

ফয়সাল তার নাম্বার সোহাকে দিয়ে বলে __ কোনো সাহায্য প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমাকে কল করবে।
কিন্তু আপনি আমাকে সাহায্য কেনো করছেন?
কারণ সামনে আমার ও তোমার সাহায্যের প্রয়োজন হবে তাই।
ফয়সাল সবাইকে ভিতরে আসতে বলতে দেরি, রুদ্র ভিতরে আসতে দেরি হয়নি।
ওর আসলে পা টা মচকে গিয়েছে। দুইদিন বেড রেস্টে থাকলে ঠিক হয়ে যাবে।
রুদ্র বিরক্তি ভরা দৃষ্টি নিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে উঠে __
এভাবে দেখে কিভাবে বুঝলো যে শুধু পা মচকে গিয়েছে?
ফয়সাল বেশ বিরক্তি নিয়ে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে রুনিয়া কে বলে _ মামুনি আপনি ওকে বলে দিন ডাক্তার আমি ও না।
রুনিয়া একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে ভাবে এদের এই অভিমান কবে ভাঙ্গবে।
আচ্ছা মামুনি আমি এবার আসি।
সে কি এখনি চলে যাবে? দুপুরে আমাদের সাথে খাওয়া দাওয়া করে তার পর যেও।
আজ না মামুনি অন্য একদিন আজ যেতে হবে৷
ফয়সাল নিচে নামার সময় রুদ্রের রুম থেকে দুই রুম পরে কর্নারের রুমটার দিকে তাকায়।তার পর রুনিয়া কে প্রশ্ন করে__

রৌদ বাসায় নেই?
না ওর তো ক্লাস টেস্ট আছে আজ।
ওহ আচ্ছা।
তুমি পড়ে গেলে কিভাবে সোহা?
রুদ্রের হঠাৎ প্রশ্নে সোহা ঘাবড়ে যায়_
সি_সিঁড়ি তে তেল ছিলো না দেখে পা দিয়ে পেলেছি৷
রুদ্র ভ্রু কুঁচকে বলে তাহলে তো পড়ে একদম নিচে চলে আসার কথা জায়গায় কিভাবে বসে ছিলে?
সোহার ভাবনাতেও আসেনি রুদ্র এমন প্রশ্ন করতে পারে কিন্তু যাই হোক এখন কিছু একটা বলে কাটাতে হবে।
আ-আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বসে পড়ছি।আপনি কি চাইছিলেন আমি পড়ে সিনেমার নায়কাদের মতো গড়াতে গড়াতে নিছে পড়ে মাথা ফেটে যাক?
ইডিয়েট একটা নিজের খেয়াল রাখতে পারো না? কিন্তু সিঁড়িতে তেলটা আসলো কিভাবে।
এসব নিয়ে পরে ভাববেন আপনার তো আজ অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে আপনি কলেজে যাবেন না স্যার।
রুদ্র কলেজের উদ্দেশ্যে বের হতেই,রাজিয়া চৌধুরী আসে সোহার রুমে। সোহা তখন সুয়ে সুয়ে ফোন ঘাটছিলো।
ভালোই তো অভিনয় করতে যানো তুমি। তা টিভি সিরিয়ালে কাজ না করে আমার ভাইপোর গলায় ঝুলে পড়লে কোন দুঃখে। অবশ্য তোমার যা গায়ের রং তাতে__

রাজিয়া চৌধুরীকে আর কিছু বলতে না দিয়ে সোহা হেসে বলে__
তা আপনি কেনো কাজ নিচ্ছে না টিভি সিরিয়ালে।আপনি তোর আর আমার মতো কালো না। অবশ্য আপনার যা সভাব তাতে সিরিয়ালের কুটনি শাশুড়ী চরিত্র টা আপনাকে সেই মানাবে।
রাজিয়া তেড়ে গিয়ে সোহার দু গাল শক্ত করে চেপে ধরে। এতো জোরে ধরেছে যে সোহার মনে হচ্ছে যেনো চোয়ালের হাড় ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো হয়ে যাবে। ব্যথায় হালকা আর্তনাদ করে উঠে। চোখের পানি চলে এসেছে।
ছোটলোক মেয়ে আমার মুখে মুখে কথা বলিস। চাপার অনেক জোর না তোর এই চাপা যদি আমি ভেঙ্গে না দি তো আমিও রাজিয়া চৌধুরী না।

সোহা টান মেরে রাজিয়া চৌধুরীর হাত সরিয়ে তা মুচড়ে ধরে।
আমাকে বাংলার অবলা বধু ভাবলে ভুল করবেন। আমার সাথে অন্যায় করলে তার যোগ্য জবাব আমি সোহা দিতে জানি। আর কখনো যদি আমার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করেন সত্যি বলছি আপনার এই হাত আমি ভেঙ্গে গলায় ঝুলিয়ে দিবো।
এটা বলেই সোহা ধাক্কা মেরে রাজিয়া চৌধুরীকে সরিয়ে দেয়।
রাজিয়া চৌধুরী আবার তেড়ে আসতে গেলে সোহা হাতের ইশারায় থামিয়ে বলে___ আপনি কি আমার চোয়াল ভাঙ্গবেন আমি বলছি আমি যদি আপনাকে আর আপনার বেয়াদপ মেয়েকে এক সাপ্তাহর ভিতর এই বাড়ি থেকে বের করতে না পারি আমি সোহা আপনার রাজিয়া চৌধুরী নাম টা চেঞ্জ করে দিবো।
রাজিয়া চৌধুরী সোহার এমন কথায় আহাম্মকের মতো তাকিয়ে আছে। কি বলে এই মেয়ে।
কিভাবলেন আমি বলবে আমি বেরিয়ে যাবো। আরে এটা বললে তো আপনি সারা জীবনের মতো এখানেই খুঁটি গেড়ে বসে থাকবেন।

রাজিয়া রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
কলেজের পর পার্কিং এরিয়াতে এসে রুদ্র নিজের গাড়ি নিয়ে বের হবে তখনি সেখানে আসে তানহা। পাতলা ফিনফিনে একটা নীল রং এর শাড়ি গায়ে জড়িয়েছে। রুদ্র বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করে__
কি সমস্যা এভাবে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?
আমার ড্রাইভার ছুটিতে গিয়েছে। তাই আজ গাড়ি নিয়ে আসতে পারি নি।
তো আমি কি করতে পারি। সরে দাঁড়ান আমার লেট হচ্ছে।
রুদ্র আমি আসলে বলতে চাচ্ছি যদি আমাকে একটু বাসায় ড্রপ করে দিতেন তাহলে ভালো হতো।
এসব আজাইরা কাজ করার সময় আমার নেই। আপনি একটা টেক্সি নিয়ে চলে যায়।
আসলে আমার পার্সটা বাসায় রেখে আসছি।
রুদ্র বুঝতে পারলো তানহা মিথ্যে বলছে। তাই নিজের ওয়ালেট টা বের করে সেখান থেকে পাঁচশত টাকার একটা কচকচে নোট বের করে তানহার হাতে ধরিয়ে দেয়।
আশা করি এতেই হয়ে যাবে,, বাকি যা থাকবে সেই টাকা হয়তো অন্য দিন আবার তোমার কাজে লাগতে পারে।
তানহা হতভম্ব হয়ে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। রুদ্র যে তার পাশ কাটিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেছে সেটাও বুঝতে পারে নি। পার্কিং এরিয়া থেকে বের হতেই তানহা সে দিকে তাকায়। হাতে থাকা সুন্দর নোট খানা মুচড়াতে থাকে। রাগে ফর্সা মুখ লাল হয়ে উঠেছে।
আপনি নিজেও জানেন না মিস্টার রুদ্র আপনি আমাকে অপমনা করে কতো বড় ভুল করলেন এর মূল্য আপনাকে অবশ্যই চুকাতে হবে।

এই মেয়ে শুনো।
পিছন থেকে কারো গলার আওয়াজে রাইসা পিছনে তাকিয়ে দেখে রাফিন স্যার দাঁড়ানো।
রাইসার হঠাৎ কালকের করা ভুলের কথা মনে পড়তেই ভাবে হয়তো এখন স্যার ভিষন রাগ ঝাড়বে তার উপর।
কি নাম তোমার?
জ্বি রা-রা-রাইসা স্যার।
রা,রা,রাইসা এটা আবার কেমন নাম। এতো গুলা রা কেনো?
রাইসার এবার বোকার মতো বলে শুধু রাইসা।
রাফিন একটা হাসি দিয়ে বলে,,তুমি কি ভয় পাচ্ছো আমার সাথে কথা বলতে।
রাইসা ঘবড়ে একবার উপর নিচ তো আবার ডানে বায়ে মাথা নাড়ে।
রাফিন এবার একটু শব্দ করে হাসে। রাইসা দেখছে লোকটার হাসি কি সুন্দর হাসার জন্য গালের পাশটায় ছোট্ট টোলের সৃষ্টি হয়।
রাইসাকে নিজের দিকে তাকিয়ে য়ে থাকতে দেখে রাফিন হালকা গলা ঝেড়ে বলে,__
তোমার ঐ বান্ধবী কি যেনো নাম, ওহ মনে পড়েছে সোহা। ও আসে নি আজকে?
রাইসা মনে মনে ভাবে স্যার হঠাৎ সোহার কথা কেনো জিজ্ঞেস করতেছে? মনের প্রশ্ন মনই রেখে উত্তর দেয় __
না স্যার আসেনি, সকাল থেকে ফোন ও লাগছে না।
ওহ আচ্ছা।

কিন্তু স্যার আপনি কেনো জিজ্ঞেস করছেন,,কোনো দরকার থাকলে আমাকে বলতে পারেন আমি ওকে বলে দিবো।
নাহ সেরকম কিছু না, আচ্ছা থাকো আর এই নাও এটা খাও। দেখতে তো বাচ্চা মেয়ে লাগে চকলেট খাও তো নাকি?
রাফিনের হাত থেকে চকলেট টা নিবে কি নিবে না সে সব ভাবনার মাঝেই রাফিন আবার বলে উঠে __
আরে এতো কি ভাবছো নাও নাও আমি আমার ছোট ভাইয়ের জন্য নিয়েছিলাম।
রাইসা তাও পর না নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই রাফিনের কল আসে। সে রাইসার হাতে চকলেট টা দিয়ে হাতের ইশারায় বায় বলে চলে যায়।
রাইসা তখনো হাতের চকলেট টার দিকে তাকিয়ে আছে। তার কেমন কেমন অনুভূতি হচ্ছে। এই অনুভূতি টা একদম নতুন । মনে হচ্ছে চারপাশে হাজার হাজার প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে । চকলেট টা খুব সাবধানে ব্যাগে রেখে খুশি মনে বাসার দিকে রওনা দেয়।
রুদ্র গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় তার দৃষ্টি যায় রাস্তার অপর পাশে একটা আইসক্রিম পার্লারের সামনে একটা ছেলে একটা মেয়েকে আইসক্রিম কিনে দিয়েছে আর মেয়েটা ভিষন খুশি হয়ে ছেলেটার হাত জড়িয়ে ধরেছে।
রুদ্র কি ভেবে যেনো গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে যায় সেই আইসক্রিম পার্লার টার সামনে গাড়ি থেকে নেমে ভিতরে গেলে একজন স্টাপ তাকে জিজ্ঞেস করে স্যার কোন ফ্লেভারের আইসক্রিম লাগবে। রুদ্র একটা বক্স দেখিয়ে বলে এটার মধ্যে কয়টা ফ্লেভারের আইসক্রিম আপনাদের কাছে অ্যাভেলেবে আছে।
ছেলেটা ভালোকরে দেখে বলে স্যার তিনটা। ভ্যানিলা,, চকলেট,, স্ট্রবেরি।
ঠিক আছে তিন ফ্লেভারের তিনটা করে ছয়টা দিন।

জ্বি স্যার।
গাড়ি টা পার্ক করে আইসক্রিম গুলো হাতে নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্র। কলিং বেল দেয়ার একটু ওরেই দরজা খুলে যায়।রুদ্র দেখে রৌদ দাঁড়িয়ে আছে। রুদ্র হাতে আইসক্রিমের ব্যাগ দেখে তার চোখ চকচক করে উঠে।
রুদ্র বোনের চোখে আনন্দে হালকা হেসে তার দিকে একটা প্যাকেট এগিয়ে দেয় যেটার মধ্যে তিনটা আইসক্রিম আছে।
রৌদ খুশি হয়ে প্যাকেট টা নেয়। তার পর দুষ্টু হেসে বলে ঐগুলা কি ভাবির জন্য।
রুদ্র হুম বলে রুমের দিকে হাটা ধরে।
রৌদ ও খুশিতে লাফিয়ে লাফিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।
আদিবা সবে রুম থেকে বের হয়েছে। তখনি সামনে তাকিয়ে রুদ্রকে আইসক্রিমের প্যাকেট নিয়ে রুমে যেতে দেখে রুদ্রের দিকে এগিয়ে আসে।
তোমার হাতে কি আইসক্রিম?
কেনো তুমি কি চোখে কম দেখো নাকি।
সব রুমে নিয়ে যাচ্ছো আমার জন্য আনো নি?

না। বলেই রুমে ডুকে আদিবার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়।
রুদ্র তাকে আবার ও অপমান করেছে। কিন্তু এর শোধ তো সে তুলবেই। ঐ মেয়েটাকে শিক্ষা দিতে হলে আগে রৌদ কে নিজের দলে টানতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আদিবা তারাতারি রৌদের রুমে যায়।
রুদ্র রুমে ঢুকে দেখে সোহা রুমে নেই। সে ভাবনায় পড়লো পায়ে ব্যথা নিয়ে কোথায় গেলো মেয়েটা। বেলকনির দিকে উঁকি দিতেই দেখে সোহা ডিভানে বসে আছে হাতে একটা বই।
রুদ্র আইসক্রিম গুলো রেখে ফ্রেশ হতে ঢুকে।

কি করছিস রৌদ। রৌদ উল্টো দিকে ফিরে থেকেই জবাব দেয়__
কিছু না আপু, কেনো?
আদিবা বিছানায় বসে চারপাশে তাকাতে তাকাতে বলে।
তোর ভাই এখন আর তোকে ভালোবাসে না বুঝলি। এখন তার সব কিছু ঐ মেয়েটা।
তোমার এমন কেনো মনে হলো হঠাৎ।
হবে না কেনো!একটু আগে তোর ভাই কতো গুলা আইসক্রিম নিয়ে রুমে গেলো তোকে তো একটাও দিলো না সব গুলা ঐ মেয়েটরা জন্য নিয়ে গেলো।
আদিবা কথা খানা শেষ করে রৌদের দিকে তাকায় রৌদ ও ঘুরে আদিবার দিকে তাকায়। আদিবা দেখে রৌদের হাতে একটা আইসক্রিমের বাটি আর মুখে চামুচ। রৌ চামুচটা রেখে আদিবা কে বলে __
কে বলেছে দেয়নি ভাইয়া তো আগে আমাকেই দিয়েছে। আরো দুটো আছে এই দেখো বলেই রুমের মিনিফ্রিজটা খুলে দেখায়।

আদিবা কি বলবে এবার বুঝতে পারে না। রৌদ মুচকি হেেস আদিবাকে বলে __
শুনো আপু নিজের পা’ছার আগুন অন্যে পা’ছায় লাগানো চেষ্টা বাদ দাও। এই নাও ঠান্ডা খাও আর আগুন নিভাও।
রৌদের করা সূক্ষ অপমান আদিবা ঠিকঐ ধরতে পারে। রৌদকে নিজের সাইডে আনতে পারবে না ভেবে চলে যায়।আর যাওয়ার আগে রৌদের দিকে তাকিয়ে বলে__
দিন দিন বেয়াদব হচ্ছিস একটা।
আদিবা রেগে গেছে বুঝতে পেরে রৌদ হাসতে হাসতে বিচানায় গড়াগড়ি খেতে থাকে।
রুদ্র ফ্রেস হয়ে এসে দেখে সোহা এখনো ওখানে বসে আছে। রুদ্র প্যাকেট টা হাতে নিয়ে বেলকনিতে আসে দেখে সোহা এক মনে বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
সোহা মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছিলো তখনি হঠাৎ সামনে কেউ একজন একটা প্যাকেট ধরে। আচমকা এমন করাতে একটু ভয় পেয়ে যায় পরে তাকিয়ে দেখে রুদ্র প্যাকেট টা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আপনি কখন আসলেন।
একটু আগে, এক ভাবে বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছো তাই দেখোনি। ভয় পেয়েছো।
এভাবে ভুতের মতো আগমন হলে ভয় তো পাওয়ারই কথা তাইনা।
এই নাও ধরো।

সোহা ভ্রু কুঁচকে প্যাকেট নেয়। ঠিকি কিন্তু যখন প্যাকেটে থাকা আইসক্রিম দেখে খুশিতে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে। খুশির চোটে উঠে দাঁড়ায়ে রুদ্রকে জড়িয়ে ধরে।
থ্যাংক ইউ,, থ্যাংক ইউ,,থ্যাংক ইউ সো মাচ।
সোহার এমন হঠাৎ জড়িয়ে ধরাতে রুদ্র স্থির হয়ে গেলো। মেয়েটা সামান্য আইসক্রিম পেয়ে এতো খুশি যে হুস হারিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেছে। রুদ্র ভাবছে সোহা যখন বুঝতে পারবে সে রুদ্র কে জড়িয়ে ধরে আছে তখন ওর মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে উঠবে। সোহার লজ্জা লজ্জা৷ মুখটা দেখার লোভে রুদ্র সোহার কানের কাছে হালকা স্বরে বলে___

আগে যদি জানতাম আইসক্রিম ফেলে বউ খুশিতে জড়িয়ে ধরবে তাহলে প্রতিদিন বউকে আইসক্রিম উপহার দিতাম।
রুদ্র কথায় সোহা বুঝতে পারে সে খুশির চোটে রুদ্রকে জড়িয়ে ধরেছে। দ্রুত সরে দাঁড়ায় সে। লজ্জায় প্রাণ যায় যায় অবস্থা।
লোকটা কি ভাবছে এখন আমাকে। তুই একটা আস্তে পাগল সোহা।
রুদ্র কিছু একটা ভেবে বলে__সোহা তোমার না পায়ে ব্যথা তাহলে এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কিভাবে।
খুশির চোটে সব ভুলে বসেছে সোহা। এখন নিজের কপাল নিকেই দেয়ালের সাথে বাড়ি দিয়ে জ্ঞান হারাতে ইচ্ছে করছে।
ঐ আসলে মানে ইয়ে__বলার জন্য কিছু ভেবে না পেয়ে বলে__আমার ওয়াসরুমে যেতে হবে। এটা বলেই প্যাকেট টা হাতে নিয়েই রুমের দিকে ছুট লাগায়।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১২

রুদ্রের ভিষন হাসি পায়।মেয়েটা লজ্জায় টমেটোর মতো লাল হয়ে গিয়েছে। সোহার লজ্জা আরো কয়েক গুন বাড়িয়ে দেয়ার জন্য রুদ্র সোহাকে ডাক দেয়।রুদ্রের ডাকে সোহা পিছনে ফিরতেই রুদ্র বলে উঠে__
বউ যদি বলে দেয় তার আর কি কি পছন্দ যেগুলো পেলে এভাবে হুট হাট জড়িয়ে ধরবে আর সাথে ঠুস ঠাস চুমু খাবে। তাহলে প্রতিদিন নিয়ম করে তার জন্য নিয়ে আসতাম। বলবে কি সে!
সোহা লজ্জায় ওয়াসরুমে ঢুকে পড়ে আর রুদ্র বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসতে থাকে।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১৪