My Husband part 27
সামহা সামি
খাদে পড়ে দাউ’দাউ করে জ্বলতে থাকা গাড়িটির পানে তাকিয়ে হাসে, ক্লান্ত সেই হাঁসি,চোখে মুখে না বলা তীব্র ব্যথা ফুটে ওঠে,চোখের কোনে পানি টুকু গরিয়ে পড়ার আগে,হাত দিয়ে মুছে ফেলে! পাশ কাটিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়? প্রহেলের এসএমএস পেয়ে রিহান সাগর, চিন্তিত হয়ে লোকেশন ট্র্যাক করে পোছায়, আশেপাশে ধোঁয়া ছাড়া কিছু দেখা যাচ্ছে না ফোনের লোকেশন খাদে দেখাচ্ছে! রিহান সাগর কেঁপে উঠছে! কি হচ্ছে এখানে কিছু বুঝতে পারছে না! তাদের মাথায় একটাই কথা বস কোথায়,এরি মধ্যে পুলিশ ও প্রহেলের লোকজন, খোঁজা’খোজি করছে! রিহান কাঁপা কাঁপা গলায় ডাকে?
“_ বস শুনতে পারচ্ছেন, কোথায় আপনি?
কোনো সাড়া শব্দ নেই,কেমন একটা গোলক ধাঁধার মত লাগছে সব কিছু,রিহান ঢুক গিলে দৃষ্টি তাঁর খাদে পড়ে থাকা গাড়িতে,আনেয়া ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে,তবে মন টা কেমন কু ডাকছে,মনে হচ্ছে কোথাও একটা ঠিক নেই, তার খুব কাছের কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে? প্রহেলকে ফোন করতে গিয়েও করে না! যদি কাজে ডিস্টার্ব হয়ে রেগে যায়? চিন্তায় চিন্তায় ঘ্রাম ছুটছে? চার’পাশে লোক খুঁজছে কিন্তু কোথাও প্রহেলের ছিটে’ফুটাও পাচ্ছে না এরি মাঝে, প্রহেলের পুষা কুকুর লাগিয়ে দেয়, খাদের একটু নিচে গিয়ে কুকুরটি ঘেউ’ঘেউ করে উঠে,সবাই সেই দিকে তাকায়,খাদের শুকনো পাতার মাঝে কিছু একটার সাথে লেগে আছে? সবাই দ্রুত প্রহেলকে উপরে আনার ব্যবস্থা করে,রিহান পাল্স চেক করে, বেঁচে আছে তবে নিঃশ্বাস দির গতিতে চলছে? এম্বুলেন্স আসতে প্রহেল কে ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটার , নেওয়া হয়! ইয়াং আজ মহা খুশি,এই খুশির মাঝেও তার খারাপ লাগছে,সে পারলেও নিজের মাঝে খুশিটা ফুটিয়ে তুলতে পারছে না,এই কারন তাঁর জানা নেই! আনমনে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে?
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
__” মৃত্যু দিয়ে যদি শত্রুতা কমে তাহলে মানুষ না পেয়ে কেনো দুক্ষে’দুক্ষে মরে আমরা চাইলে ভালো থাকতে পারি না আপনজন ছাড়া একটা বাঁচতে পারি না?
ইয়াংএর চোখ থেকে, অনবরতন পানি গড়িয়ে পরছে,চাইলেও সে এই পানি মুছে আটকাতে পারে না? রিহান সাগরের উদ্দেশ্য চিন্তিত হয়ে বলে?
___”বাসায় গিয়ে মেম কে নিয়ে আস তবে স্যার যে এক্সিডেন্ট করছে এটা ভুলেও বলবি না?
সাগর দ্রুততার সাথে মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে পড়ে,৩০ মিনিটের রাস্তা ২০ মিনিটে ড্রাইভ করে বাসায় এসে মেড কে জিজ্ঞেস করতে?
_” মেম কোথায়?
_ রুমে
ডাকো?
মেডটি কথা শুনে আনেয়াকে ডেকে আনে,আনেয়া প্রশ্নবোধক চোখে বলে?
” কি হয়েছে ভাইয়া?
সাগর ঢুক গিলে মেকি হাঁসি ঠোঁটে ফুটিয়ে বলে?
__ মেম আপনি ঠিক আছেন তো?
আনেয়া অবাক হয়ে তাকায় সে তো দিব্যি ঠিক আছে তাহলে,সামনে আসা চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে বলে?
___” আমি তো ঠিক আছি ভাইয়া কিছু কি হয়েছে?
সাগর দু’দিকে মাথা নাড়ে কিছু হয়নি, হাত ঘরিতে সময় দেখে,১২:৫০বাজে সময় দেখে বলে ?
” মেম আপনি স্যারের পছন্দ মতো সুন্দর করে সেজে গুজে আসুন,তবে মনে রাখবেন যত যাই হোক না কেনো , কান্না করা যাবে না?
আনেয়া কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে এই ছেলে,কি পাগল হলো নাকি,আনেয়া আরো একবার পর্যবেক্ষণ করে উপরে চলে যায়? প্রহেলের অপারেশন থিয়েটারের আলো এখনো জল’জল করছে,ভয়ের কারণে হাত-পা কাঁপছে নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিহান! তাঁর মাথায় একটাই কথা ঘুর’পাক খাচ্ছে, ডাক্তার এখনো বের হচ্ছে না কেনো! তাঁর ভাবনার মাঝে অপারেশন থিয়েটার থেকে সাদা এফ্রোন পড়া মধ্যবিত্ত ডাক্তার বেরিয়ে আসে? রিহান ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলে?
” বস কেমন আছে স্যার,উনি ঠিক আছে?
মাঝ বয়সি ডাক্তার
টি মুখ কালো হয়ে যায়, নিচু কন্ঠে বলে?
‘_ দেখুন অপারেশন সাকসেসফুল কিছুক্ষণ পর কেবিনে দেওয়া হবে”তবে
কথার মাঝ পথে থেমে যাওয়া রিহান ফের প্রশ্ন করে?
_” তবে কি ডাক্তার?
_____পেশেন্টের অবস্থা খুব ক্রিটিকাল, এক্সিডেন্ট এর ধরুন মাথায় অনেকটা আঘাতপ্রাপ্ত তাই কোমায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা 30%?
কথা শেষ হতে পাশ’কাটিয়ে চলে যায় ডাক্তার,ঢুক গিলে রিহান,দুই হাতে চুল খামচে ধরে চোখ বন্ধ করে চেয়ারে বসে পড়ে? আনেয়া সুন্দর দেখে একটা পিঙ্ক কালারের মধ্যে স্ট্রং বসো কাজ করা শাড়ি পরে হাতে নরমাল কিছু চুরি, মুখে হালকা’পাতলা সাজ,তবে সাড়া মুখশ্রী স্নিগ্ধও চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ,সাগর আনেয়াকে নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্য রওনা দেয়”আসার পথে আনেয়া বেশ কয়েক’বার জিজ্ঞেস ও করেছে তাঁরা কোথায় যাচ্ছে তবে সাগর কিছু বলেনি, হসপিটালের সামনে গাড়ি পার্কিং করতে দেখে ,আনেয়ার বুকের ভেতর ছ্যাত করে উঠে, সময় ব্যয় না করে, প্রশ্ন করে?
____ হসপিটালে কি করছি আমরা ভাইয়া?
_” ঘোড়া দৌড়াতে আসছি?
মনে মনে কথা গুলো বলে সাগর উপরে কিছু বলে না, ভেতরে যেতে বলে,সামনে সামনে হাঁটচ্ছে,যতো ভেতরে ঢুকছে ততো আনেয়ার বুকের রেস্পন্দন বাড়তে থাকে,, প্রহেল কে কেবিনে দেওয়া হয়েছে,তবে এখনো বিপদ আশঙ্কা মুক্ত না, ২৪ ঘন্টার আগে জ্ঞান না ফিরলে,হয়তো কোমায় চলে যাবে,বলে যানায় ডাক্তার,মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো লম্বা তরতাজা দেহটা বেডে প্রাণহীন পরে আছে,মাথায়,বুক ও হাত পায়ে সাদা ব্যান্ডেজ করা, চুপসে যাওয়া মুখে সুয়ে আছে প্রহেল, রিহান কেবিনের বাহিরে হাঁটা চলা করছে,সাগর ,আনেয়াকে এই দিকে আসতে দেখে, চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়ায়,আনেয়া দরজার কাছে এসে রিহানের উদ্দেশ্য বাঁকা চোখে তাকিয়ে প্রশ্নবোধক কন্ঠে বলে?
_____ আমরা এখানে কেনো ভাইয়া আর হসপিটালে বা কে?
রিহান চুপ করে আছে,কি বলবে এখন,আনেয়া রিহানকে ঠেলে কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করে,বেডের দিকে চোখ পড়তে মুহূর্তেই যেনো পা জোরা থমকে যায়, পূর্বের কৃত মনে পরতে দৌড়ে গিয়ে প্রহেলের প্রস্তুত বুকে আঁচরে পড়ে,দুই হাতে পেটের কাছে, অংশ চেপে জোরে কেঁদে ওঠে, ক্ষণে ক্ষণে তাঁর কান্নার বেগ ভারতে থাকে! বাইরে থেকে আতঙ্কিত হয়ে নার্সরা ছুটে আসে,আনেয়াকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলে?
__” আর ইউ ম্যাড কি করছেন,উনার থেকে দূরে সরুন?
” আনেয়া হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে,করে বসলো এক অপ্রকাশিত কাজ, নার্সটির গলা চেপে,হিস’হিসিয়ে বলে?
___তোদের নোংরা হাতের স্পর্শ দিবি না আমার ট্যাটুওয়ালা কে,আমি দূরে যাবো না কাছে আসলে মেরে দিবো, একদম মেরে দিবো?
“বলেই দেওয়ালের উপর ধাক্বা মারে,যার ধরুন নার্সটির মাথা ফেটে গল’গলিয়ে রক্ত পরতে থাকে! রিহান অবস্থা খারাপ হতে দেখে দ্রুততার সঙ্গে আনেয়াকে সরাতে বলে?
___প্লিজ মেম শান্ত হন এখানে ঝামেলা মানে স্যারের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে”ট্রাই টু আন্দারস্ট্যান্ড, প্লিজ”?
__ আনেয়া এক সময় জোরজবস্তি করতে করতে, জ্ঞান হারিয়ে ডলে পড়ে রিহানের বুকে! রিহান তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে,আনেয়াকে কোলে তুলে পাশের কেবিনে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করে সুইয়ে দেয়”সময় পেরিয়ে গেছে,সকালের মিষ্টি রোদ ও মিষ্টির পাখির কিচিরমিচির শব্দে বাঁধায় ফেলে,ধরনির বুকে কালো অন্ধকারের হাতছানি,ছোট শহর টা মানুষের আনাগোনায় মুখরিত, কুয়াশা পড়েছে সবাই শীতের সাল পেঁচিয়ে রাস্তার পাশে টংয়ের দোকানে দাঁড়িয়ে তৃপ্তি নিয়ে চায়ের কাপে চুমুক বসাচ্ছে কেউ বা, ধূমপান করছে!
নাজমা বেগম ও রফিক সাহেব প্রহেলের এক্সিডেন্টের খবর পেয়ে হসপিটালে আসে,নাজমা বেগম দির গতিতে, প্রহেলের বেডের কাছে গিয়ে বসে,কপালে আসা চুল গুলো সরিয়ে চুমু খায়,এই ছেলেটাকে দেখলে তাঁর বড্ড আদর আদর পায়,কি মায়াবি মুখশ্রী এই যে,জেগে থাকলে হয়তো এই সময় নাজমা বেগম কে দেখলে খুশিতে নিজের অজান্তেই আম্মু আম্মু বলে, চেঁচিয়ে উঠতো প্রহেলের জ্ঞান ফিরেছে ৩০ মিনিট হবে,! আনেয়া জ্ঞান ফিরতে চার’পাশ পর্যবেক্ষণ করে,সে এখন কোথায় সে তো প্রহেলের কেবিনে ছিল, পূর্বের ভুলে যাওয়া বিষয়টি তৎক্ষণাৎ মনে পড়তে,হুর’মুরিয়ে উঠে,হাতে লাগো স্লাইনের নল ছিঁড়ে ফেলায় হাতের ফিংকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে,ধুম করে বুকের উপর কিছু আঁচরে পড়ায় ব্যাথায় চোখ মুখ কুঁচকে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে প্রহেল,আনেয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে, প্রহেল এক’হাত কোনো রকমে আনেয়ার পিঠের উপর দিয়ে,বলে?
__ ” কান্না করে না কি হয়েছে দেখো আমি একদম ঠিক আছি,প্লিজ কান্না থামাও?
আনেয়া তবুও ফুঁপিয়ে উঠছে, যার ধরুন আনেয়ার শরীর ও প্রহেলকে পেঁচিয়ে ধরা শরীর কেঁপে উঠছে, প্রহেল আবারো নরম কন্ঠে বলে?
__
_ দেখো ছোট ফ্লাওয়ার তুমি কি কান্না অফ করবে?
আনেয়া প্রহেলের বুক থেকে মুখ তুলে, সাঁড়া মুখে অজস্র চুমু খেতে থাকে, তাঁর মাঝে কেবিনে প্রবেশ করতে করতে,রফিক সাহেব নাক মুখ কুঁচকে বলে?
___ বেয়াদব ছেলে আমার মেয়েকে কাঁদাচ্ছো কেনো।
প্রহেল বিরক্ত এই শশুর নামে ভিলেন টার উপর সে প্রচন্ড বিরক্ত, মুখ বাঁকিয়ে বলে?
__ ভুল দেখছেন শশুর আব্বু আপনার মেয়ে তাঁর ছোট জামাইয়ের জন্য কাঁদচ্ছে?
রফিক সাহেব আর কিছু বলে না তবে এই ছোট জামাইটা আবার কে, প্রহেল আনেয়াকে নিজের বাহুবন্দনে আবদ্ধ করে বলে?
“_ ছোট জামাইয়ের জন্য এতো কষ্ট তোমার যে চোখের পানিতে হসপিটাল ভাসিয়ে দিচ্ছো?
_ আনেয়া প্রহেলের খুলা বুকে চুমু খায়,হাত দিয়ে চুল গুলো,শরিয়ে বলে?
__” দেখে গাড়ি চালাবেন তো এক্সিডেন্ট হলো কি করে?
__”হুঁশ এই সব কথা বাঁধ দাও আমি ঠিক আছি?
___ বেশি ব্যাথা লেগেছে?
আনেয়ার কথায় প্রহেল দুঃখি দুঃখি কন্ঠে বলে?
My Husband part 25+26
__””; তোমার ছোট জামাইয়ের লাগেনি কিন্তু আমার অনেক লেগেছে ছোট ফ্লাওয়ার চেক করবে?
__”_; এই ছোট জামাই টা আবার কে আমার কোন জামাই নেই,আপনি আমার জামাই?
প্রহেল হাসে,আনেয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাঁস্কি সুরে বলে?
____ যেটা তোমার দুই ফ্রুট সালাতে আমার ৮ ইঞ্চি সুয়াবিন যেতো সেটা ছোট জামাই?
