Home Remedy Remedy part 15 (2)

Remedy part 15 (2)

Remedy part 15 (2)
মীরা রায়াদ

ঝুম সেই কখন থেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে। তার অবস্থান শাইয়ানের বুকে। তারা এখন শাইয়ানের দুই বেডরুমের ছোট কোয়ার্টারে। ঝুমের জ্ঞান ফেরার পর থেকে সে কাদঁছে। শাইয়ান অনেক বলেও তাকে থামাতে পারেনি। মেয়েটা ভীষণ ভয় পেয়েছে। আবারও হারানোর ভয়ে রীতিমত ভেঙে পড়েছে। শাইয়ান যখন তাকে থামাতে পারেনি, তখন দুহাতের মাঝে তুলে নিয়ে বেরিয়ে পরেছে হসপিটাল থেকে। হসপিটালের সবাই তখন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাদের দেখছিল। শাইয়ানের তাতে বিশেষ ভাবাবেগ দেখা গেলো না। ঝুম এবার শাইয়ানের গলা দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ গুঁজে কেঁদে গেলো। বাসায় আসার পর থেকে শাইয়ানকে একমুহূর্ত কাছ ছাড়া করলো না। দুহাতে শার্ট আঁকড়ে ধরে পরে রইলো বুকে। শাইয়ান কিছুক্ষন মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তো কিছুক্ষন এটা ওটা বলে শান্তনা দিচ্ছে। কিন্তু থামাথামির নাম নেই। হিঁচকি উঠে গেছে একেবারে। ওদিকে আহিরটা কি করছে কে জানে। সেটাকেও তো দেখতে হবে।

” আরীবা, দেখি ছাড়ুন এখন আমায়। আর কাঁদে না। দেখুন আমি একদম ঠিক আছি। দেখি মুখটা। কি অবস্থা করেছেন নিজের? এবার কিন্তু বকা দিবো। থামতে বলছি আমি। শান্ত হয়ে বসেন এখানে, আমি দেখে আসি আহির কি করছে।”
ঝুম ছাড়লো না। দুদিকে মাথা নেড়ে না বুঝিয়ে দিলো, সে ছাড়বে না। শাইয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
” আহির আছে তো জান। ওকে একবার দেখে আসি? অনেকক্ষন হলো এসেছে। যাই?”
ঝুম তাও ছাড়লো না। একই ভাবে ধরে আছে। পুরো মুখ কেঁদে লাল করে ফেলেছে মেয়েটা। চোখ ফুলে ঢোল। ঝুমের গলা ভেঙে গেছে। ফ্যাসফ্যাসে গলায় শাইয়ানকে বলল –
” আমিও যাবো।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

শাইয়ান ভালো করে দেখলো মেয়েটাকে। পরনে সাদামাটা একটি সবুজ রঙ্গা সুতির শাড়ি। চুলগুলো এলোমেলো। শাড়ির অবস্থাও খুব একটা ভালো না। কাঁধ থেকে আঁচল সরে গলা বুক অনেকটাই দৃশ্যমান। শাইয়ান সেদিকে তাকিয়ে শুকনো গলা ভিজানোর বৃথা চেষ্টা করছে। এখন তাদের মাঝে কোনো রাখঢাক নেই। ঝুমও তাকে মেনে নিয়েছে। এমন অবস্থায় শাইয়ান নিজেকে কতক্ষন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে সন্দেহ। সে ধীর হাতে যত্ন করে ঝুমের শাড়ির আঁচল তুলে দিলো। তারপর দু হাতে মুখের সামনে পরে থাকা চুলগুলো ঠেলে সুন্দর করে গুছিয়ে দিয়ে চোখের পানি মুছে দিলো। নিজ হাতে ঝুমকে পরিপাটি করে দিয়ে ঝুমের হাত ধরে রুম থেকে বের হলো। শাইয়ানদের রুমের পাশের রুমে আহির হাত – পা ছড়িয়ে ঠিক বখাটেদের মতোই বিশ্রী ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছে। টানা এতক্ষন না ঘুমিয়ে ড্রাইভ করেছে বেচারা। ক্লান্তিতে সে নিজের মাঝে নেই। ঝুম নাক টেনে পিটপিট করে নিচু স্বরে বলল –

” ভাইয়াকে বলেছিলাম ওনাকে আর বখাটে বলব না। কিন্তু এভাবে ঘুমাতে দেখে ওনাকে বখাটেদের থেকে কম কিছু লাগছে না ডক্টর। এখন কি করব?”
এমন এক পরিবেশে ঝুমের কথা শুনে শাইয়ানের হাসি পেয়ে গেল। ঝুম আবারও বলল –
” আচ্ছা ডক্টর, ভাইয়াকে ইঞ্জিনিয়ারিং এর জবটা দিলো কি করে?”
শাইয়ান একবার আহিরকে দেখে নিয়ে ঝুমের দিকে ফিরে বলল –
” সেটি অবশ্য আমারও প্রশ্ন। যাই হোক, আহির কিন্তু একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার।”
” ভাইয়া খুব ভালো, ডক্টর।”
শাইয়ানের কথাটা ভালো লাগলো না। কপাল কুঁচকে বলল –
” আপনার ভাইয়া একদম ভালো না। চলুন নাস্তা খেতে হবে।”

ঝুমকে অবাক হওয়ার ও সময় দিলো না শাইয়ান, জোর করে টেনে নিয়ে গেলো বসার ঘরে। ঝুমকে সোফায় বসিয়ে দিয়ে সে নিজে গেলো খাবার বানাতে। যদিও তাদের খাওয়ায় ব্যবস্থা হসপিটাল থেকে করা হয়, তবুও টুকিটাকি প্রয়োজনীয় রান্না শাইয়ান পারে। সেটাই এখন এপ্লাই করবে বউয়ের জন্য। ঝুম বসে রইলো না। হেঁটে হেঁটে পুরো ফ্ল্যাট দেখলো। দুটা বেডরুম, সাথে ড্রয়িং কাম ডাইনিং রুম। আহিরের রুমের পাশে কমন ওয়াশরুম। কিন্তু তাদের বেডরুমে অ্যাটাচড ওয়াশরুম। ছিমছাম গোছানো। সে জানে শাইয়ান বেশ গোছালো মানুষ। ঝুম অবশ্য শাইয়ানের মতো আবার ওতো গোছালো না। তবে একদমই যে না সেটাও বলা যায় না। যতটুকু দরকার ততটুকু। ঘুড়েঘুড়ে দেখতে দেখতে আবার বসার ঘরে আসে সে। ততক্ষনে শাইয়ান স্যান্ডউইচ বানিয়ে এনেছে। ঝুম রীতিমত অবাক। এতো অল্প সময়ে স্যান্ডউইচ? কিভাবে? পরে অবশ্য বুঝতে পেরেছে কিভাবে। দুটো ব্রেডের মাঝে ডিম, শসা, টমেটো আর সস দিয়ে প্যানের ওপর হালকা তেলে ভেজে নিয়ে এসেছে। ঝুম কখনো এটা খায়নি। কেমন খেতে হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল তার। শাইয়ান তার সামনে প্লেটটা রেখে খেতে ইশারা করে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে ঝুমের মন্তব্য শোনার জন্য। ঝুম অনেক ভেবে এক কামড় বসালো। কিছুক্ষন চিবিয়ে আবার এক কামড় দিলো। শাইয়ান তাকে কিছু বলতে না দেখে নিজেই প্রশ্ন করলো –

” কেমন হয়েছে?”
ঝুম খেতে খেতে উত্তর দিলো –
” দারুন”
সত্যিই দারুন হয়েছে। যেমনটা ভেবেছিল তেমনটা না। মজাদার। এইজন্য বলা হয় খাবার জিনিস আগে টেস্ট করে নিয়ে মতামত জানাতে হয়। শাইয়ান তার কথায় সন্তুষ্ট হয়েছে। তা তাঁর মুখের হাসিতেই স্পষ্ট। ঝুমকে মজা করে খেতে দেখে সে নিজেও খাওয়ায় মন দিল। সারাটা দিন তিনজনের ভালই কাটল। যেহেতু শাইয়ান অফ ডিউটিতে আছে তাই তাকে হসপিটালে যেতে হলো না। আহির ঘুম থেকে উঠলে তারা তিনজন একসাথে বাইরে খেতে গেলো। কাছে পিঠে ঘুরল। মুলতান শহরটি শান্ত, নীরব হলেও উন্নত। এখানে প্রচুর সুফী – সাধকের মজার রয়েছে। শহরটি প্রাচীন ইতিহাসের নিদর্শক। প্রায় ২০০০ বছরের পুরোনো শহর এটি। দিনের বেলা একটু গরম হলেও বেলা পরতে পরতে তা আস্তে ধীরে মিইয়ে যায়। বিকেলের দিকে শান্ত, নিরিবিলি রাস্তায় হাঁটলে শান্তি শান্তি লাগে। শাইয়ান তাদের আশেপাশে ঘুরিয়ে অনেক কিছু দেখলো। মুলতানের নিরাপত্তার কারণে এখানে একটি সেনা ঘাঁটিও রয়েছে। যেতে যেতে সেটাও দেখিয়ে আনলো। যদিও তারা ভিতরে যায়নি।

এরই মাঝে ঝুম আর আহিরের মাঝে দু’দফা সংঘর্ষ হয়েছে। যদিও ঝুম বলেছিল সে আহিরের সকল কথা শুনবে, তাকে বখাটে ডাকবে না। কিন্তু সে কথা রাখতে পারেনি। আহির তাকে রাখতে দেয়নি। হারে বজ্জাত ছেলে, সারাক্ষন ঝুমের পিছু লাগে। তখন ঝুম রেগে মেগে বখাটে ডাকে। এখন আবার তার সাথে ছেকাখোর উপাদিও যুক্ত হয়েছে। কথায় যখন পারে না তখন ঝুম আহিরকে ছেকাখোর বখাটে বলে ডাকে। ব্যাস, তারপরই আহির গরম তেলের মাঝে একফোঁটা পানি পরলে যেমন ছেত করে ওঠে ঠিক তেমন করে ওঠে। তা দেখে ঝুম হেঁসে কুটিকুটি হয়। শাইয়ান এদের দুজনের ঝগড়া দেখে অতিষ্ট। এতো বড় ছেলে মেয়ে হয়েও যে এভাবে ঝগড়া করা যায় তাও অযুক্তিক কারণ নিয়ে তা সে এদের না দেখলে বিশ্বাস করত না। অথচ রেগে কেউকে কিছু বললে অন্যজন তারওপর হামলে পরে। রাতে তারা তিনজন বাইরে থেকে খেয়ে এলো।

আহির জানিয়েছে সে সকাল হলেই বেরিয়ে পরবে। দুদিন বিনা নোটিশে অফিস কামাই করা হয়ে গেছে। কাল নিয়ে তিনদিন হবে। আর কোনো ভাবেই থাকা যাবে না। আহির চলে যাবে শুনে ঝুমের মন খারাপ হয়ে গেলো। ওবাড়িতে কতো মানুষ আর এখানে তারা একা। শাইয়ান হসপিটালে থাকলে তাকে একা থাকতে হবে ভেবেই তার আবার করাচি যেতে মন চাইলো। কিন্তু শাইয়ানকে ছেড়ে যাওয়াও অসম্ভব। আহিরের সাথে আর কথা বলল না সে। উল্টো আহিরের ফোন নিয়ে মেহেরুন্নেসাকে কল দিয়ে আহিরের নামে এটা সেটা বলল। মেহেরুন্নেসা বুঝাল সবার নিজস্ব জীবন গতি আছে। তাদের এটা মেনে নিতে হবে। তারা না হয় মাঝে মাঝে এসে ঘুরে যাবে ঝুমের কাছ থেকে। আবার শাইয়ানের যখন ছুটি থাকবে কখন ঝুম না হয় শাইয়ানকে নিয়ে করাচি চলে আসবে। ঝুম মেহেরুন্নেসার কথা মেনে নিয়েছে। মেহেরুন্নেসা তাকে বলল বাংলদেশে যখন আপাদত যাওয়া হচ্ছে না তখন তাঁর উচিৎ এই দেশে তার ব্যবসাটা নতুন করে শুরু করা। ঝুম অবশ্য এই ব্যাপারে ভেবেছিল।

কিন্তু মাঝে এতো কিছু হলো যে সে কিছু করতে পারেনি। তাছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসা নিয়েও সে বিশেষ মাথা খাটাতে পারেনি। আজ একবার তার এসিস্ট্যান্টকে ফোন দিয়ে দেখবে। কিন্তু ফোনটা যে ওবাড়িতে ফেলে এসেছে। ফোন হাতে আবার আহিরের কাছে গেলো। সে কিছুই নিয়ে আসেনি আসার সময়। সেই পরিস্থিতি ছিল না। ভাগ্যিস শাইয়ান করাচি থেকে আসার সময় তার একটা শাড়ি চুড়ি করে এনেছিল। সে এখন সেটাই পরে ঘুড়ছে। বাইরে গিয়ে অবশ্য সে আর আহির টুকটাক পোষাক কিনেছে। ঝুম ভাবে ডক্টররাও চুরি করতে পারে তাহলে। তার ডক্টর চোর। না বলে তার জিনিস চুরি করে। ঝুম ফোন এনে আহিরকে দিলো। আহির ঝুমকে দেখলো ভালো করে। মেয়েটার মুখ ভার।

” কেউ কি আমার ওপর রাগ করেছে?”
ঝুম চোখ তুলে চাইলো। মন খারাপ করে বলল –
” না। যেতে তো হবেই আপনাকে। আবার আসবেন কিন্তু ভাইয়া। আসার সময় আমার ফোনটা নিয়ে আসবেন। আর সারা আপি, ঈশাল, মিশাল, আয়ানকেও আনবেন কিন্তু ঠিক আছে?”
আহির হেঁসে ফেলল। এগিয়ে এসে ঝুমের মাথায় হাত রেখে বার দুয়েক হাত বুলিয়ে দিলো। মেয়েটাকে দেখলে তার নিজের একটা বোনের শখ পূরণ হয়। তাদের দুজনের সম্পর্কটিও খুনশুটিময়।
” আবার আসবো। মন খারাপ করে না।”
ঝুম মাথা নাড়ালো। আহির আবার
বলল –

” শাইয়ানকে বোঝার চেষ্টা করবেন। একা থাকতে খারাপ লাগলে ওর কাছে গিয়ে বসে থাকবেন। ওর দিকে খেয়াল রাখবেন আর নিজের দিকেও। ঠিক আছে?”
এবারও ঝুম মাথা নাড়ালো শুধু।
” এবার রুমে যান। শাইয়ান হয়তো অপেক্ষা করছে।”
” আপনার মন খারাপ ভাইয়া?”
আহির ঝুমের দিকে তাকিয়ে রইলো। কেউ এভাবে বুঝেছে তার মনের অবস্থা কখনো? হ্যাঁ বুঝেছিল একজন। যার মূল্য আহির দিতে পারেনি।
অত্যন্ত মন খারাপ নিয়ে জানালা গলিয়ে বাইরে তাকালো আহির। দূর আকাশে আজ চাঁদ দেখা যাচ্ছে। আচ্ছা জারা কেমন আছে এখন? আমাকে মনে পড়ে তার? আহির ঠোঁটের কোণায় হাসি এনে বলল –

” কি জী চাহতা হ্যায়
ইস দিল কো আগ্ লাগা কে
কাহিঁ দূর বেঁঠ কে বাস তামাশা দেখুঁ।”
ঝুম বুঝলো পুরোটা। আহিরের মন খারাপ কেন তাও বুঝলো। তাই তাকে একা থাকতে দিয়ে বলল –
” আল্লাহ্ সুবহানাল্লাহ্ তায়ালার ওপর ভরসা রাখুন ভাইয়া। আমরা যা ভাবি বা চাই তিনি তার থেকে ভালো আর বেশি আমাদের দেন। যেমন আমি আপনার ভাইকে পেয়েছি, ঠিক সেভাবে দেখবেন আল্লাহ্ সুবহানাল্লাহ্ তায়ালার আপনার জন্যও কাউকে খুব শীঘ্রই পাঠাবেন। সাবধানে থাকবেন ভাইয়া। আসছি।”
আহির হেঁসে মাথা নাড়িয়ে সহমত পোষণ করলো। ঝুম ধীর গতিতে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। যেতে যেতে আহিরের গলার বেদনাদায়ক সুর শুনতে পেলো।

“রেহনা থা বান কে হামদাম তেরা
এ্যায়সে জানা হি থা, ফির তু কিউঁ ঠেহরা?
আব না মানে মেরা দিল কে না তেরে কাবিল
থি ইক আরজু কি ম্যায় কেহতা রাহা, পার তু আতা নাহি
সাপনো সে জাতা নাহি
মিল জায়ে, ক্যা হি বাত থি
কামিল হো জাতা ওহিঁ।”

বাকিটুকু আর শোনা হলো না, চলে এলো ঝুম। তার মনটা বিষন্নতায় ডুবে। শাইয়ান বেডে বসে মেডিকেল সায়েন্সের কোনো একটি বই পড়ছিল। তার ধ্যান-জ্ঞান সবটা বইয়ে। কিন্তু মন ঝুমের কাছে। মেয়েটা এখনো আসছে না কেন কে জানে? সর্বদা তাকে অপেক্ষা করায়। আবার না দেখতে পেলে কেঁদে ভাসায়। ঝুম রুমে ঢুকতেই শাইয়ান চোখ তুলে তাকালো। ঝুমকে অন্যমনস্ক দেখে কপালে ভাঁজ পড়ল। হয়েছে কি মেয়েটার আবার? আহির কিছু বলেছে? ভালো করে লক্ষ্য করলো শাইয়ান ঝুমকে। বইটা হাত থেকে পাশে রেখে উঠে দাড়ালো। ঝুম তখন দরজার মুখে দাঁড়িয়ে দেয়াল খুঁটছে। এটা আবার কেমন অভ্যাস?

” আরীবা।”
ঝুম চমকে উঠলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো শাইয়ান খুব নিকটে তার।
” হুম।”
” কি হয়েছে?”
” ভাইয়া।”
” আহির কিছু বলেছে? আবার ঝগড়া করেছেন আপনারা?”
ঝুম ঘনঘন মাথা নেড়ে বলল –
” না না।”
” তাহলে?”
” ভাইয়ার মন খারাপ।”

শাইয়ান বুঝলো কেনো। তাই প্রশ্ন করলো না। ঝুমের হাত ধরে বেডের সাইডে বসিয়ে দিয়ে পাশে নিজেও বসলো।
” জারা এখানেই থাকতো। ওনার বিয়ের পর হাজবেন্ডের সাথে এখানে শিফট হয়। আহির এজন্যই এখানে আগের বার এসেছিল। পরবর্তীতে জারা তার হাজবেন্ডের সাথে অন্য কোথাও শিফট হয়ে যায়। পুরনো স্মৃতি মনে করে হয়তো কষ্ট পাচ্ছে।”
ঝুমের চোখ ছলছল করছে। এতক্ষনে দমিয়ে রাখা পানি শাইয়ানকে পেয়ে গড়িয়ে পড়তে চাইলো। কিন্তু শাইয়ান দিলো না। মেয়েটা কারো কষ্ট দেখতে পরে না।
” উহু, কান্না করা যাবে না। বি স্ট্রং আরীবা।”
” ভাইয়ার জন্য খারাপ লাগছে ডক্টর।”
” আমাদের হাতে কিছু নেই আরীবা। কাঁদে না। সময় দিন ঠিক হয়ে যাবে।”
” হুম।”
” এখন কাছে আসুন তো।”
” মানে!”

বোকা মেয়ে। মানে কি তা বুঝতে পারে না নাকি? শাইয়ান মানে বুঝাল না। এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো দুহাতে শক্ত করে। কলিজায় ঢুকিয়ে ফেলতে পরলে হয়তো নিশ্চিন্ত হতো সে। ঝুম লজ্জা পেলো, কিন্তু বাঁধা দিলো না। আলতো হাতে সেও শাইয়ানের কোমরের কাছের টি শার্ট মুঠো করে ধরলো। ওভাবে জড়িয়ে ধরে শাইয়ান চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ল। ঝুম শাইয়ানের বাহুতে মাথা রেখে মিনমিনিয়ে বলল –
” ডক্টর পানি খাব।”
শাইয়ান ভ্রু বাঁকিয়ে তাকালো। ঝুম ভয় পাচ্ছে? কিন্তু কেন? সেতো অতিরিক্ত কিছু করেনি এখনো। এখন কি জড়িয়ে ধরতেও পারবে না? এ কেমন কথা?
শাইয়ান উঠে ঝুমকে তুলল। ঘরে পানি নেই বলে নিজে উঠে পানি আনতে গেলো। ঝুম বসে ঘামছে। সে ভয় পাচ্ছে। তার মাথা কাজ করছে না। শাইয়ান ফিরল পুরো জগ ভর্তি পানি নিয়ে। এক গ্লাস ঝুমের হাতে দিয়ে জগ নিয়ে দাড়িয়ে রইলো। মেয়েটা কত পানি খেতে পারে সেও দেখবে। এরপর কি অজুহাত দিবে? উম, বাচ্চাদের মতো বলবে নাকি ওয়াশরুমে যাবো? নাকি বলবে পেট ব্যাথা করছে? ক্ষুদ্র হাসি ঠোঁটের কোনে উকি দিলেও তা স্পষ্ট না। ঝুম কাপাকাপা হাতে পানির গ্লাস নিয়ে একটু একটু করে পানি খেলো। শাইয়ান ধৈর্য্য ধরে ততক্ষন দাঁড়িয়ে। খাওয়া শেষে গ্লাস দিতে নিলে শাইয়ান প্রশ্ন করলো –

” আরো খাবেন?”
” উহুম।”
শাইয়ান গ্লাস, জগ বেড সাইড টেবিলে রেখে বাতি নিভিয়ে অন্ধকার করে দিলো পুরো রুম। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে গেল সবটা। ঝুম নীরবে বেড থেকে নেমে পা রাখলো মেঝেতে। এখন অন্ধকার সহ্য করে নিয়েছে চোখদ্বয়। পা বাড়িয়ে জানালার কাছে গিয়ে পর্দা সরিয়ে দিলো। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। অথচ কিছুক্ষন আগেও আকাশ পরিষ্কার ছিল। বাইরে থেকে মৃদু আলো ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তোল বাতাসে পর্দা উড়ে যাচ্ছে। শাইয়ান বেডের সাইডে দাঁড়িয়ে দেখছে ঝুমকে। বড়বড় নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করেও আজ ব্যর্থ হলো সে। এখন কোনো বাঁধা নেই। ঝুম চাইলেও সে মানবে না। তার আজ ঝুমকে খুব করে লাগবে। অনেক হলো সময় দেয়া, অপেক্ষা করা। এসব বাচ্চামো খেলা শেষ করবে আজ সে। পা বাড়িয়ে ঠিক ঝুমের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। বৃষ্টির ঝাপসায় ঝুম অনেকটা ভিজে গিয়েছে। মনে মনে সে কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। নতুন জীবন শুরু করার আগে সে শাইয়ানকে অতীতের সব কিছু বলে দিবে। কিন্তু শাইয়ান তাকে সেই সুযোগ দিলো না। শাড়ির ভাঁজে হাত দিয়ে কাছে টেনে নিল। পিঠের খোলা অংশে নাক – মুখ দাবিয়ে জড়িয়ে যাওয়া গলায় বলল –

” আজ একটু বেশি অসভ্য হই? বারণ করবেন না প্লিজ। বারণ করলেও আমি শুনবো না। জোর করে হলেও আপনাকে নিজের একান্ত নিজের করে নিবো। তার জন্য আগেই সরি বলে দিলাম।”
” ডক্টর আগে আমার কথা শুনুন। আমার কিছু বলার আছে আপনাকে।”
” পরে শুনবো।
” না না এখন। আমার অতীত নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে।”
ঝুম ব্যস্ত হয়ে পড়ল নিজেকে ছাড়াতে। কিন্তু শাইয়ান আজ ছাড়তে নারাজ। পিছন থেকে শক্ত করে দুহাতে তুলে নিল। বেডের কাছে আগাতে আগাতে বলল –
” কিন্তু আমি এখন কিছু শোনার মুডে নেই পাখি।”

শাইয়ান সত্যিই শুনল না। ঝুমের এতো আকুতি – মিনতি শুনল না। ঝুম ছটফট করলো, বলতে চাইলো কিন্তু শাইয়ান তার একটা কথাও কানে তোলেনি। সব সময় ঝুমের করা অভিযোগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শরীরের সম্পূর্ণ ভার মেয়েটার ওপর ছেড়ে দিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দিলো। প্রথমে আস্তে ধীরে পরপর ভীষণ উতলা হয়ে চুমু খেলো। ঝুম নিশ্বাস না নিতে পারে ঠেলে দূরে সরাতে চাইলে শাইয়ান হঠাৎ হিংস্র হয়ে উঠল। ঝুমকে ছেড়ে দিয়ে সেকেন্ড কয়েকের জন্য উঠে নিজস্ব কৌশলে টি শার্ট খুলে, সেই টি শার্ট দিয়েই ঝুমের দুহাত বেঁধে ফেলল। এভাবে শাইয়ানকে বদলাতে দেখে ঝুম কেঁদে ফেলল। ভয় পেয়েছে সে। শাইয়ান অদ্ভুত ভঙ্গিতে হেসে বলল –
” বলেছিলাম আজ আপনার না শুনবো না।”
শুনেনি। পাষাণ লোকটা একটা কথাও শোনেনি। সারারাত মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে গেলো। এক সময় ঝুম না পারতে কেঁদে ফেলল। অনুনয় করে বলল ছেড়ে দিতে। শাইয়ান তখন অবাক হয়ে বড় বড় শ্বাস ছেড়ে বলল –

Remedy part 15

” প্রথমবার?”
ঝুম কেঁদেকেটে অস্থির। কোনো রকম মাথা নেড়ে হ্যাঁ বুঝাল। শাইয়ানের ঠোঁটে তখন বিশ্বজয়ের হাসি। সে এতোটা আশা করেনি। ঝুঁকে ঝুমের কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে বলল –
” অভ্যাস হয়ে যাবে।”
কিন্তু মেয়েটা অভ্যাস করতে পারেনি। শাইয়ান চূড়ান্ত অসভ্য হলো। ঝুমকে খুব খুব কাদালো। শেষ রাতের দিকে ঝুম জ্ঞান হারিয়ে শাইয়ানকে জিতিয়ে দিলো।

Remedy part 16