Home Remedy Remedy part 7

Remedy part 7

Remedy part 7
মীরা রায়াদ

শাইয়ান দাঁড়িয়ে আছে তার মা বাবার রুমের সামনে। দরজায় টোকা দিতে গিয়েও হাত ফিরিয়ে এনে বা হাতের কব্জিতে লাগানো হাত ঘড়িতে দৃষ্টি দিয়ে দেখল এখন গভীর রাত। ঘড়ির কাটা জানান দিচ্ছে ১:২৭ মিনিট বাজে। এই সময় যাওয়া ঠিক হবে কিনা একবার ভেবে নিয়ে আলতো হাতে টোকা দিল। আজ এইমুহূর্তে তার মা বাবার সাথে কথা বলা খুব দরকার।

মেহেরুন্নেসা তখনো ঘুমাননি। ঈশালের বিয়ের জন্য কিছু গয়না আনানো হয়েছিল সে গুলো সযত্নে তুলে রাখছেন। শাইয়ানের বাবা ইব্রাহীম রেহমান আনসারী সহধর্মিনীর কাজ দেখে যাচ্ছেন। সারাজীবন দেশ সেবায় নিজের জীবন যৌবনের সাথে বউকেও তো কম অপেক্ষা করাননি তিনি। বউ তার খুব বেশি শখের নারী। দুনিয়া একদিকে কিন্তু বউ অন্য দিকে। ভীষণ ভালোবাসেন তিনি মেহেরুন্নেসাকে। এখনো যতবার দেখেন ততবারই প্রথম দিনের মতো প্রেমে পরে যান।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এমনি দিনগুলোতে তারা জলদি ঘুমালেও, বিয়ে বাড়ি বলে এই কয়েকদিন ঘুম বেশ দেড়ি করে হচ্ছে। মেহেরুন্নেসা আলমারির লক লাগাতে লাগাতে দরজায় আলতো শব্দ পেলেন। স্বামীর দিকে তাকিয়ে দেখলেন সে আগে থেকে তার দিকে তাকিয়ে আছে। এই সময় বাড়ির কেউ কারো ঘরে যাওয়ার কথা না, যদি না খুব দরকার হয়। লক লাগিয়ে দ্রুত পায়ে দরজা খুলে দেখতে পেলেন শাইয়ান দাঁড়িয়ে আছে। এই সময় শাইয়ানকে দেখে স্বামী স্ত্রী ভীষণরকম চমকে গেলেন। শাইয়ান কথা না বাড়িয়ে মায়ের এক হাত ধরে দরজাটা আলতো চাপিয়ে মাকে বাবার পাশে বেডে বসিয়ে নিজে তাদের সামনে মেঝেতে বসে পরল। বাবা মায়ের হাত একত্রে ধরে ওভাবে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল বেশ কিছুক্ষন। ইব্রাহীম ছেলের নিরবতা গভীর মনোযোগের সহিত দেখে গেলেন। তার অভিজ্ঞ চোখ বলছে গুরুতর ব্যাপার। কঠোর ব্যক্তিত্বের মেহেরুন্নেসা ছেলের চিন্তায় উদ্বিগ্ন। সে যেমনি হোক আগে তার ছেলে মেয়ের মা। আর অল্প কিছুতে চিন্তা করা মায়েদের স্বভাব সুলভ আচরণ।

মেহেরুন্নেসার একহাত শাইয়ানের হাতের মুঠোয়, সে অন্য হাতটি তুলে ছেলের মাথায় রাখলেন। মায়ের আদুরে হাতের স্পর্শে বাবা মায়ের হাত ধরে ওভাবেই মায়ের কোলে মাথা রাখল শাইয়ান। চরম অবাকে বাকরুদ্ধ মেহেরুন্নেসা, ইব্রাহীম। শাইয়ান অন্য ছেলে মেয়ের মতো বাবা মায়ের সাথে ঘনিষ্ট না। তারা কখনোই শাইয়ানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেনি। তাই এই মুহূর্তটা তাদের জন্য চমকের ছিল। ছলছল নয়নে কাপাকাপা গলায় মেহেরুন্নেসা প্রশ্ন করল –
” কি হয়েছে আমার আব্বার?”
শাইয়ান নড়চড় করলো না। একইভাবে পরে রইল মায়ের কোলে। দুনিয়ার সব থেকে শান্তির জায়গা এটি, যা সে চাইলেও ছোটবেলা পায়নি। আর বড় হয়ে লজ্জায় বলতে পারেনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে সে সেই ছোট্ট শাইয়ান যে মা বাবার কাছে তার প্রিয় কিছু আপদার করে নিবে।

” আম্মা.. আব্বা।”
স্বামী স্ত্রী নিজেদের দৃষ্টি বিনিময় করলেন। তারা বুঝতে পরছে না কি হয়েছে। ইব্রাহীম বলল –
” বলুন শাইয়ান।”
” আমার ওনাকে চাই। ফিরিয়ে দিবেন না প্লীজ। ধরে নিন আপনাদের কাছে এটিই আমার একমাত্র ও শেষ চাওয়া।”
শাইয়ানের কথায় মেহেরুন্নেসাকে এবার চিন্তিত ঠেকল না। কিন্তু ইব্রাহীমকে চিন্তিত লাগল। কার কথা বলছে বুঝতে না পেরে স্ত্রীর পানে চাইলেন। মেহেরুন্নেসা চোখের ইশারায় শান্ত থাকতে বলে শাইয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলল –
” এনিয়ে আমাদের কথা হয়েছে পূর্বে আব্বা। এখন আপনি কি করতে চাইছেন?”
” নিকাহ্।”
শাইয়ানর কন্ঠে কোনো জড়তা ছিল না। সে তার সিদ্ধান্তে অটল। কিন্তু ইব্রাহীম চমকালেন।
” নিকাহ্? কার সাথে? কি হচ্ছে শাইয়ান? কাল আপনার বোনের নিকাহ্ ভুলে যাচ্ছেন? কেউ আমাকে বলবে ঠিক কি চলছে এখানে?”

” আপনি শান্ত হন ইব্রাহীম। আমি বুঝিয়ে বলছি ( একটু থেমে মেহেরুন্নেসা ছেলের পানে চাইল)। শাইয়ান ঝুমকে পছন্দ করে।”
” ঝুম! ঈশালের বন্ধু?”
” হুম।”
” কিন্তু ওতো বাংলাদেশী।”
কথাটি শুনে মেহেরুন্নেসা চোখ মুখ কুঁচকে বিরক্তি ভঙ্গিমায় বলল –
” তাতে কি? আমিও তো বাংলাদেশী। বিয়ে করেননি আপনি আমাকে?”
থতমত খাওয়া গলায় ইব্রাহীম বলল –
” তা ঠিক।”
বউয়ের সাথে ঝগড়ায় না জড়িয়ে শাইয়ানকে বলল –
” ঝুম জানে?”
” না।”

” আচ্ছা। তাহলে আমাকে সময় দিন আমি ওনার পরিবারের সাথে কথা বলি এই বিষয়ে। তাদেরও তো মতামত আছে মেয়ে এতো দূর বিয়ে দিবেন কি না?”
বাবাকে থামিয়ে শাইয়ান বলল –
” কোনো দরকার নেই। ওনার কেউ নেই। এখন থেকে আমিই ওনার সব। আপনি ওনার বাবা আম্মা ওনার মা। এটা ওনার পরিবার। আমি ওনাকে নিকাহ্ করছি, আপনাদের জানিয়ে রাখলাম।”
ছেলের নির্লজ্জ কথায় ইব্রাহীম করুন চোখে মেহেরুন্নেসার দিকে চাইল। যদি করবে বলেই আগে থেকে ঠিক করে রাখে তাহলে তাদের জানানোর মানে কি? চোখের ইশারায় মেহেরুন্নেসাকে বলল, ” আপনি আপনার ছেলেকে বুঝান। এভাবে হয় না।” কিন্তু লাভ কিছু হয়েছে বলে মনে হলো না। উল্টো মেহেরুন্নেসা বলল –
” আম্মা আপনার সাথে সব সময় আছে। আমার আব্বা কিছু চেয়েছে আর তা দিবো না এমন হয়? আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। আর হ্যাঁ, ঝুম অন্যদের মতো না, তাই আশা রাখবো তার বিষয়ে আপনি সতর্ক থাকবেন।”

শাইয়ানের ঠোঁটে তখন বিশ্ব জয়ের হাসি। বাকি কথায় তাকে তেমন একটা গুরুত্ব দিতে দেখা গেল না। ওই মেয়ে তার। সে যা ইচ্ছা করতে পারে ওর সাথে। একবার শুধু বিয়েটা হোক, তারপর বুঝাবে শাইয়ান কি জিনিস। যদিও সে জানত তার আম্মা বারণ করবেন না। কারণ সে নিজেও ঝুমকে নিজের কাছে রাখতে চান। কিন্তু যদি বারণ করত তাও বিশেষ শুনতো না শাইয়ান। তার কাজ শেষ, সে উঠে যেতে যেতে মা বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল –
” তৈরি থাকুন, যে কোনো সময় ছেলের বউকে বরণ করতে হতে পারে।”
ছেলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে ইব্রাহীম বলল –

” মেহের, ঝুম মেয়েটিকে আমরা এই কয়েকদিনে যা দেখলাম তাতে আপনার মনে হয় শাইয়ানের জেদে তাকে সায় দিয়ে আপনি ঠিক করছেন? ছেলেকে আপনি আমার থেকে ভালো জানেন। ওমন কোমল মেয়েটিকে আপনার হিংস্র ছেলের জিম্মায় দিবেন? এটা কি মেয়েটির সাথে অন্যায় হবে না?”
” আমিও আপনার মতো ভেবেছিলাম। ভয়ও পেয়েছিলাম, কিন্তু শাইয়ান ঝুমকে নিয়ে খুব সিরিয়াস। ছেলেকে আমি এই প্রথম কারো জন্য কষ্ট পেতে দেখেছি।সেদিন হাসপাতালে কাদতে দেখেছি। এরপর আর কিছু বলার ছিল না আমার। আর সে নিজে প্রথমবার আমাদের কাছে কিছু চেয়েছে, আপনি কি না করতে পারতেন? আপনার ছেলে ভালই জানে তাকে ফেরাতে পারবো না তাই ওভাবে বলেছে। আর আমরা মেনে না নিলেও সে ঝুমকে ছাড়বে না ইব্রাহীম। সে আমার ছেলে আমি তাকে চিনি। তাছাড়া বলতে পারেন ওমন পুতুলের মত মেয়েটাকে নিজের কাছে রাখার লোভ সামলাতে পারিনি। পিছু পিছু যখন ঘুরে বেড়ায় আমার সাথে তখন ঠিক কতটা যে আদুরে লাগে।”
ইব্রাহীম দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মেহেরুন্নেসা ভুল কিছু বলেননি। মেয়েটার ভাগ্যে কি আছে সে তা জানে না। তবে দোয়া করবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে তারা দুজন যেন সুখী হয়।

ঈশালের বিয়ের দিন আজ। দেখতে দেখতে সময় কত দ্রুত পেরিয়ে গেল। ১৮ টি দিন! অথচ মনে হয় এইতো সেদিন আসলো সে। গতকাল ঈশালের হলুদ সন্ধ্যা ছিল। যদিও ঝুম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে কিন্তু বাড়ির সবাইকে আনন্দ করতে দেখে তার খুব ভালো লেগেছে। হাসপাতাল থেকে আসার পর আমিরুন্নেসা তাকে অনেক উলোট পালোট কথা বলেছে। শাইয়ানের তাকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়া ব্যাপারটা আগের রাগে যেন ঘি ঢেলেছিল। ভীষণ কথা শুনিয়েছে একা ডেকে। যদিও সে তা কাউকে বলেনি, কিন্তু দুঃখ পেয়েছে ওতোগুলো বাজে কথা শুনে। নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছে। তার সাথে আরো এক উটকো ঝামেলা এসে জুটেছে। আমিরুন্নেসার মেয়ে জামাই। লোকটা একদম সুবিধার না। গতকাল দেখার পরই ঝুম বুঝেছিল চরিত্রে সমস্যা আছে লোকটার।

বারবার তার দিকে কেমন করে তাকাচ্ছিল। বাড়িতে বড় বড় দুজন ছেলে আছে, সে এতো দিন থাকে কই তারা তো কখনো বাজে দৃষ্টিতে তাকায় না। হ্যাঁ শাইয়ান একটু কেমন করে তাকায়, কিন্তু বাজে দৃষ্টি না তার। কিন্তু ওই লোকটা আস্ত এক অসভ্য। আবার সাথে নিয়ে এসেছে ওভার স্মার্ট বোন। যে কথায় কথায় সবাইকে ছোট করে। ভারী অভদ্র। ভাই এক অসভ্য বোন জুটেছে অভদ্র। ঈশালের থেকে জানতে পেরেছে আমিরুন্নেসা এই মেয়েটিকে মেহেরুন্নেসার ছেলের বউ করার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু মেহেরুন্নেসা এখনো কোনো উত্তর দেয়নি। এতো কিছুর মাঝেও সে খুশি ঈশালের বিয়েটা ঠিকঠাক ভাবে হতে দেখে। বাংলাদেশের বিসনেস নিয়ে সে যদিও একটু চিন্তিত, কিন্তু তার অ্যাসিস্টেন্ট এর ওপর ভরসা আছে। মেয়েটা ভীষণ কাজের, কিন্তু তারপরও নিজের কিছু দায়িত্ব থাকে। ঝুম খুশি, কারণ কাল/পরশু সে বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ্ ব্যাক করবে। আজ বিয়ের ঝামেলা শেষ হলে সে আগে অনলাইনে এয়ারটিকিট বুক করে রাখবে।

বারান্দা ছেড়ে রুমে এসে দেখে ঈশালকে পার্লারের মেয়েগুলি প্রায় সাজিয়ে ফেলেছে। এই রুমে সে আর ঈশাল ছাড়া পার্লারের মেয়ে দুজন উপস্থিত। বাকি সব মেয়েরা অন্য কোনো রুমে তৈরি হচ্ছে হয়তো। তারও যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু মেহেরুন্নেসা তাকে এখানে অপেক্ষা করতে বলল। প্রায় অনেকক্ষন হয়ে গেছে কিন্তু মেহেরুন্নেসার খবর না পেয়ে সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ কুসুম ভাবনা ভেবে যাচ্ছিল। ঝুম দেখতে পেল ঈশালের মেকআপ হয়ে গেছে। এখন শুধু চুল সেট করলে বউ তৈরি। কি দারুন মিষ্টি লাগছে ঈশালকে তা হয়তো ঈশাল জানে না। বউ সাঁজে কি মেয়েদের এত মিষ্টি লাগে? তার জানা নেই। সেই ভাগ্য তার হয়নি।
মেহেরুন্নেসা ফিরল শাইয়ানের দেয়া পোষাক আর কিছু গয়না নিয়ে। ঝুমকে ঈশালের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আলতো হাতে ঝুমের গাল ছুঁয়ে বলল –

” সাজতে ইচ্ছা করছে?”
ঝুম মাথা নেড়ে না বলল। তার এতো ভারী সাঁজের অভ্যাস নেই। কখনো সাঁজেওনি। জীবন তাকে সেই সময়, সুযোগ বা পরিস্থিতি দেয়নি।
” তাহলে?”
” ঈশালকে খুব মিষ্টি লাগছে। আচ্ছা আণ্টি, সব মেয়েদেরই কি বউ সাঁজে ঈশালের মতো মিষ্টি লাগে?”
ঝুমের অবুঝ প্রশ্নে মেহেরুন্নেসা সহ ঘরের অন্যরাও হেঁসে উঠল। ঝুম বুঝলো বোকা বোকা প্রশ্ন করা হয় গেছে।
” হ্যাঁ, সব মেয়েকেই বউ সাঁজে সুন্দর আর মিষ্টি লাগে। আর আমাদের ঈশাল এমনিতেই ভীষণ মিষ্টি, তাই তাকে বেশি বেশি মিষ্টি লাগছে। দেখবেন আপনাকেও বউ সাঁজে মিষ্টি লাগবে।”
মেহেরুন্নেসার কথায় ঝুমের মুখ অন্ধকারে ছেয়ে গেল, কিন্তু বাড়তি কথা বলল না। মেহেরুন্নেসা হাতের শাড়ি গয়না ঝুমকে দিয়ে বলল –

” এখানে আজ আপনার পরার জন্য পোষাক আর গয়না আছে। সুন্দর করে তৈরি হয়ে নিন। শরীরের ক্ষত এখনো সমস্যা করছে?”
” না। কমে যাচ্ছে। এখন বেশি সমস্যা হয় না। কিন্তু আণ্টি এগুলো আবার কেন? আপনিতো আমায় সেদিন কতো গুলো পোষাক দিলেন। তাছাড়া হাসপাতালেও তো কতগুলো জামা এনে দিলেন। এখন আবার কেন? আপনার এই ঋণ আমি কিভাবে শোধ করব আণ্টি? আপনারা আমার জন্য এত করছেন যে আমার নিজেকে খুব ছোট মনে হয়।”
” আমি আমার মেয়েকে দিচ্ছি, তাতে তোমার কি? আর ঋণ শোধ করার কথা বলছো? সময় হলে আমি চেয়ে নিবো। এখন এতো না ভেবে আন্টির কথা শোনো তৈরি হয়ে নাও।”
” আচ্ছা।”

মেহেরুন্নেসা আর না দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে রুম ত্যাগ করল। তার এখন অনেক কাজ। বাড়ির বড় বউ সে, তাছাড়া ব্যবসায়ী হিসেবেও ভালো নাম ডাক রয়েছে। বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়ন করতে হবে।
ঝুমের হাতে একটি শাড়ি। সে আশ্চর্যের ন্যায় সেই শাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। ভীষণ গাঢ় রঙের শাড়িটি। মেরুন রেড! হয়তো। মেরুন রেড রঙের চিনন সিল্কের শাড়িটির পাড়ে সোনালী সুতো ও সিকুয়েন্সের ভারী কাজ। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের। ঝুম আরো একবার হাত বুলালো শাড়িতে। তারপর পাশে রাখা মেরুন রেড রঙের ভেলভেটের চুরি গুলো হাতে নিয়ে পরে দেখল। সাইজ ঠিক আছে। শাড়ি চুড়ি দেখেই তার মন ভালো হয়ে গেছে। এতো সুন্দর শাড়ি দেখে কোন মেয়ে খুশি হবে না?

দক্ষ হাতে শাড়ি চুরি পরে কানে গোল্ডেন কালারের ভারী একটি ঝুমকা পরলো। নিত্যদিনের মত দুহাতে লম্বা লালচে চুলগুলো হাত খোপা করে নিল। ঈশালের ততক্ষনে বউ সাজা কমপ্লিট। সেসহ পার্লারের মেয়েগুলোও ঝুমের দিকে হা করে তাকিয়ে। শাড়িটা ঝুমের শরীরে দারুন মানিয়েছে। ঝুম এগিয়ে ঈশালেকে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরল। অনেকক্ষন কেউ কথা বলল না। দুজনের চোখে পানি ছলছল কিন্তু বেয়ে পরা বরণ। এই পর্যায়ে ঈশাল বলল –
” তুমি আমাকে ইমোশনাল করে দিচ্ছ ঝুমঝুমি। তোমার জন্য আমার মেকআপ নষ্ট হলে ভালো হবে না বলে দিচ্ছি। এমনিতেই আমার বিয়েতে তুমি ম্যাচ মেকার হয়ে যাবে। আমি যদি কাছাকাছিও না যাই তাহলে আমার ভবিষ্যৎ আন্ডা বাচ্চাদের কি জবাব দিব?”

ঝুম হেসে ফেলল। এই মেয়েটা পারেও বটে। এমন এক ইমোশনাল মোমেন্টে এমন ধারা কথা কে বলে? ঝুম ঈশালেকে ছেড়ে, ঈশালের নথ ঠিক করে দিতে দিতে বলল –
” ম্যাচ মেকার যেই হোক, ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ তুমিই হবে।”
ঝুমের কথায় ঈশাল হেঁসে উঠল। তাকে হাসতে দেখে ঝুম ও হেঁসে দিল। দুহাতে একে অন্যকে আবার জড়িয়ে ধরে। ঝুম বলল –

” আমার জীবনে আসার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ঈশাল। গুটিকয়েক মানুষ আমাকে মন দিয়ে ভালবাসে তার মাঝে তুমিও একজন। আমি ভাবিনি আমার পাকিস্তান আসার এই জার্নিটা এতো মধুময় হবে। তুমি জানো না তুমি আমাকে কি দিয়েছো। তুমি খুব ভালো মনের মেয়ে ঈশাল। দোয়া করি তুমি খুব খুব খুব সুখী হও।”

Remedy part 6

ঈশাল কিছু বলবে ঠিক সেই মুহূর্তে বাকি মেয়েরা একে একে প্রবেশ করে ঈশালকে নিয়ে স্টেজের দিকে রওনা হয়। ঈশাল ঝুমের হাত ছাড়ে না। সেই ভাবে দুজন পা বাড়ায়। কখনো কখনো রক্তের সম্পর্কের থেকেও কিছু অপরিচিত মানুষ আমাদের খুব কাছের হয়ে যায়। যেমন ঈশালের কাছে ঝুম আর ঝুমের কাছে ঈশাল। এয়ারপোর্টে দেখা হওয়া দুই মানবী মাত্র ১৮ দিনে এতটা কাছে এসে গেছে যে সেই সম্পর্কের কাছে রক্তের সম্পর্কও হার মানবে।

Remedy part 8