Home Violent love Violent love part 46

Violent love part 46

Violent love part 46
Mariam akter juthi

“সানজিদা খান আরিশের কাছে যেতে নিলে, আরিশ চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
‘একদম আমাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে না,আম্মু। আজ হয় আমি থাকবো, আর নয়তো এই অবাধ্য নারী। — বলে আবারো দরজায় লাথি মারতে মারতে বলল,
‘ছ্যাঃ শালার জিন্দেগি, একটা মেয়ে মানুষকে সামলাতে পারি না? একটা মেয়ে মানুষ কে দেখলে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না? ওইটুকুখানি মেয়েটা নাকি আমাকে তার ইশারায় নাচাচ্ছে। মনে তো চায়,,

আরিশ কে এমন আবারো ভয়ংকর ভাবে রেগে যেতে দেখে, জুথি ভয় কেঁদে উঠতে, ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলল,
‘ম,মা তোমার ছেলেকে বলো না, আমার ভুল হয়ে গেছে। আবার ভয় লাগছে তো ওনাকে।
‘তোর ভুলের মায়রে *বাপ। হাফফুট দরজা খোল। — আরিশ কথাগুলো বলতে বলতে একপ্রকার দরজা ভাঙার মতো ধাক্কাতে, ওকে থামানোর জন্য,সাফওয়ান খান, মাহামুদ খান, ওকে টেনে দরজার থেকে সরাতে আরিশ চেঁচিয়ে বলল,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

‘তোমরা আমাকে এভাবে কতক্ষণ আটকাবে? এতে কোন লাভ হবে না। আজ আমি ওকে জানে শেষ করে তবেই ক্ষান্ত হব। – ওর এমন ভয়ংকর কথার মধ্য জুথি শাড়ির আঁচলটা খামচে ধরে ভয়াতুর কন্ঠে আবারো বলল,
‘অ,আমি দরজা খুলে দিচ্ছি। ত,তাও আপনি দরজা ভাঙ্গবেন না। – জুথি কথাটা বলে দরজার দিক এগিয়ে আসতে, সানজিদা খান পরিস্থিতি দেখে বুঝলেন, এখন জুথি দরজা খুলে আরিশের সামনে আসলে এখানে তান্ডব হবে ভেবে ততক্ষণে ওকে নিষেধ করে বললেন,

‘মৌ তুমি এখন দরজা টা খুলো না। আর,, — উনি কথাটা শেষ করতে না করতে জুথি দরজা টা খুলে দিতে, আরিশ ওনাদের দুজনার থেকে ছিটকে নিজেকে ছাড়িয়ে জুথির রুমের মধ্যে তেরে এসে,জুথি কে ওর দিক ঘুরিয়ে একের পর এক, এগালে ওগালে, ঠাসসস ঠাসসসস, একনাগাড়ে যে কতগুলো দাবাং মার্কা চড় মারলো কে জানে? তবে ১০.১২ টা তো হবেই। জুথি এতো গুলো দাবাং মার্কা চর খেয়ে কাঁদতেও যেন ভুলে গেল। হলুদ ফর্সা গাল দুটো কেমন মোটা আঙ্গুলের ছাপ পড়ে গেছে। ওর মাথা কেমন ভনভন করে উঠলো। মনে হল কান থেকে ধুমা বেরিয়ে গেছে। হাত দুটো কেমন কাপন শুরু হলো। জুথি আর পারলো না নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। ততক্ষণে হেলিয়ে মেঝেতে পড়ে যেতে নিলে, আরিশ ওকে ধরে বিছানার উপর ধাক্কা মেরে ফেলে সর্বশক্তি দিয়ে জুথির গলা চেপে ধরতে, জুথি কোনরকম সারা শব্দ করতে পারল না। শুধু কেমন চোখ মুখ ত্যারাতে, মনে হল, আরে এক মিনিট এভাবে থাকলে হয়তো এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে। জুথি কোনরকম শ্বাস নিতে না পেরে, মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে ততক্ষণে সাফওয়ান খান থেকে আরিশের চাচারা দৌড়ে রুমের মধ্যে এসে আরিশ কে জুথির থেকে টেনে সরিয়ে নিতে, জুথি ততক্ষণে দম নিতে না পেরে ওখানেই চোখ দুটো বন্ধ করে নেয়। জুথি নিথর দেহে হাত পা ছেড়ে দিতে সবাই সেদিক একবার তাকাতে সাফওয়ান খান আরিশের দিকে তাকিয়ে রাগী রাগী কন্ঠে বললেন,

‘কি করলে এটা তুমি? তুমি কি মানুষ? নাকি একটা জানোয়ার?
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি জানোয়ার। ও আমার কথা না শুনলে অকালে প্রাণ হারাতে হবে এটাই সত্যি।
‘তোমার মত উন্মাদ, একটা তারছিরা ছেলেকে আমি জন্ম দিয়েছিলাম? ও ওইটুকু মেয়ে আরিশ। ওর আবেগ কাজ করে বিবেক নয়। যে তোমার মন মতো করে চলতে পারবে। বাচ্চা মানুষ! ভুল হবে, অভিমান করবে, এটাই স্বাভাবিক। এখন ওর উড়ন্ত বয়স দুরন্ত ডানা‌ মেলে চলবে। তোমার মত 30 বছরের দামরা নয়, যে সবকিছু বুঝবে।
‘ও যতটুকই হোক আমার ঠিক ওকে ততটুকুই লাগবে। ওকে আমার কথা শুনতে হবে। আমার হ্যা তে হ্যাঁ,না তে না। ওকে এভাবেই চলতে হবে ওকে আমার বাধ্য নারী হতেই হবে। আর নয়তো, ওকে মারবো। দরকার হয় আমি নিজেও মরবো।

‘তুমি একটা হিংস্র জানোয়ার, শুনে রাখ এতদিন ভেবেছিলাম, তুমি ঠিক হবে। তাই মানতে না চাইলেও মেনে নিতাম। কিন্তু আর নয়, আজ এই মুহূর্তে থেকে তুমি মৌয়ের থেকে দূরে থাকবে। ওকে ছোঁবে না, ওর কাছে আসবে ন,, — সাফওয়ান খান সম্পূর্ণ কথাটুকু শেষ ও করতে পারলেন না। তার আগেই হিংস্র আরিশ আবারো উনাদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে উন্মাদের মত ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করতে করতে বলল,

‘ছোবো হাজার বার ছোবো, জানোয়ারের থেকেও জঘন্যভাবে ছোব। কে আটকাবে আমাকে? তোমারা? ওকে আজ আমি মেরেই ফেলবো। তোমারা বাঁধা দিতে আসলে ওকে নিয়ে বাড়ি ছাড়বো। আর ওকে নিয়ে বাড়ি ছাড়লে, ভেবো না, ওকে যত্ন করে সুস্থ করবো। কারন তুমি তো বলেই দিয়েছো। ওর কাছে যাওয়া যাবে না,ওকে ছোঁয়া যাবে না। আর কাছে না গেলে তো মন মত আদর করতে পারবো না। তার চেয়ে বরং আমি ওকে মেরে এমন ভাবে ছুড়ি দিয়ে কুচি কুচি করে কেটে কফিনে ভরে মাটি চাপা দিয়ে রাখবো। তখন না থাকবে বাঁশ আর না বাজবে বাঁশি। – বলে ভাংচুর রেখে পুনরায় জুথির দিকে তেড়ে যেতে নিলে, উনারা আবারো আরিশ কে সবাই মিলে চেপে ধরতে ওকে শান্ত করার চেষ্টা করে ইউনুস খান বললেন,

‘আরিশ আমার বাবা, এমন করে না। তুমি মৌ কে ছুবে। মৌ তোমার কথা মতোই চলবে। মৌ তোমার, নিজেকে শান্ত করো বাবা। নয়তো মেয়েটা তোমার আঘাতে মরে যাবে। তখন আবার সেই তুমি ওর বিরহে উন্মাদ হয়ে যাবে। এভাবে আঘাত করোনা। – ইউনুস খান কথাটা বলতে আরিশ জুথির দিক না গেলেও, ওনাদের থেকে নিজেকে ছিটা মেরে ছাড়িয়ে ওই রুম থেকে বেরিয়ে যেতে, উনারা এক প্রকার হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। আরিশ চলে যেতে সানজিদা খান বাকি মা চাচিরা জুথির কাছে গিয়ে ওকে কোলের মধ্য নিয়ে চোখে মুখে পানি ছিটানোর মধ্যে, ততক্ষণে শুনতে পেলেন আরিশের রুমে পুনরায় ভাঙচুরের শব্দ।

উনাদের কারো বুঝতে বাকি নেই। এখানে রাগটা ছাড়তে না পেরে, রুমে গিয়ে রুমের জিনিস গুলোর উপর ছাড়ছে। তাই সে দিক ওনারা আর খেয়াল দিলেন না। কারণ উনাদের জানা এটা নতুন নয়, আরিশের রাগ উঠলে জিনিসপত্র ভাঙবেই। আর রাগ কমে গেলে আবারও পুনরায় জিনিসগুলো আরিশের রুমে দিতে হবে। এমন যে কতবার হল। তার হিসাব নেই। জিনিস ভাঙ্গে ভাঙ্গুক, তাও মানুষ পিটিয়ে না মারুক। এটাই তাদের কথা। আরিশের রুমের জিনিসপত্র সব ভাঙ্গা হয়ে গেলে, আরিশের রাগ এমনি পড়ে যাবে। – ভেবে ওনারা সবাই জুথির কাছে এসে ওকে জাগানোর চেষ্টা করে, আবারো চোখে মুখে পানি ছিটাতে কোন কাজ হলো না দেখে, হাতে পায়ে মাথায় তেল দিয়ে মালিশ করে জুথির পালস চেক করতে দেখলে খুব অল্প। কি করবে কিছু ভেবে না পেয়ে, সবাই মিলে জুথিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। রাত তখন প্রায় দশটার ঘরে। এই সময় বাড়ির মেয়েকে নিয়ে সবাই হসপিটালে। জুথি কে হসপিটাল নিয়ে আসতে ওখানের একজন ডক্টর ওর পালস চেক করতে অবাক হয়ে বলল,

‘মেয়েটার পালস তো একদম নেই। আদৌ কি বেঁচে আছে? মনে তো হয় না। – ডক্টর একথা বলতে সাফওয়ান খান ঘাবড়ে গিয়ে বললেন,
‘প্লিজ ডক্টর ওকে তাড়াতাড়ি করে কেবিনে নিয়ে যান। অক্সিজেন দেন, আল্লাহর রহমতেও ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। – সাফওয়ান খান কথাটা বলতে ডক্টর একবার জুথির দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘মেয়েটার গালে কি হয়েছে? পোশাক আশাক, সাজ দেখে তো মনে হচ্ছে কোন অনুষ্ঠানে গিয়েছিল?
‘সেসব পরে শুনবেন ডক্টর, আগে ওকে নিয়ে যান।
সাফওয়ান খান, অলয়েল ডক্টরের সাথে কথা বলার মধ্য ডক্টর আহিল অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে এদিকেই আসতে খান বাড়ির লোকদের দেখে ভ্রু কুঁচকে সেদিক এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো,
‘কি হয়েছে? SK? – কথাটা বলে নিথর দেহে শুয়ে থাকা জুথির দিকে তাকিয়ে, চোখ বড় বড় করে সাফওয়ান খান কিছু বলার আগেই আহিল আবারো বলল,

‘আরে এই মেয়েটা, আপনার ছেলে AK মানে আরিশের বউ না?
‘হুম। — সাফওয়ান খান আরো কিছু বলতে যাবেন তার আগেই তখনের ডাক্তার টা বলল,
‘দেখুন না স্যার, মেয়েটার পালস নেই। মনে তো হচ্ছে আর নেই। – উনার কথাটা আহিলের কানকুহান হতেই তাড়াহুড়া করে বলল,
‘কথা বলার টাইম নেই ডঃ সোহান। ওকে ইমার্জেন্সিতে নিন, আর নয় তো সত্যিই এমন কিছু হলে আমাদের হসপিটাল থাকবে কিনা সন্দেহ। কারণ মেয়েটার এই অবস্থা কি করে হয়েছে? কেন আবার এভাবে মেরেছে সেটা দেখবে না। আমরা কেন বাঁচাতে পারলাম না সেটাই দেখবে। কিন্তু এটা মানবে না, জীবন মরণ আমাদের হাতে না। আল্লাহর হাতে। আর এটাই AK স্বভাব।

AK কথাটা বলতে ডক্টর সোহান, বুঝে গেল। ডক্টর আহিল কার কথা বলছে। কারণ আরিশ যেদিন এই হসপিটালে এসেছিল, সেদিন আহিল লেট করে আসার জন্য যেই তান্ডব শুরু করেছিল। এটা কি ভোলা সম্ভব? তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা, AK নাম গুলশান এলাকার মানুষ এক কথায় চেনে। মির্জানী খান বংশ বলে কথা। তাই ডঃ সোহান আর কথা না বাড়িয়ে জুথি কে ইমারজেন্সি কেবিনে নিয়ে, স্যালাইন প্লাস অক্সিজেন, থেয়ালাইট দিতে। প্রায় এক ঘণ্টা পর জুথির পালস আসে। জুথির পালস আসতে আহিল স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে কেবিন থেকে বের হয়ে ওনাদের সামনে এসে বলল,

‘চিন্তা করবেন না। কিছু সময় যেতে সেন্স ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ। চাইলে বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। – বলে দুটো ওষুধ লিখে প্রেসক্রিপশন পেপারটা সাফওয়ান খানের হাতে দিয়ে আবারো বলল,
‘এগুলো খেলে ব্যথা, শরীর ঠিক হয়ে যাবে। তবে একটা কথা, আপনার কুলাঙ্গার ছেলের থেকে বাচ্চা মেয়েটাকে একটু দূরে রাখবেন। আর নয়তো আপনার ছেলে কোন দিন এইটুকু মেয়েটাকে মেরে ফেলে কে জানে। – উক্ত কথাটা বলে উনি চলে যেতে, সাফওয়ান খান সবাইকে গাড়িতে উঠতে বলে জুথি কে নিয়ে সবাই বাসায় চলে আসে। জুথি কে নিয়ে এসে ওকে শুইয়ে বেশ কিছুক্ষণ ওর কাছে থেকে, সবাই যে যার রুমে চলে চলে যেতে সানজিদা খান থেকে গেলেন ওর সাথে। যদিও জুথির মা থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু সানজিদা খান নিষেধ করতে উনি আর কথা বাড়ালেন না। নিজের রুমে নিচে চলে গেলেন।

“রাত্র প্রায় দুটো, এমন সময় জুথি আস্তে করে চোখ খুলে তাকাতে পানির তৃষ্ণায় কোনরকম বর প্রয়োগ করে বিছানায় উঠে বসতে, মুখের সামনে পানির গ্লাস দেখতে পেয়ে ডানে বামে না তাকিয়ে পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে ডগডগ করে পানিটা সম্পূর্ণ শেষ করে যখন গ্লাসটা দিতে যাবে। তখন সামনের মানুষটাকে দেখে ভয়ে আতকে উঠতে হাত থেকে গ্লাসটা মেঝেতে পড়ে ভেঙে যেতে, জুথি সামনে আরিশের দিক তাকিয়ে ভয়ে পরপর ঢোক গিলে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,

‘ব,বি,বিশ্বাস করুন, কোনদিন আপনার অবাধ্য হবো না তো। ক,কো,কোন দিনও শাড়ি পড়ে সাজগোজ করে আপনাকে লোক দেখাবো না। ত,তা,তাও আমাকে মেরে ফেলবেন না। – জুথি আরিশের ভয়ে ফুপিয়ে উঠতে আরিশ নেশাক্ত দৃষ্টিতে সেদিক তাকিয়ে, ওর ঘাড়ে হাত রেখে একটানে ওর মুখের কাছে এনে জুথির নরম কোমল কাঁপা ঠোঁট দুটো নিজের হাতে নিয়ে চুষতে নিলে, সানজিদা খান গ্লাস ভাঙ্গা সাথে জুথির ফোপানো কান্নার শব্দ পেয়ে ঘুমের ঘোরেই ভ্রু কুঁচকে উঠে বসে, ডিম লাইট টা অফ করে লাইট জ্বালাতে, ততক্ষণে আরিশ জুথিকে ছেড়ে, ঘুরে মেঝেতে বসে খাটের সাথে হেলান দিতে সানজিদা খান এই সময় আরিশ কে এই রুমে দেখে পুনরায় কপাল কুঁচকে বললেন,
‘তুমি এত রাতে এই ঘরে কি করছো? – জুথি নিজের পাশে সানজিদা খানের কন্ঠ পেয়ে ততক্ষণে ওনার পিছু গিয়ে লুকাতে আরিশ সেদিক তাকিয়ে বলল,
‘আম্মু আমার বউ লাগবে। একদম একলা, কিছু করার ভীষণ ইচ্ছে করছে। – আরিশ এমন কথা বলতে সানজিদা খান চটে গিয়ে বললেন,

‘আমি তোমার মা হই। মায়ের সামনে একটু তো লজ্জা সম্মান নিয়ে কথা বল। – উনি কথাটা শেষ করতে না করতে আরিশ দায় ছাড়া ভাব নিয়ে একই ভাবে বলল,
‘আম্মু অতি সম্মান ও লজ্জার সাথে বলছি, আমার বউকে ভীষণ আদর করার ইচ্ছে হচ্ছে তুমি যদি আমার বউকে একলা আমার কাছে দিতে, তাহলে ইচ্ছেটা সম্পূর্ণ করতাম।
আরিশ এমন নির্লজ্জের মত কথাটা বলতে, সানজিদা খান আর দ্বিতীয় বার কথা বলার সাহস পেলেন না। কারণ উনি কি বলবেন উনার কুলাঙ্গার ছেলে কি বলে ওঠে তার ঠিক নেই, ভেবে উনি, উঠে চলে যেতে নিলে। জুথি ওনার আঁচল টেনে ধরে ওনার পিছনে লুকাতে লুকাতে ভয়ে শিটিয়ে গিয়ে বলল,
‘মা তুমি যেও না, তোমার ছেলেকে ভীষণ ভয় লাগছে তো আমার। – জুথি সানজিদা খানের আঁচল টেনে ধরতে, উনি আরিশের দিক তাকিয়ে বললেন,

‘ও তোমার কাছে থাকতে চাইছে না, ভয় পাচ্ছে। ওর ভয়টা কাটুক তারপর না হয়,,
‘সম্ভব না, ওকে আমার এক্ষুনি লাগবে। – আরিশ কথাটা বলতে, উনি জুথির থেকে আঁচল টা ছাড়াতে চাইলে, জুথি ওনার আঁচলটা দুহাতে শক্ত করে চেপে ধরে বলল,
‘না,মা যেও না। আমাকে উনার কাছে রেখে যেও না। – জুথি সানজিদা খানের আঁচল ছাড়ছে না দেখে, আরিশ এবার উঠে জুথির পিছন থেকে দু হাতে ওর কোমর চেপে সানজিদা খান কে বলল,
‘তুমি যাও।

সানজিদা খান জুথির থেকে জোর করে নিজের আঁচলটা ছাড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে, আরিশ জুথি কে ছেড়ে, গিয়ে দরজাটা ভিতর থেকে লক করে জুথির দিক ঘুরে ঠোঁট কামড়ে বাঁ হাতের বুড়ো আঙ্গুল দ্বারা ঠোঁট চুলকে বলল,
‘এখন পালাবি কিভাবে? জানিস তো? আমার যেটা চাই সেটা চাইই চাই। – এতোটুকু বলে থেমে আবার বলল,
‘জানিস তোকে তখন ভীষণ আদর করার ইচ্ছে হয়েছিল। একদম তোর ছোট্ট শরীরটা আঘাত করার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু কি করার? অবাধ্য জিনিসটা তো আমার পছন্দ না। কিন্তু তুই সেটাই করিস‌। যাতে আমার মাথা ঠিক থাকে না, পরে তোকে আঘাত করি। কিন্তু এখন আবার কেন জানি তোকে ভীষণ আদর করার ইচ্ছা হচ্ছে। তাই ডোন্ট ডিস্টার্ব। – বলে জুথির কাছে এগোতে নিলে জুথি ভয়ে বিছানার উপর পিছাতে পিছাতে কাঁপা কন্ঠে বলল,
‘অ,আ,আপনাকে ভয় লাগে তো, আমাকে যেতে দিন না মায়ের কাছে। আ,, – জুথির কথার মাঝে আরিশ ওর একদম কাছে এসে ওর কোমরে হাত রেখে কাছে টেনে নিতে, জুথি ওকে সরানোর চেষ্টা করে বলল,
‘আমার শরীর কাঁপছে, প্লিজ আমাকে ছাড়ুন।

জুথি ছোটার জন্য ছটফট করেও পারলো না। আরিশের সাথে। ততক্ষণে আরিশ গায়ের শার্ট টা খুলে মেঝেতে ফেলে জুথির ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের সাথে মিশিয়ে চুষতে চুষতে জুথি কে বিছানায় ফেলে দিয়ে জুথির বুকের থেকে শাড়িটা সরিয়ে চুমু খেতে, জুথি ভয়ে আরো কেঁদে উঠলো। কিন্তু আরিশ জুথির কান্না দেখার মত হুসে নেই। সে নিজ কাজে এতটাই মত্ত যে, পুরো দুনিয়া উল্টে গেলেও নিজ কাজ থেকে ফিরে তাকাবে না। আরিশ জুথির বেলাউজটা খুলে নিতে, জুথি দুহাত দ্বারা বুক ডেকে ধরতে, এতে আরিশ বেশ বিরক্ত হলো। তাই আশেপাশে তাকাতে জুথির একটা ওড়না ঝুলানো দেখে সেটা এনে জুথির হাত শক্ত করে বেঁধে দিতে, জুথি সেটা খোলার চেষ্টা করতে আরিশ আবারো জুথি কে নিজের কাছে টানতে জুথি আরিশের ঘাড়ে কামড় দিতে আরিশ এতে আরো হুস হারিয়ে জুথি তে মত্ত হতে,জুথি আর পারলো না আরিশের সাথে। আরিশ একটু একটু করে সম্পূর্ণ ভাবে তার মৌ তে মত্ত হতে,বেশ সময় যেতে যখন আরিশ ওকে ছাড়লো না। তখন জুথি অতিরিক্ত ব্যথায়, কাঁদতে কাঁদতে আবারো নেতিয়ে যেতে যেতে বলল,

‘এখন ছেড়ে দিন না, আরিশ ভাই। আমার কষ্ট হচ্ছে।
‘হুস। – আরিশ ওকে কোনোভাবেই ছাড়ছে না দেখে, জুথি আর সহ্য করতে পারছে না। কষ্টে ওর এখন মরে যেতে ইচ্ছে করছে। না পারছে বাধা হাতটা ছাড়াতে, আর না পারছে আরিশ কে নিজের থেকে সরাতে। জুথি আর সহ্য করতে না পেরে, ওর নিঃশ্বাস এতটাই জোরে হয়ে গেছে যে, আরিশ আর অল্প সময় এভাবে থাকলে, জুথি আবারো সেন্স হারাবে। জুথি নেতিয়ে গিয়ে ফোপাতে ফোপাতে বলল,
‘আরিশ ভাই, আর পারছিনা তো। এবার সরুন না। আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তো। ভীষণ ব্যথা হচ্ছে। আমার সত্যিই কষ্ট হচ্ছে।

আরিশ তার মৌয়ের থেকে সরে আসতে পারছে না। তার এখনো মন ভরেনি, কিন্তু তার মৌয়ের এমন কষ্টে মন না ভরলেও এবার ছেড়ে দিলো। আরিশ ওকে ছেড়ে দিতে জুথি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে, আরিশ ওকে বুকে টেনে, বুকের মধ্যে নিয়ে শুয়ে পড়তে। জুথি আর কোন রকম নড়াচড়া করলো না। হয়তো এতটাই সে আরিশের অত্যাচারে ক্লান্ত হয়েছে, যে তার রেস ধরেই আরিশের বুকে ঘুমিয়ে গেছে, জুথি আরিশের বুকে ঘুমিয়ে যেতে, আরিশ বিরক্তিতে পরপর নিশ্বাস ছেড়ে বলল,

Violent love part 45

‘ছ্যাঃ কি একটা *বালের বাসর করলাম আমি? বউ ধরা ছোয়ার আগেই বলে ছাড়ুন। এখন একটু আদর করতে গেলেই বউ বেহুশ হয়ে পড়ে। নেক্সট বউকে আদর করতে গেলে, আগে কলিকাতার হারবাল খাওয়াতে হবে। যেন বউ আদর করার আগেই বেহুশ না হয়ে পড়ে।

Violent love part 47

2 COMMENTS

  1. আচ্ছা পরের পর্বগুলো দিতে এত দেরি হয় কেন, সেই কবে এই পর্ব পড়েছিলাম এখনো নেক্সট পর্ব দেওয়া হলো না, এবার কিন্তু খুব কষ্ট পাচ্ছি।

Comments are closed.