অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ২০
রিদিতা চৌধুরী
ছাদের দরজায় এসে দাঁড়াতেই সৌহার্দ্যের শ্বাস যেন থমকে গেল। চোখের সামনে যে দৃশ্য, তা তার সব কল্পনাকেও হার মানায়।
পূর্ণিমার রুপালি জোছনায় রিদি যেন এক মায়াবী অপ্সরা। পরনে নীল রঙের কামিজ, ওড়নাটা কোমরে শক্ত করে জড়ানো। সুমি আর পৃথাদের সাথে আরও তিনটা মেয়ে মিলে ‘আয় সজনি’.. গানের তালে তালে উন্মাতুর ভঙ্গিতে নাচছে। তার প্রতিটি হাসির শব্দে চারপাশের বাতাস যেন ঝনঝন করে বেজে উঠছে। হাত দুটো শূন্যে তুলে, কামিজের ঘের ঘুরিয়ে রিদি যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে এক অদ্ভুত ছন্দের নেশায়।
কিন্তু এই গান, এই নাচ—কোনোকিছুই সৌহার্দ্যের চোখে পড়ল না; সে যেন পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তার সমস্ত দৃষ্টি শুধু রিদিতেই আটকে রইল। মেয়েটা সুস্থ আছে, ঠিক আছে—এইটুকু দেখেই তার বুকের ভেতর দীর্ঘক্ষনের জমে থাকা পাহাড়সম উদ্বেগ মুহূর্তে ধুয়ে মুছে গেল।
এক সেকেন্ডও সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। দ্রুত পায়ে দৌড়ে গিয়ে সে রিদিকে উন্মাদের মতো বুকের মাঝে চেপে জড়িয়ে ধরল। এত শক্ত করে, এত নিবিড়ভাবে তাকে নিজের বক্ষের মাঝে চেপে ধরল যে—যেন ভয়, এক মুহূর্তের জন্য শিথিল করলেই সে চিরতরে হারিয়ে যায়!
হঠাৎ এমন অতর্কিত আলিঙ্গনে রিদি ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। মুখটা পুরো সৌহার্দ্যের বুকের ভেতর গুঁজে থাকায় চোখ তুলে তাকানোর মতো অবস্থায় সে নেই। তবে ‘ক্রিড অ্যাভেনটাস’ পারফিউমের পরিচিত ঘ্রাণ জানান দিচ্ছে—এটা তার সেই অসভ্য ডাক্তার। সৌহার্দ্যের আশেপাশে থাকলেই এই ঘ্রাণটা তার নাকে আসে। রিদি তাকে সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু বলিষ্ঠ পুরুষটির শক্ত বাঁধন থেকে নিজেকে মুক্ত করা তার পক্ষে সম্ভব হলো না।
রিদির কানে এল সৌহার্দ্যের হৃৎপিণ্ডের অস্বাভাবিক দ্রুত সেই শব্দ। সৌহার্দ্য টানা দশ মিনিট রিদিকে বুকের সাথে চেপে ধরে রাখল, একটু নড়াচড়া পর্যন্ত করতে দিল না। তারপর, ধীরে ধীরে দুই হাতের আজলায় রিদির মুখটা তুলে ধরে সে পুরো মুখজুড়ে এলোমেলো চুমুতে ভরিয়ে দিয়ে আবার তাকে বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল।
এদিকে ছাদের বাকিদের অবস্থা তখন দেখার মতো। সবাই যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে, মনে হচ্ছে বিনামূল্যে কোনো বাংলা সিনেমা দেখছে! আরবান তো লজ্জায় মুখ ঢেকেছে, আর সুমি, পৃথা ও সায়েম হা করে দাঁড়িয়ে—তাদের মাথায় কিছু ঢুকছে না যে আসলে হচ্ছেটা কী!
প্রায় দশ মিনিট পর সৌহার্দ্য রিদিকে কিছুটা আলগা করল, তবে তাদের ঘনিষ্ঠতা এক চুলও কমল না। সৌহার্দ্যের দুহাত তখনও রিদির কোমরে শক্ত করে প্যাঁচানো। অপলক দৃষ্টিতে সে রিদির দিকে তাকিয়ে আছে। চাঁদের মৃদু আলোয় মেয়েটাকে তার কাছে স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোনো অপ্সরা মনে হচ্ছে। রিদি এতক্ষণ সৌহার্দ্যকে দেখার সুযোগ না পেলেও, এখন তাকাতেই তার বুকটা কেঁপে উঠল। সৌহার্দ্যকে কেমন যেন বিধ্বস্ত আর এলোমেলো লাগছে—এমন রূপে সে আগে কখনও তাকে দেখেনি। রিদি আলতো করে নিজের হাত সৌহার্দ্যের পিঠে রেখে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, “আপনাকে এমন লাগছে কেন? কী হয়েছে?”
সৌহার্দ্যর কানে যেন রিদির কোনো কথাই পৌঁছাল না। হঠাৎ কোমরে থাকা এক হাত সরিয়ে সে রিদির গালটা শক্ত হাতে চেপে ধরল। নিচু স্বরে হিসহিসিয়ে বলল, “আমাকে কি তোর মানুষ মনে হয় না? কী পেয়েছিস? আমাকে একেবারে শেষ করা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিস না?
তার চোখে তখন আগুনের হলকা। গাল এভাবে চেপে ধরায় রিদির গাল ব্যথায় টনটন করে উঠল। মনে মনে রিদির ভেতরটা রাগে জ্বলে উঠল—এই লোকটা আস্ত এক অসভ্য বেয়াদব! কোনো কথা না বলে তাকে জাপটে ধরে চুমু খেল, আবার এখন এমন নাটক করছে! সে সৌহার্দ্যকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু মুখটা এমন শক্ত করে চেপে ধরায় কোনো শব্দই বের হলো না।
বেশ কিছুক্ষণ পর সৌহার্দ্য নিজেই হাতটা আলগা করে দিয়ে শান্ত কিন্তু গম্ভীর গলায় বলল, “আজ থেকে কখনো কাউকে না জানিয়ে বের হবে না। মনে থাকবে?”
রিদি বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে শুধু মাথা নাড়ল—মানে মনে থাকবে। কিন্তু মনে মনে গালি দিয়ে বলল, ‘আমি কী করব না করব, তা তোকে বলতে হবে কেন, অসভ্য লুচ্চা ডাক্তার!’
রিদি হাত দিয়ে সৌহার্দ্যের হাতটা সরানোর চেষ্টা করতে, সৌহার্দ্য একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করল, তারপর ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে রিদিকে ছেড়ে দিল।
সৌহার্দ্যর থেকে ছাড়া পেয়ে রিদি তেড়ে গিয়ে কিছু বলতে যাবে, কিন্তু তখন সৌহার্দ্যের দৃষ্টি দেখে তার সব তেজ এক নিমেষে নিভে গেল, এক পা পিছিয়ে গেল ভয়ে। সৌহার্দ্যের ইচ্ছে করছিল এই অবাধ্য মেয়েটাকে কষে কয়েকটা চড় বসাতে, কিন্তু তার হাত কাঁপল। এই মেয়ের গায়ে একটা টোকা দিলেও তো তার নিজের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যায়!
সৌহার্দ্য নিজের রাগকে কোনোমতে দমিয়ে এবার তিরতিরে মেজাজে তাকাল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সায়েমের দিকে। সৌহার্দ্যর সেই হিমশীতল চাহনি দেখে বেচারা সায়েম ভয়ে দুই কদম পিছিয়ে গেল। সৌহার্দ্য কোনো কথা না বলে আচমকা সায়েমের সামনে গিয়ে ‘ঠাস ঠাস’ করে পরপর চার-পাঁচটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল। সৌহার্দ্যের সেই দাপুটে হাতের থাপ্পড় খেয়ে শক্তপোক্ত সায়েমও টলমল করে ঢলে পড়ল। ব্যথায় তার গাল তখন অবশ, হা করে দাঁড়িয়ে আছে সে, কিন্তু প্রশ্ন করার সাহসটুকুও নেই! কিসের অপরাধে তাকে এভাবে মারা হলো, সেটা বুঝতে না পেরে সায়েম রাগে-দুঃখে বিড়বিড় করে বলল, “উফ! কোন কুলক্ষণে যে এমন একটা খাটাশ প্রফেসর কপালে জুটল, আল্লাহই জানে! কী পাপ করেছিলাম আমি? তোর বউ যেন রিকশাওয়ালার সাথেও ভেগে যায়! আমার বদ দোয়ায় তোর জীবনে হারিকেন জ্বলবে খাটাশ!
সৌহার্দ্য এবার একটা চেয়ার টেনে হাত-পা ছড়িয়ে রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে পড়ল। রিদির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল “বোঁচা নাকের বেস্ট ফ্রেন্ড তিনজন বাদে বাকি সবাই আউট!”
সৌহার্দ্যের মুখে ‘বোঁচা নাক’ ডাকটা শুনে আরবান বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে নিল। নিজের বউকে এসব অদ্ভুত নামে ডাকা শুধু তার ভাইয়ের পক্ষেই সম্ভব! রিদির এত সুন্দর, তীরের মতো সোজা নাকটাকে কোনো দিক থেকেই বোঁচা বলা যায় না। ওর তো সব থেকে আকর্ষণীয় তার ওই মায়াবী চোখ দুটো আর এই নাক—সেই নাকটাকেই সে কিনা বোঁচা বানিয়ে দিল! তখনই আরবানের ভাবনার মাঝেই সৌহার্দ্যের বজ্রকণ্ঠ ফেটে পড়ল, “আই সেড, গেট আউট!”
সৌহার্দ্যর এমন বজ্র কন্ঠের হুম কারে ছাঁদে থাকা মেয়ে গুলো ভিষম ভয় পেয়ে, পিল পিলে পায়ে বেরিয়ে গেল, আরবান ও চলে গেল!
সবাই চলে যাওয়ার পর সৌহার্দ্য পৃথা, সায়েম আর সুমির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল। তারপর গম্ভীর ও গমগমে কণ্ঠে বলল, “কী নিয়ে পার্টি হচ্ছিল এখানে?”
সুমি ভয়ে ভয়ে সবে বলতে যাচ্ছিল, “আসলে… রিদির ডিভো—”
কথা শেষ হওয়ার আগেই রিদি তেড়ে গিয়ে সুমির মুখ চেপে ধরল। সৌহার্দ্যের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে রাগে কাঁপতে কাঁপতে রিদি বলল, “অসভ্য লোক, আপনাকে বলতে হবে কেন? এটা কি আপনার ক্লাস নাকি? বাড়ি পেয়ে গেছেন?”
রিদি খুব ভালো করেই জানে, এই মুহূর্তে সৌহার্দ্য যদি জানতে পারে যে তাকে ডিভোর্সের পার্টি দেওয়া হচ্ছে, তবে সে জ্যান্ত কবর দিয়ে ছাড়বে!
সৌহার্দ্য ভ্রু কুঁচকে সুমির দিকে তাকিয়ে রইল, কিছুক্ষণ তারপর কিছু একটা ভেবে মুহূর্তের মধ্যে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল সায়েমের দিকে। বরফের মতো শীতল গলায় বলল, “ইউ চার চোখ! ঘুরে সোজা হয়ে দেওয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকো। এক চুল পরিমাণ পিছনে তাকার চেষ্টা করলে, চোখ একটাও আস্ত থাকবে না।
আর তোমরা দুজন,” সুমি ও পৃথার দিকে নির্দেশ করে সে যোগ করল, “ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবে। একটু নড়াচড়া করবে না। ওকে?” বলতে ওরা ভয়ে দুপাশে মাথা নাড়ালো!
সৌহার্দ্য এবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে রিদির দিকে তাকাল। কণ্ঠে থমথমে কন্ঠে বলল , “ইউ বোঁচা নাক! শুরু করো।”
রিদি বিস্ময়ে পাথর হয়ে গেল। কী শুরু করবে? রাগে-বিরক্তিতে ফুঁসতে ফুঁসতে সে জবাব দিল, “কী শুরু করব? অসভ্য লোক! একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে পারেন না?”
সৌহার্দ্যের চোখে মুখে বিরক্তির এক তীব্র ছাপ। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “এতক্ষণ যে গানে নাচছিলে—’আয় সজনি’… ওটাতেই নাচ শুরু করো। আমি গান বন্ধ না করা পর্যন্ত নাচ চলবে, আন্ডারস্ট্যান্ড? আর এতক্ষণ যেভাবে হাসিমুখে নাচছিলে, ঠিক সেভাবেই করবে। এক ফোঁটা কম নয়।”
সৌহার্দ্যের কথা শুনে রিদির মাথা ঘুরছে। এই লোকটার কি মাথা ঠিক আছে? সে চেঁচিয়ে বলল, “অসভ্য, বেয়াদব লোক! কী পেয়েছেন আমাকে হ্যাঁ? সব আপনার ইশারায় হতে হবে? আমি নাচব না!”
সৌহার্দ্যের রক্তচক্ষু এবার জ্বলে উঠল। সে ধীর কিন্তু পাথুরে গলায় বলল, “যা বলছি দ্রুত করো। একটা বাড়তি কথা বললে এই ছাদ থেকেই টুপ করে ছুড়ে ফেলে দেব!”
বলেই সে সশব্দে গানটা চালিয়ে দিল।রিদির বুকের ভেতরটা ভয়ে কেঁপে উঠল। সৌহার্দ্যের সেই হিংস্র চাহনি দেখে আর প্রতিবাদ করার সাহস পেল না সে। বাধ্য হয়েই গানের তালে তালে এলোমেলোভাবে নাচতে শুরু করল। দীর্ঘক্ষণ নাচার পর শরীরের সমস্ত শক্তি যেন নিঃশেষ হয়ে এল। ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে সে ছাদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। রিদিকে এভাবে পড়ে যেতে দেখেই সৌহার্দ্য গান বন্ধ করল। সায়েম, পৃথা ও সুমির দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলল, “গেট আউট!”
সৌহার্দ্যের হুংকারে তিনজনেই ভয়ার্ত হয়ে ছাদ থেকে নেমে পড়ল। দীর্ঘক্ষণ একভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এমনিতেই তাদের পা অবশ হয়ে গিয়েছিল, তাই রিদির জন্য মায়া লাগলেও নিজেদের বাঁচানোই তখন মুখ্য ছিল। যাওয়ার আগে তারা একবার করুন চোখে রিদির দিকে তাকিয়ে গেল।
সবাই চলে যেতেই সৌহার্দ্য রিদির দিকে এগিয়ে এল। নিবিড়ভাবে ঝুঁকে পড়ে, নরম হাতে রিদির গালটা শক্ত করে চেপে ধরল। তার চোখের সেই অগ্নি দৃষ্টি রিদিকে বিদ্ধ করছিল। সৌহার্দ্য হিসহিসিয়ে বলল, “আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার এত তাড়া কেন তোর? ওই বাস্টার্ড তাজওয়ান শিকদারকে বিয়ে করার জন্য? বিয়ের এতই শখ? একজন কে দিয়ে হচ্ছে না? ওকে দেন তোকে আর কষ্ট করতে হবে না, আমিই ডিভোর্সের ব্যবস্থা করে দেব—অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল!”
কথাগুলো বলে রিদিকে মেঝেতে ওভাবেই অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে, সৌহার্দ্য মুহূর্তের জন্য আর দাঁড়াল না। তীব্র ঝড়ের মতো সে ছাদ থেকে বেরিয়ে গেল।
সৌহার্দ্য চলে যাওয়ার পরও রিদি স্তব্ধ হয়ে সেখানেই বসে রইল। তার চোখ তখনও স্থির হয়ে আছে সেই অন্ধকার সিঁড়ির দিকে, যেখান দিয়ে একটু আগে সে অদৃশ্য হয়ে গেল। লোকটা ঠিক কী বলতে চাইল? তাজওয়ান শিকদার? কে সে? রিদি তাকে বিয়ে করবে কেন? এক ‘আপদ’ সৌহার্দ্যকে বিয়ে করে তার জীবন এমনিতেই শেষ হওয়ার পথে, সেখানে নতুন করে কোনো আপদকে নিয়ে ভাবার কথা সে স্বপ্নেও চিন্তা করবে না! রিদির মাথায় যখন হাজারো প্রশ্ন আর ধোঁয়াশা।
ঠিক তখনি, সুমি, সায়েম আর পৃথা ছাদের দরজায় উঁকি দিল। রিদিকে মেঝেতে ওভাবে বিধ্বস্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে তারা দৌড়ে গিয়ে ঘিরে ধরে বসে পড়ল রিদি পাশে, সুমি রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে সন্দেহ আর উৎকণ্ঠার মিশেলে জিজ্ঞেস করল, “রিদি, এবার খুলে বল তো ঘটনাটা কী? স্যার তোকে ওভাবে জড়িয়ে ধরে… সুমি বলতে গিয়েও সায়েমের দিকে একবার আড়চোখে তাকাল, বন্ধু হলেও সে তো ছেলে মানুষ! তাই কথা ঘুরিয়ে বলল, “মানে, হুট করে ওমনটা করার কারণ কি?”
পৃথা আর সায়েমও কৌতূহলী দৃষ্টিতে রিদির উত্তরের অপেক্ষায় চেয়ে আছে ওর দিকে।
রিদি বন্ধুদের দিকে এক পলক তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলল। এরপর সৌহার্দ্যের— সাথে তার বিয়ে ডিভোর্স পার্টির প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু খুলে বলল। রিদির মুখে সব শোনার পর তিনজনের মুখ হা হয়ে গেল। স্তব্ধতা ভেঙে সায়েম রাগে-দুঃখে নাক-মুখ কুঁচকে বলে উঠল, “তুই আগে বলিসনি কেন যে এই খাটাশটা তোর বজ্জাত স্বামী? জানলে তোদের সাথে এখানে আসা দূরের কথা, তোর সাথে অনেক আগেই বন্ধুত্বই বিচ্ছিন্ন করে দিতাম! আর দেখেছিস আমার অবস্থা করছে? কী জোরে থাপ্পড় মেরেছে, আমার সুন্দর মুখটা একদম লাল হয়ে ফুলে গেছে! আবার দেখো নাটক করে ওষুধ কিনে দিয়েছে!” সায়েম পকেট থেকে ওষুধটা বের করে ওদের দেখাল।
রিদি অসহায় চোখে সায়েমের দিকে তাকিয়ে রইল। কী বলবে সে? এই অসভ্য, মাথাগরম বেয়াদব লোকটা সারাদিন এত তেজ নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন! রিদির বুকটা হুহু করে উঠল!
পার্টি অফিসের গেট দিয়ে সৌহার্দ্যের গাড়িটা ঢুকতেই ফারিসের পার্সোনাল সেক্রেটারি রায়ান দ্রুত ফারিস কে ফোন দিল। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রায়ানের ভীতু, কাঁপাকাঁপা কণ্ঠ ভেসে এল, “স্যার, আপনার ‘ইন্নালিল্লাহ’ পড়ার সময় হয়ে এসেছে। সময় থাকতে কালেমা পড়ে তৈরি হয়ে নিন, নাহয় দ্রুত পালান!”
ফারিসের পাশে তখন সুজন বসে ছিল। বিপদ আঁচ করতে পেরে ফারিস আগে থেকেই রায়ানকে অফিসের বাইরে নজর রাখতে বলেছিল। রায়ানের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সুজন ভ্রু কুঁচকে তাকাল, “কার ফোন? কী হয়ছে?”
ফারিস একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “আমি একটু বাথরুম থেকে আসি, তুই বস। আমার খুব জরুরি ভাবে দুই নাম্বার এসেছে ভাই!” সুজনকে আর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই সে পাশের রুমে ঢুকে দরজাটা ধড়াস করে আটকে দিল।
ওদিকে ফারিসের কথা সত্যি ভেবে সুজন যখন নিজের ফোনে মন দেওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই সৌহার্দ্য যেন বাঘের মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সুজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সৌহার্দ্যের একের পর এক ঘুষিতে তার পৃথিবীটা দুলতে লাগল। সৌহার্দ্য রাগে-ক্ষোভে গর্জে উঠল, “কেন করলি এমনটা?
সুজন ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে, কাঁপতে কাঁপতে বলল, “বিশ্বাস কর দোস্ত, আমার কোনো দোষ নেই! ওই হারামজাদাই আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমাকে মিথ্যে বলে ডেকে এনেছে, ফোনটা কেড়ে নিয়েছে, আর আমাকে এখানে বসিয়ে রেখেছে!”
ওদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মাঝেই পাশের রুম থেকে ফারিস চিৎকার করে উঠল, “তোর এত প্যানিক হওয়ার তো কিছু নেই! এমনিতেও তো ওকে ভালোবাসিস না, তার ওপর দুই দিন পর তো ডিভোর্সই হয়ে যাচ্ছে—” তারপর আমি….
ফারিসের কথা শেষ করতে পারলো না, তার আগে সৌহার্দ্য বিদ্যুৎগতিতে ছুটে গেল দরজার কাছে গিয়ে সজোরে লাথি মেরে সে গর্জে উঠল, “বের হ তুই ইডিয়েট! আবার ওই শব্দ উচ্চারণ করলে তোকে আমি খুন করে ফেলব!”
সৌহার্দ্যের সেই হিংস্র রূপ দেখে ফারিস আর কথা বাড়াল না। এমনিতেই আজ যা পাওনা হয়েছে, তা আজকে দিনের জন্য যথেষ্ট। বিপদটা আপাতত কাটুক, বাকি হিসেব পরে নেওয়া যাবে—এই ভেবে সে চুপ হয়ে গেল!
সৌহার্দ্য যেন আগুনের গোলার মতো সুজনের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকাল। তারপর ধপ করে একটা চেয়ার টেনে হাত-পা ছড়িয়ে বসে পড়ল। সুজন তখন কাঁচুমাচু হয়ে চেয়ারের এক কোণায় সেঁধিয়ে আছে। মনে মনে সেই ‘জাউরা’ ফারিসকে অভিশাপ দিচ্ছে সে—সুযোগ বুঝে নিজেই বাঘের মুখে তাকে ঠেলে দিয়ে নিজে কেমন চম্পট দিয়েছে!
সুজনের ভাবনার চিন্তার মাঝেই সৌহার্দ্য তীক্ষ্ণ স্বরে বলল, “আমি আধা ঘণ্টা ঘুমাব। তুই আমার সামনে বসে থাকবি, চোখের পলক না ফেলে একদম আমার দিকে তাকিয়ে থাকবি। যদি একটা পলকও পড়তে দেখি, তবে তোর কী অবস্থা করব—সেটা তোকে নিশ্চয়ই নতুন করে বোঝাতে হবে না?”
বলেই সৌহার্দ্য চোখ বন্ধ করে ফেলল। সুজনে পড়লো মহাবিপদে! চোখের পলক না ফেলে টানা আধা ঘণ্টা থাকা? তাও যদি প্রিয়তমা কেউ হতো, তবে একটা কথা ছিল! সুজন মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগল, ‘কোন কুলক্ষণে যে এমন একটা সাইকোর সাথে আমার মতো ভোলা-ভালা নাদান ছেলের বন্ধুত্ব হলো! এই সাইকোটা কম ছিল যে, আবার ওই ফারিস নামের জাউরাটার সাথেও বন্ধুত্ব করলাম? সব সময় আমাকেই বলি করে নিজে পার পেয়ে যায়!’
মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতেই সুজনের চোখ জ্বলতে শুরু করল। চোখের পাতা যেন লোহা হয়ে ঝুলে পড়ছে। আর পেরে না উঠে, একরাশ আকুতি নিয়ে সে ফিসফিস করে বলল, “সৌহার্দ্য, জানের দোস্ত আমার! প্লিজ, এইবারের মতো মাফ করে দে। আমার জীবন থাকতে ওই জাউরাকে আর কোনোদিন বিশ্বাস করব না, কথা দিচ্ছি।”
সৌহার্দ্য ধীরে ধীরে চোখ মেলল। সুজন বুঝল রাগটা হয়তো কিছুটা কমেছে। তাই একটু সাহস সঞ্চয় করে ভয়ার্ত কণ্ঠে আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা দোস্ত… ভালোবাসিস ওকে, তাই না?”
সৌহার্দ্য কিছুক্ষণ সুজনের চোখের দিকে স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর খুব শান্ত, অথচ বরফের মতো শীতল কণ্ঠে বলল, “নো।” বলেই আবার চোখ বন্ধ করে নিল।
সুজন তার কথা শুনে হতাশায় নাক-মুখ কুঁচকে নিল। মনে মনে বিড়বিড় করে উঠল, ‘এর চেয়ে মির্জাফরও ভালো ছিল!’
সুজনের মনের অস্থিরতা যখন চরমে, তখনই সৌহার্দ্য হুট করে চোখ খুলে তীব্র আক্রোশে গর্জে উঠে বলল, “তোদের আজকের এই বোকামির জন্য ওটার কোনো ক্ষতি হয়, তবে তার ফল যে কতটা ভয়াবহ হবে, তা তোরা কল্পনাও করতে পারবি না, জেনেশুনে এমনটা কেন করলি তোরা?”
সুজন অসহায় দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। সে তো চাইছিল সবটা আগেই খুলে বলতে, কিন্তু ফারিসের চাতুরির কাছে সে অসহায় ছিল। ঠিক তখনই পাশের রুম থেকে ফারিস বেরিয়ে এল। ফারিসকে দেখামাত্র সৌহার্দ্যের দৃষ্টিতে যে আগুনের হলকা দেখা দিল, তা যে কাউকেই ভস্ম করে দিতে পারে। পরিস্থিতি হালকা করতে ফারিস গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “আমি তোর বউ না ভাই, ওভাবে তাকিয়ে ইজ্জত খেয়ে দিস না, আমার লজ্জা লাগছে!”
ফারিসের এই মশকরা সৌহার্দ্যের বিরক্তিকে চরমে নিয়ে গেল নাক মুখ কুঁচকে নিলো সে। ফারিস এবার গম্ভীর হয়ে সোজা চোখে সৌহার্দ্যের দিকে তাকাল, “তোর কি মনে হয়—এসব অমানুষিক আচরণ করলে সে সেফ থাকবে? আর একটা জিনিস আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না, এত এভিডেন্স হাতের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও তুই একটা ক্রিমিনালকে বাঁচাতে ওই বাচ্চা মেয়েটার আর নিজের জীবন নিয়ে কেন জুয়া খেলছিস? কেন করছিস এমনটা?”
সৌহার্দ্যর মুখে কোনো রা নেই। সে যেন পাথর হয়ে গেছে। ফারিস ক্ষুব্ধ স্বরে বলে চলল, “তুই বুঝছিস না সৌহার্দ্য, ও কোনো সাধারণ ক্রিমিনাল নয় যে তুই চাইলেই তাকে বাঁচাতে পারবি! আজ না হোক কাল তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। তুই তো তোর মতো করে চেষ্টা করবিই, কিন্তু প্রশাসন যেভাবে ওর পিছু নিয়েছে, তাতে আদো কোন লাভ হবে?
সৌহার্দ্য ধীরে ধীরে মাথা তুলে ফারিসের চোখের দিকে তাকাল। তার কণ্ঠে তখন কোনো রাগ নেই, আছে এক গভীর বিশ্বাস তা নিয়ে বলল, “আমি চাই ও একটা সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। এগুলো ওকে দিয়ে করানো হচ্ছে, নিজের ইচ্ছায় ও এমনটা করতে পারে—এটা আমি কোনোভাবেই বিশ্বাস করি না!” তোদের ও তা জানার কথা!
ফারিস দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপ হয়ে গেল। সে বুঝেছে, এই অন্ধ আবেগের দেয়ালে মাথা ঠুকে লাভ নেই। বন্ধুত্বের মোহ সৌহার্দ্যকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ফারিস গলা ঝেড়ে শীতল গলায় বলল, “মেয়েটার মন থেকে যে তুই ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছিস, সেটা কি একবারও ভেবে দেখেছিস?”
সৌহার্দ্য ধীরস্থিরভাবে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার চেহারায় এক পাথুরে গাম্ভীর্য। যাওয়ার পথে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সে শীতল কণ্ঠে বলে গেল, “হোয়েদার আই রিমেইনড ইন হার মাইন্ড অর নট, ইট ডাজ়ন্ট ম্যাটার টু মি।” বলেই কোনো দিকে না তাকিয়েই সে বেরিয়ে গেল।
সৌহার্দ্যের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফারিস তিক্ত হাসি হেসে বিড়বিড় করল, “সারহান চৌধুরী একটা অদ্ভুত চিজ ফুটিয়েছে মাইরে—বুক ফেটে চৌচির হয়ে যাবে, তবুও মুখ ফুটে একটা শব্দ বের হবে না!”
সৌহার্দ্য চলে যাওয়ার পর সুজন ফারিসের দিকে কটমট করে তাকাতেই ফারিস একটু থতমত খেয়ে গেল। গলা খাঁকারি দিয়ে বাঁকা হাসি হেসে বলল, “ওভাবে গে-র মতো তাকিয়ে আছিস কেন? সৌহার্দ্যের মতো তোরও কি ইয়েতে সমস্যা আছে নাকি? চেক করব নাকি?”
সুজন বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে নিল। এই ছেলেটার কথার কোনো লাগাম নেই! মনে মনে কড়া একটা গালি দিয়ে সে সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে গেল।
চার বছর—সময়ের হিসেবে দীর্ঘ, কিন্তু অনুভূতির হিসেবে যেন এক অনন্তকাল। চৌধুরী বাড়ির ভারী গেটটার সামনে দাঁড়িয়ে ফারিসের বুকের ভেতরটা চিনচিন করে উঠল। একসময় এই বাড়িটা ছাড়া তার পৃথিবী অচল ছিল। সে, সৌহার্দ্য আর বাকি বন্ধুরা—পাঁচটা প্রাণ যেন একই সুতোয় গাঁথা ছিল। যেগুলো আজ কেবল অতীত! বাবার আর ফুফুর অহমিকার দেয়াল সেই দিনগুলোকে আজ কেবল স্মৃতির ধুলোমাখা মলাটে বন্দি করে রেখেছে।
দরজার কলিং বেল টিপতেই দরজা খুলল রিভা। ফারিসকে দেখে রিভার চোখেমুখে বিস্ময় আর বিরক্তির এক অদ্ভুত মিশেল। ফারিস পুরনো অভ্যাসে রিভার মাথায় আলতো একটা টোকা দিয়ে দুষ্টু হেসে বলল, “কি রে ফোকলা দাঁত, এখনো কি তোর? আমাদের বাড়ি যাস না কেন?”
রিভা নাক কুঁচকে, ঝাঝালো গলায় জবাব দিয়ে বলল, “যাব না! আপনাদের ওখানে গেলে সারাদিন আমার পেছনে লেগে থাকেন। একদম নির্লজ্জ এমপি আপনি! এখানে কেন এসেছেন?”
ফারিসের চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে সে ফিসফিসিয়ে বলল, “তোর সাথে হানিমুন করতে এসেছি, করবি?”
রিভার গাল লজ্জায় আর রাগে লাল হয়ে উঠল। সে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল, “ছিঃ! একদম বেহায়া লোক। একটা বাচ্চা মেয়েকে এসব বলতে লজ্জা করে না?”
ফারিস এবার রিভার দিকে একটু ঝুঁকে এল। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “একটু না বরং বাচ্চা মেয়েটাকে বাচ্চার মা বানাতে ইচ্ছে করছে? হবি?”
রিভা চেঁচিয়ে বলল, “ছিঃ! আপনি আসলেই নির্লজ্জ ফারিস ভাই! এই কারণেই আমি আপনাদের বাড়ি যাই না।”
ফারিস রিভার চুল টেনে দিয়ে হাসল, “তোর ভাইটার মতো একদম আন-রোমান্টিক হয়ে গেছিস। তোকে মানুষ করতে করতে আমার জীবন-যৌবন সব শেষ হয়ে যাবে!”
রিভা কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই শাহেদা চৌধুরী ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভাইপোকে জড়িয়ে ধরলেন। ওনার চোখে জল, গলায় কান্নার রেশ—”এত নিষ্ঠুর কেন তোরা? একটা বারও কি আমার কথা মনে পড়ে না? কি করছে আমার ওই বাচ্চা মেয়েটা, কিসের এত রাগ ওর ওপর তোর বাপ-চাচাদের?”
ফারিস স্তব্ধ হয়ে রইল। ফুফুর পিঠে আলতো হাত বুলিয়ে শান্ত গলায় বলল, “আমি সব ঠিক করে দেব, আমার ওপর বিশ্বাস রাখ ফুফি, প্লিজ কেঁদো না।”
শাহেদা চৌধুরী চোখের পানি মুছে ফারিসকে নিয়ে ভেতরে ঢুকে নিজেই রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন ছেলেটা এত বছর পর এলো। ওনার চলে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে ফারিস রিভার দিকে তাকাল। তার কণ্ঠে এবার গাম্ভীর্য—”এই ঘ্যাঁড়তেড়া ভাইয়ের ঘাঁড়তেড়া বোন, চল আমার সাথে, তোর শাশুড়ি তোকে নিতে বলছে।”
রিভা যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল, “ফারিস ভাই একদম বাজে কথা বলবেন না , আমি জিবনে ও আপনাকে বিয়ে করবো না, আমি আপনাকে ভাইয়ের মত দেখি, এমন দামড়া একটা ছেলের হয়ে বাচ্চা মেয়ের সাথে এগুলো করেন, লজ্জা নেই আপনার?”
ফারিসের মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেল। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “কে বলছে তোকে আমাকে ভাইয়ের মত দেখতে? আজ থেকে জামায়ের মত দেখবি না হলে থাপড়ে গাল লাল করে দেব বেয়াদব! তোর ভাই….”
ফারিসের কথা শেষ হওয়ার আগেই সৌহার্দ্যের গমগমে কণ্ঠস্বর ভেসে এল, “ওর সাথে আর একটা বাজে ব্যবহার করলে, থাপ্পড়টা তোর গালে পড়বে।”
অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ১৯
সৌহার্দ্যের উপস্থিতি আর তার কথার ঝাঁজ টের পেয়ে ফারিস মুখটা বিকৃত করে বিরবির করে নিজে মনে মনে বলল,
“নিজের বোনের বেলায় সাধু সেজে বসে থাকে, আর অন্যের বোনের বেলায় অসাধু হয়ে যায়! শালা তোর চরিত্রটা দেখি ওয়াই-ফাই সিগন্যালের মতো—জায়গা বদলালেই বদলে যায়!”
