আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ৪৭
নাবিলা ইষ্ক
ম্যানশনের দিকে ধেয়ে আসা পুলিশ গাড়িগুলো থেকে সাইরেন বাজছে সমানে। একমুহূর্তে জায়গাটিতে পুলিশের আয়ত্তে চলে এসেছে। কড়াকড়ি গার্ড পড়েছে। পাশাপাশি মিডিয়ার দুটো গাড়িও এসেছে। তাদের বেরুতো দেয়া হলো না এখুনি। প্রয়োজনে বের করা হবে। সোজা লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে। পাশাপাশি এসেছে অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ি। সামনের গাড়িটা থামতেই ঝড়ের গতিতে যে বেরুল তার বয়সটা ঠিকঠাক ঠাওর করা দুষ্কর। গাঢ় ধূসর পুলিশ ইউনিফর্মে সজ্জিত পুরুষটি এই দেশের ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, কায়সার আহমেদ। ক্রোধে চোখমুখের অবস্থা অবর্ণণীয়। কেমন ফ্যাকাসে হয়ে আছে ভাগ্নের চিন্তায়। এখানে সময় অপচয় করল না। ম্যানশনের ভেতরে যাওয়ার জন্য ছুটতে ছুটতে হুংকার ছাড়ল –
‘ম্যানশন ঘেরাও করো, রাইট নাউ। কেউ যেন পালাতে না পারে।’
ততক্ষণে করিডোর দিয়ে ছুটছে কায়সার। তার পেছনে সাতজন পুলিশ। তাদের হাতে পি স্তল। সতর্ক চোখে চেয়ে তাঁক করে রেখেছে সামনের দিকেই। দুয়ারের কাছে এসে কায়সার নিজের পিস্ত লও হাতে তুলে নিলো। ডাকল সতর্ক গলায় –
‘সিয়াম, সিয়াম মাই বয়? সিয়াম!!’
বিপরীতে ব্যথায় আর্তনাদ সুরে গোঙানোর মৃদু শব্দ ভেসে এলো। কায়সার দৌড়ে প্রবেশ করল ভেতরে। শ্বাস গলায় থমকাল একমুহূর্তের জন্য মাত্র! পুরো ম্যানশন ফাঁকা। গ্রাউন্ডফ্লোরের এককোণেতে সিয়াম র ক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। চোখমুখ চেনার কোনো উপায় নেই। র ক্তে ভেসে গিয়েছে ফ্লোর। কায়সারের ছুটে এসে হাঁটু গেড়ে বসল। ধরল সিয়ামের শরীর। কাঁপল হাত তার কণ্ঠ –
‘কে? কেএএএ করেছে!! আমার ছেলে, আমার সিয়াম!’
সিয়ামের কণ্ঠ বসে গেছে। নাকমুখ দিয়ে র ক্ত বেরুচ্ছে। কপাল ফেটেছে। নামটুকু কোনোমতে আওড়াতেই মুখ দিয়ে গলগল করে র ক্ত বেরুল –
‘আ- আদিল মির্জা। মা মা.. দ্যাট বাস্টার্ড…’
সঙ্গে সঙ্গে বুজে এলো সিয়ামের চোখজোড়া। তবে তখনো দুর্বল ভাবে শ্বাস নিচ্ছে। আঘাত গুলো গুরুতর দেখালেও প্রাণসংশয় নেই। কায়সার উঠে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ অপরাধীদের ম্যানশন জুড়ে খুঁজে যাচ্ছে। কায়সার ক্রোধে চিৎকার করে ওঠে –
‘পারলে সামনে থাকতি! পালালি কেনো? কু ত্তার মতন পালিয়েছিস কেনো? তুই নাকি সিংহ? তোর বুকে নাকি অনেক দম! আদিল!! আদিল মির্জা, ইউ ফাকার! তোরে আজ আমি ওই পাওয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ছাড়তাম। সিংহ বনে বেড়াস না? কই তোর চোটপাট? আমাকে নাকি চোখে লাগাস না! তাহলে পালালি কেনো? পারলে সামনে আয়!! দেখি তোর কতো সাহস! কতো বড়ো বীরপুরুষ তুই! কতো পাওয়ার আছে! আয় সামনে!’
কায়সার আহমেদের কথাগুলো পুরো ম্যানশন জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। কানে এসে লেগেছে গোপন পথের করিডোর দিয়ে হাঁটা রোযারও। পা-জোড়া থমকে থমকে আসতে চাইছে। বুকের ধড়ফড়ানি বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। পুলিশ যে তাদের খুঁজছে তার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বেশ। গা ছমছম করে উঠছে। আদিলের হাতটা আরও শক্ত করে ধরল বিপরীতে। জোড়ালো ভাবে টানল, কদমের গতি আরও বাড়াল। অথচ আর যেতে পারল না। টান পড়ল, থামতে বাধ্য হলো। আদিলের শক্তপোক্ত মুখের অভিব্যক্তি অস্বাভাবিক। যখন কথা বলল রোযা বিচলিত হলো –
‘প্লিজ…যাবেন না। শুনুন…’
সতর্ক চোখে এবার ফিরে তাকাতেই আদিলের সম্মোহিত দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলে ঘূর্ণিঝড় বইল বুঝি! মনে হলো, এই লোক কিচ্ছু শোনেনি। কিচ্ছু না! রোযার গলায় শ্বাস আঁটকে এল। ঘটল বিপত্তি, মুহূর্তেই শাড়িতে পা বাজেভাবে প্যাঁচাল। মুখ থুবড়ে পড়তে হয়নি। তার হাতে থাকা আদিলের শক্তপোক্ত হাতটা দ্রুত গতিতে সামলে নিয়েছে তাকে। রোযা হিসহিস করে উঠল পায়ের ব্যথায়। ডান পা মচকে গিয়েছে। হাঁটতে পারছে না আর। তাই পেছনে দাঁড়িয়ে পড়েছে একদল। দিকপাল চ্যাটার্জি অন্যদিকে চেয়ে আছেন। ভুলেও চাইছেন না এদিকে। শান্ত, এলেন, ক্লান্ত, ধ্রুব ওদের চোখমুখের অবস্থা বেশ ভয়ংকর। তখুনি একহাতের দূরত্বটুকু ঘোচাল আদিল। হাতটা সরিয়ে আনতেই রোযা সতর্ক হয়। আওড়ে বসে –
‘যাবেন না…’
আদিল প্রত্যুত্তরে দুপায়ের পাতার ওপরে ভর দিয়ে বসে পড়েছে রোযার পায়ের কাছে। শাড়িটা অল্প তুলে দেখল মুচড়ে যাওয়া পা-টা। লাল হয়ে গিয়েছে একমুহূর্তে। ফুলে ফেঁপে উঠেছে গোড়ালির জায়গাটুকু। উঁচু হিলের জুতোজোড়া খুলে, তা একহাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। রোযাকে ডানহাতে তোলার আগে আস্তে করে শুধু বলে নিলো –
‘গলা ধরো।’
রোযা বুঝতে পারেনি প্রথমে। যখন নিজেকে শূন্যে অনুভব করল, বাঁচার তাগিদে ডুবতে বসা নাবিকের মতন দ্রুত দুহাতে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আদিলের গলা। নিজেকে আবিষ্কার করে শক্তপোক্ত বুকের ভাঁজে ভাঁজে। লজ্জায় আর দৃষ্টি তুলে তাকাতে পারল না রোযা। কদম সামনে বাড়াতে বাড়াতে আদিল ডাকল এযাত্রায় –
‘শান্ত!’
এই ডাকের অপেক্ষাতেই যেন তৃষ্ণার্ত ছিল ছেলেটা। আগুন ঝরে পড়া দৃষ্টি নোয়ানো, শান্ত দ্রুত এগিয়ে এল কয়েক কদমে। পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে এলেনও। ফিরে তাকাল না আদিল। তার থমথমে কণ্ঠের আদেশ পড়তেই দিকপাল চ্যাটার্জি বড়ো করে শ্বাস টেনে নিলেন। হৃৎপিণ্ড থমকেছে। অন্যদিকে রোযার শরীর শক্ত হয়ে এল –
‘মেইন গেইট বন্ধ করে দিতে বল। ওকে আমি জিন্দা পোড়াব।’
গোপন পথের ছোটো গেইট মেলে ধরা হয়েছে বাহির থেকে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গাড়ি অপেক্ষারত তাদের জন্য। কালো গাড়ির ব্যাকসিটের ডোর ক্লান্ত মেলে ধরতেই আদিল নুইয়ে রোযাকে বসিয়ে দিলো সিটে। পাজোড়াও সিটে তুলতে নিয়ে জিজ্ঞেস করল –
‘বেশি ব্যথা করছে?’
রোযা হতভম্বের ন্যায় মাথা নাড়িয়ে বোঝাল, বেশি না। আদিল দৃষ্টি পা থেকে সরিয়ে ফেলল রোযার মুখে। গাড়ির মৃদু আলোয় কাছ থেকে দেখল ফ্যাকাসে সুন্দর মুখটা। আদিলনরম গলায় আওড়াল –
‘বসো, বের হবো কিছুক্ষণের মধ্যে।’
আদিল সরে আসতে চাইলে অনুভব করল তার হাতের ওপরে একটা নরম হাতের উপস্থিতি। রোযার চোখমুখে ভয়। কণ্ঠ কাঁপে –
‘ছেড়ে দিন না…আপনি… কেনো করছেন!’
আদিল দেখল ভাসা চোখদুটো, ঘর্মাক্ত মুখ.. গোলাপি ঠোঁট। পুরো মুখে নজর বুলিয়ে অবশেষে চোখে চোখ রাখল। র ক্ত লাল চোখে চেয়ে রোযার শ্বাস থমকাল। পলক ফেলতেও ভুলে গেল। আওড়াল আদিল –
‘যাকে আমি কোথায় রাখব বুঝে পাই না। মাথায় নাকি বুকে, তাকে নিয়ে এমন বাজে কথা বলা মানুষ কীভাবে বাঁচিয়ে রাখি? ও এখনো পৃথিবীর বুকে শ্বাস ফেলছে আমি মানতে পারছি না। রাগে গা কাঁপছে। মাথা কাজ করছে না। আমার র ক্ত টগবগ করছে, রোজ-আ। আমি সিংহ হলে ওকে এতক্ষণে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলতাম। মানুষ তো! শুধু পুড়িয়ে ফেলব জিন্দা।’
রোযা চোখ বুজল শক্ত করে। অনুভব করল আদিল সরে গিয়েছে। অথচ রোযা তাকানোর সাহস পেল না। দুহাতে চোখমুখ ঢেকে মাথা নুইয়ে রাখল। নাকে ভেসে এল পেট্রোলের তীব্র গন্ধ। ভেসে বেড়াল গর্জন। তখুনি ড্রাইভিং সিটে উঠে বসল ক্লান্ত। রোযা তাকাল ভেজা চোখে। ক্লান্ত গাড়িটা ড্রাইভ করে একটানে বের করে নিয়ে এসেছে। থামিয়েছে ম্যানশন থেকে অনেকটা দূরে। অথচ রোযা স্পষ্ট দেখতে পেলো আদিল মির্জাকে। ঠোঁটের ভাঁজে পিষ্ঠ করে ধরা সিগারেট ধরিয়ে জ্বলন্ত লাইটার ছুঁড়ে মারল পেট্রোলের ওপরে। দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। বাতাসের গতির চেয়েও দ্রুতো আগুন ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিক জুড়ে। রোযা হতভম্ব চোখে দেখল সেই দৃশ্য! ঠান্ডা হয়ে এল তার হাত-পা।
দিকপাল চ্যাটার্জি চোখ বুজলেন হতাশায়। কপাল ধরে বললেন –
‘কী দরকার ছিলো এসবের? পোলাডারে গোপনে আউট করে দিতে পারতা না? এইভাবে কায়সারের সাথে লাগাটা ভালো হয়নাই। শ ত্রু বাড়ালা।’
আদিল সে কথার জবাব দিলো না। ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে পুড়তে থাকা ম্যানশন দেখে গেল। মেইন গেইট খোলার জন্য তখন যুদ্ধ করা হচ্ছে! চিৎকারের শব্দে আশপাশ জুড়ে ছমছমে পরিস্থিতি। অন্যদিকে জবাবের আশায় নেইও দিকপাল চ্যাটার্জি। তিনি ভিন্ন এক গাড়ির ব্যাকসিটে উঠে বসেছেন। কাঁচ নামিয়ে তাকালেন আদিলের দিকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন –
‘হঠাৎ করে সিয়ামের কথাগুলো হলরুমের সাউন্ড সিস্টেমে কীভাবে শোনা গেল? কারও হাত আছে এইখানে। আমার সন্দেহ হচ্ছে একজনরে।’
আদিল ফিরে তাকাল না। অনুভূতি শূন্য গলায় বলল, ‘যেই দেক, তা আমার কাছে ইম্পর্ট্যান্ট না!’
দিকপাল চ্যাটার্জি বলে গেলেন –
‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছোটো ভাই। আমার ধারণা যদি সত্য হয়, তবে জানার বড়ো আগ্রহ আছে যে তার এটা করে কী হাসিল হলো! এইখানে আমি গুরুতর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাইতেসি আদিল। ম্যাডাম আছে সঙ্গে। ফেরার তাড়া কইরো না এই রাতবিরেত। আশেপাশে কোথাও উইঠো। পরে দেখা হইব।’
দিকপাল চ্যাটার্জি হাত নাড়িয়ে ইশারা করতেই ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট করলেন। গাড়িটা চোখের পলকে বেরিয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এসেছে শান্ত, এলেন। ধ্রুব নেই, সে সামনের দিকে। মেইন গেইট আঁটকে রাখার দায়িত্বে আছে। আদিলের পেছনে দাঁড়িয়েছে শান্ত, এলেন। তাদের পেছনে ম্যানশন পুড়ছে দাউদাউ করে। চিৎকারের আওয়াজ আরও জোড়ালো হয়েছে। অনেকেই তো আটকেছে এখানে। আগুন দৌড়ে এসে ছুঁয়েছে এদিকেও। তাপ অনুভব করা যাচ্ছে। সিগারেটে শেষ টান দিয়ে সেটা জমিনে ফেলে পায়ে পিষল আদিল। কদম বাড়াল অবশেষে। পিছু নিলো শান্ত, এলেনও! বেরিয়ে এই গেইটও আটকে দিলো।
অন্ধকার রাস্তায় গাড়ি চলছে সাধারণ গতিতে। পিনপতন নীরবতা বইছে। রোযা চেয়ে আছে তার পাশের বন্ধ জানালার কাচে। বাইরের দৃশ্য দেখার বদলে কালো কাচে ভাসছে একটা চোখা মুখ। তীক্ষ্ণ ধূসর চোখ। আদিল মির্জা অপলক তাকিয়ে আছে তার দিকেই। রোযা দেখতে পারছে। অনেকক্ষণ যাবতই চেয়ে আছে। কেনো চেয়ে আছে এভাবে? কী দেখছে এতো? তা জিজ্ঞেস করার সাহস রোযার নেই। যত দ্রুত সম্ভব বাড়িতে ফিরতে চায় সে। একটু একা থাকতে চায়। তার মস্তিষ্ক কাজ করছে না! এতো এতো মানসিক চাপ পড়ছে! অথচ হঠাৎ করে লক্ষ্য করল গাড়িটা ফেরার পথে যাচ্ছে না। উল্টো এক অপরিচিত রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে! রোযা ফিরে তাকাল। হতবাক হয়ে প্রশ্ন করল –
‘গাড়ি কোথায় যাচ্ছে?’
আদিলের কণ্ঠ খসখসে শোনাল, ‘ফার্মহাউজ।’
রোযার মুখে অমাবস্যা নামল যেন, ‘কী! কেনো? বাড়ির দিকে গাড়ি নিতে বলুন। হৃদি অপেক্ষা করছে আমার।’
‘ঘুমিয়ে পড়েছে।’
রোযার কণ্ঠ হিমালয় ছুঁলো প্রায়, ‘তো? উঠে খুঁজবে। আমি বাড়িতে ফিরব। গাড়ি ঘোরাতে বলুন।’
আদিলের কণ্ঠ ভীষণ স্বাভাবিক তখনো। অভিব্যক্তির কোনো পরিবর্তন এল না –
‘আপনার সাথে আলাপ আছে। বাড়ি ফিরলে ডিস্টার্বড হবো।’
রোযার হৃৎপিণ্ড থমকে এল বুঝি! হাপিত্যেশ করে ওঠে, ‘গাড়িতে বলুন। যদি ওদের সামনে বলতে না চান দু মিনিটের জন্য না-হয় বেরুবে।’
আদিল নির্বিকার, ‘গাড়ির স্পেস ভীষণ ছোটো আমার আলাপের জন্য।’
রোযার মুখ থেকে সব র ক্ত বোধহয় সরে গিয়েছে। কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে তা বোঝার মতন বয়স তার বহু আগে পেরিয়েছে। আতঙ্কে ধড়ফড়িয়ে উঠল সে –
‘গাড়ি ঘোরাতে বলুন! এক্ষুণি!’
আদিল চেপে ধরল রোযার ছটফটিয়ে উঠতে চাওয়া পা’দুটো। আওড়াল, ‘শসসস, শান্ত হোন। পায়ে ব্যথা পাবেন।’
রোযার গলার ভেতরটা শুকিয়ে এল। তার কোনো কথাই শোনা হলো না। গাড়ি চলছে আপন গতিতে। হঠাৎ শান্তর কণ্ঠে নিস্তব্ধতা ভাঙল –
‘বস, আমাদের ফলো করা হচ্ছে।’
বলেই গলাটা ঝাড়ল, ‘সম্ভবত ঋণা সওদাগর। গাড়ির নাম্বার প্লেট তো তাই বলছে।’
ক্লান্ত মুখ বাঁকাল, ‘শোধরাল না।’
বলতে বলতে কাঁচ নামাল। পিস্ত লটা বের করে দুটো গু লি ছুঁড়তেই পিছু আসা গাড়ি ঝাঁকি খেয়ে গাছের সাথে ধাক্কা খাওয়ার তীব্র শব্দ ভেসে এল।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে, বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে যে ফার্মহাউজটি, তার সামনের সুবিশাল গেইট মেলে রাখা হয়েছে। গাড়ি দুটো প্রবেশ করল দ্রপেছনে গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তৎক্ষণাৎ। চারপাশে উঁচু শিমুল, কৃষ্ণচূড়া আর আমগাছের সারি প্রাকৃতিক প্রাচীরের মতো ঘিরে রেখেছে। মূল ভবনটি দুইতলা। আধুনিক স্থাপত্য অন্যরকম গ্রামীণ সৌন্দর্যের নিখুঁত মিশ্রণ। সাদা দেয়ালের গায়ে লাইটের হলুদ আলো পড়েছে। গাড়ি এসে থেমেছে বাড়ির সামনের পাথরের রাস্তাটুকুতে। গাড়ি থেকে বেশ দূরত্ব নিয়ে দাঁড়িয়েছে এই ফার্মহাউজের দায়িত্বে থাকা আমিনুল রশীদ সাথে চারজন গার্ড। এলেন এসে ব্যাকসিটের ডোর মেলে ধরেছে। আদিল বেরিয়ে আসতেই তারা সালাম জানাল। আদিলের চোখ পড়ল বড় লনের ওপরে। নরম ঘাসের ওপর কাঠের টেবিল-চেয়ার সাজানো, পাশে ছোট্ট আগুন জ্বালানোর স্থান। একটু দূরে একটি লেক আছে। পাশেই ল্যাম্পপোস্ট। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় রোযার সতর্কিত চোখমুখ দেখা যাচ্ছে। আদিল ঘুরে এসে খুলল রোযার পাশের ডোর। রোযা ঠাঁই বসে ছিলো। আদিল কথা খরচ করল না। কোলে তুলে নিলো দুহাতে। কদম বাড়াল ভেতরের দিকে। বিশাল লিভিং রুম পেরিয়ে উঠে এল দোতলায়। কয়েকটি রুম ডিঙিয়ে এল পরিচিত রুমে। উঁচু ছাদ, বড় কাঁচের জানালা আর পাথরের তৈরি ফায়ারপ্লেস ঘরটিকে আভিজাত্যের ছোঁয়া দিয়েছে। বারান্দার দরজা খোলা থাকার ফলে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ভেসে আসছে।
রোযা সতর্ক হয়! মুষড়ে ওঠে নামার জন্য। আদিল বাধ্য, তখুনি নামাল। রোযা জমিনে পা ফেলে বুঝল সে হাঁটতে পারছে। তারমানে হাড় ভাঙেনি। দ্রুত দূরত্ব বাড়াল। সামান্য ব্যথায় ককিয়ে ওঠে। অথচ পরমুহূর্তেই দরজা লাগানোর দ্রিমদ্রিম শব্দে কেঁপে উঠল পুরোপুরি। ঘুরে তাকাতেও পারল না। তৎক্ষণাৎ ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেল তার ওপর। ঘাড়টা চলে গিয়েছে আদিলের শক্তপোক্ত, রক্ষ হাতের আয়ত্তে। রোযার মাথাটা ঘুরিয়েই ঠোঁটে্র ভাঁজে ভাঁজে চেপে বসাল তার সিগারেট পুড়ন্ত ঠোঁটজোড়া। রোযা ধড়ফড়িয়ে তাকিয়ে ছিল বলেই দৃষ্টি মিলল সর্বনাশা ওই তীক্ষ্ণ, পিপাসিত দৃষ্টিতে। যেখানে এবারে আর ছাড়, পিছুনোর কোনো চিহ্ন নেই। আদিল চেয়ে থেকেই নিজের ঠোঁটের প্রগাঢ়তা বাড়াল। রোযা চোখ বুজল শক্ত করে। অনুভূতির তীব্রতা এতটাই জোড়াল যে একফোঁটা চোখের জলে গাল ভিজল। ঠোঁট ছেড়ে আদিল ঠোঁট স্পর্শ করল সেই ভেজা চোখে। রোযা শেষ চেষ্টা করে গেলো –
‘জোর করবেন?’
আদিল থামল না। রোযার ছোটো শরীরটা নিজের ভারি, শক্তপোক্ত দেহে পিষিয়ে রেখে তার সারামুখে ঠোঁট ছুঁয়ে গেল –
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ৪৬
‘করছি। আই’ম ফোর্সিং ইউ, রানি। ইওর হাজব্যান্ড ইজ ফোর্সিং ইউ।’
‘আমি আপনার মতন জীবনসঙ্গী চাইনি। চাইনি আপনার এই কালো সাম্রাজ্যের রানি হতে। চাইনি এমন অর্থসম্পদ।’
আদিলের মুখ চলে এলো সংবেদনশীল ঘাড়ে, ‘কাকে চেয়েছো? ওই বলদটাকে?’
রোযা মিইয়ে গেল। স্বর কাঁপল –
‘না চাইতেও আপনার নামে তিন কবুল পড়ে আমি জড়িয়ে গিয়েছি। দশ ঘাট কেনো দু ঘাটের পানি খাওয়াও আমার স্বভাবে নেই। তাই এই জনমে –’
রোযার কণ্ঠ থমকে আসে। আদিল মির্জার গম্ভীর কণ্ঠ ফিসফিস করে ভেসে বেড়ায় –
‘তুমি শুধু আমার।’

Anek late Kore apni ei golpo liksen apu,,, please taratari Kore diben,,9 din late korlen,,r amader eto oppekha koraben na ..🥰