Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫১

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫১

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫১
কায়নাত খান কবিতা

__ আজকে আমি লাড়া খাড়াকে খুন করেই জেলে যাবো।”
যেই কথা সেই কাজ। অরিন আর এক মুহুর্ত ও দেরি করে না। সে সোজা চলে যায় লাড়ার রুমে। যেটা কিংশুকের রুম থেকে বেশ খানিকটা দূরে। কিংশুকের পাশের রুমটাই এখনো অরিনের দখল। কিন্তু খুব বেশিদিন এসব চলতে দিলে হয়তো রুমটি ও বেদখল হয়ে যেতে পারে।তাই সে ঠিক করে যত নষ্টের মুলকে আগে সরাবে৷ তারপর কিংকে সোজা করতে তার দু-সেকেন্ড ও লাগবে না।
অরিনকে এতো রেগে যেতে দেখে সাথি, মুনিয়া, পুষ্প এবং ক্যাটরিনা ও তাকে অনুসরণ করতে থাকে। যদি সত্যি সত্যি সে উল্টোপাল্টা কিছু করে তাহলে বিনা দোষে সকলকে জেল খাটতে হবে। কিংশুক তো সবাইকে ফাঁসিতে চড়িয়ে ছাড়বে। নাহ! এই রিস্ক নেওয়া যাবে না। তাই সকলে তার পিছু পিছু যেতে থাকে।
বিনা অনুমতিতে লাড়ার রুমে ঢুকে পরে অরিন। লাড়া তখন সবে মাত্র ডিভানে বসেছিলো। অরিনকে দেখে তাড়াতাড়ি করে দাড়িয়ে যায়। লাড়াকে সামনাসামনি দেখে অরিন কিছুটা নাক কুঁচকায়। মেয়ে কম বডি বিল্ডার বেশি। আর লম্বায় খানিকটা কিংশুকের মতো। তার সামনে অরিন একদম নস্যি। লাড়ার পা থেকে মাথা অব্দি পরখ করে অরিন। না, তার সাথে শক্তিকে পারা যাবে না সহজে। কিংশুক নিজের মতোই আরেকটা বডি বিল্ডার খুঁজে এনেছে। এতো সহজে অরিন পারবে না তার সাথে।

__হাই লাড়া!”
__হাই!”
__ আমার না হওয়া সতীন, কী খবর সোনামণি? “
অরিনের এমন আচরণ দেখে লাড়া একটু চুপ হয়ে যায়। অন্য দিকে লাড়াকে কিছু বলতে না দেখে অরিন আরো ক্ষেপে যায়। সে সোজা গিয়ে ডিভানে ওঠে দাঁড়ায়। তারপর লাড়ার গাল বরাবর থাপ্প’ড় বসিয়ে।কিন্তু গাল এতো শক্ত অরিনের হাতে উল্টো ব্যাথা লাগে। তবু ও সে থেমে থাকে না। লাড়াকে কোনো রেসপন্স না করতে দেখে অরিন আরো পার পেয়ে যায়। আরো তিন থেকে চারটে চড় বসিয়ে দেয় লাড়ার গালে। তারপর ও লাড়াকে চুপ থাকতে দেখে অরিন সোজা তার মাথার চুপ খামচে ধরে টানতে থাকে।
__দুনিয়াতে কোনো ছেলে ছিলো না রে? আমার জামাইকেই পেলি। চরিত্রহীন মহিলা। তোর চুল টেনে ছিড়বো আজকে।”

অরিন এবং লাড়ার চুল টানাটানির মাঝেই বাইকার, সাথি, পুষ্প, মুনিয়া লাড়ার রুমে ঢুকে পরে। অরিনের এমন জংলী আচরণ দেখে তারা তড়িঘড়ি করে অরিনের থেকে লাড়াকে ছাড়াতে যায়। প্রচন্ড আওয়াজের ফলে কিংশুক এবং আতিয়া বেগম ও লাড়ার রুমে ঢুকে পরে। তারা রুমে ঢোকা মাত্র লাড়া মাটিতে পরে যায়। এবং লাড়ার লাল চুল অরিনের হাতে চলে আসে সম্পূর্ণ। অরিন সহ বাকিরা লাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। এতোক্ষণ যাকে লাড়া ভাবছিলো সে আসলে লাড়া নয়।
__টাইগার?”
অরিন,বাইকার সহ বাকিরা ও একসাথে চমকে উঠে। লাড়া আসলে কিংশুকের পারসোনাল বডিগার্ড। যার ফলে সে চুপচাপ মার খেলো কোনো কথা না বলে।মাটিতে পরে থাকা টাইগার কিংশুকের দিকে তাকায়।
__বস! প্লিজ সেভ মি। ম্যাডাম জাস্ট টু মাছ ওয়াইল্ড।”
কিংশুক চোয়াল শক্ত করে তাকায় অরিনের দিকে। কিংশুক তাকানোর সাথে সাথে অরিন হাতে থাকা টাইগারের নকল চুল ফেলে দেয়।

__লাড়া!”
দরজায় তাকিয়ে কিংশুক আবার ও লাড়া বলে ডাকে। কিন্তু লাড়া তো নকল ছিলো। তাহলে কিংশুক ডাকছে কাকে? কৌতুহল বশত অরিন সহ সকলে দরজার দিকে তাকায়। কিংশুক আসলে ডাকছে কাকে। কিন্তু তাকানোর সাথে সাথে অরিন সহ বাকিদের মুখে তালা পরে যায়। একটা ২৭-২৮ বছর বয়সী বিদেশি মহিলা। বেশ অনেকটাই আধুনিক এবং আর্কষণীয় ও বটে। রুমের ভেতরে প্রবেশ করে। যাকে দেখে অরিন একবার নিজের দিকে তাকায়। এটাই তাহলে আসল লাড়া।
__হাই এভরিওয়ান।”
লাড়া এসে আতিয়া বেগমকে জড়িয়ে ধরে। সকলের সাথে খুব সুন্দর করে গ্রিট ও করে। যেটা দেখে অরিন তেলে বেগুনে জ্বলে যায়।
__মনি! দিস ইজ লাড়া! দ্যা রিয়াল ওয়ান। তোমার মেয়েকে বলবে দূরে থাকতে। না-হলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।”
কিংশুক চুপচাপ চলে যায়। যেটা দেখে অরিনের বুক প্রচন্ড ভারি হয়ে যায়। তাহলে কী কিংশুক সত্যি সত্যি ভুলে গেলো তাকে? সাত পাঁচ না ভেবেই কিংশুকের পিছু নেয় অরিন। সোজা তার রুমে ঢুকে পড়ে। অরিনকে নিজের রুমে ঢুকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায় কিং তার দিকে।

___সত্যি আপনি বিয়ে করবেন?”
__মিথ্যে বিয়ে তো করা যায় না অরিন।”
বউ ডাকটির বদলে নিজের নাম শুনে অরিনের হৃদয়টি চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। কিংশুক তাকে কখনো বউ, বেবি গার্ল, বাচ্চা, মাই লাভ অথবা রোজ বলে ডাকতো সেখানে আসল নাম। খুব কমই ডেকেছে সে।
__কিং আমি..!”
__কিং..!” পাশ থেকে লাড়া ছুটে আসে কিংশুকের কাছে। যাকে দেখা মাত্র অরিনের মুখের বাত্তি ফিউজড হয়ে যায়। এবং কিংশুকের মুখে অন।
__হেই অরিন!”
__হেই সতীন”
__সরি?”
অরিন কোনো উত্তর না দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে পরে। এমনিতেই তার মেজাজ গরম তার উপরে কিংশুকের সাথে লাড়া। অরিনের মন আর মন থাকে না। যেন পাথরে পরিনত হয়।
রুমে এসে খাটে বসে মরা কান্না জুড়ে দেয় অরিন। যেন তার কোনো আত্মীয় স্বজন বা কাছের লোক মা-রা গেছে। কেঁদে একটু নিজেকে হালকা করতে চায় সে। কিন্তু আফসোস। সেই সুযোগ আর পায় না সে। তার ফ্রেন্ডসরা তড়িঘড়ি করে রুমে এসে ঢুকে পরে।

__ পরে কাঁদিস অরিন। আপাতত নিচে আয়।”
__কেন?”
__তোর সতীন এবং কিং ব্রো শপিং এ যাবে। তাও বিয়ের ট্রায়ালে।”
তড়িৎ গতিতে উঠে দাড়ায় অরিন।তারপর দু-হাতে চোখের পানি মুছে ফেলে।
___আমি থাকতে কখনোই সম্ভব না!”
__কী করবি তুই?”
__জয় বাহু বালীললল!”
__এ্যা?”
__নিজের বাহুর শক্তি দেখাবো প্রভাসের মতো!”
যেই কথা সেই কাজ। অরিন এক দৌড়ে ছুটে বেরিয়ে পরে। সাথি এবং পুষ্প তার পিছু নেয়। শেষমেশ উল্টোপাল্টা না কিছু করে বসে সকালের মতো।
খান বাড়ির গার্ডেনের সমান বিশাল তার গ্যারেজ রুম। অরিন এসে দেখে টাইগার এবং ওমার কিংশুকের কাস্টমাইজড করা গাড়িটি ভালো ভাবে চেক করছে। গাড়িটি দেখার সাথে সাথে মন কষ্টে আরো ভেঙে। এটা তো সেই গাড়িটি যেটা কিংশুক তাকে দিয়েছি। লাভ বাইটের সঙ্গে মিল রেখে। এটা নিয়ে বিয়ের শপিং করবে।

__ওমার? টাইগার?”
__ইয়েস ম্যাডাম?”
__কিং ইজ কলিং। গো।”
কিং এর নাম শুনতেই দু-জন চলে যায়। আর সেটারই সুযোগ নেয় অরিন।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫০

__বউ নিয়ে ঘুরবি না? কু’ত্তা কিংশুক।” রাগে কিংশুকের গাড়ির সমস্ত টায়ার গুলোর হাওয়া পামচার করে দেয় অরিন। শুধু টায়ার পামচার করেই শান্ত থাকেনি সে, তিন চারটা লাথি ও মারে ও।লাথির বেগ জোড়ে হাওয়ার ফলে তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায় অরিন। কিন্তু শক্তপোক্ত হাতের বাধনের ফলে মাটিতে পড়তে পড়তে পরে না সে। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই পিলে চমকে উঠে অরিনের।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫২