আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫৪
কায়নাত খান কবিতা
__একটা ঠাটিয়ে চ’ড় মারবো, স্বামীকে কেউ কুত্তা বলে?”
__কী কু’ত্তা মরা দিনকাল আসলো। কু’ত্তাকে কু’ত্তা বলা যাবে না।”
__অরিনহহহহ।”
খুব জোড়ে ধমকিয়ে ওঠে কিংশুক। একে তো সে অরিনকে বকছে। কোথায় সে একটু লাজ-লজ্জা পাবে তা নয়, উল্টো কিংশুকের সাথে মুখে মুখে তর্ক করতে থাকে।
__কু’ত্তা কিংশুক।
অরিন কিংশুককে বকে সুন্দর মতো সামনের দিকে পা বাড়ায়। তারপর অনুভব করে খুব জোড়ে জোড়ে পায়ের প্রতিধ্বনি ছুটে আসছে তার দিকে। পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখে কিংশুক একটা লাঠি নিয়ে তেড়ে আসছে তার দিকে। অরিন ও এদিক ওদিক তাকিয়ে মাটি থেকে বিশাল বড় ইটের টুকরো তুলে নিয়ে কিংশুকের নিশানা করে ধরে।
__খবরদার! এক পা সামনে এগোলে মাথা ফাঁটিয়ে দেবো”
__অরিনের বাচ্চাহহহ।”
__এখনো হয়নি। লাড়া খাড়ার সাথে টাঙ্গি না মারলে এতোদিনে আপনার বাচ্চার মা হয়ে যেতাম আমি।”
__তুই হাতের কাছে তোকে মা বানাচ্ছি।”
__আপনার বাচ্চার মা হওয়ার থেকে আমি একটা পাগলের বাচ্চার মা হবো।”
__আমার থেকে বড় পাগল কে আছে বউ?”
খুব ঠান্ডা স্বরে কথাটি বলেই হাতের লাঠিটি ফেলে দেয় কিংশুক। অরিন ও তার হাতে থাকা ইটের টুকরো মাটিতে ফেলে দিয়ে চুপচাপ সামনের দিকে হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে একসময় অরিন অনুভব করে তার শরীরের সাথে লেগে আরেকটা শরীর হাঁটছে। কিন্তু এতো বড় ফাঁকা রাস্তায় তার সাথে লেগে হাঁটছে কে? বেশ বিরক্ত নিয়ে পিছনে ফিরে তাকাতেই কিংশুককে দেখতে পায় অরিন। কপাল কুঁচকে আবার ও সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে থাকে। অরিন হাঁটতে হাঁটতে দেখে তার দু-পাশে অজস্র লোক। ডান দিকে টাইগার এবং তার লোকেরা।বাম দিকে ওমার এবং তার লোকেরা। পিছনে কিংশুক।পুরো একটা রাস্তা দখল করে হাটতে থাকে তারা।যেন কোনো মিছিলে যাচ্ছে তারা।
__এতো বড় রাস্তা থাকতে এভাবে লেগে হাঁটছেন কেন?”
__আমার ইচ্ছে, আমি হাঁটছি।”
_রাস্তা কী আপনার বাপের?”
__নাহ সরকারের।”
__ইফ অসহ্য!”
অরিন কিংশুককে পাত্তা না দিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সিএনজি থামানোর চেষ্টা করতে থাকে ।আর তার পিছনে কিংশুক এবং তার লোকেরা দাঁড়িয়ে থাকে।
__জীবনে কোনোদিন সিএনজি তে উঠে নাই, সে আসছে সিএনজি থামাতে।’
কিংশুক ইচ্ছে করে অরিনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কথা গুলো বলতে থাকে।কিন্তু অরিন তেমন কোনো রিয়েকশন দেয় না।
কিংশুক এক পর্যায় রাস্তার পাশে বেঞ্চে বসে পড়ে।
_এই! ও সিএনজি পেলে ডাকিস আমাকে বাড়ি যেতে হবে।কপাল করে বউ পেয়েছি, সিএনজি ও থামাতে পারে না।’
অরিন কিংশুকের সব কথাই শুনে।মাঝে মাঝে তার ইচ্ছে করছিল কিংশুকের মাথা ফা’টিয়ে দিতে।কিন্তু সে ঠিক করেই নেয় আর যায় হোক, কিংশুকের সাথে কোনো কথাই বলবে না সে।
অবশেষে অরিন একটি সিএনজি থামাতে সক্ষম হয়।
আর সাথে সাথে কিংশুক এবং তার লোকেরা হাত তালি দিয়ে উঠে।
__ আরে মিষ্টি নিয়ে আয় ওমর। আমার অর্কমার ডেকি বউ জীবনের প্রথম কোনো কাজে সফল হলো। ‘
কিংশুকের কথা শুনে অরিন নিচে পড়ে থাকা ইঁটটির দিকে তাকায়।তারপর নিজের রাগ কন্ট্রোল করে সিএনজিতে উঠে পড়ে।সাথে সাথে কিংশুকও পাশের সিটে বসে পড়ে।উঠেই সিএনজি ওয়ালাকে ধমকাতে শুরু করে কিং।
__ আস্তে আস্তে সিএনজি চালাবি। আমার বউ ফুলের মতো নরম, যদি ধাক্কা লাগে ওর শরীরে! তুই সহ তোর সিএনজি শেষ।’
কিংশুকের কথা শুনে সিএনজি ওয়ালা শুকনো ঢোক গিলে।আর অরিন প্রচন্ড ক্ষেপে যায়!
সিএনজির চারপাশে কিংশুকের লোকেরা আর ভিতরে কিংশুক।
তাই এতো ধীরে ধীরে সিএনজি চালছিল যে, ঠেলা গাড়ি ও এর থেকে জোড়ে চলে।
অরিন রাগে সিএনজি থেকে নেমে পড়ে আর হাঁটতে থাকে।কিংশুকও অরিনের সাথে সাথে হাঁটতে থাকে। তবু ও তার পিছু ছাড়ে না।
__এই বয়সে যে আর কত হাঁটবো। কেন যে হাঁটুর বয়সি মেয়েকে বিয়ে করলাম।’
অরিনের ধৈর্যের বাঁধ প্রায় ভেঙেই যাচ্ছিল।
তবুও সে মনে মনে বলে,
__কুল অরিন… কুল…’!
হাঁটতে হাঁটতে খুব ক্লান্ত হয়ে যায় অরিন।তাবু হাল ছাড়ে না।
__ প্রেমে পড়লে মানুষ কত ভাবে ম’রে, আর আমার বউ আমাকে হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে মারছে।এই বয়সে হাঁটুর ব্যাথা হলে রোমান্স করবো কীভাবে।’
অরিন আর চুপ থাকতে পারে না। তেতে উঠে সে।
_ওমর ভাইয়া।’
অরিনের ডাকে ওমর পিছন থেকে দৌড়ে সামনে আসে।
__ ইয়েস বস লেডি।’
__পাবনার একটি টিকিট বুকিং করেন তো।’
__ কার জন্য ভাবি?’
__ একটা পাগলের জন্য।’
কিংশুক পাশ থেকে বলে উঠে,
__ দুটো বুকিং করিস রে ওমর! বউ ছাড়া ভালো লাগবে না থাকতে।’
অরিন নিজের কপালে নিজেই হাত রাখে আর হাঁটতে থাকে।হাঁটতে হাঁটতে এক সময় খান বাড়িতে চলে আসে তারা।বাড়িতে আসা মাত্র অরিন সোফায় বসে পড়ে।এতো হাঁটার ফলে তার পায়ের অবস্থা শেষ।সাথে কিংশুক আর তার লোকেরাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে পড়ে।
আতিয়া বেগম তাদের দেখা মাত্র নিচে নেমে আসে,
__এ-কী অবস্থা হয়েছে তোদের। সবাই এতো কালো হলি কীভাবে? আর এতো ঘেমেছিস কীভাবে?’
অরিন প্রচুর ক্লান্ত থাকার ফলে কোনো কথাই বলতে পারে না।কিংশুক তার হাত দিয়ে ইশারা করে অরিনের দিকে,
__তোমার মেয়ের ভালোবাসার রং এ পুড়ে কালো হয়ে গেছি।’
কিংশুকের কথার আগামাথা বুঝতে পারে না আতিয়া বেগম। অরিন তো ডির্ভোস পেপারে সাইন করে চলে গেছিল, কিংশুক ও তার পিছু নিয়েছিলো, তাহলে হঠাৎ এমন কী হলো?
পাশ থেকে ওমর বলে উঠ,
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫৩
_বাপের জন্ম এতো হাঁটিনি বড় ম্যাডাম।’
__এতো গুলো গাড়ি থাকতে হাঁটলি কেন তোরা?”
কিংশুক তার পা টি-টেবিলে রেখে বলে,
_আরো দাও হাঁটুর বয়সি মেয়ের সাথে বিয়ে। হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে মা’রছে আমাকে।’
অরিন রেগে উপরে উঠে চলে যায়।কিংশুক যতই চেষ্টা করুক না কেন।অরিন ঠিক করে, কোনো কথাই বলবে না সে। চ’ড় মারার আগে ভাবা উচিত ছিলো তার।
অরিন চলে যাওয়াতে কিংশুক নিজের মাথায় হাত রেখে বলে,
__ডিজিটাল বউ! স্বামীর সেবা করা বাদ দিয়ে ঢং করে চলে যাচ্ছে।’

Apu next part keno diteso nh😔