Home আপনাতেই আমি আপনাতেই আমি পর্ব ১৬

আপনাতেই আমি পর্ব ১৬

আপনাতেই আমি পর্ব ১৬
ইশিকা ইসলাম ইশা

ক্লাস শেষে বের হয়ে ক্যাফেতে বসে রিদি আর মেঘলা।দুইজনেই মূলত ক্লাস করে টায়ার্ড।
এই রিদু তোর মনে হয় না ডঃ আশিফ মাহমুদ আমাদের জীবনটা বেশি ত্যানা ত্যানা করে ফেলছে।এতো এতো পড়া তার ওপর প্র্যাকটিক্যাল আমি তো শেষ।
রিদি অসহায় ফেস করে বলল,
ডক্টর হওয়া মুখের কথা!!
দুইজন ই অসহায়ের মত চায়ের কাপ হাতে নিতেই সামনে এসে দাঁড়ায় রুমি নামের মেয়েটি।দেখতে মডার্ন মেয়েটি বড়লোক বাবার আদরের কন্যা। প্রতিদিন কারে আসে আর বডিগার্ড নিয়ে ঘোরে।তার কদম এখানে দেখে দুজনে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল।মেঘলা এই মেয়ের ওপর চরম বিরক্ত। বিরক্তির কারন হল ওনার ন্যাকাষষ্টি আচরণ।রুমি পাশের চেয়ারটা টেনে বসে বলে,

এই আজ আয়ান বেবি আসে নি কেন??
মেঘলা কটমট করল।রাগ হল।মনে মনে কয়েকশো গালি দিল।বালের বেবি!ডাইনি কোথাকার! কিন্তু মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,
আসেছে তো তোমার আয়ান বেবি!দেখো হবে এদিক ওদিক কোথাও!
রিদি মনে মনে হাসল মেঘলার ব্যবহারে। মেঘলা যে মনে মনে কয়েকশো গালি দিয়েছে সেটা সিউর রিদি। তবুও কি নাটক করছে দেখে হাসি পেল অনেক।রুমি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল আয়ান আসছে এদিকে।রুমি খুশিতে গদগদ হয়ে জরিয়ে ধরলো।মেঘলা কটমট করে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে।আয়ান ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ধরে নি রুমিকে।আয়ান মুখে মুখে ফ্লাট করলেও ছোয়াছোয়ি তে যায় না।রুমি কে ছাড়িয়ে রিদি আর মেঘলার মাঝে বসল আয়ান।রুমির পাশে না বসায় রুমির খারাপ লাগল।ঝট করেই উঠে হনহন করে চলে গেল।আয়ান পাওা দিল না। টেবিলে মাথা ঠেকিয়ে রেখে তাকালো একবার মেঘলা আর রিদির দিকে,মেঘলা ব্যাঙ্গ করে বলল,
তোর বেবির পাশে না বসায় রাগ করেছে যে!যা রাগ ভাঙ্গা।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
ধুররর ন্যাকা বেশি!!
মেঘলা আবারো বলল,
তোর থেকে তো কম।তুই কি আমাদের তোর পার্সোনাল সেক্রেটারী ভাবিস নাকি??তোর খোজ নিয়ে বসে থাকব সবসময়।
রিদি হাসল এদের ঝরগা সে বেশ ইনজয় করে। আয়ান ক্ষিপ্ত হয়ে বলল,
তুই আমার পারসোনাল সেক্রেটারি হতি যাবি কেলায়?তোকে আমি পার্সোনাল ধোপা রাখব তো!!তুই যা ভালো কাপড় কাচতে পারিস তাতে আমার ধোপা হিসেবে তোকেই নিয়োগ দিলাম।
মেঘলা কটমট করে বলল,
রিদি তুই কিছু বলবি!!!
রিদি হাসল কিছু ভেবে বলল,
তোরা বিয়ে করে নিলেই পারিস!!যেভাবে ঝরগা করছিস!! সারাজীবন এভাবেই ঝরগা করে যাবি।ঝরগা না করলে তোদের পেটের ভাত হজম হয় না তো আবার!
মেঘলা রেগে বলে,

বিয়ে তাও এই বলদ কে??
এই এই এই তুই বদল কাকে বললি??
তোকে বললাম তুই আস্ত একটা বলদ।
কি বললি আমি বলদ তুই কি!!!ঘসেটি বেগম!!
আয়াননননন!!!
আয়ান মেঘলার মতো বলে,
রিদদদদদদিইই…..তোর ষাড়ের মত বান্ধবীকে সরা তো।
রিদি হাসল মনে মনে।ঝরগা ছাড়া এরা চলতে পারে না।সেটা ভালোই বুঝেছে ১মাসে।রিদি মেঘলা আর আয়ানের মাঝে দাঁড়িয়ে বলে,
চুপ কর!! আশেপাশে খেয়াল আছে তোদের।
মেঘলা আয়ান দুইজনেই চুপ হয়ে আশেপাশে তাকালো।সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে। আয়ান চুপচাপ বসে পড়ে চেয়ারে।রিদি বিরক্ত হয়ে বলে,
ক্লাসে আসিস নি কেন?? কোথায় ছিলি??
এমনি কাজ ছিল!!
রিদি আর কিছু বলল না।বলে লাভ নেই।ডঃআশিফ মাহমুদ এর ক্লাস করবে না আয়ান।অথচ এই ক্লাস খুব ইম্পর্ট্যান্ট ছিল।

রাত তখন প্রায় ১১ টা,
কেঁদে কেটে অস্থির রিদি। মজনু এখনো বাসায় ফিরে নি।কল করছে কিন্তু বন্ধ বলছে।রিদি কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। অস্থির হয়ে নিচে নেমে আসে।যদিও মজনু বলেছে রাতে বাইরে না আসতে!!নিচে এসে বাইরে বের হয় রিদি। চারপাশে গাড দাঁড়িয়ে আছে।রিদি তাদের উপেক্ষা করে বাইরের দিকে যেতই একটা গার্ড ছুটে আসে।
ম্যাম আপনি কোথায় যাচ্ছেন??
রিদি অস্থির হয়ে বলে,
বাইরে!
সরি ম্যাম আপনাকে আমরা বাইরে যেতে দিতে পারবো না!
কেন??
এটা আপনার জন্য সেভ না।
রিদি এমনিতেই মজনুর টেনশনে অস্থির তার ওপর এরা তাকে মালকিন ভেবে আটকে রাখছে।
আমাকে যেতে দিন ওনি বাসায় ফিরে নি!
ওনি কে??
মজনু সাহেব!!আমাকে যেতে দিন।
তবুও আপনাকে বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।
এবার রিদি চট করেই রেগে গেল,

আমাকে যেতে দিন বলছি।আমি এই বাড়ির মালকিন না যে আমার কেউ ক্ষতি করবে।
পারমিশন নেই ম্যাম আপনি ভেতরে যান।
পারমিশন মাই ফুট।এই তুই এখুনি গেট খুলবি নাকি আমি তোকে মেরে ভত্তা করব।গাডটি এমন কথায় তাকাল রিদির দিকে।পিচ্চি মেয়ের তেজ কতো?
রিদি চেঁচিয়ে উঠলো,
খুলে দে বলছি।যদি মজনু সাহেবের কিছু হয় তোদের মেরে একদম গুম করে দেবো খোল।
দুইজন গাড একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল।রিদির টেনশনে ভীষন রাগ হলো।পাশ থেকে মোটা লাঠি নিয়ে মারার মতো করে বলল যেতে দিবি নাকি মার খাবি।দুইজন গাড হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে রিদির দিকে।রিদি মারতে যেতেই পেছন থেকে হাত ধরে আটকে দেয়। একহাতে কোমর জড়িয়ে অন্য হাতে রিদির হাত ধরে টেনে নিয়ে আসে।রিদি ঘার ঘুরিয়ে মজনু কে দেখে কেঁদে দেয়।ঝট করেই জরিয়ে ধরে জোরে কেদে ফেলল। মজনু রিদিকে শান্ত করতে জরিয়ে ধরে সেখানেই দাড়িয়ে থাকে। ইশারায় গাডদের চলে যেতে বলে।

রিদিকে বুকের মাঝে আগলে ধরে।মেয়েটা কাপছে।ভয় পেয়েছে নিশ্চয়। মজনু কোলে তুলে নেয় রিদিকে।রিদি মজনুর গলা জড়িয়ে ফুপাচ্ছে। হাঁপিয়ে গেছে যেন জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।মজনুর রাগ হলো নিজের উপর।একটু সময় খেয়াল করলে আজ ওর জানের এমন কিছু হতো না।তাছাড়া ফোনে ম্যাসেজ করার ফোন হাতে নিয়ে বুঝতে পারে ফোনে চার্জ শেষ। মজনু তাৎক্ষণিক রওনা দেয়। কিন্তু আসতে লেট হয়ে গেল।তবে এসে রিদির এমন রুপ দেখবে ভাবে নি।ক্যামেরাই কোন দিকে রিদিকে না দেখে অস্থির হয়ে গেটের ক্যামেরাই রিদিকে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও তা বেশিক্ষন টিকল না রিদির অবস্থা দেখে।এলোমেলো চুল কেদে কেদে কি অবস্থা করেছে।মজনু তখন ড্রাইভার কে নামিয়ে নিজে ড্রাইভ করে ২০ মিনিটের পথ ৮মিনিটে আসে।
রুমে এসে রিদিকে নামিয়ে দিতেই রিদি রেগৈ ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয় মজনু কে। মজনু হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।রিদি কেঁদেই জোরে বলল,

খবরদার একদম আমাকে ধরবেন না অসভ্য,পাষান,লোক।টেনশন হয় না বুঝি ।একটা ম্যাসেজ করে বলে দিতে কি হয়েছে আজ লেট হবে।
রিদি কাঁদতে কাঁদতে হেচকি তুলে ফেলেছে। মজনু অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে রিদির দিকে।ইসসস…. বুকের ভেতরে যেন রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে।বেগমের চোখের পানি হৃদয়ে ছুরিঘাত করছে। মজনু এগিয়ে আসতে গেলে রিদি রেগে বলে কাছে আসবে না। মজনু বারন না শুনে এসে জরিয়ে ধরে রিদিকে।রিদি রাগে, দুঃখে নিজেকে ছাড়াতে চাইলেও পারে না। অনেকক্ষণ ধরে যখন পারে না তখন শান্ত হয়ে যায়।রিদি শান্ত হতেই মজনু রিদির মুখ দুহাতে ধরে সারা মুখে ঠোঁটের ছোয়া দেয়।
রিদি মজনুর দিকে তাকিয়ে বলে,
কখনো লেট করলে বলবেন।আমি ভয় পেয়েছিলাম তো!!
রিদির এমন ইনোসেন্ট কথায় মজনু আবারো জরিয়ে ধরলো।
এই বৌ ছাড়া তার গতি নেই। সত্যিই নেই।ভেবেই হাসল মনে মনে।

তখন রাত বাজে ২টা ৪০।মজনুর বুকের মাঝে ঘুমিয়ে আছে রিদি। মজনু তাকিয়ে আছে রিদির দিকে।গলার কাছে তার দেওয়া চিন্হ দেখে খারাপ লাগল মজনুর।লাল হয়ে আছে একদম। মজনু মুখ এগিয়ে ছোট ছোট চুমু দেয় সেখানে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রিদিকে চাদরে মুড়িয়ে বেলকনিতে আসে।ফোন হাতে কল করে কাউকে।
বসের কাজ শেষ করে সবেই বালিশে মাথা দিয়েছিল লাবিব।তবে ফোন বাজার কারনে তা আর হলো না।চট করেই রিসিভ করল।ওপাশ থেকে ধীরে আওয়াজ শোনা গেল।
“গাড়ি বের করো ফাস্ট”
শোনা মাত্রই ছটপট বের হয়ে আসে লাবিব।গাড়িতে বসে ওয়েট করতেই তীব্র এসে পাশে বসে।গাড়ি ফুল স্পীডে চলতে থাকল।প্রায় ১০মিনিট পর থামল একটা বাড়ির সামনে।পুরানো আমলের বাড়ি।গাড়ি থেকে নেমে ভেতরে ঢুকে তীব্র।
কয়েকজন মিলে একজন কে বেঁধে রেখেছে।তীব্র ধীরে এসে চেয়ার টেনে বসল।মাথা নিচু করে ছিল লোকটা।তীব্র উরফে মজনু কে দেখে মাথা তুলে তাকাল মজনুর দিকে,
মজনু পায়ের ওপর পা তুলে দিলো,
“সমস্যা কি সালাবাবু”
রাদিফ কটমট করে তাকিয়ে আছে মজনুর দিকে,

কে তুই??
মজনু রসিকতা করে বলল,
আপনার ছোট বোনের জামাই!
রাদিফ বাধা অবস্থায় ছটফট করে বলল,
খবরদার !!রিদি নাম তোর ঐ মুখে নিবি না!!
মজনু হাসল,
ভেজা চুল গুলো হাত দিয়ে ঝেরে বলল। শুধু নাম কেন!! বৌটা আমার কিন্তু!!
রাদিফ মজনুর ভেজা চুল দেখে কটমট করে বলল,
প্রতারক,ঠক কে তুই?
মজনু রাদিফের অস্থিরতা দেখে মজা পেল। মেয়েদের ভেজা চুল নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সেখানে তার ভেজা চুল কারো মনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে দেখে মজাই পেল।
আমি আপনার বোন জামাই!
খবরদার মিথ্যা বলবি না!!কেন বিয়ে করেছিস তুই রিদিকে??কি চায় তোর??টাকা??কতো নিবি??
কতো দিতে পারবেন সালাবাবু?

জানেন তো আপনার বোনের জন্য আজ মুডটা বেশ ফুরফুরে আছে।বলেন বলেন কতো দিতে পারবেন!!
যা চাই তা দেবে!!রিদিকে ছেড়ে দে!!
আপনি জিজ্ঞেস করলেন কত টাকা চায়।আমি বললাম কতো দিতে পারবেন?এর মাঝে বৌ ছাড়ার প্রশ্ন আসছে কেন?
বিয়ে তো টাকার জন্য করেছিস??
এইটা একটু ভুল বললেন সালাবাবু। বিয়ে টাকার জন্য করিনি।করেছি আপনার বোনকে কাছে পেতে।যদিও এটা আমার ভুল ধারনা ছিল।পরে বুঝতে পারলাম। আসক্ত আমি আমার বেগমজানের ওপর।তার ভালবাসার উপর, তার মিষ্টি ঘ্রাণে,তার পাগল করা হাসিতে,তার মায়াবী চোখে। “হৃদয়হরনী মায়াবতী যে আমার বেগমজান”
রিদির নামে এসব শুনে রক্ত টগবগিয়ে উঠলো রাদিফের,
রিদির তোর মতো ঠক,বেইমান, প্রতারক কে কখনো ভালোবাসবে না।আমি সব জানাব ওকে।
মজনু হাসল,

ছাড়া পেলে তো!!
ভয় দেখাচ্ছিস আমাকে??কি করবি তুই??মেরে ফেলবি?
মজনু আয়েশ করে বসল।উদাস মনে বলল,
বিয়ের পর কোন খুন টুন করি নি আমি। আপাতত করতে চাচ্ছিও না।বৌ কে ছুতে গেলে অপবিত্র লাগে তাই।
রাদিফ মজনুর হেয়ালি করার রেগে বলল,
কি চায় তোর???কেন সহজ সরল মেয়েটাকে ঠকাচ্ছিস??
ঐ যে একটা কথা আছে না,

আপনাতেই আমি পর্ব ১৫

যুদ্ধ আর ভালবাসায় সব জায়েজ।আমার শুধু আমার বৌ আর বৌয়ের ভালবাসা চাই।এই যা অনেক সময় হয়েছে।আজ আসি গল্প পরে করব কেমন।এই দেখিস তোদের ম্যাডাম এর ভাই কিন্তু।খাতির করবি বুঝলি। এখন মুখটা অফ করে রাখ।
সাথে সাথে দুইজন লোক মুখ বেঁধে দেয় রাদিফের। মজনু বেরিয়ে পড়ে বাসার উদ্দেশ্যে।অনেক কিছু ভাবছে সে। বিশাল বড় গেম।এতো সহজে প্রকাশ পেলে চলবে???
উহু চলবে না!

আপনাতেই আমি পর্ব ১৭