Home আপনাতেই আমি আপনাতেই আমি পর্ব ৩৪

আপনাতেই আমি পর্ব ৩৪

আপনাতেই আমি পর্ব ৩৪
ইশিকা ইসলাম ইশা

রান্নাঘরে এক প্রকার যুদ্ধ হয়েছে যা দেখে মিটমিট হাসছে রিদি,রুপালি,দাদি আর মেঘলাছুটির দিন সবাই বাড়িতে।রিদি তৃপ্তির সাথে খেলছিল।আজ কুক অসুস্থ তাই রিদি বলেছে সে রান্না করবে বিরিয়ানি।রিদি উঠে কিচেন এ যাবে তার আগেই হুরমুর করে বাসায় ঢুকে আয়ান আর মেঘলা।সপ্তাহ খানেক পর দুইজনের এনগেজমেন্ট।সেই দিনের পর অনেক দিন পেরিয়ে গেছে। তবুও দুইজনের ঝগরা যায় নি।আবার একে অন্যেকে ছাড়া থাকতেও পারে না।রিদি দুইজন কে ইনভাইট করেছে আজ বিরিয়ানি খেতে।তবে দুজনের মতিগতি দেখে বলল,

কি নিয়ে আবার ঝরগা করেছিস?
মেঘ রেগে বলে,
এই হারামি বলে কি না রান্না করা কোন ব্যাপার ই না।
এই এই একদম আমি সেটা বলি নি আমি বলেছি রান্না আমিও করতে পারি সেটা কোন ব্যাপার না!
তো!!একই তো নাকি!
রিদি বিরক্ত হয়ে তাকাল আয়ানের দিকে,
তো রান্না করে দেখা!
এদের কথার মাঝেই সেখানে উপস্থিত হয় তীর আর আমির! দুইজন সোফায় বসে। রুপালি রিদির দিকে টেনে বলে,
রান্না সোজা কথা না আয়ান! রান্নাঘরে যাও বুঝবা।
সব লেডি তো তাই! আমার দলে কেউ নেই। পুরুষের কোন মান ইজ্জত নাই দেখছি। আঙ্কেল,ভাইয়া
আপনারা কি আমার দলে না!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আমির তীর থতমত খেয়ে তাকাই।তবে পুরুষ বলায় অনিচ্ছা সত্বেও আয়ানের কথাই তাল মিলায়।এতেই শুরু হয় যুদ্ধ। অনিচ্ছাকৃত ভাবে এই ঝরগায় প্রবেশ করলেও ছেলের বৌদের সামনে ইজ্জত খোয়াতে চাই না আমির তাই ঝরগা চলিয়েছে আরকি।ঝরগা শুধু আয়ান আর মেঘ ই করেছে।
রিদি রুপ,মেঘ,দাদি বাইরে বসে আছে আর কিচেন থেকে ঝনঝন আওয়াজ আসছে।
এই রিদু আজ মনে হয় খাবার ভাগ্য জুটবে না (মেঘ)
জুটলেও খাবার খেতে পারবো কিনা সন্দেহ!তীর কিচেন এর ক ও জানে না (রুপ)
তোদের শশুর ও জানে না।ছোট থেকে কিচেন এ এলার্জি আমিরের।(দাদি)
রিদি অসহায় চোখে সবার দিকে তাকিয়ে হেলান দিয়ে বসলো সোফায়।তখনি বাড়িতে প্রবেশ করে তীব্র।সে তার নিজস্ব বিল্ডিং এ কাজ করছিল।রিদি কে একবার দেখে উপরে যেতেই দাদি ডাক দেয়,
দাদুভাই!তুমি কি বাইরে যাবে?

না! বৌয়ের আদেশ দিদুন! আজ আমি বাসায়!!তা আপনি বলে বিরিয়ানি বানাবেন বেগম সাহেবা!!
কি আর বানাবে ভাইয়া!কিচেন এ তো যুদ্ধ চলছে।তীব্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো মেঘের দিকে।এমন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল মেঘ থতমত খেয়ে সব বলে দিল।যেন এখন না বললে একদম প্রানটা ফ্রি তে কবজ করবে তীব্র।কি দৃষ্টিশক্তি মাইরি!তীব্রর চোখের দিকে তাকাতেই ভয় লাগে মেঘের ।কি মারাত্মক চাহনি!!
এবার তীব্র তাকালো রিদির দিকে !!দৃষ্টি পরিবর্তন হয়েছে!!মেঘ দেখল সেই দৃষ্টি।রিদির দিকে তাকালেই কেমন শান্ত বালক হয়ে যায়।তীব্র স্থির চোখে পখর করল বৌ কে। চিন্তিত মুখে দাত দিয়ে আঙ্গুল কামড়াচ্ছে। তীব্র রিদির কাছে এসে মুখ থেকে হাত সরিয়ে নেয়।মাথার হালকা থাপর মেরে বলে,
ব্যাড ম্যানারস জান!আমি দেখছি কিচেন এ কি হচ্ছে

এদিকে কিচেনের অবস্থা দেখে ভূ কুঁচকে তাকিয়ে রইল তীব্র। এক দিকের জিনিস অন্য দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।এটা রান্নাঘর কম ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গা লাগছে। আমির তীব্র কে দেখে খুশিতে গদগদ হয়ে এগিয়ে আসতেই তীব্র বিরক্ত হয়ে বলে,
যা পারো না তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ নেও কেন? আমির ছেলের কথায় কোন উত্তর করে না।তবে মনে মনে তিনি খুশি হয়েছেন এই পরিস্থিতিতে যাই হোক তীব্র তো যোগদান করেছে।ছেলে তার মিশে থাকছে এর চেয়ে বড় খুশি আর হতে পারে না।
তীর অসহায় চোখে তাকাল তীব্রর দিকে,

সব দোষ এই আয়ানের!
আয়ান এমনিতেই তীব্র কে দেখে কুপোকাত আবার তাকেই দোষ দিচ্ছে,
ইয়ে মানে স্যার আসলে হয়েছে কি….
তীব্র বিরক্ত হয়ে বলে,
হয়েছে আর ইয়ে মানে করতে হবে না। চলুন রান্না করতে হবে।
তিনজনেই তীব্রর কথায় হা হয়ে তাকিয়ে রইল। আমির চৌধুরী অবাক হয়ে বলল,
কি বললি!!
তীব্র শান্ত স্বরে আবারো বলল,
রান্না করব!বৌ কে তোমাদের জন্য তো আর না খাইয়ে রাখতে পারি না।
তীর অবাক হয়ে বলল,
তুই রান্না পারিস!!

না!মজনু কে রিদি শিখিয়ে ছিল। এখন তীব্র কতোটুকু পারবে সেটা দেখার পালা!
তীর তো অবাক ই হয়ে আছে।তীব্র সব পরিষ্কার করে ফ্রিজে থেকে মাংস বের করে ভিজিয়ে দেয়।এরপর একে একে পেঁয়াজ কুচি, মরিচ কুচি করে নেয়। তীর কে চায় ধুতে দিয়েছে কিন্তু তীর কনফিউজড হয়ে জিজ্ঞেস করে,
চালে পানি দিব নাকি পানিতে চাল?
তীব্র ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
রুপ কে বলব তোমাকে মাঝে মাঝে কিচেন ট্রেনিং দিতে!
এরপর সবার ওপর বিরক্ত হয়ে সব কাজ নিজেই করে নেয়।

আর এদিকে,
রিদু তোর মনে হয় না আমাদের বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করা উচিত!
দরকার নেই!তীব্র গেছে তো!(রিদি)
তুই কি বলতে চাইছিস!! তীব্র রান্না পারে !!রুপের কথায় সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকালো রিদির দিকে।
না তবে শিখেছিল তো একটু!!কি জানি কি করছে!! একবার দেখে আসব কি?
দরকার নেই ওদের কে বুঝতে দে রান্না করতে ও কষ্ট লাগে।অডার করলেই তো হাজির হয় বুঝবে কি করে।(দাদি)
সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে থেকে ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলল।

ঘন্টা দুই এক পর আয়ান এসে হাজির হয়। এলোমেলো চুল , মাথায় আটার ছড়াছড়ি, সুন্দর পরিপাটি শার্ট টার অবস্থা বেহাল।সবাই আয়ান কে দেখে হো হো করে হেসে উঠল।
কে যেন বলেছিল না রিদু রান্না কোন ব্যাপার না!কথাটা বলেই মেঘ ঠোঁট চেপে হাসতে লাগলো। আয়ান অসহায় মুখ করে তাকালো মেঘের দিকে। মেঘ মুখ ভেংচি কেটে বলল,
হু এবার বুঝেছিস তো রান্না করা ইজি না।
আয়ান মাথা নিচু করে আছে।
সরি!
রিদির কাছে কিউট লাগলো আয়ানের সরি।হেসে বলল,
খাবার কি হবে নাকি অর্ডার করব!
হয়েছে! তীব্র ভাই করেছে।
আয়ানের কথায় মুখ হা হয়ে গেল দাদি,রুপ,মেঘের।দাদি উত্তেজিত হয়ে বলল,
কিহহ!!

আয়ান ঘাবরে গেল।বেচারা এমনিতেই ভয়ে ছিল‌।সবার অবাক হওয়ার মাঝে সেখানে উপস্থিত হয় তীব্র। শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল সবাইকে। এইপর বলে,
ফ্রেশ হয়ে আসুন।
খাবারের গন্ধে মৌ মৌ করছে চারদিক। সবার প্লেট এ বিয়িয়ানি দেওয়া হয়েছে।সবাই খাবার মুখে দিতেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাকায় তীব্রর দিকে।তীব্র সবার দিকে তাকিয়ে বলল,
সমস্যা কি তোমাদের!!এভাবে তাকানোর কি আছে।
অনেক টেষ্ট হয়েছে দাদুভাই!!(দাদি)

আমির ভাব নিয়ে বলে কার ছেলে দেখতে হবে না!!সবাই আমিরের অবস্থার সাথে এমন ভাব নিতে দেখে হো হো করে হাসল। এভাবেই হাসি খুশির মাঝে কেটে গেল দিনটা।দিন গেল, সপ্তাহ গেল দুদিন পর আয়ান মেঘের এনগেজমেন্ট।আজ শপিং করতে এসেছে মেঘের পরিবার।সাথে আছে আয়ানের বাবা মা,আর বোন।আয়ানের বাবা মা একসাথে থাকে না অনেক বছর।আয়ানের মা মিসেস মমতাও একজন ডাক্তার।সে অন্য শহরের হসপিটালে জব করে। আয়ানের ছোট বোন মায়া সে মায়ের সাথে থাকে মাঝে মাঝে অবশ্য আসে বাবার কাছে। আয়ানের বাবা মার ডিভোর্স হয়নি। কিন্তু কেউ কারো সাথে কথা বলে না।

আপনাতেই আমি পর্ব ৩৩

আয়ানের বাবার কারো সাথে এফেয়ার ছিল যার কারনে মূলত সম্পর্কে ভাঙন ধরে।যদিও তিনি নিজের ভুল বুঝে সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিল কিন্তু মমতা আশিকের কাছে ফেরেনি। আয়ান আশিকের কাছে থাকলেও বাবার সাথে খুব দরকার ছাড়া কথা বলে না আয়ান।আয়ানের ধারণা তার বাবার কারনেই তাদের পরিবার আজ আলাদা। যেহেতু আয়ান আর মেঘ প্রায় ছোট থেকেই বন্ধু তাই মেঘের পরিবার সব জানে অনেক আগে থেকেই।তবে মেয়ের খুশির জন্য মানতে হয় তাদের। কিন্তু শর্ত থাকে যে বাবা মা দুজন কেই বিয়েতে থাকতে হবে। ছেলের খুশির জন্য বাধ্য হয়েই এই শহরে এসেছে মমতা।তাদের বিচ্ছেদে ছেলে মেয়ের জীবনে কষ্টের নেমে আসুক চাই না তিনি।ছেলের সুখের সময় পাশে মা হিসেবে অবশ্যই থাকবেন তিনি।

আপনাতেই আমি পর্ব ৩৫