আপনাতেই আমি পর্ব ৫৬
ইশিকা ইসলাম ইশা
চারদিকে তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। মসজিদে নামাজ শেষে যে যার মতো বাড়ি ফিরছে। কাচা বাঁশের নতুন তৈরি কবরের সামনে বসে আছে রিদি।চোখ দুটোতে অবিরাম গতিতে ঝরছে জলধারা।
তুমি আম্মুকে ছেড়ে চলে কেন গেলে সোনা?জানো!! তুমি ছাড়া তোমার আম্মু ভালো নেই। একটুকুও না। আম্মু তোমাকে অনেক ভালোবাসি সোনা।তুমি নেই তাই আব্বু ও ভালো নেই।খুব রাগ করেছে আমার উপর।আমি যে তার কথা মান্য করিনি। কিন্তু আমি কি করতাম তখন!!তবুও দোষ আমার।আমার জন্যই তুমি আমাদের মাঝে নেই।আম্মুকে মাফ করে দিও সোনা।আম্মু তোমাকে বাঁচাতে পারেনি। আম্মু খুব খারাপ!খুব খারাপ!!রিদি কাঁদতে কাঁদতে চারদিকে দেওয়া বাঁশের বেরার উপর মাথা ঠেকিয়ে রাখে।
মা!!!
কারো আওয়াজ শুনে রিদি পেছনে ফিরে তাকায়।একজন বয়স্ক লোক।পড়নে সাদা পাঞ্জাবি,পাজামা।ধবধবে ফর্সা চেহেরায় সাদা ফকফকা দাড়ি।লোকটাকে দেখে রিদি মাথায় কাপড় দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।
এভাবে কাঁদছ কেন?
আমার বাচ্চা!! এইটুকু বলতেই গলা ধরে এলো রিদির।
লোকটা একবার রিদি তো একবার কবরের দিকে তাকালো।মুচকি হেসে বলল। আল্লাহ তার কপালে ততটুকুই নিঃশ্বাস লিখেছিল। যতোটুকু আল্লাহ চেয়েছেন। ভেঙে পড়ো না। আল্লাহ পাক আমাদের কিছু দিয়ে বা কিছু নিয়ে পরিক্ষা নেন। ধৈর্য ধরো আর আল্লাহর উপর ভরসা করো।সব ঠিক হয়ে যাবে।বলে লোকটি রিদির মাথায় হাত বুলিয়ে চলে যান।রিদি আরো কিছুক্ষণ পর উঠে হাঁটতে থাকে। উদ্দেশ্য চৌধুরী বাড়ি।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সেদিনের পর আরো দুদিন পার হয়েছে। হসপিটালে আজ তার ছুটি দুপুরে। কিন্তু রিদি খুব ভোরেই এখানে এসেছে। সন্তানের সাথে কথা বলতে।কি ভাগ্য তার!!জানতে পারল না তার বাচ্চাটা ছেলে না মেয়ে!না দেখতে পারল শেষ বারের মতো!রিদির ঙ্গান ফিরেছিলো দাফন কার্য শেষ হবার পর তাই আর দেখা হয় নি।
সবটা শেষ হলেও তীব্রকে একা ছাড়তে পারবে না রিদি। সন্তানের শোক তার আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। কিন্তু তীব্র !!সে ছাড়া তীব্র কিভাবে বাঁচবে।এখন দুইজনেরই দুইজন কে দরকার।রাগ,মান, অভিমান যাই করুক তবুও রিদি তীব্রর সাথেই থাকবে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় রিদি। গার্ড তাকে দেখেই ছুটে আসে।
ম্যাম আপনি!!এই এখুনি স্যার কে কল কর!!ম্যাম আপনি একা কেন?এতো সকালে!!স্যারকে বলেন নি কেন স্যার তো খুব বকবে!!
রিদি ছোট একটা শ্বাস ফেলে বলে,
কতো প্রশ্ন করছেন ভাইয়া!!আগে ভেতরে যেতে দিন!
লোকটি ঝটপট দরজা খুলে দেয়।রিদি কিছু না বলে ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করে।সবাই হয়তো ঘুমাচ্ছে।দু একজন কাজের মেয়ে উঠেছে শুধু।রিদি কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা নিজের রুমে আসে।তীব্রকে রুমে না দেখে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়।বেকানো বিল্ডিং এ হয়তো তীব্র ভেবে রিদি ওয়াসরুমে গিয়ে চোখ মুখে পানি দিয়ে বের হয় রুম থেকে।তীব্রর কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হতেই মুখোমুখি হয় কাজের মেয়ের। মেয়েটির নাম শশী অল্পবয়সী মেয়েটা রিদিকে দেখেই চমকে উঠে।
এমা!!ভাবি আপনে???
তীব্রকে কোথায় দেখেছো??
না ভাবি!!আপনে হাসপাতালে ভর্তি হইলেন হের পর তো ছোট ভাইজান তেমন বাড়ি আহে না।মাঝে মাঝে স্যারের ঐ বাড়ি থেকে বের হয়তে দেখি ।
রিদি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
ঠিক আছে যাও।
মেয়েটা যেতেই রিদি তীব্রর সেই বাঁকানো বিল্ডিং এর দিকে যেতে থাকে। অদ্ভুত,!!এতো সুন্দর তৈরি কাচের দোতলা বাড়ি অথচ কোন নাম নেই বাড়ির। তাছাড়া রিদিও কখনো এসব নিয়ে ভাবে নি। পড়াশুনা আর তীব্র কে সামলাতে সামলাতেই তার দিন ফুরিয়ে রাত শেষ হয়ে যেত।রিদির সাথে মজনু বেশে বিয়ে হওয়ার পর থেকে তীব্রর প্রতিটি কাজ রিদিকে নিজ হাতে করা লাগত। মজনু হিসেবে সে নিজ ইচ্ছায় করলেও তীব্রর সব কাজ তীব্র তাকে দিয়েই করাতো!তার ব্যবহৃত টিস্যু ও কারো ধরা ছোয়া মানা।সকাল সকাল উঠে তীব্র কে ঘুম থেকে তোলা তার কাছে যুদ্ধ মনে হত।ডাকতে গেলে আরো চেপে ধরে ঘুমাতো।আর লেট হলে তখন সব তাড়াহুড়ো করে করা লাগত রিদির।বাচ্চাদের মতো এ টু জেট তীব্রর সব কিছুই রিদিকে করা লাগত।তবে ভাগ্য ভালো যে এটলিষ্ট গোসল সে করত।না হলে পারলে তো গোসল ও তাকে দিয়ে করাতো।তবে শুধু গোসল ই করত।বের হয়ে আসা থেকে মাথা পর্যন্ত মুছে দিতে হতো সব রেডি করে আবার পড়িয়েও দিতে হতো! তবে চুল সে নিজেই সেট করত! চুল নাকি মানুষের পারসোনালিটি দেখাই !রিদি মাঝে মাঝে রেগে বলত,
সব আমাকে করতে হলে গোসল আর চুল কেন বাদ যাবে!সেটাও আমিই করব।
তীব্র ডেভিল হেসে বলত,
জান আপনি লজ্জায় কাঁপা কাপি না করলে আমি গোসল টাও আপনাকে দিয়েই করাতাম।পরে আপনার কাপাকাপি তে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি না তাই আরকি সব ভেবে গোসল বাদ দিয়েছি।বৌ কে আর রোজ রোজ প্যারা দিতে পারি না তাই না।আর চুল সেট সেটা আমিই করব।রিদি তীব্রর কথায় লজ্জা পেয়ে বলত,
আপনি একটা অসভ্য!!
তীব্র হেসে বলত,
সব স্বামীরাই বৌয়ের কাছে অসভ্য।আর যেখানে তীব্র চৌধুরী সেখানে অসভ্য এর মাএা হাই ই থাকে।
রিদি আর কথা বাড়াতো না।এই লোক একদম ঠোঁট কাটা। লজ্জার ছিটে ফোঁটা ও নাই। সেসব ভেবে রিদি হাসল।
বাইরে এসে রিদি বিল্ডিং এর দিকে তাকালো বাড়িটা পুরো কাচের।তবে ভেতর থেকে বাইরে দেখা গেলেও বাইরে থেকে ভেতরে দেখা যায় না।রিদি ফুলের বাগানের দিকে তাকাই বাড়ির একপাশে বিশাল ফুলের বাগান।সদ্য ফোটা টকটকে লাল গোলাপ দেখে রিদি এগিয়ে যায়।হাত বাড়িয়ে ফুলটা ছিড়ে নেই।শুরুটা না হয় লাল গোলাপ দিয়েই হোক।ভেবে ফুলটা নিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে। প্রথমেই নজরে আসে বিলাশ বহুল একটা রুম যেখানে সব উন্নত মানের সোফা রাখা ।যাকে ড্রইং রুম ও বলা চলে।একপাশে সাজিয়ে রাখা বুক সেল্ফ তাও কাচের।উপরে কাচের তৈরি ছাদ।তাতে বইছে জলধারা।রিদি ভালোমতো দেখে বেডরুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।বেডরুম পুরোটাই সাদা।খালি গায়ে উবুর হয়ে শোয়া তীব্রকে দেখে কয়েক কদম তীব্রর দিকে এগুতেই থমকে যায়।তীব্র কখনো উদাম শরীরে ঘুমাই না। শুধু যখন!!!
রিদির হাত পা ঝিম ধরে গেল।আজানা ভয়ে ধুকপুক করছে ভেতরটা।অনেক কষ্টে ভারি হয়ে আসা শরীর দু কদম এগুতেই পিঠের উপর লালচে দাগ দেখে মস্তিষ্ক ফাকা হয়ে যায় রিদির। মাথায় হাজারো চিন্তা ভাবনার মাঝেই ওয়াসরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে মোনা।ভেজা চুল থেকে টপটপিয়ে পানি পড়ছে।সদ্য গোসল করা সিগ্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে ব্যালেন্স হারালো রিদি।কাচের ফুলদানিটা হাত লাগায় ঝনঝন শব্দ তুলে ভেঙে গেল।
রিদিকে এই সময় রুমে দেখে হচকচিয়ে তাকাল মোনা।হয়তো ভাবে নি রিদি এখন এই সময়ে উপস্থিত হবে এখানে।মোনা নড়েচড়ে উঠা তীব্রর দিকে তাকালো।ঝনঝন আওয়াজ এ দু হাতে মাথা চেপে ধরল।রিদি এখনো নিরব স্থির।তীব্র দু হাতে মাথা চেপে ধরে স্থির হয়ে থাকা রিদির দিকে তাকালো।রিদিকে দেখে অবাক হয়ে বলল,
আপনি এখানে!!
রিদি তবুও নিশ্চুপ,নিরব ।সে এক ধ্যানে চেয়ে আছে তীব্রর দিকে।
তীব্র নিজেকে দেখে অবাক হয়ে সামনে মোনার দিকে তাকালো।মোনা মাথা নিচু করে অপরাধীর মতো দাড়িয়ে আছে।তীব্র পাশে থেকে শার্ট গায়ে জরিয়ে উঠে রিদির গিয়ে এগিয়ে গেল।
রিদি!!আসলে!!আমি!!আমি এসব!!
রিদি স্থির হয়ে আছে।তবে চোখের পানি বাঁধ মানছে না। কাঁপা কাঁপা গলায় কোন মতে বলল
আপনাদের মধ্যে কিছু হয়েছে??
তীব্র কিছু বলতে চেয়েও বলল না।শান্ত হয়ে বসল বিছানায়।নিয়মমতো শান্ত কন্ঠে বলল,
ভুল হয়েছে!!কাল আমি নেশার ঘোরে….
তীব্রর এতো শান্ত স্বাভাবিক কন্ঠের কথায় রিদি তাকাল তীব্রর দিকে।এতো কিছুর পরেও তীব্রর স্বাভাবিক কন্ঠে রিদির ভেতর সদ্য গড়ে তোলা হৃদয় আবারো চুরচুর হয়ে গেল। হাতের টকটকে লাল গোলাপ টা চেপে ধরল যার ফলে কাঁটা ঢুকে রক্ত পড়তে লাগল।সেদিকে কোন খেয়াল নেই রিদির।
আমাকে আপনার আর ভালো লাগছে না তাই না তীব্র! কথাটা বলেই রিদি তাচ্ছিল্য হেসে বলল, শুকিয়ে যাওয়া শরীর। অসুস্থ অবস্থা।ক্লান্ত আপনি তাই না!!
তীব্র দু হাতে বেড শীট ঘামচে ধরল।তবে কিছু বলল না।রিদি তীব্র কে নিশ্চুপ দেখে আবারো বললো।
একবার!! শুধু একবার বলেন!!আপনাদের মধ্যে কিছু হয়নি!!আমি একদম আপনার মনের মত হয়ে যাব।যা বলবেন তাই করব।যেভাবে আমাকে আপনি চান সেভাবে থাকব। শুধু একবার বলেন তীব্র আপনাদের মধ্যে কিছু হয়নি!আপনি বললে আমি কখনো আর এই ব্যাপারে কথা বলব না! সত্যি বলছি।
টকটকে লাল গোলাপের মতো এখন তীব্রর চোখও রক্ত লাল।গলাটা যেন এবার গম্ভীর হল। গম্ভীর গলায় বলল,
কিছু হয়নি বললে তো আর সত্য মিথ্যা হয়ে যায় না!
তীব্রর কথায় কয়েকপা পিছিয়ে গেল রিদি যার ফলে ভাঙ্গা ফুলদানির উপর পা পড়তেই ব্যাথায় টনটন করে উঠলো শরীর। কিন্তু এই ব্যাথা বর্তমানের পরিস্থিতির কাছে কিছু না। ভেঙে যাওয়া শরীর থেকে ফোটায় ফোটায় আরো রক্ত পড়তে লাগল।তবে বুকের ভেতর যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তার কাছে হয়তো কিছু না।
তীব্রর কথায় স্পষ্ট উওর পেয়ে রিদি নিশ্চুপ হয়ে গেল।১মিনিট ২মিনিট ঠিক পাঁচ মিনিট পর বলল,
কেন করলেন এমন তীব্র??আপনি এটা করতে পারেন না!!বলেই হু হু করে কেঁদে উঠলো।আর সহ্য হচ্ছে না।এর চেয়ে মৃত্যু ভালো।
তীব্র বিরক্ত কন্ঠে বলে,
এভাবে কাঁদছেন কেন??মরা কান্না বন্ধ করূন।বলছি তো যা হয়েছে তা একটা ভুল।নেশার ঘোরে ছিলাম।তাছাড়া আই ওয়ান্ট ফিজিক্যাল নিড।যা আপনার……
ঠাসসসস……..
আমির পরপর তীব্রর গালে থাপ্পর দিয়ে রাগান্বিত হয়ে বলে,
কোন মুখ দিয়ে এসব কথা বলছ!!ছি……
একবার বিবেকে বাঁধছে না।এতো অধঃপতন তোমার।
রায়ান স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।এমন কিছু সে কখনোই আশা করেনি।রাগে শরীর কাঁপছে।মোনাকে একবার দেখে তীব্রর দিকে ঘৃনিত দৃষ্টিতে তাকালো রায়ান। ছি……..
রায়ান রিদির সামনে দাঁড়ায়।রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
এরপরও তুই এখানে থাকবি?চল আমার সাথে!!রিদি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে দেখে রায়ানের ভেতর ছ্যাত করে উঠল।প্রায় মাস খানেক রিদি শুধু চোখের পানিই ফেলছে।
ভাইয়া ওনাকে বল না বলতে এসব মিথ্যা।আমি জানি তো ওনি এমন কিছু করবে না।
রায়ান রেগে রিদির হাত ধরে উঠাতে গেলে ভেজা কিছু হাতে ঠেকল।হাতের দিকে তাকাতেই রক্ত দেখে থ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। শুধু হাত না পা থেকেও দরদরিয়ে রক্ত পড়ছে।রায়ান কিছু বলার আগেই তীব্র হঠাৎ করেই রিদিকে টেনে বিছনায় বসিয়ে দেয়।সবাই এবার অবাক। তীব্র রেগে বলে,
রক্ত ঝরিয়ে কি প্রমান করতে চাইছেন আপনি মহান!!আপনি অবাধ্য নারী!তীব্র চৌধুরীর জীবনে অবাধ্য নারীর কোন প্রয়োজন নেই।
রায়ান রেগে তীব্রকে কিছু বলবে তার আগেই তীব্র ড্যায়ার থেকে ওষুধের বক্স বের করে রায়ানের হাতে ধরিয়ে দেয়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
আমাকে রাগ দেখানোর চেয়ে বোনের চিকিৎসা জরুরি।এসব করে সবাই বিদেয় হও আমার রুম থেকে।
রায়ান অবাক হলেও আগে রিদির হাতের ব্যান্ডেজ করতে লাগে। কিন্তু রিদি স্তব্ধ,স্থির।এখন আর ফুপিয়েও কাঁদছে না।একধ্যানে তাকিয়ে আছে দুমরে মুচড়ে যাওয়া সকালের সেই গোলাপের দিকে। কিছুক্ষণ পর তীব্রর মতো শান্ত স্বরে বলে,
আপনি আপু কে বিয়ে করবেন।তীব্র টকটকে লাল চোখে তাকাল রিদির দিকে।রিদির দৃষ্টি ফুলের দিকে দেখে গম্ভীর স্বরে কিছু বলার আগেই রিদি আবারো বলল,
করবেনই তো!!আমার থেকে পারমিশন নিবেন না!!আমি কিন্তু আপনার প্রথম স্ত্রী।
আমির রেগে বলে,
কার সাথে কথা বলছিস!!ও একটা অমানুষে পরিনত হয়েছে।তুই চল আমার সাথে।এখনো তোর রুচি আছে এমন মানুষের সাথে কথা বলার।
রিদি স্থির হয়ে শান্ত স্বরে বলে,
মামা,ভাইয়া আমি তীব্রর সাথে কিছু কথা বলতে চাই।
রায়ান কিছু না বলে রেগে গটগট করে বাইরে চলে আসে। আমিরও বাইরে বের হয়।রিদি কাঁপা কাঁপা হাতে তীব্রর হাতটা ধরে বিছানায় বসিয়ে দেয়।তীব্র কোন কথা না বলে বিছানায় বসতেই রিদি বাম হাতটা টেনে সামনে আনে।সেখানে কাচের টুকরা হাতে চেপে আছে তীব্র। রিদি তীব্রর মুঠ খুলে কাচটা ফেলে দেয়।ব্যান্ডেজ করতে চাইলে তীব্র হাত সরিয়ে নেয়। রিদি জোর করে তীব্রর হাত নিজের কোলে রেখে বলল,
আমি পারমিশন দিলাম দ্বিতীয় বিয়ের জন্য।
রিদির কথায় তীব্র আড়চোখে তাকালো রিদির দিকে,
চাইলে আপনিও থাকতে পারেন!
তীব্রর কথায় পরিবর্তে রিদি বলল,
আমি কখনো আর মা হতে পারব না।এটা আমি রিপোর্ট এ কাল দেখছি।তীব্র চুপ করে আছে। কিছু বলল না।
আপনি হয়তো রিপোর্ট দেখেছেন।আমি ধরে নিলাম এটাই কারন এতোকিছুর। যদিও জানিনা কেন করছেন এসব!!তবে এতে যদি আপনি ভালো থাকেন তো আমি রাজি।এই টুক কথা বলতেই রিদি যেন হাঁপিয়ে গেল।জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। যাবার আগে করুন কন্ঠে বলল,
একবার একটু জরিয়ে ধরি!!
তীব্র কিছু বলছে না দেখে রিদি যেতেই তীব্র বলল,
ধরতে পারেন!!
রিদি তীব্রর দিকে তাকালো। তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
একবার ধরলে যদি আর না ছাড়তে পারি!যাকে ছাড়তেই হবে তাকে আর জরিয়ে ধরে কষ্ট বাড়াতে চাইছি না।আসি
রিদি যাওয়ার সময় একবার মোনা কে দেখে বাইরে বের হল।রায়ান রিদিকে আসতে দেখে রিদির কাছে এসে দাড়ালো।রিদির শরীর কাঁপছে। রায়ান রিদির অবস্থা দেখে কাউকে কিছু না বলেই কোলে তুলে গাড়িতে বসিয়ে দিল।সে জানে এখন কি হবে। এতো দিন কম তো দেখল না।কারো সাথে কোন কথা ছাড়াই রিদিকে নিয়ে বাসায় ফিরল।পুরো রাস্তা রিদি কাপলেও ঙ্গান হারাই নি। বাসায় এনে ডাক্তার দেখে যায় রিদিকে। এরপর দুদিন ঘরবন্দি থাকে রিদি।
আপনাতেই আমি পর্ব ৫৫
দুদিন পর কোথাও যেন যাই রিদি। রায়ান সব জায়গায় খুজে যখন হইরান তখন ঠিক সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে রিদি।রায়ানকে সেদিন কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নিজে বলে,
ডিভোর্স পেপার!আমি সাইন করে দিয়েছি!এটা চৌধুরী বাড়িতে পাঠিয়ে দিও।আর আমি একটা জব পেয়েছি সেখানে কাল চলে যাব।প্লিজ আমাকে যেতে দিও ভাইয়া!
রিদির হঠাৎ এমন পরিবর্তনে রায়ান অবাক হয়েছিল। এইটুকু মেয়ে এতো কিছু কিভাবে সহ্য করছে।কিভাবে কোন রাগ, চেঁচামেচি ছাড়াই সব মেনে নিচ্ছে। এরপর রিদি একমাস শহর থেকে দূরে এক গ্রামে থাকে। সেখান থেকেই মূলত এই হসপিটালে চাকরি পায়।আর এভাবেই কেটে যায় কয়েকটা মাস।
