আপনাতেই আমি পর্ব ৬
ইশিকা ইসলাম ইশা
সকাল গড়িয়ে সময়টা তখন দুপুর। রুপালি এসেছে প্রায় ঘন্টার বেশি হবে।রিদি এখনো আসে নি ওকে দেখতে।অথচ রিদির হাতের রান্নার গন্ধে বাড়ি মৌ মৌ করছে।মেয়েটা কি রান্নাঘরে। থাকলেও একবার আসবে না দেখতে।নাকি ওর সাথে যোগাযোগ না করাই রেগে আছে।হাতে গোনা ৪-৫ বার কথা হয়েছিল এই দের বছরে।তাও রিদি ই জোর করে কথা বলত।রুপালি হ্যা না ছাড়া কিছুই বলত না।এতোকিছুতে ওর দোষ টা কোথায়ও না থাকলেও নিজের এলোমেলো জীবনটার জন্য কেন জানি রিদি কেই দায়ী মনে করেছে। রুপালি চোখ বুলাল আশেপাশে আমেনা তীরের খাতির করতে ব্যস্ত ,বড়চাচির শরীর খারাপ তাই কিছুক্ষণ আগেই গেল রুমে।তীরের পাশে বসে আছে রাদিফ ভাইয়া।সে টুকটাক কথা বলছে।দের বছরে রাগ কমেছে কিছুটা।
আম্মু রিদি কোথায়??
আছে হয়তো রুমে।ওর কথা ছাড় তুই বেশি করে খাবি বুজলি।এখন বেশি বেশি খাওয়া লাগে।
রুপালি বিরক্ত হল।আসা থেকে এটা ওটা খেয়েই চলছে।তবুও বলেই যাচ্ছে।
আমি একটু আসছি।কথাটা বলে রুপালি রিদির রুমের দিকে যায়।
এই রিদি এই শাট গুলো রাদিফের কাবাডে রেখে দে তো মা।পায়ের ব্যাথায় আর উপরে উঠতে পারছি না।বড়চাচির কথায় রিদি কিছুটা অবাক হয় তবে কিছু না বলে রাদিফের শার্ট গুলো নিয়ে রুমে যায়।
রিদি এসে কাপড় নিয়ে রাদিফের রুমে যায়। রাদিফের রুমে ছোট বেলায় বেশি আশা যাওয়া ছিলো। কিন্তু চাচির মানা করার পর আর আসা হয় নি। অদ্ভুত কারনে ভাইয়াও দূরে সরে গেল।টুকটাক কথা বলে এই আরকি। রিদি শাট গুলো রেখে নিজের রুমে চলে আসে।এসে দেখে রুপালি বসে আছে। রুপালি কে দেখে চমকালো রিদি।ছুটে গিয়ে বোনকে জরিয়ে ধরতে যেযেও ধরল না।
রুপালি অভিমান করে বলে,
আমি কত দিন পর আসলাম তুই একবার আসলি ও না!!
রিদির কাঁদতে ইচ্ছে করছে।বোনকে জরিয়েই কতো কেঁদেছে সে,আসলে রান্না করে এসে আরাম করছিলাম।বুঝতে পারি নি তুমি এসেছে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মিথ্যা কেন বলছিস??নিশ্চয় আম্মু কিছু বলেছে!
নাতো!আচ্ছা ছাড়ো।তুমি কেমন আছো??
আছি ভালো।তুই??
আমিও ভালো আছি।রিদির মনে অনেক প্রশ্ন? কিন্তু করার সাহস পাচ্ছে না। রুপালির ব্যবহার তাকে বলে দিয়েছিল রিদির কারনে তীব্র হয়তো রুপালির সাথে বাজে ব্যবহার করেছে।তবুও জিঙ্গসা করেই ফেলল,
তীব্র ভাইয়া কি ঐদিনে ঘটনার জন্য তোমাকে কিছু বলেছিল।আমার জন্য কি তোমাকে কষ্ট পেতে হয়েছে।তুমি তো জানো আপু আমি কিছুই ইচ্ছে করে করিনি।
রুপালি শান্ত স্বরে বলল,
ওনি কিছুই করেনি রিদি,কিছুই না।
তাহলে তুমি কেন আমার সাথে কথা বলতে না।জানো আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি।তোমার আর তীব্র ভাইয়ার রিয়েতেও তো যেতে পারি নি।
তুই জানিস আমার বিয়ে কার সাথে হয়েছে??
জানার কি আছে!!!তীব্র ভাইয়ার সাথে!
তীব্র আমার বর না রিদি।তীর আমার বর!!
চমকালো রিদি,ভরকালো,
মজা করছ আপু!!!
এদিকে আয় বস।সেদিন তোরা চলে আসার পর তীব্র সব ভাংচুর করেছে আবারো।
তবে তীরের বিয়ের দিন বিশাল কান্ড হয়।তীরের সাথে যার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সে নিখোঁজ হয়ে যায়।।তীর ভাইয়া ছুটে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যায় লাশ নদীতে। সেদিন তীর ভাইয়ার আত্বনাদ কাঁপিয়ে তুলেছিল সবাইকে।এরপর তীর বদলে যায়।আমি আম্মু এমন অবস্থায় আসতে পারিনি একা ফেলে। আবার এর মাঝে তীব্র নিখোঁজ হয়ে যায়।তার কোন খোজ পাওয়া যায় না।
৩টা মাস পর তীব্র যখন আসে তখন মামু বিয়ের কথা বলে।তীব্র নাকি প্রায়ই এমন গায়েব হয়ে যায়।বিয়ে দিয়ে মামু তাকে বাঁধতে চেয়েছিল।সেদিন আমাদের বিয়ে ছিল কিন্তু বিয়ের দিন তীব্র আসে না।মামুর সন্মান বাঁচাতে তীর আর আমার বিয়েটা হয়।হুট করে এমন হওয়াই আমরা কেউ ই একে অপরকে মেনে নিতে পারি নি। বিয়ের দিন তুই আর রিদ যাস নি।রিদ তোকে ঐবাড়িতে যেতে দেয় নি।তাই সবাই বিষয়টি জানলেও তুই জানিস না।আর রিদ তোকে এসব বলতে বারন করেছে।রিদ তোকে অনেক বেশি ভালোবাসে তাই না!!
জমজ আমরা হলেও তোর উপর ওর টান বেশি।রিদি সব শুনে হতবাক হয়ে আছে। এতোকিছু হয়েছে আর সে কিছুই জানে না।
ওনি কেন আসেন নি???
জানি না!!
জানো না মানে??ওনি বলে নি।
না!কোন কারন বলে নি।
অসভ্য,ইতর প্রাণী ওনি আপু।তোমার যোগ্য না।
রুপালি হাসল ,আমিও তাই ভাবতাম।তবে এখন মনে হয় আমি ভালো আছি।
বিয়ের ঠিক ৪ মাস পর বাসায় আসে তীব্র।মামু রেগে যান।জানতে চাইলে তীব্র বলে না কিছু। শুধু বলে ভালো লাগে নি তাই আসে নি।
রিদি রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
তোমার উচিত ছিল ঠাটিয়ে চর মারা!!
রুপালি হেসে বলে,
তোর মতো সাহসী নয় যে আমি। রুপালি একটু থেমে আবারো বলে,তীব্র আসর পরেও ওনি আমার কাছে আবেগ ছিল আমার প্রথম ভালবাসা ছিল। তীব্র কে খুশি করার সব সময় চেষ্টা করতাম। তীর আর আমার মধ্যে তখনো কোন সম্পর্ক ছিল না।এক জনের বৌ হয়ে অন্যজনে আসক্ত ছিলাম। কিন্তু সেদিন রাতে আমি সব সীমা লঙ্ঘন করেছি,
রাত তখন বাজে ১.৫০,
পাতলা একটা শাড়ি জরিয়ে নিয়েছে রুপালি।ফসা শরিরে কালো শাড়ি তাও পাতলা যেন আবেদনময়ী করে তুলেছে। ঘন কালো কেশ ছেড়ে দিয়েছে।এই রুপ যে দেখেছে সে সবকিছু ভুলবে নিশ্চিত।নিজেকে তৈরি করে তীব্রর রুমে যায় রুপালি। উদ্দেশ্য এই রুপ দিয়ে তীব্র কে বস করা।আবেগে পাগল হয়ে গেছে রুপালি।
তীব্রের রুমে গিয়ে দেখে তীব্র যাস্ট গোসল করে বের হয়েছে। রুপালি গিয়ে তীব্র কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। হঠাৎ এমন হোওয়াই চমকে যায় তীব্র।পেছনে ফিরে রূপালি এমন রুপ দেখে থম মেরে যাই। রুপালি ভেবেছিল যতোই হোক পুরুষ মানুষ তো এমন ভয়ঙ্কর রুপ দেখে গলে যাবে। রুপালি এগিয়ে এসে ছুঁয়ে দেয় গাল।চোখ বুজে নেয় রুপালি।পরক্ষনেই তীব্র দ
ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে টাওয়াল টা জরিয়ে দেয় রুপালিকে।
চলে যাও….
রুপালি তখন দিশেহারা।সে পেতে চাই তীব্র কে।জরিয়ে ধরে তীব্র কে আবারো।তীব্র এবার রেগে ঠাসস করে থাপ্পর মারে রুপালিকে,
রুপ দেখিয়ে পাপ করতে চাইছ !তুমি কি ভুলে যাচ্ছো তুমি কে???
না ।না আমি ভুলিনি। কিন্তু আমি আপনাকে ভালোবাসি।আমি পারছি না সব মেনে নিতে।আপনি আমাকে গ্রহন করুন।না হয় আমাকে মেরে ফেলুন।
অপবিত্র আমিকেই চাই তোমার রুপালি। রুপালি হতবাক হয়ে তাকাই।কান্না থেমে যায়। রুপালি হতভম্ব মুখ দেখে বলতে শুরু করে তীব্র,
আম ইন্টিমেট ইন ম্যানি টাইমস।থমকে যায় রুপালি। তীব্র আবারো বলে,বাট অমার ভাই কিন্তু পিয়র।ফিরে যাও।
রুপালিকে তবুও দাড়িয়ে থাকতে দেখে বিরক্ত হয় তীব্র।
কি হল দাড়িয়ে আছো কেন???
রুপালি কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে আজো নিশ্চয়…….
তাই তো এসে গোসল করেছেন।
রুপালির কথা বুঝে হাসল তীব্র। তীব্রর হাসি যেন বুকে ঝঙ্কার তুলে দেয় রুপালির।তীব্র কয়েক সেকেন্ড থেমে বলে,
যদিও এই প্রশ্নের উওর দিতাম না তবে বলছি!! না বিগত অনেক মাস আমি কাউকে ছুই নি।বিশ্বাস করতে বলছি না।এমনটা না যে হতে চায় নি।পারি নি।নারী নেশার চেয়েও ভয়ংকর নেশা চেপে ধরেছে।
কি সেই নেশা???
বলতে বাধ্য নয় আমি!!
আপনি কি আমার এই রুপে মুদ্ধ হন নি।
সত্যি বলছি তোমাকে প্রথম দেখে তোমাকে পাওয়ার ইচ্ছে ছিল ।তাছাড়া আমি কেন যে কেউ এমন লুকে তোমাকে দেখলে আটকে যাবে। পুরুষত্ব জেগে উঠবে।চাহিদা পূরণ করতে চাইবে।তবে এটা শুধু শারীরিক সম্পর্ক হবে।
রুপালি বলল,
কাউকে ভালোবাসেন!!!
হেসে উঠলো তীব্র।জবাব দিলো না তখনি। রুপালি রাগ হলো। চেঁচিয়ে উঠে গাঁয়ের তোয়ালে ফেলে দিল।
দেখুন আমাকে ভালো করে দেখুন।নেশা ধরবে তো আমাকে দেখে।
তীব্র শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রুপালির মুখশ্রীর দিকে।রুপালি ও তাকাল তীব্রের দিকে।তীব্র শান্ত।চোখে নেই কোন নারী সত্বা নেশা।না আছে চাহিদা।তীব্র আবারো টাওয়াল তুলে জরিয়ে দেয় গায়ে।
আমার প্রিয় মানুষের প্রিয় মানুষ তুমি। তোমার ক্ষতি চায় না।আমার ভাই অনেক ভালো।ভালোবেসে আগলে নাও।আজকের সঠিক পথ একদিন তোমাকে খুশি দিবে।আমি ভয়ংকর রুপালি আমার সাথে নিজেকে জরিয়ে নেওয়া থেকে বেঁচে যাও।তবে আমি শান্ত শুধু একটা জায়গায়।২৬বছরের জীবনে কোথাও আমি শান্ত হয়েছি। বলতে পারো হতে চাই নি বাধ্য হয়েছি। আমার হাত,পা বাঁধা চাইলেও তাকে মেরে ফেলতে পারছি না।অনেক অশান্তিতে রেখেছে।আমার শান্তিপূর্ণ জীবনে অশান্তি হয়ে এসেছে।।তবে আমাকে শান্ত করার অপরাধে তাকে কঠিন শাস্তি দিব আমি।আমাকে বাধ্য করার অপরাধের শাস্তি সে পাবে।বলেই বের হয়ে যায় রুম থেকে।
সেদিন রুপালি কাদে ভীষন কাঁদে।অপমানে তরুণীর কান্না বাড়ছে।পাগল পাগল লাগছে। নিজের রুমে এসে সব ভাংচুর করে রূপালি।শব্দদ পেয়ে ছুটে আসে তীর।রুপালিকে এই অবস্থায় দেখে ঘাবরে যায়। হ্যাং করে মাথা।ছুটে এসে জরিয়ে ধরে। কান্নার কারনে কথা বলতে পারছে না। কোন মতে সামলে নেয় রুপালি কে।গায়ে একটা চাদর জরাতেই রুপালি ফেলে দেয়।তীর শুককনো ঢোক গিলে বলে,
নিজেকে ঢেকে রাখ রুপ।
আমাকে একটু ভালোবাসা দিবেন!!
এমন আবদারে মানা করা যায় না।তবুও উঠে দাড়াই তীর।পুরানো ঘা এখনো তাজা।তার ও কাউকে চায় নিজেকে হালকা করার জন্য তবে সেটা শরীর দিয়ে নয়।
তীর উঠে দাড়াতেই রুপালি গ্লাস ভেঙ্গে কাঁচের টুকরা হাতের কবজি তে ধরে বলে,
মেরে ফেলব নিজেকে।
আপনাতেই আমি পর্ব ৫
তীর ঝট করে কাচের টুকরো ফেলে জরিয়ে ধরে রুপালি কে।দুটো ভাঙ্গা মনের মানুষের শরীরের সাথে সাথে মনেরো মিলন ঘটছে বোধহয় সেদিন।
এরপর ধীরে ধীরে তীরকে ভালোবেসে ফেলে রুপালি।তীর ও ভালোবাসায় সিক্ত করে রাখে তার রুপসি কন্যাকে। শুরুটা খারাপ হলেও জীবনে নতুন প্রেমের অধ্যায় শুরু করে তারা। ভালবাসার নতুন প্রনয়।
