ইন্তেজার এ ওয়াসিল পর্ব ১৯
নওরিন কবির তিশা
ইদানিং আরাভের কর্মনিষ্ঠা, কঠোর দায়িত্বপরায়নতা আর সুচারুরূপে সমস্ত কিছু সম্পন্ন করার ভঙ্গিতে তাকে নিজের সুযোগ্য সন্তান উপাধি দিতে কোনো দ্বিধা নেই আনোয়ার খানের। এদিকে অগ্নিপরীক্ষা অতি সন্নিকটে;আগামী মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন। ক্ষমতার এই চূড়ান্ত লড়াইকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সাজসাজ রব।
আনোয়ার খান চান, ব্যবসায়িক দক্ষতার পাশাপাশি আরাভ এবার সরাসরি ওনার এই রাজনৈতিক ময়দানেও নিজের আধিপত্য বিস্তার করুক। যেহেতু একমাত্র ছেলেই তার ভবিষ্যৎ সমস্ত কিছুর উত্তরাধিকারী। বাবা ছেলে বসে আছেন আনোয়ার খানের খাস কামরায়। আনোয়ার খান পরম তৃপ্তিতে সন্তোষের হাসি হেসে পুত্রের দিকে চেয়ে বললেন,,
— আরাভ, টেক্সটাইল আর রিয়েল এস্টেটের এই বিজনেস যেভাবে তুমি ট্র্যাক-এ এনেছ, আই অ্যাম রিয়েলি ইমপ্রেসড। বাট নাও, ইটস টাইম ফর দ্য বিগ গেম। সামনের মাসে আমাদের ন্যাশনাল ইলেকশন। তুমি তো জানোই, এবার অপোজিশন আমাদের সিটগুলো টার্গেট করছে। আমি চাই, তুমি ডিরেক্টলি আমার এই ক্যাম্পেইনের রেসপন্সিবিলিটি নিজের কাঁধে তুলে নাও। ইয়ুথ উইং আর ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা-পুরো সেক্টরটা তুমি হ্যান্ডেল করবে।
আরাভ ফাইলের পাতা থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই অত্যন্ত নিরাসক্ত স্বরে জবাব দিল,,
— আই অ্যাম স্যরি, বাবা। আমি এই পলিটিক্যাল কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে আর জড়াতে চাচ্ছি না। কর্পোরেট লাইফটাই আমার জন্য কমফর্টেবল। ওখানে অননেসেসারি কোনো ড্রামা নেই।
— ড্রামা বলছ, আরাভ? দিস ইজ পাওয়ার! এই যে তুমি আজ শান্তিতে বিজনেস করছ, এর পেছনের ব্যাকআপ কিন্তু আমার এই পলিটিক্যাল পাওয়ার। আর তাছাড়া, এবার আমাদের নমিনেশন আর সিম্বল অ্যালোকেশনের সমস্ত ইন্টারনাল প্রসেস অলরেডি কমপ্লিট। অপোজিশন অলরেডি সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ফেক স্ক্যান্ডাল ছড়ানোর ট্রাই করছে। তুমি যদি এই ক্রিশিয়াল মোমেন্টে ফ্রন্টলাইনে না দাঁড়াও, তবে মিডিয়া আর পাবলিক আমাদের উইকনেস ভেবে ভুল করবে। আমার ইমেজ আর ফ্যামিলির সিকিউরিটি,দুটোই এখন তোমার ডিসিশনের ওপর ডিপেন্ড করছে।
বাবার মুখে এই জরুরি তথ্য আর প্রচ্ছন্ন চাপের মুখে আরাভ ক্ষণকালের জন্য নীরব রইল। কলমটা টেবিলের ওপর রেখে সোজা হয়ে বসল। ও বুঝতে পারল, এই ক্ষমতার লড়াইয়ে চুপচাপ বসে থাকলে দিনশেষে সফলতার কাটা শূন্যই গিয়ে ঠেকবে। এক প্রলম্বিত শ্বাস টেনে ও বলল,,
— ওকে, ফাইন! আই উইল ডু ইট। ক্যাম্পেইনের স্ট্র্যাটেজি আর ইয়ুথ উইংয়ের কোঅর্ডিনেশন আমি নিজেই দেখব। তবে আমার একটা শর্ত আছে—পলিটিক্যাল কোনো র্যালিতে আমি ডিরেক্টলি স্টেজ শেয়ার করব না। ব্যাকস্টেজ থেকে পুরো গেম আমি কন্ট্রোল করব, সো নো ওয়ান ক্যান কোশ্চেন মাই মেথড।
আনোয়ার খান পরম তৃপ্তিতে ছেলের কাঁধে হাত রাখলেন,
— ওকে মাই সান! অ্যাজ ইওর উইশ। তুমি সাথে থাকলেই হবে।
মধ্যাহ্নের প্রখর সূর্যালোকেও ডিআইজি অফিসের বাতায়নগুলো নিবিড় পর্দায় আবৃত,তাহের চৌধুরীর সামনের চেয়ারে বসে আছে রুদ্র। আকস্মিক নীরবতা বিদীর্ণ করে তাহের চৌধুরী বললেন,,
— অনেকদিন তো হয়ে গেল রুদ্র, তিয়াশা তন্নতন্ন করে খুঁজেও পেনড্রাইভের কোনো হদিস পায়নি। আমার মনে হয় আরাভ ওটা নিজের কাছে রাখেনি।
রুদ্রদ্বীপ নিজের হাতের নথিপত্রগুলো গুছিয়ে নিয়ে সোজা হয়ে বসে;প্রখর, দূরদর্শী চক্ষুদ্বয় মেলে বলল,,
— আই গেস আপনি ঠিকই ধরেছেন, স্যার। আরাভ মোটেও বোকা নয়। আইটি সেক্টর আর সাইবার সিকিউরিটিতে ওর নলেজ কিন্তু বেশ শার্প। ব্ল্যাকমেইলের ওই মেইন ডাটা ও কখনোই ফিজিক্যাল কোনো ডিভাইসে নিজের বেডরুমে ফেলে রাখবে না। মোস্ট প্রবাবলি ওটা ওর পার্সোনাল কোনো ক্লাউড সার্ভারে অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই সুরক্ষিত ডিজিটাল লকারে সেভ করা আছে, যেখানে আমাদের সাধারণ সোর্সের পৌঁছানো ইম্পসিবল।
তাহের চৌধুরী টেবিলের ওপর ঝুঁকে এসে ব্যাকুল কণ্ঠে শুধালেন,,
— এখন? এখন কি তবে আর কোনো ওয়ে পাবো না? আমার মাথা ব্ল্যাংক!
— নট অ্যাট অল, স্যার! প্ল্যান ‘বি’ অলরেডি অ্যাক্টিভেটেড। তিয়াশাকে বের করার জন্য আমাদের এখন আর পেনড্রাইভের ওপর ডিপেন্ড করতে হবে না। কাল রাতে আমার হ্যাকিং টিম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নমিনেশন ও সিম্বল অ্যালোকেশনের ডাটাবেজে একটা লুপহোল খুঁজে পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আরবের ব্ল্যাকমেইল আর ফেক ছবির প্রুভ আমরা কাল সকালের মধ্যে সাবমিট করছি।
রুদ্রদ্বীপ একটু থেমে অতঃপর তাহের চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আশ্বস্তকারী কন্ঠে বললো,,
— শুনুন স্যার, আগামীকাল সকাল ১০টায় কোর্ট থেকে আরাভের বিরুদ্ধে একটা সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হচ্ছে। তবে সেটা কোনো অফিশিয়াল রেইড হবে না। আনোয়ার খানের ক্ষমতার দাপট রুখতে আমরা লিগ্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের এই ডাটাগুলোকে মিডিয়ার সামনে এক্সপোজ করব। যখনই এই জাল জালিয়াতির খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লাস্ট হবে, তখন নিজের ফ্যামিলি ইমেজ বাঁচাতে আনোয়ার খান নিজেই তিয়াশাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন। আমি কাল বিকেলের মধ্যেই তিয়াশাকে আপনার কোলে ফিরিয়ে দেব, স্যার। দিস ইজ মাই ফাইনাল কমিটমেন্ট।
তাহের চৌধুরীর ম্লান মুখে এতক্ষণে এক চিলতে স্বস্তির আলো ফুটে উঠল। ওনার চোখের কার্নিশের অশ্রুবিন্দু মুছে রুদ্রর হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরলেন।
তিয়াশা আগের থেকে কিঞ্চিৎ সুস্থ। অবশ্য সুস্থতার নেপথ্যে যে আরাভের সেবা-শুশ্রূষা রয়েছে তা বলার অবকাশ রাখেনা। এতে তিয়াশা্র মনের উপর কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা বলা দায়! কেননা, নিজের মনোভাব নিজেই বুঝতে অক্ষম এক বোকা মানুষ হিসেবে নিজেকে গণ্য করতে শুরু করেছে তিয়াশা। কিছুক্ষণ আগে, আরাভের ফোনে কল করেছিলো আদ্রিতা। সেখান থেকে সমস্ত কিছুর বিস্তারিত বিবরণ পেয়েছে ও।
সন্ধ্যা নামার মুখেই আকাশ ভেঙে নেমেছে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি।তিয়াশা বারান্দার রেলিংয়ে হাত রেখে উদাসীন নেত্রে চেয়ে রয়েছে দূর অন্তরীক্ষে। আকস্মিক লঘু পদক্ষেপে বারান্দায় এসে দাঁড়াল আরাভ। আজ সারাদিন ও বাইরে বের হয়নি, ঘর থেকেই ল্যাপটপে সমস্ত ব্যবসায়িক কাজ সামলেছে। ওর দুই হাতে ধোঁয়া ওঠা দুই কাপ কফি। তিয়াশার পাশে এসে দাঁড়িয়ে এক কাপ কফি ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে ওষ্ঠাধরে আলতো হাসি ফুটিয়ে বলল,,
— বৃষ্টির এই স্যাঁতসেঁতে সন্ধ্যায় গরম কফি কিন্তু বড্ড জমে, সুইটহার্ট। নাও, খেয়ে দেখো।
তিয়াশা নিঃশব্দে কফির কাপটা হাতে নিল। গরম তরলে চুমুক দিতেই আচ্ছন্ন করা সুবাস দুই হৃদয়ের মাঝখানের দূরত্বটাকে যেন ক্ষণিকের তরে ভুলিয়ে দিল। হঠাৎ,আরাভ কফির কাপে চোখ রেখে এক ম্লান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,,
— এত কিছুর পরও বোধহয় আমি তোমার যোগ্য হতে পারলাম না, তিয়াশা। এই আক্ষেপ আর কষ্টটা মনে হয় সারাজীবন এক মস্ত বড় বোঝা হয়ে আমার বুকে চেপে থাকবে।
তিয়াশা চমকে উঠে ওর দিকে চাইল। আরাভের কণ্ঠের এই আকস্মিক অবসাদ ওকে কেমন যেন দিশেহারা করে তুলছে। ও কিছু বলতে যাওয়ার আগেই আরাভ কফির কাপটা পাশের টেবিলে রেখে অত্যন্ত শান্ত-নিরাসক্ত গলায় বলল,,
— বাই দ্য ওয়ে, আজ রাতেই তোমার প্যাকিংগুলো গুছিয়ে নিও। কাল সকালেই আমি নিজে তোমাকে তোমার বাবার বাসায় দিয়ে আসব।
আরাভের মুখ থেকে এই অভাবনীয় বাক্যটি শ্রবণমাত্রই তিয়াশার হাতের কফির কাপটা কেঁপে উঠল। ও বিস্ফোরিত নেত্রে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে চেয়ে রইল। আরাভ ওর সেই স্তব্ধ আননের পানে চেয়ে এক অতি মলিন, তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। ওর চোখ আঁখিদ্বয়ে তখন এক সুগভীর যন্ত্রণার মেঘ ঘনীভূত। ও অত্যন্ত নিচু অতি আর্দ্র স্বরে বলতে শুরু করল,,
— তোমার সূক্ষ্ম ছলনাও আমি সহ্য করতে পারব না,তিয়াশা চৌধুরী। শুরু থেকেই আমি জানতাম তুমি আমার এই খাঁচায় স্বেচ্ছায় বন্দি হওনি। তবুও এই অবাধ্য মনটা চরম অন্ধ হয়ে বিশ্বাস করতে চেয়েছিল যে, তুমি অন্তত আমাকে এতটা বড় ধোঁকা দিতে পারো না। তাই আমি চাই, আমার মন তোমাকে বিশ্বাসঘাতক উপাধি দেওয়ার আগেই তোমাকে তোমার বাবার বাসায় দিয়ে আসতে। আমি তো প্রথম দিন থেকেই জানতাম, তোমাদের প্ল্যানিং সম্বন্ধে। কিন্তু কি করবো বলো? ভালোবেসে ফেলেছিলাম যে!তাই আর যাই হোক আমি কোনোদিন তোমাকে বিশ্বাসঘাতক বলে কল্পনাও করতে চাই না!
তিয়াশার গোটা ধরিত্রী এক লহমায় ঘুরে উঠল যেন। ও কোনোমতে দেয়ালটা আঁকড়ে ধরে রুদ্ধশ্বাসে চেয়ে রইল। আরাভ ওর ললাটের একগুচ্ছ অবিন্যস্ত চুল পরম মমতায় কানের পিছে গুঁজে দিয়ে ধরা গলায় বলল,,
— আমি তোমাকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে পৃথিবীর কোনো নিয়ম মানিনি, এটা সত্য। তবে আমি এটাও চাই না যে, আমাদের এই ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা বাইরের লোকজন জানুক, কিংবা হাইকোর্টের ওই চার দেওয়ালে উঠে আমাদের সম্পর্কটা তামাশার খোরাক যোগাক। তাই কোনো আইনি যুদ্ধ বা রেইডের প্রয়োজন নেই, আমি নিজেই তোমাকে কাল সকালেই সসম্মানে তোমার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেব। এতদিন আমার করা সমস্ত পাগলামি আর জবরদস্তিকে একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যেও, কেমন?
আরাভের এই চরম বাস্তব ও করুণ আত্মসমর্পণ তিয়াশার সমস্ত কাঠিন্যকে এক নিমেষে গুঁড়িয়ে দিল। তবুও ও নিজের চোখের অবাধ্য জলটুকু আড়াল করতে ওষ্ঠাধর শক্ত করে চেপে ধরা গলায় পালটা যুক্তি দিয়ে বলল,,
— আপনি যদি প্রথমে অমন বাজেভাবে, নিজের নোংরা মস্তিষ্কের পরিকল্পনা দ্বারা আমাদের সম্পর্কটা শুরু না করতেন, তবে আজ হয়তো আমাদের শেষ পরিণতি এমন হতো না, মিস্টার খান!
আরাভ এবার মাথা নিচু করে বড্ড ম্লান হাসল।ক্রোধ-ক্ষোভহীন এক নিঃসীম হাহাকার মিশ্রিত হাসি,ও তিয়াশার চোখের দিকে চেয়ে অত্যন্ত ক্লান্ত কণ্ঠে বলল,,,
— সেসব অতীত বাদ দাও, সুইটহার্ট। আজ এই শেষ রাতে তোমার কাছে আমার একটা লাস্ট রিকোয়েস্ট আছে। রাখবে?
আরাভের কণ্ঠের এই আকুলতা তিয়াশার অবচেতন মনকে এক মায়াবী বন্ধনে জড়িয়ে ফেলল। এক অদ্ভুত নারীসুলভ মমতা আর অপরাধবোধ ওকে গ্রাস করায় ও অত্যন্ত ধীর গলায় শুধালো,,
— কী?
আরাভ তিয়াশার খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। ওর দু-চোখে তখন এক সমুদ্র আকুতি। ও বড্ড নিচু স্বরে বলল,,
— আজকের এই শেষ রাতটুকু আমার মাথায় একটু হাত রেখে ঘুমাবে? একটিবার কেবল তোমাকে নিজের বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরব। এই সমাজে, এই সম্পর্কে আমরা তো এখনও বৈধ, তাই না? আমি তোমাকে কখনো নিজের জীবন থেকে হারাম করব না তিয়াশা, কোনোদিন ডিভোর্সও দেব না। তবে,স্বামী হিসেবে আমার সমস্ত অধিকার কেবল আজকের এই একটা রাতের জন্য তোমার কাছে চেয়ে নিচ্ছি। আজকের দিনান্তে আমার এই ক্লান্ত মাথাটা তোমার ওই নরম কোলের এক কোণে একটু রাখতেই পারি, তাই না বলো?
তিয়াশা আর নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারল না। না চাইতেও,এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু ওর গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। এই দুর্ধর্ষ, অহংকারী পুরুষের এমন নিঃশর্ত ভালোবাসা আর এক রাতের ভিক্ষা চাওয়ার আকুলতার সম্মুখে ওর ভেতরের সমস্ত প্রতিজ্ঞার দেওয়াল ধূলিসাৎ হয়ে গেল। ও নিঃশব্দে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাতেই আরাভ পরম তৃপ্তিতে ওকে নিজের বক্ষপঞ্জরে টেনে নিল।
— আপনি অতটাও খারাপ নন মিস্টার খান,যতটা আমি ভেবেছিলাম । কিন্তু,আপনি আমার জন্যও নন। আমাদের পরিণতি এমনই হওয়ার ছিলো।
আরাভ পরম নিশ্চিন্তে বেঘোরে ঘুমিয়ে আছে তিয়াশার উরুর এক প্রান্তে। তিয়াশার হাতজোড়া আরাভের রেশম কোমল চুলে স্থির তখনো।তিয়াশার আনমনে বলা কথাগুলো গিলে নিলো ফাঁকা কক্ষের নিস্তব্ধতা। তপ্ত একফোঁটা অশ্রুকণা গড়িয়ে পড়ল শ্বেতশুভ্র আনন বেয়ে। কারণহীন এমন ক্রন্দনে নিজেই বিরক্ত তিয়াশা। ঝটপট বাঁ হাতের পিঠ দ্বারা দ্রুত সেটা আড়াল করে মনে মনে নিজেকেই নিজে ধিক্কার জানালো তিয়াশা।
সবে বাড়ি ফিরলো রুদ্র। সারাদিনের অজস্র জটিলতা আর মানসিক টানাপোড়েনের শেষে ওর অবশ হয়ে আসা মস্তিষ্ক তখন কেবল একটুখানি বিশ্রামের জন্য আকুল। পকেট থেকে ডুপ্লিকেট চাবিটা বের করে ঘরের দ্বার উন্মোচন করতেই এক নিচ্ছিদ্র অন্ধকার আর গুমোট নীরবতা অভ্যর্থনা জানাল ওকে। রূপকথা বেগম বাড়ি না থাকাতেই নির্জীব চারিধার।
ক্লান্তির চরম সীমায় পৌঁছে রুদ্রদ্বীপ সোফাটায় নিজের চওড়া শরীরটা এলিয়ে দিল। চোখ দুটো বুজে আসছিল ওর। অন্ধকারেই নিজের স্বভাবসুলভ অভ্যাসের বশে, অবচেতন মনের গভীর আস্থা নিয়ে ও ঘরের শূন্যতা চিরে হাঁক ছাড়লো,,
— নয়ন, এক কাপ চা দিয়ে যা তো। মাথাটা বড্ড ধরেছে।
কোনোরূপ প্রত্যুত্তর এলো না। কেবল বাতায়ন গলে আসা হিমেল হাওয়া জানালার পর্দার গায়ে লেগে এক অদ্ভুত খসখস শব্দ তুলল। শূন্য ঘরের সেই গভীর নৈঃশব্দ্য যেন মুহূর্তেই রুদ্রদ্বীপের অসাড় চেতনাকে এক সজাগ চাবুক মারল। চকিতে চোখ মেলে তাকাল ও। অন্ধকার ঘেরা চারিপাশের স্তব্ধতার দিকে চেয়ে বুকের ভেতরটা হুট করেই এক অজানা, অচেনা শূন্যতায় মুচড় দিয়ে উঠল।
মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল কালকের সেই কালবৈশাখী ঝড়ো প্রহরের কথা! ও নিজেই তো তীব্র অপমানে আর কড়া হুমকিতে মেয়েটিকে তাড়িয়ে দিয়েছে। নয়নিকা তো কালকেই এই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। আর কোনোদিন হয়তো এ ঘরে ওর চঞ্চল পায়ের নূপুরধ্বনি কিংবা চায়ের কাপ হাতে অবাধ্য চঞ্চলতার দেখা মিলবে না।
রুদ্রদ্বীপ এক তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে অন্ধকারেই নিজের ললাট শক্ত করে চেপে ধরল। পরক্ষণেই ও নিজের ভেতরের পুরুষালী অহংকার আর কঠোর যুক্তি দিয়ে নিজেকে সামলে নিল। মনে মনে ভাবল, যা হয়েছে একদম বেশ হয়েছে। ও একটা অবুঝ, চঞ্চল বাচ্চা মেয়ে মাত্র। এই কাঁচা বয়সের সাময়িক মোহ আর চপলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া রুদ্রদ্বীপের মতো এক গম্ভীর, পরিপক্ব পুরুষের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নয়নিকার মত কিশোরীদের মন বড় বিচিত্র, দুদিন বাদে নতুন পরিবেশ পেলে ও নিজেই সব ভুলে যাবে।
ঊষালগ্নের ম্লান আলো মুছে গিয়ে প্রকৃতিতে তখন ভোরের প্রখর রৌদ্রালোক ফুটে উঠেছে। আজ এই বিশাল প্রাসাদসম বাড়িটার প্রতিটি ইঁট-পাথরে এক নিঃসীম নৈঃশব্দ্যের চাদর বিছানো। সকাল থেকেই তিয়াশা নিজের সমস্ত জিনিসপত্র গুছিয়ে সুটকেসে বন্দি করে নিয়েছে। এই স্বাধীনতা, এই মুক্তির প্রহর তো ওর জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত হওয়ার কথা ছিল, তবে আজ এই যাত্রালগ্নে এসে ওর অবশ চরণে যেন সহস্র মণের এক অদৃশ্য শৃঙ্খল ভর করেছে।
তিয়াশা সুটকেসটা হাতে নিয়ে কক্ষ হতে সবে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে, হঠাৎ এক প্রবীণ পরিচারিকা রহিমা ওর পথ আগলে দাঁড়িয়ে আঁচলে চোখ মুছল। অত্যন্ত রুদ্ধকণ্ঠে আকুলতার সুরে বলল,,
— ম্যাডাম,ম্যাডাম সত্যিই চলে যাচ্ছেন? এই অমাবস্যার মতো আঁধার ঘরটারে আপনিই তো আলো দিছিলেন। স্যারের অমন যত্নশীল রূপ আমরা এই জনমে দেহি নাই। আপনি চলে গেলে স্যার আবার আগের মতো ওই বখাটে, হিংস্র মানুষ হয়ে যাবেন গো ম্যাডাম! ওনারে এভাবে ছাইড়া দিয়েন না, স্যার সত্যিই আপনারে বড্ড ভালোবাসে।
রহিমার সরল-আবেগঘন অনুরোধে তিয়াশার বুকের ভেতরটা ক্ষণিকের তরে কেঁপে উঠলেও ও নিজের ওষ্ঠাধর শক্ত করে চেপে ধরল। ও এক বুক তপ্ত নিশ্বাস ছেড়ে বাস্তববাদী কন্ঠে বলল,,
— ভালোবাসা কখনো কোনো অপরাধের ঢাল হতে পারে না, খালা। একটা ভুল দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্কের শেষটা কখনো সুন্দর হয় না। আরাভ সাহেব বখাটে হবেন নাকি ভদ্র থাকবেন, সেটা ওনার নিজস্ব চয়েস। কারোর ভালো থাকার দায়িত্ব জোর করে অন্য কারোর ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা বড্ড বড় অন্যায়। ওনার নিজের ভেতরের শূন্যতা ওনাকেই পূরণ করতে হবে, আমি ওনার জীবনের কোনো পার্মানেন্ট সলিউশন নই।
তিয়াশার এই অকাট্য ও যুক্তিপূর্ণ বাক্যবাণের সম্মুখে রহিমা সম্পূর্ণ নির্বাক হয়ে মাথা নিচু করল। তিয়াশা আর এক মুহূর্তও কালবিলম্ব না করে ধীর পদক্ষেপে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।
গাড়ি নিয়ে নিচে অপেক্ষা করছিল আরাভ তিয়াশা এসে ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটটাতে বসলো। মাঝখানে কেবল এক নিঃসীম দূরত্বের অলীক দেওয়াল। পুরোটা পথ আরাভ একমনে ড্রাইভিংই করে চলল, ওর চোয়াল শক্ত, নাসিকার প্রান্ত যন্ত্রণায় আরক্তিম। ও একটিবারের জন্যও তিয়াশার পানে চাইল না, একটি শব্দও উচ্চারণ করল না। ওর এই গম্ভীর ও নিথর নীরবতা তিয়াশার বুকের বাম পাশে এক অজানা হাহাকারের সৃষ্টি করছিল।
তিয়াশার বড্ড ইচ্ছা করছিল আরাভের হাতটা ছুঁয়ে বলতে’পারলে,আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন মিস্টার খান’, কিন্তু এক তীব্র আত্মসম্মান আর জড়তায় ও কেবল নীরব দর্শকের মতো আরাভের ওই পাথুরে মুখশ্রীর পানেই চেয়ে রইল। গাড়ি ছুটে চলল তিয়াশার কাঙ্খিত গন্তব্যে কিন্তু হৃদয় বলতে পারলো না কাঙ্ক্ষিত কথাগুলো।
গাড়ির চাকা একসময় স্থবির হলো তাহের চৌধুরীর পরিচিত সেই চিরচেনা বাসভবনের সিংহদ্বারের সম্মুখে. তিয়াশার জীবনের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য এটি, অথচ আজ এই কিনারায় এসে ওর বুকের ভেতরটা এক অসীম শূন্যতায় হাহাকার করে উঠল।
আরাভ স্টিয়ারিং হুইল থেকে হাত দুটি সরিয়ে নিল, তবে তিয়াশার দিকে একটিবারের জন্যও মুখ ফিরিয়ে চাইল না. ওর এই নিথর, পাষাণবৎ নীরবতা যেন তিয়াশার সমস্ত সত্তাকে চাবুক মারছিল। তিয়াশা অত্যন্ত ধীরহস্তে গাড়ির দরজা খুলে বাইরে পা রাখল। ও আশা করেছিল, আরাভ হয়তো শেষবারের মতো অন্তত ওর দিকে চেয়ে ‘সুইটহার্ট’ বলে এক চিলতে মলিন হাসবে, কিন্তু না, আরাভ এখনো যন্ত্রের মতো নিস্পৃহ রইল।
তিয়াশা সুটকেসটা হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নামতেই, কোনো বিদায়সম্ভাষণ না জানিয়েই আরাভ গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল, চাকার তীব্র ঘর্ষণে রাজপথের ধুলোবালি উড়িয়ে নিমেষেই ক্রাউন গাড়িটি জনসমুদ্রের মাঝে অলক্ষ্য হয়ে গেল। তিয়াশা সেই শূন্য পথের পানে চেয়ে বিমূঢ় নেত্রে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল, যতক্ষণ না গাড়ির শেষ চিলতে কালো রংটুকু ওর চোখের সীমানা থেকে হারিয়ে যায়। এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু অলক্ষ্যে ওর গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল।
অতঃপর ও এক বুক দীর্ঘশ্বাস চেপে ধীর কদমে নিজের চেনা অন্দরে প্রবেশ করলো।কলিংবেলের কর্কশ শব্দে দ্বার উন্মোচন করলেন তাহের চৌধুরী স্বয়ং। সম্মুখে নিজের একমাত্র মেয়েকে ওমন ক্লান্ত, বিধ্বস্ত মুক্তাবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওনার হাতের ফাইলপত্র মেঝেতে ছিটকে পড়ল। ওনার চক্ষুদ্বয়ে স্পষ্ট অবিশ্বাস্যতা। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যেন,
— তিয়াশা! মা আমার!
তাহের চৌধুরী রুদ্ধকণ্ঠে পরম ব্যাকুলতায় তিয়াশাকে জড়িয়ে ধরলেন। চোখের অশ্রুধারা ধুয়ে দিতে চাইল এতদিনের পুঞ্জীভূত পিতৃত্বের হাহাকার।ভেতরের শোরগোল শুনে ড্রইংরুমে ছুটে এলেন তিয়াশার ম। মেয়েকে দেখে ছুটে এসে জাপটে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।
কিছুকাল পর, ড্রইংরুমের সোফায় পাশাপাশি বসল ওরা. তিয়াশার মা ওর একখানা হাত নিজের বুকের কাছে চেপে ধরে ব্যাকুল কণ্ঠে শুধালেন,,
— ওরা তোর কোনো ক্ষতি করেনি তো মা? তুই কীভাবে ফিরে এলি? রুদ্র তো বলেছিল কাল কোর্টের রেইডের পর তোকে উদ্ধার করবে!
তিয়াশা শূন্য দৃষ্টিতে ঘরের সিলিংয়ের দিকে চেয়ে বলল,,
— কোনো আইনি যুদ্ধ বা রেইডের প্রয়োজন হয়নি, মা। আরাভ খান নিজেই আমাকে সসম্মানে এখানে দিয়ে গেছে।
তাহের চৌধুরী মহাবিস্ময়ে ভ্রু কুঁচকালেন,,
— নিজে দিয়ে গেছে! যে লোক ক্ষমতার দাপটে অন্ধ, সে কোনো প্রতিদান ছাড়া তোকে ছেড়ে দিল? এটা বিশ্বাস করা বড্ড কঠিন, তিয়াশা. এর পেছনে ওর নতুন কোনো পলিটিক্যাল চাল নেই তো?
তিয়াশা ওষ্ঠাধর শক্ত করে চেপে ধরে অত্যন্ত নিরাসক্ত গলায় বলল,,
— চাল নয় বাবা, এটাই রিয়্যালিটি। ও নিজের হারটা মেনে নিয়েছে. তোমরা শান্ত হও, ও আর কোনোদিন আমাদের জীবনে অশান্তি ছড়াতে আসবে না। চ্যাপ্টারটা এখানেই ক্লোজড।
তিয়াশা নিজের সুটকেসটা নিয়ে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল. চারিপাশের এই অতি চেনা স্বাধীনতা, মা-বাবার এই পরম নিরাপদ সান্নিধ্য-সবকিছুই আজ ওর কাছে বড্ড অচেনা আর একঘেয়ে ঠেকছে. বুকের ঠিক বাম পাশটায় এক মস্ত বড় ফাটল ধরেছে, যার উপশম হয়তো এই জীবনে আর সম্ভব নয়।
নিশুতি রজনীর স্তব্ধতা তখন সমগ্র মহানগরীকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। ঘড়ির কাঁটা দুটো যেন অলস ভঙ্গিতে বারোটার ঘর ছুঁইছুঁই করছে। এই গভীর রাতে সদর দ্বারের লক খোলার মৃদু শব্দে লিভিং রুমের গুমোট নীরবতা ভাঙল। দীর্ঘদিন পর এত রাতে, এমন চরম ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরলো আরাভ।
শার্টের বোতামগুলো অবহেলায় খোলা, চুলগুলো অবিন্যস্ত, শুষ্ক ঠোট জায়গায় জায়গায় ফেটে গিয়েছে। লিভিং রুমে প্রবেশ করেই ভাঙা গলায় হাঁক ছাড়ল,,
— আনু, এক কাপ কড়া করে চা দিয়ে যাস তো।
দূর থেকে রহিমাসহ অন্যান্য পরিচারিকারা ওনার এই রূঢ় ও মলিন অবয়বের পানে চেয়ে রইল। ওরা নিজেদের মাঝে বড্ড নিচু স্বরে কানাঘুষা করতে লাগল। তিয়াশা চলে যাওয়ার পরক্ষণেই বাড়িতে যে রূপ নেমে আসার কথা ছিল আরাভের এই ছন্নছাড়া রূপ যেন তারই বহিঃপ্রকাশ। আরাভ আর কারো দিকে না চেয়ে, নিজের ক্লান্তিটুকু কোনোমতে টেনে নিয়ে শয়নকক্ষের দিকে পা বাড়াল ফ্রেশ হওয়ার উদ্দেশ্যে।
ঠিক তখনই ওর পকেটে থাকা ইলেকট্রনিক যন্ত্রটি তীব্র কম্পনে সজাগ হলো। স্ক্রিনে বন্ধুর নাম ভাসতে দেখে ও কলটা রিসিভ করে কানে ধরল। ওপাশ থেকে ভেসে আসা জরুরি বার্তার প্রত্যুত্তরে আরাভ কেবল সংক্ষেপে বলল,,
— আইল বি দেয়ার ইন টুয়েন্টি মিনিটস। জাস্ট হোল্ড অন।
ফোনটা কেটে ও আর ওয়াশরুমে গেল না। আলমারি থেকে ব্ল্যাক শার্ট শরীরে গলিয়ে নিল। বেপরোয়া খামখেয়ালী চরণে ও যখন দ্রুত ড্রইংরুম পার হয়ে মেইন গেটের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ট্রে-তে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে সামনে এসে দাঁড়াল আনু। আরাভকে ওমন বাইরে যাওয়ার পোশাকে সজ্জিত দেখে ও চমকে উঠে কুণ্ঠিত স্বরে শুধাল,,
— আরাভ ভাই, চা-টা তৈরি। আপনি কি এখন না খেয়েই বাইরে যাচ্ছেন?
আরাভ এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়াল। আনুর হাতের চায়ের কাপটার দিকে চেয়ে বলল,,
— ডোন্ট নিড, ফেলে দিস।
আনু চায়ের কাপটা শক্ত করে ধরে, মনের সমস্ত শঙ্কা এক জেরে উগরে দিয়ে ব্যাকুল কণ্ঠে বলল,,
— কিন্তু এত রাতে কোথায় যাচ্ছেন আপনি? আপনার শরীরটাও তো ভালো ঠেকছে না।
আরাভ এবার সরাসরি আনুর চোখের দিকে তাকিয়ে প্যান্টের পকেটে হাত দুটি গুঁজে দিয়ে অত্যন্ত নিরাসক্ত স্বরে জবাব দিল,,
ইন্তেজার এ ওয়াসিল পর্ব ১৮
— সেসব উত্তর তোকে দিতে যাব কেন? শুধু শোন,আজ রাতে আমি বোধহয় আর বাড়ি ফিরছি না। তোরা দরজা লক করে ঘুমিয়ে পড়িস।
কথাটা শেষ করেই আরাভ আর কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করে ধীর অথচ দৃঢ় পদক্ষেপে সিংহদ্বার পেরিয়ে অন্ধকারের মাঝে অলক্ষ্য হয়ে গেল।
